Home তাকদীর তাকদীর পর্ব ১৯

তাকদীর পর্ব ১৯

তাকদীর পর্ব ১৯
নিরুর কল্পনারাজ্য

সম্পূর্ণ বাড়িতে জুনায়েদ একা আয়রার সাথে কীভাবে থাকবে তা মস্তিষ্কে গিয়ে বারংবার বারি খেতেই পুরুষটির সচল মস্তিষ্ক ক্ষণে ক্ষণে অচল হয়ে আসছে।
বরফের ন্যায় স্থির দাঁড়িয়ে সে। তাকে এভাবে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আয়রা শুধালো ধীরকন্ঠে,
— কী বললেন আম্মু?
আয়রার কন্ঠস্বর কর্ণকুহর হতেই তার অফুরন্ত আকাশসম নীল মণিদুটো বাড়ির আনাচে-কানাচে গিয়ে ঠেকলো। শুকনো ঢোক গিলে আমতা আমতা করে আওড়ালো,
— আমম, নাথিং। বললো—আজ নানুবাড়ি এখানে এসে থাকবে।
জুনায়েদের এমন কথায় রমণীর কপালে ভাঁজ পড়লো গাঢ়। আদলে প্রশ্ন! কী বললো এসব? শুধালো সে দ্বিধান্বিত স্বরে,

— জ্বী?
জুনায়েদ তব্দা খেলো, কী বলে ফেললো সে? নিচের লালিত ওষ্ট শক্তপোক্ত দন্ত দ্বারা চেপে ধরে শুধরে নিয়ে ফের বলতে গেলো,
— আই মিন, নানুবাড়িতে থাকবে ওরা আজ!
আয়রা বুঝদার ব্যক্তির ন্যায় ওপর-নিচ মাথা নাড়ালো, অতি ক্ষীণ স্বরে আওড়ালো,
— ওহ!
জুনায়েদের তীক্ষ্ণ চোয়াল জোড়া বেয়ে নিরলস শীতল তরলের অবক্ষয় ঘটছে। ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা! এতোটা নার্ভাস লাগছে পুরুষটির অথচ এর আগে কখনো এমন হয়নি। নার্ভাস লাগার কারণটাই বা কী? জুনায়েদকে এমন অনবরত ঘামতে দেখে ভ্রু কুঁচকে গেলো আয়রার। কোলে আমিরা, ওষুধের কারণে এখন অল্প-স্বল্প জ্বর কমেছে। আয়রা খানিকটা এগোলো সম্মুখে, চিন্তিত হলো তার মন। কৃষ্ণকালো; ঘন ভ্রুদুটো কুঁচকে শুধালো,
— আপনি এভাবে ঘামছেন কেনো? অসুস্থবোধ করছেন?
জুনায়েদ পলক ঝাপ্টে লোচন ফেললো অস্থির চিত্তে চেয়ে থাকা রমণীটির পানে। ছ’ফুট দুই ইঞ্চির পুরুষটির নিকট পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চির আয়রা নেহাৎ-ই চুনোপুঁটি। আয়রার এহেন প্রশ্নে জিহ্বের সাহায্যে ঠোঁটদুটো ভেজালো বখাটে পুরুষটি। পকেট থেকে ডান হাতখানা তুলে নিজের মসৃণ-ফর্সা কপালে হাত বোলাতে বোলাতে আওড়ালো,

— ঘামছি? কোথায়?
— স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, আপনি ঘামছেন।
আয়রার সোজা সাপ্টা স্পষ্ট উত্তর। ঘন কাধ অব্দি উল্ফ কাটের চুলগুলোতে হাত বুলিয়ে জুনায়েদ পরিবর্তে বললো,
— মনে হয় ঘামের টেম্পারেচার কম তাই এসি হচ্ছে বেশি!
মুখ লটকে গেলো আয়রার! আদল বিকৃত করে খানিকটা সময় চেয়ে রইলো পুরুষটির পানে। কুঁচকানো ভ্রুদ্বয় আরও খানিকটা কুঁচকে গেলো। আয়রার প্রশ্নবোধক চেহারাখানায় নজর বোলাতেই পুরুষটির অতি ধূর্ত মস্তিষ্ক মূহুর্তেই বুঝে গেলো——নিশ্চয় সে কোনো না কোনো গড়বড় করে ফেলেছে ফের! চোখদুটো বুজে এলো তার ক্রোধে, ঠোঁট কামড়ে আওড়ালো,
— আই মিন, টেম্পারেচারে এসি কম বোধহয়!
ফের একবার অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো আয়রা। সনে সনে আপনমনে মুখ হতে জুনায়েদের বলা একই বাক্য প্রশ্ন হয়ে বেরিয়ে এলো,

— টেম্পারেচরে এসি কম?
জুনায়েদের এবারে মনে হলো—অফ হোয়াইট রংয়ের দেয়ালে মাথা ঠুকে দিতে। এতোটা আবোল-তাবোল বকছে কেনো? পরিস্থিতি সামলাতে সে বললো,
— কিছুনা, ওপরে বেয়ে সিঁড়িতে যাও।
আয়রা পরিশেষে না হেসে পারেনা, সে হঠাৎ-ই ফিক করে হেসে ফেললো। শব্দ করা সেই হাসি জুনায়েদের কর্ণকুহর হয়ে মস্তিষ্কে পৌঁছুতেই মস্তিষ্ক সংকেত হিসেবে বেপরোয়া পুরুষটির পেটানো দেহে থাকা প্রতিটি রন্ধ্রের কেশদ্বয় খাড়া করে তুললো। শীতল স্রোত বয়ে গেলো সম্পূর্ণ অঙ্গ জুড়ে। রমণীর সেই হাসি কানে বেজে রইলো তার। পুরুষটি একদৃষ্টে চেয়ে রইলো মেয়েটার পানে। নাহ! এবারেও সে সেই অমূল্য হাসি দেখতে পারেনি। আয়রা নেকাব তখনও খোলেনি। জুনায়েদ সম্মোহিত লোচনে চেয়েই রইলো। তার উল্টো কথাগুলো শুনে আয়রা হাসতে হাসতেই আওড়ালো,

— কিন্তু আমাকে তো আল্লাহতায়ালা পাখা দেননি মি. শাহরিয়ার——নইলে অবশ্যই ওপরে বেয়ে সিঁড়িতেই চলে যেতাম।
থেমে থেমে ফের আওড়ালো,
—মি. যায়নাব জুনায়েদ শাহরিয়ারের কী এলার্জির চোটে মাথাটা খারাপ হয়ে গেলো?
জুনায়েদ সেই কথাখানা শুনলো। লোচন নামালো সে। মেঝেতে নিবিষ্ট করে মিনমিনে স্বরে আওড়ালো,
— এলার্জির প্রভাব আর কতটুকু? তোমার মতো লিলিপুটের সামান্য উপস্থিতিই তো আমার মতো বেপরোয়া পুরুষকে পাগল করে তুলতে সক্ষম!
পুরুষটির মিনমিনে স্বর আয়রা শুনতে পেলো না। ফিসফিস শব্দ কানে এসে বাজতেই সে প্রশ্ন করলো হাসি থামিয়ে,
— কী বললেন?
জুনায়েদ মাথা তুলে চায়লো, কন্ঠ খাদে নামিয়ে পেশ করলো,
— উঁহু, কিছুনা।
জুনায়েদের কন্ঠস্বর গভীর কোনো খাদের ন্যায় শোনালো। আয়রা ফের কিছু প্রশ্ন করতে যায়। অথচ কোলে থাকা আমিরা জুনায়েদকে দেখে ইশারায় মাতে,
— আঙ্তেল, আঙ্তেল!
জুনায়েদের পানে তাকিয়ে ছোট্ট সত্বা আমিরা দুহাত তুলে ইশারা করতে ব্যস্ত। জুনায়েদ বুঝলো বুঝি সে নির্বাক বাক্য! সে কদম না আগিয়ে মাথাটা খানিকটা নোয়ালো। ঝট করে আয়রার কোলে লেপ্টে থাকা ছোটো; বাচ্চা কায়াটি বলিষ্ঠ দু’হাতের মাধ্যমে তুলে নিয়ে শূণ্যে ভাসিয়ে রাখলো। আয়রা হকচকিত হলো। বিন্দুমাত্র সময় বিনষ্ট হওয়ার পূর্বেই পুরুষটির আয়রার কোল খালি করে আমিরাকে নিজের মাঝে নিয়ে নিলো কি-না! আমিরাকে স্বল্প নিচে নামিয়ে অধর ছোঁয়ালো তার বা’গালে। ক্লিন শেইভ মুখটাতে তখন অল্প-স্বল্প দাঁড়ি। দূর থেকে দৃশ্যমান নয়, বিন্দু-কণাসম সেসব। সেই খোঁচালো দাঁড়িগুলো আমিরার নরম-সরম ফুলো ফুলো গালে এসে লাগতেই শুরশুরি লাগলো বাচ্চাটার। খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো আচমকা। আমিরার মিহি শব্দের হাসি জুনায়েদকে প্রশান্তির সাগরে ভাসালো। আমিরা হাসির অধিক মাত্রা সইতে ন না পেরে আওড়ালো,
— আঙ্তেল, থামু। চুলচুলি নাগে তু।
জুনায়েদ একটু-আধটু বুঝতে পেরেছে। আমিরার ধূসর বর্ণের চোখদুটোর পানে নিজের নীল চোখদুটো মিলিয়ে আওড়ালো,

— এবার আমারটা দাও, প্রিন্সেস।
বাচ্চাদের স্মৃতি যথেষ্ট পাকাপোক্ত হয়; সেই ধারা বহাল রেখে আমিরার মস্তিষ্ক তাকে ফারিসের কথা মনে করিয়ে দিলো। তাতে তার মুখ থেকে আপনাআপনি বেরিয়ে গেলো,
— ইন্না, আব্বুর ছাথে যেতে দাউনি। তুমি পঁতা!
জুনায়েদের মনটা সঙ্গে সঙ্গেই খারাপ হয়ে গেলো। আচমকা বক্ষস্থলে যেনো গুটিকতক ঘাতক পোকার আক্রমণ ঘটে গেলো। হাস্যোজ্জ্বল আদলে ভর করলো অসীম ধূসর মেঘকূঞ্জ। জুনায়েদের হুট করেই মনে পড়লো এক ধ্রুবসত্য—— সে-তো আমিরার কেউ নয়! ফারিসের জায়গা কখনোই সে নিতে পারবেনা। সম্ভব নয়। অথচ সেই শুরু থেকেই আমিরার প্রতি অনবদ্য এক টান তার। জুনায়েদের আদলে হাসি মিইয়ে যেতে দেখে আমিরার হাসি হাসি বদনখানি মিইয়ে এলো। ছোট ছোট জোড়া হস্ত দুটি পুরুষটির দু’গালে আঁকড়ে ধরে চোখদুটো বড়বড় করে আওড়ালো,
— তুমি মন থারাপ তচ্ছো? মন থারাপ তলেনা, যাও এবালের মতো আমিলা তোমাতে ছেলে দিবে। তিন্তু আর তথনো এমন তব্বেনা, টিতাছে?
আমিরা ফাটফট নিজের গোল গোল হার্ট শেইপের ওষ্ঠযুগলের মাধ্যমে শব্দ করে চুমু খেলো জুনায়েদের নাকের ডগায়। অতঃপর মিহি দু’হাতের তালুর ভাঁজে জুনায়েদের মলিন আদল আঁকড়ে ধরে বললো,
— এবাল থুশি তো?
জুনায়েদ ঠোঁট টিপে হাসলো। হাসির স্তর চওড়া হয়ে অধর নামালো। বললো,

— খুউউউব!
খিলখিলিয়ে হেসে ফেললো আমিরা। আমিরা হাসলে দু’গালে টোল পড়ে। এতো সুন্দর দেখায় তা। জুনায়েদের ও তো একই! সে হাসলে যে বা’গালে টোল পড়ে? পুরুষটির অন্তঃস্থলে ইচ্ছেরা দায়সারা হলো; পাশে থাকা রমণীটির হাসি কেমন তা দেখার অনবদ্ধ এক আকাঙ্ক্ষা জন্মালো। নিজেকে দমিয়ে সে আয়রার উদ্দেশ্যে বললো,
— ওপরে যাও, গিয়ে শাওয়ার নাও। আমরা নিচে আছি।
আয়রা এতক্ষণ আমিরা আর জুনায়েদের খুনসুটি দেখছিলো; ফারিসের কথা হুট করে কানে আসাতে আমিরাকে ধমকাতেই নিচ্ছিলো সে। তবে আমিরার পরবর্তী পদক্ষেপে তা আর হলোনা। আয়রা মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বোঝালো। পরপরই সিঁড়ি বেয়ে ওপরে চলে গেলো।
জুনায়েদ আয়রাকে আগে যেতে বলার কারণ হলো——যাতে সে অস্বস্তি অনুভব না করে, মনমর্জিতে শাওয়ার নিতে পারে।
আমিরা আর জুনায়েদ সোফায় গিয়ে বসলো ততক্ষণে।

সময়ের কাঁটা টিকটিক করে গড়ালো, তখন প্রায় বারোটার নিকটবর্তী অঞ্চলে ঘড়ির কৃষ্ণকালো কাঁটাগুলো। আয়রা শাওয়ার নিতে গিয়েছে প্রায় ত্রিশ মিনিট যাবৎ। জুনায়েদ আর আমিরা বসে বসে ভিডিও গেইমস খেলছিলো, মাঝে জুনায়েদ সময় দেখতে পেয়ে শুধালো বাচ্চাটাকে,
— বার্বিডল!
খেলায় মনোনিবেশ করে আঁখিযুগল ওই যান্ত্রিক ফোনে নিবদ্ধ করে রাখা আমিরা তখন অন্য জগতে। আনমনে জবাব দিলো,
— হুউউউ!
জুনায়েদ স্ক্রিনে হাত চালাতে চালাতে শুধালো,
— তোমার আম্মুর কী শাওয়ার নেওয়া শেষ? কী মনে হয়? যেতে পারবো?
আমিরা ফোনের রঙ-বেরঙের স্ক্রিন ছাড়িয়ে ধূসর রঙা মণিদুটো ঘুরিয়ে রাখলো জুনায়েদের ওপর,
— চাওয়াল? চাওয়াল তী?
জুনায়েদের স্ক্রিনে নিবদ্ধ থাকা কঠোর আঁখিদুটোতে খেলে গেলো হাসির ঢেউ, সিরিয়াস মুখটা ফিক করে হেসে ফেললো,

— শাওয়ার মানে গোসল!
— ওওওও, গোছল?
ফের স্ক্রিনে নজর ঘোরাতে ঘোরাতে বাচ্চা-চিকন মেয়েলি সুরটি আওড়ালো,
— জানিনা তু, তলো—দিয়ে দেতে আছি।
জুনায়েদের ও মনে হলো তাই, এতক্ষণে নিশ্চিত গোসল শেষ। যেই ভাবা সেই কাজ, ফোনটা পকেটে পুরে রেখে দিলো। পরক্ষণেই ঝট করে আমিরাকে কোলে তুলে নিয়ে এগোলো সম্মুখপানে,
— দ্যান, লেটস গো প্রিন্সেস আমিরা!

আমিরা জুনায়েদের গলা জড়িয়ে ধরলো। গ্রীবাদেশে মুখ ডুবিয়ে পড়ে রইলো সেভাবেই।
ক্ষণিকের মাঝেই দুজনে গুটি গুটি পায়ে পৌঁছে গেলো তাদের গন্তব্যস্থলে। দরজায় দু’বার টৌকা দিলো বখাটে পুরুষ। অথচ ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ এলোনা। দরজার হাতলে হাত রাখতেই দেখা গেলো দরজাখানা সম্পূর্ণ আবজে দেওয়া, ভেতর থেকে বন্ধ নয়। জুনায়েদ ভাবলো——আয়রা হয়তোবা বেলকনির দিকটায় রয়েছে, তাই দরজা আবজে দেওয়া। সে নির্দ্বিধায় মেয়েকে নিয়ে প্রবেশ করলো কক্ষমাঝারে। বড় বড় পায়ে এগিয়ে গেলো ডিভানের দিকে। অথচ মাঝেই ঘটলো বিপত্তি। আয়রা সদ্য গোসল সেরে বেলকনি থেকে ভেজা টাওয়াল শুকোতে দিয়ে শুকনো এক টাওয়ালের সাহায্যে লম্বা;ঘন কেশদ্বয় মুছতে মুছতে রুমের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলো। পরনে গাঢ় নীল রঙা এক পাকিস্তানি থ্রি-পিস, বড় বড় হাতা; গাঢ় নীল রঙের মাঝে সাদা পাথরের কারুকার্য। ওড়নাখানা গায়ে জড়ানো নয়; ফলস্বরূপ সম্পূর্ণ গ্রীবাদেশ উন্মুক্ত। ফর্সা; মুক্তোর ন্যায় চকচকে তা। কোথা থেকে জানালার ফাঁক গলিয়ে এক ফালি রোদ্দুর জুনায়েদের সারা কক্ষময় বিচরণরত। সেই সূর্য কিরণের মাঝে আয়রাকে এক টুকরো চাঁদের ন্যায় মনে হলো জুনায়েদের। চকচকে; ঝলমলে; প্রশান্তিদায়ক! বক্ষমাঝারে উচাটন সৃষ্টি হলো। সে কখনো আয়রাকে মাথায় কাপড় বিহীন দেখেি; সেই দৃশ্যখানা দেখার ভাগ্য তার হয়নি। টপটপ পানি রমণীটির কুন্তলরাশি ভেদ করে গ্রীবাদেশ ছাড়িয়ে নিম্নে গড়িয়ে পড়ছে ক্রমশ। সেই চুল তরুণীর শ্বেত বর্ণের ঘাড়ে একপেশে করে রাখা। তাদের দুজনেরই দৃষ্টিমিলন হলো।

জুনায়েদের আজ আয়রাকে দেখার সম্পূর্ণ সূযোগ হলো; উন্মুক্ত; ওড়নাবিহীন; এবং তার ভেজাচুলের স্নিগ্ধ মহিমার একঝলক দর্শন হওয়ার তার ভাগ্য হলো। মন বললো—— চেয়ে রও, এ দৃশ্যের চেয়ে মনোরম দৃশ্য কভু নাহি পাবে!
অথচ তার সচল মস্তিষ্ক তা হতে দিলে তো?
জুনায়েদ——সেই উশৃঙ্খল পুরুষটি আয়রা নামক রমণীর এহেন উন্মুক্ত রূপ দেখেও ব্যতিব্যস্ত হলোনা; চেয়ে রইলো না। বরং ন্যানোসেকেন্ডের মাঝেই সে সসম্মানে মাথা নোয়ালো। তার মাথাটা আপনাআপনি ঝুঁকে গেলো। না-তো সে আর মাথা তুললো আর না-তো তার সেই চোখদুটো আর ওড়নাবিহীন আয়রার পানে গেলো! তার চোখদুটোতে সেসময় হায়া চলে এলো।
আচমকা আয়রা জুনায়েদকে তার সামনে দেখে তব্দা খেলো। হাতে থাকা টাওয়ালটা সরাসরি বুকল জড়ালো। ওড়নাটা যে কেনো বিছানায় ফেলে এলো! ইশ্। নিজেরই কেমন অদ্ভুত লাগলো তার। জুনায়েদ কদম বাড়ালো। সফেদ বেডশিটের বিছানার মাঝে একটুকরো নীল রঙ অর্থাৎ ওড়নাটা পড়ে থাকতে দেখে তা অন্যহাতের মাধ্যমে উঠিয়ে নিলো। সময় নিয়ে ওড়নাটা বাড়িয়ে দিলো আয়রার পানে, ঘাড় ঘুড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই পুরুষটি আওড়ালো নিচু কন্ঠে,

— পরে নাও!
অতঃপর সময় নিয়ে আওড়ালো,
—ডোন্ট ওয়ারি, আমার দৃষ্টি সংযত রয়েছে।
আয়রা খানিকটা সময় স্থির লোচনে চেয়ে রইলো, না আয়রা তাকে এসব শিখিয়ে দেয়নি। না-তো তাকে দৃষ্টি নোয়াতে বলেছে। বরংচ জুনায়েদের চোখে কখনো হায়া ছিলো না! না, কখনোই নয়। তাদের প্রথম সাক্ষাৎ এর ক্ষণে জুনায়েদ তার বাইকের পিছনে এক রমণীর সাথে ছিলো। সে মেয়েটি তাকে জড়িয়ে ধরেছিলো। জুনায়েদ এমনকি তাকে কোনোরূপ সম্মান দেখায়নি। আর আজ? সেই পুরুষ, যে-কিনা ক্লাবিং করে বেড়ায় সে পুরুষ তার সামনে মাথা নত করে? আয়রা কোনো এক ঘোরের মাঝেই ওড়নাটা হাতে নেয়। গলা, এবং মাথায় ভালোভাবে পেঁচায়। বলে,

— হয়েছে!
জুনায়েদ এইক্ষণে মাথা তোলে। আমিরা নিজের জন্মদাত্রীকে দেখে হাত বাড়ায়,
— আম্মু, আম্মুউ!
জুনায়েদের বক্ষস্থল অশ্বের চেয়েও দ্রুত সংকোচন-প্রসারণ হচ্ছে। সে খানিকটা অস্বস্তি নিয়ে আওড়ালো,
— আ’ম..আ’ম এক্সট্রেমলি স্যরি। আমি ভেবেছিলাম তোমার শাওয়ার নেওয়া হয়ে গিয়েছে তাই….
আয়রা আমিরাকে কোলে নিতে নিতে পরিবেশ ঠিক করতে স্বল্প হেসে আওড়ায়,
— ইটস ফাইন।
আমিরা জুনায়েদের কোল থেকে একলাফে মায়ের কোলপ গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়লো। আয়রা সাবধানী স্বরে আওড়ালো,
— ধীরে আম্মাজান!
আমিরা চোখ ডলতে ডলতে আওড়ায় আদো আদো বুলিতে,
— দুমাবো আম্মু।
— আমার মেয়েটার ঘুম পেয়েছে?
মায়ের আহ্লাদী স্বরে ওপর-নিচ মাথা নাড়ে আমিরা। আয়রা মেয়ের ফুলো ফুলো নরম গালে নিঃশব্দে চুমু এঁকে বলে,

— আচ্ছা, আমরা এখন ঘুমাবো তবে।
জুনায়েদ মা-মেয়ের দিকে অপলক তাকিয়ে রয়। জুনায়েদের কাছে সবচেয়ে পছন্দের দৃশ্য হলো—আয়রা এবং আমিরাকে হাসি-খুশি দেখা! জুনায়েদ মনে মনে আজ স্থির করে বসলো,
— পৃথিবীর যত বাঁধাই আসুক না কেনো; জুনায়েদ সর্বদা আয়রা এবং আমিরাকে হাসিখুশি রাখবে।
আয়রার আচমকা দৃষ্টি জুনায়েদের ওপর গিয়ে পড়লো। জুনায়েদ সাথেই সাথেই দৃষ্টি গোপন করলো। গলা ঝেড়ে পূর্বের ন্যায় নিজেকে গম্ভীরতার মোড়কে আবিষ্ট করে আওড়ালো,
— আমি শাওয়ার নিয়ে আসছি দ্যান। তুমি আমিরাকে ঘুম পাড়াও!
আয়রা মাথা দোলালো। আমিরাকে কোলে নিয়ে পিঠে আলতো ছোঁয়ায় হাত বোলাতে বোলাতে বিছানার দিকে গেলো।

জুনায়েদ এগিয়ে গিয়ে কাবার্ডের দিকে গেলো। চিরচারিত পোশাক তার——ক্লোজেটে পুরুষটির অধিকাংশ কাপড় কালো। লোকে বলে কালো রঙ নাকি অশুভ, অথচ জুনায়েদের বাইক হতে শুরু করে স্যুট-ব্যুট সবই কালো। সেই হিসেবেই কালো রঙা একটি টি-শার্ট উঠিয়ে নিলো, যেটা ছিলো অত্যন্ত ফিট। সাথে একটা ছাই রঙা ট্রাওজার। টাওয়াল হাতে নিয়ে গোসলের জন্য গেলো।
অপরপাশে আয়রা আমিরাকে ঘুম পাড়াচ্ছে। মাতৃদুগ্ধ ছেড়েছে বাচ্চাটা কিছুদিন আগেই। এখন মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমোতে পারে। ঘুম ঘুম চোখে আমিরা তন্দ্রাচ্ছন্ন কন্ঠে শুধালো মাকে,

— আম্মি!
আমিরাকে বুকে নিয়ে ঘুম পাড়াতে পাড়াতে জবাব দিলো আয়রা,
— হু, আম্মিজান!
— আমলা আব্বুল তাচে তথন যাবু?
থমথমে হয়ে এলো আয়রার আদল। মেয়ে যে তার বড্ড বাপ পাগল। প্রতিটি মেয়েই বোধহয় এমন। আওড়ালো ধীরে রমণী,
— এখানে ভালো লাগছেনা?
আমিরা দু’পাশ মাথা নাড়ায়, মায়ের বুকে মুখ গুঁজে তাকে জড়িয়ে ধরতে ধরতে বলে,
— উন্নাআ!
— চলে যেতে চান?
— উমমম।
— তাহলে তো আঙ্কেল আর পাবেন না আম্মা!
মায়ের জামার অংশ নিয়ে খেলতে খেলতে জবাব দেয় বাচ্চাটা,
— আঙ্তেলতেও নিয়ে যাবু।
— হু? কোথায়?
— আমাদের বালিতে।

আয়রা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। কীভাবে বলবে সে এখন তার মেয়েকে যে বাবাকে নিজের সর্বকিছু ভাবে আমিরা সেই বাবা-ই তাকে নিজের কাছে যাওয়ার সমস্ত পন্থা বন্ধ করেছে। পরিবর্তে বলে,
— ঘুমান আম্মিজান!
আমিরা অবশ্য মায়ের বকার আগেই ঘুমে তলিয়ে পড়েছে। গতকাল যে সারারাত্রি কেঁদেকুটে অসার হলো। হেতু হিসেবে এইক্ষণে সে দ্রুতই নিদ্রায় তলিয়ে গেলো।
আয়রা মেয়েকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে পড়ে থাকলো। আয়রাকে যখন দ্বিতীয় বিয়ের কথা বলা হলো আয়রা প্রথমবারেই নাকচ করেছিলো তা। জুনায়েদকে দেখার পর তো সে আরও চমকে ছিলো। অথচ, আজ হঠাৎ তার মনে হলো— জুনায়েদ তার তাকদীরের সাথে জুড়ে মন্দ হয়নি।

জুনায়েদের কথা ভাবতে ভাবতেই জুনায়েদ বেরোলো ওয়াশরুম থেকে। ফর্সা ত্বকে বিন্দু বিন্দু জলকণা; চুলগুলো এলোমেলো। চুল মুছতে মুছতে ড্রেসিং টেবিলের সম্মুখে গিয়ে দাঁড়ালো। ড্রেসিং টেবিলখানা যথেষ্ট বড়, আয়নাটাও সে হিসেবে বড়-ই। স্কয়ার শেইপের। জুনায়েদ টাওয়ালটা ভীষণ অবহেলায় একপাশে ছুঁড়ে ফললো, তা গিয়ে আটকালো পাশে থাকা রোলিং চেয়ারে। অতঃপর নিজের চুলগুলো হেয়ার ড্রাইয়ারের সাহায্যে ড্রাই করে অতঃপর আঁচড়ে নিলো তা। ঘাড় হতপ অল্প নিচু অর্থাৎ কাঁধ ছুঁইছুঁই লম্বা চুলগুলো একটা ব্যান্ডের সাহায্যে উপর করে বেধে নিয়ে, মসৃণ কপালের দুদিকে চুল ছড়িয়ে দিলো। তার ঘন কালো চুলগুলো বরাবরই এরকম। কখনো তা পনিটেইল করে রাখা থাকে আবার কখনো-বা খোলা। যখনই সে বেড়োতো অথবা ইন্সটাগ্রামে ভিডিও আপলোড করতো তখনই মেয়েরা বলতো—— জুনায়েদের স্টাইল ই আলাদা। সে সর্বদা উল্ফকাট হ্যায়ারের সাথে লেদার জ্যাকেট এবং ব্যাগি জিন্স পরতো। গলায় সিলভার কাললারের এক্সপেন্সিভ চেইন; হাতে ব্রেসলেট এবং নামি-দামি রিং সর্বদা থাকতো। কালো রঙের লেদার জ্যাকেটটা সর্বদা চেইনবিহীন থাকতো। যখন বাইক রেইস হতো তখন সেই জ্যাকেটটা খোলা হাওয়ায় ঠিক পতাকার মতোই উড়তো। কালো হ্যালমেটের মাঝে থাকা পুরুষটির নীল চোখদুটো জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠতো। মেয়েরা হুমড়ি খেয়ে পড়তো তার ওপর।
জুনায়েদ এবারে চুল আঁচড়ে পাশ ফিরলো। নজর গেলো বিছানা বসে থাকা রূপবতী স্ত্রীর পানে। যে বর্তমানে কড়া চোখে তাকিয়ে আছে তার পানে। থতমত খায় জুনায়েদ। ততক্ষণে আয়রা উঠে বসেছে, ওড়না জড়িয়ে ভালোমতো। জুনায়েদ দু’ভ্রু উঁচিয়ে শুধায়,

— হোয়াট?
আয়রা চোখদুটো ছোট ছোট করে বুকে হাত গুঁজে বলে,
— টাওয়ালটা কোথায় রেখেছেন?
জুনায়েদ কোণা চোখে একবার চায়লো সেদিকে,
— চেয়ারেই তো রাখলাম।
— এভাবে জিনিসপত্র অগোছালো করে রাখা বান্দাদের আল্লাহতায়ালা পছন্দ করেন না। বেলকনিতে শুকোতে দিয়ে আসুন।
ভাব নেয় জুনায়েদ, চুলগুলো ব্যাকব্রাশ করতে করতে শুধায় গম্ভীর কন্ঠে,

— হোয়াট ডু ইয়্যু থিংক? তোমার কথায় আমি এসব করবো?
তব্দা খায় আয়রা। আদলের বাচনভঙ্গি পরিবর্তিত হয়। বেশি কিছু বলে ফেলেছে নাকি? হুট করে এমন গম্ভীর হলো কেনো? তখন স্যরি বলেছে সকলের সামনে, স্যরি বলার আগেও এমন রূর আচরণ করেছিলো। সে হিসেবে নিজেকে যথাসাধ্য শান্ত রেখে ভ্রুখানা আরও কুঁচকে একই কন্ঠে আওড়ালো,
— অবশ্যই।
জুনায়েদ সত্যি সত্যিই হার মানলো। সুরসুর করে গিয়ে বখাটে পুরুষ টাওয়াল টা তুলে নিয়ে বেলকনিতে চলে গেলো। আদলখানা ছিলো তার পাংশুটে। ধীরপায়ে বেলকনিতে এগিয়ে যেতে যেতে আওড়ালো নিচু কন্ঠে,
— হার্টথ্রোব জুনায়েদ শাহরিয়ার কি-না শেষমেশ এই হাফ শোলডারের কথায় নাচছে, হাও অওফুল সিইন!
ফিরে এসে কপালে আছড়ে পড়া চুলগুলো সরাতে সরাতে বিছানার অপরপ্রান্তে বসলো জুনায়েদ। আয়রাকে তার পানে তাকিয়ে থাকতে দেখে গম্ভীর গলায় আওড়ালো,

— তুমি বলেছো বলে যাইনি, ব্যস মনে হলো আমার ওটা শুকোতে দেওয়া উচিত তাই।
— কিন্তু আমি তো তা ভাবিইনি।
— ভাবতেই তো পারো!
জুনায়েদেরও একই উত্তর।
অতঃপর সে আমিরার মাথার কাছে। বাচ্চাটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে শুয়েছে। জুনায়েদ আলতো ছোঁয়ায় হাত বোলালো মেয়েটার মাথায়। হাসি ফুটলো বেপরোয়া জুনায়েদের অধর কোণে। আয়রা দেখলো তা, জুনায়েদের ডাকে সে ফিরে পেলো সম্ভিত,
— ওই হাফ শোলডার!
ভ্রু কুঁচকে গেলো আয়রার। এটা আবার কেমন ডাক?
— আমাকে বলছেন?
জুনায়েদ না তাকিয়ে বললো,
— নোওপ! তোমার মতো দেখতে একটা ঘোস্ট তোমার পেছনে দাঁড়িয়ে, তাকে বলছি! পেছনে ঘুরো, দেখো, ঠিক তোমার ঘাড়েই।
আয়রা পুরুষটির রসিকতা বুঝলো। বেলুনের ন্যায় চুপসে গেলো মুখটা, ভর করলো একগাদা বেখায়ালিপনা। বললো,

— আয়রা নাম আমার, নয়তো ফাহমিদা ডাকুন। এটা আবার কেমন নাম?
জুনায়েদের সোজাসাপ্টা উত্তর,
— যেমন তোমার হাইট, তেমন তোমার নাম।
আয়রা চুপ হয়ে গেলো। জুনায়েদের সাথে তর্কে গিয়ে লাভ নেই। জুনায়েদ ডাকলো আবার,
— লিলিপুট, মম-ড্যাড আসতে আসতে কাল সকাল হবে। ততক্ষণে বাড়ির দায়িত্ব তোমার!
— কাল আসবেন? আচ্ছা, আমি সামলাতে পারবো। সমস্যা নেই, তবে কী কী খাবেন দুপুরে আমাকে বলে দিবেন। আমি বানিয়ে রাখবো।
— বানাবে কেনো? অর্ডার করে নিবো।
জুনায়েদ মনে মনে খুশি হলেও আয়রার কষ্ট হবে ভেবে বললো। আয়রা পরিবর্তে বলে,
— আপনার একে তো এলার্জি তার ওপর আমিরার জ্বর। বাহিরের খাবার খাওয়া ঠিক হবেনা।
— হু, আসলেই তো। আমিরার এখন বাহিরের খাবার খাওয়া ঠিক হবেনা।
সে আমিরার ছোট হাতে চুমু খেতে খেতে জবাব দিলো। আচমকা কিছু মনে পড়ার ভঙ্গিতে আয়রা ডাকলো জুনায়েদকে,

— শুনুন!
এই ‘শুনুন’ ‘শুনুন’ করেই যে মেয়েটা জুনায়েদকে কাবু করছে, এটা কী আয়রা বোঝে? জুনায়েদের বড্ড হৃদয়ে লাগে শব্দটা। এতো মায়া এই ডাকে আসে কোথা থেকে? নাকি এই ডাক আয়রার মুখ হতে নিঃসৃত তাই? জুনাশেদ ঘাড় তুলে চায় রমণীর পানে, অনমনীয় আদলে শুধায়,
— হু!
— বলছিলাম, ওই যে হসপিটালে তখন আমিরা আর আমার নামের পাশে শাহরিয়ার অর্থাৎ আপনার সারনেইম যুক্ত করেছিলেন না? তা আর করবেন না!
ভ্রুখানি কুঁচকে গেলো জুনায়েদের। প্রশ্নে ছেয়ে গেলো সম্পূর্ণ বদন। শুধালো রুক্ষ স্বরে,
— হোয়াই?
— কারণ এটা ইসলামে নিষিদ্ধ!
— হোয়াট?
জুনায়েদ ভীষণ অবাক হয়ে বললো। আয়রা শান্তস্বরে জানালো,
— হ্যাঁ।
— কিন্তু কেনো? আমার ওয়াইফকে আমি আমার সারনেইম দিতেই তো পারি, হোয়াটস অন ইট?
— পারেন না। ইসলামে বলা হয়েছে নিজের পিতৃ পরিচয়ে নিজেকে বহাল রাখতে। সূরা আল আযহাব এর আয়াত নাম্বার পাঁচ-এ এই কথাটি স্পষ্ট বর্ণিত। তাছাড়া, মৃত্যুর পর যখন আল্লাহর দরবারে হাজির হবো তখন সেখানে আমায় আপনার স্ত্রীর পরিচয়ে নয়, আমার আব্বুর পরিচয়ে পরিচিত হব। নিজস্ব বংশপরিচয় যেনো রক্ষিত হয় তাই এই ধারা।
আবার সূরা আল আযহাব এর আয়াত নং-৫ এ বর্ণিত রয়েছে:—-
ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ ۚ فَإِن لَّمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ ۚ وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا
أَخْطَأْتُم بِهِ وَلَٰكِن مَّا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ ۚ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا
অর্থ:“তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো; এটাই আল্লাহর কাছে অধিক ন্যায়সংগত। অতঃপর যদি তোমরা তাদের পিতাদের পরিচয় না জানো, তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই ও তোমাদের ঘনিষ্ঠজন। আর তোমরা অনিচ্ছাকৃতভাবে যে ভুল করেছ, সে ব্যাপারে তোমাদের কোনো অপরাধ নেই; কিন্তু তোমাদের অন্তর যা ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে (তার ব্যাপারে জবাবদিহি আছে)। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
অর্থাৎ পিতৃপরিচয় জানা না থাকলে তা ক্ষমাশীল, তবে পিতৃপরিচয় জানা থাকলে তাকে সেই পিতার পদবী অনুসারে পরিচয় দিতে হয়। আমিরা আপনার আসল মেয়ে নয়, ফারিসের ঔরসজাত সন্তান সে। সেহেতু আপনি চাইলেও আমিরাকে নিজের সারনেইম দিতে পারবেন না। তাকে তার পিতৃ পরিচয়-ই বহন করতে হবে আজীবন।
বুঝতে পেরেছেন? নাকি আরও বিস্তারিত বলবো?
জুনায়েদের মাথায় সবকিছু বুলেটের গতিতে গেঁথে গেলো। বেশ সিরিয়াস ভঙ্গিতেই সে এতক্ষণ সকল কিছু শুনছিলো। আমিরা তার মেয়ে নয়, এই কথাটা জুনায়েদের বুকে তীরের ন্যায় বিধলো। বললো,

— ইয়ার বুঝেছি, বাট ইয়্যু নৌ? ও আমার মেয়ে এখন। ওই ফারিস, স্লাটটার নামও নিবে না। বুঝেছো?
আয়রা অত্যন্ত শান্তভাবে এতক্ষণ সকলকিছু বিশ্লেষণ করে বর্ণনা করছিলো। আচমকা জুনায়েদ গালি দেওয়াতে আদল থমথমে হয়ে গেলো। আওড়ালো,
— এসব কী ধরণের ভাষা?
জুনায়েদ এক ভ্রু উঁচালো, শুধালো,
— হুউ? কেনো? হোয়াটস ইয়্যুর প্রবলেম?
— এসব গালি দেওয়া অনুচিত। আল্লাহতায়ালা…
— কাম’ন ব্রো, আবার শুরু হয়ে যেওনা। আজকাল এসব কে মানে? তোমার….

তাকদীর পর্ব ১৮

হুট করে কিছু মনে পড়ায় সে থামলো। সিরিয়াস হয়ে শুধালো,
— তুমি আমাকে আসার সময় কী যেনো বলেছিলে? আমিরার হেনস্তা? মানে?
হঠাৎ এমন কথায় থমকালো আয়রা। চমকালো খানিকটা। এখন উত্তরে কী বলবে?

তাকদীর পর্ব ২০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here