জাহানারা পর্ব ৩২
জান্নাত মুন
আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, অদ্ভুত এক স্বপ্নের জগতে ঘুরে বেড়াচ্ছি। সেই কখন থেকে আমার সুন্দর স্বপ্নে কেউ ব্যাঘাত দিয়ে যাচ্ছে অনবরত।
–“জায়ান ভাইয়া চলে এসেছে আপুওওও…”
জায়ান ভাইয়া, নামটা কানে পৌঁছাতেই মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে উঠলো। আমি আর কোনো কিছু না ভেবেই লাফ মেরে উঠে বসলাম। আমার পড়নে একটা ওভার সাইজ গেঞ্জি আর প্লাজু। ঘুমের মধ্যে প্লাজুর এক পা কখন যে হাঁটুর অনেক টা উপরে ওঠে এসেছে সে খবর আমার নেই। কোমর ছুঁই ছুঁই চুল গুলো জট পেকে পাগলের মতো দেখাচ্ছে।
জানালার ফাঁক গলে সূর্যের তীর্যক সোনালি রশ্মি আস্তে আস্তে ঘরে ঢুকে পড়ছে। সেই আলো এসে পড়ছে বিছানার চাদরে, মুখের উপরও ঝিকমিক করছে হালকা উষ্ণতা নিয়ে। আমি মুখের সামনে এলোমেলো হয়ে পড়ে থাকা চুল গুলো কানে গুজে দিতে দিতে উদগ্রীব হয়ে বলতে লাগলাম,
–“জায়ান ভাই এসে গেছে? জায়ান ভাই এসে গেছে?”
বিছানার সামনে দু’হাত কোমরে ধরে দাঁড়িয়ে আছে সিক্সে পড়োয়া জুই। সেই কখন থেকে মেয়েটা আমাকে চিৎকার করে ডেকে যাচ্ছে। অথচ আমার ঘুম ভাঙার নাম গন্ধই নেই। তাই বিরক্তিতে নাকের পাঠা ফুলিয়ে রেখেছে। আমার এমন কথায় তার বিরক্তি আরও বাড়লো,
–“না আসে নি, এলো বলে। তুমি কি উঠবে নাকি উঠবে না। না উঠলে না উঠ, আমি গেলাম।”
জুই চলে যেতে নিলেই বিছানা থেকে লাফ দিয়ে নেমে, জুইয়ের হাত খপ করে ধরে নিলাম।
–“আরে বনু এমন করছিস কেন, উনি কি এসে গেছে?”
–“উনিইইইইই,,,,,,”
আমার কথার পাছে আরও কয়েকটা কন্ঠ ভেসে আসে। আমি সামনে মাথা তুলে তাকাতেই দেখি কবিতা আপু আর জিয়াদ দাঁড়িয়ে। ওরা ঠোঁট টিপে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। আমার আব্বুর বড় ভাই মাহবুব শেখের মেয়ে কবিতা শেখ। আর তার ছোট ভাই নাইম শেখ জিয়াদ। সে এবার ক্লাস নাইনে উঠেছে। আমি যে জায়ান ভাইকে ছোট থেকে পছন্দ করি সেটা এই তিনজনই জানে। তাই আমাকে খুঁচাতে একটা সুযোগও হাত ছাড়া করে না। কবিতা আপু আমার দু বছরের সিনিয়র, এবার অনার্স ফাস্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে। তবুও আমরা এতটা ক্লোজ, যে কেউ দেখে বলবে সমবয়সী। কবিতা আপু এগিয়ে এসে আমার কাঁধে হাত রেখে মজা করে বললো,
–“কিরে জান্নু ভাইয়া তো এলো বলে,ফিলিংস কেমন?”
আমি একটা ঢুক গিলে, হাতের নখ কামড়াতে কামড়াতে বললাম– প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠার পর যেমন থাকে আরকি,,,
আমার কথা শুনে তিনজনই একসাথে বলে উঠলো – আজকেও!!!!
আমি আর এখানে দাঁড়ালাম না ।এক দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লাম। এখানে দাঁড়িয়ে থাকলেই আমাকে নিয়ে মজা নিবে। কারণ আমি যে আজও স্বপ্নে জায়ান ভাইয়ের সাথে বাসর করেছি সেটা ওরা এতক্ষণে বুঝে ফেলেছে। শুধু বাসরই নয় স্বপ্নে আমাদের একটা মেয়ে বাবুও হয়েছে। আমার ছোট্ট হৃদয়ে যবে থেকে জায়ান ভাই নামক মানুষ টা গেঁথে গেছে, তবে থেকেই তাকে নিয়ে রাতদিন জেগে স্বপ্ন দেখে যাচ্ছি। বয়সের সাথে সাথে তাকে নিয়ে স্বপ্নগুলো আরও গভীর থেকে গভীর হতে থাকে।
ষোল পেড়িয়ে এখন আমি সপ্তদশে পা দিয়েছি। কিছুদিন আগে আমার এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট এসেছে, আমি আর্টস থেকে এ প্লাস পেয়েছি। আমার রেজাল্টের খুশিতে সেদিন সকলে আমাকে অনেক উপহার দিয়েছে। কিন্তু জায়ান ভাইয়ের থেকে উপহার তো দূর একটা উইশও পাইনি। জায়ান ভাই মানে আমার বড় আব্বুর বড় ছেলে জায়ান শেখ নীরব। তিনি পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। গত দশ বছর যাবত ফ্রান্সের প্যারিসে আছেন। সেখানেই স্টাডি কমপ্লিট করে উনার কাজের পাশাপাশি আমাদের শেখ বাড়ির বড় বিজনেসের তদারকি করে যাচ্ছেন।
সেদিন রাতে আমি না খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আমার ছোট্ট হৃদয়ে জমা হয়েছিল এক আকাশ পরিমাণ অভিমান। জায়ান ভাই দেশ ছাড়ার পর তেমন একটা কথা হয়নি আমার সাথে। শুধু আমার সাথেই না, এই বাড়ির সকলের সাথেই যোগাযোগ কমিয়ে দেয়। তারপরও সবার সাথে যতটুকু কথা হয় তার এক ভাগও আমার সাথে হয় নি। হঠাৎ হঠাৎ কথা হয় তাও আবার আমি সালাম দিলে উত্তর দেয় আর কেমন আছিস এটুকু জিজ্ঞেস করে। সেইদিন এসব ভেবে কেঁদেকুটে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আর যখন ঘুম থেকে উঠি তখনই চোখ কপালে উঠে যাওয়ার উপক্রম হয়। আমার বেডের উপর থেকে শুরু করে ফ্লোরে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ছোট বড় গিফটের বক্স। আমি আনন্দে চিৎকার করে উঠলাম। তখনই আবার চোখ পড়ে মাথার সাইটে একটা মেরুন শেডের গিটার দেখে। আমার কত শখ ছিলো একটা গিটার কিনার।কতবার সবাইকে বলেছি একটা গিটার কিনে দাও, একটা গিটার কিনে দাও। কিন্তু কেউ দেয় নি। বলেছে,
–“জাহান আম্মু এসব নিয়ে পড়ে থাকলে পড়াশোনা হবে না মা। আর তুমি তো বাজাতেও পার না। এখন গিটার কিনে কি করবে? এসএসসি পরীক্ষা দাও ভালো রেজাল্ট করলে কিনে দিবো।”
আমি আমার আরেক পাশে থাকা একটি গিফট বক্স ঝটপট খুলতেই মুখ হা হয়ে যায়। কিছু দিন আগে আইফোন ফরটিন প্রোম্যাক্স লঞ্চ হয়েছে। এদিকে আমার পার্সোনাল বলতে কোনো ফোনই ছিলো না, বর্তমানে আইফোন ফোরটিন প্রম্যাক্স আমার হাতে।সেদিন তো আমি খুশিতে আত্মহারাই হয়ে পড়েছিলাম। আর তারপর ফোনে কিস করতে করতে কতবার যে বলেছি,
–“জায়ান ভাই ভালোবাসি, আপনাকে খুব খুব খুব ভালোবাসি।”
শেখ বাড়িতে হৈ-হুল্লোড় পড়ে গেছে। বড় আব্বু, আমার আব্বু আর জিতু ভাইয়া, জায়ান ভাইকে আনতে গেছে। বড় আম্মু হেনা বেগম আর আম্মু হালিমা বেগম হাতে হাতে রান্নাঘরের কাজ সারছেন।এই বাড়ির প্রথম সন্তান জায়ান ভাই। এতদিন পর বাড়িতে আসছে তাই বাড়িতে খুশির সীমা নেই। কবিতা আপু আর জুই ড্রয়িং রুমে বসে আছে তাদের অপেক্ষায়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই শেখ বাড়ির মূল ফটকের সামনে এসে থামলো পর পর তিনটে গাড়ি। প্রথম দুটো থেকে বেড়িয়ে আসে আব্বু, বড় আব্বু আর জিতু ভাই। ওরা গাড়ি থেকে নামতেই বেড়িয়ে আসে সুট কোট পরহিত ডেসিং লুকে জায়ান ভাই। উনার মায়াবী চোখ দুটো রৌদ চশমার আড়ালে ঢাকা। কানে ইয়ারপড গুঁজা। তিনি কারো সাথে কথা বলতে বলতে গাড়ি থেকে নেমেছেন। তারপর হাত ঘড়িটায় একবার চোখ বুলিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলো। জায়ান ভাই ভেতরে আসতেই বড় আম্মু আর আম্মু কান্নায় ভেঙে পড়লো। এক এক করে জায়ান ভাই সকলের সাথে ভালোমন্দ কথা বলল। কথা বলার ফাঁকে একবার পুরো ড্রয়িং রুম আরেকবার দোতলায় দৃষ্টিও ঘুরাল। জিয়াদ উনার সাথে কথা বলে ছুটলো দোতলার দিকে।
আমি আয়নার সামনে দাড়িয়ে শেষ বারের মতো নিজেকে দেখে নিলাম। আজ আমি জায়ান ভাইয়ের দেওয়া গিফট থেকে একটা পার্পল কালার গাউন পড়েছি। এই রংটা মানুষটার খুব পছন্দের। হাতে কয়েকটা একই কালার রেশমি কাচের চুড়িও পড়লাম। হঠাৎ কপালের দিকে নজর পড়তেই ঝটপট একটা ছোট্ট টিপ পড়ে নিলাম। এবার আমাকে একেবারে পার্ফেক্ট লাগছে। নিচে অনেক চেঁচামেচি হচ্ছে বোধহয় জায়ান ভাই চলে এসেছে। তক্ষুনি আমার রুমে দৌড়ে আসে জিয়াদ।
–“আরে জাহানাপু ঐদিকে ভাইয়া কখন চলে এসেছে আর তুমি এখনো রুমে?”
আমি জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললাম– “উনি চলে এসেছে হ্যা?”
আমার কথায় বেশ বিরক্ত হয়ে জিয়াদ বলল– “তাহলে কি আমি মিথ্যা কথা বলছি?”
আমার কি পরিমাণ অস্বস্তি হচ্ছে বলে বুঝানোর মতো না। ভাবতেই লজ্জা লাগছে লোকটার সামনে কিভাবে গিয়ে দাঁড়াবো। তবুও নিজেকে কিছুটা শান্ত করে বললাম,
–“আমাকে কেমন লাগছে রে?”
–“ঐটা তোমার জামাই কে গিয়ে জিজ্ঞেস করো।”
জিয়াদ আমাকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো। রুমের বাইরে বের হতেই দেখি জুই কোমরে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই সে বললো,
–“জাহানপু সবাই কথা বলে ফেলেছে আর তুমি এখনো এখানে?”
আমি আর এক মূহুর্ত দেরি করলাম না। এক ছুটে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে অবশেষে মুখ থুবড়ে পড়লাম। সাথে সাথে সকলের দৃষ্টি আমার দিকে ঘুরে যায়। কবিতা আপু আমাকে টেনে দাঁড় করায়। সকলের সামনে পড়ে গিয়ে লজ্জায় মরি মরি অবস্থা। তবুও এক চোখ বন্ধ করে আরেক চোখ খুলে সোফার দিকে তাকাতেই লোকটার সাথে চোখাচোখি। কিভাবে কপাল কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি আর দাঁড়ালাম না চোখ বন্ধ করে রান্না ঘরের দিকে ছুটলাম।
আম্মু শরবত বানাচ্ছে আর বড় আম্মু রান্না করছে।আমি ভোঁতা মুখ করে কিচেন কাউন্টারের উপর বসে রইলাম। আমার সামনে কোমরে হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে কবিতা আপু,জিয়াদ আর জুই। জুই আমাকে ব্যাঙ্গ করে বললো,
–“ছি ছি ছি, এমন একটা দবলি মাইয়া এভাবে সবার সামনে পড়লো।যা বুঝলাম, তোমার দ্বারা প্রেমটেম হবে না।”
জিয়াদ কপাল চাপড়ে বললো,
–“ঠিকই বলেছিস জুই। এই দবলি স্বপ্নেই বাসার করুক। বাস্তবে এর দ্বারা কিছুই সম্ভব না।”
আমাদের কখন থেকে ফিসফিস করে কথা বলতে দেখে আম্মু গলা ছেড়ে বললো,
–“কিরে তোরা এখানে কি করছিস হ্যা? বাইরে গিয়ে ভাইয়ের সাথে ভালোমন্দ গল্প কর গিয়ে যা।”
কবিতা আপু আম্মু কে শরবত বানাতে দেখে হাতে থুড়ি বাজিয়ে বলে উঠলো,
–“আইডিয়া,,,,,”
আমরা তিনজন একসাথে বলে উঠলাম– “কি কি?”
কবিতা আপু আমাকে শিখিয়ে দিতে দিতে বললো– “তুই শরবত নিয়ে যাবি। নিজের হাতে ভাইয়ার হাতে একটা গ্লাস তুলে দিতে দিতে কনভারসেশন স্টার্ট করবি ওকে। আর একদমই হেংলামি করবি না। অলওয়েজ স্মার্ট হয়ে চলাফেরা আর কথাবার্তা বলবি।”
আমি খুশিতে গদগদ করতে করতে জোরে একটা শ্বাস ফেলে শরবতের ট্রে নিয়ে ড্রয়িং রুমের দিকে এগিয়ে গেলাম। পেছন থেকে উঁকি দিয়ে আছে কবিতা আপু, জিয়াদ আর জুই। আমি স্মার্টলি হেঁটে সকলের সামনে দাঁড়াতেই আব্বু আর বড় আব্বু হেঁসে দিলো। জায়ান ভাইয়া এখনো ফোনের দিকে তাকিয়ে, একবারো আমার দিকে তাকালো না। উনার এটেনশন না পেয়ে মনটা একটু খারাপ হয়ে গেলো। তখনই বড় আব্বুর গলা কানে আসে,
–“আরে জাহান মা এসো এসো এখানে রাখ এখানে। তুমি নিয়ে আসতে গেলে কেনো আম্মু? যদি নিয়ে পড়ে যেতে তাহলে তো ব্যথা পেতে।”
–“না বড় আব্বু আমি পড়বো না।”
আমি লাজুক হেসে কথাটা বলে টি-টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলাম। তারপর আড় চোখ আবার জায়ান ভাই কে দেখে নিলাম। অতঃপর ঝুঁকে টি-টেবিলে ট্রেটা রাখতেই আচমকা অনেক শব্দ করে ‘পুত’ আওয়াজ হলো। তৎক্ষনাৎ আমি ঠোঁট কামরে চোখ খিঁচকে বন্ধ করে নিলাম। এদিকে কিচেন থেকে উঁকি দেওয়া তিন শয়তান কপাল চাপড়ে আপসোসের আওয়াজ বের করে একে অপরকে বলছে,
–“ছ্যা ছ্যা ছ্যা, ইজ্জত আর রইলো না।”
আব্বু আর বড় আব্বু এদিকে এক বারও তাকিয়ে দেখলো না। বরং নর্মালি একে অপরের সাথে আলাপ করছে। জিতু ভাইয়া আমাকে একবার আড় চোখে দেখে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মাথা চুলকে ফোনে মনযোগ দিলো। এদিকে আমার পাদের শব্দ শুনে এক মূহুর্তের জন্য ফোনে টাইপিং করা হাতটা থমকে গেলো জায়ান ভাইয়ের। উনি একবারও ফোন থেকে দৃষ্টি সরালো না। বরং পরক্ষণেই স্বাভাবিক ভাবে আগের মতোই ফোনে টাইপিং করতে লাগল। জনসম্মুখের সামনে পাদ মেরে আমর শরীর অবশ হয়ে গেছে। লজ্জায় মাটির নিচে ঢুকে পড়তে ইচ্ছে করছে। সামনে ক্রাশ বসে থাকায় কাঁদতেও পারছি না। এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জায়ান ভাই নিজের হাতের ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে শরবতের একটা গ্লাস তুলে নিতে হাত বাড়ালো। এদিকে আমি আর কোনোদিকে না তাকিয়ে উল্টো ভাবে সিঁড়ি দিয়ে ছুটলাম দোতলার দিকে। আমাকে এমন পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে দেখে উনার বাড়ানো হাতটা থমকে গেলো। তিনি ঠোঁট কামড়ে সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি আর সেসব দেখলম না। শুধু কানে আসলো জিতু ভাইয়ার হাঁক,
–“বনু এভাবে দৌড়াস না পড়ে ব্যথা পাবি।”
বিছানায় উপুড় হয়ে পড়ে বাচ্চাদের মতো কেঁদে ভাসাচ্ছি। ফলে সব সাজ নষ্ট হয়ে গেছে। চোখের কাজল লেপ্টে চোখের অবস্থা অসূচনীয়। বিছানার তিন কোনায় বসে আছে তিন শয়তান। সেই তখন থেকে আমাকে কথা শুনাচ্ছে। কবিতা আপু আপসোস করে বলছে,
–“জান্নুরে এটা তুই কি করলি বোইন? ভাইয়ার সাথে হায় হ্যালো করার আগেই পেদে দিলি?”
জুই কপাল চাপড়ে বলতে লাগলো,
–“ছি ছি ছি তোর লজ্জা করলো না একবার সবার সামনে পাদু দিতে। ভাবতেই লজ্জা হচ্ছে তুই আমার বড় বোন।”
জিয়াদ জরে জোরে শ্বাস ফেলে– বুকে থাপড়াতে থাপড়াতে কবিতার সুরে বলতে লাগলো,
“,,,,ভাইয়া এসেছে বিদেশ থেকে
জাহান আপু সেজেছে ভূত
সবার সামনে চা দিতে গিয়ে
পেদে দিয়েছে পুতপুত,,,,,”
জিয়াদের এসব কবিতা শুনে আমি চেতে উঠলাম। তৎক্ষনাৎ একটা বালিশ ছুড়ে মারলাম ওর দিকে। তারপর আমিও ওকে খ্যাপাতে ওর মতো কবিতার সুরে বললাম,
“,,,,,চিগা চিকচিক করে
চিগা হাফপ্যান্ট পড়ে
চিগার বউ নেই,
চিগা বি*ষ খেয়ে ম’রে,,,,,”
মুহূর্তে জিয়াদ খ্যাপে উঠলো। বর্তমানে ও একটা হাঁটু পর্যন্ত হাফপ্যান্ট আরেকটা গেঞ্জি পড়ে আছে। এই কবিতাটায় একমাত্র অস্ত্র ওকে খ্যাপিয়ে তুলার। জিয়াদ রাগে গদগদ করতে করতে চেচিয়ে উঠলো,
–“লজ্জা করে না তোমার, বাড়ি ভর্তি মানুষের সামনে পাদ মেরে এখন আমার বউ নিয়ে কথা বলতে?”
আমিও রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললাম– “না করে না।একটুও করে না, লজ্জা ঘেন্না ভয় তিন থাকতে নয়।আর এই তিনটায় আমার মধ্যে নেই।”
এভাবেই কথা কাটাকাটি থেকে জিয়াদের সাথে মা’রামারি শুরু করে দিলাম। তখন কবিতা আপু চেঁচিয়ে উঠলো,
–“অসভ্যের দল থাম বলছি। এখন এসব না করে কিভাবে ভাইয়াকে পটাবি সেই প্ল্যান কর।”
কবিতা আপুর কথা শুনে আমরা থামলাম। অতঃপর সকলে মিলে একটা বৈঠক করলাম কিভাবে জায়ান ভাইকে ইমপ্রেস করা যায়।
আমি কিছুক্ষণ আগে যে সর্বনাশ করে আসলাম নিচে– তাই এখন আর নিচে যাওয়ার মুখ নেই। সেজন্য দোতলা থেকে লুকিয়ে জায়ান ভাই কে দেখতে লাগলাম। ইসস লোকটা এতটা মায়াবী চেহারার অধিকারী কেন? যে একবার দেখবে সেই পা পিছলে উনার প্রেমে পড়বে। বয়স আর কত ২৮ কি ২৯। শ্যামলা গায়ের রং তবুও এতটা আকর্ষণীয় যে আমি চোখ ফিরাতেই পারছি না। লোকটা কি সুন্দর করে আপেলের টুকরো তে ছোট্ট ছোট্ট কামড় দিচ্ছে। তারপর কি সুইটলি সেটা চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে। কখনো ঠোঁট দিয়ে জিহ্বা ভিজিয়ে দিচ্ছে তো কখনো জিহ্বার ডগা দিয়ে গাল ঠেলছে। সাথে সকলের সাথে টুকটাক কথা বলছে। আমি বেহায়ার মতো সেই থেকে বড়বড় চোখ করে উনাকে গিলে খাচ্ছি। সাথে ঢুক গিলছি বারবার। আমি মুগ্ধ নয়নে উনার দিকে তাকিয়ে থেকে দুগালে দু’হাত ধরে গুনগুন করে গান গাইতে লাগলাম,
“_____দেখলে হাসে না,স্বপ্নে ভাসে না,
নাম ধরে যে তার, ডাকলে আসে না,
,,,,,,কি করে পড়েছি যে দোটানায়,,,,,,
হায় আল্লাহ! হায় আল্লাহ! করবো কি যে হায়
এ ছেলের মনটা চুরি করবো কি উপায়____”
হঠাৎই উনার চেহারা আরও গম্ভীর হয়ে উঠলো। কপালে কয়েকটি সুক্ষ্ম ভাজের সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করেছি আমাকে কেউ দেখেনি। কিন্তু জায়ান ভাই প্রথমেই আমাকে দোতলার রেলিঙের পেছনে দেখে নিয়েছে। আমি এভাবে ডেবডেব করে তাকিয়ে থাকায় উনি বেশ বিরক্ত। তিনি আপেলের টুকরোতে আরেকটা কামড় দিয়ে বিরবির করে বললো,
–“ইডিয়ট!”
জিতু ভাইয়া উনার দিকে তাকিয়ে বললো– “কিছু বলছ ভাইয়া?”
জায়ান ভাই টিস্যু দিয়ে হাত মুচতে মুচতে বললেন,
–“নাথিং,,,”
তারপরই উনি উঠে দাঁড়িয়ে সকলের উদ্দেশ্য বললেন,
–“আই থিংক আই নিড এ রেস্ট।”
সকলেই সম্মতি জানাতেই উনার রুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়ান। এদিকে উনাকে উঠে যেতে দেখেই আমি তাড়াতাড়ি সেখান থেকে প্রস্থান নেওয়ার জন্য পিছনে ফিরতেই জিয়াদের সাথে ধাক্কা লাগে। আচমকা ধাক্কায় তাল সামলাতে না পেরে জিয়াদ একদিকে ফ্লোরে পড়ে যায় অন্যদিকে আমি রেলিঙের সাথে ঠেসে পড়তে পড়তে চিৎকার দিয়ে উঠলাম,
–“বাঁচাওওওওও..”
মূহুর্তেই সকলে স্তব্ধ হয়ে গেছে। জায়ান ভাই সবে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াবেন তখনই আমার চিৎকার শুনে পা ঐখানেই থেমে যায়। তরাগ গতিতে রেলিঙের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো আমি দু’হাত এলোমেলো ভাবে ঝাপটিয়ে নিচে পড়ার হাত থেকে বাঁচতে চটপট করছি। আমাকে এই অবস্থায় দেখে সকলে বাকহারা হয়ে পড়েছে। জায়ান ভাই চিৎকার করে উঠলেন,
–“জারাআআআআ..”
মূহুর্তেই তাল সামলাতে না পেরে রেলিং থেকে উল্টো হয়ে পড়ি। পড়তে পড়তে নিজের গলার সর্বোচ্চ জোর দিয়ে চিৎকার করতে থাকি। আমি নিচে পড়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকলাম। মনে হচ্ছে আজকেই আমার শেষ দিন। জায়ান ভাইকে আর কখনো বলা হবে না আমার মনের কথা। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ পেরিয়ে গেলেও শরীরে একটু ব্যথা অনুভব করতে না পেরে আস্তে আস্তে চোখ খুলে তাকালাম। সাথে সাথেই চোখ কপালে উঠে গেলো। আমি নিচে পড়ার আগেই জায়ান ভাই আমাকে ক্যাচ ধরে ফেলেছে। বর্তমানে আমি উনার কোলের মধ্যে। জায়ান ভাই জোরে জোরে শ্বাস ফেলতে ফেলতে উত্তেজিত হয়ে উন্মাদের মতো বলতে লাগলেন,
–“জারা তুই ঠিক আছিস পাখি, তোর লাগে নি তো?”
___❝হুম সেদিন, সেদিনই আমার প্রণয়নের প্রথম পুরুষটাকে এতটা কাছ থেকে দেখেছিলাম। তার কোমল স্পর্শে শিহরণ অনুভব করেছিলাম। তার অনিয়ন্ত্রিত হৃৎস্পন্দন আমার হৃদয়ে প্রণয়নের উতালপাতাল ঢেউ তুলেছিলো। ঠিক সেই মূহুর্ত থেকেই শুরু হয়েছিলো আমাদের প্রণয়াসক্তি….❞_____
পিচ ঢালা রাস্তার উপর দিয়ে ঢাকা টু কেরানীগঞ্জ যাত্রীবাহী বাসটি নিজ গতিতে চলছে। সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে। আমি জানালার পাশের সিটে বসে আছি। জানালার উপর মাথা রেখে, ফেলে আসা দিনগুলো কল্পনা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি সে খেয়াল নেই। বাতাসে আমার বাবরি চুল গুলো মুখের উপর দোল খাচ্ছে। হঠাৎ ই বাসের ভিতর অত্যাধিক মাত্রায় চেঁচামেচির আওয়াজ শুনে পিটপিট করে চোখ খোলে তাকালাম। মুখের উপর আঁচড়ে পড়া চুলগুলো সরাতে সরাতে কানে আসে একটা মহিলার কন্ঠ,
–“ডাইনির ঘরে ডাইনি, তলার জ্বালা মিটাতে জাগা পাস নাই। তাই আমার বেডার কাছে আইছস। অক্কবারে না পারা মাইরা তরে চেটকাই ফেলবাম। ব*জ্জাত মেয়ে ছেলে তর কাপড় দেইখাই তো বুঝা যাচ্ছে তর পারিবারিক শিক্ষা।”
আমি সেদিকে তাকিয়ে দেখি গাড়ির হেল্পার দাঁড়িয়ে– মহিলাটাকে শান্ত করতে চাইছে,
–“আন্টি দয়া করে এভাবে চেঁচামেচি করবেন না। এখানে অনেক প্যাসেঞ্জার আছে। তাদের অসুবিধা হচ্ছে।”
মহিলা টা চেতে উঠলো ছেলেটার উপর,
–“এই চেংরা এইসব লেংটা মাইয়াকে বাসে তুলে আমার ভুলাভালা জামাইয়ের টাকা মারার ধান্দা করছ। তোমাদেরকে ভালো করেই চিনি।”
মহিলার কথায় ছেলেটাও চেতে উঠলো– “এই যে আন্টি শুনেন, আপনি বয়সে বড় বলে সম্মান দিয়ে কথা বলছি। তার মানে এই না আপনি যা খুশি তাই বলবেন। আর এই আপুটা আপনার সাথে কি করেছে?”
মহিলাটা নিজের হিজাপের মাথাটা পিছন দিকে ঠেলে মুখ খুলতে যাবে তখনই একটা মেয়ের নেকামি কন্ঠ কানে আসে,
–“হেই হটি বয়, ডোন্ট কল মি আপু। আ’ম নোহা ওকে।”
বাকি লোকদের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা নোহাকে দেখে আমার চোখ কপালে উঠার উপক্রম হয়েছে। এই মেয়ে এখানে কি করছে?
সূর্য প্রায় ডুবে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্ধ্যা নামবে।আমি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। কিছুটা গেলেই শেখ বাড়ি পৌঁছে যাব। আমার পিছন পিছন বকবক করে করে আসছে নোহা। আমি তিনটার দিকে চৌধুরী বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসেছি। তখন ইফানও বাসায় ছিলো না। তাই আমাকে বাঁধা দেওয়ারও কেউ ছিলো না। এদিকে কখন যে নোহা আমার পিছু পিছু চলে এসেছে বুঝতেই পারি নি। ও জীবনে কখনো বাসে উঠে নি। তখন বাসের টিকেট না কেটে উঠে পড়েছিলো। তাই একটা মধ্যে বয়সী লোকের সাথে চেপে বসে পড়েছিলো। লোকটার পাশে লোকটার বউ মানে ঐ মহিলাটা ঘুমাচ্ছিলো। এদিকে ঘুম থেকে উঠে নিজের স্বামীর সাথে নোহাকে ঘষে বসে থাকতে দেখে আচ্ছা করে চেপে ধরেছিলো। তখন আমি না থাকলে আজ এই মেয়ে গণ ধুলাই খেতো।
–“আচ্ছা প্রিটি গার্ল তোমার হেন্ডু ভাইয়াটা কি এখন বাসায় আছে?”
আমি কোনো উত্তর করলাম না। নোহার আমার সাথে আসার আসল মতলবই হচ্ছে জিতু ভাইয়ার সাথে দেখা করা। সেই তখন থেকে ভাইয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। নোহা আমার থেকে উত্তর না পেয়ে আবার বকবক করতে লাগলো। হঠাৎই নোহা চেঁচিয়ে উঠলো। আমি পিছন ফিরে তাকাতেই দেখি পায়ে ধরে বসে আছে। মেয়েটার পড়নে একটা গেঞ্জি আর জিন্সের হাফপ্যান্ট। ব্রাউন কালার পিঠে পড়া চুলগুলো জুটি করা। পিঠে একটা পুতুলের পিংক কালার মিনি ব্যাগ। আমি তপ্ত শ্বাস ছেড়ে ওকে টেনে তুললাম। হাই হিল পড়ে আমার সাথে হাঁটায় তাল মিলাতে গিয়ে পায়ে মোচড় খেয়েছে। নোহা মুখ কাঁদু কাঁদু করে বললো,
–“আর কতদূর তোমাদের বাসা?”
আমি ওকে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে যেতে চিবিয়ে চিবিয়ে উত্তর দিলাম,
–“আমি কি তোমায় ইনভাইট করে এনেছিলাম, এখন চুপচাপ আমার সাথে সাথে এসো। বেশি কেচর কেচর করলে এখানেই ফেলে চলে যাবো।”
চেয়ারের সাথে হাত-পা, মুখ বেঁধে রাখা হয়েছে মুক্তার। তার পাশের আরেক টা চেয়ারে একই ভাবে বাঁধা হাসান। দুজনের শরীরেরই এক সুতা পরিমাণ বস্র নেই। তাদের নগ্ন দেহে দৃশ্যমান শতশত ক্ষত চিহ্ন। সেখান থেকে চুইয়ে চুইয়ে র”ক্ত বের হচ্ছে। আজ সারাদিন ওদের উপর অমানবিক নি*র্যা”তন চালানো হয়েছে। মুক্তার মাথা নেড়া করে ফেলা হয়েছে সেখান থেকে র”ক্ত ঝরছে। যো”নিপথ দিয়ে রড ঢুকানো হয়েছে। সেখান থেকেও র*ক্তের ধারা বইছে। হাসানের লি*ঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে। অসহ্য য”ন্ত্রণায় দুজনেই কাতরাচ্ছে। ওদের পেছনে আগুনের শিখার উপর বসানো দু’টো বিশাল আকারের কড়াই। সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় পানি ফুটছে। আর সেই আগুনের শিখা দিয়েই সারা গোডাউন হলদে আভায় আলোকিত। ফুটন্ত পানির শব্দের সাথে মুক্তা আর হাসানের গো”ঙ্গানির আওয়াজ মিশে চার দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
ওদের সামনে চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে ইফান। তার দুপাশে লোড করা রিভলবার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইনান আর মাহিন। ইফান সিগারেটে আরেকটা টান দিয়ে মুখ ভর্তি ধোঁয়া কুন্ডলী ছাড়লো। অতঃপর অবশিষ্ট সিগারেটের শলাকা টা মুক্তার উপর ছুঁড়ে মা’রলো। মূহুর্তেই মুক্তা আরও গুঙ্গাতে শুরু করলো। ইফান গা ছাড়া ভাব নিয়ে ইনানের উদ্দেশ্য থেমে থেমে বললো,
–“ও মাই গড!”
ভাবতে পারছিস ইন্দুর কত বড় বাই*নচো*দ হলে আমার সো”নায় হাত মারে।
এটুকু বলে ইফান ঘারে হাত বুলাতে বুলাতে মুক্তাকে উপর থেকে নিচ একবার পরক করে ঠোঁট কামড়ে বললো,
–“নাহ্ ওর সা”উয়াটা তো একবার মেপে দেখতেই হচ্ছে।”
তক্ষুনি ইফানের পাশ থেকে ইনান বলে উঠলো– জি ভাই মাপা হয়ে গেছে ১৫ সেন্টিমিটার।
–“ছ্যাহ্ পচা নর্দমা!”
এটা বলেই ইফান মুক্তার উপর থুতু মারলো। মুক্তা শরীরের যন্ত্রণায় চটপট করছে। ইফান বিরক্তি নিয়ে ইনানকে ইশারা করলো মুখের টেপ খুলে দিতে। ইনান তাই করলো। মুখ থেকে টেপ সরাতেই মুক্তা রুম কাঁপিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো। হাসান হাঁপাতে হাঁপাতে অনেক কষ্ট করে উচ্চারণ করলো,
–“দেখ ইফান আমাদের ছেড়ে দে। না হলে কিন্তু তর আসল পরিচয় CID র কাছে পৌঁছে যাবে,,,,,”
হাসানের কথা শুনে ইফান সহ উপস্থিত মাহিন, ইনান আর গার্ডরা উচ্চ স্বরে হেসে দিলো। ইফান দু পায়ের মাঝে ফাঁক করে ঝুঁকে বসলো। অতঃপর ক্রর হেসে বললো,
–“CID তো তর মতো বোকা*চো*দা না, যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল এন্ড টেরোরিস্ট গ্যাং ব্ল্যাক ভে-নম এর লিডার গ্যাংস্টার ইফান চৌধুরীর হাতে মা”রা খেতে আসবে।”
তক্ষুনি মুক্তা কাঁদতে কাঁদতে ইফানের কাছে মিনতি করে বলে,
–“তোমার পায়ে পড়ি ইফান আমাকে ছেড়ে দাও। তুমি আমার সাথে এমন করতে পার না। ভুলে গেছ কিভাবে জাহানারা কে আমার সাহায্যে তুমি পেয়ে?”
বাকি কথা শেষ করতে পারলো না মুক্তা, তার আগেই ইফানের লাথি পড়ে মুক্তার মুখে। চেয়ার সহ মুক্তা উল্টো পড়ে। ইফান ওর ওপর ঝুঁকে চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
জাহানারা পর্ব ৩১
–“তোর মতো মা”গীর মুখে আমার বুলবুলির নাম আরেক বার উচ্চারিত হলে জিহ্ব টেনে ছি*ড়ে ফেলবো। শা’লি আমার বা’লের আলাপ চু”দাও?
ভুলে গেছিস টাকার উপর টাকা ফেলেছি তর মতো সা”উয়ার উপর। আর বিনিময়ে শর্ত দিয়েছিলাম ওকে আমার মুখোমুখি দাঁড় করাবার। আর সেই হিসাব আগেই শেষ।”
