Home ছায়াস্পর্শ ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪১ (৩)

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪১ (৩)

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪১ (৩)
জান্নাত চৌধুরী

-“শুনছো ?
-হুম;
“আমার অতীত নষ্টের কোনো কারণ নেই। যা আছে সব চক্রান্ত, পাপ। আর সেই পাপের রাজ্যের উপর তোমার অবস্থান ইরা। সেই রাজ্যের কর্ণধার আমি , বিচারক আমি। তবে এতো সবের মাঝে আমি এক ফুলের চাষ করছি ইরা। সেই ফুল তুমি;
ইফরাহ চোখ বুজে গাঢ় এক নিঃশ্বাস ছাড়লো। আরাধ্যের চুলে এলোমেলো হাত বুলিয়ে বলল-

-“শুনেছি জীবন সঙ্গী কেমন হবে তা নাকি জন্মের আগেই বিধাতা ঠিক করে রেখেছে। সমানে , সমানে না হলে নাকি সঙ্গিনী হ‌ওয়া যায় না। তবে আপনার রাজত্বে আমার অবস্থান হলো কী করে ?”
আরাধ্য মাথা উঁচু করে ঞতাকালো, মুখে একটু রসিকতা ভাব এনে বলল – ঠিক তো;
আজ আর ইফরাহ বিরক্ত হলো না। আজ বলতে কি এখন আর কোনো বিরক্তিই তাকে ছুঁতে পারে না। তা যদি হয় আরাধ্যে ঘিরে, তবে ইফরাহ সব কিছু ভুলে প্রেমের কাঙ্গালীনি। আরাধ্য আবারো মাথাটা এলিয়ে দিয়ে ডাকল –
-ইরা ;
ইফরাহ উত্তর করে না। আরাধ্য খানিক নিশ্চুপ থেকে বলল,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

-“আমি মানুষ হারানোর ভয় পাই। জীবন থেকে অতিব প্রিয় কেউ চলে গেলে আমি ভাবি আমার জীবন কী তবে থমকে গেলো?আমি কী ভেঙ্গে গেলাম? এসব ভাবনা আমার মস্তিষ্কে হানা দেয়। আমি দীর্ঘ সময় অপেক্ষারত থাকি , কবে সেই প্রিয়টার নাগাল ধরবো। তবে , সব কিছুর উর্ধ্বে গিয়েও যখন দেখি মানুষ আমায় ঘিরে চক্রান্তে মেতেছে অথচ আমি নির্বোধ মানবের মতো তাদের ভালো চেয়েই চলেছি। আমি সরে আসি। নিজেকে ধীরে ধীরে ভাঙ্গতে শুরু করি;
এতো পরিমাণ কষ্ট দিতে শুরু করি। যা সবার জন্য‌ই বিরক্তি হয়ে দাঁড়ায়। আমি কল্পনায় একখান করে ঘরে বাঁধি যে ঘরের প্রতিটি আনাচে কানাচে প্রতিটি শুন্য স্থান নিজে ভরাট করে দেই।
এপর্যায়ে থেমে কিছুটা দম নিলো আরাধ্য। চোখ বুজে নিঃশ্বাস টেনে বলল, জানো ইরা , জীবন অজন্তাতেই ধ্বংসমুখী। অথচ বয়সটা কিন্তু শখের;

আমার কোনো শখ নেই। আমি পাপী, আমি ধ্বংস , আমি এলো মেলো অগোছালো পথিক ইরা। আপতত আমি শুধু তোমার লোভী। তোমায় ছুঁয়ে থাকার যে কী পরিমাণ আকাঙ্ক্ষা আমার তা তুমি বুঝলে আমি ধন্য হতাম। তুমি আমার নিকট কী , তা বুঝানোর কোনো শক্তি আমার নেই। শুধু জানি তুমি সামনে থাকলেই আমার শান্তি। এক বিধ্বংসী পুরুষের সমাপ্তি তোমার মাঝেই নিবেদিত ইরা।
ইফরাহ আঙ্গুলে কপাল চেপে ধরল, “আপনার কি মনে বাঁধছে না আপনি নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করে ফেলছেন। এতে আপনার ধ্বংস আসতে পারে।”
আরাধ্য ফিচলে হাসলো , “ তোমার চেয়ে বড় কোনো দুর্বলতা আমার নেই। তাই যে স্থান তুমি ক্ষত করবে তার প্রতিটি আঘাত তোমার সর্বাঙ্গে বিষক্রিয়া ছড়িয়ে দেবে।”

-“আপনার কেনো মনে হলো আমি আপনাকে আঘাত করবো? আমি নিশ্চয়ই তা বলিনি।”
-“আঘাত করবে না বলছো?”
ইফরাহ মাথা নাড়িয়ে বলে , উহু
আরাধ্য মাথা তুলে উচ্চস্বরে হাসে। চুলগুলো উপর দিকে ঠেলে দিয়ে বলে, “ করবে , করবে আঘাত তুমি করবে আমায় এবং সেই আঘাত আমি হাসি মুখে গ্রহন করবো।”
-“বলছেন ?
এবার আরাধ্য স্বল্প হাসল , “ মানুষ বিপরীতমুখী; সরলতায় অবস্থান দিলেও , শালা জটিলতায় স্থান নেয়।”
ইফরাহ ভ্রু জোড়া কুঁচকে তাকিয়ে থাকলো। এতো হেয়ালি তার মাথায় খেলে না। আবার ইচ্ছে ও জাগেনা নতুন করে প্রশ্ন করে কারণ জিজ্ঞেস করার।‌ আরাধ্য জিজ্ঞেস করলো ,

-“তোমার বয়স কত ইরা?”
-“ষোল হবে হয়তো; মনে নেই।”
-“আমার কতো জানো?”
ইফরাহ কিছুটা ভেবে তারপর না করে। আরাধ্য বলল –
-“তুমি সবে ষোড়শী আর আমি পঁচিশের ঘরে। আমার বয়সে আসলে ধীরে ধীরে অনুভব করবে জীবনের দৃঢ়তা।”
ইফরাহর গলা ধরে এসেছে , “ জীবন টা ছোট হ‌ওয়াই ভালো ছোট নবাব। এতো বিষাদের সঙ্গীনি হয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।”
আরাধ্য নির্লিপ্ত চেয়ে থাকলো। ফ্যাকাশে লাগছে ইফরাহর মুখ টা। এই ইফরাহ কেমন যেন। ইফরাহ বুঝদার , আরাধ্যের ভাষ্যমতে মেয়েটাকে সে বুঝদার বলেই আখ্যায়িত করে এসেছে।চোখের কোণ দুটো লাল হয়ে রয়েছে। এতো সময় নীরবেই কেঁদেছে। আরাধ্য ডাকল ,

-“রক্তকমলিনী;
ইফরাহ তাকাল, “জ্বি! বলছেন কিছু?”
-“আরো শুনবে ?”
-“শুনেই তো চলেছি; আমি নীরব শ্রোতা।”
আরাধ্য ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল, “অতীত মনে রাখতে নেই আর ভবিষ্যত ভাবতে নেই। অতীতে বেদনা দেয়, ভবিষ্যত মৃত্যু। ইজ ইকোয়াল টু “যাহা ভাবিবে ভাবনাতেই মরিবে”।
-“আমায় এইভাবে না ভাঙ্গলেও পারতেন। আপনি নিশ্চিত ছিলেন আমি আপনার ভরসায় ঘর বাঁধা এক দুর্বল পাখি।”
আরাধ্য উঠে দাড়ালো ইফরাহর থুতনি চুষে গাঢ় এক চুমু খেলো। এতোক্ষণে জমানো বেদনার বুঝি সমাপ্তি হলো। ইফরাহর চোখের কোণা বেয়ে উপচে পড়লো একফোঁটা পানি। শক্ত হাতে আরাধ্য কে জরিয়ে ধরলো ,
-“সব অনেক হলো , ফিরে আসুন। চলুন না দূরে কোথাও। এই কোলাহল ছেড়ে দূরে গিয়ে দোচালা এক ঘর বাঁধি;
-“শান্ত হ‌ও ইরা , শোনো কেঁদো না।”
-“আমি কেনো শান্তি পাচ্ছি না বলতে পারেন? কেনো ?
মস্তিষ্ক আর হৃদয়ের দন্দে আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি। এ কেমন জ্বালা ছোট নবাব। ”

সন্ধ্যা রাতেই গোসল সেরে ছাদে এসে বসেছিলো আরাধ্য। একা একা নিড়িবিলি কতটা সময় কাটানো প্রয়োজন তার।তবে হলো না দুই বোতল মাল নিয়ে হাজির হয়েছে রেজা। আরাধ্য বিরক্তি মাখা কন্ঠে ধমকে উঠলো –
-কাহিনী কী কাজ নেই ? আছে তো! কাজ ছেড়ে এখানে কী?
রেজা এক বোতলের ছিপি খুলে আরাধ্যের দিকে বাড়িয়ে দিলো। এরপর নিজের বোতলে লম্বা এক চুমুক দিলো। কিছু সময় নীরবে কাটলো তাদের। আকাশে চাঁদ নেই তবে তারার মেলা বসেছে। ভালোই লাগছে দেখতে। অন্ধকার রাতে আকাশের বিশালতায় মুগ্ধ হবার যথার্থ কোনো কারণ নেই তবে , হতাশা দূরের এক মাধ্যম হতে পারে। আরাধ্য জিজ্ঞেস করলো ,

-“ছোট শুয়োরের লাশ পৌঁছাতে কেউ দেখেছিলো ?”
-“দেখেছে ছোট নবাব!”
আরাধ্য কঠোর চোখে তাকালো , রাগান্বিত কন্ঠে বলল –
-“তবে আর কী প্রস্তুতি নাও জেলের প্যাদানি খাবার। আউলারে কামে লাগাই আমি। ”
রেজা তাকালো আরাধ্য দিকে। আরাধ্য পর পর কয়েকবার মদ গিলছে। চিন্তিত থাকলে এমন করে সে। রেজা জিজ্ঞেস করলো –
-চিন্তিত লাগছে আপনাকে? কিছু ভাবছেন ছোট নবাব।
আরাধ্য অর্ধেক বোতল খালি করে খান্ত হলো , “সময়টা বড্ড বাজে চলছে রে। তার থেকেও বাজে আমি;
দুজনেই হাসল খানিক। দুটো সিগারেট বের করে আগুন দিলো রেজা ,

-রুদ্রনীল”!
-হু ;
-পুনর্জন্ম হবে তাই না?
-কেনো ছোট নবাব ও জন্মের হিসাব টাও কী চুকিয়ে যাবেন?
আরাধ্য মলিন হাসলো। সিগারেটে এক টান দিয়ে বলল,
অন্তর পুড়চ্ছে রে , বড্ড মায়া মায়া লাগছে।
-জিনিস কড়াক হলে মায়া একটু থাকবেই ছোট নবাব।
আরাধ্য ভ্রু উচায় , “ একটা সংসার করবো ভাবছি।”
-ভাবছেন‌?
-হু ভাবছি?
রেজা ভয়ে ভয়ে খানিক হেসে বলল , “ আপনি ঘর বাঁধার মানুষ নন।”

– হয় নাকি ? তাকাল আরাধ্য ,রেজার চোখে চোখ রাখলো।
রেজা বলল , “এতদিন শুনেছি প্রেম নাকি কাঁঠালের আঠা লাগলে ছুটে না। আইজ নিজ চোক্কো দেখি।”
গলা কাঁপিয়ে হাসল আরাধ্য , “ হ। ওসব বালের কথা যে বলেছে সে শালাও প্রেমেই মরেছে।”
সিগারেটে আরো এক টান দিয়ে মুখ ভর্তি ধোঁয়া গিললো আরাধ্য , “ আমি শালা উজান গাঙের মাঝি , এমনি ডুবে মরবো। তাই ওসব সিস্টেম চালু থাকলেও আমি নিজস্ব গতিতেই চলছি হে।”
রেজা হেসে ফেলল , “ আপনি একখান জিনিস গুরু! এই ক‌ইলেন সংসার করবেন। এই আবার ওসব সিস্টেম নাই। চোরের উপর বাটপারিতে আপনি‌ই সেরা।”

আরাধ্য দৃষ্টি স্থির রেখেই হো হো করে হেসে উঠলো ,সাথে রেজাও। হঠাৎ করে হাসি থামিয়ে বলল , “কাহিনী কী ব‌উ নেই , সংসার নেই? সব ছেড়ে এখানে কী?
বোতল খালি হয়েছে, রেজা আকাশের পানে চেয়ে থেকে বলল , ”দ্বিতীয়টা নেই ।
-“প্রথমটা তো আছে , দ্বিতীয় টাও করে ফেল”।
রেজা উদ্ভট হাসলো , আরাধ্য চিবিয়ে চিবিয়ে বলল , “হাসো ক্যান শালা? কৌতুক বলেছি হ্যাঁ!”
আরাধ্য খেয়াল করলো। আজ রেজার মন মরে রয়েছে। সিগারেটের শেষ অংশে লম্বা একখান টান দিয়ে ছাদ থেকে নিচে ফেলল। কিছু সময় নিশ্চুপ থেকে এবার বলল ,

– বিরতির সময় এসেছে রুদ্রনীল। এবার , তবে হিসাব চুকিয়ে দেওয়া যাক।
-আমি যাচ্ছি না কোথাও;
-খবর কোত্থেকে এসেছে তোর কাছে;
এতক্ষণে বুঝি আসল কথায় হাত মেরেছে আরাধ্য। রেজা বলল ,
“ এসেছে ছোট নবাব , এসেছে। তবে আমি ছাড়ছি না আপনাকে। অপেক্ষারত ছিলাম আপনার মুখে শোনার;
আরাধ্য জিজ্ঞেস করল , “ কোত্থেকে খবর এসেছে রুদ্রনীল?”
রেজা স্লান হাসল , “মার্জনা করবেন ছোট নবাব।”
আরাধ্য আর ঘাটলো না। হেঁটে এসে হাত রাখলো রেজার কাঁধে। ভরসার একখান হাত , এই ছায়া ছেড়ে মৃত্যু ব্যতিত রেজা কোথাও গিয়ে স্বস্তি পাবে না। আরাধ্য বলে ,

-আমি , তুই এক হলেও আমি চাইছি তুই সংসারি হবি‌। বছর বছর একখান করে বাচ্চার বাপ হবি;
রেজা চুপ থাকে, আরাধ্যের বিরক্তি বারছে , “ মাইয়া দের মতো ভং ধরা শিখতে কে বলেছে তোরে?”
রেজা হঠাৎ পা চেপে ধরে আরাধ্যের মিনতি স্বরে বলে ,
“ আপনি সিদ্ধান্ত পাল্টে নিন। আমি ছাড়ছি না আপনাকে ছোট নবাব। আপনি ব্যতিত আমার শান্তি নেই।”
আরাধ্য বিরক্তি গলায় বলল , “ শালা ছিচ কাঁদুনি মেয়ে ছেলে। উঠে দ্বারা বাইনচোদ। মানুষের ভালো চাইলে শালারা পশ্চাত মারতে লেগে যায়।’

-আমি যাচ্ছি না কোথাও।
-হ – যাচ্ছি না ওঠেন এবার।
রেজা উঠে দাড়ালো , আরাধ্য বড্ড দুঃখের সাথে বলল – “চৌদ্দ শিকরের আব্বারা ফায়দা নিতে আসবে বুজলি। বেশি সেন্টি মারানোর প্রয়োজন নেই।
-ওসব ভাবে কে ছোট নবাব , তবে নতুন বিয়েডা করছি। ব‌উ রাইখা গারদে রাত কাটাতে বড্ড বিদিক লাগবে।
আরাধ্য ভ্রু কুঁচকায় , “ মরিচ খাও শখে , আর পা-ছা জ্বললেই দোষ”
রেজা লজ্জা পেলো খানিক টা। আরাধ্য তার নাজুকতা দেখে জিজ্ঞেস করে, “ ওরা মুখ দেখেছিলো? ”
রেজা দ্রুত মাথা নাড়ালো , “নাহ;
আরাধ্য কেমন করে জানি হাসল। এরপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল , “তুই ছেলে বহুত ভালো। আর ভালো মানুষ সবসময় মারা খায়। এতে আমি দুক্কু পেলাম।”
-“আমিও”।
হো হো করে হেসে উঠলো দুজনে।রেজা জানে আইনের ফাঁক ফোকড় মেরে ঠিক বাঁচিয়ে নিবে তাকে। চট করে হাসি থামিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়লো আরাধ্য। এরপর গলা ছাড়লো,

কোনো এক উল্টো রাজা ,
উল্টো বুঝলি প্রজার দেশে
চলে সব উল্টো পথে , উল্টো রথে , উল্টো বেশে‌।
সোজা পথ পড়ে পায়ে সোজা পথে কেউ চলেনা।
বাকা পথে জ্যাম হরদম
জমাজমাট ভীর কমেনা।
কোনো এক উল্টো রাজা , উল্টো বুঝলি প্রজার দেশে
নিস্তব্ধ রাতে বিশাল আকাশের মুগ্ধতা ভালো‌ই লাগে। আরো কিছু টা রাত বাড়িয়ে ছাদ থেকে নেমে গেলো দুজন। রেজা ঘরে এসেছে। রাইসা বসে বসে ঘোমোচ্ছে, অপেক্ষা করছিলো হয়তো! রেজা কাছে এসে দাড়িয়ে কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করে ডাকলো ,

-রাই ;
পরপর দুইবার ডাকতেই ঘুম চোখ খুলে তাকলো রাইসা। রেজা পড়নের জিন্স খুলে লুঙ্গি পড়তে পড়তে শুধালো,
“না ঘুমিয়ে বসে রয়েছো কেন ?”
রাইসা জড়ানো কন্ঠে বলল , “ এইতো এলেন , এখন একসাথে শুবো তাই ।”
রেজা হাসল বটে , তথাপি লুঙ্গি পরে উদাম শরীরে এসে সঙ্গ নিলো রাইসার। ছেলেটা উদাম শরীরে ঘুমায় , গায়ে কাপড় থাকলে তার আবার ঘুমে ব্যাঘাত হয়।

ঘরিতে ১১টা ২ , আরাধ্য ঘরে এলো। ইফরাহ উল্টো ঘরে শুয়ে রয়েছে। আরাধ্য দরজা লাগিয়ে এসে দাড়ালো। পুরো শরীরে বডি স্প্রে মেরে ধুপ করে শুয়ে ইফরাহ কে টেনে এনে বুকে ফেললো। জেসমিনের সুবাস সাথে মদের বিকট গন্ধের মিশ্রণ দুটোর মিশ্রণের গা গুলিয়ে আসছিলো ইফরাহ। কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস আটকে রাখতেই আরাধ্য বলল ,
-গন্ধ কি খুব বেশি লাগছে? গোসল দিয়ে আসবো।
ইফরাহ চুপ থাকলো। আরাধ্যের পিঠের কাপড় খামচে ধরে গাট হয়ে পড়ে থাকলো। কথা বললো না ,
আরাধ্য কিছুসময় চোখ বুজে শুয়ে থাকলো। মাথা ঝিমঝিম করছে অথচ চোখ ঘুমে নেই।

-চুল টেনে দিবো কী , আরামে যদি চোখে ঘুম আসে তবে।
আরাধ্য চোখ খুলল , ছোট জবাবে বলল , “হু”!
ইফরাহ চট জলদি উঠে বসলো। খাটে বোর্ডে বালিশ রেখে আধশোয়া হলো। আরাধ্য একু এগিয়ে কোলে মাথা রেখে শাড়ির আঁচল সরিয়ে উন্মুক্ত পেটে মুখ লুকানো।
ছোট ,ছোট হাতে চুল টেনে টেনে দিচ্ছে ইরা। আরাধ্য নিঃশ্বাস তখন তার পেটে পড়ছে। লোকটা এমনি , একটু আদুরে হতে ভীষণ ছলাকলা করে সে। হঠাৎ এক আকাম করলো আরাধ্য চুমু খেলো নাভির কাছটায়। তবে কোনো প্রতিক্রিয়া পেলো ভেবে আবাক হয়ে মুখ তুললো। খেয়াল করলো ইফরাহর মুখো ভঙ্গিমা। এরপর বলল ,
“পানিটুকু জমিয়ে রাখো , আমি দুনিয়া ছাড়লে নাহয় কেঁদো খানিক। নয়তো আমার রুহ মজা নিবে আমার সাথে;”
-“বলতে পারেন কেনো চোখ দুটো পানি ভরে আসছে?”

-খোলস বদলাতে বড্ড কষ্ট হয়। কষ্ট স‌ইতে পারলেই নতুনত্ব উপভোগ করতে পারবে।
-খোদা আমায় খুব ধৈর্য্য দিয়েছেন হয়তো। নয়তো এত হাহাকার কেমনে লুকাতাম বলুন?
আরাধ্য স্বল্পতায় হাসল , “ যে অল্পতে লুটিয়ে যায় তার পরাজয় নিশ্চিত।”
ইফরাহ তাকিয়ে র‌ইলো। একবার শুষ্ক ঢোক গিলে গলা ভিজিয়ে বলল , “ আমার বেলায় সব কঠিন।”
-স্বাভাবিক থাকো , সময় গরালেই ক্ষত সেরে উঠবে। পরিচর্যার প্রয়োজনীতা নেই।
-“বলছেন?”

আরাধ্য স্বীকারোক্তি দিল , “ বলছি”।
ইফরাহ নিঃশব্দে হাসলো কেবল। আরাধ্য মলিন হাসির মানে না খুঁজে শুধালো , “ বুকে আসবে ইরা? একটু এসো মেয়ে , বড্ড পুড়াচ্ছে। ”
ইফরাহ তাকালো আরাধ্যের দিকে। তথাপি হাত বাড়িয়ে ডাকলো আরাধ্য। শান্ত নদীর শেষ ঠিকানা যেমন উত্তাল সমুদ্রের বুকে। ইফরাহর ও তাই ; ছোট খাটো ক্লান্ত শরীর টেনে আরাধ্যের বুকে মুখ গুজলো। আরাধ্য তৃপ্তির হাসল, চুলে আলতো হাতে বিলি দিয়ে বলল ,

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪১ (২)

-“ সাজ সজ্জা নেই তোমার। আজ বলেই কিছু না বলেই রেখেছি।তবে, রোজ রোজ‌ এমন মানবো না। শুকনো পাতা হোক বা শুকনো ফুল , গাছ কিন্তু তাকে নিজের থেকেই ঠিক আলাদা করেই দেয়। তাই আবারো বলছি গুছিয়ে চলো।”

ছায়াস্পর্শ পর্ব ৪২