ছায়াস্পর্শ পর্ব ৩৩ (২)
জান্নাত চৌধুরী
সন্ধ্যা দিকে লম্বা এক ঘুম দিয়েছিলো আরাধ্য , পানিতে ডুবে সর্দি লেগেছে হয়তো। ঘুম থেকে উঠে একে পর এক হাঁচি দিয়ে চলছে সে। ইফরাহ এশার নামাজে বসেছে , আরাধ্য আনমনে ডাকল , “ ইরা”
ইফরাহ সালম ফিরিয়ে জবাব নিলো , “ আসছি” !
আরাধ্য খাটের পাসিতে বালিশ রেখে তাতে আধশোয়া হয়ে শুইয়ে মোবাইল দেখলো। দুপুরের মেসেজ , কল সব জমা পড়েছে। আরাধ্য এক করে সব দেখছিলো – ইফরাহ জায়নামাজ রেখে আঙ্গুলে কিছু একটা গুনতে গুনতে এসে দাড়ালো। কয়েকবার বিরবির করে কিছু বলে আরাধ্যের শরীরে তিনবার ফুঁ দিয়ে বলল – “আপনার প্রয়োজন কিছু ? চা খাবেন, আনবো ?”
আরাধ্য তাকিয়ে ছিলো , কিছুক্ষণ পর বলল- “ বশ করছো তাইনা? মালিকের কলমা ফুঁকিয়ে পাগল করছো। তাই তো শালা ভাবি আমি কেন এতো বউ পাগলা। ধুর ধুর –
ইফরাহ হেসে ফেললো। আরাধ্য মুখটা ছোট করে বলে – -“হাসছো তুমি ? হাসছো তাইনা।”
ইফরাহ ভেজা চুলের খোপা খুলে দিলো। তারপর বুঝদার মেয়ের মতো বলল- “ বউ পাগল হওয়া পাপ নয় নিশ্চয়ই। এইটা হালাল , আমি যদি দোয়া দরুদ পড়ে আপনায় বশে আনি আপনার তো খুশি হওয়ার কথা।”
-“তার মানে তুমি সত্যি বশ করছো আমায়?”
-“বললাম বুঝি !”
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আরাধ্য উত্তর করলো না। ভেজা চুলের স্নিগ্ধ নারীকে অপলক দেখলো। বাগানে চুলো খুড়াঁ হয়েছে, বিজয়ী হাঁসের সাথে আরো ১২খান হাঁস আনা হয়েছে। সাথে আরো কয়েক রকমের জিনিস। হাঁস ভুনা আর খিচুরী পাকানো হবে। আরাধ্য বেলকনির দিকে তাকিয়ে কালো ধোঁয়া দেখলো।
-“রাতে গোসল করেছো কোন সাধে?”
-“ইচ্ছে করলো ! তাই গোসল দিয়ে নামাজ আদায় করলাম।”
আরাধ্য বসা থেকেই এগিয়ে আসলো। ইফরাহ ঝুলতে থাকা শাড়ির আঁচলে চুল গুলো মুছে দিতে দিতে বলল –
-“বলেছিলাম অযত্ন আমার দ্বারে চলবে না। আমি সাজানো গোছানো জিনিসে আকৃষ্ট।”
-“আমি অগোছালো নই”!
-“তাই ;
-”জ্বি”
আরাধ্য চুল টেনে ধরলো। ইফরাহ ব্যথায় উহু করতেই আরাধ্য ঘাড় কাত করে বলল,“ তবে এতো রাতে চুলে পানি কেনো?”..
-“এটা অযত্ন নয় !”
চুল মোছা শেষ হলো। আরাধ্য আবারো নিজের স্থানে গিয়ে বসে বলল- “ তোমায় ডাক্তার দেখাবো ! কাল তৈরি থেকো তো। আমি নিশ্চিত তুমি অসুস্থ ;
ইফরাহ চমকালো “ কেনো ?
-“আমার মন বলছে তূমি অসুস্থ। নয়তো আজকাল মুখে মুখে তর্ক করছো না। ভালো ভালো কথা বলছো ?
আমার ভয় হচ্ছে , তোমার ভুতে ধরে নি তো?
-“ভুতে ধরলে ডাক্তার দেখাতে হয় নাকি ?”
-“হয় না তাইনা?”
ইফরাহ মাথা নাড়ালো “ উহু “
আরাধ্য চিন্তত হয়ে বলল, “তাহলে ওই যে ওইটারে জানি কি বলে ? আরে যারে দিয়া ভুত তাড়ায়। খাঁড়াও মনে করি ,
সাপের বিষ ঝাড়ে ওঝা আর , বীন বাজায় সাপুরে। চিকিৎসা তো করে ডাক্তার – আরে শালা তাহলে ভুত তাড়ায় কে রে?
ইফরাহ ভীষণ রকমের হাসি পেলো। পেট চেপে হাসি আটকাতে চেয়েও না পেরে হাসতে হাসতে বেলকনিতে গেলো। আরাধ্য জেনেই আজ অবুঝ সেজেছে , মেয়েটা সচরাচর হাসে না। আজ তাকে হাসানোর সুযোগ হারাতে চাইলো না। আরাধ্য পিছু নিয়ে এসে দাড়ালো ইফরাহর খুব কাছে।
-“ইরা শুনছো ?”
-“হুম !”
-“ভালোবাসি।”
ইফরাহর প্রশান্তি হলো। কেনো হলো জানে না , আরাধ্য আবার ডাকলো, “ ইরা”!
-“ভালোবাসো না তাই না ?”
ইফরাহ নিশ্চুপ থাকলো। আরাধ্য উদাস মনে পকেট হতে সিগারেট বের জ্বালিয়ে ধোঁয়া শুন্যে ছুঁড়ল। ইফরাহ বাহিরে আগুনের দিকে তাকিয়ে বলল-
-“ভালোবাসার কোনো সংঙ্গা নেই তাইনা?”
আরাধ্য মুসকি হাসল,“ ভালোবাসা নিছোক মায়াখেলা। ওসব ক্যালকুলেশন করে অন্তত ভালোবাসা হয়না। এটা মূলত অনুভূতি।”
-“তাহলে যার অনুভূতি নেই ?”
আরাধ্য বুঝি বিভ্রান্ত হলো। আকাশ পানে নিশ্চুপে তাকিয়ে থাকলো। দুজনেই নিশ্চুপ , নিচে রান্না করা হচ্ছে- এক পাশে কয়েকজন মিলে গল্প জমিয়েছে। ইফরাহ শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছে সব। আরাধ্যের খেলায় কোথায় জানা নেই হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠলো ইফরাহ-
-“লাশ , লাশ ছোট নবাব।” ওখানে লাশ আছে , ওরা পুতে দিচ্ছে।
আরাধ্য চমকে উঠলো ইফরাহ দৃষ্টি সই তাকালো বাগানের দিকে। কিছু নেই, ইফরাহ ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠলো। আরাধ্য হাতের সিগারেট ফেলে ইফরাহ কে শান্ত করতে ডাকলো –
-“ইরা কি বলছো ? কোথায় লাশ !”
ইফরাহর শরীর কাঁপছে, গায়ের লোমকূপ গুলো হয়তো দাঁড়িয়ে গিয়েছে। বার বার বাগানের দিকে তাকিয়ে ছটফট করছে। আরাধ্য তাকে শক্ত হাতে চেপে নিজে দিকে ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করলো , “ ইরা কি হয়ে বলতো ? কি লাশ, লাশ করছো”।
-“লাশ , ওখানে লাশ আছে ছোট নবাব।”
ইফরাহ পাগল ন্যায় করতে থাকলো। আরাধ্যে ধমকে উঠল, -“ ইরাহ স্বাভাবিক হও। তুমি পাগল নও, নিজেকে পাগল প্রমাণিত করো নাহ।”
ইফরাহ থেমে গেলো। আরাধ্য ইফরাহর গালে দুহাত রাখলো,
-“ইরা আমার পাখি , শান্ত হও।”
ইফরাহ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলো, আরাধ্য তাকে শান্ত করতে উল্টো ঘুরিয়ে আবারো বাগানের দিক মুখ করিয়ে বলল-
-“তাকাও!”
ইফরাহর ভয় হলো। আরাধ্য তাকে ভরসা দিলো –
-“তাকাও ইরা!”
পরিস্থিতি স্বাভাবিক, ইফরাহ অবাক হলো। আরাধ্যের হাত ছাড়িয়ে ছুটে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেলো। আরাধ্য পিছু নিলো…
আটপৌরে শাড়ি আঁচল মাটি ছুঁয়ে যাচ্ছে। একের পর এক সিঁড়ি পাড় হয়ে সদর দরজা পার হলো ইফরাহ। পিছনের দুটি ডাক যেনো তার কানেই বাজে না। অরুনিমা ডাকছে, আরাধ্য পিছু ছুটে যায় । বাগানে এসে দাড়িয়ে পাগলে মতো লাশের খোঁজ করছে ইফরাহ। রেজা রান্নার পাশে ছিলো ইফরাহকে দেখে এগিয়ে আসতেই। ইফরাহ অস্থির গলায় বলল-
-“লাশ কোথায় …. লাশ ? আপনি লাশ নিয়ে যাচ্ছিলেন তাইনা। কার লাশ কাকে মেরেছেন?
রেজা অবুঝের ন্যায় তাকিয়ে থাকলো। ইফরাহ রাগান্বিত গলায় চেঁচিয়ে উঠলো,“ কি হলো বলছেন না কেন?
লাশ কোথায় ?
রেজা ভয় পেলো , ইফরাহ কে সে বরাবরই খানিক ভয় পায়। কাঁপা গলায় বলল, “কি কিসের লাশ বউরানী? কি সের ক..কথা বলছেন !”
-“কেনো নাটক করছেন? এখানেই লাশ ছিলো ! আপনি আ..আর একজন লাশ নিয়ে আসছিলেন। কোথায় সেই লাশ ?
আরাধ্য এসে দাঁড়ালো , রেজা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলো। আসলে তার বুঝে আসছে না আসল কাহিনী। আরাধ্য ইফরাহকে শান্ত হতে বলল। ইফরাহ দিশেহারা আরাধ্যের গেঞ্জি খাচমে ধরে কান্নারত গলায় বলল ,
-“আ আপনি বিশ্বাস করুন এই লোকটা খুনি।সে লাশ নিয়ে বের হয়েছিলো..!! ওই ওইযে ওই দিকে মাটি খুঁড়ছে আপনি আসুন।”
ইফরাহ হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় আরাধ্যের , রেজা পিছু নেয়। তবে যথা স্থানে গিয়েই পুরো থমকে যায় তিনটি মানুষ। মাটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর কিছু নেই। ইফরাহ তবুও অবুঝের ন্যায় বলল-
-“বিশ্বাস করুন ছোট নবাব এইখানে খু.. খুঁড়া হয়েছে। আমি নিজে দেখেছি!”
আরাধ্য শক্ত হাতে ঘুরালো ইফরাহ কে -“ ইরা, ইরা ,ইরা, তাকাও আমার দিকে।”
ইফরাহকে নিজের দিকে ফেরালো আরাধ্য। ইফরাহ যেন আবাল তাবাল বকছে। আরাধ্য রেজার দিকে চোখের ইশারা দিলো। কোথাও গায়েব হয়ে গেলো রেজা। আরাধ্য ইফরাহকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ বারবার। মিনিট তিনের মধ্যে, এক সিরিজ হাতে আবারো আসলো রেজা। ইফরাহ তখনো ছটফট করছে। বেশ সাবধানে ছোট এক স্লিপিং ড্রাগসের ইনজেকশন পুশ করে আরাধ্য।
মূহুর্তে আরাধ্যের বুকে নেতিয়ে পড়ে ইফরাহ শরীর। শান্ত হয়ে যায় মেয়েটা। রেজা নিঃশ্বাস ছাড়ে, আরাধ্য তাকে চোখ দ্বারা আস্বস্ত করে, ইফরাহ কে কোলে তুলে নেয়।
প্রায় মধ্যরাত , নিস্তব্ধ পুরো মীর। পরিবেশ এমন ঠিক যেন জন মানব শূন্য কোনো পুরনো ভূতুড়ে প্রাসাদ। বাড়ির সকলেই গভীর ঘুমে। বাহিরে হৈচৈ শান্ত হয়েছে, ছেলেরা খেয়ে দেয়ে বাড়ি ফিরছে। আরাধ্য দোল খাওয়া চেয়ারে বসে, সময় পাড় করছে। লাইটের মৃদু আলোতে কতগুলো ফাইল ঘেটে চলছে। প্রতিটি ব্যবসায়ীক কাজের হিসাব-
বিগত ১৫ দিনের বেশ লম্বা এক হিসাব। বর্ডারে আসা প্রতিটি মালের হিসাব। রেজা আজই দিয়েছে তাকে-
ইতোমধ্যে মধ্যে প্রায় ৮৬ লক্ষ টাকার মালের হিসাব ধরা তার হাতে। এসব সাপ্লাই হলেই , পরবর্তী মাল আনতে আবারো বর্ডার মিশনে যেতে হবে তাকে। আরাধ্য কাজ করছিলো। হঠাৎ বেলকনিতে কিছু একটা পড়ার শব্দ হতেই। উঠতে চায় সে, তার আগেই হুরমুর করে ঘরে ঢোকে রেজা।
আরাধ্য আবারো গিয়ে বসল। রেজা বেশ সাবধানে আরাধ্যের নিকট এসে আরো দুই খানা কাগজ ধরিয়ে দিলো। এইগুলো চেয়ারম্যানের মালের হিসাব, আজ রাজধানীতে পৌঁছেছে যে মাংস আর মসলার প্যাকেট তার কাগজ। আসলেই কি সে সব শুধুই মাংস আর মসলা-
আরাধ্য কুটিল হাসলো সাথে রেজা নিজেও। এই দুইয়ের ভেতরের খবর পড়া বড় দ্বায়। এদের দুই দেহ তবে এক প্রাণ। আরাধ্য কয়েকবার দোল খেলো – রেজা আরাধ্যের গোসল খানায় গিয়ে ছাদ খুলে দুটো মদের বোতল নিয়ে এসে বসল। রেজা দক্ষ হাতে কিউব মেলে বলল ,
-“লাশ গুমের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করেছি ছোট নবাব।
বাকি তিনজনের অবস্থাও বেশি একটা ভালো নয়; আজ কালেই হয়তো বাত্তি নিভে যাবে!”
আরাধ্য মাথা নাড়ালো , “উহু মরতে দেওয়া যাবে না। শালারা বহুত জাউয়া। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বাচিয়ে রাখতে হবে ওদের।”
রেজা একটা বোতল এগিয়ে দিলো ,“ রেখে লাভ কি ? ওই শালারা আমাদের কোন কাজে লাগবে ? আধমরার দল!”
-“আরে বাচ্চা , সব কি লাভ- লসে হিসাব কষলে হবে? বাঁচিয়ে রাখ, কাল ডাক্তার আনবি কয়েকটা ভিটামিন খাইয়ে শক্তি করবি। ওরা আমার তুরুপের তাস।”
রেজা কিছুক্ষণ চুপ থাকলো!কয়েক ডোক মাল গিলে নিয়ে, লুঙ্গি ভাজিয়ে আরাম করে বসে বলল-
-”আইজ ওই মান্দারির ছাওয়াল বউরানীরে দেখলো আপনি ওরে কিছুই কইলেন না কেন?”
আরাধ্য হাসল; কিছু সময় চোখ বুঝে চুপ থেকে বলল,
-”চিলের স্বীকার আমি ছিনিয়ে নিয়ে ঘরে তুলে নিয়েছে। চিল যদি তা নাই দেখলো মজা কোথায় ?”
-“তাও ঠিক? তবে ওই শালায় এত শান্ত কেমনে আছে। আমরা বউরানী ঘরে তুলে নিলাম অথচ বিয়ে ভাঙ্গতে একখান নাটক অবদ্ধি করলো না। আমার কেমন হজম হইলো না ব্যপারটা।”
আরাধ্য শান্ত শ্রোতা রেজা আবার বলল, “বড় সর এক ছ্যাঁকা খাইলো বেডা টা। এ যৌবনে আর প্রেম পিরিতি আসবে কিনা কে জানে?”
-“ওটা প্রেম নয়, লাগানির ধান্দা। বুঝলি?”
রেজা হো হো হেসে উঠলো। আরাধ্য দ্রুত তার মুখে চেপে ধরল গালি ছঁড়ে বলল-
-“আমার বউ উঠলে , তোরে বাদুরের প্রসাব খেলাবো বেটা।”
একে তো শালিরে ঘোল দিতে জান যাই যাই করছে।
আরাধ্য সরে এলো , রেজা বাচ্চার ন্যায় মুখে আঙ্গুল ধরে বসে রইল। আরাধ্য বলল-
-“ ওই মালের কি খবর বল?”
রেজা মুখে হাত রেখে উঃ উঃ করেছে আরাধ্য বিরক্ত হলে সে মুখ হতে হাত নামিয়ে বলল-
-”কোন মাল ছোট নবাব?
-”পুলিশ;
রেজা কিছু সময় ভেবে বলল” এ পুলিশ সে পুলিশ নয়। খবর লাগিয়েছিলাম আত্মীয় স্বজন কোন বালডা নেই ওই শালার। কাজের প্রতি নাকি ভীষণ ন্যায়বান। ওইডারে রাস্তা থেকে না সরাইলে কেস ডায়রিয়া হয় যাবে।”
-“লেগে থাক , লেগে থাক। মোটা টাকা বান্ডিল পাইলে ন্যায় নিষ্ঠা পঁচা পানিতে ডুববে, আর নাহলে মানুষ ডুববে।
মালমা খতম।”
রেজা দ্রুত মাথা নাড়ালো , “ না ছোট নবাব, মামলা এতো দ্রুত খতম হবে না। বেডা ভাসা পানির মাছলি না গভিরের মাছলি। এতো সহজ না তারে সাঁটানো;
-“বুঝলাম!”
ঘরে নীরবতা চলল। আরাধ্য আরো কয়েকবার মদের বোতলে চুমুক দিলো। রেজা নেশা চড়েছে, আরাধ্য বলল-
-“বাড়ি ফিরবি আজ ?”
রেজা হুসে নেই। মাতল হয়ে , “হ্যাঁ -না” করতে থাকলো। আরাধ্য ওরে দেখে নিয়ে নিয়ে আরো কিছু সময় বসে থাকলো। পুরো বোতল খালি করে ফোন বের করলো, কাউকে একটা কল করে আসতে বলল।
বেশি সময় লাগলো না। আরাধ্য হাত মুখে পানি ছিটিয়ে ঘরে আসতেই দরজায় শব্দ হলো। সে গিয়ে দরজা খুলে, রইসুল দাড়ানো। আরাধ্য বলল”
-“ওরে অতিথি ঘরে নিয়ে যাহ , আজ এখানেই থাকুক।”
রইসুল মাথা নত করে ঘরে ঢুকলো। সোফার কাছ থেকে রেজা কে তুলে ধরে ধরে বেড়িয়ে গেলো। আরাধ্য দরজা লাগিয়ে বিছানায় এলো।
ছায়াস্পর্শ পর্ব ৩৩
ইফরাহর হুস নেই। কাল সকালের আগে তার আর ঘুম ভাঙ্গবে বলে মনে হয়না। আরাধ্য মাটিতে হাঁটু ভাজ করে বসে ঘুমন্ত মুখটা দেখলো। রোজকার মতো আজো এলোমেলো চুল গুলো মুখে এসে পড়েছে। সরিয়ে দিলো, দু চার বার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে। আবারো তাকিয়ে থাকলো। ইফরাহ ঘুমের মাঝে নড়ল বোধ হয়?আরাধ্য চোখের কোণে একফোঁটা ফোটা পানি এসে জমেছে , কেনো তা জানা নেই। আঙ্গুলে তা মুছে নিলো –
