Home কালকুঠুরি কালকুঠুরি পর্ব ৬৪

কালকুঠুরি পর্ব ৬৪

কালকুঠুরি পর্ব ৬৪
sumona khatun mollika

সামির চোখ কচলে তাকালো। কথায় আছে শনির দশা একবার লাগলে পিছু ছাড়েনা৷ আরো একটা লাশ হাজিরা দিলো, কে এটা, রকি আর কাশেমের মতো দেখতে! রকিকে ওর বাড়ির লোকজন নিয়ে গেলো। সামির বলল,,
“ দিবা, কে এরা? . তুমি কাঁদছো কেন? নাজিয়া, আরে কোন বাঙ্গি এটা? “
নাজিয়া চোখ মুছে জবাব দিলো,, “ কাশেম ভাই আর রকি।

সামির ধপ করে বসে পরল৷ বুকের ভেতরের ছ্যাত করে ওঠাটা কেও দেখলোনা । ভ্রুযুগল কুচিয়ে এলো। কম্পিত অধর নাড়িয়ে বলল,, “ বেইমান “ সেখান থেকে উঠে কেবিনে ফিরে গেলো ও। মাহা গুনগুনিয়ে কাদছে! অন্তরের হাহাকার কাওকে দেখানো যায়না। নিজের বলতে মাতৃকুল এর কেও নেই তার। ভাগ্যের জোরে ফিরে পেলো ছোট ভাইটকে। তাকেও হারিয়ে ফেলল । সামহাও বুঝে গেলো,, কাইশসা মামা আর ফিরে আসবেনা। আর কখনোই সামহা ওকে ভয় দেখানোর জন্য ভুত সাজবেনা। কাশেম আর কখনোই ওকে ডাইনি বলবেনা। কাশেমের সঙ্গে আর শাকিব খানের মুভি নিয়ে ঝগড়া করা হবেনা।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

মেধা দম ধরে বসে আছে। ভেতরের ছটফটানি দেখেও কাশেমের মন ভরেনাই! এমনটাতো হওয়ার কথা ছিলোনা। মেধাতো ওর বাবাকে কতগুলো দিন ধরে বোঝানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু ওর বাবা কিছুতেই কাশেমকে জামাতা হিসেবে মেনে নিতে পারছিলোনা। মেধাতো চেষ্টা করছিল নিজের বাবাকে বোঝানোর,, সময় এতো কম! কাশেম তাকে এত কম সময় দিয়েছো প্রস্তাবে রাজি হতে! ও কি কোনোদিনও বুঝতোনা ওর শ্যামা, সামিরের ডাকা কাইলানি কাশেমকে কতটা ভালোবাসে ! এত বোকা কেনো লোকটা! মেধার বাবা চুপচাপ দাড়িয়ে আছেন। মেয়েটা এমনভাবে ধ্বংস হয়েছে, চেহারাটা দেখার মতন না। মাহা কাশেমের হাতটা নিজের মুঠোয় পুরে হাতে কপাল ঠেকিয়ে কেঁদে উঠলো। আস্তে আস্তে বলল,,,

“ ও, খোদা, নিজের বলতে কাওকে রাখলেনা। আমার ভাইটাকে কেনো নিয়ে গেলে। মুগ্ধ!! “
সাফিন মাহাকে কাঁদতে দেখে ভ্রু কুচকালো৷ সিভান গিয়ে মায়াময় চেহারায় ডাকলো,, “ বাবা”
“ ও মরলো কিভাবে? “
“ রড দিয়ে মেরেছে। বুকের বামপাশে । “
“ এ এখানে কি করছে? এভাবে কাদছে কেনো? “
“ কাশেম,, কাকি সুন্দরীর ছোট ভাই । “
সাফিন ওপর নিচে মাথা নেড়ে তাকালো। যেনো খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। তবে উপস্থিত সকলে চমকে তাকালো । রাহা জিজ্ঞেস করল আসল ব্যাপারটা কি! সিভান ভেঙে বলল,,

“ ও, কাশেম হালদার নয়। ও মীর মুগ্ধ উদ্দিন। কাকির ভাই। ওকে কেও ছোটবেলায়… “
“ আমার বাপ নিয়ে এসেছিল। “
সাফিনের কথায় মাহা সহ সকলে ফিরে তাকায় । সাফিন সবটাই জানতো? সাফিন নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,,
“ আমরা তখন একটু ছোট৷ আমার জ্ঞান বুদ্ধি হয়েছে বেশ কদিন তার মধ্যে আব্বা আর হাশেম হালদার কাকা ওকে নিয়ে এসেছিলো। এডভোকেট মীর মেহেদী উদ্দিন এর ছেলে ও। এক্সিডেন্ট এ পুরোপুরি আমার বাপের হাত ছিল। আরেকটা বাচ্চা সঙ্গে ছিলো। কোনো গরিব ফকিন্নি হবে। ওই বাচ্চাটা মরেছিল। আর এ বেঁচে ছিলো। এর বাপের ওপরের রাগ থেকে ওকে হাতপোষা চাকর হিসেবে রেখেছিলো। সেতো সামির কখনো ওকে অন্যের নাগালে আসতে দিত না তাই এতদিন বেঁচে ছিলো। নাহলে জানিনা কবে মরে যেতো। “

মাহা কোনো প্রতিক্রিয়া করলোনা ৷ সিয়াম বরাবরি কোথাও না কোথাও একটু হলেও সামিরকে ভালোবাসে। ও সবার পাশ কাটিয়ে সামিরের কেবিনে চলে গেলো। সামির বিছানায় দম ধরে বসে আছে৷ চোখমুখ লাল হয়ে আছে। ভ্রু দুটো কুচকে আছে। সিয়াম সামিরের পাশে বসে বলল,,
“ কিছু বলার নেই? “
“ কে মেরেছে? “
“ হুউ? “
‘“ কইশসা কে, কে মেরেছে? “

নিরবতা….
সামির নিজের চোখে পানি দেখে হতবাক হোলো। চেষ্টা করেও আটকাতে পারছেনা । বেইমানের জন্য কখনো চোখের পানি বেরোয়? হয়তো না। কিন্তু সামিরের চোখ ভিজে যাচ্ছে । হাতের ক্যানোলা টান মেরে খুলে ফেলল সামির৷ হাতের ফিনকি দিয়ে ছুটে পরলো রক্ত । সিয়াম পুরোটা জানতো জন্যই সামিরকে আটকে বলল,,,
“ ভাই,, ভাই,, ভাই আমার, যাস না। প্লিজ “
কোথায় থেকে উদয় হোলো রিটো। সিয়ামের দিকে তাকিয়ে ভাউভাউ করে ইশারায় জানান দিলো, সামির সিকান্দার কে যেতে দেয়া উচিৎ৷ সামির সিয়ামের বাধা না মেনে সাদাকালো চেকের রুমালটা হাতে নিয়ে বলল,,

“ আমার কাজ বাকি আছে জন্যই এই বাঙ্গির রুমালটা আমার কাছেই আছে । “
রাহা ঢুকো কান্নাকাটি জুরে দিলো “ সামির ভাই, তুমি রাগের মাথায়কিছু কোরোনা ভাই “
“ কেন করব না। আমার ফাটছে ভাবি।” বুকের বাপাশটায় হাত দিয়ে দেখাতে দেখাতে বলল,,,
“ আপনারা মনে নাই করতে পারেন কিন্তু আমিও মানুষ । আরে আমি খারাপ, কিন্তু খারাপেরও খারাপ লাগে। আরে কেন আপনারা সবসময় আমার বুকটা ফাকা করতে উঠেপরে লাগেন? “
চিৎকার করে কথাটা বলল সামির। সিয়াম কাশেমের জন্য সামিরের হাহাকার দেখে হতবাক হয়ে গেল । কখনো কোনো আচরণে মনে হয়নি। কেও বিশ্বাস ও করবেনা, সামির কাশেমকে ভালোবাসে এটা বোঝা যায়। সর্বদা চাকরের মতো খাটাতো ওকে। কত মারপিট করেছে। কিন্তু কখনো কোথাও মনে হয়নি কাশেমের জন্য সামিরের কষ্ট হবে।

“ এই জায়গাটা যে বেইমানের জন্য পুইড়ে যাচ্ছে ভাবি। দেখতে পাচ্ছেন কত তাপমাত্রায় পুড়ছে? জিজ্ঞাসা করেন কেন পুইড়ছে? আমার ভাই নয় ও। বন্ধু নয় ও৷ চাকর নয় ও। ও আমার নিজের হাতে পালা বাচ্চা ভাবি। আমার প্রথম সন্তান কাশেম হালদার। “
রাহা অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকিয়ে দেখলো, সন্তানহারা বাবার মতো পাগল হয়ে উঠেছে সামির । কেও বলেনি। কিন্তু সামিরের বুঝতে সময় লাগেনি। সাফিনের আদেশে কাশেমকে হ*ত্যা করা হয়েছে। সাফিনের স্তব্ধতা দেখেইসে বুঝে ফেলেছে। এটা সাফিনেরই কাজ। রাহা সব জানতো। তাই সে বুঝতে পেরেছে সামির নিশ্চয়ই প্রতিশোধ নিতে যাবে। ওর হিংস্র কুকুরের মতো রক্তঝরা চেহারা দেখে বোঝাই যাচ্ছে । নুসরাত সিয়ামের পাশে দাড়িয়ে আছে। সামহা বাইরে মেধার কাছে দাড়িয়ে । মেধা নির্বাক, নিস্তেজ হয়ে কাশেমের মরদেহর পাশে বসে আছে। মাহা অঝোরে কেঁদে চলেছে।

কেবিন থেকে ফুসতে ফুসতে বেরিয়ে এলো সামির। ধীর পায়ে সাদা বস্তুটির কাছে এগিয়ে গিয়ে দাড়ালো। মাহা তখন একটু শান্ত হোলো। পর্দার আড়াল হতেই সামিরের দিকে তাকালো। সামির হাটু মুড়ে বসল।
বহু চেষ্টায় ঠোঁট ভেজালো। নুসরাত ঢোক গিলে, সিয়েরা, সামহা আর সিভানকে সঙ্গে করে বাড়ি চলে গেল । সিয়াম সামিরের পিছে দাড়িয়ে রইল । সামির যতই হাত এগোচ্ছে ওর তত হাত ভারি হয়ে যাচ্ছে৷ মুখের ওপর থেকে সাদা কাপড়টা সরাতেই দৃশ্যমান হয় অতি পরিচিত চেহারাটা। বুকের মধ্যে ধপ করে ওঠে। আলতো করে চেহারাটায় হাত বুলিয়ে দিতেই ওর কালো হৃদয় থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ওয়ার্ড বয় এসে বলে,,

“ উনার মৃত্যুর ৬ ঘন্টা পেরিয়ে গেছে।৷ চিরঘরে (কবর) নিয়ে যেতে হবে। নাহলে.. “
“ নিয়ে যাও “ হিমশিম কণ্ঠে আওড়ালো সামির। ভাঙ্গা কিন্তু শক্ত কণ্ঠে বলল,,
“ সাবধানে, ওর যেন কোথাও আঘাত না লাগে। ওরে মারাধরার অধিকার কারো নেই। আঘাত দেয়ার অধিকার কারো নেই একমাত্র সামির বাঙ্গি ছাড়া “
কাশেমের বডি ওঠাতে এগোলে মেধা চিৎকার করে ওঠে,, “ কাশেম ভাইই!!! “
মেধার চিৎকারে পুরো হলরুম গমগম করে ওঠে। হাঁটু টেনে কাশেমের নিষ্প্রাণ দেহটাকে বিদ্যুৎ গতিতে আকড়ে ধরে। কেমন পাগলের মতো করে কাঁদতে কাঁদতে বলে,,

“ মাহা,, বলনা ওনাকে ওই ভয়ঙ্কর কারাগারে না রাখতে। সামির ভাই, বলুন না, বলুন না, আমাকে নিঃস্ব না করতে। ও তো আপনার সব কথা শোনে তাইনা? শোনে তো না? বলুন না,, “
সামির চুপ করে মেধার চেহারার দিকে চেয়ে থাকে৷ যে ৫ বছর মাহা তার কাছে মৃত ছিল সেই কবছর কিভাবে কেটেছে সেটা হিসেব করে মেধার কস্টটা সামিরকে বোঝানোর দরকার নেই।
মেধা আরো শক্ত করে কাশেমের ঠান্ডা বুকে নিজের মুখটা গুজে দেয়। আকড়ে ধরে থাকে রক্তেভেজা শার্ট। যেন তার ওপর কোনো প্রেতাত্মা ভর করেছে । পেছন থেকে মাহার ইশারায় নার্স তার হাতে সেন্সলেসের মেডিসিন ইনজেক্ট করে দেয় । চোখের পলকে নিস্তেজ হয়ে আসে মেধা। হাতের আকড় দুর্বর হতে থাকে।
দুর্বল অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকিয়ে দেখে ওরা, কাশেম কে চিরতরের জন্য দূরে নিয়ে চলে যাচ্ছে৷ আর কখনো ওকে হাসতে, দেখবেনা মেধা। দেখবেনা পিছে ঘুরতে, বলবেনা ‘ শ্যামা, তোমায় ভালোবাসি ‘
মেধার মনে তখন উদয় হলো কিছু কথা,,

“ আপনার সঙ্গে আমার সংসারের স্বপ্ন টা পূরণ হোলোনা কাশেম ভাই। আপনার শ্যামা পেলনা আপনাকে স্বামী রূপে দেখার সৌভাগ্য । গায়ের রংটার মতো নিয়তিটাও যে পুড়ে কালো হয়ে গেল ।আর একটু অপেক্ষা করলে কি হোতো কাশেম ভাই !! একটাবার আমার মুখ থেকে শুনতেন, “ ভালোবাসি “ কাকে বলব! কাকে দেখাবো এই হাহাকার!
“ ভূপৃষ্ঠ থেকে নিজের চিহ্ন বিলীন করে আপনি হারিয়ে গেলেন অন্তরীক্ষে। আর আমাকে রেখে গেলেন এক তৃষ্ণার্ত বেহুলা করে। আপনার এই অপরাধ কক্ষনও ক্ষমা না হোক কাশেম ভাই। কক্ষনও ক্ষমা না হোক !“ কখনই না “
মেধার দৃষ্টি হারিয়ে গেল অন্ধকারে। হাহাকার পরিণত হোলো ভয়ংকর নিস্তব্ধতায়। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলো,, ওরা, ওরা কাশেম ভাইকে নিয়ে গেলো।
কাশেমকে নিয়ে যাওয়া হোলো ওকে গোসল করাতে । সামির পিছু পিছু গিয়ে বলল,

“ ওকে আমি গোসল করাবো। ওকে প্রথম গোসল আমি করিয়েছি৷ শেষ গোসলও আমিই করাবো। “
সিয়ামের মনে পরলো ছোটবেলার একটা ঘটনা। যখন নিয়ে আসা হয় তখন সে অনেক ছোট। কোলের বাবু। সেদিন কাশেমের নাম রাখার পর,

ওকে গোসল করানো নিয়ে ঝামেলা লেগেছিল। সাথি জেদ করেছিল সে করাবে কাশেমকে গোসল। সামিরও একি জেদ ধরেছে। সাথি যখন মানছিলোনা,, নিজের ফেবরেট লাঠি দিয়ে হেবি পেদানি দিযেছিলো। সাথি ফুপিয়ে কেঁদে সারা হচ্ছিলো । ইনায়া চুপ করে বসে দেখছিলো। সামির মগ ভরে পানি নিচ্ছিলো আর কাশেমের গায়ে ঢালছিলো । সেদিনটা সামিরের এখনো মনে আছে। ২২শে শ্রাবণ। সেদিও কাশেম শুয়ে ছিল। বসতে পারতোনা। আজো পারবেনা। সে কখনো ভাবেনি কাশেমকে এভাবে আবার গোসল করানোর সুযোগ পাবে।
কাশেমের গোসল শেষে ওকে মাটি দেয়া হোলো। জীবনের প্রথম সামির সঠিকভাবে সহীহভাবে নামাজে দাড়িয়ে জানাজা পড়েছে৷ বুকের ভেতরটা চিনচিন করছে৷

কাশেমের সুদর্শন চেহারাটার ওপর সাদা কাপড় ঢেকে মাটি ফেলার মতো ভযানক ব্যাথা কখনো পায়নি সামির। গোরস্তানের বাইরে দাড়িয়ে মনে করতে থাকে। একবার বোম মারার সময় কাশেম বরেছিল,, “ গোরস্তানে মারার কি দরকার ভাই, আমরাওতো একদিন এখেনেই আইসবো”
সামিরের ফোলে কল আসে। কল রিসিভ করতেই নুসরাত চেচিয়ে উঠে,, “ সামির,, সাফিন ভাই সামহাকে জবরদস্তি নিয়ে গেছে। ওকে বাচান ভাই “
কল কাট করে সামির দীর্ঘ একটি নিঃশ্বাস ফেলে চোখ খুলতেই দেখে রিটো এসে পায়ের কাছে ঘেঁষাঘেঁষি করছে । রঙচটা জিন্সের প্যান্টটার আবেশ যে তার ভিষণ পছন্দের । রিটোর মুখে সামির ওর রূপোর ছুড়ি টা দেখে বলে,,

“ তুই মানুষ হযে যাচ্ছিস রিটো বাঙ্গি।,,
আমি যেমন বেঁচে আছি,,
আমার রিটোও বেঁচে আছে ।
ওরা এই দেহকে থামাতে পারবে,
অন্তরে অন্তর্নিহিত সামির সিকান্দার ভিরান
কে নয়!! সামির সিকান্দার হিসেবে আরো একটা কাজ বাকি রয়েছে আমার।
৷ পকেট থেকে সাদাকালো চেকের রুমালটা বের করে সামির সিকান্দার বাড়ি ফিরে যায় আলমারির ধুলো সরিয়ে নিজের পছন্দের হালকা নীল রঙের লুঙ্গি টা টেনে বের করে। গায়ে জোড়ায় লাল শার্ট। গলায় ক্রসের লকেট আর হাতে ঘড়ি। লুঙ্গির খুটে লুকোনো রূপোর ছুড়ি ।

সিকান্দার বাড়ির চারপাশ ঝড়ো বাতাসে কাঁপতে শুরু করলো সামিরকে ভয়ানক ফুটো মস্তান রূপ ধারণ করতে দেখে। পেছন থেকে হাত টেনে নিজের মাথায় রেখে শক্ত কণ্ঠে মাহা বলল,
“ নিজের ভাই জন্য নয়। ন্যায় জন্য আপনাকে আমি অপরাধ করার অধিকার দিচ্ছি সামির সিকান্দার । এটাই শেষ সুযোগ। কথা দিন সব বিনাশ করে ফিরবেন। বিজয়ী ভব৷ “

কালকুঠুরি পর্ব ৬৩ (২)

সামির হাত নামিয়ে মাহার গাল ছেয়ে ওকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়েও নিলনা। না। একটুও দুর্বলতা নয়। আপোষ নয়। পরে যদি কথা রাখতে না পারে, বিনাশতো অবশ্যই হবে কিন্তু সামির যদি ফিরে আসতে না পারে। ততখন পর্যন্ত মাহা যেন নিজেদের মাঝের বিরোধ বজায় রাখে।
মাহার দিক থেকে চোখ সরিয়ে বেরিয়ে গেল সামির। জানেনা পরবর্তী তে কি হবে। তবে সবকিছু উপরওয়ালার হাতে ছেড়ে দিল মাহা। গিয়ে মেধার পামে বসল।

কালকুঠুরি শেষ পর্ব

1 COMMENT

Comments are closed.