চেকমেট ২ পর্ব ৩৮
সারিকা হোসাইন
“ভলকোভ মনেরো কোথায় আছে বলতে পারবে?এক সময় তোমাদের বেশ ভালো সম্পর্ক ছিলো।তোমার আঙুলের ইশারায় কলের পুতুলের ন্যায় নাচতো সে।”
প্রশ্ন খানা জিজ্ঞেস করে রুদ্রের পানে শক্ত চোখে তাকিয়ে রইলো সারফরাজ।সেই চাহনীতে রুদ্র অল্প নড়ে উঠলো।পূর্ব অপরাধ বোধে খানিক অনুতপ্ত হয়ে মাথা নিচু করে ফেললো।পরমুহূর্তে নিজেকে ধাতস্থ করে বলে উঠলো —
“ওসব এখন পাস্ট টেন্স।ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার পর কেভিন ব্যতীত আর কারোর সাথেই আমার কখনো যোগাযোগ হয়নি।আর এতো গুলো বছর পর ভলকোভকেই কেনো খুঁজছিস তুই?আমি যতদূর জানি তুই ওকে আধমরা করে ম্যানহোলে ফেলে দিয়েছিলি।সে বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে সেটাই তো অজানা।বেঁচে থাকলেও সে কি আর স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছে?তার চোখ পিষে দিয়েছিলিস না তুই?
সারফরাজ মাথা ঝাঁকিয়ে ঠোঁট টিপে অল্প সময় স্তব্ধ রইলো।এরপর গম্ভীর গলায় বলে উঠলো —
“সে বেঁচে আছে,এবং বেঁচে আছে বলেই আমাকে শায়েস্তা করতে আমার কলিজায় হাত লাগাতে চাইছে।
“খুলে বল।
“ভলকোভ শাহরানকে তার টার্গেট বানিয়ে পূর্ব প্রতিশোধ নিতে চাইছে।কাল রাতে শাহরানের উপর অ্যাটাক করেছিলো।মরতে মরতে বেঁচে এসেছে আমার ছেলে।অভির ছেলে নিনাদ ঠিক সময়ে না পৌঁছালে কি হতো আল্লাহ জানে।
বলেই তর্জনী আর মধ্যমা আঙুলি চালিয়ে কপাল স্লাইড করতে আরম্ভ করলো সারফরাজ।রুদ্র বিচলিত হলো।সে নিজের ফোন থেকে কেভিনের নম্বর ডায়াল করে শান্ত ভারী গলায় বলে উঠলো —
“ভলকোভ মনেরো’র সমস্ত ইনফরমেশন চাই আমার আজ দুপুরের মধ্যে।চাই মানে চাই।কোনো এক্সকিউজ শুনতে চাই না।পাতাল খুঁড়ে হলেও তার এন্ড টু বটম ইনফরমেশন আমার চাই।
বলেই খট করে লাইন কেটে তপ্ত শ্বাস ফেলে রুদ্র বলে উঠলো —
“ভলকোভ নিজে শাহরানের পিছু নিয়েছিলো?
সারফরাজ ধীর গলায় বলে উঠলো —
“যতটুকু জেনেছি ,একজন স্টকার কয়েকদিন ধরেই শাহরানের গতিবিধি ফলো করছিলো।গাড়ির ড্যাশ ক্যামেরা থেকে তার কিছু ছবি পাওয়া গেছে।
“তাহলে তাকে ধরলেই তো সব বেরিয়ে আসে।
উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলো রুদ্র। সারফরাজ চিন্তিত বদনে জবাব দিলো —
“শাহরানকে যখন সে তাড়া করে তখন শাহ স্যান্টা ক্রুজ মাউন্টেইন এর দিকে গাড়ি ছুটায়।তুমি জানো ওখানকার পথ কতটা ভয়াবহ। ষ্টকার কোনো ভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেছে।গাড়ি সহ সে পুড়ে ভস্ম হয়ে গেছে।আমার লোক ওখানে গিয়ে কিছুই খুঁজে পায়নি।আর যে মরে গেছে তাকে দিয়ে কি কাজ?আমার সরাসরি ভলকভ কে চাই।এবার নিজ হাতে ওর কলিজা বার করে এঞ্জেলোকে দিয়ে খাওয়াবো আমি। সেবার প্রাণে বাঁচিয়ে রাখাটাই আমার জীবনের চরম বোকামি হয়েছে।আমি সারফরাজ শাহজাইন এতো বড় ভুল কি করে করলাম ভেবেই নিজেকে নিজেই শেষ করে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে।আমার একটা সামান্য ভুলের মাশুল আমার কলিজার টুকরা সন্তানকে প্রাণের বিনিময়ে চুকাতে হচ্ছে। হাউ প্যাথেটিক।
কথা গুলো বলতে বলতে সারফরাজের চোখে রক্ত জমলো।নিজের প্রাণের চাইতে পুত্রকে অধিক ভালোবাসে সে।তার ছেলের গায়ে সামান্য ফুলের টোকা কেউ দিলে তা সারফরাজের কলিজা কেটে
ফালি ফালি করে।আর সেই সন্তানের প্রাণ নিতে কেউ মরিয়া হয়ে উঠেছে। সারফরাজ এর দেহে এক বিন্দু প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে এও কি কখনোই সম্ভব?তাকে মোকাবেলা না করে তার ছেলের দিকে হাত বাড়াবে এতো বড় হাত কার?
রুদ্রের ধরে আসা মাথাটা আরও বেশ করে ঘুরে উঠলো।ঘুম হীন মস্তিষ্ক আপাতত তাকে কোনো চৌকস সিগন্যাল দিতে পারছে না।তবুও কিছুক্ষন ভেবে রুদ্র বলে উঠলো —
“আপাতত ওকে কোথাও পাঠিয়ে দে। ভলকোভের কেচ্ছা শেষ হলে না হয় ফিরিয়ে আনা যাবে।
সারফরাজ ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলে উঠলো —
“তুমি বলছ এই কথা?আমার ছেলেকে এখনো চিনতে পারো নি তুমি?আমার রক্ত বইছে ওর শরীরে।আমার চাইতেও হাজার গুণ জেদি সে।প্রাণ দেবে তবুও এক পা নড়বে না।নিনাদ আমাকে এসব না জানালে আমি তো অন্ধকারে থাকতাম।এতো বড় ঘটনা ঘটে গেছে গত রাতে অথচ সে আমাকে কিচ্ছুটি জানায় নি এখন পর্যন্ত।তুমি বুঝতে পারছ তার কপালের ওই কাটা দাগ কিভাবে আমায় পোড়াচ্ছে?মনে হচ্ছে আমার কলিজার বোটা কেটে রেখে দিয়েছে কেউ।বুকের ভেতর দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে আমার । ভলকোভের রক্তে স্নান না করলে এই আগুন নিভবে না।তুমি প্লীজ আমাকে শুধু জানাও ওই ট্রেইটর কোথায় আছে এখন। ব্যাস আর কিচ্ছু চাই না আমার।
“রুপকথা বা সুফিয়ান আংকেল কেউ কিছু জানে?রূপকথাকে তো একদম স্বাভাবিক দেখলাম।”
বলেই কফিতে অল্প চুমুক বসালো রুদ্র। সারফরাজ মাথা নাড়িয়ে বলল —
“কাওকেই জানতে দেই নি আমি।শাহরানের সংগে তাল মিলিয়ে চলছি আমি।ওরা দুইজন এই বিষয় জানতে পারলে কি হবে তুমি জানো?বাবা এই পর্যন্ত দুই বার হার্ট অ্যাটাক করেছেন।শাহরান বাবার হৃদপিণ্ডের পুরোটা জুড়ে বাস করে।এই সাংঘাতিক ঘটনা উনি জানতে পারলে উনাকে বাঁচানো মুশকিল হয়ে যাবে।আর রূপকথার কথা কি বলবো?আমি যে কি পেরেশানির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি তা আমি আর উপরের আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।
বলেই হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করে সারফরাজ ঠোঁট চেপে বলে উঠলো —
“তুমি শুধু ভলকোভের খবর আমাকে দাও।বাকিটা আমি সামলে নেবো।
“তুই আমাকে প্রমিস করেছিলি যাই হোক না কেনো রুদ্র আংকেলের মেয়ের প্রেমে পড়বি না।তার পরেও কীভাবে কী হলো বলতো?আমার পিঠ পিছে পুরোনো ভয়ানক অতীত ভুলে রসিয়ে রসিয়ে প্রেম করছিস!চুমু খাচ্ছিস,বাসায় গিয়ে ও তোকে পায়েশ রেঁধে খাওয়াচ্ছে! বাহ্ চু*দির ভাই বাহ।একবার বললি না পর্যন্ত।অথচ প্রাণের বন্ধু ভাবি তোকে।এই তার প্রতিদান? ধুর ছাতা এই জীবনই আর রাখবো না।
বলেই শপিং মলের চলন্ত সিঁড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ার ভান ধরলো নিনাদ। এক হাতে নিনাদের পিছনের প্যান্টের বেল্ট খামচে ধরে শাহরান বলে উঠলো —
“সিঁড়ি থেকে ঝাঁপ দিলে মরবি না।বড় জোর হাত পা ভাঙবে।মাঝে দিয়ে বিয়ের ডেট পিছাবে।তারচেয়ে পঁচিশ তলার উপর চল। আস্তে করে ছাদ থেকে ফেলে দেবো।পড়ার আগেই তুই আসমানে চলে যাবি।বিয়ের ভেজাল নাই ,সংসারের ও ক্যাচাল নাই।সব মিলিয়ে ঝামেলা মুক্ত।মাঝে দিয়ে ইলিয়ানা তোর মতো গোবেটের হাত থেকে বেঁচে যাবে।ও আরও ভালো ডিজার্ভ করে।
নিনাদ অসহায়ের মতো শাহরানের ভাবলেশ হীন মুখের পানে তাকিয়ে ঠোঁট উল্টে বলে উঠলো —
“ওই মেয়ের জন্য বন্ধুকে মেরে দিতে চাইছিস?
নিনাদের কাধ চাপড়ে শাহরান বলে উঠলো —
“তোকে ভালোবাসি বলেই তো তোর মূল্যবান ইচ্ছেকে প্রায়রোটোরি দিলাম।
নিনাদ ফোস করে শ্বাস ফেলে বলে উঠলো —
“ওই মেয়ে তোকে ডুবিয়ে মারবে দেখিস।
“অলরেডি ডুবিয়ে মারছে তো।ডুবে ডুবে জল খাচ্ছি আমি।সেই টেস্ট।
“তবে দাঁত কেলিয়ে হাসছিস কেনো?এবারও লজ্জা হচ্ছে না?ফাঁসির দড়ি গলায় নিবি?তবে আক্কেল হবে?
নিনাদ এর রস কস বিহীন কথায় মুখে চ সূচক শব্দ উচ্চারণ করে শাহরান চোখ মুখ কুচকে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলো।এরপর লম্বা শ্বাস ফেলে বলে উঠলো—
“কখনো দেখেছিস প্রেম সাগরে ডুবে কেউ বাঁচার আর্তনাদ করে?উল্টো ডুবে মরতে চায়।আচ্ছা সত্যি করে বলতো তুই কেমন প্রেমিক?তুই তো প্রেমের সংজ্ঞাই জানিস না।তুই প্রেমে পড়লি কীভাবে? আদৌ ভালোবাসা বুঝিস তুই?আহ্ বেচারি ইলি!
নিনাদ বুঝলো ভদ্রলোক তাকে ইচ্ছে করে পচাচ্ছে।বিয়ের শপিংয়ের বারোটা আপাতত বাজাতে চাইলো না সে।নিজের মুড ঠিক রাখার যথেষ্ট চেষ্টা করে হাত ইশারায় বলে উঠলো —
“ভালোবাসার কীর্তন শেষ হলে ওই পাশে চল।ভালো স্যুট পাওয়া যায় ওখানে।ওদের টেইলরের হাতে জাস্ট ম্যাজিক আছে।
চোখে মুখে বিরক্তি নিয়ে শাহরান বলে উঠলো —
“স্যুট বানানোর জন্য এখানে আসার কি দরকার ছিলো?ওরা তো বাসায় গিয়েই মাপ নিয়ে আসে।
নিনাদ দাঁত কিটমিটিয়ে বললো —
“তোর বাপের মতো আমার বাপের ওতো টাকা নেই।কথা না বাড়িয়ে চল আমার সাথে।
শাহরান যখন নিনাদের সাথে বেসপোক টেইলর এর কাছে যাবার জন্য পা বাড়ালো ঠিক তখনই পেছন থেকে ডেকে উঠলো উচ্ছ্বসিত মিহি গলা —
“শাহ!
এক ভ্রু উঁচু করে ঠোঁট বাকি খানিক হেসে পেছনে ফিরলো শাহরান।ফিনিক্স পাখির মতো লাফিয়ে লাফিয়ে হেঁটে এসে শাহরানের বাহু চেপে রোদ বলে উঠলো —
“হঠাৎ এখানে?আগে জানালে না কেনো?
রোদের এলোমেলো চুল গুলো ঠিক করতে করতে শাহরান বললো —
“প্লানিং ছাড়া এসেছি নিনাদের বিয়ের টুক টাক জিনিস কিনতে।
রোদকে দেখতে পেয়েই নিনাদের শপিং করার সমস্ত খায়েশ মিটে গেলো।মুখ ভর্তি করে করল্লার রস ঢেলে দিলো বুঝি কেউ তাকে।কপাল চাপড়ে নিনাদ বলে উঠলো —
“নাও ঠেলা সামলাও এবার।
“ভাইয়া ভালো আছেন?
হাসি মুখে নিনাদ কে কথাটা জিজ্ঞেস করলো রোদ।বিরক্তি প্রকাশ করে নিনাদ তেতো গলায় বলে উঠলো —
“এতক্ষন ভালোই ছিলাম।তুমি এসে সব ঘেঁটে দিলে সোনা।
নিনাদ এর তাচ্ছিল্য বোধক জবাবে রোদের মুখ ভার হলো।শাহরান তা খেয়াল করে ধমকে উঠলো—
“আহ নিনাদ কি হচ্ছে এসব?এভাবে কথা বলছিস কেনো ওর সাথে?
“কারণ ও তোকে আমার থেকে পুরোটাই কেড়ে নিচ্ছে। ডাইনি একটা।
বলেই হনহন করে ভেতরে ঢুকে টেইলর কে ডেকে বলে উঠলো —
“এক্সকিউজ মি।বিয়ের স্যুটের মাপ নিয়ে যান প্লীজ।
নিনাদ কে পাত্তা না দিয়ে রোদ বলে উঠলো —
“তোমার বন্ধু সব সময় আমাকে দেখলে এমন ঘেউ ঘেউ করে কেনো? পাগলা কুকুরে কামড়েছে তাকে?
“হয়তো বা।
বলেই রোদের হাত টেনে নিয়ে ভেতরে ঢুকলো শাহরান। বেসকোপের ভেতরে বিশাল বসার জায়গা।অভিজাত শ্রেণির লোকদের প্রাইভেট টেইলর এটি।এপয়েন্টমেন্ট ছাড়া এখানে আসা অসম্ভব।
শাহরান রোদকে একটা সোফা নির্দেশ করে বসতে বলল।এরপর নিনাদের জন্য স্যুটের কাপড় বাছাই করতে ব্যস্ত হলো।
মিনিট পনেরোর মধ্যে নিনাদের কাজ শেষ হলো।নিনাদ অনুরোধ জানালো —
“তোর জন্য ও একটা বাছাই কর।ট্রাস্ট মি ওদের ফিটিং অনেক ভালো।যদিও তোর ভিআইপি সার্ভিস পছন্দ।কিন্তু তুই একবার এখান থেকে বানিয়ে দেখ।পাগল হয়ে যাবি।
রোদ উঠে দাঁড়িয়ে ডিপ চারকোল রঙের একটা মেরিনো উলের কাপড় নির্দেশ করে বলে উঠলো —
“এটাতে তোমায় বেশ মানাবে।তুমি এটা নাও।
নিনাদ হাহাহা করে হেসে লাফিয়ে রোদের পাশে দাঁড়িয়ে দাঁত মুখ কামড়ে বলে উঠলো —
“ওহে ছলনাময়ী ওটা আমার ওয়েডিং ফাংশন।ফিউনারেল অকেশন না।
শাহরান শুনলো না।সে টেইলর কে ডাকলো তার মাপ নিতে।
শাহরান যখন তার শার্ট খুলতে নিলো ঠিক তখনই কর্মচারী মেয়ে গুলো ড্যাপ ড্যাপ করে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে শাহরান কে গিলে খেতে লাগলো।আর ফিসফিস করে বলে উঠলো —
“হি ইজ টু মাচ হট।
রোদ নাকের পাতা ফুলিয়ে টেইলরের হাত থেকে ফিতা কেড়ে নিয়ে ঝাঁঝালো গলায় জিজ্ঞেস করলো —
“প্রাইভেট মেজার রুম কোন দিকে?
টেইলর আঙুল নির্দেশ করতেই শাহরানের হাতের কব্জি চেপে টেনে ধরে সেই রুমের দিকে অগ্রসর হলো।
এরপর দরজা ভিড়িয়ে বলে উঠলো —
“খুব মজা হচ্ছিল তাই না?
শাহরান ঠোঁট এলিয়ে হাসলো।বললো —
“আর ইউ জেলাস?
রোদ ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো —
“বয়ে গেছে।
ভ্রু উঁচু করে চোখ সরু করে ধীরে ধীরে শার্টের সব গুলো বাটন খুলে নিজেকে অনাবৃত করলো শাহরান।ফর্সা গতর ,পেটানো মাসেল,প্রশস্ত বক্ষ,সিক্স প্যাক ভাঁজ। রোদ ফাঁকা ঢোক গিললো এহেন অগ্নি ঝড়া দৃশ্যে।সে বিস্ফারিত চোখে গভীর নজরে তাকিয়ে দেখতে লাগলো শাহরানের শরীরের প্রতিটি উন্মুক্ত খাঁজ। রোদের অদ্ভুত নজরে ফিক করে হেসে ফেললো শাহরান।বললো —
“তুমি চাইলে প্যান্ট ও খুলে ফেলতে পারি।পুরোটা দেখতে সুবিধা হবে তোমার।
শাহরানের কথায় লজ্জায় তাৎক্ষনিক রোদ চোখ সরিয়ে বলে উঠলো —
“ছিঃ ছিঃ শার্ট পরো।লজ্জা শরম নেই নাকি?এসব কি?
শাহরান ধীর গলায় বলল —
“ওভাবে মাপ ঠিক হয় না জানোনা?সময় কম।তাড়াতাড়ি করো।
রোদ ঠোঁট কামড়ে অন্য দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো —
“আ আ আসলে!
এক কদম এগিয়ে শহরান রোদের দিকে কিঞ্চিৎ ঝুঁকে ফিসফিস করে বলে উঠলো —
“আসলে কী? লোভ হচ্ছে বুঝি?তুমি চাইলে এখানেই আমরা বাসর সেরে ফেলতে পারি।আমি নির্দেশ দেয়া না পর্যন্ত কেউ দরজায় কড়া টুকুন নাড়বে না।
রোদের কান লাল হয়ে উঠলো এহেন মরণঘাতী কথায়।সে মাথা ঝাঁকিয়ে দ্রুত বলে উঠলো—
“ঠিক আছে ঠিক আছে।এক্ষুনি মেপে দিচ্ছি । বাসর টাসর এর দিকে যেতে হবে না।
বলেই বোকার মতো হেসে লম্বা করে ফিতা ধরে শাহরানের কোটের লম্বা মাপলো।
ফিচেল হেসে শাহরান বলে উঠলো —
“ফার্স্ট মেজার দ্যা চেস্ট।
বলেই রোদের একদম কাছে এসে দাঁড়ালো।মাঝের তফাৎ চার আঙ্গুল।
রোদ ঘাবড়ে উঠলো।সে বলল —
“এতো কাছে এলে যে?
“নয়তো মাপতে অসুবিধে হবে।
রোদ কম্পিত হাতে ফিতা তুলে শাহরানের পিঠ ঘুরিয়ে বুকে পরিমাপ করলো।ইতোমধ্যে অজানা শিহরন জাগানো ভয়ে তার হাত বরফে রূপান্তরিত হয়েছে।সেগুলো কেমন শক্তিহীন।
এলোমেলো হাতে খাতায় বুকের মাপ লিখে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো।বোকার মতো হিংসেয় জ্বলে পুড়ে এখন নিজেই বেকায়দায় ফেঁসে গিয়েছে।সেকি দর্জি নাকি? এতো মাপজোক সে বুঝে?
দাঁত দিয়ে ফিনফিনে পাতলা ঠোঁট কামড়ে রোদ টাইলসে নখ খুঁড়তে লাগলো। শাহরান নেশালো গলায় নিস্তব্ধতা ভেঙে বলে উঠলো —
“সোল্ডার।
ধীরে ধীরে রোদ শাহরানের শিখিয়ে দেয়া বুলিতে কোটের মাপ লিখলো।
প্যান্টের হুক খুলতে খুলতে শাহরান বলে উঠলো —
“আরও বাকি আছে।
লজ্জায় হাতের করপুটে নিজের চোখ মুখ লুকিয়ে রোদ বলে উঠলো —
“আমি অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছি।প্লীজ দয়া করো। আম সরি। আর কখনো এমন করবো না।রাস্তায় নেংতু হয়ে ঘুরলেও কিছু বলব না।প্রমিজ।
শাহরান রোদের দুই হাতের কব্জি চেপে বলে উঠলো —
“মেজার দ্যা হিপ।
লজ্জায় মরণ হলো রোদের।তার চোখ মুখ ফ্যাকাশে হলো।কোনো মতে শাহরানের বুকে মুখ লুকিয়ে বলে উঠলো —
“মাফ চাইছি।প্লীজ
রোদের কানের কাছে ফিসফিস করে শাহরান বলে উঠলো —
চেকমেট ২ পর্ব ৩৭
“তোমার এই অসহনীয় লজ্জা আমাকে যে বেকাবু করে মারছে তা কি জানো?
বলেই রোদের চিবুকে গভীর চুমু খেলো শাহরান।শক্ত করে শাহরানের বাহু খামচে রোদ বলে উঠলো —
“বাড়ি যাবো।তোমাকে দেখে ভয় করছে।তোমার শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে আমাকে পুড়িয়ে খাক করছে।
শাহরান রোদকে ছেড়ে দূরে দাঁড়িয়ে গায়ে শার্ট জড়াতে জড়াতে বলে উঠলো —
“চলে যাও।নয়তো আমি আমার ব্যারিকেড ভেঙে তোমাকে কলঙ্কিত করবো।গেট আউট ফ্রম হেয়ার।নাও।
