কালকুঠুরি পর্ব ৬২ (২)
sumona khatun mollika
সামিরের হাতের হাতকড়া এখনো খোলা হয়নি। মাহা এসে পৌছেছে সামান্য একটু সময় আগে। সামির চোখের নেত্র নাচিয়ে পুরো কালকুঠুরি টায় চোখ বুলিয়ে নিল। সিভান ঘুরেফিরে এই অশুভ জায়গাটাই খুঁজে বের করেছে! কন্সটেবল রাজ্জাক এসে একটা কাগজ ধরিয়ে দিতেই মাহাবুব উদ্দিন সামিরের হাতের হাতকড়া খুলে নিলো। সামির চারপাশে চোখ বুলাতেই দেখতে পেলো রিটো এসে হাজির হয়েছে । ভীর ঠেলে সে একবারে সামিরের পাশে দাড়িয়ে লেজ নাড়ছে। মাহবুব উদ্দিন মাইকিং করলো,,
” সিভান সিকান্দার, দড়জা খুলুন । আমরা সামির সিকান্দার কে ফিরিয়ে দিব । তার আগে সামহা সিকান্দার কে ছেড়ে দিন ”
সিভানের টিকিটাও বাইরে আসেনি লিমন দৌড়ে এসে দড়জা খুলে দিলে সামিরকে সঙ্গে করে পুরো পুলিশের একটা টিম, মেজিস্ট্রেট ফারনাজ ভেতরে ঢুকে গেল। তারপর লিমনের পিছু পিছু একদম দুইতলার শেল ২১৮ তে। দড়জা খুলে দিতেই নজর হোলো, সিভান চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে গেম খেলতে বিজি। আর সামহা তার সামনে আরেকটা চেয়ারে বাঁধা ঘাড় ফিরিয়ে পুলিশের দিকে তাকালো সিভান। পেছন থেকে রিটো ৷ ছুটে এসে সিভানের গা ঘেঁষে দাড়ায়। কথায় আছে, মানুষ বেইমানি করলেও এই বোবা প্রাণীরা বেইমানি করেনা। সামিরের অবর্তমানে সিভান রিটোকে খেতে দিত। তাছাড়া রিটোর চোখের সামনে সিভান বড় হয়েছে। হয়ত বিপদের গন্ধ পেয়ে রিটো ছুটে সিভানের পাশে গিয়ে দাড়িয়েছে৷ সিভান হাতের বন্দুক সামহার দিকে তাক করে বলল,,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
” কাকা, চলে এসো। তোমাকে আর ওখানে ফিরে যেতে হবেনা। ”
মাহবুব উদ্দিন সিভানের দিকে গান পয়েন্ট করে বলল,
” যেতে হবে সিভান সিকান্দার । উনার ফাঁসির রায় হয়েছে। আগামী ৫ তারিখ…”
” এই চোপ! ” খেঁকিয়ে উঠলো সিভান। সামির ওর দিকে এগিয়ে গেলে সিভান ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,,
” এটা কিছুতেই হতে পারে না৷ তাইনা কাকা? কাকা ওদের বোঝাও, বোঝাওনা, তুমি ছাড়া কেওনেই আমাকে দেখার মতো। ”
মাহা চুপচাপ দাড়িয়ে আছে। সামির দম ফেলে সিভানের গালে হাত দিয়ে বলল,, ” না সিভু,, এমন করিসনা। আছেতো। তোকে দেখার জন্য অনেকে আছে। ফাঁসির আদেশ, তোলা যায় না বাপ । ”
” কেন তোলা যাবেনা,, বাবা বলেছে তুমি মরবেনা। মরতে পারোনা। ”
” সিভান…”
সিভান কোনো কথা গ্রাহ্য না করে সামহার দিকে বন্দুক তাক করে বলে,,
” আমার কাকা না বাঁচলে আমি এই মেয়ে টাকেও মেরে ফেলব। ভয় পাসনা সামহা, তুই তোর বাবার সাথে বাঙ্গি ক্ষেতে চলে যাবি। ”
মাহাবুব উদ্দিন গান লোড করে বলে, ” তোকেও ছেড়ে দেবনা। ” পেছন থেকে কাশেম গিয়ে সিভানকে জড়িয়ে ধরতেই সেখানে ঠেলাঠেলির একটা গোলযোগ তৈরী হয়। সিভানের গান থেকে ভুলবশত গুলি ছুটে গিযে সামহার পায়ের পাশ ছুয়ে দিয়ে ছুটেযায়। সামহা ভয়ে চিৎকার করে উঠলে মাহবুব উদ্দিন ও সিভানকে টার্গেট করে গুলি ছুড়ে দেয় । ভয়ে চোখমুখ বন্ধ করে ফেলে সিভান। সেকেন্ডখানিক নিরবতা কাটতেই সামহা আব্বু বলে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে যায় । সিভানের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরে৷
মাহবুব উদ্দিন এর ছোড়া গুলির বুলেট সামিরের পিঠে লেগেছে। শেষ মুহূর্তে সামির মধ্যে না আসলে সিভানের মাথায় গুলি লাগতো । সিভান চেচিয়ে উঠলো, ” কাকাআ! এ কাকা, রিটো এট্যাক! ”
রিটো ছুটে গিয়ে সোজা মাহবুব উদ্দিনের হাত কামড়ে ধরেছে । পুলিশেরা কোনোমতে তাকে সামলানোর চেষ্টা করছে। সামিরের পেছন থেকে রক্ত গড়িয়ে পরতেই মাহা একছুটে সামিরকে পেছন থেকে আকড়ে ধরে। সামির সিভানের কোলে হুমড়ি খেয়ে ঢলে পরতেই সিভান ওকে জড়িয়ে ধরে । ধরে ছোট বাচ্চার মতো কেঁদে উঠলো। সামিরের পিঠের ডানসাইড রক্তে ভেসে যাচ্ছে । আলগা হাতে সিভানের গালটা আকড়ে ধরে বলল,,
” জায়গাটা ভালো না রে বাপ, সামহার কোনো ক্ষতি করিসনা ও, আমার মেয়ে । আমার,,,,,, ”
” কাকা, কাকা ”
মাহাও নিকাবের ভেতর থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে কেঁদে ওঠে। সামিরের লাল শার্টের কলার খামচে ধরে চেচিয়ে বলে,, ” সামির সিকান্দার ,, আপনি মরতে পারেননা। আপনি মরতে পারেননা। চোখ খুলুন বলছি। আমি পাঁচ টা বছর সাধনা করেছি আপনাকে ধরার জন্য , আপনি এত সহজে উড়ে যেতে পারেননা। ”
সামির দুর্বল হাতে মাহার গালে হাত দিয়ে বলে,, ” আমি মরে গেলে বেঁচে যাব ডিপজলের মা । আমিতো জিতে গেছিই আমার একটা ছোট্ট ডিপজল রয়েছে এটা আমার জিত,, এইযে তুমি আমার জন্য কাঁদছো এটা আমার জন্য সবচে বড় জিত। তুমি , তুমি ওকে বাচাও ”
” নাহ, আপনি মরতে পারেননা । আমার মেয়ে টার কি হবে! ওকে সবাই আসামীর সন্তান বলবে! উঠুন, সামির “
“ ও আমার বাচ্চা । কে কি বলল তাতে ওর কিছু যায়আসেনা। আসবেনা। তুমি শুধু কথা দাও আমি টপকে গেলে, আর কখনো বিয়া করবানা। আমি ভূত হয়ে সইতে পারবো না “
মাহা বলল,” ইয়ার্কি করবেননা,, আপনার মনে হচ্ছে আমি ইয়ার্কি করছি? কেন বিয়ে করব? আমি আপনাকে ভা… “
সামির চেতনা হারিয়েছে। মাহাকে কথা টা পুরো করতে দেয়নি। সুযোগ পায়নি মাহা পুরো কথাটা বলার। এম্বুলেন্স চলে এসেছে। পুলিশেরা দৌড়াদৌড়ি করে সামিরকে হাসপাতালে নিয়ে গেল৷ প্রধান বিচারপতি ও এসে দেখে গেছেন৷ সামির বুঝতে না দিলেও যথেষ্ট শক পেয়েছে । যার ফলাফল ও কোমায় চলে গেছে। সিভান সারাটা দিনরাত কেবিনের সামনে বসে থাকে। কাশেমের সঙ্গে একটা শব্দও কথা বলেনা। সামহাও পাশে কেবিনে ভর্তি। ওর বাম পায়ের বুড়ো আঙুলে গুলি লেগেছিল। মাহবুব উদ্দিনের হাতে রিটোর কামড়ের আঘাত বেশ জোড়ালোভাবে লেগেছে। লামু ওর কাছে দাড়িয়ে।
মাহা দিনরাত জায়নামাজে বসে চোখের পানি বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছে । সেতু সামহার পাশে বসে থাকে। রকি, সামিরের কেবিনের বাইরে বসে থাকা সিভানের যত্ন নেয় । আজ চার তারিখ। সিভান এটা জেনে ভিষণ খুশি, সামির সিকান্দার এর স্বাস্থ্য বিবেচনায়, তার ফাঁসির আদেশ বাতিল করা হয়েছে। কাশেম এসেছে।
রকি ওকে দেখে মুখ ফিরিয়ে দুরে গিয়ে দাড়ালো। কাশেম সিভানের পাশে বসে বলল,,” আমাকে দেখতে ইচ্ছে করছেনা? “
সিভান ঝাঝালো গলায় জবাব দেয় “ না করছেনা। বেইমানদের চেহারা দেখলে ঘেন্না হয় “
“ আমি বেইমানি করেছি? “
“ না, পুজো করেছ “
“ আচ্ছা, তো তুমিই বলো, নিজের বোনকে বানের জলে ভাসিয়ে দেব? না সরি, আগুন! আগুনে পুড়িয়ে দেব? “
“ বোন! “
“ হুমম, আমিতো নামে কাশেম। তবে রক্তে যে মীর মুগ্ধ উদ্দিন “
“ কিসব বলছো! মুগ্ধ মানে কাকি সুন্দরীর ভাই? সেতো ছোট্ট বেলায় মারা গেছে “
“মারা যায়নি। হারিয়ে গেছে। চুরি হয়েছে “
“ পুরো বলো আমাকে, এমনটা চলতে থাকলে কবে দেখব আমার বাপের দাদি সুমনা সিকান্দার ও জ্যান্ত হয়ে চলে এসেছে “
কাশেম গাল টেনে হেসে সিভানের দিক থেকে নজর সারিয়ে জানালা চিড়ে বাইরে তাকিয়ে বলতে শুরু করল,,
“ আমি যখন অনেক ছোট, কোলের শিশু , তখন একবার ভিষণ অসুস্থ হইছিলাম। আমারে চিকিৎসা করাইতে বাপ-মা হাসপাতালে ছোটাছুটি করতো। অনেকদিন ভোগান্তির পরে,, যখন একটু সুস্থ হইলাম, বাড়ি ফেরার রাস্তায় একটা দুর্ঘটনা ঘইটা গেল। ইচ্ছা কইরা কে বা করা যেন গাড়িতে ধাক্কা মাইরা দিল। ব্যাস বড়সড় এক্সিডেন্ট! বাপ-মা দুজনেই মরল। মায়ে আমারে বুকে আগলাইয়া ধরছিল তাই বাইচ্চা গেছি। চাচা মফিদে কইছিল মাইরা দে। সাফিন ভাই বাচাইয়া দিছে। আইনা রাখছে চাকর বানায়া । যেদিন আগুন লাগে, সেদিন আমিই বাচাইছি আপারে। আমি তখনও জানতাম না ও আমার বোন। সেদিন ভাই জেলে যাওয়ার আগে আমারে বারবার বইলা দিছিলো , কড়া নজর রাখিস। আমি যখন মেধার সাথে কথা বলতে গেছিলাম, সেই ৫মিনিটের ব্যবধানে ও বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পিছে পিছে ছুট লাগাই। যাইয়া দেখি কালকুঠুরির বাইরে সালার সিকান্দার গাড়ি দারাইয়া।
কোনোকিছু না ভাইবা ভেতরে আগুন ধরায় দিই। রাগিব , সোমা, সোনালী মইরা যায় ৷ আপার হাত থেইকা ভাইয়ের দেয়া বালা খুইলা সোনালীর হাতে পরায় দিই। ওর লাশটা টাইনা চেয়ারের পাশে ফালাই। তারপর আপারে নিয়ে বেরিয়ে আসি। হাসপাতালে নিতেই ডাক্তারে বলে রক্ত দরকার। আশ্চর্য , আমার সাথে গ্রুপ ম্যাচ করল। নার্স জানালো,, আপনিতো ওর রক্তের সম্পর্কের কেও তাইনা, নাহলে এত মিল! মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে। বলি ভালো করে টেস্ট করে বলেন তো। সন্দেহ জোরদার হইছিল সামির ভাইয়ের একটা কথা মনে পইরা। ভাইয়ে একবার কইছিল, আমাগো দুজনের চেহারায়, চোখের মণিতে মিল আছে। রক্ত দিলাম। ডক্টর যখন শিওর করল ডিএনএ ম্যাচ করছে। দৌড়ায় গেলাম বাপ হাশেমের কাছে। সেও তখন অসুস্থ । মৃত্যু সজ্জায় প্রায়।
কাঁপা গলায় সব সত্যি বলল, আমি কি করব কিছুই বুঝরাম না ৷ ওদিকে আপার কন্ডিশন দিনদিন যাতা অবস্থা হয়েছিল। প্রায় মরেই যেত। সেদিন মাহবুব উদ্দিন আমাকে ধরে ফেলে কথায় কথায় বলে ফেলি আপা আমার কাছে এবং জীবিত । মাহবুব উদ্দিন আরো জোরদার চিকিৎসার ব্যাবস্হা করেন। বাচ্চা সুস্থভাবে হলেও আমার আপা প্রায় মরেই যাচ্ছিল, ওপরওয়ালা এবারের মতো মাফ করেছে। সুস্হ হওয়ার কিছুদিন পর , লাইব্রেরি মেডামের সাহায্যে ভার্সিটি উনাকে মিসিং আইডি তুলে ফেলি৷ ততদিনে সে প্রায় সুস্থ । হঠাৎ একদিন কি একটা হিসাব করা শেষে মুখের নিকাবটা তুলে বাইরে বেরিয়ে গেল । রাত প্রায় অনেক, তখন সঙ্গে দুটো মানুষ নিয়ে এলো। একজন লামু আরেকজন অনিন্দিতা মানে সেতু । লামুর সাথে আগের পরিচয় সেই ভরসা করে মাহবুব উদ্দিন কে বলল লামুকে বিয়ে করতে। তারপরের দিনগুলো বেশ কঠোর পরিশ্রম করেছে এই পজিশনে আসার জন্য ৷ সামির সিকান্দার , নামটা রক্ত মেখে মেখে ভারি হয়ে গেছে।
এই শহরের সবচে বড় আতঙ্ক সামির সিকান্দার ভিরান। তাকে উৎখাত করাই মূলত এমপি, মন্ত্রী দের টার্গেট । তোমকর কাকাকে কিন্তু কেও কোনোদিনও মারতে চাইতো। সে আবার সরকারি ক্রিমিনাল৷ সবসময় সব দলই তাকে হাতে রাখে । আমার কাছে, ওই মুহূর্তে আমার বোনকে বাঁচানো দরকারি ছিল৷। নিজের বোনকে বাঁচানো কি বেইমানি সিভান? “
সিভান চুপ করে রইলো । দুমিনিট চুপ থাকার পরে বাম কাত ঘুরে মেঝেতে শুয়ে বলল, “ তাহলে তুমি সাক্ষী দিলে কেন? ওটাকি খুব দরকারি ছিল? তোমার জন্যই কাকার ফাঁসি হতে যাচ্ছিলো। বিশ্বাস করো আমার কাকার কিছু হয়ে গেলে আমি সব লন্ডভন্ড করে দেব।
মাহা সামিরের কেবিনের বাইরে দাড়িয়ে। পাতলা কাঁচের জানালা ভেদ করে ভেতরে তাকাতে দেখলো সবচে উগ্র, চঞ্চল, দুরন্ত, ছুটন্ত, সে চুপচাপ, শাস্ত নিষ্প্রাণ হয়ে বিছানাগত। ওর চোখ ঠিক কবে খুলবে ডক্টর কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন৷ হতে পারে দিনটা আজ, বা কাল, বা পরশু, বা কখনোই না। মাহা জানেনা ওর অপেক্ষা ঠিক কতদিনের। সামহা নিজের কেবিনে শুয়ে আছে জ্বর চলে এসেছে ওর। এটা দ্বিতীয়বার গুলি খেয়েছে। মিটিমিটি চোখ খুলে তাকিয়ে সেতুকে বলল,,
“ আব্বু কই? আব্বু ঠিক আছে তো না? “
“ আছে। সব ঠিকাছে তুমি রেস্ট নাও ভুমি”
“ আর আঙ্কেল?
“ সেও ঠিকাছে। “
ভুমি আর কিছুই বলল না৷ সিভানের ওপর বিন্দুমাত্র রাগ ওর নেই। সিভান যে আব্বুকে ছাড়াতে এসব করেছে তা সামহা বেশ ভালোই বুঝেছে। ওর কি কোনো ক্ষতি হোলো, ওকে পুলিশ নিয়ে যায়নিতো! ঘাড় ফিরিয়ে আবার জিজ্ঞেস করল,, “ ওই মাফিয়া টা কোথায় ? খারাপ ছেলে টা? “ সেতু আবারো পজিটিভ জবাব করল, “ সেও ভালো আছে “
সামহার এবার একটু চিন্তা কমলো। সে রিটোর অব্দি খোঁজ নিল। নিলোনা শুধু মাহার। তার ধারণা এটা, মাহা যে ডাইনি! ওর আবার কিসের ক্ষতি হবে, ওর জন্যইতো এসব ঝামেলা। কি দরকার আব্বুটাকে জেলে ভরে দেওয়ার। মাহবুব আঙ্কেলেরই বা কি দরকার। দুইজনের মাথায় বড়সড় সাইজের বাঙ্গি ভাঙতে ইচ্ছে হচ্ছে ।
বেলা গড়িয়ে রাত হলো। সামহা তখন ঘুমে আচ্ছন্ন । কালো একটা ছায়া ওর দিকে এগিয়ে গিয়ে ওর কপালে একটা চুমু খেল। ফিরে যাওয়ার সময় সামহা হুট করে বলে উঠলো,,
“ ও হ্যালো ছায়াওয়ালা মানুষ , “
সিভান ফিরে তাকালো। দুই কদম এগিয়ে এসে বলল,, “ তোর নামে কপিরাইটের মামলা দেব “
“ কেন? “
“ তুই আমার বাঙ্গি কাকাকে কপি করিস “
“ ওওও,, তোমার নামে সম্মানহানির মামলা দেব। এইযে তুমি আমাকে চুমু খেয়ে যাচ্ছো! “
“ বেশি বকে গরু একটা “
“ বেশি বোঝে বলদ লোকটা “
“ এই তুই কি বললি “
“ এই তুই কি শুনলি? “
সিভান আঙুল নামিয়ে একটু হাসলো । তারপর বলল,, তোকে দেখে আমার একটা গানের দুচারটা লাইন মনে পরছে রে। কাকা একবার শুনিয়েছিল।
সামহা উৎসাহ নিয়ে চেয়ে রইল। সিভান বেডের পাশে বসে আস্তে করে গান গাইছে,,,
কালকুঠুরি পর্ব ৬২
~ হরেক রকম বোরখা
তাহার আলমারিতে ভরা
মাঝেমধ্যে স্বভাব আছে
তুই তুকারি করা,,
