Home ডিজায়ার আনলিশড ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ১৪ (২)

ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ১৪ (২)

ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ১৪ (২)
সাবিলা সাবি

সকালের নরম আলো জানালা দিয়ে কক্ষে প্রবেশ করলো। তান্বী ধীরে ধীরে চোখ মেলল। কিন্তু চোখ খোলার সাথে সাথেই মনে পড়ে গেলো গত রাতের ঘটনাটা—
জাভিয়ান… জোর করে ওকে কিস করেছিলো। একবার ভাবলো হয়তো এটা কোনো দুঃস্বপ্ন ছিলো কিন্তু মুহূর্তেই যখন ঠোঁটের মধ্যে ব্যাথা অনুভব করলো তখনি বুঝলো এটা আসলে দুঃস্বপ্ন নয় বাস্তবেই হয়েছিলো। আর সেই স্মৃতি মনে আসতেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। চোখ ভিজে উঠলো অজান্তেই।

ও পাশ ফিরে তাকাতেই চোখ আটকে গেলো সেদিকে।পাশের কক্ষে কাঁচের দরজা দিয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে—জাভিয়ান ভারী ওজন তোলার ব্যায়ামে ব্যস্ত। ঘামে ভিজে শরীর চকচক করছে, মুখে কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।
তান্বী হঠাৎ উঠে দাঁড়ালো, পা টেনে সোজা ঢুকে গেলো জিম রুমে।রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল—“আপনার এতো বড় সাহস হলো কিভাবে? কোন সাহসে আমার পারমিশন ছাড়া কিস করলেন আমাকে?”
জাভিয়ান ডাম্বেল নামিয়ে রেখে ধীরে ধীরে তাকালো, চোখেমুখে দুষ্টু গাম্ভীর্য। ঠোঁট বাঁকা করে বলল—“তুমি আমার ওয়াইফ। যদিও ‘ওয়াইফ’ শব্দটার কোনো মানে আমার কাছে নেই… তবুও কাগজে তো সাইন করেছো। তাই হিসেব অনুযায়ী শুধু কিস না… চাইলে আরও অনেক কিছুই করতে পারি আমি তোমার সাথে।”
তান্বী ক্ষোভে কাঁপতে কাঁপতে বলল—“খবরদার! মুখে যা খুশি বললেও গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করবেন না। আপনি আমার ঠোঁটের ভার্জিনিটি শেষ করে দিয়েছেন। এবার ভুলেও…”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

তার কথা শেষ হবার আগেই জাভিয়ান জিম থামিয়ে সোজা দাঁড়ালো। তার চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ হয়ে উঠলো। ধীরে ধীরে তান্বীর দিকে এগিয়ে এসে নিচু গলায় হুমকি দিলো—“আমার সাথে যদি সামান্যও চালাকি করার চেষ্টা করো, তাহলে শুধু ঠোঁটের নয়… তোমার পুরো বডির ভার্জিনিটি আমি শেষ করে দিবো।”
তান্বী রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে দাঁড়িয়ে আছে। জাভিয়ান কিছুক্ষণ ব্যায়াম করে থেমে গেলো। তারপর পানির বোতল থেকে বড় বড় চুমুকে পানি খেলো আর টাওয়াল দিয়ে গলা-মুখ মুছতে লাগলো।
তান্বীর চোখে হঠাৎই যেনো ঝলসে উঠলো অতীতের অপমানগুলো—জাভিয়ান বারবার বলেছে ওকে ঠাকুমার জুলির শাকচুন্নী… সুন্দর চুলকে তুচ্ছ করে বলেছে বন-জঙ্গল।

এখন তার সামনে দাঁড়িয়ে ওরকম একটা অ্যাটিটিউড নিয়ে শরীর ঝলকাচ্ছে জাভিয়ান।তান্বীর ঠোঁট বাঁকা হলো। হাসি চাপতে না পেরে সরাসরি মুখে ছুঁড়ে দিলো—“কি ভাবছেন? আপনার এই জিম করা বডি খুব সুদর্শন লাগছে? একেবারে হৃতিক রোশনের মতো লাগছে?”
এক মুহূর্ত থেমে কটাক্ষের হাসি হেসে আবার বলল—“পুরো এভেঞ্জার্সের হাল্কের মতো লাগছে।”
ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেলো। জাভিয়ানের চোখ রাগে লাল হয়ে উঠলো, আর তান্বী বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো যেনো মুখোমুখি যুদ্ধের ডাক দিচ্ছে।

তান্বীর কথা শুনে জাভিয়ানের মুখ কালো হয়ে গেলো। পানি খাওয়ার বোতলটা টেবিলে ছুড়ে রেখে সে ধীরে ধীরে তান্বীর দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। চোখে ঝলসে উঠছে হিংস্র আগুন।
তান্বী দাঁড়িয়ে থেকেই তার ভয়ঙ্কর চাহনি টের পেলো। মুহূর্তেই বুক ধুকপুক করতে লাগলো।ৎজাভিয়ান আর এক কদম এগুতেই তান্বী পিছিয়ে গেলো।

—“কি হয়েছে, এখন মুখ এত শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছো কেনো? খুব বড় বড় কথা বলছিলে, হাল্কের মতো দেখতে বলছিলে…” — জাভিয়ান দাঁতে দাঁত চেপে বললো।
কিন্তু তান্বী আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না।চোখেমুখে আতঙ্ক আর ভয়ের ছাপ নিয়ে সে হঠাৎ ঘুরে দাঁড়িয়ে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে।
পেছন থেকে জাভিয়ান হেসে উঠলো ঠাণ্ডা, তীক্ষ্ণ হাসিতে।—“যতখুশি দৌড়াও, কিন্তু মনে রেখো,আমার হাত থেকে কেউ পালাতে পারে না আর তুমিও পারবেনা।”

সকালের রোদ্দুর গাড়ির কাঁচ ভেদ করে জাভিয়ানের মুখে পড়ছিলো। কাল রাতের ক্লান্তি নিয়ে অফিসে পৌঁছে চেয়ারে বসতেই চমকে উঠলো। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রায়হান— বহুদিনের নিখোঁজ সহকারী।
জাভিয়ান ঠোঁটে তীক্ষ্ণ হাসি টেনে বললো,—“বাহ, মিস্টার রায়হান! আসার কতা মনে হলো অবশেষে? আপনার সময় হলো তবে?”
রায়হান নিচু গলায় কিছুটা সংকোচ নিয়ে এক কাপ কফি বাড়িয়ে দিলো।—“স্যার… আসলে আমার কিছুদিন আরও ছুটি প্রয়োজন।”
কফির কাপ হাতে নিয়ে জাভিয়ান ভ্রু কুঁচকালো।
—“কেন?”

রায়হান দ্বিধা ভাঙলো অবশেষে।—“আমার চাচা আমার জন্য মেয়ে দেখেছে, এতদিন এই নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। সব ফাইনাল হয়েছে। এখন শুধু মেয়ের সঙ্গে আলাদা কথা বলতে যেতে হবে। তাই—”
কথা শেষ হবার আগেই জাভিয়ানের কণ্ঠ ছুরি হয়ে ছিড়ে গেলো বাতাসে।—“রায়হান, তুমি কোনো ছুটি পাবে না। ইভেন ছুটি কেনো— আমি বেঁচে থাকতে তুমি বিয়ে করতে পারবে না।”
রায়হান হতবাক, তার হাতের কাপ থেকে কফি ছলকে পড়লো টেবিলে।—“কি বলছেন স্যার? আমি কেনো বিয়ে করতে পারবো না?”

জাভিয়ান সিগার ধরিয়ে চোখ সরু করে তাকালো।—“কারণ আমি তোমাকে বিয়ে করতে দেবো না।”
রায়হানের বুক ধড়ফড় করতে লাগলো।—“কিন্তু… কারণটা কি স্যার?”
জাভিয়ান ধোঁয়া ছেড়ে ঠাণ্ডা স্বরে বললো,—“বিয়ে করলে তুমি পাল্টে যাবে। আজ আমার এসিস্ট্যান্ট, কাল হয়তো বউয়ের দাস হয়ে যাবে। ধরো মাঝরাতে যদি আমার তোমাকে দরকার পড়ে, আমি ফোন দিলাম— তখন তোমার বউ হয়তো ফোন ধরতে দিবে না আসতে দেয়া তো দূরের কথা। আমি এমন ঝুঁকি নেবো না।”
রায়হান নির্বাক। চোখেমুখে অবিশ্বাস আর ক্ষোভ মিশে এক অদ্ভুত ছায়া নেমে এলো।
রায়হান থমকে গেলো।—“স্যার, আপনি তো বিয়ে করেছেন। তাহলে আমি পারবো না কেনো?”
জাভিয়ান হেসে উঠলো ঠাণ্ডা হাসিতে।—“আমার বিয়েটা কেমন বিয়ে, সেটা তুমি ভালো করেই জানো। ওটা বিয়ে করা আর না করা এক কথা। আর তোমার যদি অন্যদিকে সমস্যা থাকে, গার্লফ্রেন্ড রাখো, সাইডচিক রাখো, এনজয় করো

— কিন্তু বিয়ে করবে না।”
রায়হান কিছুটা হতাশ আর কিছুটা জেদ নিয়ে বললো,
—“স্যার, বউ আর ওসব টাইমপাস মেয়েরা এক জিনিস নয়। বউয়ের সঙ্গে বৃষ্টি বিলাস, বাগান বিলাস, ভ্রমণ বিলাস— এ সবই আলাদা অনুভুতি।”
জাভিয়ান হেসে সিগারের ধোঁয়া ছাড়লো।—“এত বিলাস করে কি হবে, রায়হান? শেষ পর্যন্ত সবকিছুই তো বিছানা বিলাসে গিয়ে শেষ হয়। মানুষ মাছ ধরার জন্য ছলনা করে, বরশিতে খাবার দিয়ে মাছকে লোভ দেখিয়ে পানি থেকে তুলে আনে। তেমনি বউকে বেডে নেওয়ার জন্য এসব বৃষ্টি বিলাস আর কত কি করতে হয়। এতো সময় নষ্ট করার কি আছে? সোজা বিছানায় নিয়ে গেলেই হবে। আর বিছানায় নিতে তোমার বিয়ের দরকার নাই। আমি মরলে তারপর বিয়ে করে নিও।”

রায়হানের বুকটা যেনো চেপে ধরলো।—“স্যার… এভাবে সারাজীবন বিয়ে ছাড়া কিভাবে থাকবো পরিবার বড় করার একটা ব্যাপার ও তো আছে তাইনা?”
জাভিয়ান তার দিকে ঠাণ্ডা চোখে তাকিয়ে বললো,—“তুমি যদি মেয়ে হতে তাহলে আমি তোমাকেই বিয়ে করে সারাজীবন আমার এসিস্ট্যান্ট হিসেবে রেখে দিতাম।”
রায়হান কাশতে কাশতে মুখ ঘুরিয়ে নিলো। মনে মনে বললো, “ভাগ্যিস মেয়ে হয়নি। নাহলে আপনার মতো পুরুষের কপালে পড়ার চেয়ে না জন্মানোই ভালো পৃথিবীতে।”
জাভিয়ান তখন চেয়ারে হেলান দিয়ে বললো,—“শোনো রায়হান, আর একদিনও তুমি কোথাও যাবে না। আমার কোম্পানীর অনেক কাজ বাকি। বাবাকে দেখিয়ে দিতে হবে— ‘আমার পারফিউম’ বিশ্বের সেরা ব্র্যান্ড হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তবেই প্রমাণ করতে পারবো, তাকে ছাড়াও জাভিয়ান এমিলিও চৌধুরী সাকসেস হতে পারে।”

অফিসের কেবিনে হালকা আলো পড়েছে। ডেস্কে আরেকটা নতুন ধোঁয়া ওঠা কফির কাপ। জাভিয়ান মনোযোগ দিয়ে ফাইলের পাতা উল্টাচ্ছিল, হঠাৎ রায়হান নিরবতা ভেঙ্গে মুখ খুললো তার চোখেমুখে এক অদ্ভুত গম্ভীর ভাব।
—“স্যার, একটা খবর শুনেছেন? মেইলস্ট্রোমকে কে যেনো মারার চেষ্টা করেছে। এখন হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি। এই প্রথমবার তার ওপর এত বড় আঘাত আসলো। ব্যাপারটা ভাবনার কিন্তু।”
জাভিয়ান ধীরে ধীরে কফিতে চুমুক দিলো। ঠোঁটে হালকা এক অচেনা হাসি ফুটে উঠলো।—“মাফিয়াদের জীবন এমনটাই হয় রায়হান। এই জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
একটু থেমে চোখ সরাসরি রায়হানের দিকে নিবদ্ধ করে জিজ্ঞেস করলো,—“মিসেস বেলা এখন কী করছে? তার কি খবর?”

রায়হান নিঃশ্বাস ফেললো।—“তার আর কী খবর হবে স্যার? ছেলের এমন অবস্থা, কোনো মা ভালো থাকে না। সারাক্ষণ হাসপাতালে বসে আছেন, আর সবাইকে আদেশ দিচ্ছেন তার ছেলেরা খু/নিকে বের করে আনতে।”
জাভিয়ান চুপ করে গেলো। চোখের দৃষ্টি জানালার বাইরে আটকে রইলো। তারপর আস্তে ফিসফিস করে বললো,—“সব মায়েরা এক হয়না রায়হান। বন্দুকের গুলি যতটা আঘাত দেয়, তার চেয়েও বেশি আঘাত দেয় কিছু কিছু পরিবার।”

রায়হান বুঝতে পারলো যে জাভিয়ানের মন অন্য দিকে ঘুমে যাচ্ছে তাই প্রসঙ্গ ঘোরাতে সে ফাইল গোছাতে গোছাতে রায়হ দ্বিধা নিয়ে বললো,—“স্যার… একটা কথা জিজ্ঞেস করি? আপনার আর গজদন্তনির মধ্যে এখনও তেমন কোনো সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি… তাই না?”
জাভিয়ান হালকা হাসলো, ঠোঁটের কোণে একটুখানি ব্যঙ্গের রেখা ফুটে উঠলো।—“হাহ, তুমি যা বলতে চাইছো, আমি বুঝছি। তবে সামান্য একটা চুমুতেই যে মেয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়… তার সাথে বাকি কিছু কিভাবে সম্ভব বলো তো?”
রায়হানের চোখ বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল।—“কি বলেন স্যার! আপনি সত্যি চুমু খেয়েছেন? তা হলে নির্ঘাত এমনভাবে চুমু দিয়েছেন, যেটার ধাক্কাতেই সে অজ্ঞান হয়ে গেছে।”

জাভিয়ান কফির কাপে আঙুল চালাতে চালাতে হালকা বিরক্তি মেশানো স্বরে বললো,—“আমি কী করে জানবো কিভাবে চুমু দিতে হয়? আমি কি আগে কখনো কাউকে চুম্বন করেছি নাকি? তবে তখন মাথায় রাগ ছিল, তাই…কিভাবে চুমু দিয়েছি নিজেও জানিনা। কিন্তু বলো তো আসলে কিভাবে চুমু দিতে হয়?”
রায়হান ভুরু কুঁচকে ভেবে নিয়ে বললো,—“শুরুর দিকে অ্যাগ্রেসিভ হওয়া যাবে না স্যার। আগে স্লো মোশনে, সফট কিস করতে হয়। আমি তো আন্দাজ করতেই পারছি আপনি কেমন করে কিস করেছেন।”
জাভিয়ান মাথা নাড়লো, চোখ সরাসরি রায়হানের দিকে।—“হ্যাঁ, কারণ এসবের কোনো ধারনা আমার নেই। তবে তোমার তো মনে হয় বেশ ভালো এক্সপেরিয়েন্স আছে এসব নিয়ে।”
রায়হান হকচকিয়ে গেল। হাত নাড়াতে নাড়াতে বললো,

—“আরে না দূর স্যার! কি বলেন এসব? এতোটাও আবার অভিজ্ঞতা নেই আমার।”
কথোপকথন শেষ হতেই হঠাৎ জাভিয়ানের ফোনটা বেজে উঠলো। স্ক্রিনে এক ঝলক নাম ভেসে উঠতেই তার ঠোঁটে হালকা বিরক্ত খেলে গেল। কল রিসিভ করে মাত্র কয়েকটা শব্দ বলেই কেটে দিলো।
তারপর সরাসরি রায়হানের দিকে তাকিয়ে আদেশের সুরে বললো,—“আজ রাতের প্ল্যান বদলেছে। রায়হান, তুমি আজ বাড়ি ফিরবে না। রাতটা আমার সাথে থাকবে। আর… রাতের আগে আমরা ক্লাবে যাবো।”
রায়হান থমকে দাঁড়ালো, অবিশ্বাসে চোখ বড় হয়ে গেল।
—“কি বললেন স্যার? আমি বাড়ি ফিরবো না,আর আপনি আবার ক্লাবে যাবেন?”
জাভিয়ান কফির কাপে শেষ চুমুক দিয়ে নির্বিকার স্বরে বললো,—“হ্যাঁ। আজ রাতে আমি ক্লাবেই থাকবো আর তুমিও থাকবে আমার সাথে —অতিরিক্ত প্রশ্ন করার অভ্যাসটা বাদ দাও এবার।”
রায়হান ভেতরে ভেতরে হতভম্ব, তবু চুপ করে রইলো। তার চোখে এক অদ্ভুত কৌতূহল আর অস্বস্তি—জাভিয়ানের আবার কি হলো?

বিকেলের দিকে হঠাৎ পুরো বাড়িটা যেনো সরব হয়ে উঠলো। গেট দিয়ে ঢুকতেই কয়েকজন অতিথির আগমন চোখে পড়লো। তান্বী অবাক হয়ে দেখলো—অপরিচিত কিছু মুখ। তার চোখে শুধু ধরা দিলো, জাভিয়ানের মায়ের পাশে এক সুদর্শনা, স্মার্ট মহিলা আর তার সাথে এক অল্পবয়সী মেয়ে।
তান্বীর মন ভেতরে ভেতরে কৌতূহলী হয়ে উঠলো—এরা কারা?
কিছুক্ষণ পরেই জাভিয়ানের মা এগিয়ে এসে পরিচয় করিয়ে দিলেন।—“তান্বী, এ আমার বোন রেজিনা। মেরিডা থেকে এসেছে। আর এ হচ্ছে তার মেয়ে কাতারিনা, মানে জাভিয়ানের খালাতো বোন।”
তান্বী হালকা ভদ্রতাপূর্ণ হাসি দিলো। খালা মেক্সিকান হওয়ায় প্রথমে নিজের ভাষায় কিছু বললেন, কিন্তু বুঝতে পেরে ইংরেজিতেই আলাপ শুরু করলেন। তান্বীও ইংরেজিতেই উত্তর দিলো।
তবে পাশে থাকা খালাতো বোনের মুখ দেখে তান্বীর মনে হলো—সে একদমই খুশি নয়। ঠোঁটের কোণে জোর করে টানা একটুখানি হাসি, চোখে অদ্ভুত শীতলতা। তবুও ভদ্রতার খাতিরে শুধু বললো,—“Hi… Hello.”
তান্বীর বুকের ভেতরে কেমন যেনো অস্বস্তি জমে উঠলো। মনে হলো, এই বাড়িতে আবারো নতুন কোনো ঝড়ের আভাস আসতে চলেছে।

ড্রয়িংরুমে নরম আলো জ্বলছে। বড়ো সোফায় একসাথে বসে আছেন জাভিয়ানের মা, তার খালা রেজিনা আর পাশে নির্ভীকভাবে বসে আছে তান্বী। চারপাশে খাবারদাবার সাজানো, গরম চায়ের ধোঁয়া উঠছে কাপ থেকে। খালাতো বোন কাতরিনা তখনি সরে গিয়ে লুসিয়ার রুমে আড্ডায় বসেছে, ফলে এখানে এক অদ্ভুত শান্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
কথায় কথায় হঠাৎ জাভিয়ানের খালা তান্বীর দিকে তাকিয়ে ইংরেজিতে হেসে বললেন,—“So, my girl… how’s our Javian? How’s married life with him?”

প্রশ্ন শুনে তান্বীর বুকটা ধড়ফড় করে উঠলো। মুহূর্তের জন্য ভেবেছিলো কী উত্তর দেবে। তারপর এক চিলতে দুষ্টু হাসি নিয়ে হালকা স্বরে মজার ছলে গুনগুন করে গাইল তান্বী—“আসলে ছেলে ভালো শুধু রাত্রে একটু খায়, সব সময় খায় না তাও… যখন জুয়া খেলতে যায় তখন একটু খায়।”
জাভিয়ানের খালা ভ্রু কুঁচকে রাখলেন সে কিছুই বুঝতে পারলেন না। মুখে বিভ্রান্তির ছাপ ফুটে উঠলো। তিনি জাভিয়ানের মায়ের দিকে ফিরলেন,—“What did she just say?”
জাভিয়ানের মা তখন হকচকিয়ে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে বললেন,—“She said… Javian is a very good boy. Very good husband.”
খালা তখন হাসলেন স্বস্তির সাথে। কিন্তু জাভিয়ানের মায়ের চোখে লুকোনো অবাক ভাব তান্বীর চোখ এড়ালো না। মনে হচ্ছিলো, মা যেন বুঝতে পারছেন—তান্বী আসলে খোলাখুলি কিছুটা কটাক্ষই করেছে।

রাত গভীর হয়ে এসেছে। বাড়ির চারপাশে নীরবতা, কেবল হালকা বাতাসের সোঁ সোঁ শব্দ। তান্বী নিজের রুমে বসে আছে, সামনে খোলা জানালা দিয়ে বাইরের আলো ঘরে পড়ছে। কাল রাতের ঘটনাগুলো এখনো তার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
হঠাৎ করেই দরজায় হালকা ঠকঠক শব্দ হলো। তান্বী ঘুরে তাকাতেই দেখলো জাভিয়ানের খালাতো বোন কাতারিনা দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে ঢুকলো। মুখে মিষ্টি একটা হাসি নিয়ে সে বললো,“ক্যান আই সিট হেয়ার?”
তান্বী হালকা মাথা নেড়ে ইশারা করলো। মেয়েটা এসে তান্বীর বিছানার পাশে বসল। কিছুক্ষণ নীরবতা, তারপর হঠাৎই সে বললো,—“জাভি ব্রো কখন আসবে?”
প্রশ্নটা শুনে তান্বী চমকে উঠলো। ভ্রু কুঁচকে বললো,

—“তুমি… বাংলা জানো?”
কাতারিনা ছোট্ট একটা হাসি দিয়ে জবাব দিলো,—“হ্যাঁ। প্রয়োজনীয় কিছু বাংলা শিখেছিলাম একজনের জন্য।”
তান্বী থমকে গেলো। কিছু একটা আন্দাজ করলেও মুখে কিছু বললো না। ধীরে ধীরে প্রশ্ন করলো,—“কার জন্য শিখেছিলে?”
কাতারিনা একটুও ঘুরিয়ে না বলে সরাসরি উত্তর দিলো,—“জাভি ব্রো’র জন্য।”
তান্বীর চোখে বিস্ময়। কথাটা শুনেই কাতরিনা যেন নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,—“চিন্তা করোনা, এখন তো তার বিয়ে হয়ে গেছে। এখন আর কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা করার দরকার নেই। তবে তোমাকে একটা সিক্রেট বলি…”
তান্বী ভ্রু উঁচু করলো,—“কী সিক্রেট?”

কাতারিনা ধীরে ধীরে বললো,—“আমার সাথে জাভি ভাইয়ার বিয়ে ঠিক করেছিলো পরিবারের সবাই… কিন্তু হয়নি।”
তান্বী মনে মনে একটু অস্বস্তি অনুভব করলেও মুখে কৌতুকের ছাপ আনলো। নিজেকে বললো,(“আমি কোন দুঃখে চিন্তা করতে যাবো? তোমার সাথে বিয়ে হলে অন্তত ওই বদমাইশটার হাত থেকে আমি বেঁচে যেতাম।”)
তারপর ঠোঁটে একচিলতে হাসি এনে বললো,—“কেনো বিয়েটা হয়নি?”
কাতারিনা তান্বীর চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,—“ডোন্ট মাইন্ড… আই থিঙ্ক তুমি জানো কিনা জানিনা। কিন্তু জাভি ভাইয়া অন্যরকম ছিলো। এসব বিয়ে-টিয়ে বিশ্বাস করতো না। সে মেয়েদের একবারের বেশি ইউজ করতে পছন্দ করতো না… মানে নিজের কাজে একবার ব্যবহার করতো, তারপর আর না। কিন্তু তোমাকে কিভাবে বিয়ে করে এতদিন রাখলো সেটাই ভাবছি।”
তান্বীর বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠলো। সে বুঝলো—এ মেয়েটা খোলাখুলি তার সামনে সত্যি কথাই বলে যাচ্ছে, আর সেটা শুনে তার মনের ভেতর অদ্ভুত এক কাঁপন কাজ করছে।

ক্যাসিনো ক্লাবের ভেতরে মৃদু আলো আর গাঢ় ধোঁয়াটে আবহ। একপাশে সুরেলা পিয়ানো বাজছে, আর অন্যপাশে কয়েকজন উচ্চবিত্ত লোক পোকারে মগ্ন। জাভিয়ান একটা ভিআইপি কর্নারে বসে আছে। ঠোঁটে লালচে ওয়াইনের গ্লাস, অন্য হাতে সিগারের ধোঁয়া ভেসে যাচ্ছে চারপাশে। তার চোখে ঝাপসা আলো আর মুখে হালকা ক্লান্তির ছাপ।
রায়হান, কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে, তার সামনে চেয়ারে বসল। নীরবতা ভেঙে সে বললো——“স্যার, হঠাৎ কী হলো? বিয়ের পর আপনাকে তো একবারও আমি ক্লাব… তো দূর, বাইরে রাত কাটাতে দেখিনি। আজ হঠাৎ?”
জাভিয়ান এক চুমুক ওয়াইন খেলো, তারপর নিঃশ্বাস ফেলে হালকা বিদ্রূপের হাসি দিয়ে বললো——“বাসায় খালা আর কাতারিনা এসেছে। আর তুমি তো জানো… ও আমাকে দেখলেই কী করে।”
রায়হান কৌতূহলী হয়ে বললো—“খালা? আর কাতরিনা?”
জাভিয়ান সিগারের ধোঁয়া ছেড়ে বললো——“হ্যাঁ। আর সেটাই আমার সবচেয়ে অপছন্দের। গায়ে পড়া মেয়ে আমি ঘৃণা করি… সে যেই হোক না কেন। তাই আজ বাসায় যাবোনা।”
রায়হান একটু হাসি চাপল, তারপর সতর্ক গলায় বললো——“কিন্তু মিস গজদন্তনি তো চিন্তা করবে আপনি না গেলে…”

জাভিয়ান ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে গ্লাসটা ঘুরিয়ে বললো——“ও আমাকে নিয়ে চিন্তা করবে না। আমি না থাকলে ও বরং শান্তিতেই থাকবে বাসায়।”
জাভিয়ানের কণ্ঠে যেন ক্লান্তি আর উদাসীনতার মিশেল ছিলো। রায়হান এক মুহূর্ত তাকিয়ে রইলো, ভাবলো—এই মানুষটা আসলে কী লুকিয়ে রাখছে নিজের ভেতরে।

রাত অনেকটা গড়িয়ে গেছে, তবুও জাভিয়ান বাসায় ফেরেনি। ডাইনিং টেবিলে সবাই বসে আলোচনা করছে। হঠাৎ জাভিয়ানের মায়ের ফোনে কল আসে। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে জাভিয়ানের বাবার নাম্বার।
ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে কড়া কণ্ঠ ভেসে এলো—”তোমার ছেলে কোথায় জানো কোনো খবর রাখো, আজ আবার ক্যাসিনোতে গিয়েছে সে।”
এটা শুনে জাভিয়ানের মা ভুরু কুঁচকে তাকালেন। তিনি তখন তান্বীর দিকে ঘুরে বললেন—”তান্বী, তুমি কি জানো জাভি আজ রাতে ক্যাসিনোতে গিয়েছে?”
তান্বী একটু থমকে গেলো, তারপর আস্তে বললো—
“না মম! আমাকেতো কিছু জানায়নি।”
এবার পাশে বসা জাভিয়ানের খালা কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন—”তাহলে জাভি যে এভাবে গেলো, তোমার কোনো ধারণাই নেই?”

জাভিয়ানের মা একটু বিরক্ত স্বরে বললেন—”ওর এসব আগেও ছিলো, কিন্তু তখন সিঙ্গেল ছিলো বলে কেউ কিছু বলতো না। এখন বিয়ে হয়েছে, এসব আর চলবে না।”
খালা তখন ঠান্ডা গলায় তান্বীকে বললেন—“It’s a wife’s job to keep her husband under control. A wife must hold her title tight. Go, bring him back home, Tanbi.”
তান্বীর বুকটা কেঁপে উঠলো। সে আস্তে বললো—”আমিতো জানিনা উনি কোন ক্লাবে গেছেন, আমিতো এসব চিনিনা।”
তখন হঠাৎ কাতারিনা বলে উঠলো—”আন্টি, আমি জানি! আমি জানি জাভি ব্রো কোন ক্লাবে যায়। চলো তান্বী, আমি নিয়ে যাবো তোমাকে।”

জাভিয়ানের মা সঙ্গে সঙ্গে ড্রাইভারকে ডাকলেন—” ড্রাইভার গাড়ি বের করো।”
সবাই তাকিয়ে থাকলো তান্বীর দিকে। সে কিছু না বলে চুপচাপ নিজের রুমে চলে গেলো রেডি হতে। আসলে তান্বী জানে না, কাতারিনার মনে আগেই একটা ছক কষা হয়ে গেছে।লুসিয়া সব ফাঁস করেছে ওকে—জাভিয়ান আর তান্বীর মধ্যে আসলেই কোনো হাজবেন্ড-ওয়াইফ সম্পর্ক নেই।
লুসিয়ার ইচ্ছে একটাই—তান্বীকে কখনোই এই বাড়ির “ভাবি” হিসেবে মানতে হবে না।ওর কাছে কেবল কাতারিনাই উপযুক্ত জাভিয়ানের স্ত্রী হওয়ার জন্য।
এই কারণেই কাতারিনা ভেতরে ভেতরে খেলায় নেমেছে। সে চায়, তান্বীর চোখে জাভিয়ান আরও খারাপ মানুষ হয়ে উঠুক—যাতে তান্বী ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে আর আলাদা হয়ে যায়।

ড্রাইভার গাড়ি বের করলো। কাতারিনা পেছনের সিটে বসতেই তান্বীও পেছনে বসতে যাচ্ছিল।কিন্তু কাতারিনা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল—”তুমি সামনের সিটেই বসো ড্রাইভারের পাশে।”
তান্বীর ভেতরে রাগ ফুটে উঠলো,কিন্তু মুখে কিছু না বলে মনে চেপে রাখল।মাথা উঁচু করেই সামনের সিটে বসল।
অবশেষে গাড়ি এসে থামলো ক্যাসিনো ক্লাবের সামনে।
ভেতরে ঢুকতেই তান্বীর মাথা ঘুরে গেল।চারপাশে বাজে আলো, কর্কশ গান,নেশায় বুঁদ লোকজন আর মেয়েদের অশালীন পোশাক—তার জীবনে প্রথমবার এমন জায়গায় আসা।
কাতারিনা তীক্ষ্ণ চোখে চারপাশে তাকিয়ে এক ঝলকে
জাভিয়ানকে দেখে ফেলল।ও জানতো ঠিক কোন টেবিলে জাভিয়ান বসে থাকবে।

—”তুমি এখানে দাঁড়াও, আমি আসছি,”বলেই কাতারিনা এক সাইডে চলে গেল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সে ক্লাবের এক মেয়েকে কিছু টাকা ধরিয়ে দিল আর কিছু শিখিয়ে দিলো। মেয়েটি তখন টলমল করে হেঁটে গেল জাভিয়ানের টেবিলে, সরাসরি তার পাশে সোফায় বসে পড়লো।
জাভিয়ান ভ্রু কুঁচকালো, বিরক্তি নিয়ে তাকালো,কিন্তু মেয়েটা আরো কাছে ঘেঁষে বসল। কিছু একটা ফিসফিস করতে লাগলো।
ঠিক তখনই কাতারিনা ফিরে এসেতান্বীকে হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে গেল।ইশারায় দেখিয়ে দিল—”ওই দেখো, জাভি ব্রো…”

তান্বী অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো।সে দেখলো, আধো অন্ধকার আলোয়একটা মেয়ে বাজে পোশাক পরে জাভিয়ানের গায়ে গা ঘেঁষে বসে আছে।হাসছে, কথা বলছে।
জাভিয়ান যখন মেয়েটাকে সরাতে যাচ্ছিল,হঠাৎই চোখ ঘুরিয়ে তান্বীকে দেখে ফেললো। তার সাথে দাঁড়িয়ে আছে কাতারিনা।
জাভিয়ানের ঠোঁটে হালকা এক শয়তানি হাসি ফুটলো।
সে আর মেয়েটাকে সরালো না—বরং যেন ইচ্ছে করেই আরও স্বাভাবিক ভঙ্গিতে মেয়েটার সাথে কথায় মেতে উঠলো।
তান্বীর বুকটা হালকা কম্পন দিয়ে উঠলো। কাতারিনার চোখে তখন সন্তুষ্টির ঝিলিক।
তান্বী এবার আর কাতারিনার খেলায় পা দিলো না।
চোখে ভেসে ওঠা জ্বালা আর অজানা রাগকে বুকের ভেতর আটকে রেখেসে একটা “ডোন্ট কেয়ার” ভাব নিয়ে এগিয়ে গেল। সোজা জাভিয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে দৃঢ় গলায় বলল—
“আপনার খালা এসেছেন বাড়িতে। উনি বলেছেন আপনাকে নিয়ে যেতে। তাই আমি আর আপনার খালাতো বোন এসেছি আপনাকে নিতে।”

ক্লাবের শব্দময় পরিবেশ হঠাৎ যেন থেমে গেল তান্বীর কানে।
কিন্তু পাশের মেয়েটা ঠোঁটে বাঁকা হাসি নিয়েমেক্সিকোর ভাষায় জাভিয়ানকে কিছু জিজ্ঞেস করলো—“এই মেয়েটা কে? আর কি বলছে?”
তান্বী কিছুই বুঝলো না ভাষার। তবে জাভিয়ানের চোখের কোণে এক সেকেন্ডের ঠান্ডা ঝিলিক দেখলো।
আর পরের মুহূর্তেই জাভিয়ান ঠোঁটের কোণে সিগার চেপে, অলস ভঙ্গিতে ইংরেজিতে উত্তর দিলো—“She is my wife.”

ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ১৪

তান্বীর বুকটা ধক করে উঠলো।কথাটা কানে বাজলো বারবার—“She is my wife… my wife…”
মেয়েটা অবাক হয়ে জাভিয়ানের দিকে তাকালো।
কিন্তু তান্বীর চোখে তখন স্পষ্ট পড়ে গেল—জাভিয়ানের সেই উত্তরটা কি সত্যিই সম্মানের জন্য, না কি কেবল মুহূর্তের এক ঠান্ডা খেলা?

ডিজায়ার আনলিশড পর্ব ১৫