তাকদিরে তুমি পর্ব ২১
মোনালিসা মেহরোজ
মির্জা বাড়িতে আজ চরম ব্যাস্ততা। চারিদিকে খাবারের সুস্বাদু ঘ্রাণ ভেসে বেড়াচ্ছে। বাহিরে থেকে রান্নার কোন লোক আনা হয়নি। বরং ফাতিহা নিজ হাতে অতি যত্নে সকল খাবারের তদারকি করছে। সাথে এবাড়ির কাজের লোক আর ফরহাদ চাচায় বেশিরভাগ কাজ সামলাচ্ছেন। আযান মির্জার বড় ভাইয়ের স্ত্রী কাশফিয়া মির্জা ও তার দু’মেয়েও হাজির। তবে ভাই আসতে পারেননি গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য। এতে অবশ্য আযান মির্জা কিছু মনে করেননি। এমনিতেই অসুস্থতার কথা শুনে বেশ চিন্তায় পরে গিয়েছিলেন তিনি। শহরের বাহিরে কাজের জন্য যাওয়ায় ভাইয়ের কাছেও আসতে পারেননি একটাবার দেখার জন্য। তবে জানিয়েছেন দু’একদিনের মধ্যে এবাড়ি আসবেন।
আযান মির্জা সোফায় বসে আনমনে পুত্রবধূর সকল ব্যাস্ততা অবলোকন করে চলেছেন। ঠোঁটের কোণায় তার এক টুকরো প্রশান্তিময় হাসির রেশ। বুকের ভেতরটা স্বস্তিতে ভরে উঠেছে। তখনি রান্নাঘর হতে ঘামার্ত মুখে বেড়িয়ে এলেন সায়না মির্জা। ফাতিহা তখন গাজর-শসা কাটছিলো ব্যাস্ত হাতে। বিরিয়ানির সাথে সালাদ হিসেবে দিবে বলে। খেজুর ধুয়ে রেখেছে একপাশে। বেশ কিছু ফলও আছে। সায়না মির্জা সেদিকে একপলক তাকিয়ে মৃদু গলায় আওড়ালেন—-
—আম্মা, তুমি একটু রান্নাঘরে যাও। আমি বাহিরেরটা দেখে আসি কতদূর হলো।
বলা বাহুল্য। রান্নার বেশিরভাগ কাজ ফাতিহার কথা অনুযায়ী বাগানে করা হয়েছে। কারণ পাঁচ-দশ জনের খাবার নয়। এতিমখানা হতে অনাথ শিশু আসবে বেশ কয়েকজন। সাথে আশেপাশের গরিব-মিসকিন সহ অর্ধেক রান্না মসজিদে যাবে। তাই রান্নাঘরে বড় পরিসরে রান্নার কাজ সম্ভব নয় বলে ফাতিহা বাহিরেই এর আয়োজন করেছে। রান্না ঘরে কিছু গরুর মাংসসহ কোরমা চাপানো হয়েছে।
শাশুড়ীর কথায় ফাতিহা মৃদু হাসলো। মাথা নাড়িয়ে না করলো রমণী। বললো—-
—আমি এই মাত্র ওখান থেকে এলাম, মা। ফরহাদ চাচা দেখছেন খাবার। আমি আবারো দেখে আসবো সময় মতো। আপনি একটু বিশ্রাম করুন।
সায়না মির্জা সন্তুষ্ট হন। প্রচুর গরমে বেহাল অবস্থা তার। ততক্ষণে কাশফিয়াও ক্লান্ত মুখে এসে বসলেন সোফায়। মাথার ওড়না আর একটু বাড়িয়ে আযান মির্জার পানে তাকালেন।
—আযান ভাই, ঘরে গিয়ে গোসল সেরে নাও। একটু পর তো জুমার ওয়াক্ত শুরু হবে।
—হ্যাঁ ভাবি। ঠিকই বলেছেন। তারাতাড়ি নামাজ শেষ করে সবকিছুর আয়োজন তো করতে হবে!
—আপনাকে এসব নিয়ে চিন্তা করতে হবে না, বাবা। আপনার ছেলে আছেন, ওনি করে নিবেন।
ফাতিহা কথাটা বলে আড়চোখে সিঁড়ির উপরে রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা আসিফের পানে তাকালো। যে শুরু থেকে নিচের সবকিছু অবলোকন করে চলেছে। ফাতিহার কথায় আসিফের কপালে সুক্ষ্ম ভাজ পরলো। আযান মির্জা ফাতিহার কথার বিপরীতে কথা বললেন না। নিঃশব্দে বসা হতে উঠে ঘরের দিকে রওয়ানা হলেন। পথিমধ্যে ছেলেকে নজর এড়ালো না তারও। তবে বাক্য ব্যায় করলেন না তিনি।
ফাতিহা বসা হতে উঠে বাহিরের দিকে পা বাড়ালো। ফরহাদ নামক মধ্য বয়স্ক লোকটা তখন ঘামার্ত মুখে বিরিয়ানির ডেকচিতে নাড়ুনি দিয়ে নাড়িয়ে যাচ্ছেন। ফাতিহাকে দেখে একগাল হাসলেন তিনি।
—আইছেন আম্মা! দেখেন তো হইলো কি-না?
ফাতিহা মৃদু হেঁসে উঁকি দিলো ডেকচিতে। আগুনের উষ্ণতা তখন পুরো জায়গাটা গরম করে রেখেছে। ফাতিহা নাড়ুনিটা নিজের হাতে নিয়ে দেখতে থাকলো খাবার৷
—পাজামা-পাঞ্জাবী রেখে দিলাম। আধা ঘণ্টার মধ্যে গোসল সেরে জুমার নামাজে যান।
আসিফ বসে ছিলো বিছানায়। হাতে ফোন। এরমধ্যেই ফাতিহা নিঃশব্দে আলমারি খুলে আসিফের পরিধানের জন্য নিদিষ্ট পোশাক বের করে কাঠকাঠ গলায় উক্ত কথাটা বললো। আসিফের ভ্রু কুঞ্চিত হলো। হুট করেই এই মেয়ের কন্ঠে কেমন আদেশ আদেশ গন্ধ পেলো যুবক। যা তার মোটেও পছন্দ নয়। বসা হতে ধীরেসুস্থে উঠে ফাতিহার অভিমুখে পকেটে হাত গুঁজে দাঁড়ালো আসিফ। বলিষ্ঠ দেহের সামনে ফাতিহার ছোট মেয়েলি অবয়বটা বড্ড ক্ষীন দেখালো তখন।
হুট করেই স্বামীর সম্মুখে এভাবে পরাই মুখ তুলে চাইলো ফাতিহা। একহাত আপনা-আপনি ওড়নায় শক্ত হয়ে এলো।
—নামাজে যাবো কি যাবো না সেটা পরের বিষয়। আগে বলো, আদেশ করছো আমায়?
—আল্লাহর ইবাদতে পাঠানোর জন্য স্ত্রী হয়ে স্বামীকে যদি আদেশ করতে হয়-তাহলে করছি।
আসিফ চোখমুখ কুঁচকায়।
—প্লিজ মিস ফাতিহা নূর। অ্যাডভাইস দিয়ো না আমায়।
—ওটা মিস নয়, মিসেস হবে।
আসিফ থমকায়। এই মেয়ে কিভাবে এতোটা সাবলীল গলায় তাকে জব্দ করতে পারে তা ঠিক বুঝে উঠতে পারে না আসিফ! কতটা শান্ত রমণীর চাহুনি, নরম গলা। অথচ সেই কন্ঠও আসিফকে নতজানু করে দিতে বাধ্য করে তার সামনে।
আসিফ ঠোঁট গোল করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ফাতিহার ধূসররঙা আঁখিপল্লবের পানে। ফাতিহাও নিশ্চুপ। আজ স্বামীর দৃষ্টিতে সে নুইয়ে পরলো না, আড়াল করলো না মনের কোনরূপ অস্বস্তি, ভয় বা দ্বিধা।
—আচ্ছা এটা বলো তো এবাড়ি আসার আগে কি ট্রেনিং নিয়েছিলে যে আমার সামনে কখন কি কথা বলবে? কখন কিভাবে জব্দ করবে কথার জালে?
রমণী হাসলো অল্প। চোখের পলক ঝাপটে আওড়ালো—–
—আমি কোন পরিক্ষা দিতে আসিনি যে প্রস্তুতি নিয়ে আসবো। সংসার করতে এসেছি। তাই এসব উদ্ভব কথা না বললে খুশি হবো। আর দয়া করে সময় নষ্ট করবেন না। জুমার ওয়াক্ত শুরু হতে সময় নেই, যান।
—না গেলে?
নিজের কথা শেষ করে পিছু ফিরে চলে যেতে চাইছিলো রমণী। তবে ফের আসিফের প্রশ্নে থেমে গেলো। অতন্ত্য দৃঢ় গলায় আওড়ালো—-
—আপনি যাবেন। নামাজ শেষে মসজিদে খাবার পৌঁছে দিবেন।
—আমি?
—হ্যাঁ আপনি। শুধু তাই নয়। মসজিদে খাবার পৌঁছে দিয়ে বাড়িতে ফিরে এতিমখানা থেকে আসা বাচ্চাদের থালায় প্রথম খাবারটাও আপনিই বাড়বেন। আর মনে রাখবেন, আপনি তাদের পাতে খাবার না বাড়লে সেই পাতে খাবার পরবে না।
আসিফ থমকায়। বলে কি এই মেয়ে! সে খাবার না বাড়লে পাতে খাবার পরবে না মানে? এটা কি রসিকতা? আসিফ ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরলো। কিছু একটা মিলছে না। ফাতিহার সাথে এই আচরণটা ঠিক যাচ্ছে না। সে জেদি তা তো ফাতিহা জানে। এখন জেদের বশে যদি খাবার না বাড়ে তাহলে কি সত্যি সত্যি বাচ্চাদের পাতে খাবার যাবে না? নাহ্, এমনটা তো ফাতিহা নয়। এটা তার সাথে যায়না। এ’কদিনে আসিফ ফাতিহাকে যতদূর চিনেছে তাতে তার সাথে এই কথাটা শোভা পায়না। তাহলে এ কথা সে বলছে কেনো? আসিফ হিসেব মিলাতে পারলো না। আর না মিলানোর মতো অতিরক্তি সময় সে পেলো। তার আগেই ফাতিহা দরজার ওপারে যেতে যেতে আওড়ালো—–
—মনে রাখবেন। যারা আসছে তারা আমাদের অতিথি, মির্জা বাড়ির অতিথি তারা। আর দাওয়াত পেয়ে সেখান হতে প্রত্যাখান হয়ে ফিরলে এটাতে মির্জা বাড়ির মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে। তাই জেদের খোলস ছাড়ুন।
ফাতিহা নিঃশব্দে ঘর ছাড়লো। আসিফ কয়েক মুহূর্ত সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আচমকা নিজের চুলগুলো টেনে ধরলো। দাঁতে দাঁত চেপে ধরলো নিজের। না, এ রাগ ফাতিহার উপর হচ্ছে না। বরং সে নিজের উপর নিজে ভিষন বিরক্ত। আজকাল নিজেকে নিজের বড্ড অচেনা লাগছে যুবকের। ফাতিহার আত্নবিশ্বাসী কথার পাছে বারবার সে ঠকে যাচ্ছে। বারবার নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে এটা-সেটা ঘটে ফেলছে। যা আসিফ মির্জার সাথে যায়না।
আধাঘন্টা বাদে সিঁড়ি বেয়ে পাজামা-পাঞ্জাবি পড়া অবস্থায় আসিফকে আবিষ্কার করে আর এক দফা হতবাক সকলে। কাশফিয়া মির্জা হা করে তাকিয়ে রইলেন। সায়না মির্জা নিজেও ভ্রু গোটালেন। অন্যদিকে আযান মির্জা ফের অবাক হলেন। সদ্যই তৈরি হয়ে নিচে নেমেছিলেন তিনি। সদর দরজার কাছে আসতেই এরূপ দৃশ্য চোখে পরলো। তার বুকের ভেতরটা অদ্ভুত প্রশান্তিতে ছেয়ে গেলো। ছেলেকে এ অবস্থায় দেখে চোখজোড়া কেমন জুড়িয়ে এলো। আজ কত বছর বাদে আসিফকে এই রূপে দেখলেন জানা নেই। আযান মির্জা নিজের অংশের পানে অপলক তাকিয়ে রইলেন। দূর হতে আসিফের নজরও বাবার পানে পরেছে। তবে চোখে চোখ রাখার মতো সাহস পায়নি সে। তাই নজর ফিরিয়ে মাথা নুইয়ে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে আছে। শুভ্র রঙা পাঞ্জাবী তার বলিষ্ঠ দেহে আঁটসাঁট করে লেপ্টে আছে। হাতে বেল্টের ঘরি। মাথার চুলগুলো পরিপাটি করে রাখা। মুখে অবশ্য খুব একটা কোমলতা দেখতে পেলেন না আযান মির্জা। এবং শেষ পর্যায়ে এখানে এসে হতাশার শ্বাস ফেললেন তিনি।
—ধরুন।
ভিষন চমকিত হয় আসিফ। আনমনে মাথা নুইয়ে থাকতে থাকতে খেয়াল করলো স্বীয় স্ত্রী তার পানে শুভ্র রঙা একখানা নামাজের টুপি বাড়িয়ে দিয়েছে৷ আসিফ হাত বাড়ায় না। ফ্যাল ফ্যাল করে টুপিটির পানে তাকিয়ে রয়। এরমধ্যেই আকস্মিক আসিফ অনুভব করে ফাতিহার পায়ের গোড়ালি খানিক উঁচু হয়েছে। রমণী কোমল হাতে স্বামীর মাথায় টুপিটি পড়িয়ে দিলো। অপ্রস্তুত আসিফ। এটার জন্য মোটেও তৈরি ছিলো না সে। তবে ফাতিহা তার অস্বস্তিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজ হাতে টুপি পরিয়ে দিলো।
—মাশাল্লাহ।
মৃদু গলায় আওড়ালো ফাতিহা। আসিফের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। সায়না মির্জা ও কাশফিয়া মির্জা চোখে পানি নিয়ে সেদিকে তাকিয়ে।
—আসিফ চলে আয়। নামাজ পড়তে যাই।
হুট করেই ডাইনিং টেবিলের দিক হতে স্বাধীনের কন্ঠে ধ্যান ভাঙে আসিফের। নজর ঘুরিয়ে নিতেই খেয়াল করে গাজর মুখে পুড়ে তা চিবুতে চিবুতে এদিকে এগিয়ে আসছে তার বন্ধু।
—তুই কখন এলি?
স্বাধীন মুখ বাঁকায়।
—তুই তো দাওয়াত দিলি না। তাই বিনা দাওয়াতেই চলে এসেছি। কখন এসেছি তা দিয়ে কাজ নেই। চল, নামাজে যাই।
বলতে বলতে বন্ধুর হাত ধরে সদর দরজা পেরিয়ে গেলো স্বাধীন। আযান মির্জা সেদিকে একবার তাকিয়ে দু’পা এগিয়ে এলেন। ফাতিহার মাথায় হাত রাখলেন অতি স্নেহের সহীত।
—সুখী হও, আম্মা।
মৃদু হেঁসে আওড়ালেন তিনি। অতঃপর নিজেও মসজিদের উদ্দেশ্য রওয়ানা হলেন।
জোহরের নামাজের পর পর’ই মির্জা বাড়ি থেকে পর্যাপ্ত খাবার গিয়ে পৌঁছালো মসজিদে। আসিফ নিজেই ফরহাদ ও বন্ধু স্বাধীনের সাহায্যে পৌঁছে দিয়ে এসেছে খাবারগুলো। আপাতত ফাতিহার কথা অনুযায়ী বসার ঘরে সুন্দর করে আসন পেতে বাচ্চাদের বসানো হয়েছে। বিশ-পঁচিশজন বাচ্চা হবে। সকলের মাথায় টুপি, পরণে পাজামা-পাঞ্জাবি। ছোট্ট ছোট্ট বেহেশতের ফুলগুলো যেনো একসাথে জায়গা করে নিয়েছে মির্জা বাড়িতে। ফাতিহা অপলক তাকিয়ে রইলো সেই ফুলগুলোর পানে।
এসেই শিশুরা বেশ কিছুসময় কুরআন তেলওয়াত করেছিলো। তাদের সকলের মিষ্টি সুর তখন এদিক-ওদিক ভেসে বেড়াচ্ছিলো মির্জা বাড়ির। ফাতিহার চোখ আনন্দে চিকচিক করে উঠে। শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে। সে সালাত আদায় করেছে খানিকক্ষণ হবে।
এরমধ্যেই একে একে সকল খাবার উপস্থিত করা হলো বসার ঘরে। খাবারের ঘ্রাণে ম ম করছে চারিদিক। ফাতিহা মাঝারি সাইজের একটা গামলায় কিছু খাবার তুলে নিলো। শিশুদের সামনে থালাবাসন দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যে। এখন খাবার পরিবেশন করার সময়। ফাতিহা এদিক-ওদিক নজর বুলালো। তার চোখ খুঁজছে আসিফকে। তবে তার দেখা পাচ্ছে না রমণী। ফাতিহার কপালে ভাজ পরে। চিন্তা হয়। আসিফকে বলেছিলো সে খাবার না বাড়লে শিশুদের পাতে খাবার পরবে না। এটা সে শুধুমাত্র বলেছিলো যাতে আসিফ খাবার পরিবেশন করে। এখানে জোর-জবরদস্তি নেই। শুধু আকাঙ্খা ছিলো ফাতিহার। তবে সে কোথায়? সময় তো হয়ে গেছে। আসিফ যদি নিজের জেদ নিয়ে থাকতো তাহলে এমনটা না যে শিশুরা অনাহারে থাকবে। তাদের পাতে খাবার পরবে না এটা কখনোই ফাতিহার উদ্দেশ্য ছিলো না। ফাতিহা চাইছিলো যাতে আসিফ নিজে থেকে বাচ্চাদের খাবার পরিবেশন করে দেয়। একবেলা দেখুক অনাথ বাচ্চাদের। যারা কিছু না পেয়েও হাসিমুখে দিন যাপন করে। অথচ আমরা?
—মা! আপনার ছেলে কোথায়?
সায়না মির্জা এদিক-ওদিক তাকালেন। প্রথমে কপালে ভাজ পরলেও পরক্ষণেই চমৎকার এক হাসি ফুটলো তার ঠোঁটের কোণায়।
—ওই তো। আসছে।
ফাতিহা তরিৎ নজর ঘোরায়। দেখে স্বামী তার হাতে খাবারের বাটি নিয়ে রান্নাঘর হতে বেড়িয়ে আসছে। মুখে এখন অবশ্য চিরচেনা সেই গম্ভীরতা নেই। না-তো আছে বিরক্তি। ফাতিহা তাকিয়ে রয়। আসিফ এগিয়ে এসে হাঁটু গেড়ে শিশুদের সামনে বসে পরে। আর ঠোঁটের কোণায় এক চিমটি হাসি ফুটিয়ে কোমল হাতে প্রথম পাতে তুলে দেয় খাবারটা। ফাতিহার চোখ ছলছল করে ওঠে। আসিফ ততক্ষণে একে একে সকলের পাতে খাবার বাড়তে থাকে। শিশুদের মাথায় হাত রেখে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রয় সেই পবিত্র মুখগুলোর পানে। শিশুরা তখন তৃপ্তি নিয়ে খাবার খেতে ব্যাস্ত। আসিফ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
তাকদিরে তুমি পর্ব ২০
এই দৃশ্য দেখে অনেকেই থমকে যান। স্বাধীন নিজেও হা করে তাকিয়ে বন্ধুর পানে। সায়না মির্জা আঁচলে চোখ মোছেন। অন্যদিকে অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা আযান মির্জা নিঃশব্দে নিজের ছেলের পানে তাকিয়ে। চোখমুখ একদম শান্ত। দু’হাত পেছনে ভাজ করা। চোখমুখের অভিব্যাক্তি বোঝা দায়। তিনি ছেলের পান হতে নজর ফেরান। ফাতিহার পানে একপলক তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নেন।
