Home কালকুঠুরি কালকুঠুরি শেষ পর্ব 

কালকুঠুরি শেষ পর্ব 

কালকুঠুরি শেষ পর্ব 
sumona khatun mollika

সামহাকে কোলে তুলে বসে ছিলো সিভান। মাত্রই ওকে ফিরিয়ে এনেছে লিমন। ভুংভাং বুঝিয়ে সিয়াম ছাড়িয়ে এনেছে সামহাকে। সিয়েরা গালে হাত দিয়ে দেখছে ওরা কি করে। সিভান যেহেতু একটু ফর্সা , তাই ওকে আসলেই মূলার মতই লাগছে দেখতে সামহার কাছে।
সামহা জিজ্ঞেস করে,,,

“ আচ্ছা মূলা ভাই, তুমি সবচে বেশি কাকে ভালোবাসো? “
“ আমার বাবাকে “ একটু গাল টেনে হেসে বলল সিভান। সিয়েরা বলল “ আমি মাম্মি কে “ সামহা চুপ করে রইলো। সে দুজনকেই ভালোবাসে। তবে না থাকা জিনিসে মানুষের টান বেশি সেজন্য সামিরের প্রতি সামহার ভালোবাসাটাও বেশি। মেয়ে রা বরাবরই বাবাদের বেশি ভালোবাসে।
সিভান হাত বাড়িয়ে দিতেই সিয়েরা ওর হাতে একটা নিকাব এগিয়ে দেয় । সিভান নিকাবটা দিয়ে সামহার চেহারা ঢেকে একবার দেখে। আবার খুলে নিয়ে সিয়েরা কে পরিয়ে আবার দেখে। ভাবুক হয়ে কিছুক্ষণ এটাওটা চিন্তার পর দুটোকেই কোলে টেনে সিভান বলে,,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

“ আমার কোলে দুটো চোর বসে আছে “
সিয়েরা সামহার মতো অতোটা পাকনা নয়। সে অবুঝ শিশু অবুঝের মতোই জবাব দিলো,,
“ তুমি কি আমাদের একটুও ভালোবাসোনা সিভু দা? চোর বললে! “,
সামহা মোটেও সুশীলা লক্ষীটি নয়। সে নাক টেনে বলল,,,
“ এই পিয়ারা,,, এত খোশামুদির কি আচে? আমরা চোর, আর সে ডাকাত এবারে জমবে “
সিয়েরা মুখে হাত দিয়ে হুকহুক করে হাসলো। সিভান সামহার নাক টেনে বলল,,
” ওভার এক্সেস পাকনি তুই “

সামহাও হাসলো। পরমুহূর্তেই মনে পরল মুখে মুখে কথা বলার জন্য ভাঙড়ি মামা তাকে ডাইনি বলত । বুলডোজার বলতো। এসব মনে আসতেই সামহার মনটা বিষণ্ণতায় ছেয়ে যায় ।
সিয়াম হুড়োহুড়ি করে ভেতরে আসে। সামহাকে কোলে তুলে বিছানায় বসিয়ে সিয়েরাকেও সরিয়ে নেয় । নুসরাত খাবার বানাতে ব্যাস্ত। সিয়াম কে হুড়োহুড়ি করতে দেখে তিনজনেই বিভ্রান্ত হয়ে যায় , সিয়াম সিভানের পাসপোর্টখুঁজে বের করে দুটো ছবি তুলে ফোন পকেটে রাখে। হুড়োহুড়ি করে কিছু কাপড় সুটকেসে ভরে সিভানকে ড্রেস চেঞ্জ করতে বলে। সিভান দুইবার প্রশ্ন করেও কোনো জবাব পায়না। তারপর সোজা গিয়ে জামা কাপড় বদলে আসে। সিয়েরা দৌড়ে গিয়ে মা কে খবর দেয় । নুসরাত আর রাহা ছুটে এসে সিয়াম কে থামতে বললেও কারো কথা না শুনে সিভানকে টেনে নিজের সাথে নিয়ে যায় সিয়াম ।
লিমন একটু আগের কথা চিন্তা করছিলো। নাজিয়া বেরিয়ে যাবার আগে লিমন নাজিয়ার পাশে দাড়িয়ে৷ নাজিয়া শোকে পাথর হয়ে বসে থাকা মেধার পাশে বসে৷ মাহা নামাজে। রবের দরবারে স্বামীর জয় কামনায় ব্যাস্ত। লিমন নাজিয়াকে বলেছিল,,

“ শুনুন, সব ঠিকঠাক হলে আপনাকে একটা কথা বলব। “
“ কি বলবেন? “ মায়াবী চোখে তাকিয়ে নাজিয়ার জবাব। নাজিয়া কি বলেছিল লিমন আর কিছু মনে করার আগেই সিযাম ছুটে আসে৷ ঘামে ওর শার্ট ভিজে গেছে। চেহারায় ভয় স্পষ্ট । লিমনের হাতে সুটকেস আর পাসপোর্ট দিয়ে সিয়াম বলে,,,

“ এখনি বেরিয়ে যা। যতদ্রুত সম্ভব ওকে সিঙ্গাপুরে নকুলের কাছে পাঠিয়ে দে। বলবি, ও ওখানেই থাকবে৷ ওকে ওখানে পড়াশোনার ব্যাবস্হা করে দিতে “
“ কিন….. “ আর কিছু বলার আগেই সিয়াম তাড়া দিলো দ্রুত যেতে৷ সিভানো বারবার জিজ্ঞেস করছে কি হোলো, কিন্তু সিয়াম জবাব দেয় নি। লিমন বুঝে ফেলেছে, সামির আদেশ করেছে ওকে বিদেশ পাঠিয়ে দিতে। নাজিয়া এখনো ফিরে এলোনা। সামির ভাইও আসেনি। নাই সাফিন এসেছে। লিমন সিযামের তাড়া দেখে সিভানকে সঙ্গে করে বেরিয়ে গেল ।
৫ ঘন্টা আগের কথা…..
মাহার থেকে বিদায় নিয়ে সামির বেরিয়ে যাচ্ছিল৷ নাজিয়া মাঝপথে আটকে বলে,,

“ সামির ভাই,,, এটা কাশেম ভাইয়ের প্যান্টের পকেটে পাওয়া গেছে “
নাজিয়ার হাত থেকে কাগজটা নিয়ে খুলল সামির। কাশেমের থ্যাড়াবেড়া লেখায় ভর্তি কাগজটা। শুরু হয়েছে ভাই দিয়ে ,,,
ভাই,,
আমি যদি বেঁচে থাকি, তো চিঠিটা পাবেন না। ছিড়ে ফেলবো৷ পেয়েছেন মানেই আপনার বাঙ্গি ভাষায় ইনশাআল্লাহ্ হয়ে গেছি। আপনাকে জানাতে চেয়েও পারিনি, আমি ছাত্রদের হয়ে কাজ করেছি। সাফিন ভাইয়ের কারচুপি আর মেনে নেয়া সম্ভব না৷ বহু প্রাণ গেল। কত নারীর ইজ্জত শেষ। কতজন সন্তানহারা হোলো। এসব ভেবেই আমি নিজ ইচ্ছে তে সাফিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে চলে গেছি৷ সাফিন ভাই আমাকে লাল কালিতে ফেলেছে। স্বৈরচার সরকারের বিরোধ হওয়া দরকার। আমার ওপর তো অনেক রাগ আপনার তাইনা? আমি বেইমানি করিনি ভাই। নিজের বোন ভাগ্নিকে বাঁচাতে চেয়েছি। আমি নিশ্চয়ই না ফেরার দেশে তাইনা? মেধাকে একটু দেখে রাখবেন ভাই। আমার বড় আপা টারে কষ্ট দিয়েন না। ওর যে কেও নেই। কেও না৷
আমারে ক্ষমা কইরেন ভাই। আপনাকে কষ্ট দেয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে ছিল না৷
ভালো থাকবেন ভাই। আপনাকে, আপাকে আর মেধাকে সুখী দেখে আমিও শান্তি পাবো।
ইতি,,,
বেইমান কাইশসা।

সামির চিঠিটা মুড়িয়ে নিজের শার্টের পকেটে গুজে নিল। মনে মনে বলল,, “ শোধ তুলেই ছাড়বো। “ নাজিয়া পথ আটকায়, যাবেন না। একা একা যাবেন না৷ ওরা যদি আপনাকে মেরে দেয়?
“ না বেয়াইনসাব। আমি খারাপের সাথে খারাপ করতে যাচ্ছি । পথ আটকাবেন না। “
সামিরের সামনে থেকে হাত সরিয়ে নিল নাজিয়া৷ সামির গাল টেনে হেসে বেরিয়ে গেল। নাজিয়া মিনিট কয়েক কি এক্টা গভীর চিন্তা শেষে বেরিয়ে গেল, সামিরের পিছুপিছু।

বেলা ঢলে পরেছে। সামির গিয়ে দাড়ালো অন্ধকারাচ্ছন্ন কালকুঠুরির সামনে। বরাবরের মতোই রিটো ওর পাযের কাছে ঘুরঘুর করছে। সামির হাটু মুড়ে ওর সামনে বসল। মনযোগ দিয়ে দেখলো,,,
বিদেশি বাদামি কুকুর, ভয়ানক দাঁত , গলায় বেল্ট, চেহারা সুন্দর তবে স্বভার ভয়ানক। অযত্নের কারণে দেখতে ভিষণ নোংরা লাগছে। রিটো মাটি শুঁকে ছুটে গিয়ে একটা কিছুকে ইশারা করল । সামির এগিয়ে গিয়ে পকেট রুমালটা তুলে নিলো। সামহার রুমাল। ভেতরে সামহা আছে। জীবিত কি না ঠিক জানা নাই। সামিরের ভয় বলতে কিছু নেই। ওর ভয় লাগছে না। তবে সত্যি যদি সামহার কিছু হয়ে যায়, সামির বাঁচতে পারবে কিনা সন্দেহ।

রুমালটা পকেটে তুলে, সামির নিজের চেহারা ঢেকে ফেলল সাদা কালো রুমালে। নিজের রূপোর ছুড়ি টা রংচটা জিন্সের প্যান্টের পকেটে রেখে শক্ত কদম ফেলে ভেতরে ঢুকে গেলো। ফটক ঘেঁষে থাকা বটগাছের ডালে বসে কালো কুচকুচে কাক অশুভ ডাক ডাকছে ।
সামির দড়জা আটা সেল ২১৮ এর সামনে গিয়ে দাড়ালো। নিঃশ্বাস ফেলে ধাক্কা দিলো দড়জায়। শক্ত কপাট খুলে গেলো দুভাগ হয়ে । সামহাকে চেয়ারের সাথে বেধে রাখা। মুখটা ওড়না দিয়ে বাঁধা ছিলো । সামির ঢুকতেই ভেতরে বসে থাকা রুবেল দেওয়ান এর লোকজন ভয়ে উঠে দাড়ালো। সাফিন চুপচাপ বসে সিগারেট টানছে। রুবেল দেওয়ান বলল,,,

“ ওয়েলকাম,,, পাক্কা শুয়োর , তর লাইগেই বইসা আছি। কামঅন কামঅন কামঅন!! “
পাশে বসে থাকা এক বিদেশি ,৷ এ সেই কার্তিক আরিয়ান। যার নাতনি কাবেরি আরিয়ান কে সাফিন কিডন্যাপের অর্ডার দিয়েছিলো। কার্তিক বলল,,, “ ইসে কাহি দেখা হ্যায়, ইয়ে কওন হ্যায়,, ? “
সাফিন ধোয়া উড়িয়ে জবাব দেয় “ জাংলী কুত্তা হ্যায়, হাড্ডি দিখাও পুচ উঠাকে দৌড়েগা। “
( জঙলি কুকুর, হাড্ডি দেখাও লেজ উঠিয়ে দৌড়বে) ।
কার্তিক আরিয়ান বলল,, “ এ, তো ওহি হারামি হ্যায় হামারা লোগোকো আকেলিহি পিটা থা! “
এ,, মিস্টার এমপি সিকান্দার ,, ইস গাজাবকো হামে দে দো। বাদলেমে জিতনিভি প্যায়সা মাঙো হাম তাইয়ার হ্যায় “

( এ তো সেই হারামি যে একাই আমার লোকদের ধরে পিটিয়েছিলো । এই মিস্টার সিকান্দার , এই গজবটাকে আমায় দিয়ে দাও। বদলে যতই চাইবে , আমরা দিতে তৈরি আছি “ )
সামির কথাটা শুনে সাফিনের দিকে তাকালো। সবার প্রথমে বলল,,, “ সামহাকে বাড়ি ফিরিয়ে দিয়েসো । বাকি সব পরে দেখছি “
সামির কথা শেষ হতেই সিয়াম উঠে সামহার হাত পা খুলে বাড়ি নিয়ে যায় । সিয়াম চলে গেলে,, সামির সামনে রাখা টেবিলে উঠে বসে। মুখের রুমাল খুলে ফেলে । কপালে জমা বিন্দু বিন্দু ঘাম গুলো সরিয়ে কার্তিকের দিকে তাকিয়ে বলল,,,
“ আরে ও বুইড়া বাঙ্গি,, শুনা নেহি? হাম কওন হ্যায়? জাঙ্গলী কুত্তা হ্যায় হাম। থোরা ডারো ইয়ার,, কাট ডালুঙ্গি, ভাউ “
সামির ভাউ আওয়াজ করতেই রিটো ওর ভয়ানক দাঁত বের করে খেঁকিয়ে উঠলো । কুকুরের হুঙ্কার কিন্তু বাঘের মতো ভয়ানক শোনাচ্ছে। সে যেন তার আওয়াজ তুলে বলছে “ সামির বাঙ্গি তুই শুধু বল, আমি রিটো এখনো বেঁচে আছি “

সামির হাতের ইশারায় রিটোকে থামিয়ে দিলো। রিটো পা গুটিয়ে বসল সামিরের পায়ের কাছে। কার্তিক আরিয়ান গ্লাসের মদটুকু শেষ করে, সামিরের দিকে তাকিয়ে বলল,,
“ শুনা হ্যায় তেরি পাত্নি বহত সুন্দর হ্যায়? হামছেভি মিলাও। হামভিতো দেখে, কীরকম দেখতে হ্যায়?”
“ সাইয়ার মতো দেখতে। কোনো সমস্যা?”
কার্তিকের মুখটা বন্ধ হয়ে গেল। সাফিন উটে দাড়িয়ে বলল,, “ আপনা মাল সামেটকে লে যাও। “
“ যারুর যারুর। পার ইস বাঙ্গিকা পাত্নিকোতো দেখে, টেনশন মাত লে বেটা। মাল পাছান্দ হুয়াতো ২ কারোর ( ২ কোটি) । খালি হাত…. “

কথা শেষ হওয়ার আগেই সামির নিজের রূপোর ছুড়ি টা নিনজা স্পিডে ছুড়ে মারলো। সোজা কার্তিক আরিয়ানের গলায় গিয়ে লেগেছে। রক্ত ছিটকে লেপ্টে গেলো দেয়ালে। সামিরের ছুড়িটা বেশ লম্বা। ছোটখাটো নয়। রামদযর মতো ধারালো। হাতলে কাস্টমাইজ করে মাকড়সার ডিজাইন করিয়েছিলো। রিটো গাড় ঘুরিয়ে সামিরের চেহারার দিকে তাকায়। সামির ভয়ানক কণ্ঠে বলে,, “ আমার পত্নি আমার কাছে অমূল্য। কোনো পাক্কা শুয়োর কিভাবে জানবে, অমূল্য জিনিসের মূল্য নির্ধারণ করতে নেই। “
কার্তিক আরিয়ানের লোকজন হামলা করলে সামির রিটোকে ইশারা করতেই রিটো নিজের দাঁত রক্তাক্ত করে তোলে মুহূর্তে । মাত্র পাঁচ জনকে শেষ করা মোটেও কঠিন কথা নয়৷ সামিরের চেহারা রক্ত দিয়ে ধুয়ে যাচ্ছে । ক্রোধ শান্ত করে হাপাতে লাগলো ও। সব জঙ্গলকে শেষ করে রিটো সাফিনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলে, সামির তাকে পিছে ফিরে ডাকলো। রিটো ভদ্র বাচ্চার মতো একপাশে দাড়িয়ে রইল। সামির নিজের রুমাল খুলে তাতে নিজের ছুড়িটা ঘষে পরিষ্কার করতে লাগলো। সাফিন তখনো শান্ত হয়ে বসে। একের পর এক সিগারেট টানছে। সামিরের দিকে তাকিয়ে বলল,,

“ বড় হয়ে গেছিস তুই “
“ আমার দিবাকে কেন পুড়িয়ে ফেলতে চেয়েছিলে? “
“ এত বউভক্ত কবে হলি সামির “
“ কাশেমকে আর আমার বাচ্চাটাকে কেনো মেরেছো? “
“……..”
নিরবতা ।
সামির বেশ কিছুক্ষণ থম মেরে বসে রইল। তারপর বাঘের মতো গর্জন করে উঠলো,,
“ বল শুয়োরের বাচ্চা, তোর কি ক্ষতি করেছি? ছোট থেকে তোকে বাপ সমান সন্মান করেছি। তোকে সবচে বেশি ভালোবেসেছি। চাকরের মতো তোর খেদমত করেছি। তোর হয়ে জেল খেটেছি, মার খেয়েছি তবু কেনো?? কেনোও? তুই আমার চাচা, চাচি, কাকা, বোন, মা, সবাইকে মেরেছিস ৷ হ্যা আমার একটা মেয়ে আছে, তবে আরেকটা ? “

“ তুই জানতি? “
“ হ্যা জানতাম। কাশেম, আমার কলিজার টুকরা কাশেম কোনোদিন আমার কাছে কোনো কথা লুকোয়নি। সেইদিনো লুকিয়েছিলনা। আমি সেই ৫ বছর আগে থেকেই জানতাম, দুনিয়ার কোনো এক কোনে আমার বউ বাচ্চা জীবিত আছে । আমি জানতাম সামহা আমার মেয়ে। ইচ্ছে করে ওকে কিডন্যাপ করেছিলাম। ওকে কোলে নিয়ে আমার আরেক মেয়ে সিমরানের জন্য আমার বুকটা ফেটে যেতো। কাশেম ওদের নাম রাখেনি। ওদের নাম রেখেছিলাম আমি ওদের বাপ সামির সিকান্দার ভিরান । আমাকে কবরে গিয়ে বসে থাকতে দেখে খুব করে ভাবতি দিবা মরে গেছে ? না রে না। আমি হতভাগা আমার মেয়ে টার কবরে গিয়ে বসে থাকতাম৷ কেন? কেন সেদিন রাগিব দেওয়ানকে বলেছিলি আমার বউয়ের ইজ্জতভ্রষ্ট করতে? কেন আমার মেয়ে টাকে মেরে দিযেছিস? বলনা, বল, বলল”
শার্টের কলার ছাড়িয়ে সাফিন চেচিয়ে ওঠে,,

“ কারণ তুই আমার থেকে সব কেরে নিয়েছিস! তুই, যেকিনা একটা অবৈধ শুয়োর, তুই সব কেড়ে নিয়েছিস… তোর জন্মের জন্য সজল কাকার কাছে আমার ভালোবাসা কমে গেছিলো। তোর জন্মের প্রহর গুনতে গুনতে দাদি সুমনা সিকান্দার আমাকে ভুলেই গেলো। তোর জন্য ভানু মা, আমাকে ভুলে গেলো। সিয়ামের বেলায়তো এসব হয়নি। “
কথাগুলো শুনতেই সামিরের মাথা ঘোরাতে শুরু করে। তার ভাই তাকে এত হিংসে করত! এতো! একটু দম ফেলে সাফিন আবারো শুরু করল,

“ আচ্ছা ছোটবেলার কথা বাদ দে। বড় হয়েও যেখানে আমার বেলায় ভোট করতে হবে সেখানে তোর মতো একটা কন্ট্রেক্ট কিলারের বেলায় সবাই বলত সামিরকে নামিয়ে দে, ভোট করার দরকারি পরবেনা। কেনো? আমি তোরচে বড়, দেখতে সুন্দর , হ্যান্ডসাম, আচ্ছা এসবও বাদ দে। তোর প্রতি আমার মনে সর্বশেষ পর্যায়ের বিষ বেরেছে কখন জানিস? যখন তুইআমার থেকে আমার পছন্দ ছিনিয়েছিস। বিয়েরদিন তোকে আমি শাসন করে চড় মারিনি। হিংসা আর রাগে মেরেছিলাম। আরে সেই ছোটবেলায় দক্ষিণপাড়ায় লাল টুকটুকে ফ্রক পরে ঘুরতে দেখে মাহাকে আমি পছন্দ করেছি । আমি! এমপি আবু সাফিন সিকান্দার ! বড় হয়ে ওর দেখা পেতেই ওর জন্যই সিভানের মাকে মেরেছি আমি। সেই মেয়ে কে তুই বিয়ে করে এক ছক্কায় দুই বেটির বাপ হয়ে গেলি। নেহাতি আমি জানতাম না তোর জমজ মেয়ে , নাহলে সামহাও জীবিত থাকতোনা । ”

“ এইইই, শুয়োরের বাচ্চা তোর মতো ছিলান আর পাক্কা হারামি এ জীবনে দেখিনি। এত হিংসা এতো? যার কিছু নাই তাকে করেও এত হিংসা! “
সাফিনের চোখে হিংস্রতা, রক্তচক্ষু করে সাফিন জবাব করল,,, “ হ্যা হিংসা। সেজন্যই মাহাকে মারতে বলেছিলাম আমি। আফসোস তোর পালতু কুত্তা কাশেম সেদির অরে বাচায় নিছে। আরে তুই আমার উপার্জনের হাতিয়ার না হলে কবেই তোকে মেরে দিতাম। কাশেমকে সেদিনি মেরে দিতাম যেদিন তুই সামহাকে নিয়ে পালিয়েছিলি। কিন্তু আফসোস শালাকে এলাকায় খুজেই পাওয়া গেলোনা। এই জন্যই কোটা আন্দোলন এর আসামি বানিয়ে মেরে দিযেছি ওকে “
“ চোপপপপ, একদম চোপপপ! “
“ কি করবি তুই বল, কি করবি? মারবি আমাকে? পারবিনা। তুই আমাকে কথা দিযেছিস আমার অনুমতি বিনা আমাকে মারবিনা৷ “
নিরবতা…..

[ এই ১০,১২ লাইনের পার্ট টুকু বইয়েও থাকবে। নাজিয়া এখানে মারা যায়। ওটাও বইয়ে থাকবে। ভায়োলেন্স হলে, সমস্যা হতে পারে। ]
ঠাস করে দুটো গুলির আওয়াজ হোলো। সাফিনের মুখ দিয়ে ছিটে পরল রক্ত। আর সামিরের চোখ দিয়ে গড়িয়ে পরল নোনা জল। সাফিন ঠিক তিন সেকেন্ডের মাথায় নিজের চোখ আটকে ফেলল। পুরোনো জমিদারদের বাঈজি বাড়ি কালকুঠুরির ২১৮ নং ঘরটার মেঝে ভিজে গেলো সাফিন সিকান্দার এর বুকের তাজা লাল রক্তে। পাশেই পরে আছে নাজিয়ার নিষ্প্রাণ দেহ। হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভাঙা দেয়াল ভেদ করে অশুভ কাকেরা এসে ডাকাডাকি শুরু করল । একটা কাক এসে বসল টেবিলের ওপর । যেই টেবিলে পরে আছে সামিরের রক্তাক্ত রূপোর ছুড়ি। মাত্র এসে দড়জার দাড়ানো সিভানের চোখ দিয়ে গড়িয়ে পরল উত্তপ্ত নোনা জল । সামির ওকে দেখার আগেই সিভান চলে গেল। লিমন দৌড়ে গিয়ে নাজিয়ার দেহ ধরে ডাকাডাকি শুরু করল।

হাতের গানটা ফেলে দিয়ে সামির সাফিনের নিথর দেহটা জড়িয়ে ধরল । হাহাকার করে চিৎকার শুরু করল,, “ কেনো,,, কেনোও, আমার আপনজনেরাই কেন আমার হৃদয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে৷ “
লিমন দৌড়ে বাইরে গিয়ে দেখলো সিভান চলে যাচ্ছে । নিজেও দৌড়ে গিয়ে সিভানকে থামাতে চাইলে সিভান বলল,, “ কিছু শুনতে চাইছিনা আমাকে এয়ারপোর্টে নিয়ে চলো। প্লিজ। “
লিমন সিয়ামের আদেশ ফেলল না ৷ সিভান এমনি কিছু আঁচ করতে পেরে মাঝ রাস্তা থেকেই ফিরে এসেছিলো চেয়াল শক্ত করে চুপচাপ ফিরে যাচ্ছে ।
এয়ারপোর্টে গিয়ে প্লেনে উঠে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে বলল,,, “ ছাড়বোনা। কাওকে ছাড়বোনা। শেষটা হবে আমার হাতে “

কালকুঠুরিতে ভয়াবহ নিস্তব্ধতা। সামির বড় করে নিঃশ্বাস ফেলে নিজের ছুড়িটা তুলে নিল। রক্ত শুকিয়ে গেছে৷ সাফিনের লাশটা ভেতরেই পরে রইলো। আধাঘন্টা পেরিয়ে গেছে বড় করে বুক ভরে নিঃশ্বাস টেনে সামির বাইরে বেরিয়ে এলো। সামনে যে পুকুর ছিলো, সেখান থেকে নিজের গায়ের রক্ত পরিষ্কার করার সময় আন্দাজে ছুড়িটা পেছনে ছুড়ে মারলো। চুপচাপ পেছন থেকে আসা রুবেল দেওয়ান এর লোকটা ছুড়িকাহত হয়ে মারা যায় । সামির রিটোর দিকে তাকিয়ে ঠোটে রহস্য রেখে হাসে। রিটো জীভ বের করে নিজের আনুগত্য প্রকাশ করতেই, সামির হাতে পানি নিয়ে ওর দাঁত পরিষ্কার করে দিলো। মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। তারপর ছুড়িটা পরিষ্কার করে বাড়ির দিকে ফিরে গেলো।
টুংটাং করে শব্দ আসছে ভেতর থেকে । সামির ভেতরে যেতেই দেখলো সামহা সিয়েরাকে গিটার বাজিয়ে দেখাচ্ছে আর বলছে,,

“ এই দেখ পিয়ারা, এভাবে বাজায় পুুইপুই “
“ কিন্তু সামহা, এটাতো পুইপুই না। এটা কাকার গিটার । “
“আরে চুপ কর বাঙ্গি । আমি যা বলব তাই। “
“ আচ্ছা “ সিয়েরা চুপসে গেল।
সামির ওদের দেখে একটু হাসলো। দুজনেই দৌড়ে গেলো সামিরের দিকে। সামির হাসিমুখে বলল,,,, “ তোমরা যাও। আমরা পরে কথা বলব আচ্ছা? “
“ আচ্ছা “ বলেই সামহা আর সিয়েরা বেতরে চলে গেলো। সামির কি মনে করে আবার বাইরে চলে গেল । বাড়ির পেছনে গিয়ে নিজের ঘরের বারান্দা টপকে ভেতরে ঢুকে পরল। মাহা বারান্দা তেই দাড়িয়ে ছিলো। গাল টেনে হেসে বলল,,

“ আবার? “
“ রূপান্জেলের মতো চুলটা ফালাই দিলেইতো পারো, বারান্দা টপকাইতে কষ্ট হয় বাল “
মাহা ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “ মাঝেমধ্যে ইচ্ছে হয় এই বারান্দা থেকেই আপনাকে ধাক্কা দিয়ে বাঙ্গিক্ষেত টু পটলক্ষেত এ পাঠিয়ে দেই “
“ আআআ, বাঙ্গিমারা জিন্দেগী ! “ সামির বুকে হাত দিয়ে কথাটা বলল। মাহা হাসলো। সামির ওকে নিজের কাছে টেনে জিজ্ঞেস করল,,
“ তুমিতো চাইলেই আমাকে ঠুসে দিতে পারতে ছেড়ে দিলে কেনো? “
মাহা বারান্দায় গিয়ে দাড়ালো। চারপাশের জঙ্গল পরিষ্কার করা হয়েছে। নতুন ফুল ফলের গাছ লাগানো হয়েছে৷ আকাশে বিন্দুমাত্র মেঘ নেই। রাত নেমেছে। পরিষ্কার আকাশে মুক্ত হয়ে নীড়ে ফেরা পাখিগুলোর দিকে তাকিয়ে মাহা বলল,,

“ কেন সবসময় শাস্তিই পেতে হবে? আমার বিবেচনা বলে আপনি যথেষ্ট শাস্তি পেয়েছেন সামির সিকান্দার । আমি পাপকে ঘৃণা করেছি। আর পাপিকে ভালোবেসেছি। শুধু আমাকে কথা দিন,, আপনি আর কখনো এসবের দিকে ফিরবেন না। ভার্সিটির হ্যান্ডসাম রুড টিচার হয়েই বাঁচবেন । কোনো আসামি নয়। আমার স্বামী হয়ে বাঁচবেন । বলুন রাজি? “
সামির মাহাকে নিজের দিকে ঘোরালো। চুলগুলো কানের পিছে গুজে দিয়ে বলল ,,
“ অনেক ভালোবাসি আমার পথপ্রদর্শক বোরখাওয়ালী মেডাম “
মাহা ভাবুক ভঙ্গিতে মুখ করে বলল,”উমমমম…… মনে হয় আমিও সামথিং সামথিং “ বলেই মাহা চলে যেতে লাগলে,
সামির গাল টেনে হেসে বলল,, “ আরো ও বোরখাওয়ালী মেডাম , চলে কেনো যাচ্ছেন? তোর সোয়ামী তোরে অনেক ভালোবাসবে রে মেয়ে । অনেক ভালোবাসবে । বুড়ি বলেছিলো তোর ২টা বাচ্চাতো থাকবেই থাকবে । আমার নানি বাঙ্গির কথাটা না রাখলে চলে? “
মাহা আওযাজ করে হাসলো। শার্টের কলার ঠিক করে বুকে ঘুষি দিয়ে বলল,, “ ওজি শারাম কারো জি। বাচ্চেকি বাপ হো “

“ ধুসস, শরমে গরম ভাত জুটে না। শরম লুকাক বাঙ্গিক্ষেতে। ইউ কাম মাই অন্তরে “ বলেই মাহাকে টেনে নিজের সাথে লেপ্টে নিল সামির। হুট করে আওয়াজ বেসে আসলো,,,
“ হু হু চালিয়ে যাও। আমরা কিছু দেখচিনা “
সিয়েরার কথায় দুজন ছিটকে সরে পরল৷ সামহা সিযেরার মাথায় গাট্টি মেরে বলল,, “বলদ বাঙ্গি! “
সামির খেপে উঠে বলল,, “ এই যা ভাগ এখান থেকে “
সামিরের কথা শুনে দুজনেই দৌড়ে পালালো। সিয়াম আর নুসরাত নুসরাতের বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়েছে মাত্র কিছুক্ষণ। সামহা আর সিয়েরাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুম পারিয়ে দিল মাহা। রাহা নিজের বাবার বাড়ি গেছে। সিয়াম রেখে এসেছে। । এখনো হয়ত সাফিনের ফিরে আসার অপেক্ষায় ।
সামির নিজের টেবিলে বসে ছবি আকাচ্ছিলো। মাহা ভেতরে ঢুকে দড়জা আটকে দিল। সামিরকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল,,

“ বলছি শুনুন ,, “
“ বলো, ? “
“ কিছুকি দেখতে পাচ্ছেন? “
“ না তো “
মাহা ক্ষেপে বোম হয়ে গেল। বারান্দায় গিয়ে দাড়িয়ে বুকে হাত গুজে বলল,, “ তা দেখতে পাবেন কেনো ! দেখবেন শুধু আপনার পিরিও নায়িখা, খ্যাটরিনা খাইফ কে! “
সামির হাতের কাজ রেখে টেবিল থেকে উঠে এলো চাদের আলো এসে পরছে মাহার মুখে।
“ সামনে একটা আস্ত সাইলেন্ট বোম কে রেখে অন্য কাওকে দেখার কথা কি করে ভাবি , সবুজ শাড়ি জড়িয়ে রমনী আমাকে পাগল করে তুলছে “

“ তো, হয়ে যান পাগল। কে মানা করেছে “
“ তুমি মানা করলেও শুনছে কে? “ কথাটা বলেই সামির মাহাকে কোলে তুলে দড়জা এটে ভেতরে চলে গেলো। ধরনীতে এক নতুন রাত্রির আগমন হোলো।
১২ বছর পর…..
“এই মূলা,, আরে এই বাঙ্গি ক্ষেতের মূলা! “
সামহার ডাকে হকচকিয়ে উঠলো ওর ছোট বোন সানিয়া সিকান্দার । মাত্রই ঘুমে ঢুলছিলো বাচ্চাটা। সামহা এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষে অধ্যায়নরত যুবতী । আর সানিয়া নেহাতই কেবল ১২ বছরের কিশোরী । সামহা তুলনায় দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। মায়ের মতো সূক্ষ চোখের অধিকারিনী তো। সুন্দর তো হবেই। সানিয়া বলল,,

“ ও কামন আপু, আব্বু কিছুই বলবেনা একটু দেরি হলে “
“ বলবেনা মানে, মেরে দেবে। আরে চল না রে ছাতা “
সানিয়া বেচারি উঠে রেডি হোলো। সিয়েরা, সামহা আর সানিয়া একসঙ্গে বের হয় । লালগলি বলতে এখন রাজশাহীর বুকে কোনো গলি নেই। সেটাকে এখন, উম্মুল মুমিনিন মহিলা মাদ্রাসায় পরিবর্তন করেছে সরকার। দেরি হওয়ায় সামহা ভার্সিটি দৌড়তে দৌড়তে ক্লাসে পৌঁছায় । ক্লাসে উপস্থিত কেমিস্ট্রি প্রফেসর সামির সিকান্দার ভিরান হাত উচিয়ে বলে,,
“ বাইরের দাড়িয়ে থাকো। ইউ আর লেইট “
“ সরি স্যার “
“ শাট আপ! ওখানেই দাড়িয়ে থাকো। “
ক্লাসে আর ঢুকতে নেযা হোলোনা বেচারি কে। ক্লাস শেষে সামির ডাকলো,, “ এইযে, বোরখাওয়ালী বেবি, এদিকে এসো “

সামহা মুখ বেজার করে এগিয়ে গেলে সামির বলে,, “ মুখটা ফুলিযে এমন করে রেখেছিস কেনো, ঘুষি মেরে নাকটা বোচা বানিয়ে দেবো! “
“ হুহ্, আজকে বাড়ি চলো, মা কে বিচার দিব তুমি আমাকে ক্রাসে ডুকতে নাওনি। আরে হজ টজ করে এসে হাজীর বদলে আরো পাজি হয়েছ তুমি আব্বু “
“ সরি মাম্মা । বাট লেট করলেতো ঢুকতে নিবনা “
“ এরপর থেকে আর হবেনা “
সামির গাল টেনে হাসলো। সামহার হাত ধরে চলে গেলো সানিয়াকে নিতে। সিয়াম আর নুসরাত বাড়িতে নেই। কোনো এক কাজে নুসরাতকে সঙ্গে করে ঢাকা গিয়েছে সিয়াম। শহরের গর্ব প্রধান বিচারপতি মাহাদিবা ফারনাজ মাহা । নিজের স্বামী সংসার নিয়ে বেশ সুখি একটা মানুষ সে। মেযেদের সঙ্গে বাড়ি ফিরলো সামির। দিন শেষে রাতের নামাজ শেষে বারান্দায় দাড়ালো দুজন,, সামিরকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মাহা জিজ্ঞেস করল,,

” ওভাবে কি দেখ দেখচেন? ”
” পুরাটা জিন্দেগী । ” মাহাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে বলল,,, ” তুমিইতো এই অবৈধ আমার বৈধ জীবনের শুরু ও শেষ। এভাবেই শেষ হোক জীবনটা তোমাকে ভালোবেসে। সামথিং সামথিং করতে করতে তুমি যে আমার এভরিথিং হযে গেলে দিবা ”
” শুনুন…. ”
” বলুন মেডাম, ”
” যদি ককথা দেন আপনি আর ক্যাটরিনা কাইপের মুভি দেখবেন না। তাহলেই বলব ‘”
” আচ্ছা এতো জ্বলে! কই দেখি দেখি কোথাও পুড়ে গেলো কিনা! ”
” উফফ! দুররো! ”
” আচ্ছা সরি সরি। বলো বলো বলোনা ”
” পারবোনা। ক্যাটরিনা কাইফকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন ”
সামির মাহার শাড়ির আচল টেনে ধরে মষ্করা করে গাইতে ধরল,,

~ এ মনেরি সীমানায়,
তুমি ছাড়া কেহো নাই।
আড়াল হতেই যত কথাআ
সহেনা যাতনা
কি করি বলোনা!
ও বউ বলোনা , প্রমিজ কচ্চি আর খ্যাটরিনার মুভি দেখবোনা ”
” সত্যি তো? ”
” আরে সত্যি ”
” হুমমমম ”
” কি হোলো বলো,, ”
” উমমমম,,,, আই লাভ ইউ ”
” হায়য়য়য়য়,,,,, মে মার গেয়া ”

মাহা আর সামিরের হাসাহাসিতে ঘর পুলকিত হয়ে উঠলো। সামির ভেবেই নিয়েছিলো তার হয়ত বেচে থাকার কোনো কারণ থাকবেনা। কিন্তু এখন জীবনটা পুরো বদলে গেছে। রেগুলার ভার্সিটি। ফ্যামিলি টাইম। সবি কল্পনাতীত। তবে আফসোস,, বুকের বাপাশ থেকে হারানো মানুষ গুলো আজো হৃদয় থেকে মুছেনি। মেধাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। রাহা আর সিকান্দার বাড়িতে আসেনা। মাঝেমাঝে মেয়েগুলোকে দেখতে আসে। লিমনের বাড়ি থেকে বিযের জন্য বিষণ চাপ দেয়। কিন্তু যকনি কোনো মেয়ে দেখতে যায় , নাজিয়ার কথা মনে পরতেই আর বিয়ের বিষয়ে ভাবতে ইচ্ছে হয়না।
ওদিকে মাহবুব উদ্দিন এর ছেলে মিরাব উদ্দিন ছেলেটা বড্ড ডানপিটে। ওরা এখন ঢাকায় থাকে। মাহমুব উদ্দিনের পোস্টিং হয়েছে সেখানে। সেতুর বিয়ে হয়েছে সুদুর বরিশালে। সেও খুব কম আসে রাজশাহী তে ।

কালকুঠুরি পর্ব ৬৪

~ হ্যাপি এন্ডিং ।
সিজন ২ সূচনা
বাড়িতে উপস্হিতি শুধু সামির, সানিয়া, সামহা, মাহা সিয়েরা আর সিধু সিকান্দার এর। তিনি মারা যাননি। দীর্ঘ ১৩ বছর আয়নাঘরে বন্দী ছিলেন। সবাই ডাইনিং রুমে বসেছিলো। কলিং বেল বেজে উঠলো মাহা গিয়ে দড়জা খুলে দিতেই ঠাস করে একটা আওয়াজ হোলো। সামির ছিটকে পেছনে তাকাতেই দেখলো, কালো লেদারসুট পরা একটা ছেলে। হাতে বন্দুক। সামির কিছু বলার আগেই গুলি এসে সামিরের বুকে বিধে যায় । ৩ কন্যাই চেচিয়ে উঠে । ছেলেটা মুহুর্তে মিলিয়ে যায় অন্ধকারে। …..
রহস্য রেখে যায় কে সে! কেনই বা মারলো গুলি!
সমাপ্তি ~
১৬/০১/২০২৬
[ যাদের কাচে মনে হচ্ছে এটা সেড এন্ডিং তাদের বলব, আমি কালকুঠুরি টা নিব্বি টাইপ গল্প লেখিনি। সিজন ২ এর জন্য ক্রিন্জ টা রাখতে হোতো। আর আশা করি এই পর্বটাতে আপনারা মন্তব্য কার কেমন লাগলো।