Home খান সাহেব খান সাহেব পর্ব ১৯ (২)

খান সাহেব পর্ব ১৯ (২)

খান সাহেব পর্ব ১৯ (২)
সুমাইয়া জাহান

নিজের ভালোবাসার মানুষটার মুখে অন্য কারো নামটা পযর্ন্ত স‍হ‍্য হয় না, সেইখানে নিজের মানুষটার যদি অন‍্য একটি ভালোবাসার মানুষ থাকে– এইটা দুনিয়ার কোনো মানুষই মেনে নিতে পারে না। ভালোবাসার মানুষটা হবে একদম একান্তই নিজের। যদি অন্যকারো এক পারসেন্ট ও হয়, তাহলে যতই ভালোবাসা থাকুক না কেনো, সেই মানুষটাকে আমার চাইনা। আমার খান সাহেব পুরোটাই অন্য কারো। এখান আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে, তাহলে আমি কীভাবে তার মুখে অন্য কাউকে ভালোবাসার কথা মেনে সৃষ্টিকর্তা। কপালে না লিখতেন, তবুও মেনে নিতাম। কিন্তু কিছুক্ষণের জন‍্য লিখে আবারও কেড়ে নেওয়ার মানেটা আমার কাছে অস্পষ্ট। হয়তো এর পেছনেও আপনার কোনো কারণ আছে। দুনিয়াতে হয়তো তারাই সবথেকে দুঃখী, যারা ভালোবাসার মনুষটাকে পেয়েও হারায়।

রুমের দরজা খোলার শব্দ হতেই সুমু ডায়েরিতে কলম চালানো অফ করে দেয়। সে পেছনে ফিরে দেখল, তার খান সাহেব দাঁড়িয়ে আছে। চটজলদি ডায়েরিটা ড্রয়ারের মধ্যে ঢুকিয়ে রেখে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়াল সে। শেরাজ ফোনে স্ক্রল করতে করতে বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসল। সে একপলক সুমুকে পরখ করে আবারও ফোনে মন দিয়ে বলল,
“এখন তো আমি তোমার হাজব‍্যান্ড। তাহলে, এখনো এতো কিসের বিরহ তোমার? যার জন্য সকাল সকাল ডায়েরি নিয়ে বসেছো।”
সুমু একপলক শেরাজের দিকে তাকাল। তারপর মাথা নিচু করে রুম ত‍্যাগ করার জন‍্য পা বাড়াল সে। দরজার কাছে যেতেই শেরাজ ডেকে বলল,

“সুমু!”
সুমু দাঁড়িয়ে পড়ল। পেছন ফিরে না তাকিয়ে সে বলল,
“হুম! কিছু বলবেন?”
ফোনে স্ক্রল করতে করতে শেরাজ জবাব দিল,
“কাল কক্সবাজার যাচ্ছি আমরা। রাতারাতির মধ্যেই তোমার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প‍্যাক করে নিও।”
শেরাজের কথাশুনে সুমু আঁতকে উঠল। সে পেছন ফিরে তাকাল শেরাজের দিকে। কাঁপা গলায় বলল,
“আপনারা যান। আমি কোথাও যাব না।”
শেরাজ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল,
“কেনো?”
“আমি আর কক্সবাজার যেতে চাইনা।”
“কিন্তু সুমু, আমার প্রিয় মানুষটাকে দেখতে হলে তো তোমাকে কক্সবাজার যেতে হবে।”
“কেনো? কক্সবাজারে কী?”
“দেখো, আমার সব ফ‍্যান ফলোয়াররা জানে যে আমার সমুদ্র বেশি পছন্দ। তুমিও নিশ্চয়ই জানো? আমি আমার ভালোবাসার মানুষটাকে বাংলাদেশে আসতে বলেছি কাল। ওকে যেহেতু তোমাদের সামনে শো করব, সেহেতু সেই শো’টা না হয় আমার প্রিয় কোনো এক জায়গাতেই করা হোক।”
সুমু পারবে না তার খান সাহেবের মুখের ওপর বারণ করতে, কিন্তু তার যাবার কথা ভাবতেও ভয় লাগছে। আবার খান সাহেবের ভালোবাসার মানুষটাকে দেখার প্রবল ইচ্ছাও মনে জেগেছে। সে করুণ দৃষ্টিতে শেরাজের দিকে তাকিয়ে বলল,

“আমি যাব খান সাহেব। এই সুমুও দেখতে চায়, ভাগ‍্যবতী নারীদের ঠিক কেমন দেখতে হয়। সুমু দেখতে চায়, কে সেই ভাগ‍্যবতী নারী, যে নারী না চাইতেই সুমুর খান সাহেবকে পেয়েছে। সুমু দেখতে চায় খান সাহেব! ভাগ‍্যবতী নারীরা দেখতে ঠিক কতোটা সুন্দর হয়।”
কথাগুলো বলে রুম থেকে বেরিয়ে গেল সুমু। শেরাজ তাকিয়ে রইল সুমুর যাওয়ার পানে। সে জানে এখন এই পাগলি, অবুঝ মেয়েটা হয়তো কোথায়ও গিয়ে সকলের অগোচরে খুব কাঁদবে। তবে সে দেখতে চায়, সুমু তাকে হারানোর ভয় পাক। মানুষ একবার হারানোর ভয় পেলে বা হারাতে হারাতে কিছু পেলে সেই জিনিসের কদর বেশি করে, যত্ন বেশি করে, ভালো বেশি বাসে। আর যেই জিনিস মানুষ সহজে পেয়ে যায়, সেই জিনিসের মূল‍্য বেশিদিন থাকেনা মানুষের কাছে। সে দেখতে চায়, সুমুর চোখে তাকে পেয়েও হারানোর ভয় ঠিক কতোটা। সে জীবনের প্রথমবার কোনো মেয়েকে নিঃস্বার্থের মতো ভালোবেসেছে। সেই মেয়ে ঠিক কতোটা যোগ্য তার ভালোবাসা পাওয়ার এইটা সে দেখতে চায়। সে সুমুর অনূভুতিগুলো বোঝে। তবে এই অনূভুতিগুলো সত্যি ভালোবাসা নাকি ক্ষনিকে আবেগ সে জানতে চায়।

ড্রয়িংরুমে সকলে উপস্থিত হয়েছে। আনোয়ার সাহেব এই দুদিন চুপ ছিলেন। তবে আজ তিনি সকলের সাথে, বিশেষ করে শেরাজের সাথে পার্সোনালি কথা বলতে চায়।
শামীম সাহেব, রিসাত সাহেব, ইফতিয়াক সাহেব, আনোয়ার সাহেব সোফায় গম্ভীরমুখে বসে আছেন। মিনা বেগম আর হাসি বেগম সকলের জন‍্য সন্ধ্যার নাস্তা বানাচ্ছেন। খুশি বেগম আজ কোনো কাজে হাত লাগায়নি। মাইশারা সকালেই চলে গেছে। ড্রয়িং রুমে সকলে উপস্থিত হলেও শেরাজ এখনো নিচে নামেনি।
আনোয়ার সাহেব রাহিনের উদ্দেশ্যে বললেন,

“তোমার বন্ধুকে গিয়ে বলো, একটু তাড়াতাড়ি আসতে।”
রাহিন কিছু বলতে নিবে তার আগেই শেরাজ হাজির হলো ড্রয়িংরুমে। ঠোঁটের কোণে সবসময় ক্ষুদ্র বাঁকা হাসি লেগেই থাকে তার। সাহেবী স্টাইলে গিয়ে বসল সোফায় একদম আনোয়ার সাহেবের মুখোমুখি। সকলে তাকিয়ে আছে শেরাজের দিকে। সুমু মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। হাসি বেগম চায়ের ট্রেরে এনে টেবিলের ওপর রাখল। তিনি সকলকে একে একে চা দিয়ে সাইডে গিয়ে দাঁড়াল। খুশি বেগম আর ইফতিয়া ড্রাইনিংটেবিলে বসে আছে। ইফতিয়া তার হাতে থাকা আপেলে ছোট ছোট কামড় বসাচ্ছে। মিনা বেগম রান্নাঘর ছেড়ে এসে দাঁড়াল হাসি বেগমের পাশে। রাইশা, রাইফ, তিশা রুমে বসে পড়ছে।
শেরাজ এক ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে আনোয়ার সাহেবের দিকে। আনোয়ার সাহেব চায়ের কাপে ছোট একটা চুমুক দিয়ে বললেন,

“বিয়ের দিন রাতে তোমাকে আমি একটা প্রশ্ন করেছিলাম। আজ আবারও করছি। এই বিয়েটা কি তুমি ভেবে করেছো?”
শেরাজ অকপটে জবাব দিল,
“আপনি এক প্রশ্ন বারবার করে কি ভাবছেন, আমার উত্তর বদলে যাবে?”
আনোয়ার সাহেব মুখটা আরও গম্ভীর করে বললেন,
“তাহলে তুমি ভেবেই করেছো?”
“আমার একবার বলা কথা একশতবার বলার সমান, আঙ্কেল।”
“তোমার পরিবার। তারা কি এখনো জেনেছে কিছূু?”
“বিষয়টা না হয় এখন সারপ্রাইজ হিসেবেই থাক তাদের জন‍্য।”
“তোমার কি মনে হয়, তারা আমাদের মেয়েকে মেনে নিবে? মানে, তোমরা তো আফগানি। তবে হ‍্যাঁ! এইটা ঠিক যে, তোমরা এখন ওমানে থাকো। কিন্তু তবুও, আফগানিতো। তোমরা পাঠান, তালেবান। তোমার পরিবার কি মেনে নেবে সুমুকে? নিজেদের রীতিনীতির বাহিরে গিয়ে কি এই বিয়েটা মানবে তারা?”

“আঙ্কেল! কখনও,কখনও রীতিনীতির বাহিরে গিয়েও আমাদের অনেক কিছু করতে হয়। তবে, এইসব নিয়ে আপনারা টেনশন করবেন না। এই ব‍্যাপারগুলো আমার ওপর ছেড়ে দিন। বিয়েটা যখন সেচ্ছায় করেছি, তখন নিজের বউকে স্ব-সম্মানে নিজের বাড়িতে তার যোগ্য মর্যাদাটুকু দেওয়া আমার দায়িত্ব।”
শামীম সাহেব খুব খুশি হলেন জামাইয়ের কথা শুনে। তবে মুখে কিছু বললেন না। আনোয়ার সাহেব বরাবরই শেরাজকে খুব পছন্দ করতেন। সুমুর মতো মেয়ের জন‍্য শেরাজের মতো ছেলেই একদম পারফেক্ট। যেকোনো বাবা-মা স্বপ্ন দেখবে এমন ছেলেকে নিজের মেয়ের জামাই হিসাবে। আনোয়ার সাহেব শেরাজের কথায় ভরসা পেলেন। তিনি জানেন শেরাজ অবশ্যই সুমুকে ভালো রাখবে।
আনোয়ার আবারও সাহেব বললেন,

“তাহলে এখন ঠিক কি করতে চাইছো? সুমুকে কি এখনি সাথে নিয়ে যেতে চাইছো?”
“বিয়েটা যখন করেছি, বউ রেখে যাওয়ার তো কোনো প্রশ্নই আসেনা, আঙ্কেল। তবে এখন এইসব নিয়ে ভাবছিনা। এখনও তো অনেকটা সময় আছে হাতে। সুমুর পাসপোর্ট, ভিসা হলেই এইসব নিয়ে ভাবব। এখন অন‍্যকিছু নিয়ে ভাবছি।”
আনোয়ার সাহেব ভ্রু কুঁচকে বললেন,
“কি নিয়ে?”
“কাল আবারও কক্সবাজার যেতে চাই। সুমু, সামিয়া, নাজমিন আমাদের সাথে যাবে। সুমুকে সাথে নিয়ে যাওয়ার পারমিশনটা এই বাড়ির কারো থেকে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করছিনা। আর নাজমিন আর সামিয়াকে নিতে চাই সুমুর জন‍্য। সুমুর ব‍্যাপারটা বাদ দিয়ে নাজমিন আর সামিয়ার ব‍্যাপারটা বলুন।”
“তোমার বউ, তুমি সেখানে খুশি নিয়ে যেতে পারো। তবে কিছুদিন আগেই এমন একটা অঘটন ঘটল সুমুর সাথে। তাও ওই কক্সবাজারে। এরপরেও তুমি…”
কথা কেড়ে নিলো শেরাজ। সে গম্ভীর গলায় বলল,
“অঘটন যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় ঘটতে পারে। তার মানে এই না যে সুমু সবসময় বাড়িতেই বসে থাকবে।”
আনোয়ার সাহেব আর কিছু বলল না। তিনি মাথা নাড়িয়ে শেরাজের কথার সাথে সম্মতি জানালো।

বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে সুমু। পরনে ধূসর রঙের থ্রী-পিস, চুলগুলো খোলা রাখা, ওড়নাটা মেঝের সাথে ঝুলছে, শরীরের শীতের বস্ত্র নেই। বেলকনি দিয়ে হিমশীতল হাওয়া ছুঁয়ে দিচ্ছে সুমুর নাজুক দেহটা। ঠান্ডায় মৃদু কেঁপে কেঁপে উঠছে সে। তবুও কোনো তাড়া নেই রুমে যাবার। বাতাসের ফলে ওড়না আর চুলগুলো উড়ছে। হঠাৎ আনমনেই সুমু গেয়ে উঠল,
“কারে দেখাবো, মনের দুঃখ গো…আমি বুক চিঁড়িয়া….
অন্তরেতো সেরি অনল, জ্বলে রইয়া রইয়া”
পেছনে কারো উপস্থিত টের পেতেই থেমে গেল সুমু। চোখ দিয়ে দু’ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ল সু
তার। ডান হাতের তালু দিয়ে পানি মুছে ফেলল সে। ঘুরে দাঁড়াল শেরাজের দিকে। শেরাজ বেলকনিতে রাখা রকিংচেয়ারে বসে ফোনে স্ক্রল করছে। সে সুমুকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলল,

“প‍্যাকিং করেছো?”
“হ‍্যাঁ!
চুপ করে গেল দুজনেই। শেরাজ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল,
“কিছু বলতে চাও?”
সুমু কোনো কথা বলল না। সে ধীর পায়ে এগিয়ে গেল শেরাজের দিকে। শেরাজের সামনে দাঁড়িয়ে আচমকাই মেঝেতে বসে তার উঁরুর ওপর মাথা রাখল। হঠাৎ এমন ঘটনায় শেরাজ অবাক হলো ভীষণ, তবে কিছুই বলল না। এভাবে কত সময় গেল, কে জানে। শেরাজ তাকিয়ে আছে সুমুর ঝুঁকে থাকা মাথার দিকে। কিছুক্ষণ পরপর মৃদু কেঁপে উঠছে সুমুর দেহখানা। শেরাজ প‍্যান্টে ভেজা অনুভব করছে। সে জানে, তার প্রেয়সী কাঁদছে। সুমুকে বুকে টেনে নিতে ইচ্ছা করলেও, ইচ্ছাটাকে দমিয়ে রাখল। সুমুর কথা শোনার অপেক্ষায় রইল। মিনিট খানেক বাদেই সুমু মুখ খুলে বলল, “খান সাহেব!”

“হুম।”
“শুনেছি মানুষ মারা যাবার পর আল্লাহ তাকে আখিরাতে পুনরায় জীবন দান করেন সব পাপ পূর্ণের হিসাব নেবার জন‍্য। যদি মানুষটা পাপী হয় তাহলে তাকে জাহান্নাম নসিব করা হয়। আর যদি মানুষটা ঈমানদার ব‍্যক্তি হয় তাহলে তাকে জান্নাত নসিব করা হয়। আর জান্নাত নসিব করার আগে ওই ব‍্যক্তিকে আল্লাহ্ নাকি একটা প্রশ্ন করেন। আপনি জানেন খান সাহেব সেই প্রশ্নটা কি?”
“কি?”
“সৃষ্টিকর্তা নাকি ওই ঈমানদার ব‍্যক্তির কাছে জানতে চায় যে, দুনিয়াতে এমন কোন ইচ্ছা আছে যেটা সে দুনিয়াতে বেঁচে থাকতে খুব করে চেয়েছিল, তবে পূরণ হয়নি। তখন যদি ওই ঈমানদার ব‍্যক্তি তার ইচ্ছাটার কথা বলে তাহলে নাকি আল্লাহ তার ওই ইচ্ছাটা সাথে সাথে পূরণ করে। আর জান্নাতে তো কোনো ইচ্ছাই অপূরণীয় থাকে না। সেখানে মুখ থেকে কথা বের হবার আগেই ইচ্ছা পূরণ হয়ে যায়।”
থামল সে। সময় নিয়ে পুনরায় বলল, “আপনি জানেন যখন আমার জীবনে এমন সময়টা আসবে। তখন আমি কোন অপূরণীয় ইচ্ছার কথা বলব?”

“কি ইচ্ছা?”
“আপনাকে নিজের করে পাওয়ার ইচ্ছা। আপনার ভালোবাসা পাওয়ার ইচ্ছা।’”
শেরাজ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল সুমুর দিকে। সুমু পুনরায় বলতে শুরু করল,“মোনাজাতে শুধু একটা জিনিসই চাই। দুনিয়াতে আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকেই যেন পান, কিন্তু আখিরাতে আপনি যেন আমার হন। আমি বড্ড বেশি লোভী খান সাহেব। কেনো জানেন? কারণ, দুনিয়াতে আপনাকে আমি পেলেও, মৃত্যু একটা সময় আমাদের আলাদা করে দিতো। কিন্তু আখিরাতে? আখিরাতে আপনাকে একবার পেয়ে গেলে আর হারানো ভয় নেই। দুনিয়াতে হাজারোও মেয়ে আপনার দিকে তাকাবে। কিন্তু, আখিরাতে অন‍্য কোনো মেয়ে আমার খান সাহেবের দিকে তাকাবে না। কি মজা, তাইনা খান সাহেব? আখিরাতে আপনি একান্তই আমার হবেন। কোনো হারানোর ভয় থাকবে না। কতো লোভী একটা মেয়ে আমি? বড্ড বেশি লোভ আমার, আপনাকে একান্তই নিজের করে পাবার। খান সাহেব! আমি আপনাকে মোনাজাতে আখিরাতের জীবনের জন‍্য চাই। দয়া করে, আপনি অন্তত আপনার ওই ভালোবাসার মানুষটার সাথে দুনিয়া পযর্ন্ত থাকতে চাইয়েন। আখিরাতের জীবনে চাইয়েন না। যদি চান, তাহলে আমি যে দুনিয়া, আখিরাত দুটো জীবনেই হেরে যাবো। আচ্ছা, খান সাহেব হবেন তো আপনি আখিরাতের জীবনে আমার? বলেন না খান সাহেব। হবেন তো? থাকবেন তো আমার সাথে? বলেন না, খান সাহেব? ও খান সাহেব?”

খান সাহেব পর্ব ১৯

কাঁদছে সুুমু। কান্নার ফলে হেঁচকি উঠে গেছে তার। এক কথা বলতে বলতে ঘুমিয়ে পড়েছে সে। ঘুমের মধ্যেই কেঁপে উঠছে শরীরটা। আর্তনাদ এতো করুণ শোনায় কেনো জানে না, শেরাজ। সুমুর বলা কথাগুলো শেরাজের ভেতরটা চুরমার করে দিচ্ছে। সে নিজেকে সামলে কিছুক্ষণ সুমুর দিকে তাকিয়ে থেকে যত্নসহকারে তাকে পাঁজাকোলে তুলে রুমে নিয়ে বেডে শুইয়ে দিল। সুমুর গলা পযর্ন্ত ব্লাঙ্কেট দিয়ে ঢেকে দিয়ে নিঃশব্দে সুমুর পাশে গিয়ে বসল। আলতো স্পর্শে সুমুর মুখে ওপর আসা চুলগুলো কানের পাশে গুজে দিল। তারপর সুমুর হাত ধরে আলতো করে ঠোঁট ছুঁয়ে বলল,“তোমার সব প্রশ্নই উত্তর তুমি খুব তাড়াতাড়ি পাবে, সুইটহার্ট।”
শেরাজের ঠোঁটে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। রুমে জলতে থাকা সমস্ত আলো অফ করে দিয়ে সে গিয়ে শুয়ে পড়ল সুমুর পাশে।

খান সাহেব পর্ব ২০