Home ডাকপ্রিয়র চিঠি ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৪৯

ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৪৯

ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৪৯
রিক্তা ইসলাম মায়া

সৈয়দ বাড়িতে বিয়ের আমেজ পড়েছে। আফিয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছে রবিউল শাহর বন্ধুর বউয়ের ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে। ছেলে ইঞ্জিনিয়ার। পরিবারসহ সবাই আমেরিকান সিটিজেন। বিয়ের পর আফিয়াকেও আমেরিকায় নিয়ে যাবে। বিয়ের ডেট ফিক্সড করা হয়েছে খুব অল্প সময় হাতে নিয়ে। মাত্র এক সপ্তাহ হাতে। আজ বৃহস্পতিবার, সামনের বৃহস্পতিবার আফিয়ার গায়ে হলুদ, শুক্রবার বিয়ে। সৈয়দ বাড়িতে ছোট বড় বাচ্চা কাচ্চা সবাই হৈচৈ করছে। বাড়ির ছাদে মাদুর বিছিয়ে সেখানে চাদর দিয়েছে। হাবিজাবি নানান খাবার রাখা হচ্ছে চাদরের উপর গুছিয়ে, সবাই মিলে আড্ডা দেবে তাই। সুখ রাদ রাতুল সুফিয়া, তাপস, তামিম হাতে হাতে খাবারের প্লেট নিচ থেকে ছাদে নিয়ে উঠছে। আফিয়া চাদরের উপর বিছিয়ে রাখছে। রিফাত মারিদ রাদিলও ছাদে দাঁড়িয়ে কথা বলছে আর সবার হৈচৈ দেখছে। তনিমা কলেজ শেষ করে শাশুড়ির আদেশে সোজা সৈয়দ বাড়িতে এসেছে রিফাতের সঙ্গে। বাড়ির ছেলে মেয়েদের হৈচৈ, বাড়ির বড়রা আসবে না তাই সবাই সবার ঘরে বসে। হীরা চৌধুরী, শান্তা, সালমা, ফাতেমা, মুনিয়ার সঙ্গে বসার ঘরে বসে।

সৈয়দ শাহর শরীরটা আজকাল ভালো যাচ্ছে না। বেশ ভারী ভারী যাচ্ছে। উনার দিনকাল যাচ্ছে চিকিৎসা আর ওষুধের উপরে। দুপুরে তিনি আফিয়ার বিয়ের তারিখ করার সময় গুরুজন হিসেবে দুই পরিবারের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, মেহমান বিদায়ের পরপরই তিনি নিজের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়েছেন তারপর আর বের হননি।
নূরজাহানের সঙ্গে মারিদের বিয়ে হয়েছে প্রায় তিন মাস হতে চলল। নূরজাহান শ্বশুরবাড়িতে এসেছে আজ দু মাস বারো দিন। যথাসম্ভব নূরজাহান শ্বশুরবাড়ির সকলের মন জুগিয়ে চলার চেষ্টা করে কিন্তু মাঝেমধ্যে তা বিফল হয়। প্রায়শই সালমা ফাতেমার অসন্তুষ্টি দেখা যায় নূরজাহানকে নিয়ে। যদিও ওনারা কেউ মারিদের জন্য বেশ একটা বলতে পারেন না। মানুষ বলে না, যে নারীর স্বামী শক্ত সেই নারীর সরদারি শশুর বাড়ির অন্য কেউ করতে পারে না কিন্তু যেই নারীর স্বামী দুর্বল সেই নারীর সরদারি সকলেই করে। নূরজাহানের ক্ষেত্রে অনেকটা তাই। সালমা ফাতেমা খারাপ মানুষ তাই নয়। বাংলাদেশের ৯৫% শাশুড়ি যেমন হয় সালমা ফাতেমাও তেমনই শাশুড়ী। কথা আছে মা যখন শাশুড়ি হয়, তখন এক চোখ কানা হয়। তাদের ক্ষেত্রেও তাই। নূরজাহানের হাতের রান্না ভালো সেজন্য নূরজাহানকেই প্রায়শই দেখা যায় রান্নাবান্নার কাজ করতে। যদিও কাজের মেয়ে রেণু রোজিনা সবসময় নূরজাহানের কাজে সাহায্যের জন্য থাকে তারপরও মূল রান্নাটা নূরজাহানই করে। ঘরে বউ আসার পর থেকে সালমা রান্নাঘরের ঘেঁষতে চাই না। বরং সবসময় সালমাকে বলতে শোনা যায়…

‘আমার বাবা জমিদার ছিলেন। আমি জমিদারের মেয়ে হয়েও এই বাড়িতে এসে কামলার মতো কাম করে এই সংসারের হাল ধরেছি। আমার শাশুড়ি অসুস্থ ছিল, নিজের পড়াশোনা ক্যারিয়ার ছেড়ে এই সংসারকে বেছে নিয়েছি। শ্বশুর শাশুড়ির সেবা যত্ন করেছি, ছোট ছোট দেবর ননদকে বড় করে তাদের বিয়ে দিয়েছি। এখন তুমি সংসারে নতুন এসেছ। আমার পর এই সংসারের দায়িত্ব তোমার। তোমাকেই সবার মন জুগিয়ে চলতে হবে। বড় বউয়ের দায়িত্ব বেশি।
যদি কখনো ভুলক্রমে সালমা রান্নাবান্নার কাজে সহযোগীতা করতে চাই তাহলে ফাতেমা বড় জা হয়ে বাধা দিয়ে বলে…
‘এখন ঘরে বউ এসেছে ভাবী, সাথে দুটো কাজের মানুষ আছে সাহায্য করতে তারপরও আপনি কেন এখন রান্নাঘরে আসেন? ছেড়ে দিন না ওদের হাতে সবকিছু। এত বছর আপনি সামলিয়েছেন, এখন দেখেন ছেলেবউ সবকিছু সামলাতে পারে কিনা।

নূরজাহান কখনো কোনো কথার উত্তর দেয় না। আর না মারিদের কাছে কখনো শাশুড়ির বিরুদ্ধে কথা তোলে। সে সংসারে অশান্তি চায় না বলে যথাসম্ভব সংসারে চলতে ফিরতে টুকটাক কথাবার্তা সবকিছু নিজের মধ্যে রাখে। সালমা ফাতেমা ওরা খারাপ মানুষ না। বউদের শাসনে রাখতে যেমন হওয়া দরকার তেমনই আচরণ করে মাঝেমধ্যে। নূরজাহানের সৎ মায়ের ঘর থেকে শ্বশুরবাড়ি শান্তির। এখানে কেউ নূরজাহানকে আঘাত কিংবা লাঞ্ছিত করে না। শাশুড়ি হিসেবে সালমা ফাতেমার অসন্তুষ্টি, শাসন এটা বাংলার সকল সংসারের মতোই। ঐতো সেদিন বংশ নিয়ে কথা উঠলে কথায় কথায় ফাতেমা বলে…
‘আমাদের মারিদের বউয়ের তো চাঁদ কপাল। কোনো প্রকার টাকাপয়সা ছাড়াই মেয়েকে মাগনা বিয়ে দিয়ে ফেলেছে মারিদের শ্বশুর তাও আমাদের মতোন এমন উচ্চ বংশের ঘরে। নয়তো গ্রামের মেম্বার হয়ে সাধারণ ক্ষেতখামারের কাজ করা নিচুস্তরের মানুষের এত সাধ্য হতো না মেয়েকে আমাদের মতোন বড় ঘরে বিয়ে দেওয়ার।

সরাসরি হাসানকে তুলে অপমান করায় নূরজাহান চুপ করে থাকতে পারল না। এই দুনিয়াতে একমাত্র হাসানই যে নূরজাহানকে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে সবসময় আগলে রেখেছে, ভালোবেসে। সেই বাবার অপমান নূরজাহান সহ্য করতে না পেরে উত্তর দিয়ে বলেছিল…
‘আমার বাবা গ্রামের সাধারণ মেম্বার হতে পারে কিন্তু লোভী না। আমার বাবার আত্মসম্মান আছে। আপনাদের বাবার ছেলের যৌতুক লাগবে বললেই হতো আমার বাবা সামর্থ্য অনুযায়ী দিতেন না হয় আপনাদেরকে যৌতুক।
নূরজাহানের জবাবে তিলমিলিয়ে ওঠে ফাতেমা। সালমাও থমকে গিয়ে নূরজাহানের মুখের দিকে তাকায়। বিয়ের এতদিনে কখনো নূরজাহানের মুখে টু শব্দ বের হয়নি অথচ আজ ফাতেমার সঙ্গে তর্ক করছে? মানুষ বলে ঘরের শাশুড়ীরাই ঘরের বউদের মুখ আনে। কথাটা কি আসলেই সত্যি? ফাতেমা তিলমিলিয়ে উঠে বলে…

‘দেখেছেন ভাবী দেখেছেন? আপনার নতুন বউ আসতে না আসতেই চাচী শাশুড়ির মুখে মুখে তর্ক করছে। কয়দিন পর এই বউ সামলাবেন কিভাবে? কথা শুনবে আপনার? বেয়াদব একটা।
বাড়ির বউরা যত চুপ থাকবে ততই সংসারে শান্তি বজায় থাকে। উত্তর দিলেই হবে অশান্তি আর বেয়াদব। সালমা ফাতেমার সঙ্গে বসে ছিলেন সোফায়। তিনি নূরজাহানকে স্পষ্ট ভাষায় জানান…
‘আমার সংসারে মুখে মুখে তর্ক করা যাবে না। তর্ক করলে যার যার বাপের বাড়িতে গিয়ে তর্ক করো। আমাদের বংশের নাম আছে। আমরা কোনো ক্ষেতখামারের গ্রামের মানুষ না, যে তুমি উশৃঙ্খল ব্যবহার করবে।

সেদিন নূরজাহানের চোখে পানি জমে। ঘরের ঝামেলার কথা কখনো নূরজাহান মারিদকে বলে না। মারিদ সকালে যায় রাতে ফিরে, সে জানে না ঘরে কি হয়। তবে মারিদের সামনে নূরজাহানকে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। মারিদ নূরজাহানের হয়ে কড়া কথা শুনিয়ে দেয় সবাইকে, এমন কি মাকেও ছাড়ে না উত্তর দিতে। এতে মা ছেলের মধ্যে অশান্তি হয়। সালমা নূরজাহানকে দায়ী করে সবকিছুর জন্য। সেজন্যই মূলত নূরজাহান শাশুড়ীর কথা স্বামীকে বলে না। তবে মারিদের অনুপস্থিতিতে ফাতেমা সালমা এটা সেটা বললেও মুনিয়া এসবে চুপ থেকে এড়িয়ে যায়। সে সবসময় নিউট্রাল থাকে। কারও পক্ষে হয়ে কিছু বলে না। নূরজাহানের হয়ে ফাতেমা সালমার বিপক্ষে কথা বলে না আবার ফাতেমা সালমার পক্ষ নিয়ে নূরজাহানের বিরুদ্ধে কথা বলে না। সে দুই পক্ষেই ভালো থাকার চেষ্টা করে। মুনিয়া সারাদিন কলেজ শেষ করে বিকেলে বাসায় ফিরে তাই মুনিয়াকে সংসারের ঝামেলায় বেশ একটা পাওয়া যায় না। তবে আজ মুনিয়া বাড়িতে সবাই উপস্থিত। রবিউল শাহ ট্রেনিং শেষ করে বাড়ি ফিরেছেন দু সপ্তাহ হলো। মারিদের বউকে দেখে গলার স্বর্ণের হার উপহার দিয়েছিলেন তিনি। এই সৈয়দ বাড়িতে সবচেয়ে বেশি রাগী মানুষ দুটো হচ্ছে মারিদ আর রবিউল শাহ। রবিউল শাহকে মাহমুদ মকবুল দুজনেই খুব মানে। রবিউল শাহ পরিবারে কিছু বললে সেটা কেউ অমান্য করে না এমনকি মারিদও না। বাবার পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করতে আফিয়াও কোনো অমত প্রকাশ করেনি বরং এক কথায় রাজি হয়ে গেছে।

এখন সন্ধ্যা সাতটা। রবিউল খালেদ মাহমুদ মকবুল চারজনে একত্রে বেরিয়েছেন কোনো কাজে। নূরজাহান রান্নাঘরে সবার জন্য চা বানিয়ে চায়ের ফ্লাক্সে ভরে রাখছে। এটা ছাদে নিয়ে যাবে। শাশুড়িদের অলরেডি চা দেওয়া হয়েছে। তারা চা খেতে খেতে বসার ঘরে কথা বলছেন। তনিমা পাকোরা ভেজে থালায় তুলে রাখছে। রেণু রোজিনা ফল মিষ্টি প্লেটে করে বসার ঘরে নিয়ে যাচ্ছে বড়দের জন্য। তনিমা নূরজাহানকে একা পেয়ে প্রশ্ন করে বলে…
‘ আপনি কি সবসময় এমন শাড়ি পরেন ভাবী?
নূরজাহান ফ্লাক্সে চা ভরে ক্যাপ লাগাতে লাগাতে তনিমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে উত্তর দেয়…
‘জি।
‘কেন ভাবী? আপনার আমার শাশুড়ীরাই তো শাড়ি পরেন না, ওনারা সবসময় থ্রি পিস পরেন তাহলে আপনি কেন কষ্ট করে রোজ শাড়ি পরেন? শাড়ি পরে চলাফেরা করতে আপনার সমস্যা হয় না?
‘প্রথম প্রথম সমস্যা হতো কিন্তু এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আপনার ভাই খুব পছন্দ করে আমি শাড়ি পরলে। মূলত উনার জন্যই আমি সবসময় শাড়ি পরার চেষ্টা করি।

ভাই শব্দটায় তনিমা নূরজাহানের উৎফুল্ল মুখটার দিকে তাকায়। তনিমা মারিদকে অনেক খারাপ জানতো। মারিদ একদিন তনিমার ছোট ভাই রাফিনকে মেরেছিল। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে তনিমাও মারিদের হাতে আহত হয়েছিল। তনিমার সবচেয়ে অপছন্দের ব্যক্তির ভাইয়ের বউ হয়ে এই বাড়িতে আসতে হবে তনিমা সেটা কল্পনাতেইও ভাবেনি অথচ আজ এটাই বাস্তব। সবচেয়ে বড় বাস্তব হচ্ছে তনিমা যে মারিদকে খারাপ গুন্ডা লোক মনে করতো আজ সেই মারিদের পরিবারকে মানিয়ে চলতে হচ্ছে, অদ্ভুত। তনিমা হেসে বলে…
‘শাড়িতে আপনাকে অনেক সুন্দর দেখায় ভাবী। একদম নায়িকা টাইপ। আমার কাছে নায়িকাকেও ফেল মনে হয় আপনার সামনে। মাশাল্লাহ আপনি অনেক সুন্দরী। ভাই কিন্তু জিতেছে।
‘রিফাত ভাইও কিন্তু জিতেছে?
তনিমা হেসে ফেলে। নূরজাহান তনিমা চা পাকোরা নিয়ে ছাদে যায়। ছাদে সকলেই গোল করে বসেছে। রিফাতকে মাঝে দিয়ে মারিদ রাদিল দুপাশে বসেছে। নূরজাহান মারিদের পাশে আর সুখ চালাকি করে রাদকে তুলে রাদিলের পাশে বসেছে। নূরজাহানের পাশে সুফিয়া তারপর তনিমা এরপর আফিয়া তাপস তামিম রাতুল রাদ সুখ রাদিল বসেছে। গল্প করতে করতে সবাই খাচ্ছে। মারিদকে নূরজাহান এটা সেটা তুলে দিচ্ছে। রাদিলকে সুখ। তনিমা দূরে বসায় রিফাতকে দিতে পারছে না বলে সে নিজেরটা নিয়ে খাচ্ছে। রিফাতকেও কেউ দিচ্ছে না, সেও নিজেরটা নিয়ে খাচ্ছে। রিফাত মারিদ রাদিলকে তাদের পার্টনারের সাথে বসে থাকতে দেখে বলে…

‘কিরে ভাই মিঙ্গেল তো আমিও। তাইলে তোরা আমারে বউ ছাড়া বসাইলি কেন? সব জায়গায় দুর্নীতি?
কথাটা রিফাত আস্তে বলেছে। মারিদ রাদিল দুজনেই শুনেছে। মারিদ রিফাতের কথার উত্তর দিল না, দিলে দেখা যাবে রিফাত জলঘোলা করবে মারিদকে খুঁচিয়ে। রাদিল চুপ থাকল না। সে মুখে পাকোরা তুলে চমচম করে চিবিয়ে খেতে খেতে রিফাতের কথার উত্তর দিয়ে বলে…
‘দুর্নীতি করলেই বা কি? তোর তো তাও বউ আছে। আমার তো তাও নেই। তোর বোনকে কোলে পিঠে বড় করতে হচ্ছে বিয়ে করার জন্য, একে বলে হালাল কষ্ট।
রিফাত বেশ তীক্ষ্ণ চোখে রাদিলের দিকে তাকায়। সুখ রাদিলের পা ঘেঁষে বসেছে। নিজে খাচ্ছে আবার রাদিলের খাবারের খেয়াল রাখছে। এটা সেটা এগিয়ে দিচ্ছে রাদিলকে। বিয়ে হলে নিশ্চিত সুখ রাদিলের ন্যাওটা বউ হবে। এখনই বোঝা যাচ্ছে সুখ জামাই পাগল বউ হবে। বলতে হবে রাদিল এই দিক দিয়ে রিফাত মারিদ থেকেও ভাগ্যবান। রাদিলের খোঁজতে হয়না সুখই সবসময় রাদিলের আশেপাশে থাকে। রিফাত রাদিলের সুখে বাগড়া দিয়ে সুখকে নিজের কাছে ডাকে…

‘ এই সুখ এদিকে এসে বস আমার কাছে। আয়।
রিফাত আর মারিদের মাঝের জায়গাটা দেখায় সুখকে বসতে। রিফাত কি বলছে সুখ যেন শুনতেই পায়নি এমন ভাব। সুখ পাকোরা চমচম করে খেতে খেতে সামনের প্লেট থেকে একটা কলা নিয়ে রিফাতের দিকে বাড়িয়ে বলে…
‘রিফাত ভাই নাও একটা কলা খাও। তুমি কেমন দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছ পুষ্টিহীনতায়।
রাদিল শব্দ করে হাসে। হাসতে হাসতে গলায় খাবার আটকে গেলে সুখ দ্রুত পানি দেয়। রাদিল পানি পান করে। তনিমা সুখের কথায় রিফাতের দিকে তাকায়। আসলেই রিফাত পুষ্টিহীনতায় শুকিয়ে গেছে কিনা পর্যবেক্ষণ করে। রিফাত তনিমার দৃষ্টি বুঝে সুখকে শাসিয়ে বলে…
‘বেয়াদব হয়েছিস তুই। কোথায় কি কথা বলতে হয় জানিস না ছাগল।
সুখ মুখ বাকিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলে…
‘আজাইরা! আমি ভালো কথা বললেই দোষ, বেয়াদব হয়ে যায়। অথচ এই বেয়াদবে যে একসময় তোমার কত উপকারই করলো সেসব তো মনে রাখলে না রিফাত ভাই। আচ্ছা বাদ দাও, এই নাও কলাটা খাও স্মরণশক্তি বাড়বে।

রিফাত ক্ষেপে যায়, সুখ অতীতে তার কি এমন উপকার করেছে আবার সেটার খোঁটাও দিচ্ছে তার বউয়ের সামনে। রিফাতের জানা মতে সুখের থেকে সে সজ্ঞানে কখনো উপকার নেয়নি। এবার জীবনে রিফাত কখনো অজ্ঞান হয়েছে কিনা সেটাও সন্দেহ। এবার সুখ তার কোন উপকারের কথা মনে করে খোঁটা দিচ্ছে আল্লাহ জানে? রিফাত ক্ষেপে গিয়ে বলে…
‘ভণ্ডের ভণ্ড। তুই জীবনে আমার আবার কি উপকার করেছিস? কাঁদলে এখনো তোর নাক দিয়ে হিঙেল পড়ে, তুই আবার করবি আমার উপকার। যা আগে বড় হ। তারপর আসিস বড় ভাইয়ের উপকার করতে ছাগল।
রিফাত আর সুখ টম আর জেরির মতো হুটহাট ঝগড়া লেগে যায়, এ ব্যাপারে পূর্বে অবগত ছিল না তনিমা আর নূরজাহানের। ওরা দুজন এই বাড়ির নতুন সদস্য তাই ওদের জানা নেই কিছুই। যদিও এর আগে নূরজাহান রিফাতকে সুখের সঙ্গে টুকটাক কথা কাটাকাটি করতে দেখেছে কিন্তু বড় ঝগড়া এই প্রথম। সুখ উত্তর দিয়ে বলে…

‘তুমি ভাই মীরজাফর। উপকারীর উপকার মনে রাখো না। অকৃতজ্ঞ। তোমার কত প্রেমের সাক্ষী আমি তার হিসাব নেই। তুমি কত শতশত চিঠি আমাকে দিয়ে আদান প্রদান করেছ আমাদের পাশের বাড়ির সুমা আপার কাছে সেই কথা কিন্তু আমি আজও কাউকে বলেনি গোপন রেখেছি বুকে। সুমা আপা কিন্তু ভালোই ছিল রিফাত ভাই, তোমার প্রেমপত্র নিয়ে গেলে আমার নাকের হিঙেল পরিষ্কার করে দিত নিজের ওড়না দিয়ে। আমাকে চকলেট দিত আর বলতো কাউকে বলিস না কিন্তু সুখ। সেজন্য আমি আজও কাউকে বলিনি। এমনকি তোমার বউকেও না।
সবাই খাওয়া ছেড়ে সিরিয়াস মুডে সুখের কথা শুনছে। তনিমা অবাক দৃষ্টিতে রিফাতের দিকে তাকিয়ে। রিফাত নিজেও বিস্মিত সুখের কথায়। সুমা নামে একটা মেয়ে ছিল সুখদের বাড়ির পাশে। সে বহুবছর আগের কথা। তখন রিফাত নতুন নতুন কলেজে পড়তো। সুখও খুব ছোট ছিল। ছয় কি সাত বছর ছিল সুখের। ঐ পিচ্চি সুখ এত বছরের পুরাতন কথা মনে রেখে দিয়েছে? এখন আবার সুযোগ বুঝে সোজা রিফাতের বউয়ের সামনে সবকিছু ফাঁস দিবে? রিফাত সুমা সাথে মোটে কয়টা চিঠি আদান-প্রদান করেছিল? দুই তিনটা হবে হয়তো। অথচ সুখ বানিয়ে বলছে শতশত চিঠি নাম। সুমার সাথে তো রিফাত প্রেমই করতে পারেনি তার আগেই সুমাকে বিয়ে দিয়ে দিল ওর পরিবার। রিফাত তনিমার সামনে নিজের ইজ্জত বাঁচাতে চেয়ে সুমা মেয়েটিকে চিনতে অস্বীকার করে মিথ্যা আশ্রয় নিয়ে বলে..

‘সুমা কে?
‘তোমার এগারো নম্বর গার্লফ্রেন্ড।’
‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ… ভণ্ডের বাচ্চা মিথ্যা বললে তোর জামাই মরে যাবে।
রিফাতের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। জীবনে দুই চারটা মেয়ের সঙ্গে কথা বলেছে সে, তাও টাইমপাস করেছে, তাই বলে এত সংখ্যার গার্লফ্রেন্ড রিফাতের কখনো ছিল না। তনিমা বেশ মনোযোগ দিয়ে সুখের কথা শুনছে। তনিমা যে সুখের কথা বিশ্বাস করছে সেটা তনিমার মুখশ্রী দেখে বুঝতে পারছে রিফাত। সুখ মজার ছলেও রাদিলের মৃত্যুর কথাটা পছন্দ করল না তাই ঠাস করে রেগে গিয়ে রিফাতকে শাসিয়ে বলে…
‘খবরদার রিফাত ভাই, নেক্সট টাইম আমার জামাইর মরার কথা বললে আমি তোমার সব গোপন কথা তোমার বউয়ের কাছে ফাঁস করে দেব কিন্তু।

‘আর কি বাকি রেখেছিস ফাঁস করার? বলব না, বলব না করেও সবই বলছিস।
সুখ রিফাতের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে তনিমাকে উদ্দেশ্য করে বলে…
‘এই ভাবী আপনিই বলুন, আমি কখনো আপনাকে বলেছি রিফাত ভাইয়ের ছাব্বিশটা গার্লফ্রেন্ড ছিল জীবনে সেটা? এমনকি রিফাত ভাই যে একবার তার তেরো নাম্বার গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পার্কে ধরা পড়েছিল সেটাও কখনো আপনাকে বলেছি বলতে পারবেন?
তনিমা অবিশ্বাস্য অবুঝের মতো মাথা নাড়ল। সুখ সত্যি ওকে কিছু বলেনি কখনো। সুখ ফের বলে…
‘ঐদিন রিফাত ভাই আমাদের কোচিংয়ের ইতি ম্যাডামের সঙ্গে যে হেসে হেসে আর ভাব জমিয়ে কথা বলছিল আমি কি সেটা আপনাকে এসে বলেছি ভাবী? আমি মোটেও এমন মেয়ে না যে রিফাত ভাইয়ের সব গোপন কথা তার বউকে ফাঁস করে দেব। সবকিছু আমি আজও বুকে চেপে রেখেছি শুধু মাত্র রিফাত ভাইয়ের মঙ্গল কথা চিন্তা করে।
তনিমা উঠে চলে গেল নিচে। তনিমাকে নিচে যেতে দেখে রিফাত সেদিকে তাকিয়ে বলে…
‘তুই যে কত নাম্বারের বাটপার আর চিটার আল্লাহ জানে। বলব না, বলব না বলেও কতগুলো মিথ্যা কথা আমার বউটারে বলে আমার সংসারে আগুন লাগাইলি। আল্লাহ তোর বিচার করবে এই ভণ্ডামি জন্য দেখিস।
রিফাত আর তনিমার পেছনে যাওয়ার সাহস পেল না। ছাদে বসেই রইল সবার সাথে। তনিমা চলে যেতে সকলে খাওয়া দাওয়া করে হৈচৈ করতে লাগল।

দুপুর বেলা নূরজাহান রান্নাঘরে দুপুরে রান্না করছিল। হঠাৎ বাহিরে তীব্র হৈচৈ শব্দ শুনে গ্যাসের চুলা বন্ধ করে বসার ঘরে আসলো। কানে আসল কারও চিৎকার চেঁচামেচি আর ভাঙচুরের শব্দ বাহিরে শোনা যাচ্ছে। সৈয়দ শাহ বাদে বাড়িতে কোনো পুরুষ লোক নেই। মুনিয়াও কলেজে। বাড়িতে মেয়েরা আর মহিলারা আছে। ফাতেমা সালমা আফিয়া সুফিয়া সুখের পেছনে রোজিনা রেণুও দৌড়ে বাইরের দিকে যাচ্ছে। নূরজাহান কৌতূহল দমাতে না পেরে সেও দ্রুত পায়ে বাইরে যায়। মানিক তার দলবল নিয়ে নূরজাহানের শ্বশুরবাড়িতে এসেছে নূরজাহানকে নিতে। সৈয়দ বাড়ির দারোয়ান সবুজ আলী আর সুখের ড্রাইভার হাশেম বাধা দেওয়ায় তাদেরকে বেশ মারধর করছে মানিকের লোকজন। চিৎকার চেঁচামেচিটাও সেখানকারই। মানিক নূরজাহানের নাম ধরে চিৎকার করে বাড়ির দিকে আসছে। মানিককে দেখে নূরজাহান আতঙ্কে থরথর করে কাঁপতে থাকে। সালমা দ্রুত সুখকে বলে…
‘সুখ দ্রুত যা, মারিদ আর তোর বাপ চাচাদের ফোন করে বল বাড়িতে পুলিশ নিয়ে আসতে বল। আমাদের বাড়িতে সন্ত্রাস পড়েছে যা তাড়াতাড়ি।
সুখ দ্রুত দৌড়ে ঘরে যায় সবাইকে ফোন করতে। মানিক বাড়ির ভেতরের দিকে যাচ্ছে দেখে সালমা মানিককে বাধা দিয়ে পথ আটকে বলে…

‘এই ছেলে, আমাদের বাড়িতে ঢুকে গুন্ডামি করছ কেন? কি চাই এখানে? এটা ভদ্রলোকের বাড়ি, এখানে তোমার গুন্ডামি চলবে না। আমার বাড়ি থেকে এক্ষুনি বেরিয়ে যাও। যাও বলছি।
‘এই সর, শালীর বুড়ি মাগী। এমনিই মাথাডা নষ্ট। আমার নূরজাহানরে কই রাখছে তোর পোলা? বাইর কইরা দে নূরজাহানরে, নইলে তোর পোলারে আজ বাংলা চু*** দিমু।
মানিক জিভে কামড় দিয়ে হাত মুষ্টি করে সালমাকে বিকৃত ভাষার গালিটা হাত দিয়ে দেখায়। গা ঘিনঘিন করে ওঠে সালমার। ফাতেমা সালমার পাশাপাশি মানিককে বাধা দিয়ে বলে…
‘ এই সন্ত্রাস ছেলে আমাদের বাসা থেকে বের হও নয়তো পুলিশ ডাকব আমরা।
সালমার পর ফাতেমা পথ আটকে বাঁধা দেওয়ায় মানিক রাগে তিলমিলিয়ে বলে…
‘এই বালপাকনা বুড়িদল, সর সামনে থেইক্কা।

মানিক হাতের ধাক্কায় সালমাকে ফেলে দিতে ফাতেমা দ্রুত ধরে সালমাকে। পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা আফিয়া সুফিয়াও মা চাচীর কাছে দৌড়ে যায়। মানিক নূরজাহানকে আতঙ্কিত মুখে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে দৌড়ে যায় নূরজাহানের কাছে। কত দিন, কত মাস পর নূরজাহানের চাঁদ মুখখানা দেখল মানিক। মানিক দু হাত বাড়িয়ে নূরজাহানের গাল ছুঁতে চাইলে নূরজাহান দ্রুত পেছনে যায়। মানিক থেমে থাকে না। নূরজাহান পেছনে যাচ্ছে, মানিক এগিয়ে সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে আকুতি স্বরে বলে…
‘নূরজাহান? আমার নূরজাহান, তুমি কেমনে পারলা আমারে ছাইড়া এই বাইত্তে আইতে? তোমার কষ্ট হয় নাই? ইকটুখানি মায়া লাগে নাই? আমার কথা একডা বার মনে পড়ে নাই তোমার? আমার কোমল নূরজাহান এত পাষাণ কেমনে হইল? চল নূরজাহান, আমি আইয়া পড়ছি, চল আমার লগে যাইবা তুমি।
‘আল্লাহর দোহাই লাগে মানিক ভাই, আপনি চলে যান। আমার শ্বশুরবাড়িতে ঝামেলা করবেন না। প্লিজ আপনি চলে যান।

নূরজাহানের ভয়ার্ত আতঙ্কিত মুখটা দিকে তাকিয়ে মানিক আকুতিভরা কন্ঠে বলে..
‘এমনে কয় অ না প্রাণের নূরজাহান। বুকডা ফাইট্টা যায়। ইচ্ছা করে বুকটা ছিঁড়া কলিজাডা তোমারে দেখাই কত্ত ভালোবাসি তোমারে। সঙ্গে চল নূরজাহান। এর থেইক্কাও তোমারে বড় রাজপ্রাসাদ বানাই দিমু। মেলা সুখে থাকবা আমার রাজপ্রাসাদে রানী হইয়া।
‘আমার কিচ্ছু দরকার নেই। আপনি চলে যান মানিক ভাই। আমি বিবাহিত। আমার শেষ ঠিকানা আমার স্বামীর ঘরই। দোহাই লাগে এবার আমাকে ভুলে যান, আমার পিছন ছেড়ে দেন।
মানিকের চোখে পানি জমল। মানিক আকুতি স্বরে বলে…
‘আমি তোমার প্রেমে পড়লে ছাইড়া দিতে পারতাম নূরজাহান, কিন্তু আমি তো তোমার মায়ায় পড়ছি, তোমারে কেমনে ছাইড়া দিই কও? ভালোবাসা ছাড়ন যায় কিন্তু মায়া কেমনে ছাড়মু কও?
নূরজাহান কাঁদছে ভয়ে। সালাম ফাতেমা আফিয়া সুফিয়া রেণু রোজিনা সবাই মানিক নূরজাহানের দিকে অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে। সবাই যে মানিককে জড়িয়ে নূরজাহানকে ভুল বুঝতেছে সেটা সকলের দৃষ্টিতে স্পষ্ট। নূরজাহান দেয়ালে সঙ্গে সিটিয়ে গিয়ে বলে…

‘আপনার উপস্থিতি আমাকে কলঙ্কিত করছে মানিক ভাই, আপনি কেন বুঝতে পারছেন না?
‘সমাজ জানে আমি খারাপ, পাপি, তয় আমি তোমার লাইগা খারাপ না নূরজাহান। খোদার কসম আমি তোমারে পাইলে ভালা হইয়া যামু নূরজাহান। তুমি হালি আমারে একডা সুযোগ দেও নূরজাহান। তোমার দুইডা পায়ে পড়ি, আমারে খালি একডা সুযোগ দেও।
মানিক সত্যি সত্যি সবার সামনে নূরজাহানের পায়ে লুটিয়ে পড়তে নূরজাহান পিছিয়ে গিয়ে বলে…
‘সেটা আর সম্ভব না মানিক ভাই। আপনি চলে যান প্লিজ।
নূরজাহান পাষাণ। মানিকের নূরজাহান সবসময় মানিকের জন্য পাষাণ ছিল। নূরজাহান কখনো মানিক কিংবা মানিকের ভালোবাসা বুঝতে চায়নি বলে মানিক সবসময় নূরজাহানের সামনে নিজের ভালোবাসা বোঝাতে চাইতো। আজও নূরজাহান সবসময়ের মতো মানিকের ভালোবাসা ফিরিয়ে দিচ্ছে। আজ মানিক সবসময়ের মতো খালি হাতে ফিরে যাবে না, তার নূরজাহানকে সঙ্গে করেই নিয়ে যাবে। মানিক উঠে দাঁড়িয়ে খপ করে নূরজাহানের হাত চেপে রাগে চোখ মুখ শক্ত করে বলে…

‘সঙ্গে চল নূরজাহান। কোনো বাহানা কোরো না। তাইলে তোমার আগের শ্বশুরবাড়ির লাহান এই শ্বশুরবাইত্তেও আমি আগুন লাগাইয়া সবকিছু ছাই কইরা দিমু।
নূরজাহানের আগে একটা বিয়ে হয়েছিল সেটা মারিদ মাহমুদ মকবুল বাদে নূরজাহানের শ্বশুরবাড়িতে আর কেউ জানতো না। এখন মানিকের মুখে শুনেছে নূরজাহানের আগে একটা বিয়ে হয়েছিল সেটা। সকলের চোখে অবিশ্বাস্যর দৃষ্টি। মানিক নূরজাহানকে নিয়ে যেতে জোড়াজুড়ি করছে, সবাই এগিয়ে আসে বাধা দিতে। এর মাঝে সুখ মারিদের কল করে ভিতরের ঘর থেকে দৌড়ে আসে। মানিক নূরজাহানের হাত ধরে টানাটানি করছে দেখে সঙ্গে করে নিয়ে আসা কাঁচের গ্লাসটা দিয়ে মানিকের মাথায় স জোরে মারে। তৎক্ষণাৎ আর্তনাদ করে নূরজাহানের হাত ছেড়ে মাথা চেপে ঝুঁকে যায় মানিক। কপাল ফেটে ঝরঝর করে রক্ত ঝরে ফ্লোরে। সেই সুযোগে সুখ নূরজাহানের হাত চেপে বাড়ির ভেতরের দিকে দৌড় মেরে বলে…

ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৪৮

‘ভাবী পালাও। যতক্ষণ পর্যন্ত মারিদ ভাই বাড়িতে না আসছে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রুম বন্দি হয়ে বসে থাকব। মারিদ ভাই আসছে, আর একটু সময় লাগবে।
মানিক মাথা চেপে সুখকে গালি দিয়ে বলে…
‘ শালীর ঘরের শালী চু*তমা*রানীর ঝি, মারলি ক্যান?

ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৫০