Home কিস অফ বিট্রেয়াল কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৩২

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৩২

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৩২
লামিয়া রহমান মেঘলা

সন্ধ্যা নামার পর অবশেষে উনুন জ্বলে উঠল সেরিনদের বাড়িতে। রান্নাঘরের মাটির চুলোর সামনে বসে নূরবানু সিকদার জ্বলন্ত আগুনে কাঠ ঠেলে দিচ্ছিলেন। তাঁর দৃষ্টি আগুনে নিবদ্ধ থাকলেও মন যেন বহু দূরে কোথাও হারিয়ে গেছে। চিন্তার গভীরে ডুবে থাকতে থাকতে খেয়ালই করলেন না, হাড়ির ভাত উথলে উঠে চুলোর গায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। চমকে উঠে তিনি তাড়াতাড়ি হাড়িটি নামিয়ে ঝরানির ওপর রাখলেন।
ঠিক তখনই উঠান পেরিয়ে কাকলি বেগম এসে দাঁড়ালেন। রান্নাঘরে নূরবানু সিকদারকে দেখে দ্রুত এগিয়ে এসে ডাকলেন,

“আপা।”
নূরবানু সিকদার মুখ তুলে তাকালেন।
“তুমি কখন এলে?”
“এই তো কেবল এলাম। সেরিন কোথায়?”
এক গভীর বিষণ্নতা মিশ্রিত কণ্ঠে তিনি বললেন,
“ঘরে।”
আর এক মুহূর্তও দেরি না করে কাকলি বেগম সোজা সেরিনের ঘরের দিকে চলে গেলেন।
ঘরে ঢুকতেই দেখলেন, সেরিন মেঝেতে শুয়ে আছে। মেয়েটির মুখের ক্লান্তি, বিবর্ণতা আর নিস্তেজ শরীর দেখে বুঝতে বাকি রইল না,সে ভীষণ অসুস্থ, ভীষণ ভেঙে পড়েছে।
কাকলি বেগম দ্রুত গিয়ে তার কপালে হাত রাখলেন। স্নেহভরা কণ্ঠে ডাকলেন,
“সেরিন… মা, ওঠ।”
ডাক শুনে সেরিন ধীরে ধীরে চোখ মেলল। সামনে কাকলি বেগমকে দেখামাত্র উঠে বসে তাকে জড়িয়ে ধরল। তারপর কোনো শব্দ না করে বুক ভাসিয়ে কাঁদতে লাগল।
কাকলি বেগম তার মাথায় হাত বুলিয়ে মমতায় বললেন,

“কাঁদিস না মা।”
ভাঙা গলায় সেরিন বলল,
“কি করব কাকি? আমি আর সইতে পারি না।”
“সব ঠিক হয়ে যাবে। আল্লাহর উপর ভরসা রাখ।”
সেরিন কিছুক্ষণ চুপ থেকে কাঁপা স্বরে বলল,
“কাকি, তোমার কাছে ফোন আছে?”
“হ্যাঁ আছে। কিন্তু তুই কি পারবি কিছু করতে?”
সেরিনের চোখে একফোঁটা শেষ আশার আলো জ্বলে উঠল।
“কায়ান যদি একবার জানতে পারে… আমার বিশ্বাস, সব ঠিক করে দেবে।”
কাকলি বেগম আবারও তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
“ভয় হয়রে মা, তুই যে এক নিষ্পাপ প্রাণ। তোকে মানুষ এভাবে কষ্ট দেয় কী করে!”
সেরিন মাথা নিচু করে রইল।
কাকলি বেগমের ফোন হাতে নিয়ে সে কায়ানের নম্বরে কল দিল। রিং হলো, কিন্তু কেউ ধরল না। আবার দিল। আবারও না। একের পর এক কল করতে লাগল সে, যেন প্রতিটি রিংয়ের সঙ্গে নিজের শেষ ভরসাটুকু পাঠিয়ে দিচ্ছে ওপারে।

কিন্তু কোনো সাড়া এলো না।
বিশতম বারের কলটিও ব্যর্থ হলে সেরিন যেন ভেঙে পড়ল সম্পূর্ণ। ফোন নামিয়ে রেখে সে কাকলি বেগমকে জড়িয়ে ধরে আবার কাঁদতে লাগল।
কাকলি বেগম সবই বুঝলেন। কিছু ব্যথা ভাষায় বলা যায় না,শুধু মাথায় হাত বুলিয়ে পাশে বসে থাকতে হয়। তিনি তাই করলেন।
মৃদু স্বরে বললেন,
“শান্ত হ মা… আমি ভেবেছিলাম, হয়তো লোকটা তেমন নয়। নাহলে বউ-বাচ্চা থাকতে… তোকে…”
বাকিটুকু আর বলতে পারলেন না। থেমে গেলেন। এই আহত পাখিটিকে আর নতুন করে বিদ্ধ করতে তাঁর মন সায় দিল না।
সেরিনের বুকের ভেতর জ্বলতে থাকা শেষ আশার প্রদীপটুকুও নিভে গেল।
চারদিকে যেন ঘন কালো অন্ধকার নেমে এলো।
তার জীবনজুড়ে, তার নিঃশ্বাসজুড়ে, তার ভবিষ্যৎজুড়ে।

সন্ধ্যা ঠিক সাতটা।
নূরবানু সিকদার রান্না করা খাবারগুলো একে একে ঘরে তুলে নিচ্ছিলেন। উঠোন জুড়ে তখন গোধূলির শেষ আলো মিলিয়ে গিয়ে নেমে এসেছে নরম অন্ধকার। চারপাশে এক ধরনের নিস্তব্ধতা, যেন দিনভর ক্লান্ত পৃথিবী একটু থেমে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
ঠিক সেই সময় হঠাৎ উঠানের সামনে এসে থামল একটি কালো গাড়ি।
অপ্রত্যাশিত শব্দে নূরবানু সিকদার চমকে উঠলেন। মাথায় আঁচল টেনে সাবধানে কয়েক কদম এগিয়ে গেলেন। কাছে যেতেই দেখলেন, গাড়ি থেকে নেমেছে শাহারিয়ার, তার বাবা আরিফ চৌধুরী, সঙ্গে আরও দু’জন পুরুষ। তাদের সবার হাতেই নানা রকম ব্যাগ।
নূরবানু সিকদারকে দেখতে পেয়ে তারা এগিয়ে এলো।
আরিফ চৌধুরী সামনে এসে গম্ভীর অথচ নরম স্বরে বললেন,
“আপা, শাহারিয়ার আমাকে সব বলেছে। আশা করি, এখন আর এ বিয়েতে আপনাদের আপত্তি নেই। যখন আপত্তি নেই, তখন আমি চাই আজই মেয়েটাকে নিজের ঘরে তুলে নিতে। যদি আপনি অনুমতি দেন।”
কথাগুলো শুনে নূরবানু সিকদার বিস্ময়ে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইলেন। যেন এত দ্রুত এমন সিদ্ধান্তের জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না।
কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত কণ্ঠে বললেন,

“ভাইজান, এত তাড়াতাড়ি সব সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলেন? জানেন তো, আমার বড় মেয়ে আছে, মেয়ে-জামাই আছে, ওদের না বলে সেরিনের বিয়ে…”
তিনি কথাটি শেষ করার আগেই আরিফ চৌধুরী তাকে থামিয়ে দিলেন।
গভীর স্বরে বললেন,
“দেখুন আপা, আমার মনে হয় আপনার বড় মেয়েকে এসব না জানানোই ভালো। সেরিন যার সঙ্গে এমন সম্পর্কে জড়িয়েছে, সে আপনার বড় মেয়ের ভাসুর হয়। বিষয়টা জানাজানি হলে ভয়ঙ্কর জল ঘোলা হতে পারে। আপনার মেয়ের সংসারেও তার প্রভাব পড়বে। আশা করি, আমার কথা বুঝতে পারছেন।”
নূরবানু সিকদার স্তব্ধ হয়ে গেলেন। কথাগুলো যেন তার বুকের ভেতর আরও ভারী হয়ে নামল।
তবুও শেষ চেষ্টা করে ধীর স্বরে বললেন,
“ভাই, মেয়ের বাবার সঙ্গে কথা বললে ভালো হয়।”

সেরিনদের ছোট্ট বসার ঘরে সবাই গম্ভীর মুখে বসে ছিল। ঘরের বাতাসে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা আর অস্বস্তি জমে উঠেছিল, যেন দেয়ালগুলোও নীরবে সব শুনছে।
আরিফ চৌধুরী ধীর কণ্ঠে একে একে সব কথা বললেন। আবু সুফিয়ান নিঃশব্দে, গভীর মনোযোগে তার প্রতিটি বাক্য শুনলেন। মুখে কোনো ভাবান্তর নেই, কিন্তু চোখের ভেতর যেন বহু হিসাব-নিকাশ চলছিল।
সব কথা শেষ হলে তিনি ধীরে, দৃঢ় স্বরে বললেন,
“আমি আজকের বিয়েতে রাজি, নূরবানু।”
কথাটি শুনে নূরবানু সিকদার বিস্ময়ে স্বামীর দিকে তাকালেন। যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, এত বড় সিদ্ধান্ত এত সহজে উচ্চারিত হতে পারে।
আবু সুফিয়ান আবার বললেন,
“আজ যদি ওনারা সেরিনকে শাহারিয়ারের সঙ্গে বিয়ে দিতে চান, তাতে আমার কোনো অমত নেই।”
নূরবানু সিকদার কাঁপা গলায় বললেন,
“কিন্তু শিমুলের আব্বু…”

তিনি বাক্য শেষ করার আগেই আবু সুফিয়ান কঠিন স্বরে থামিয়ে দিলেন,
“আমি সেরিনের বাবা, নূরবানু। কিছু ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি।”
স্বামীর সেই দৃঢ় কণ্ঠের সামনে আর কোনো কথা বাড়াতে পারলেন না নূরবানু সিকদার। ঠোঁট চেপে নীরব হয়ে গেলেন। কিন্তু তার বুকের গভীরে অদ্ভুত এক ভয়, অজানা আশঙ্কা কাঁটার মতো বিঁধে রইল।
তিনি চোখ তুলে একবার শাহারিয়ারের দিকে তাকালেন। ছেলেটির ঠোঁটে শুরু থেকেই একরকম স্থির হাসি লেগে আছে, অকারণ, অস্বস্তিকর, অস্পষ্ট। সেই হাসি নূরবানু সিকদারের একদম ভালো লাগল না। বরং তার মনের অশান্তি আরও বাড়িয়ে দিল।
এমন সময় আরিফ চৌধুরী একটি ব্যাগ এগিয়ে দিলেন তার দিকে।
“এতে সেরিন মায়ের জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিস আছে। যতটা পেরেছি করেছি। আশা করি নিরাশ হবেন না।”
নূরবানু সিকদার নিঃশব্দে ব্যাগটি হাতে নিলেন। কোনো উত্তর দিলেন না। ধীর পায়ে সেরিনের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন।
এদিকে বসার ঘরে তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। কেউ কাজীকে ফোন করছে, কেউ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার কথা বলছে।
আরিফ চৌধুরী নিজে ছোটখাটো খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করতে ব্যস্ত হয়ে উঠলেন।
আর এই সব কোলাহলের মাঝেই, ঘরের এক কোণে জমে রইল এক মায়ের অদৃশ্য শঙ্কা।

সেরিন সবই শুনেছে।
বসার ঘরে বলা প্রতিটি কথা, প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন তার কানে এসে পাথরের মতো পড়েছে। একটু আগেই সে কাকলি কাকিকে বলেছিল ফোনটা এনে দিতে। শেষবারের মতো কায়ানকে কল করেছিল সে। কিন্তু আগের মতোই ফোন বেজে গেছে, কেউ ধরেনি।
এখন তার হাতে আর কিছুই নেই।
কয়েকবার সে ঘরের পেছন দিক দিয়ে কিছু ছেলেকে হেঁটে যেতে দেখেছে। হয়তো প্রস্তুতি চলছে, হয়তো আয়োজন। কিন্তু এসব ঠেকানোর মতো শক্তিও আর অবশিষ্ট নেই তার মধ্যে। শরীর যেমন ভেঙে পড়েছে, মনও তেমনি নিঃশেষ হয়ে গেছে।
দরজা খুলে যখন নূরবানু সিকদার ঘরে ঢুকলেন, সেরিনকে ওভাবে নিথর বসে থাকতে দেখে তাঁর বুকের ভেতর হঠাৎ কেঁপে উঠল।
হাজার হোক, তিনি তো মা। সন্তানের এমন ভাঙাচোরা দশা কোনো মায়ের পক্ষেই দু’চোখে সহ্য করা সহজ নয়।
তিনি ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন। কাঁপা গলায় ডাকলেন,
“সেরিন মারে”

সেরিন যেন পাথর হয়ে গেছে। কোনো সাড়া নেই, কোনো কান্না নেই, কোনো অভিযোগ নেই।
ঘণ্টাখানেক আগে শাহারিয়ারের আঘাতে তার ঠোঁটের কোণা কেটে গেছে, রক্ত শুকিয়ে কালচে দাগ হয়ে আছে এখনও। নূরবানু সিকদার ভেবেছিলেন, হয়তো তাঁরই চড়-থাপ্পড়ে এমন হয়েছে। সে ভাবনায় বুকের ভেতর অনুতাপের ঢেউ উঠল।
তিনি আবার মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
“সেরিন মারে”
এবার সেরিন ধীর, শান্ত, অথচ ভীষণ নিস্তেজ কণ্ঠে বলল,
“কি চাও আম্মা? বিয়ে করি, তাই তো? দাও, শাড়ি দাও।”
এই কণ্ঠস্বর আগে কখনো শোনেননি নূরবানু সিকদার। এতে না ছিল অভিমান, না কান্না, না রাগ, শুধু ছিল সব হারানো মানুষের শূন্যতা।

তিনি কাঁপা হাতে ব্যাগটা এগিয়ে দিলেন।
সেরিন কষ্ট করে উঠে দাঁড়াল। দুর্বল শরীর নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগোতেই হঠাৎ মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল।
নূরবানু সিকদার ছুটে গেলেন। মেয়ের বাহু আলতো করে ধরতেই সেরিন ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠল।
সে আর্তনাদ যেন নূরবানু সিকদারের বুক চিরে দিল। তাঁর চোখ ভিজে উঠল মুহূর্তেই। মনে পড়ল, তিনি নিজেই কত মেরেছেন এই মেয়েটাকে। কত আঘাত দিয়েছেন রাগে, অপমানে, অন্ধ ক্ষোভে।
কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন,
“ক্ষমা করে দে মা”
সেরিন কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“ছাড়ো মা, ক্ষমা চাইও না, আমারে আর পাপী বানাইও না।”
নূরবানু সিকদারের বুক ভেঙে গেল।
তিনি নিজ হাতে সেরিনকে শাড়ি পরতে সাহায্য করলেন।
সেরিন চুপচাপ বসে রইল। তার মুখে, চোখে, ঠোঁটে, নিঃশ্বাসে, অসুস্থতা আর ক্লান্তির স্পষ্ট ছাপ। শরীর যেন প্রতিটি মুহূর্তে ভেঙে পড়ছে।
এই করুণ, বিধ্বস্ত অবস্থাতেই সে বসে আছে অন্য কারও জন্য বউ সেজে।
যেন নিজের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন এক নির্বাক

বাহিরে কাজি উপস্থিত হয়েছে ইতিমধ্যে।
সকল প্রকার প্রস্তুতি নেওয়া শেষ।
কাজি সাহেব শাহারিয়ার সামনে বিয়ের কাবিন নামা ধরলো।
শাহারিয়ার যখন সাইন করবে ঠিক এমন সময় হটাৎ তার হাতে সদর দরজা থেকে ছুটে আসলো একটা বুলেট।
“ব্যাং।”
শাহারিয়ার হাত থেকে কলম পড়ে গেলো। সেই সাথে ছেলেটা চিৎকার করে উঠলো যন্ত্রণায়।
সঙ্গে সঙ্গে কাবিন নামা রক্তে রঞ্জিত হয়ে গেলো। উপস্থিত সবাই সদর দরজার দিকে তাকায়।
সম্পূর্ণ কালো পোশাকে চোয়াল শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে সুঠান দেহের পুরুষ।
ঠিক সেই সমুদ্রের শান্ত রাতের মত গম্ভীর তার চাহনি অথচ তাতে দপ দপ করে জ্বলছে আগুন। সেই সাথে হিংস্রতা।
যেন সিংহের গোহা থেকে কেউ তার সিংহিনীকে ছিনিয়ে এনেছে।
এখন সিংহ বেরিয়েছে সম্পূর্ণ জঙ্গলকে ধ্বংস করে দিতে।

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৩১

আরিফ চৌধুরী বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। কিছু বলবে তার আগে বানু মির্জা হনহনিয়ে প্রবেশ করে ভেতরে।
বানু মির্জাকে দেখে নূরবানু সিকদার এবং আবু সুফিয়ান উঠে দাঁড়ায়।
কায়ান কোন শব্দ না করে দ্রুত পায়ে সেরিনের রুমের দিকে এগিয়ে গেলো।
আবু সুফিয়ান কিছু বলবে তার আগেই পেছন থেকে শিমুল বলল,
“থামেল আব্বা অনেক হয়েছে। এবার শান্ত হন৷”
“শিমুল তুইও৷’
” না এসে কোন উপায় রেখেছেন আপনারা?”

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৩২ (২)