খান সাহেব পর্ব ৮০
সুমাইয়া জাহান
সময় স্রোতের মতো বয়ে গেল। দেখতে দেখতে আকিকার দিন চলে এল। ভোরের আজান শেষ হতেই খান ম্যানশনের আঙিনায় গোলাপজল আর আতর ছিটানো হলো। আকাশে নরম সুবেহ সাদিকের আলো। আজ সেই দিন—খান বংশের দুই রত্ন, সিমরান ও শেরানের আকিকা।
শেরাজ ঘুম থেকে উঠে একসাথে নামাজ আদায় করল। সে ফজরের নামাজ শেষে দুই রাকাআত নফল নামাজ আদায় করল। তারপর নামাজ শেষে দোয়া করল,
“আল্লাহ, তুমি আমার সন্তানদের দ্বীনের পথে রাখো, তাদের রিজিক হালাল করো, আর আমাদের ঘর থেকে শয়তানের ছায়া দূরে রাখো।”
সুমু বেডে বসে নিঃশব্দে “আমিন” বলল। তার গালে সকালের নরম আলো পড়েছে। মুখটা একদম স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে।
শেরাজ জায়নামাজ তুলে ভাঁজ করে রাখল। সে আস্তে করে বিছানার পাশে বসে সিমরানের কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল। ছোট্ট মেয়েটা ঘুমের মধ্যে নড়েচড়ে উঠল, ঠোঁট কাঁপিয়ে ফিসফিস করে কিছু বলল। সম্ভবত “বাবা…” বলার চেষ্টা। শেরাজের ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল। সে আবারও মেয়ের কপালে ঠোঁটে ছুঁয়ে বলল,
“আমার মাম্মা একদিন অনেক বড় হবে। আর আমাকে আধো আধো করে “পাপা” বলে ডাকবে।”
সুমু পাশ থেকে হাসল। তার হাতে তখন শেরান। ছেলেটা চোখ বন্ধ করে শান্তভাবে মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে। এদিকে সিমরান ভ্রু কুঁচকে রেখেছে। সুমু ফিসফিস করে বলল,
“দেখেছেন, ঠিক আপনার মতো ঘুমায়। ভ্রু কুঁচকে রাখে সবসময়।”
শেরাজ হেসে বলল,
“ওরা আমার রক্ত, স্বভাব তো কিছু না কিছু পাবে।”
“তা হলে শেরান কার স্বভাব পেয়েছে?” সুমু জিজ্ঞেস করল ঠোঁটের কোণে মিষ্টি হাসি নিয়ে।
“তোমার,” শেরাজ উত্তর দিল শান্ত গলায়, “শেরানের চোখে যেমন কোমলতা, মুখে তেমন শান্ত একটা স্নিগ্ধতা। ঠিক তোমার মতো।”
এক মুহূর্তের জন্য সময় থমকে গেল যেন। জানালার বাইরে ভোরের আলো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েছে। পাখিদের ডাক, আতরের গন্ধ, আর মানুষের কোলাহল শোনা যাচ্ছে।
সুমু শেরাজের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আজকের দিনটা যেন স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।”
শেরাজ উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
“এটা আমাদের জীবনের এক নতুন শুরু, সুইটহার্ট। আজ আমাদের সন্তানদের নামের সাথে আল্লাহর নামে কোরবানি হবে, তাদের জন্য দোয়া করা হবে। এই দিনটা ভুলবার নয়।”
সুমু নিচু গলায় বলল,
“ইনশাআল্লাহ, সবকিছু যেন খালেস নিয়তে হয়।”
“হবে,” শেরাজ আশ্বাস দিল, “আজ খালেদ মাওলানা সাহেব আসবেন আকিকার নিয়মে দোয়া পড়াতে। আফগানি রেওয়াজে অনুষ্ঠান হবে।”
“তাহলে চলুন একবার নিচে যায়। আজ সবাই আসবে। নিচে কত কাজ পরে আছে বলুন তো। আম্মু, ইনায়া, ইশিতাদের সাথে সাহায্য করতে হবে।”
“তোমার সেলাইটা এখনো তরতাজা। তোমাকে এই অবস্থায় কিছু করতে হবেনা। বাড়িতে কাজ করার মানুষের অভাব পড়েনি।”
“তাই বলে আমি বসে থাকব?”
“হ্যাঁ, থাকবে!”
“আকিকার কোনো কাজে হাত লাগব না?”
“না, লাগাবে না।”
“খান সাহেব!”
“চুপ! চলো নিচে।”
দুজন একসাথে নিচে নেমে গেল এল। ড্রয়িংরুমে ইতিমধ্যে সাজানো হয়েছে—সাদা কার্পেট আর তাজা গোলাপ দিয়ে ড্রয়িংরুমের ঠিক মাঝখানে দুটো ছোট কাঠের দোলনা। একটিতে গোলাপি রেশম আরেকটিতে আসমানি নীল কাপড়ে ঢাকা। দুটোতেই লেখা—
“সিমরান খান”
“শেরান খান”
অনন্যা খাতুন, আফিয়া খাতুন আর ইশিতা রান্নাঘরে রান্নায় ব্যস্ত। ইনায়া আর নাতাশা বাড়ির বাকিসব টুকটাক কাজ করছে। সারবাজ, আরবাজ আর শাহরুখ বাড়ির বাহিরে কোরবানির পশুর কাছে আছে। সাহাবাজ খান সোফার বসে খবরের কাজ পড়ছেন। শেহেজাদ খান তার পাশে বসে ব্যবসার কাজের হিসাব করছেন আর মাঝে মাঝে চায়ের কাপে চুমুক বসাচ্ছেন। হঠাৎ বাহির থেকে রিয়াজ আর ফিরোজা এল। ফিরোজা দৌড়ে এসে শেরাজের কোলে উঠে বলল,
“লাভ জানো, বাহিরে অনেত বনো বনো তিনতা ভেনা।”
সুমু হেসে ফেলল ফিরোজার কথা শুনে। রিয়াজ কপালে হাত দিয়ে বলল,
“ওইটা ভেনা না, ভেড়া।”
ফিরোজা কপাল কুঁচকে নিজের ঠোঁটে আঙুল চেপে বলল,
“তুমি তুপ থাতো। ওতা ভেনা”
শেরাজ ফিরোজার গালে ঠোঁট ছুঁয়ে বলল,
“এই রিয়াজ চুপ। তুই বলতে পারিস না একদম। আমার লাভ যখন বলেছে ভেনা, তখন ওইটা ভেনা।”
ফিরোজা খুশি হয়ে শেরাজের গলা জড়িয়ে ধরল। রিয়াজ মুখ ঘুরিয়ে বাহিরে চলে গেল। শেরাজ আলতো হেসে বলল,
“চলো লাভ আমরা ভেড়া, উপস! সরি ভেনা দেখে আসি।”
সুমু হাসল দুজনের কথা শুনে। শেরাজ ফিরোজাকে নিয়ে বাহিরে চলে গেল। সুমু ধীর পায়ে হেঁটে রান্নাঘরে এল। অনন্যা খাতুন সুমু দেখে ভ্রু কুঁচকে বললেন,
“আমি দুই কলিজার টুকরোকে রুমে একা ফেলে রেখে, তুমি এখানে কেন এসেছ? এক্ষুনি রুমে যাও।”
শাশুড়ির কড়া গলার শাসন শুনে সুমু আর কিছু বলার সাহস পেল না। সে চুপচাপ মাথা নিচু করে ওপরে চলে গেল।
দশটার দিকে খান ম্যানশন পুরো ভরে উঠল। আজ আবারও সকলে এক হয়েছে। আইয়ুবরা, আফতাব চৌধুরীরা, আলিশারা– সবাই এসেছে। মহিলারা আজ আফগানি পোশাক চাপন পরেছে, আর পুরুষরা সাদা পারতুগ কামিজ।
সুমু আর শেরাজ তাদের দুই সন্তানকে নিয়ে নিচে নেমে এল। আফগানি ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রথমে খালেদ মাওলানা সাহেব কোরআন তেলাওয়াত শুরু করলেন। তারপর নাম ঘোষণা করে বললেন,
“আজ আমরা শেরাজ খানের সন্তান—সিমরান ও শেরানের আকিকা পালন করছি। আল্লাহ তাদের দীর্ঘ জীবন, ঈমান ও হালাল রিজিক দান করুন।”
সবাই একসাথে “আমিন” বলল। সুমুর চোখ ভিজে উঠল অজান্তেই। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শেরাজ তার হাত চেপে ধরল।
“কেঁদো না, আজ তো আনন্দের দিন,” সে ফিসফিস করে বলল।
“হ্যাঁ, আনন্দেরই,” সুমু বলল নরম গলায়, “তবুও আমার কেমন একটা ভয় লাগছে। মা হওয়ার পর থেকেই হয়তো এমন শুধু হয়েছে।”
শেরাজ শুধু তাকিয়ে রইল তার দিকে। সাহাবাজ সাহেব এসে বললেন,
“শেরাজ, ওদের নিয়ে বাহিরে চল। কুরবানি করতে হবে।”
“জি ড্যাড!”
সুমু হেসে বলল,
“আপনি কুরবানি করবেন?”
“হুম, কেন?”
“আপনি পারেন এসব?”
শেরাজ বাঁকা হেসে বলল,
“আমি আবার এসব পারিনা? লাইফে বহুত কুরবানি করার রেকর্ড আছে” সে গলায় স্বর নামিয়ে বলল, “তবে পশু নয়, মানুষ।”
সুমু ভ্রু কুঁচকালো।
“কিছু বললেন?”
“না, চলো যাই!”
“হুম, চলুন!”
বাড়ির সকলে একসাথে বাড়ির বাহিরে গার্ডেনে এল। আফগানি নিয়মে ইসলামিক প্রথার মতোই—ছেলের জন্য দুইটি, আর মেয়ের জন্য একটি পশু কোরবানি দেওয়া হবে। তাই আজ মোট তিনটি সাদা মেষশাবক আনা হয়েছে। সবগুলোকে গোসল করিয়ে, গলায় সবুজ ফিতা, সাদা গোলাপ ও কোরআনের আয়াত লেখা ছোট তাবিজ পরিয়ে আনা হলো। শেরাজ এগিয়ে এসে দোয়া পড়ল,
“বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া লাকা, হাজিহি আকীকাতু শেরান ওয়া সিমরান।”
তারপর ধীরে ধীরে কোরবানি সম্পন্ন হলো। আইয়ুবরা সকলে তাকে সাহায্য করল। সুমু কুরবানি করা না দেখে একটু দূরে সরে গেল। রাহিনরা মিলে মাংস কাটতে শুরু করল। মাংস কাটা শেষ হতেই শেরাজ, সারবাজ, আরবাজ আর শাহরুখ মিলে গরীবদের মধ্যে মাংস বিতরণ করল।
অনন্যা খাতুন সুমুর কোল থেকে শেরানকে নিল আর আফিয়া খাতুন ইশিতার কোল থেকে সিমরানকে নিল। দুজনের মাথা থেকে চুল কেটে—চুলের ওজন সমান সোনা দান করা হলো গরিবদের মধ্যে। সুমু নিজ হাতে সোনার প্যাকেটগুলো দিল গরীবদের হাতে। একজন বৃদ্ধা মহিলা সুমুর মাথায় হাত রেখে বললেন,
“যে মা নিজের হাতে গরীবদের দান করে, তার সন্তানদের চোখে থেকে কখনো যেন অশ্রু না পড়ে। আল্লাহ যেন তাদের সব বিপদ থেকে রক্ষা করে।”
সুমু হেসে বলল,
“দোয়া করবেন আমার সন্তানদের জন্য।”
বাড়ির গার্ডেনে বিশাল তাঁবু টাঙানো হলো। ইমাম সাহেব কুরআন তিলাওয়াত শুরু করলেন। তারপর দোয়া করা হলো,
“আল্লাহ! শেরান ও সিমরানকে নেক, পরহেজগার, আর আল্লাহভীরু বানাও। তাদেরকে নবীজির সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপন করার তাওফিক দাও।”
সবাই “আমিন” বলল একসাথে। শেরাজ নিচু গলায় সুমুর কানে বলল,
“আমাদের বাচ্চাদের নাম আমি যেমন রেখেছি—শেরান মানে সিংহ, সিমরান মানে যিনি আল্লাহকে মনে রাখেন—ঠিক তেমনই তারা যেন ঈমানের শক্তিতে বড় হয়।”
সুমু মৃদু কণ্ঠে বলল,
“ওরা খুব ভালো মানুষ হবে।”
দোয়া শেষে অতিথিদের জন্য টেবিলে সাজানো হলো রাজকীয় আফগানি ভোজ— কাবুলি পোলাও, মাটন কোর্মা, আফগান মোমো, রেশমি ফিরনি, আর কাহওয়া। বাড়ির ভেতর বাজছে হালকা রুবাবের সুর। সুমু শেরানকে কোলে নিয়ে দোলনায় বসল। ইনায়া এসে বলল,
“সুমু! শেরানকে আপনি আমার কাছে দাও। বড়মামনি তোমাকে খাবার পরিবেশন করতে বলেছে।”
সুমু ইনায়ার কোলে শেরানকে দিয়ে খাবার পরিবেশন করতে চলে গেল। হলরুমের মাঝখানে বসে আছেন আনন্যা খাতুন। সবার অজান্তে তিনি চেয়ে আছেন সুমুর দিকে। সুমু নিজের হাতে অতিথিদের পরিবেশন করছে।
অনন্যা খাতুন বিড়বিড়িয়ে বললেন,
“মেয়েটা সকলের থেকে আলাদা, খুব আলাদা। ওকে আল্লাহ নিজেই পাঠিয়েছেন আমার ছেলেকে বদলাতে।”
শেহেজাদ খান এসে তার পাশে বসে বললেন,
“ঠিক বলেছেন ভাবি। মেয়েটা সত্যি সকলের থেকে আলাদা।”
অনন্যা খাতুন মাথা নাড়লেন ধীরে। তার চোখে তখন এক অদ্ভুত শান্তির ছাপ। তিনি নিচু স্বরে বললেন,
“যখন প্রথমবার ওকে দেখেছিলাম, ভেবেছিলাম ও আমার ছেলের যোগ্য না। কিন্তু এখন বুঝি, ও এই বাড়ির শান্তি আর আমার ছেলের জন্য আল্লাহ তরফ থেকে আসা বরকত।”
শেহেজাদ খান হাসলেন। আনন্যা খাতুন চুপ করে রইলেন কিছুক্ষণ। চোখের কোণে হালকা পানি জমে উঠল, তিনি সেটা ওড়নাতে মুছে ফেললেন নিঃশব্দে।
“মায়ের মন বোঝে কেবল আল্লাহ,” তিনি ধীরে বললেন। “আমি ছেলেকে এত শক্ত করে বড় করেছি যে, ছেলেটা আমাদের সামনে খুব একটা হাসত না। কিন্তু ওই মেয়েটা ওর জীবনে আসার পর, ও প্রাণখুলে আমাদের সামনেও হেসেছে। আমার ছেলের জীবন ওই মেয়েটা। আজ এত আনন্দ এই বাড়িতে। আমার নাতি-নাতনি এসেছে। এত আনন্দ রাখার জায়গা কই। আজ মনে হচ্ছে আমার এই সংসারটা পরিপূর্ণ।”
তাদের কথার মাঝেই খানে ভেসে এল চেঁচামেচির শব্দ। দুজনেই একসাথে তাকালেন ডাইনিং টেবিলের দিকে। সেখানে নাতাশা খাবার পরিবেশন করতে গিয়ে ভুল করে মাংসের ঝোল ফেলে দিয়েছে স্যান্ডির শার্টের ওপর। ব্যস, লেগে গেছে দুজনের মধ্যে। অমিত আর নিহাল মিলে স্যান্ডিকে সামলাচ্ছে। এদিকে সামিয়া আর নাজমিন মিলে নাতাশাকে সামলাচ্ছে। টেবিলে বসে থাকা সকলে তাদের দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে। রোজা বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে রেখেছে। আলিশারা বসে হাসছে। অনন্যা খাতুন আর শেহেজাদ খান ওদের অবস্থা দেখে হেসে উঠলেন। শেরাজ গম্ভীরমুখে ডাইনিংরুমে যেতেই পরিবেশ যেন ঠান্ডা হয়ে গেল। সকলে যার যার খাবারে মন দিল। স্যান্ডি রাগি লুক নিয়ে একপলক নাতাশার দিকে তাকিয়ে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল। নাতাশা মুখ ঘুরিয়ে তার কাজে মন দিল।
সন্ধ্যায় সিমরান আর শেরানকে ঘুম পাড়িয়ে ড্রয়িংরুমে এসে বসল সুমু। ঘরজুড়ে হালকা সুগন্ধি ধূপের গন্ধ ভাসছে। কোণে ঝুলছে আফগানি লণ্ঠন, তার ম্লান আলোয় ঘরটা যেন আরও প্রশান্ত, আরও আপন লাগছে।
সুমু এক কাপ কফি হাতে সোফায় বসল। দিনের ক্লান্তি মিশে আছে মুখে, তবুও চোখে এক ধরনের শান্তি আর মা হবার তৃপ্তি। বাইরের বাগান থেকে ভেসে আসছে পানির ফোয়ারার শব্দ।
ঠিক তখনই পায়ের আওয়াজ। সাদা কুর্তা আর কালো ওয়েস্টকোট পরে ঢুকল শেরাজ। চোখেমুখে দিনের ক্লান্তি, কিন্তু সুমুকে দেখামাত্রই মুখে হাসি ফুটে উঠল তার।
“সুইটহার্ট, ওরা ঘুমিয়েছে?”
সুমু মাথা নাড়ল হেসে,
“হ্যাঁ, দু’জনেই ঘুমিয়ে গেছে। সিমরান একটু দুষ্টুমি করছিল, শেরান তাকে দেখে হাসছিল।”
শেরাজ হালকা হেসে কাছে এসে সোফায় বসল। সুমুর আনা কফির কাপটা তার হাত থেকে নিয়ে চুমুক দিয়ে বলল,
“আজ তুমি সারাদিন অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছ, এখন একটু বিশ্রাম নাও।”
সুমু নরম কণ্ঠে বলল,
“আল্লাহর রহমতে সব ঠিকঠাক ভাবেই হলো। সবাই কত খুশি ছিল আজ।”
শেরাজ চুপ করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল তার মুখের দিকে। তারপর মৃদু গলায় বলল,
“আর এই খুশি সবাইকে কে এনে দিয়েছে?”
সুমু হেসে চোখ নামিয়ে ফেলল। তার গালে লাল আভা ছড়িয়ে পড়ল। শেরাজ সুমুর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর ধীরে কাপটা নামিয়ে রেখে বলল,
“তুমি জানো, আজ সারাদিন একটাই জিনিস ভাবছিলাম?”
সুমু ভ্রু তুলল,
“কি সেটা, খান সাহেব?”
“যে মেয়েটা আজ সবাইকে হাসিয়েছে, সবার মন ভরিয়ে দিয়েছে—সে নিজে কতটা ক্লান্ত, সেটা কেউ জানেই না। অথচ তোমার মুখে এখন পযর্ন্ত একটাও অভিযোগ নেই।”
সুমু মৃদু হাসল। শেরাজ ধীরে উঠে গিয়ে জানালার কাছে দাঁড়াল। তারপর ফিরে তাকিয়ে বলল,
“আজ মম তোমার কথা বলছিলেন।”
সুমু একটু চমকে তাকাল,
“আমার কথা?”
“হ্যাঁ। বলছিলেন, তুমি নাকি আমার জীবনে আলো আর শান্তি এনেছো। আমি প্রথমে অবাক হয়েছিলাম—কারণ মম কখনো এত সরাসরি কিছু বলেন না।”
শেরাজ আবারও এসে সুমুর পাশে বসে বলল,
“আমার চ্যাম্পরা রুমে একা আছে।”
“হ্যাঁ! আমি যাই ওদের কাছে।”
সুমু উঠে যেতে নিলেই শেরাজ তার হাত টেনে ধরে পাশে বসিয়ে বলল,
“ওরা তো ঘুমাচ্ছে। তুমি এখন একটু আমার কাছে বসো।”
সে সুমুর কোলের ওপর মাথা রেখে শুয়ে পড়ল। সুমু ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কি শুরু করলেন আপনি? রুমে চলুন।”
“না, এখানেই থাকি।”
“কেউ দেখলে কি ভাববে বলুন তো?”
“কেউ কিছু ভাববে না। তুমি একটু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দাও।”
সুমু দীর্ঘশ্বাস ফেলে শেরাজের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে শুরু করল। শেরাজ পরম আবেশে ঠোঁটে মৃদু হাসি নিয়ে চোখ বন্ধ করল।
রুমটা হালকা অন্ধকারে ঢাকা। জানালার ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো ঢুকে এসে বিছানার পাশে পড়ে আছে। সিমরান খিলখিল করে হাসছে, নিজের ছোট্ট হাতটা নাড়িয়ে খেলছে আর শেরান নিজের আঙুল মুখে দিয়ে আওয়াজ করছে।
ঠিক সেই সময় পর্দাটা হালকা কাঁপল। প্রথমে যেন বাতাসে নড়ল মনে হলো—কিন্তু পরক্ষণেই ছায়া দেখা গেল। দুজন মুখোশধারী মানুষ নিঃশব্দে বেলকনি দিয়ে ঢুকে পড়ল রুমে। কালো পোশাক, কালো গ্লাভস, আর মুখে টাইট মাস্ক। নিঃশব্দে একে অপরের দিকে তাকাল তারা।
একজন নিচু গলায় বলল,
“ওরা দুজনেই জেগে আছে। যা করার সাবধানে করতে হবে। ওরা কাঁদতে চলবেনা।”
আরেকজন ঝুঁকে পড়ল শেরানের দিকে। শেরান হাসল। লোকটা শেরানকে কোলে তুলে নিয়ে বলল,
“বস বলেছে ওদের সাবধানে নিয়ে যেতে। ওদের গায়ে যাতে কোনো আঘাত না লাগে।”
রুমের নিস্তব্ধতা তখন যেন শ্বাসরুদ্ধকর। শিশুরা একফোঁটা শব্দ করলেই মনে হচ্ছে পুরো দুনিয়া কেঁপে উঠবে। মুখোশধারী দুই লোক সতর্কভাবে এগিয়ে এল বেলকনির দিকে। তাদের একজন সিমরানকে কোলে নিল, আরেকজন শেরানকে বুকে চেপে রাখল। দুজনেই একে অপরের দিকে মাথা নাড়ল। চোখের ভাষায় যেন বলল, “এখনই সময়।”
তারা কোমরে বাঁধা হালকা রশির হুকে বাচ্চাদের শরীর নিজের সাথে বেঁধে ফেলল—নরম কাপড়ে জড়িয়ে, যেন আঘাত না লাগে। তারপর ধীরে ধীরে বেলকনি ধরে নামতে শুরু করল নিচে।
রাতের বাতাস ঠান্ডা, চারপাশ নিঃস্তব্ধ। কেবল দূরে কুকুরের ঘেউ ঘেউ আর পাতার মর্মর শব্দ। চাঁদের আলোয় খান ম্যানশনের বিশাল দালানটা আলোয় ঢেকে আছে। কেউ কিছু টের পায়নি। দুজন ছায়ার মতো নেমে এল নিচে— খান ম্যানশন থেকে একটু দূরে কালো একটা মার্সিডিজ দাঁড়িয়ে আছে। ইঞ্জিন বন্ধ, হেডলাইট নিভানো।
গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে দুজন পুরুষ। একজন গাঢ় ধূসর কোটে, চোখে গাঢ় দৃষ্টি, ঠোঁটে হালকা হাসি নিয়ে আরিয়ান চৌধুরী। তার পাশে ঠান্ডা মুখে দাঁড়িয়ে আছে রায়য়ান চৌধুরী—হাত দুটো পকেটে, চোখে একরাশ শান্তি।
মুখোশধারী দুজন কাছে যেতেই রায়য়ান বলল,
“সবকিছু ঠিকঠাক?”
মাহিন মাথা নাড়ল,
“হ্যাঁ, বস। কোনো শব্দ হয়নি, কেউ টেঁর পায়নি। বাচ্চা দুটোও শান্ত।”
আরিয়ান এগিয়ে এসে আলতো করে মাহিনের কোল থেকে শেরানকে কোলে নিল। শিশুটির মুখে ঘুমন্ত হাসি—সে হয়তো এখনো জানে না, সে কোথায় যাচ্ছে।
আরিয়ান একবার শেরানের মুখের দিকে তাকিয়ে গাড়ির পেছনের দরজা খুলল। রুদ্র সিমরানকে রায়য়ানের হাতে দিল। রায়য়ান শিশুটাকে একবার দেখে বলল,
“নিরীহ ফেরেশতা।”
হঠাৎ ছোট সিমরান হেসে রায়য়ানের গালে তার ছোট হাত ছোঁয়াল। এতেই যেন থমকে গেল রায়য়ান। তার মন তাকে বাঁধা দিল। সে চেষ্টা করল নিজেকে জোর করে গাড়িতে তোলার, কিন্তু বোলপাখির মতো ওই ছোট্ট হাতটি তাকে যেন আটকে রাখল। সে চাইলেও আর পারল না এগিয়ে যেতে। পাশ থেকে আরিয়ান মায়া ভরা দৃষ্টিতে শেরানকে দেখে বলল,
“রায়য়ান আমার মন চাইছেনা, এই বাচ্চা দুটোকে মেরে ফেলতে। দেখ, ওরা বেবিগার্লের প্রাণ। আগেরবার বাচ্চা হারিয়ে বেবিগার্ল প্রায় পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিল। এবার ওদের কিছু হলে, বেবিগার্লকে হয়ত আর বাঁচানো যাবেনা। আর বেবিগার্লের কিছু হলে, আমিও মরে যাব। এসব করার দরকার নেই রায়য়ান। এসব করলে, আমরা এস.কে’কে কষ্ট দিতে গিয়ে বেবিগার্লকে কষ্ট দিয়ে ফেলব।”
রায়য়ান সিমরানকে কোলে রাখা অবস্থায় পিচডালা রাস্তার ওপর হাঁটুমুড়ে বসে পড়ল। আরিয়ানও তার পাশে বসে বলল,
“দেখ ভাই, ওদের মুখগুলো কতোটা মায়াবী। আর আমার কোলে থাকা এই ছেলেটাকে দেখ, পুরো আমার বেবিগার্লের জেরক্স কপি। এই মুখের দিকে তাকিয়ে এই প্রাণকে মারা তো দূরে থাক, সামান্য আঘাত করাও আমার পক্ষে সম্ভব না। আমরা না হয় এস.কের অন্যভাবে ক্ষতি করব।”
রায়য়ান হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। সে পেছন ঘুরে দু’পা এগোতেই আরিয়ান উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
“কোথায় যাচ্ছিস?”
পেছন ঘুরে তাকাল না রায়য়ান। সে একটু সময় নিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
“আমার সুহাসিনীর কোলে তার প্রাণ দুটোকে ফিরিয়ে দিয়ে আসতে।”
“আমরা যাব? কিন্তু যদি ধরা পড়ে যাই?”
“তাহলে আজ এই খান ম্যানশনের ভেতর আমার সুহাসিনীকে চোখের সামনে দেখতে দেখতে আমি হাসিমুখে আমরা প্রিয় শত্রু মিস্টার শেরাজ খানের হাত থেকে মৃত্যুকে বরণ করে নিব।”
“ঠিক আছে চল! আমিও যাব তোর সাথে। দুজনে একসাথে রেখে আসব ওদের।”
দুজন এগিয়ে গেল খান ম্যানশনের দিকে। পেছনে মাহিন আর রুদ্র তাদের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
আরিয়ান আর রায়য়ান, শেরান আর সিমরানকে খুব সাবধানে বুকের ভেতর আগলে নিয়ে বেলকনি দিয়ে উঠে শেরাজের রুমে ঢুকল। তারা দুজন একসাথে ওদের বেডে শুইয়ে দিল। ছোট সিমরান রায়য়ানের শার্ট চেপে ধরে রেখেছে। রায়য়ান যেন আবারও থমকাল। তার নিজের অজান্তেই ঠোঁটের কোণে একটা হাসি ফুটে উঠল। সে আলতো হাতে সিমরানের হাত শার্ট থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বেডের ওপর আস্তে করে রাখল। সিমরান ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে রায়য়ানের দিকে। রায়য়ান আলতো হেসে সিমরানের কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল। পাশ থেকে আরিয়ান তাকিয়ে হেসে বলল,
“বাহ! এই ছোট প্রাণ দুটি তোর মতো পাষাণেরও মন গলাতে সক্ষম হলো। পাওয়ার অফ মাই বেবিগার্ল।”
রায়য়ান গম্ভীর গলায় বলল,
“এখানে আর একমিনিটও থাকা ঠিক হবেনা। আমাদের এক্ষুনি বেরিয়ে যেতে হবে।”
দুজনে একসাথে উঠে দাঁড়াল। আরিয়ান বেড থেকে নামার আগে ছোট শেরান আর সিমরানকে আদর করল। দুজনে চলে যাবার জন্য পেছন ঘুরে দাঁড়াল। হঠাৎ রুমের দরজার কাছে অন্ধকারে একটা ছায়া বসে থাকতে দেখে দুজনেই থমকালো। আরিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কে ওখানে?”
ছায়াটি গম্ভীর গলায় বলল,
“তোদের আজরাইল!”
শেরাজের গলা শুনে দুজনেই যেন পেছনে সরে গেল। শেরাজ উঠে দাঁড়িয়ে দুজনের সামনে এসে দাঁড়াল। কিছুক্ষণের নিরবতা। শেরাজ হঠাৎ হেসে বলল,
“এত তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে যাবি, ভাবিনি।”
রায়য়ান ভ্রু কুঁচকালো।
“মানে?”
“মানেটা খুব সহজ। তোরা কী ভাবিস, আমার রাজত্বে এসে, আমারই কলিজার মধ্যে হাত দিয়ে, আমার কলিজা ছিঁড়ে নিয়ে চলে যাবি, আর আমি কিছুই জানতে পারব না?” শেরাজ হাসল, “রিডিকিউলাস!”
আরিয়ান আর রায়য়ান চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। তাদের পেছনে শেরান আর সিমরান নিজেদের ছোট হাত নিয়ে খেলছে। শেরাজ তার সন্তানদের দিকে তাকিয়ে আলতো হাসল। মুহুর্তেই তার চোখ লাল হয়ে গেল। সে আরিয়ান আর রায়য়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তোরা ভাবলি কীভাবে যে, আমার ইচ্ছা ছাড়া তোদের লোক বা তোরা আমার বাড়ির ভেতরে ঢুকতে পারবি? তোদের এসব বোকামি দেখব বলে, নিচে বউটাকে কতক্ষণ ভুজুংভাজুং বুঝিয়ে বসিয়ে রাখলাম। এখন আবার ইনায়া আর ইশিতাকে ওর কাছে বসিয়ে রেখে এসেছি। আমার বউ কিন্তু খুব সন্দেহ করে। যেকোনো সময় এখানে চলে আসতে পারে। তার আগে চল তোদের একটা সুযোগ দেই।”
রায়য়ান কপাল কুঁচকে বলল,
“কি সুযোগ?”
“কালকের চব্বিশ ঘন্টা তোদের। তার মধ্যে দুনিয়ার যে প্রান্তের গর্তে গিয়ে পারিস, নিজেদের লুকাবি। আর তারপরের চব্বিশ ঘন্টা আমার। তোদের সেই প্রান্তের গর্ত থেকে টেনে বের করে আজ যেমন নিজের সন্তানদের নামে তিনটা মেষশাবক কোরবানি দিলাম, সেদিন আমার বউয়ের নামে তোদের দুটোকে কোরবানি দিব।”
রায়য়ান তেড়ে আসতে নিলে আরিয়ান তাকে আটকে বলল,
“দেখ এস.কে, আমরা তোর সন্তানদের কোনো ক্ষতি করিনি।”
“করিসনি, কিন্তু ফিউচারে যে করবি না তার কী গ্যারান্টি আছে? তোদের দুটোর মেয়েদের মতো মিনিটে মিনিটে মুড সুইং হয়। আমি আর তোদেরকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে পারব না। আগের সন্তানটা নিয়ে আমি তোকে কিছু বলিনি রায়য়ান, কারণ তখন সুইটহার্টের জীবনের প্রশ্ন এসেছিল। কিন্তু এবার আর আমি চুপ থাকব না। নাউ, বেরিয়ে যা।”
আরিয়ান রায়য়ানকে জোর করে টেনে নিয়ে চলে গেল। শেরাজ গিয়ে বেডের ওপর বসল। সে কিছুক্ষণ সিমরান আর শেরানের দিকে তাকিয়ে রইল। পকেট থেকে নিঃশব্দে ফোনটা বের করে সুমুকে রুমে আসার জন্য টেক্সট করল।
রাত তখন গভীর। খান ম্যানশনের সকলে প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে। বাতাসে ফুলের গন্ধ ভাসছে। হঠাৎ দূরে কোথাও রাতজাগা একটা পাখি ডেকে উঠল, তারপর আবার নীরবতা।
ইশিতা বসে আছে বেডের ওপর। আরবাজ বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ ইশিতা উঠে দাঁড়াল। সে পেছন থেকে গিয়ে আরবাজকে জড়িয়ে ধরল। আরবাজ মৃদু হেসে বলল“
“ কী হয়েছে? হঠাৎ এসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলে? কিছু চাই?”
ইশিতা ঠোঁট কামড়ে একটু হাসল,
“আপনাকে ছাড়া আর কী চাইতে পারি?”
আরবাজ ধীরে তাকে কাছে টেনে এনে নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়ে বলল,
“তোমাকে আমি একটা কথা বলব ভাবছিলাম, ইশিতা।”
ইশিতা চোখ তুলে তাকাল।
“কী কথা?”
আরবাজ হঠাৎ নরম গলায়, একটু দুষ্টুমি মেশানো হাসিতে বলল,
“আমার একটা ছোট প্রিন্সেস চাই।”
ইশিতা অবাক হয়ে তাকাল। তার লজ্জায় গাল লাল হয়ে উঠল।
“প্রিন্সেস?”
আরবাজ তাকে আরও কাছে টেনে বলল,
“হুম! তোমার মতো চোখ হবে তার, কিন্তু হাসিটা হবে পুরো আমার মতো। সে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে তোমার কোলে বসে থাকবে, আমি তার সাথে কথার ভান্ডার খুলে বসব।”
ইশিতা হেসে বলল,
“আপনি তো অনেক দূর ভেবে ফেলেছেন।”
আরবাজ ইশিতার ঠোঁটের কোণে ঠোঁট ছুঁয়ে বলল,
“হুম! কারণ তুমি তো ভাবছ না, তাই আমি ভাবতে শুরু করেছি। তুমি তো আমার পুরো পৃথিবী, এখন শুধু চাই একটা ছোট্ট পৃথিবী—যেখানে তুমি, আমি, আর আমাদের রাজকন্যা থাকবে।”
ইশিতা তার বুকের ওপর মাথা রাখল।
খান সাহেব পর্ব ৭৯ (২)
“আর যদি ছেলে হয়?”
“হবে! আমার ছেলেমেয়ে নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। ছেলেমেয়ে যাই হোক, সে আমার কলিজার একটা অংশ হবে।”
“এখন বাড়িতে অলরেডি দুটো পুঁচকে আছে। আগে তাদেরকে বড় করি, তারপর নতুনদের আনার কথা ভাবব।”
আরবাজ আলতো হেসে ইশিতার কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল। ইশিতা শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আরবাজকে। দুজনে একসাথে আকাশের চাঁদের দিকে তাকাল।
