Home চৌদ্দের চিঠি চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৪৭+৪৮

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৪৭+৪৮

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৪৭+৪৮
আরোবা চৌধুরী আরু

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের সকাল।
শীতের মৃদু ছোঁয়া এখনও বাতাসে রয়ে গেছে, তবে রোদটা একটু একটু করে উষ্ণ হতে শুরু করেছে। পর্দার ফাঁক গলে হালকা আলো পড়েছে নাফিসার ঘরের পড়ার টেবিলে। জানালার বাইরে কুয়াশা জমা ঠাণ্ডা বাতাসে রোদের ছায়া যেন দোল খাচ্ছে। পাখির ডাক, রাস্তার দূর থেকে ভেসে আসা রিকশার টুংটাং ——— সব মিলিয়ে খুব শান্ত, খুব নির্জন একটা সকাল।

কিন্তু এই শান্ত সকালের সাথে মিশে আছে একটা অদৃশ্য শূন্যতা।
নাফিসা পড়ার টেবিলে বসে আছে। সামনে ছড়িয়ে রাখা বই,। আজ তার এইচএসসির শেষ পরীক্ষা। হাসির দিন হওয়া উচিত ছিল… স্বস্তির দিন হওয়া উচিত ছিল…
কিন্তু নিঃশব্দে—
টুপ… টুপ…
দুই ফোঁটা পানি পড়ল বইয়ের ওপর।
পানির দাগটা মিশে যেতে যেতে কাগজের রঙ গাঢ় হয়ে উঠল। বিন্দু বিন্দু গোল ছাপ ছড়িয়ে গেল পৃষ্ঠাজুড়ে। নাফিসা দ্রুত চোখ মুছল। তবুও আরেক ফোঁটা গড়িয়ে পড়ল।
সে চোখ বুজে ফেলল। বুকের ভেতর কেমন করে যেন মোচড় দিয়ে উঠল।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

— “DSPসাহেব…”
হালকা কাঁপা কণ্ঠে নামটা বেরিয়ে এল তার ঠোঁট থেকে।
আজ ৩ মাস হতে চলল। পুরো তিন মাস। কক্সবাজার থেকে সেদিন রাতে ঢাকায় ফিরে আসার পর— আর একবারও তাকে দেখেনি।
কোনো ফোন নেই।
কোনো মেসেজ নেই।
একটাও খবর নেই।
প্রথম দু’সপ্তাহ নাফিসা প্রতিরাতে কাঁদত। তারপর চেষ্টা করেছে নিজেকে সামলাতে। ব্যস্ত থাকতে। পড়াশোনায় ডুবে যেতে।

আলহামদুলিল্লাহ, পরীক্ষা ভালোই হয়েছে। আজ শেষ। সবশেষ।
আফিয়া বেগম তাকে যতটা সম্ভব সাপোর্ট করেছে।
সাইফানও। প্রতিদিন রোজ দিয়ে আসা—নিয়ে আসা—সবকিছু দেখছে।
সায়মান নাকি ওকে দায়িত্ব দিয়ে গেছে—
“নাফিসার সবকিছু দেখতে যতদিন আমি ফিরছি না।”
কিন্তু ঠিক কোথায় গেছে সায়মান ——— এখনো কেউ জানায়নি।
টেবিলে রাখা ঘড়িতে চোখ পড়তেই নাফিসার বুক ধড়ফড় করে উঠল।
সাড়ে ৮টা ৫৭।

— “আল্লাহ! ৯টা বাজতে চলল!”
সে উঠে দাঁড়ালো তাড়াহুড়ো করে। দ্রুত পায়ে ওয়াশরুমের দিকে ছুটে গেল। ঠান্ডা পানি ছুঁয়ে মুখটা ধোয়ার পর সাদা কলেজ ড্রেসটা ঠিকঠাক করে গায়ে দিয়ে বেরিয়ে আসে। তারপর সোজা ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে হিজাবটা জড়াতে গেলেও আবার খুলে ফেলল—মনে হলো ঠিকমতো হচ্ছে না। আয়নায় নিজের দিকে তাকাতেই মনটা আরও খারাপ হয়ে গেল। মুখে নতুন নতুন ব্রণ, চোখের নিচে কালি—হয়তো রাত জেগে পড়ার ফল। নাকি অন্য কিছু। আফিয়া বেগমের বকা প্রতিদিনই খেতে হয়—কখনো মুখে প্যাক লাগিয়ে দেন, কখনো আবার ভর্ত্সনা করেন। বেবি পাউডারের ডিব্বাটা হাতেই ছিল; মন না চাইলেও মুখে হালকা করে লাগিয়ে নিল নাফিসা—মামনির বকা এড়াতেই যেন। কিন্তু চোখের নিচের কালচে দাগ… সেটা কিছুতেই আড়াল হলো না।
ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিতে না নিতেই সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামল। বসার ঘরে পৌঁছাতেই দেখে—আফিয়া বেগম দাঁড়িয়ে আছেন, হাতে ট্রে, তার ওপর খাবারের প্লেট।
নাফিসাকে দেখেই কপাল কুঁচকালেন,

— “এই মেয়ে! এত দেরি করলি কেন? পরীক্ষা দিতে যাবি—এদিকে লেট করে নিচে নামলি! এখন তো বলবি না খালি পেটে যাবো? চল, চুপচাপ খা।”
বলেন আর ওর হাত ধরে প্রায় জোর করেই চেয়ারে বসিয়ে দেন।নাফিসা একটু হেসে ফিসফিস করে বলল,
— “উফ মামনি, সময় তো নাই…”
— “খা! সময় না থাকলে আরও খেতে হয়। না খেলে মাথা কাজ করবে?”
বলা মাত্রই নাফিসার মুখে খাবার তুলে দিতে শুরু করলেন তিনি।
মামনির কথার রাগ, তিরস্কার—এসবের আড়ালে যে কতটা দুশ্চিন্তা লুকানো থাকে, নাফিসা খুব ভালো করেই জানে। তাই চুপচাপ খেতে লাগল। চোখ দুটো কেমন জানি গরম হয়ে উঠছে… কিন্তু সে দ্রুত পলক ফেলে ফেলল, যাতে কারও চোখে পড়ে না।
খাওয়া শেষে আফিয়া বেগম হাত ধুয়ে এসে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। নাফিসা কাছে টেনে মামনির কোমর জড়িয়ে ধরল। বুকে মুখ গুঁজে থাকা মেয়েটার দিকে চেয়ে আফিয়া বেগমের মনটা কেমন যেন ধরে এল।
নরম স্বরে বললেন,

— “সোনা মেয়ে… মনটা শক্ত করো। পরীক্ষা শেষ, তারপর এডমিশনের প্রস্তুতি শুরু হবে। তাই ভেঙে পড়লে চলবে না।”
নাফিসার গলা শুকিয়ে গেল, বুকটা ভারী হয়ে উঠল। তবুও কষ্ট চেপে শুধু বলল,
— “হুম…”
— “আল্লাহ ভরসা। ভালো করে পরীক্ষা দিয়ো। চিন্তা কইরো না, সব ঠিক হয়ে যাবে।”
বলে মাথায় একটা মায়াভরা চুমু দিলেন। ঠিক তখনই বাইরে গাড়ির হর্ন—
বিপ… বিপ…
আর দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সাইফান ডেকে উঠল,
— “কিরে ছটু! রেডি? চল, দেরি হয়ে যাচ্ছে!”
নাফিসা ব্যাগ তুলে দৌড় দিলো। সাইফান ওকে দেখে হেসে বলল,
— “হাঁটে আসলে হবে না, একটু দৌড়াও! আজ কিন্তু শেষ পরীক্ষা—একটা মিনিটও লেট করা যাবে না!”
নাফিসা মুখ টিপে হাসল,

— “আসছি ভাইয়া, আসছি!”
গাড়িতে বসতেই হালকা বাতাস জানালার ভেতর দিয়ে ঢুকে মুখে লাগল। দু’জনেই নীরবে কিছুক্ষণ রাস্তা দেখল। তারপর সাইফান বলল,
— “বনু… ভালো করে পরীক্ষা দিবি। ঠিক আছে? নিজের ওপর কনফিডেন্স রাখিস। শেষটা যেন বেস্ট হয়।”
নাফিসা মাথা নেড়ে বলল,
— “ইনশাআল্লাহ।”
চোখ নামিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকে।গাছের ছায়া পেরিয়ে যাচ্ছে। রাস্তার পাশে হকার, রিকশা, স্কুলের বাচ্চারা— সবকিছু চলতে আছে, শুধু তার পৃথিবীটা কোথাও থেমে আছে।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে সাইফান আবার বলল, স্বরে অদ্ভুত গাম্ভীর্য—
— “শোন… আমি আজকে নিতে আসবো না।”
নাফিসা চমকে তাকালো,
— “কেন?”

— “ড্রাইভার কাকা নিতে আসবে। আব্বু আমাকে জরুরি কাজে এক সপ্তাহের জন্য বাইরে পাঠাচ্ছে। তাইতো… এই কয়দিনে নিজের খেয়াল রাখিস। তোর কিছু হলে তোর জামাই আমর গলায় ছুড়ি বসাবে। হালকা হেসে বললো তারপর নাফিসার দিকে তাকিয়ে দেখলো ওর মুখটা মলিন হয়ে গেছে। কথা ঘুরিয়ে আবার বলা শুরু করলো। বাসায় গিয়ে আম্মুর সঙ্গে থাকবি। কোনো সমস্যা হলে তাকে বলবি। আর চিন্তা নিস না। ভাইয়া খুব তাড়াতাড়ি চলে আসবে।” শেষ কথাটা বলার সময় সাইফানের গলা খানিকটা নরম হয়ে গেল।
নাফিসা জিজ্ঞেস করতে চাইল— “সায়মান সম্পর্কে কিছু জানো?”
কিন্তু বলল না। যানে উওর কি আসবে বরাবারের মতো ” না”।
শুধু আস্তে করে বলল,

— “হবে ভাইয়া… ইনশাআল্লাহ।”
কথা বলতে বলতেই গাড়ি কলেজের সামনে থামল। নাফিসা নেমে দাঁড়াতেই সাইফানও নেমে পড়ল। সে নাফিসার মাথায় আলতো হাত রেখে বলল,
— “ভালো করে দিবি। আর কিচ্ছু চিন্তা করবি না।”
একটা ছোট্ট হাসি দিয়ে বিদায় জানালো সে। গাড়িতে উঠে চলে গেল।
নাফিসা গভীর শ্বাস নিল। ব্যাগের স্ট্র্যাপ ঠিক করল। তারপর কলেজ গেটে ভিড় ঠেলে ভিতরে ঢুকল। ভেতরে ঢোকার পর হঠাৎ পিছন থেকে আওয়াজ আসলো,
— “এই নাফি! এদিকে!”
নাফিসা তাকাতেই দেখে —— — মেহরাব আর মেহেরিন হাত নেড়ে ডাকছে। তারা দু’জনেই আগেই এসেছে। নাফিসার মুখ দেখে অবাক হয়ে গেল। মেহেরিন এগিয়ে এসে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

— “এই শুন! কেঁদেছিস নাকি তুই?” নাফিসা তাড়াতাড়ি চোখ ঘুরিয়ে নিল,
মুচকি হাসল,
— “কোথায়! ধূলা পড়েছে।”
মেহরাব হেসে বলল,
— “ধূলা? চোখের ভেতর নাকি হৃদয়ের ভেতর? এই তুই এত পড়ে পরীক্ষা নিয়ে টেনশনে থাকিস কেন রে। ঠিক তো সব আমাদের দুজনের থেকে তুই ভালো রেজাল্ট করবি এটা নিয়ে এত কান্নার কি আছে।আজব পাবলিক তুই? ”
নাফিসা রাগি লুকে তাকালো মেহরাব এর দিকে।
সেই দৃষ্টি দেখে মেহরাব ভয় পাওয়ার ভান করলো। মেহেরির এবার বলে উঠলো,
হয়েছে যত ঢং করা দেরি হয়ে যাচ্ছে, তাড়াতাড়ি রুমের ভিতরে চল, ঘন্টা দিয়ে দিছে। বলেই তিনজন যার যার পরীক্ষার কেন্দ্রে চলে গেল।

ভার্সিটি ক্যাম্পাসের বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠের এক কোণায় বসে আছে রিশা আর জারিন। অনেকটা দূরে ছায়া-ঢাকা বেঞ্চগুলোতে পাখির ডাক মিলিয়ে যাচ্ছে কোলাহলের সাথে। ছেলেমেয়েরা কেউ ক্লাসে যাচ্ছে, কেউ গ্রুপ করে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে—এ যেন তারুণ্যের গুঞ্জন ভরা জগৎ।
কিন্তু এই রঙিন ভিড়ের মাঝেই বেমানানভাবে নিস্তব্ধ বসে আছে রিশা। মুখটা শুকনো। চোখের নিচে কালচে দাগ।
বই খুলে রেখেছে, কিন্তু পৃষ্ঠা উলটাচ্ছে না। একই জায়গায় মিনিটের পর মিনিট তাকিয়ে আছে…
জারিন পাশে বসে থেকে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। গত তিন মাস ধরে একই অবস্থা।
নিস্তব্ধ। চুপচাপ। একেবারে ভেতরটা মরুভূমি হয়ে গেছে। মেয়েটা আগের রিশার সাথে মিলে না।
জারিন প্রতিদিন চেষ্টাই করে—কথা বলে, গল্প করে, জোকস মারে।
কিন্তু না, তাতে রিশার মনটা হাসে না।

একদমই না।
সবচেয়ে বড় সমস্যা—আকাশের ব্যাপারটা। আকাশ যে ভাবে রিশাকে সম্পূর্ণ ইগনোর করছে… যেন কোনো পরিচয়ই নেই!
একটা কথাও বলে না। দেখা হলেও চোখ ঘুরিয়ে চলে যায়।
এই অবস্থায় জারিন আর সাইফান একদিন ঠিক করলো—
আকাশের সাথে একবার কথা বলতে হবে। এমন করে তো আর চলতে পারে না। সাইফান রিশা আর আকাশের সম্পর্কটা এখনো মানতে পারিনি তবু রিশার অবস্থা দেখেও চারদিনের বোঝানোতে আজকাল তেমন একটা রিঅ্যাকশন দেখায় না এ ব্যাপারটাই।
একবার জারিন তার হঠকারী, জেদি স্টাইলে সেদিন সাইফানকে বলেছিল—
“চলেন ভাই, একবার গিয়ে ছেলেটার মাথায় হাতুড়ি মারি। সব ঠিক হয়ে যাবে।”
সাইফান রাজি ছিলো না, তবু শেষ পর্যন্ত জারিন তাকে রাজি করিয়েছিল। দু’জন একসাথেই গিয়েছিল আকাশের কাছে।

সাইফান দাঁড়িয়ে ছিল দূরে— কোনো কথা বলেনি। কোনো অনুরোধ করেনি। শুধু একটা কারণে এসেছিল—
“বোনকে এই অবস্থায় দেখে মনটা কেমন করছিল।”
কিন্তু আকাশ? হায়রে ঘাড়-ট্যারা ছেলে! একটুও বদলায়নি।
কোনো কথা শোনেনি, কোনো ব্যাখ্যাও দেয়নি।
শুধু একটা কথাই বলেছিল—
— “আমার সাথে এগুলো বলে কোনো লাভ নেই। ওকে বলো, আমাকে ভুলে যেতে।”
সাইফান আকাশের আচরণে আরো ছুটে যায়। ছুটে আকাশকে মারতে যায় কিন্তু জারিন অনেক কষ্টে থামিয়ে নিয়ে আসে। এরপর থেকে সে যেন আরও বেশি ইগনোর করা শুরু করল। দেখলে পাশ কাটিয়ে যায়। চারপাশে যেন বাতাসই নেই। রিশাকে দেখে তার চোখে মুহূর্তের ভয়ের ছায়া, কিন্তু মুখে কঠোরতা।
আর মজার বিষয় হলো এসবের ভিতর —
রিশার ঝামেলা সামলাতে সামলাতেই জারিন আর সাইফান নিজেদের অজান্তে একদম কাছে চলে এসেছে।
এত কাছে…

যে ওদের কথার মধ্যে প্রেম কম, কিন্তু ঝগড়া, খুনসুটি, মাখামাখি—
ওগুলোই বেশি।
আজও সেই ক্যাম্পাসের বেঞ্চে বসে দুই বান্ধবী।
জারিন বারবার বলছে,
— “রিশু, চল না ফুচকা খাই! এত চুপচাপ লাগে কেন? চল না রে, প্লিজ!”
রিশা বইয়ে মুখ গুঁজে রেখেই বলল,
— “জরুরি পড়া আছে।”
তা বলে আবার সেই একই লাইন পড়ছে দশ মিনিট ধরে।
জারিন চোখ উলটায়,
— “জরুরি পড়া না, জরুরি পাগলামি। তুই কি এবার ফার্স্ট হতে যাচ্ছিস নাকি?”
কোনো উত্তর নেই। জারিন এবার বইটা রিশার হাত থেকে টেনে নিল।
— “এই! কথা বলবি?”
রিশা বিরক্ত হয়ে তাকাল,
— “কিরে? মাথা খাস না।”
— “মাথা খাই?”
জারিন ভ্রু তুলল,

— “তাহলে তোর এই মুখ দেখে কি করব? এত কুৎসিত হয়ে গেছিস, দুদিনে বুড়ি হয়ে যাবি!”
রিশার চোখ জ্বলে উঠল,
— “তুই আমাকে বুড়ি বললি?”
— “আর কি! চেহারা দেখ—পালাইতে ইচ্ছা করে।”
রিশা বই ছুঁড়ে মারার মতো ভাব নিয়ে বলল,
— “আজকে তোরে পিটাইয়া শুইয়ে দিবো।”
জারিন দাঁত বের করে বলল,
— “ওই যে! পুরান রিশা ফিরতেছে মনে হয়।”
দু’জনের ঠাট্টা-ঝগড়া চলছিল, এমন সময়—
জারিনের ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে নামটা জ্বলজ্বল করছে— SIFAN CALLING…
জারিন এমনভাবে চমকে উঠল যেন বিয়ের দিন শ্বশুরবাড়ির লোক দেখে পালাতে হবে! তাড়াতাড়ি কলটা কাটতে গেল।
কিন্তু তখনই রিশা দেখল। ধীরে ধীরে রিশার দুই চোখ বড় হতে লাগল।
ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,

— “কি ব্যাপার? আমার ভাই তোকে ফোন দিচ্ছে?”
জারিন তড়িঘড়ি করে ফোনটা উল্টো করে রাখল,
— “আ… আ… কিছু না!”
রিশা সামনে ঝুঁকে ফোনটা কেড়ে নিল, স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
— “এই যে! আমার ভাই—যে তোকে দেখে মুখ ঘুরিয়ে চলে যায়—সে আজকাল তোকে ফোন দিচ্ছে কেন?”
জারিন তোতলাতে লাগল,
— “কিছু না রে… মানে… একটু—”
রিশা চোখ সরু করে বলল,
— “তলে তলে চালাচ্ছিস নাকি টেম্পু? কি চলছে দুজনের?”
জারিন লজ্জায় লাল হয়ে গেল, কিন্তু মুখ চেপে রাখল,
— “শোন, কিছু না বললাম—মানে নেই!”
রিশা বই গুটিয়ে ব্যাগে ঢোকাতে ঢোকাতে বলল,
— “আচ্ছা ঠিক আছে। তুই ম্যানেজ কর। আমি বাসায় যাই। জরুরি কাজ আছে।”
জারিন উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

— “এই! কোথায়—”
— “বাড়ি।”
একদম ফ্ল্যাট ভাঙা গলায় বলে রিশা চলে গেল।
জারিন দীর্ঘশ্বাস ফেলতে না ফেলতেই আবার ফোন বেজে উঠল।
এইবারও সাইফান।
জারিন কাঁপা গলায় ধরল,
— “তোমার জন্য অল্পের জন্য ধরা খাইয়া যাচ্ছিলাম রিশার কাছে! মাথায় কিছু থাকে তোমার?”
ফোনের ওপাশ থেকে সাইফান চেঁচিয়ে উঠল,
— “চশমা! কল কেটে দিবি কেন? আমি কি তোর চাকর? আর আমার ভাব দেখাস কেন?”
জারিন চোখ পাকালো,
— “ভাব দেখাই? তুমি তো যেই—বলে রেখে ফোন দাও, আমি মরেই যাই পাশে!”
সাইফান বিরক্ত,

— “শোন, গেটের বাইরে দাঁড়ায় আছি। তাড়াতাড়ি আইসো। অপেক্ষা করতে পারবো না। দু’ঘণ্টা পরে ফ্লাইট ——— তোমার সাথে দেখা করেই যাব।”
জারিনের বুক ধড়ফড় করে উঠল। এই মানুষটাকে সে যতই গালি দিক, মুখ ফিরিয়ে যাক— —— ভেতরের কোথাও একটা টান তো আছেই। রাগেও সে সেটাকে অস্বীকার করতে পারে না।
জারিন দ্রুত ব্যাগ তুলে গেটের দিকে হাঁটল। ক্যাম্পাস গেটের বাইরে সাইফানের গাড়ি দাঁড়িয়ে। সে সানগ্লাস খুলে তাকাল জারিনের দিকে— অদ্ভুত নরম চোখে। এমন চোখ সাধারণত জারিন দেখে না তার কাছে।
জারিন আসতেই সাইফান বলল,
— “ফাস্ট উঠ।”
জারিন মুখ বাঁকালেও উঠে বসল। গাড়ি চলল কিছুদূর—ফাঁকা রাস্তার দিকে।
সাইফান হঠাৎ গাড়ি থামাল। জানালা দিয়ে বাতাস ঢুকছে, জারিনের চুল উড়ছে। সাইফান ধীরে ধীরে ওর দিকে ঘুরল।চোখে দুষ্টু ঝিলিক।
দু’আঙুল দিয়ে নিজের ঠোঁটের দিকে ইশারা করল—

— “একটা চুম্মা দেও।”
জারিন হতভম্ব হয়ে তাকাল,
— “তুমি কি কথা বলতেছো?”
সাইফান নাছোড়,
— “দেও না! তুমি আমার গার্লফ্রেন্ড, তাইলে এত্ত কৃপণতা কেন ?”
— “তোমার কি লজ্জা-শরম কিছু নাই?”
— “লজ্জা পরে করমু। এখন দেও।”
জারিন চোখ বড় করে বলে উঠল,
— “এই ধলাবিলাই ! এসব অকাজের ইশারা আমার দিকে দিস না। বিয়ের আগে এগুলা চলবে না। খবরদার!”
সাইফান হতাশ হয়ে মাথা পেছনে ঠেকিয়ে বলল,
— “চশমা আপা তুই আমার বালের গার্লফ্রেন্ড! একটা চুম্মা দেস না। একবার ভুল করে তোর আমৃত খাইছিলাম, তারপর থেকে খাবার সুযোগই পাই না! তুই কি আমারে ফকির বানাইছিস?”
জারিন ধপ করে ওর বাহুতে ঘুষি মারল,
— “অসভ্য লোক একটা!”
সাইফান বেখাপ্পা হেসে বলল,

— “অসভ্য হলেও তোমার আমি বেবি 😘। আমি এতদিনে তোরে বিয়া কইরা বাচ্চার বাপ হইতাম বাচ্চা কামিং কামিং পর্যায়ে থাকতো —কিন্তু আমার ভাইয়েডা যে আসে না, তাই তো…!”
জারিন গালের দুপাশ লাল হয়ে তাকাল,
— “তোমাকে সহ্য করি কেন বলো তো?”
সাইফান ঠোঁট কেটে হেসে বলল,
— “তোর মন আমারে চায়, চশমা।”
জারিন আর কিছু বলল না। জানালার বাইরে তাকাল।
চোখে রাগ—কিন্তু ভেতরে অদ্ভুত নরম একটা কাঁপুনি।এইভাবে ঝগড়া করতে করতেই দু’জনের দিন চলে যায়…
কিন্তু এটাই তাদের মিষ্টি প্রেম— যেখানে ভালোবাসা কম, শব্দ বেশি, রাগ বেশি, খুনসুটি বেশি…
কিন্তু তবুও— এই রাগের আড়ালেই একটা আসল টান লুকিয়ে আছে।

পরীক্ষা শেষ হতে আর মাত্র পনেরো মিনিট বাকি। ঘরে তখন এক ধরনের তীব্র নীরবতা—যেন সবাই নিজের নিজের সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। ক্লাসরুমের বড় ঘড়িটা যখন শেষ পনেরোর ঘণ্টা বাজালো, নাফিসার বুকের ভেতরটা আরও কেঁপে উঠল।
সামনের খাতায় চোখ রাখতেই সবকিছু ঝাপসা হয়ে উঠছে। অসুস্থ শরীর, মাথার ভেতর ভারি চাপ, চোখের সামনে হালকা অন্ধকার নেমে আসা—সব মিলিয়ে লেখাটা তার পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু সে থেমে থাকেনি। কলমটা শক্ত করে ধরে বাকিটুকু লেখা শুরু করল। হাত কাঁপছে, আঙুলগুলো অবশ হয়ে যাচ্ছে।
শেষ লাইনটা যখন কাঁপা কাঁপা অক্ষরে লিখে ফেলল, ঠিক তখনই ঘণ্টা বেজে উঠল। পুরো ক্লাসরুম যেন হঠাৎ নিঃশ্বাস ছেড়ে দিল। সবাই যে যার খাতা জমা দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যেতে লাগল। কিন্তু নাফিসা তাদের মতো ওঠার মতো অবস্থায় নেই। ধীরে ধীরে, আস্তে আস্তে সে নিজের কলমটা রেখে চোখ বন্ধ করল দুই সেকেন্ডের জন্য। মাথাটা একটু ভারি, শরীরটা আরও ঢুলে পড়ার মতো।

খাতা জমা দিয়ে নাফিসা দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করল। পায়ে যেন শক্তি নেই। বাইরে যখন বেরিয়ে এল, তখনো মাঠে তেমন ভিড় নেই। এদিকটা আগেই বেশ ফাঁকা হয়ে গেছে। কিন্তু দূর থেকে দুইটা পরিচিত মুখ তাকে দেখেই হাত নাড়ল। মেহরাব আর মেহেরিন। দু’জনেই দাঁড়িয়ে আছে, তাদের চোখে স্পষ্ট উদ্বেগ। আজ নাফিসার কেমন লাগছে, সেটা তারা সকাল থেকেই বুঝতে পারছিল। তাই পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই এসে দাঁড়িয়ে আছে, যাতে বের হওয়ার সাথে সাথেই তাকে নিতে পারে।
নাফিসা একটু দূর থেকেই ওদের দেখে হালকা করে হাসল। খুবই ম্লান, খুবই ক্লান্ত একটা হাসি—তবু ওদের জন্য সে চেষ্টা করল নিজের ভারসাম্য ধরে রাখতে। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে তার পা টলমল করছে। মেহরাব আর মেহেরিন ওকে নামতে দেখে দ্রুত এগিয়ে এল। আর মাত্র দুই-তিনটা সিঁড়ি বাকি।
ঠিক তখনই বিপদটা ঘটল।

নাফিসা পা বাড়াতেই হঠাৎ মাথার ভেতর ঘোরের ঝাঁকুনি। চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেল। শরীরটা যেন আর নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই। সে “মেহে…” বলার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শব্দটা ঠিকমতো বের হবার আগেই পুরো শরীরটা ঢলে পড়ল। চোখ বন্ধ হয়ে গেল, আর শেষের দুইটা সিঁড়ি বেয়ে সে নিচে পড়ে গেল জোরে। মাথাটা সিঁড়ির কিনারে লেগে গভীর একটা কেটে গেল। সঙ্গে সঙ্গে রক্ত বের হতে শুরু করল।
দৃশ্যটা দেখে মেহরাব আর মেহেরিন দু’জনেই চিৎকার করে উঠল—

“নাফু!”
মেহেরিনের চোখের জল সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে এল। সে দৌড়ে নেমে এসে নাফিসার মাথা তুলে নিজের কোলে রাখতে গেল, কিন্তু ইতিমধ্যেই কিছু স্টুডেন্ট কাছে এগিয়ে এসেছে। তেমন ভিড় নেই, তবু যে কয়েকজন আছে, সবাই ছুটে এলো সাহায্য করতে।
মেহেরিন হাঁটু গেড়ে বসে নিয়ে নাফিসার মাথাটা নিজের কোলে টেনে নিল। রক্তে তার হাত ভিজে গেল, কিন্তু সে খেয়াল করল না একটুও। তার গলা শুকিয়ে গেছে, কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে ডাকতে লাগল,
— “নাফু… শুনতে পাচ্ছিস? নাফু চোখ খোল… প্লিজ… নাফিসা!”
মেহরাব তখন পুরো ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায়। সে কাঁপা হাতে নাফিসার পালস চেক করার চেষ্টা করছে, কিন্তু নিজের হাতই কাঁপছে ভীষণ। এক মুহূর্তও দেরি না করে সে নাফিসাকে কোলে তুলে নিল। এতটা ভার সেও বুঝতে পারল না, শুধু অনুভব করল—ওকে এখনই হাসপাতালে নিতে হবে।
মেহেরিন পেছন থেকে উঠে দৌড়ে তাদের সঙ্গে ছুটল। চারপাশে কিছু শিক্ষক তখন খবর শুনে বেরিয়ে আসছেন, কিন্তু তারা আসার আগেই—
মেহরাব জোরে বলল,

— “দরজা খুলে ধরো! আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি!”
ওরা গাড়ির দিকে দৌড়ে ছুটল। এক স্টুডেন্ট দরজা খুলে ধরল। মেহরাব নাফিসাকে পিছনের সিটে শুইয়ে দিল। মেহেরিন তার মাথাটা ধরে রাখল, যাতে রক্তের চাপ না বাড়ে।
গাড়ি স্টার্ট হতেই মেহরাব ব্রেক ছাড়ল না এক মুহূর্ত—পুরো স্পিডে ছুটে চলল হাসপাতালে।
এদিকে পিছনের সিটে মেহেরিন বারবার নাফিসার গাল চাপড়ে ডাকছিল—
— “নাফু… শোনো প্লিজ… চোখ খোল… কিছু হবে না… কিছুই হবে না… আমরা আছি… প্লিজ চোখ খোল…”
কিন্তু নাফিসা এখনো অচেতন। তার নিঃশ্বাস খুব মৃদু। রক্তে হাত ভিজে যাচ্ছে। মেহেরিনের চোখের জল থামছেই না। হাত কাঁপছে, মনে হচ্ছে বুকটা ফেটে যাবে।
অন্যদিকে স্কুলে থাকা কিছু শিক্ষক ঘটনাটা শুনেই দৌড়ে নিচে নেমে এসেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে মেহরাব নাফিসাকে নিয়ে চলে গেছে। তাই দ্রুত স্কুল অফিস থেকে নাফিসার বাড়িতে ফোন করা হল।
— “হ্যালো? আমরা স্কুল থেকে বলছি… আপনার মেয়েকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে… মনে হচ্ছে মাথায় আঘাত পেয়েছে…”

কেবিনের দরজার ঠিক বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন আফিয়া বেগম। ফোন পাওয়ার পর থেকে উনি একটানা কাঁদছেন। শাড়ির আঁচল ভিজে উঠেছে বারবার চোখ মুছতে মুছতে।
রিশা আর ইমা বেগম দু’পাশ থেকে ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে আছে।
তবু কান্না থামছে না—
উনার মাথায় শুধু একটাই ভাবনা—
“আমার মেয়েটা ঠিক আছে তো?”
কলেজ থেকে ফোন আসার মুহূর্তটাই যেন সব ওলটপালট করে দিল। “ম্যাডাম, নাফিসা পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছে…” — বাকিটা আর শোনা হয়নি উনার। বুকটা কেঁপে ওঠে, পা যেন চলছিল না— তারপরও ছুটে এসেছেন হাসপাতাল।
করিডোরের বিপরীত দিকে লাল চোখে দাঁড়িয়ে আছে মেহরাব আর মেহরিন। তারা নিজেরাও ভয়ে চুপ, কিছু বলতে পারছে না। ভেতর থেকে নাফিসার কণামাত্র আওয়াজও আসছে না, আর সেটা আরও বেশি ভয় ধরিয়ে দিচ্ছে সবার মনে।
মিনিট দশেক পর কেবিনের দরজা “ক্লিক” করে খুললো।
সাদা অ্যাপ্রোন পরে ডাক্তার বের হতেই সবাই ছুটে গেল তাঁর দিকে।
আফিয়া বেগম সবার আগে সামনে এগিয়ে এসে বললেন—

— “ আমার মেয়েটার কী হয়েছে? কিছু হয়নি তো ওর?”
ডাক্তার প্রথমে গম্ভীর মুখ করে ফাইলটা বন্ধ করে দাঁড়ালেন। সে মুখ দেখে মুহূর্তেই সবার বুক ধক করে উঠল।
ডাক্তার শেষে দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে বললেন—
— “দেখুন, প্রথমে আমি বলছি—ভাগ্য খুব ভালো। সিরিয়াস কিছু হয়নি।”
কথাটা বলা মাত্রই আফিয়া বেগম যেন ভেঙে পড়া শরীর নিয়ে দেয়ালের সাথে হেলে দাঁড়ালেন। চোখের স্বস্তির একটা ঢেউ নামল মুখে।
ডাক্তার একটু হাসিমুখে বোঝাতে লাগলেন—
— “মাথায় ধাক্কা লেগেছে। কপালের উপরে তিনটা সেলাই পড়েছে। ব্যথা আছে, মাথা ঘুরেছে, কিন্তু ভিতরে কোনো রক্তপাত হয়নি। স্ক্যান রিপোর্ট ক্লিয়ার। চিন্তার কিছু নেই।”
মেহরিন আস্তে বলে উঠলো,
— “তাহলে ও ঠিক হয়ে যাবে তো?”
ডাক্তার মাথা নেড়ে বললেন—
— “হ্যাঁ, ইনশাআল্লাহ। একেবারে ভয় পাওয়ার মতো কিছু না। তবে খেয়াল রাখতে হবে। এই সময় নাফিসা খুব সতর্ক ভাবে চলাফেরা করা দরকার। ভাগ্যিস কোন কিছু হয়নি।”
আফিয়া বেগম এবার জিজ্ঞেস করলেন—

— “ প্লাস্টার দিতে হইলে দেন… ওর তো খুব ব্যথা করছে নিশ্চয়ই।”
ডাক্তার একটু নরম গলায় বললেন—
— “আন্টি, মাথায় প্লাস্টার আমরা দিই না। তবে ব্যান্ডেজ করে রাখা হয়েছে। দুই-একদিন ওকে বিশ্রাম নিতে হবে। আলো কমে গিয়ে বসবে, বেশি কথা বলতে নিষেধ করবেন। আর মাথায় ঝাঁকি লাগার মতো কিছু একেবারে নয়। ব্যথাটা দু-তিনদিন থাকবে, তারপর কমে যাবে।”
ইমা বেগম নিঃশ্বাস ছাড়লেন—
— “আলহামদুলিল্লাহ… আমাদের তো মনে হচ্ছিল আরো খারাপ কিছু হবে।”
ডাক্তার আবার বললেন—

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৪৬

— “আরেকটা কথা—আপনারা ওর মানসিক অবস্থাটাও খেয়াল রাখবেন। ও একটু টেনশনে থাকে মনে হচ্ছে। মাথায় আঘাতের পরে বেশি দুশ্চিন্তা বা ভয় পাওয়া ঠিক না। আর এই সময়। পরিবারের পাশে থাকা দরকার। এখনও একা নয় তো।ওর সাথে আর একটা জীবন আছে তাই বেশি খেয়াল রাখা উচিত মনে করি আমি। যাই হোক ওকে কোন গাইনোলজিস্ট ডক্টর কে দেখান ”
আফিয়া বেগম চোখ মুছতে মুছতে অবাক হয়ে বললেন—
— “মানে …”

চৌদ্দের চিঠি পর্ব ৪৯