Home চারুবৃত্ত চারুবৃত্ত পর্ব ২

চারুবৃত্ত পর্ব ২

চারুবৃত্ত পর্ব ২
জুলি জোনাকি

“ভেতরে আসতে পাড়ি স্যার? ”
“ইয়েস ।”
চারু দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো, বৃত্ত সবার সাথে পরিচিত হচ্ছিলো তখন চরু এসে ডাকতেই পেছন ফিরলো বৃত্ত । কালো শার্ট সাদা প্যান্ট, চোখে চশমা, হাতে ঘড়ি , শার্টের হাতাটা ফোল্ড করা ,চমৎকার দেখতে লাগছে ,যাকে বলে একদম পারফেক্ট । চমৎকার চমকাল চারু ,বৃত্তের ভ্রু কুঁচকে এলো । চারু এখনো দাড়িয়ে আছে, বৃত্ত রুমের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল সেখান থেকেই বলল,

“কাম ইন ।”
চারু ধীর পায়ে রুমে এসে এদিক ওদিক বসার জায়গা খুঁজলো , মেয়েদের সিট বুক তবে ছেলেদের পাশে সবার শেষে একজন বসার জায়গা ছিল , চারু সেখানে গিয়ে বসলো । বৃত্ত সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল । চারু গিয়ে পাশ কেটে বসতেই বৃত্ত বলল,
“মিস ,দাঁড়িয়ে আপনার পরিচয় দিন ।”
চারু অসস্থি নিয়ে দাঁড়ালো । আমতা আমতা করে বলল,
“আ আমি আনহা বিনতে চারু ।”
“বয়স কতো ?”
চারু তাকাল বৃত্তের দিক ,স্বাভাবিক ভাবে তাকিয়ে ছিল বৃত্ত । চারু আস্তে করে জবাব দিল ,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

” আঠারো ।”
বৃত্ত কান টা একটু এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বলল,
“শুনতে পাইনি ।”
“আঠারো ।”
বৃত্ত তা শুনে একদম আস্তে করে বলল,
“পারফেক্ট ।” বলতেই চারু চট করে তাকাল।
বাকা হেসে সামনে গিয়ে দাড়াল বৃত্ত ।চারু ওভাবেই দাড়িয়ে, বৃত্ত টেবিলে হেলান দিয়ে হাত দুটো বুকে গুঁজে চারুর দিক তাকিয়ে বলল,

“সিট ডাউন মিস চারু ।”
চারু রয়েসয়ে বসলো । বৃত্ত এবার সবার উদ্দেশ্যে বলল,
“আমি বৃত্ত শেখ । অনার্স কমপ্লিট করে কলেজে জয়েন করলাম । আমি তোমাদের ফিজিক্স ক্লাস নিব । সামনে এক্সাম তাই এই সময় টুকু মন দিয়ে পড়বে । কেমন ?”
ক্লাসের সবাই হ্যাঁ বলে উঠলো । বৃত্ত ক্লাসের চারপাশ চক্কর কাটতে কাটতে বলল,
“তো দেখি এতো দিনে কে কতোটুকু পড়াশোনা করলে , একটা সূত্র ধরি যাকে বলবো সেই উওর দিবে ।”
“ওকে স্যার ।”
“তো লাস্ট মেয়েকে দিয়েই শুরু করি , হেই Attention প্লিজ ।”
চারু দিক তাকিয়ে বললো কথাটা । চারু তখন বইয়ের পাতায় চোখ বুলাতে ব্যস্ত । বৃত্ত এগিয়ে গিয়ে বলল,
“মিস চারু ,ব্যস্ত না হলে একটু দাঁড়াবেন ?”
চারু মাথা তুলে তাকাল ,চারপাশটা চোখ ঘোড়ালো , সবাই তাকিয়ে আছে ।হাসফাস করতে করতে দাঁড়ালো চারু বলল,

“জি বলেন ? ”
“বয়েল ও চার্লসের সমন্বয় সূত্র বলো তো ?”
চারুর কাপাকাপি শুরু হয়ে গেল । কিন্তু এমন কেন হচ্ছে? আগে তো হয়নি । জোরে জোরে শ্বাস নিল চারু ,তা দেখে বৃত্ত মুখে হাত দিয়ে লুকিয়ে হাসলো । বলল,
“পারবে না ?”
“হ হ্যাঁ পারবো ।”
“ঠিক আছে বলো ।”
তারপর চারু বার বার থেমে থেমে বলতে লাগলো ,
” P1V1÷T1=P2V2÷T2
“গুড ভেরি গুড । সিট ডাউন ।”

চারু বসলো , বুকে হাত রেখে ধীরে শ্বাস ছাড়ল । বৃত্ত সামনে যেতে যেতে পেছন ফিরে তাকিয়ে মুচকি হেসে সামনে চলে গেল । আবার কিছু প্রশ্ন করতে যাবে তখন ঘন্টা পরে গেল ।
“ওকে তাহলে আজ এখানেই শেষ করি কাল থেকে শুরু হবে । আর হ্যাঁ আমার ক্লাস প্রথমে সো কেউ লেট করে আসবে না , নাহলে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে দিব ।”
চারু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল ,তার কি হবে এবার সে তো রোজ সকালে দেরি করে কলেজে আসে । ঠোঁট কামরে বৃত্তের দিক তাকিয়ে ছিল চারু ,বৃত্ত যাওয়ার সময় আড় চোখে একবার তাকাল চারুর দিক । এতে চোখাচোখি হতেই চোখ সরিয়ে নিল চারু ।

“সবাই শোন এই স্যারের উপর কেউ নজর দিবে না , সে শুধু আমার ওকে ?”
বৃত্ত যেতেই রুমের এক বেহায়া মেয়ে এমন একখানা কথা বলে উঠলো । রুমের সবাই স্বাভাবিক ছিল কারণ তারা জানে এটা আজ নতুন না ,যখনি কলেজে নতুন কোন স্যার আসে তখনি সেই স্যার তার হয়ে যায় । এমন কথা শুনে চারুর পাশে বসা ছেলেটা বলে উঠলো ,
“এবার একটু ভালো হ , সামনে পরীক্ষা এসব ভণ্ডামি বাদ দিয়ে পড়াশোনা কর।”
“চুপ থাক তুই ,তোর কপালে তো কেউ কোন দিন জুটলো না আবার বড়ো বড়ো কথা ।”
“ওকে । চুপ করলাম ।”
চারু বই নিয়ে বসে ভাবছে , যে বৃত্ত ভাই এই কলেজের স্যার আর আমি তার বাড়ির কাজের মেয়ে, কি লজ্জার ব্যাপার !এমন ভেবে মনটা ছোট হলো চারুর । চোখ বন্ধ করে মাথাটা বেঞ্চে রেখে হাত দিয়ে ঢাকলো ।

“শোন চারু যা যা বললাম মনে করে সব কিনে আনবি । দেরি যেন না হয়।”
“আচ্ছা কাকিমা ।”
চারু রুমে বসে পড়ছিল তখন বৃত্তের মা ফোন করে সবজি কিনে তারাতারি বাড়ি যেতে বলল। তখন বেলা বাজে এগারোটা, অথচ চারুর বাড়ি ফিরতে হবে একটার আগেই । গিয়ে রান্না টা তাকেই করতে হবে । এমন ভেবে ভারী শ্বাস ছেড়ে বই খাতা ব্যাগে ভরে ছুটলো । এখনো দুইটা ক্লাস বাকি তা আর করা হলো না ।

কাচা সবজির দোকানে গিয়ে বেছে বেছে ভালো সবজি কিনে দু হাত ভরে বাজার নিয়ে বাড়ির পথে হাটা ধরলো । চারু হেটে হেটেই কলেজ যাওয়া আসা করে ।
অনেকখন হাটার পর বাড়ি পেল । রান্না ঘরে সবজির ব্যাগ গুলো রেখে ঢকঢক করে এক গ্লাস পানি খেল ।
“তারাতারি রান্না বসা একটু পরে আমার ছেলে মেয়ে চলে আসবে ।”
বৃত্তর মা উপর থেকেই এমন হুকুম করলেন । চারু কিছু না বলে ঘরে ব্যাগ রাখতে চলে গেল । তার মা সব ঘর গোছাচ্ছে । চারু ড্রেস চেন্জ করে এসে খাবার বানাতে শুরু করে দিল ।

“কেমন ছিল প্রথম দিন তোদের ?”
“ভালো। তবে তোমার মেয়েরা একটু বেশিই ভাব নিল দেখলাম ।”
বৃত্ত কথা বলতেই বিন্দু আর বিন্তি দুজন একসাথেই বলে উঠলো ,
“কি বললে ? আমরা ভাব নিলাম নাকি তুমি নিলে ?”
“আমি নিব এটা স্বাভাবিক কারণ আমি একজন হ্যান্ডসাম টিচার । সেখানে একটু কমই ভাব নিয়েছি ।”
বিন্দু বলল,
“আর আমরা তোমার বোন তাই আমাদের ভাব নেওয়া টা ও জায়েজ ।”
“না জায়েজ । কারণ কলেজে আমি তোদের ভাই না ।”
“মা দেখ না ভাইয়া কেমন বলছে ।”
বৃত্তের মা হেসে বলল,

“থাম তোরা । কেউ ভাব নিবি না , এবার খা ।”
দুইটা বেজে পনেরো । চারু এখনো রান্না ঘরে ,রান্না করছে । সারা শরীর ঘেমে একাকার, এবাড়িতে ছয় সাত টা আইটেম ছাড়া কেউ খেতে বসে না । তাই এখনো রান্না করেই যাচ্ছে চারু ।
খাবার টেবিলে বৃত্ত, তার মা আর দুই বোন বসে খাচ্ছিল এমন সময় তার বাবা এলো । সকাল সকাল উঠেই মাছের বাজারের যেতে হয়েছিল জন্য ছেলের সাথে দেখা করতে পারেনি । তবে এখন এসে এই হাসির মাঝে সামিল হলো ।
“কেমন আছো বাবা ?”
“ভালো আছি আব্বু, তোমার কি খবর?”
“এই চলছে । ”
এমন আরো হাসি ঠাট্টা হলো , এর মাঝে চারু খাবার এনে টেবিলে রাখলো । বৃত্তের বাবা বলল,
“চারু একটু শরবত করে দাও তো মা ।”
“আচ্ছা কাকা ।”
বৃত্ত তাকাল ।বলল,

“তুমি খাবে না চারু ?”
চারু একবার তাকাল বৃত্তের দিক তার পর চোখ সরিয়ে বলল,
“পরে খেয়ে নিব ।”
চারু ফের রান্না ঘরে চলে গেল । বৃত্ত খেতে খেতে একটু একটু তাকাল , মেয়েটা বেশ শান্ত শিষ্ট, দেখতে বেশ মায়াবি । বৃত্ত খেতে গিয়ে ও মিটমিটে হাসলো । বিন্তি তা দেখে ফেলল বলল,
“ভাইয়া হাসছো কেন ?”
বৃত্ত হকচকিয়ে গেল । খাওয়া থামিয়ে বলল,
“চুপচাপ খা ।”
“প্রেমে পড়েছো ?”
“মার খাবি ?”
“যদি প্রেমে পরে থাকো তাহলে মারো ।”
“চুপ ।”

বিকালে চারুর দুইটা টিউশন ছিল , সেখানে গিয়ে ছোট বাচ্চাদের পড়িয়ে আসতে হয় ।আজও যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে বৃত্তর সাথে দেখা হয়ে গেল । মাথা নামিয়ে যেতে গেলেই বৃত্ত ডাকলো,
“শোন মেয়ে ।”
চারু দাঁড়ালো, ঘুরে বলল,
“আমি?”
“হুমম ।”
“বলুন ?”
“কোথায় যাচ্ছ? ”
“একটু কাজ আছে তাই বাইরে যাচ্ছি ।আপনার কিছু লাগবে ?”
“হুমম ।”
“কি লাগবে বলুন এনে দিচ্ছি ।”

বৃত্ত ধীর পায়ে চারুর কাছে গেল , পা থেকে মাথা ওবদি পরক্ষ করল ।বলল,
“তুমি এতো চুপচাপ কেন?”
চারু ঠোঁট কামড়ে তাকাল । বলল,
“কই আমি তো এমনি ।”
“ওহ তা মন্দ নয় । চলো যাওয়া যাক ।”
“কোথায়?”
“বাইরে আমার ও একটা কাজ আছে , একসাথেই যাওয়া যাক ?”
চারু বেশ অসুবিধায় পড়লো । বলল,
“ঠিক আছে চলুন।”

রাত বারোটা চারু বাসন ধুলো , রান্না ঘরটা পরিষ্কার করে রাখলো । ফ্রিজে তালা পরে গেছে । কাজ শেষ হতে হতে আজও দেরি হয়ে গেছে । তাই আজও কপালে লঙ্কা ছাড়া কিছুই জুটবে না । মাকে আগেই খাইয়ে ঘরে রেখে এসেছে । রান্না শেষ করে চারু ভাত আর লঙ্কা বাটা দিয়ে খেতে বসলো । দুই লোকমা মুখে দিতেই ঝালে চোখ ,ঠোঁট লাল হয়ে গেল। পানি খেতে গিয়ে কেউ এসে সামনে দাঁড়িয়ে বলল,

চারুবৃত্ত পর্ব ১

“ফের লঙ্কা বাটা দিয়ে ভাত খাচ্ছ? মনে হচ্ছে লঙ্কা বাটা তোমার খুব পছন্দের একটা খাবার ,আমায় একটু দাও তো খেয়ে দেখি কেমন খেতে ? ”
চারু চমকে তাকাল , আমতা আমতা করে বলল,
“আ আপনি ……?”

চারুবৃত্ত পর্ব ৩