Home খান সাহেব খান সাহেব পর্ব ৩৪

খান সাহেব পর্ব ৩৪

খান সাহেব পর্ব ৩৪
সুমাইয়া জাহান

মাঝে কেটে গেছে আরও চারটা দিন। কাল রাত আটটায় শেরাজরা বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেবে। গতকাল সুমুরা সিকদার বাড়ি থেকে ঘুরে এসেছে। তার আগের দিন শামীম সাহেব ছোট করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তার সব আত্মীয়স্বজনকে দাওয়াত দিয়ে খাইয়েছে। মাইশা শশুর বাড়িতে চলে গেছে। ইফতিয়া, রাইশা কিছুদিন সুমুদের বাড়িতেই থাকবে। তাই, ওরা কাল সুমুদের সাথে চুয়াডাঙ্গাতে যায়নি। রাইফ আর তিশাকে রেখে এসেছে সুমুরা। রাহিন চুয়াডাঙ্গা থেকে আজ ফিরবে। মিনা বেগম ছেলে চলে যাবে বলে খুব কাঁদছিলেন, তাই রাহিন কালকের দিনটা মা-বাবার কাছে থেকে গেছে। সুমুরও মনটা ভিষন খারাপ। হাসি বেগম মেয়ের সামনে কাঁদেনা, মেয়ে কষ্ট পাবে ভেবে।
সুমু বোরকা পড়ে রেডি হচ্ছে। কাল চলে যাবে তাই আজ শেরাজ বাড়ির সকলের জন‍্য কেনাকাটা করতে যাবে, আর শপিংমলের আগেই সুমুদের কলেজ। তাই, সুমু কলেজ যাবে তার সব ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে। কাল রাতে সব ফ্রেন্ডকে সুমু কল দিয়ে কলেজে আসতে বলেছে। শেরাজ বেডের হেডবোর্ডের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে ফোনে স্ক্রল করছে।
সুমুর পরিপাটি হয়ে শেরাজের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,

“দেখুন তো হিজাবটা ঠিকমতো বাঁধা হয়েছি কিনা?”
“হুম, হয়েছে!”
“আপনাকে একটা কথা জিঙ্গাসা করব?”
“হুম, করো!”
“আমাকে দেখার পর আপনার কেমন লেগেছিল, খান সাহেব?”
শেরাজ ফোন থেকে চোখ সরাল। সুমুর পা থেকে মাথা পযর্ন্ত পরখ করে গান ধরল,
“পার জাবছে দেখা তুজে,
জো হুয়া নেহি ও হোনে লাগা,
দিল মেরা মুজে জাগাকে,
খুদ ছিনে মে সোনে লাগা,
মেরা ফিতরাত বাদাল রাহি হে,
জেছে বারকাত কোয়ি হুয়ি হে,
বাছ আব তো দুয়া এহি হে,
কে দিলছে কাভি না উতরে!”
“তোমাকে দেখে দিল হ‍্যাংওভার হয়ে গেছে, সুইটহার্ট।”
সুমু ভ্রু কুঁচকালো,
“বাহ! আজকাল দেখছি ভিডিওর সাথে সাথে বাস্তব জীবনেও ট্রেন্ড ফলো করছেন। ব‍্যাপারটা কি আপনার? প্রেমে ট্রেমে পড়ছেন নাকি?”
শেরাজ ঠোঁট কামড়ে হাসল। মাছি তাড়ানোর মতো হাত নাড়িয়ে বলল,

“ছ‍্যাহ বউ! ওইসব চিপ টাইপ কাজকর্ম আমি করিনা। আমি তো ডিরেক্ট এক মায়াবতীর মায়ায় পড়েছি। আর তাকেই নিজের বেটার হাফ বানিয়েছি।”
সুমু মুচকি হেসে বলল,
“আহ হা! আমার প্রেমিক পুরুষ রে।”
শেরাজ বেড ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। সুমুকে আয়নার দিকে ঘুরিয়ে দাঁড় করিয়ে পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“তুমি আমার বুক পকেটে যত্ন করে সাজিয়ে রাখা একটি রক্তরাঙা লাল গোলাপ, সুইটহার্ট।”
সুমু কিছু বলতে নিবে তখনই দরজায় নক পড়ল। শেরাজ সুমুকে ছেড়ে সরে দাঁড়াল। সুমু রুমে দরজা খুলে দিল।
ফারিয়া সুমুকে দেখে মুচকি হেসে জড়িয়ে ধরে বলল,

“রেডি তুই?”
“হুম!”
“ওকে তাহলে একটু দাঁড়া। আমি একটু তার সাথে দেখা করে আসি।”
সুমু মুচকি হাসল। ফারিয়াকে খোঁচা মেরে বলল,
“মানুষের দেখতে যাওয়ার মানুষ থাকে। আর আমাদের?”
“ভাইয়াকে বলি, সুমু?”
“এই না। তুই তাড়াতাড়ি যা। আর ফারিন কই রে?”
“ফারিন বড় মামির কাছে।”
“ওকে তাড়াতাড়ি যা। অনেক লেট হয়ে গেছে। আমরা আবার শপিংমলে যাব।”
ফারিয়া আর না দাঁড়িয়ে চলে গেলে কাঙ্ক্ষিত রুমটির সামনে। তার উদ্দেশ্যে এখন শাহরুখকে জ্বালানো।
শাহরুখ রুমের দরজা লাগিয়ে ঘুমায় না। বরাবর রুমের দরজা খোলাই থাকে তার। ফারিয়া আস্তে আস্তে রুমের মধ্যে ঢুকে এলো। শাহরুখ ঘুমে বিভোর। ফারিয়া গিয়ে বসল শাহরুখের পাশে। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার প্রিয় মানুষটির দিকে। এভাবেঈ কেটে গেল কতোখানি সময় কে জানে। হঠাৎ শাহরুখ নড়ে উঠল। শাহরুখকে নড়ে উঠতে দেখে ফারিয়া ঝটপট উঠে দাঁড়াল। রুম ছেড়ে চলে যেতে নিতেই চোখ মেলে তাকাল শাহরুখ।
“কিরে? তুই আমার রুমে কি করিস? ওই তোরে না বলছি, তুই আমার রুমে আসবি না।”
ফারিয়া মুখে কান্না কান্না ভাব এনে বলল,

“এমন করো কেনো ভাইয়া? আমি তো জাস্ট তোমাকে একটু দেখতে এসেছিলাম।”
“ওই, তুই বের হতো আমার রুম থেকে। অসভ‍্য মেয়ে একটা। আমি মেডিকেলে যাবার আগে, তোকে যেন আর আমার চোখের সামনে আসতে না দেখি। তোকে দেখলেই আমার বমি আসে। যা ফোট।”
ফারিয়া গলারস্বর কিছুটা উচ্চ করল,
“কেনো? আমার মুখে কি গু লেগে আছে? যে তুমি মেডিকেলে যাবার আগে তোমার সামনে এলে, তোমার পেটের ভাত পেছন দিয়ে না বেরিয়ে মুখ দিয়ে বমি হয়ে বেরোবে?”
“তোর মুখে গু না লেগে থাক, অমৃত ও লেগে নেই। এখন বেশি বকবক না করে বিদায় হ।”
“তুমি তো জানো ভাইয়া, আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি দেখেছি, যেদিন আমি তোমাকে আমার ভালোবাসার কথা জানিয়েছি, সেদিন থেকেই তুমি আমার সাথে এমন খচ্চরের মতো ব‍্যবহার করছো।”
“বয়স কতো তোর, ফারু? এই বসয়ে পড়াশোনা না করে ভালোবাসি, ভালোবাসি করিস। চড়িয়ে সিধে করে দিব বেয়াদব মেয়ে। দাঁড়া ফুফুমনিকে বলছি, তোর এই অধঃপতনের কথা।”

‍ “কি বলবে, যে আমি তোমাকে ভালোবাসি? যাও, গিয়ে বলো।”
“ফারু, তুই বেরোবি? নাকি আমি উঠব?”
ফারিয়া চোখ মুখ উল্টে শাহরুখকে ভেঙিয়ে বলল,
“ফারু, তুই বেরোবি? নাকি আমি উঠব? কেনো গো? উঠলে কি করবে তুমি? তোমার তো সাত পুরুষের ভাগ‍্য যে, আমি তোমাকে ভালোবাসি। নয়তো তোমার যা ব‍্যবহার, সেটা কোনো মেয়ে জানলে তোমাকে ভালোবাসাতো দূরে থাক, তোমার দিকে ফিরেও তাকাবে না। তোমার তো উচিত আমাকে মাথায় করে রাখা। তা না করে সারাদিন খারাপ ব‍্যবহার করো। খারুচ মার্কা লোক একটা।”
শাহরুখ উঠে বসে বলল,
“তেরি তো…”
ফারিয়া আর একসেকেন্ডও দাঁড়াল না। দৌড়ে হাসতে হাসতে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। শাহরুখ আবারও ব্লাঙ্কেট মুড়ি দিয়ে শুতে গেলেই ফারিয়া রুমের দরজার কাছে এসে উঁকি মেরে বলল,
“খারুচ মার্কা ভাইয়া!”
শাহরুখ তাকাল দরজার দিকে। ফারিয়া মুখ ভেঙিয়ে আবার দৌড় মারল। শাহরুখ আর বেডে বসে রইল না। উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলো ফ্রেশ হতে।

সুমুরা আগে ঢুকল কলেজে। শেরাজরা সকলে কলেজের বাহিরে দাঁড়িয়ে রইল। তারা সকলে মাস্ক পড়ে দাঁড়িয়ে আছে। সুমু আর ফারিয়া গেল তাদের ফ্রেন্ডদের কাছে। সুমুর ফ্রেন্ডরা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেনা সুমুর বিয়ে হয়ে গেছে। সুমু এখনো বলেনি তার বিয়ে কার সাথে হয়েছে।
সুমুর বান্ধবী তানহা বলল,
“কই? তোর হাজব‍্যান্ড কই? সত্যি কি তোর বিয়ে হয়েছে নাকি আমাদের সাথে প্রাঙ্ক করছিস?”
সুমু বলার আগেই ফারিয়া বলল,
“তোমরা সুমুর বিয়ের ব‍্যাপারটাই বিশ্বাস করতে পারছ না। আর যদি শোনো সুমুর হাজব‍্যান্ড কে, তাহলে তো আকাশ থেকে পড়বে।”
সুমুর ফ্রেন্ড মারিয়া কৌতুহলবশত বলল,
“কে রে সুমুর হাজব‍্যান্ড, যার নাম শুনলে আমরা আকাশ থেকে পড়ব? কোনো বলিউড হিরো নাকি?”
সুমু সকলের কথা শুনে মিটিমিটি হাসছে। তানহা সুমুকে হালকা ধাক্কা মেরে বলল,

“কিরে? না হেসে বল। কে সে?”
“তোরা শুনতে চাস? নাকি দেখতে চাস?”
সকলে একসাথে বলে উঠল, “দেখতে চাই।”
সুমুদের মধ্যে দৌড়াতে দৌড়াতে এলো আরশি। সে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
“এই তোরা জানিস, কলেজের গেটের বাহিরে কিছু নতুন ছেলেকে দেখলাম? সকলের মুখে মাস্ক পরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মধ্যে একজন মাস্ক খুলেছিল। আর সেই ছেলেটাকে কার মতো দেখতে জানিস? হুবহু, হার্টথ্রব শেরাজ খানের ফ্রেন্ড আইয়ুবের মতো দেখতে। আমি তো দেখেই আবাক। তাদের মধ্যমণি হিসাবে একটা ছেলে আছে। দেখতে শেরাজ খানের মতো লাগে।”
“কিহ!”
সকলে একসাথে চেঁচিয়ে উঠল। কেউ বিশ্বাস করতে পারল না আরশির কথা। সুমু এখনো হাসছে। আরশির কথা কেউ পাত্তা না দিয়ে সুমুকে বলল,

“সুমু তোর হাজব‍্যান্ডকে দেখা তো।”
আরশি মেয়েটা কাউকে তার কথা বিশ্বাস করাতে না পেয়ে মুখ কালো করে দাঁড়িয়ে রইল। সুমু সবাইকে অপেক্ষা করতে বলে, শেরাজকে টেক্সট করল। পাঁচমিনিটের মধ্যে শেরাজসহ তার পুরো গ‍্যাংকে কলেজের মাঠে দেখা গেল। সুমু তার ফ্রেন্ডদের নিয়ে পুকুর পাড় থেকে উঠে চারতালা ভবনের সামনে এলো। সকলে দূর থেকে অবাক চোখে তাঁকিয়ে আছে শেরাজদের দিকে। শেরাজের মুখে এখনো মাস্ক পরা। সুমু আবারও টেক্সট করে বলল, মাস্ক খুলে ফেলতে। সুমুর টেক্সট দেখে শেরাজ মাস্ক খুলে ফেলল। মুহূর্তেই সকলের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। সুমু তার ফ্রেন্ডদের অবস্থা দেখে হাসছে। সে তার ফ্রেন্ডদের থেকে দু’পা সামনে এগিয়ে গেল। নিজের ডান হাতের তালুর ওপর ঠোঁট ছোঁয়াল, তারপর নিজের হাত দুটো তীরের মতো তাক করে হাতের কিসটা ছুঁড়ে মারল শেরাজের দিকে। শেরাজ বুকের বা’পাশে দু’হাত রেখে পড়ে যেতে নিলেই আইয়ুবরা সকলে ধরল তাকে।

সকলে আহাম্মকের মতো তাকিয়ে রইল। মুহুর্তের মধ্যে পুরো কলেজ ক‍্যাম্পাসের সবাই কলেজের মাঠে জড়ো হয়ে গেল। সকলে মিলে ঘিরে ধরল শেরাজদের। সুমু পেছনে তাকিয়ে দেখল তার পেছনে তার ফ্রেন্ডরা নেই। সকলে মিলে শেরাজদের সাথে সেলফি তুলতে ব‍্যস্ত হলো।
কেটে গেলো ত্রিশ মিনিট। সকলের সেলফি তোলা শেষ হলেও শেরাজদের ঘিরে ধরে দাঁড়িয়ে রইল সবাই। এক এক জন, এক এক রকমের প্রশ্ন করছে শেরাজকে। শেরাজ স‍্যান্ডিকে চোখ দিয়ে ইশারা করল। স‍্যান্ডি এসে সকলকে সরিয়ে দিল। শেরাজ এগিয়ে গেল সুমুর কাছে। সকলে তার পেছন পেছন এগিয়ে গেল। স‍্যান্ডি সকলকে আর এগিয়ে যেতে না করল। শেরাজ সুমুর কাছে এসে সুমুর পাশে দাঁড়িয়ে সুমুর কাঁধের ওপর হাত রেখে বলল,

“আপনাদের এতো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো সময় আমার হাতে নেই। শুধু একটা প্রশ্নেরই উত্তর আমি আজ দিব।”
শেরাজ সুমুর দিকে তাকিয়ে আবারও বলল,
“সি ইজ মাই ওয়াইফ। আমি বাংলাদেশে এসেছি আমার বন্ধু রাহিনের বোনের বিয়ের জন‍্য, আর তার থেকেও বড় কারণ আমার ওয়াইফ মিসেস শেরাজ খানের জন‍্য– এই দুইটা কারনেই আমি বাংলাদেশে এসেছি। আর আজ এই কলেজ ক‍্যাম্পাসে আমি শুধুমাত্র আমার ওয়াইফের জন‍্য এসেছি।”
সে সুমুর দিকে তাকিয়ে বলল,

“লেট হয়ে যাচ্ছে, ম‍্যাডাম। আপনি কি শপিংমলে যাবেন না?”
সুমু আলতো হেসে মাথা নাড়ল। শেরাজ সুমুকে নিয়ে বেরিয়ে যাবার সময় সকলে আবার এগিয়ে আসতে গেল। আইয়ুবরা সবাইকে আঁটকালো। সকলে দু’সাইড দিয়ে সরে গিয়ে রাস্তা করে দাঁড়াল। শেরাজ আর সুমু একে অপরের দিকে তাকিয়ে সকলের সরে গিয়ে করে দেওয়া রাস্তার মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলে গেল কলেজের গেটের সামনে। সকলে ওদের পিছু পিছু গেট পযর্ন্ত গেল। সুমুর বান্ধবীরা সুমুর কাছে এলো। তানহা সুমুর হাত ধরে বলল,
“তুই কি লাকি ইয়ার। চলে যাচ্ছিস কেনো? আমাদের তোদের বিয়ের কাহিনী বলে যা।”
সুমু কিছু বলার আগে শেরাজ বলল,
“লাকি ও না, লাকি আমি। আর আমাদের হাতে সময় নেই।”
সুমু সব ফ্রেন্ডদের একবার করে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল। এই কান্নায় কোনো আওয়াজ নেই। সে চোখের পানি মুছে বলল,
“ফ্রেন্ডস গ্রুপে কল দিস। সব বলব। আজ আসি রে। কাল চলে যাচ্ছি। আমি তোদের খুব মিস করব। ভালো থাকিস তোরা।”
কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কলেজ থেকে বেবিয়ে এলো সুমু। সকলে একসাথে শেরাজদের বিদায় জানালো। শেরাজ গাড়িতে উঠতেই আইয়ুবরা শেরাজকে চেপে ধরল বাংলাদেশ আসার আসল কারণ হিসাবে সুমুর নাম না কেনো বলল, সেটা জানার জন‍্য। শেরাজ আলতো হেসে তাদের বলতে শুরু করল।

বারের মধ্যে বসে আছে দু’জন পুরুষ। একজন ওমানের নাম্বার ওয়ান মাফিয়া তো একজন সাউথ কোরিয়ার খুব ফেমাস হিরো। দু’জনের হাতেই ওয়াইনের গ্লাস। আরিয়ানের পাশে ওয়েস্টার্ন ড্রেস পরিহিত একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
রায়য়ান আরিয়ানের দিকে রাগি লুক নিয়ে তাঁকিয়ে বলল,
“তুই কি এই আর্বজনাটাকে এখান থেকে যেতে বলবি? নাকি আমি চলে যাব?”
আরিয়ান হাসল রায়য়ানের কথায়। চোখ দিয়ে ইশারা করে মেয়েটাকে চলে যেতে বলল। আরিয়ানের আদেশ পেয়ে মেয়েটা চলে গেল। আরিয়ান আবারও হেসে বলল,

“মেয়ে দেখলে তোর এই এলার্জি এলার্জি ভাবটা কবে যাবে বল তো? প্রবলেম কি তোর মেয়েদেরকে নিয়ে? নারীদের মতো সুন্দর জিনিসকে তুই এতো হেট করিস কেনো?”
রায়য়ান বাঁকা হাসল। প্রসঙ্গটা পাল্টে বলল,
“তোর ভাই কবে আসবে?”
“কি জানি। শুনলাম তো কাল আসবে। আচ্ছা, আমাকে বলতো রায়য়ান, তুই এতো বড় মাফিয়া হয়েও শেরাজের সাথে পেরে উঠিস না কেনো?”
“তোর কি মনে হয়? তোর ভাই মামুলি জিনিস? ওর কতো পাওয়ার তা তুই জানিস না? ও একটা আস্ত সিংহ। ওর সাথে পেরে ওঠা এতো সহজ না। শা*লা বিজনেস, টিকটক গেম সব জায়গাতেই নাম্বার ওয়ান। ওর সাথে খেলতে হলে পাওয়ার নয়, বুদ্ধি দিয়ে খেলতে হবে।”
আরিয়ান আবারও হাসল। হাতের মধ্যে থাকা ওয়াইনের গ্লাসটা খালি করে বলল,
“আমাদের সম্পর্কটা খুব অদ্ভুত তাই না? দেখ, বাস্তব জীবনে আমি একজন হিরো আর তুই একজন মাফিয়া। অভিনয়ের জগতে হিরো আর মাফিয়ারা হয় শত্রু। কিন্তু আমাদের দেখ, একজন হিরো আর একজন মাফিয়া খুব ভালো ফ্রেন্ড। আচ্ছা, পাবলিক কি আমাদের মেনে নিবে?”
দুজনে একসাথে হেসে উঠল। একসাথে “চিয়ার্স” করে দুজনেই ওয়াইনের একের পর এক ওয়াইনের পেগ মারতে লাগল।

সুমুরা বিকাল চারটায় বাড়িতে ফিরল। সুমু আর শেরাজ সবাইকে তাদের গিফট বুঝিয়ে দিল। শেরাজ হাসি বেগমের হাতে ইফতিয়া আর রাইশার মা-বাবাদের জন‍্য আনা জিনিসগুলো দিল। তারপর তারা দুজন রুমে এসে একসাথে শাওয়ার নিতে ঢুকল। শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে এসে সুমু তার ড্রেসটা পরে ট্রায়াল দিল। শেরাজ চুল ঝাঁড়তে ঝাঁড়তে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ঠোঁট লেগে আছে তার প্রিয় বাঁশির সুর।
ড্রেসটা পরে সুমু চুলগুলো ছেড়ে দিয়ে হেয়ার ড‍্রায়ার দিয়ে চুল শুকাতে লাগল। চুল উড়ে গিয়ে শেরাজের মুখের ওপর পড়ল। শেরাজ চোখ বন্ধ করে সুমুর চুলের ঘ্রাণ নিল। সুমু সরে আসতে নিলে শেরাজ আটকালো তাকে। সুমুর কিছু চুল হাতে নিয়ে চোখ বন্ধ করে ঘ্রাণ বুক ভরে টেনে নিল শেরাজ। সুমু ভ্রু কুঁচকে বলল,
“আপনি কি পাগল হলেন? কি করছেন আপনি এসব?”
শেরাজ দুষ্টু হাসল। সুমুর চুল ছেড়ে দিয়ে তাকে কাছে টেনে আনলো। সুমুর গলায় কাছে মুখ নিয়ে বুক ভরে ঘ্রাণ টেনে নিল।
সুমু চোখ বন্ধ রাখা অবস্থায় বলল,

“কি করছেন আপনি? তাও এই অসময়ে। রুমের দরজা খোলা, খান সাহেব। কি করছেন? ছাড়ুন।”
শেরাজ নেশালো কন্ঠের বলল,
“উহুম, সুইটহার্ট! ডিস্টার্ব করেনা।”
সুমু ভ্রু কুঁচকালো। হালকা রাগিস্বরে বলল,
“ডিস্টার্ব করেনা মানে? এই অসময়ে রুমের দরজা খুলে এসব কি করছেন আপনি?”
শেরাজ আবারও দুষ্টু হেসে বলল,
“ড্রাগ নিচ্ছি, সুইটহার্ট।”
“হোয়াট?”
এক ঝাটকায় সুমুর হাত ধরে সুমুকে ঘুরিয়ে দাঁড় করাল শরাজ। নিজের বুকের সাথে সুমুর পিঠ মিশিয়ে নিয়ে সুমুর ঘাড়ের ওপর থেকে চুল সরাল। সুমুর জামার জিপার খোল। দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে সুমুর জামার জিপার লাগিয়ে দিল সে। সুমুর ঘাড়ের কাছে মুখ নিয়ে সুমুর শরীরের ঘ্রাণ আবারও বুক ভরে টেনে নিয়ে দুষ্টু হেসে গান ধরল সে,

“ন‍্যাশা,
তেরা,
দিলকো লাগাআ…
দেনা,
নেহি,
মুজকো দাগাআ….”
সুমু ধাক্কা মেরে শেরাজকে সরিয়ে দিয়ে বলল,
“খেতে চলুন।”
শেরাজ আবারও তাকে টেনে কাছে আনলো। চোখ বন্ধ করে নিজের ওষ্ঠ এগিয়ে নিল গেল তার ওষ্ঠের কাছে। সুমু আচমকাই বলল,

খান সাহেব পর্ব ৩৩

“খান সাহেব, আম্মু।”
শেরাজ সরে দাঁড়াল সুমুর থেকে। শেরাজের হাত থেকে ছাড়া পেতেই সুমু মুখ ভেঙিয়ে হাসতে হাসতে দৌড়ে চলে গেল রুম থেকে। শেরাজ হাসতে হাসতে বেডের ওপর বসল। ডান হাত দিয়ে চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে ট্রাউজার আর টি-শার্ট পড়ে নিচে চলে গেল।

খান সাহেব পর্ব ৩৫