Home চোখের আড়ালে ভালোবাসি চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ২৫

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ২৫

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ২৫
আয়াত বিনতে নূর

এদিকে কাজী সাহেব আর নিহানকে বিদায় দিতে দিতে ঘড়ির কাঁটা গিয়ে থামলো রাত ১০টা ৪০ মিনিটে। বাড়িটা ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ হয়ে এলো। নিচতলার আলোগুলো একে একে নিভে গেলো। শুধু করিডোরে হালকা হলুদ আলোটা জ্বলছিল—যেন অদ্ভুত এক চাপা অস্বস্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে চারপাশে।
ফারিস কিছুক্ষণ সিঁড়ির নিচেই দাঁড়িয়ে রইলো।

বুকের ভেতরটা অদ্ভুত ভারে চেপে আছে। নিশির সাথে এই বিয়েটা—সবকিছু এত হঠাৎ, এত ভুলভাবে হলো যে নিজেকেই ঠিক বুঝতে পারছে না। একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সে ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলো।
প্রতিটা ধাপে মনে হচ্ছিল বুকের ভেতর জমে থাকা অশান্তিটা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। রুমের সামনে এসে থামলো। দরজার হাতল ধরেই একটু থমকে গেলো। তারপর ধীরে করে দরজাটা খুললো।
দরজা খুলতেই ফারিস স্তব্ধ হয়ে গেলো।
ঘরের ভেতরের দৃশ্যটা একেবারেই এলোমেলো।
বেডের পাশে বালিশ পড়ে আছে মেঝেতে।
ড্রেসিং টেবিলের সামনে ছড়িয়ে আছে কাঁচের চুড়ি, দু-একটা ভাঙা। একটা শাড়ি আধখানা বিছানার উপর, আধখানা মেঝেতে গড়িয়ে পড়েছে।

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

সবচেয়ে চোখে পড়লো—ঘরের মাঝখানে মেঝেতে বসে থাকা নিশি।
নিশি মেঝেতে বসে আছে, হাঁটু দুটো বুকের কাছে টেনে নিয়ে। চুলগুলো এলোমেলোভাবে মুখের ওপর ঝুলে আছে। চোখের কাজল গলে গালে লেপ্টে গেছে।
চোখ দুটো ফুলে আছে—স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, অনেকক্ষণ ধরে কাঁদছে। ফারিস বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো।
এক মুহূর্তের জন্য রাগ, অহংকার—সব গিলে গিয়ে জায়গা নিলো এক ধরনের অস্বস্তিকর অপরাধবোধ।
সে আর কিছু না ভেবে ধীরে ধীরে নিশির দিকে এগিয়ে গেলো। গিয়ে খুব আলতো করে নিশির কাঁধে হাত রাখলো। ঠিক সেই মুহূর্তেই নিশি পুরুষালী স্পর্শটা টের পেয়ে চমকে উঠলো।
পুরো শরীরটা কেঁপে উঠলো তার।
পরের সেকেন্ডেই নিশি এক ঝটকায় ফারিসের হাতটা টান মেরে সরিয়ে দিলো।

— আমাকে ছুঁবেন না!
নিশির কণ্ঠে এমন তীব্রতা, এমন ভয় আর ঘৃণা ছিল যে ফারিসের চোখ কুঁচকে গেলো।
রাগে তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো। নিশি মেঝে থেকে উঠে দাঁড়ালো। চোখে আগুন, গলা কাঁপছে—
কিন্তু ভয় নয়, জমে থাকা ক্ষোভে।
— আপনার সাহস কী করে হলো আমাকে টাচ করার ? আপনি আমার কেউ না! আমাকে ছোঁয়ার কোনো অধিকার আপনার নেই!
নিশি প্রায় চিৎকার করে বলছিলো।
কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছিল, কিন্তু সে থামেনি।

— কেনো এসেছেন এখানে আপনি? কি প্রমাণ করতে চান আমাকে বিয়ে করে? বাড়ির কাউকে না বলে এমন একটা কাজ আপনি কীভাবে করতে পারলেন?
নিশির চোখ বেয়ে আবার পানি গড়িয়ে পড়লো।
সে আঙুল দিয়ে চোখ মুছে নিলো, কিন্তু তাতে কাজল আরও ছড়িয়ে গেলো।
— এতো রাগ আমার উপর আপনার?কি করেছি আমি আপনার?আমার জীবনটা এভাবে তছনছ করে দেওয়ার অধিকার কে দিলো আপনাকে?

ঘরজুড়ে নিশির কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো।
প্রতিটা শব্দ যেন ফারিসের বুকে এসে আঘাত করছিল। ফারিস চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো।
একবার শুধু নিশির দিকে তাকালো। নিশির চুল এলোমেলো। চোখের নিচে কালচে ছাপ।
চোখ দুটো লাল আর ফোলা—কান্নার প্রমাণ স্পষ্ট।
মুখটা লাল হয়ে গেছে, ঠোঁট কাঁপছে।
এক নজরেই বোঝা যায়—এই মেয়েটা আজ ভেঙে পড়েছে। ভীষণভাবে।ফারিস বুঝতে পারছে, নিশি শুধু রাগ করছে না—
সে ভেঙে পড়েছে, অপমানিত হয়েছে, ভয় পেয়েছে… আর সবচেয়ে বেশি—বিশ্বাস হারিয়েছে।
ঘরের ভেতরটা নিস্তব্ধ।
শুধু নিশির ভারী শ্বাস আর ফারিসের দমবন্ধ করা নীরবতা।এই নীরবতাই যেন আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে…

এসব কথা শুনে ফারিসের মুখের ভাব বদলে গেলো।
রাগটা সে জোর করে চেপে রাখার চেষ্টা করলো, কিন্তু কণ্ঠে তার ছাপ ঠিকই ফুটে উঠলো। সে এক ঝটকায় নিশি কোমর ধরে টান মেরে নিজের সাথে চেপে ধরলো।
নিশির ছোট্ট শরীর টা ফারিস নিজের দখলে নিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলল—
—খুব বেড়েছিস না? সাহস দেখাচ্ছিস!
নিশি চমকে উঠলো, কিন্তু চোখ নামালো না।
ফারিসের কণ্ঠে
তীব্রতা বাড়তে লাগলো—

—আজ যা হয়েছে, তার জন্য তুই নিজেই দায়ী।
আমি তোকে আগেই বলেছিলাম—জীবনে কখনো ভুল করেও নাচের কথা ভাববি না।
তাহলে কেনো গেলি?
তাও আবার স্টেজে উঠে পারফরম্যান্স!
সে এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে চললো—
—এতো সাহস তোকে কে দিয়েছে?
এতদূর গিয়েও থামিসনি তুই!
এক মুহূর্ত থেমে চোখ সরাসরি নিশির দিকে তুলে ধরলো—
—আমি যেখানে বলেছি বাইরে গেলে চুল ঢেকে রাখবি, সেখানে তুই নিজের চুল খুলে নেচেছিস!
প্রতিমাসে ছোট আম্মুকে দিয়ে তোর জন্য হিজাব আনাই—এই ছিল তার মূল্য?
নিশির বুক কেঁপে উঠলো।
তবু সে দৃঢ় কণ্ঠে বলল—

—আমার সাহস আছে বলেই করেছি। নিজের ইচ্ছার জন্য কাউকে ক্ষমা চাইতে হয় না।
নিশি ছটফট করতে করতে আবারও
বলল—
‘নেচেছি আরও নাচবো,, ছাড়ুন আমাকে। আপনি আমাকে কেনো এভাবে ধরে রেখেছেন। ছাড়ুন বলছি। আপনি আমাকে টার্চ কেনো করেছেন?
নিশির কথা শেষ করার আগেই ফারিস নিশিকে সামনে ঘুরিয়ে নিশির পিঠ সাথে নিজের শরীর চেপে ধরে নিশির গলায় মুখ গুঁজে দিলো ফারিস।
এহেন কান্ডে নিশির গলা শুকিয়ে গেলো।
সারা শরীর এ শিহরণ জেগে উঠলো। বরফের ন্যায় জমে গেলো।
তারপর ফারিস ফিসফিস করে বলল—
“বেইবি তুই আমার ওয়াইফ,,,, তোকে টার্চ করার রাইট আছে আমার। দ্যা” গ্রেইট ফারিস ওয়াহিদ চৌধুরীর ”
ওয়াইফ তুই আর আমার ওয়াইফ যখন তুই তাহলে আমার কথা তোকে শুনতেই হবে।
দেখ তুই এখনও ছোট। নাহলে বিশ্বাস কর তোকে দাড়িয়ে থাকতেও দিতাম না।

তারপর নিশির গলায় একটা আলতো চুমু খেয়ে বলল—
“তুই এখনও ছোট তাই এখন ছাড় দিচ্ছি।
যদি বেশি অবাধ্য হস তাহলে এখনি তোর সাথে যা খুশি তাই হতে পারে। তাই যদি এখন এসব না চাস তাহলে রেডি হ। আর নাহলে বল আমি তো আছিই।”
এতোটুকু বলে নিশিকে তার দিকে ঘুরিয়ে নিলো।
নিশি কোনো কিছু বলতে পারছে না। বরফ হয়ে দাড়িয়ে আছে। নিশি ঠোঁট অনবরত কাপছে।
ফাসির নিশির ঠোঁটের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আর সময় নষ্ট না করে নিশির ঠোঁটে এ নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো।

নিশিতা বাচার জন্য ফারিসকে অনবরত কিল ঘুষি মারছে কিন্তু ফারিস কে বিন্দু মাত্র নড়াতে পারছে না। এর মাঝে ফারিসের ফোনে কল আসলো।
ফারিস কিছুটা বিরক্ত হয়ে নিশিকে ছেড়ে দিলোো।
তারপর নিশির দিকে রেগে তাকিয়ে বলল—

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ২৪

” সমস্যা কি তোর ? শান্তিতে আদরও করতে দিস না তুই। ”
এর মাঝে আবারও কে না কে ফোন করলো।
তারপর ফারিস পটেক থেকে ফোনটা বের করে করে দেখলো ফারিসের মা আফিয়া চৌধুরী কল দিয়েছে……….

চোখের আড়ালে ভালোবাসি পর্ব ২৬