Home তাকদীর তাকদীর পর্ব ১৮

তাকদীর পর্ব ১৮

তাকদীর পর্ব ১৮
নিরুর কল্পনারাজ্য

— আমাকে কেনো আটকালে আয়রা? ফারিশ তোমার প্রাক্তন স্বামী বলে মায়া হচ্ছে?
ফারিশের নিকট হতে জুনায়েদকে নিজ দায়িত্বে টেনে ধরে লিফটের কাছিকাছি দিকটায় নিয়ে এসেছে আয়রা। ওদিকটা পৌঁছুনোর পরপরই নিজের বাম হাতে আবদ্ধ জুনায়েদের পুরুষ্ঠ ডানহাত খানা নিজের মুঠো হতে ছেড়ে দাঁড়ালো। অকস্মাৎ প্রলম্বিত শ্বাস টানতে আরম্ভ করলো। রমণীর এহেন অস্বস্তিকর দশা দেখে ঘাবড়ালো জুনায়েদ। আদলের অভিব্যক্তি টললোনা তবু। পরপরই নমনীয় অথচ গভীর দৃঢ় স্বরেই শুধালো উপরোক্ত প্রশ্নটি। জুনায়েদের নিকট হতে এহেন অপ্রস্তুতকর প্রশ্নে থমকে গেলো আয়রা। বুকে হাত ঠেসে ধরে হাঁপাতে থাকা রমণীর শীতল এবং দীর্ঘপল্লবযুক্ত মায়াময় আঁখিযুগলের সাহায্যে তাকালো জুনায়েদের পানে। যে আপাতত তার দিকেই চেয়ে কপাল কুৃচকে। আয়রা কিছুক্ষণ নিরুত্তর রয়। চোখে-মুখে নানান উদ্বেগ, রয়েসয়ে সে প্রত্যুত্তর করে জুনায়েদের কঠোর প্রশ্নটির,

— না, সিনক্রিয়েট হোক তা চাইনি।
জুনায়েদের প্রশ্ন থামেনা, সে এক ভ্রু উঁচিয়ে ফের শুধায়। কন্ঠে তার যথেষ্ট দাপুটে ক্রুরতা;,
— ও তোমাকে নিজের বলে দাবী করছিলো, আয়রা! ক্যান ইয়্যু ইমাজিন দ্যাট? হোয়াট হি সেইড, ক্যান ইয়্যু জাস্ট থিংক?
জুনায়েদের শেষ প্রশ্নটিতে লুকিয়ে অধিকারবোধ যা হয়তো সে নিজেও অনুভব করতে পারেনি। সে অধিকারবোধে মিশে রয়েছে একাগ্রতা; একনিষ্ঠতা! তার হিংস্র রূপের বিপরীতে আয়রার শান্ত দৃষ্টি ভেসে আসে। রমণী নিজের নারীছেঁড়া ধন; নিজের অংশ——আমিরার পানে কোমল হস্তদুটি এগোয়। মোলায়েম হাতে কোলে তুলে আগলে নেয় মেয়েকে। জুনায়েদের মসৃণ; ফর্সা কপাল তখনও কুঁচকে। চোয়াল সম্পূর্ণ শক্ত। আয়রার তরফ হতে সে উত্তর তখনও আসেনি যা জুনায়েদকে শান্ত করতে পারে, তার অটল হিংস্রতাকে রূপান্তর করতে পারে শীতল জলে। আয়রা সাথে সাথেই জবাব দিলোনা। প্রথমেই নিজেকে ধাতস্থ করলো৷ ফারিশকে হাসপাতালে দেখতে পাওয়া আয়রার জন্য সবচেয়ে বাজে এক পরিস্থিতি সাথে অভিজ্ঞতা ছিলো। সেই প্রশ্নের জবাবের পরিবর্তে আয়রা আমিরাকে সযত্নে বুকের মাঝে গেঁথে ধরতে ধরতে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লো,

— মিস্টার শাহরিয়ার, আপনি কী অনুভব করেছেন কিছুক্ষণ পূর্বে আপনি কী বলেছেন?
ভ্যাবচ্যাকা খেলো জুনায়েদ। তার প্রশ্নের উত্তর মোটেই তা নয়। তার অসম্ভব সুন্দর গাঢ় ভ্রু দুটো কুঁচকালো দ্বিগুণ। আয়রার প্রশ্নের আগা-মাথা বুঝে উঠতে না পেরে দ্বিধায় শুধালো,
— মানে?
— মানে এই যে, আপনি আমার নিজের বউ বলেছেন! মনে করুন?
জুনায়েদের অসম্ভব রকম কুঁচকে থাকা ভ্রু দুটি এ’পর্যায়ে এসে শিথীল হলো। বিরক্তি যেনো হুট করেই মুখ থেকে উবে গেলো। পরিবর্তে ভর করলো একরাশ অস্থিরতা, কী জবাব দিবে সে? জুনায়েদ যে তখন অত্যন্ত বাজেরকমের ইনসিকিউরড এবং পসেসিভ হয়ে ছিলো! কেনো তা কী সে জানে? জানে হয়তো! নিজের সাথে নিজের এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব আয়রাকে কোনোরূপে বুঝতে না দিয়ে সে তৎক্ষণাৎ নিজের উঁচু নাক বজায় রেখে বললো,
— হু বলেছি, কাবিননামায় তো তাই ছিলো! তাহলে বললে কী প্রবলেম?
আয়রার কন্ঠস্বর অতি শান্ত। তাদের জুটি হলো সবচেয়ে আলাদা! একজন অত্যন্ত ক্ষুদ্র জিনিসেও যদি রেগে যায় তবে অপরজন তা শান্ত মস্তিষ্কে সামলে নেয়। এই মূহুর্তে জুনায়েদ ফারিশের ব্যাপারে হাইপার হয়ে থাকলেও আয়রা নিজেকে সংযত রেখেছে।

— আপনি তো মেনে নেননি আমাদের, তাহলে এটা বলতে আপনার সমস্যা হলোনা?
জুনায়েদ এই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে চায়লো। স্বাভাবিক কন্ঠে ঘাড়ে হাত বুলিয়ে জবাব বললো,
— পরিস্থিতি অনুযায়ী ট্যাকেল দিয়েছি, আমিরা ইজ মাই প্রিন্সেস ইয়্যু নৌ? আর ফারিশ, তোমার এক্স হাসব্যান্ড ওকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে চাইছিলো!
জুনায়েদের শেষটকু বলতে গিয়ে বড্ড বিধলো যেনো। আয়রা পাল্টা কোনো প্রশ্ন করলোনা। সে মেনে নিলো। কথাটি মিথ্যে নয়, জুনায়েদ আমিরার প্রতি দূর্বল। একটু নয়, অনেকটাই। সেই শুরু থেকেই হয়তো, আয়রা তা লক্ষ্য করেছে ইদানীং। ততক্ষণে তাদের পাশে থাকা এলিভেটর থেকে লোকজন বেরিয়ে এলো। মূহুর্তেই খালি হয়ে এলো সম্পূর্ণ এলিভেটর। জুনায়েদ তা দেখে আয়রার উদ্দেশ্যে আওড়ালো,

— কাম ফাস্ট!
আয়রা বিনাবাক্যে এলিভেটরে উঠে পড়লো। জুনায়েদ ‘ফোর’ খচিত বাটনটিতে চাপ প্রয়োগ করে আয়রার পাশাপাশি এসে দাঁড়ালো। দু’পকেটে হাত গুঁজে দক্ষ পুরুষালি ভঙ্গিমায় দাঁড়ালো। মনের মাঝে হাসফাস করছে তার। সে নিজের গভীর নীল চোখদুটো ঘুরিয়ে একপলক তাকালো আয়রার পানে; যে আপাতত অন্য কোনো কল্পনায় বিচরণ করতে ব্যস্ত। জুনায়েদ নিজের নীল চোখদুটো ছোট ছোট করে চায়লো। ঠোঁট কামড়ে বুঝে ওঠার চেষ্টা করলো বাচ্চা বুকে জড়িয়ে পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি মেয়েটার ভাবাবেগ! সক্ষম হলোনা অবশ্য। মেয়েটা কী ফারিশের কথা চিন্তা করছে? হতেও তো পারে! নিজের উদ্বীগ্নতা ধরে রাখা বড্ড দায়ের দেখা দিলো। মনের ভেতরেকার উচাটনের ঢেউ সামাল দিয়ে ওঠার পূর্বেই তা দোলাচল খেয়ে বেড়ে উঠলো এহেন চিন্তা-ভাবনায়। নিজের অনিয়ন্ত্রিত ভাবনা হতে অবশেষে প্রশ্নটি করেই বসলো পুরুষটি,

— তোমার কী তোমার এক্স হাসব্যান্ডকে দেখে কষ্ট হচ্ছে?
জবাব দিলোনা রমণী, নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইলো এলিভেটরে। চেয়ে রইলো সামনে ফুঁটে ওঠা তাদের অবয়বের পানে। দৃষ্টি তার স্থির; স্থগিত। জুনায়েদ আয়রার ভাবাবেগ বুঝতে না পেরে ফের শুধালো,
— হার্টব্রেক হচ্ছে?
শ্লেষাত্মক হাসে তরুণী। বিদ্রুপের স্বরে বলে,
— না, সয়ে গিয়েছে।
স্বস্তি পেলো যেনো জুনায়েদ। উত্তাল সমুদ্রের ন্যায় মন শান্ত হলো নিমিষেই। জুনায়েদ ভেবেছিলো আয়রার হৃদয়ের কোনো এক কুঠুরিতে বন্দি রয়েছে ফারিশ নামক তাগড়া যুবকটি। সেই ভাবনার রেশকে অনুগত করে জুনায়েদ প্রশ্ন করেই বসলো,
— তাহলে, তোমার ওর জন্য কোনো অনুভূতি নেই?
হাসে অল্প আয়রা। বিন্দুমাত্র সময় ব্যয় না করেই জবানখানায় বলে,

— না।
আস্বস্ত হলো জুনায়েদ। খানিকটা সময় তাদের মাঝে নিরবতা বহমান রইলো। অতঃপর দীর্ঘ এক নিরবতার শেষপ্রান্তে এসে আয়রা নিজ থেকেই বিড়বিড়িয়ে উঠলো,
— আপনার কী মনে হয়? আমার মনে এখনো তার জন্য জায়গা থাকবে? এতোটাই সহজ? উঁহু! সহজ নয়। আমিরা জন্মানোর মাত্র দেড় বছরের মাথায় আমি যার পরকীয়ার কথা জানতে পারি, এমন নিকৃষ্ঠ ঘটনা অবগত হওয়ার পরও যার সাথে দিনের পর দিন সংসার করতে পারি কেবল এই আশায়–একদিন হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। আবারও ফারিশ দ্বীনের পথে ফিরে আসবে, যে আমার মেয়ের হেনস্তাতেও চুপ থেকেছে তার জন্য আমার মনে কোনো অনুভূতি নেই। আমি একজন স্ত্রী হিসেবে বড্ড নাজুক হলেও একজন মা এবং আল্লাহর বান্দী হিসেবে অভেদ্য এক কুণ্ডলী! মায়েদের কখনো নরম হতে নেই; মায়েদের হতে হয় পাহারের ন্যায় অটল; সমুদ্রের ন্যায় শক্তিশালী এবং আকাশের ন্যায় বৃহৎ আশ্রয়স্থল! আর আমি–ফাহমিদা শেখ আয়রা, নিজের মেয়ের কথা ভেবে সেই পাপীকে দ্বীনের পথে ফেরাতে চেয়েছি যে ঘরে স্ত্রী-সন্তান রেখে প্রতিদিন পতিতালয়ে যেতো। আবার আমিই সেই নারী–যে-কিনা নিজের সন্তানের জন্য সেই অট্টালিকা থেকে বেরিয়ে সমাজের নিম্ন কটু বাক্য এবং ডিভোর্সী তকমা গায়ে লাগাতে দ্বিতীয়বার ভাবিনি। আমি ফারিশের কাছে দূর্বল সত্তা হয়ে থাকলেও আমার মেয়ের কাছে আমি কঠোর এক দেওয়াল! যার অটল এবং দুর্ভেদ্য কারুকার্য পেরিয়ে পৃথিবীর কোনো বদনজর আমার মেয়েকে স্পর্শ করার ক্ষমতা রাখেনা। আমি লাগতে দেবোনা।

বলতে বলতে মাথায় চুমু খেলো সে মেয়ের মাথায়।
জুনায়েদের মনে হলো–সে বুঝি আজ নতুন এক আয়রাকে উদ্ভব করেছে। সে কোনো নারী নয়; স্ত্রী নয়, নয় কারো সন্তান। সে একজন মা, যে নিজের সন্তানের রক্ষার্থে পুরো পৃথিবীর সাথে লড়ে যেতে পারে। সে নির্নিমেষ চেয়েই রইলো। অথচ আয়রা তার পানে ফিরে না চেয়েও তা অনুভব করতে পারলো। কয়েক সেকেন্ডের মাঝেই তারা এসে পৌঁছুলো তাদের সর্বশেষ গন্তব্যে। চতুর্থ তলায় শিশু ডক্টর থাকেন। জুনায়েদের এপয়েন্টমেন্টের প্রয়োজন পড়লোনা, যায়নাব জুনায়েদ শাহরিয়ারের নিকট থোড়াই এসবের প্রয়োজন পড়ে? ঢাকা শহরের সম্পূর্ণ হাই সোসাইটি যে চষে বেড়ায় তার আবার এসবের কিসে প্রয়োজন? সে সরাসরিই সেই হসপিটালের অথোরিটির কাছে ফোন করলো। ডক্টর সালাউদ্দিন সম্ভবত আজ দশটার পর নিজের চেম্বারে চলে যাবেন হসপিটাল থেকে। তা শুনে জুনায়েদ নিজের হাত ঘরিতে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো। ইতোমধ্যেই দশটা দশ। অর্থাৎ ডক্টর বেরোনোর পথে। জুনায়েদ সেই ডক্টরকে কিছুক্ষণের জন্য থামানোর আর্জি জানালো অথোরিটির কাছে। কথাবার্তার এক পর্যায়ে সে আয়রার কাছে এসে বললো,

— এসো দ্রুত, ডক্টর সম্ভবত এখুনি বেরিয়ে যাবেন। আমি কিছুক্ষণের জন্য আটকে রেখেছি।
জুনায়েদের সাথে আয়রা কেভিনে ঢুকলো। ততক্ষণে আমিরা জেগেছে। পিটপিট করে নিজের ডাগর ডাগর আঁখিযুগলের মাধ্যমে সে আশপাশটা নিগূঢ় পর্যবেক্ষণে আবদ্ধ করলো। যেই-না বুঝতে পারলো এটা হসপিটাল তখুনি বাচ্চা তনু তার কেঁপে উঠলো। আয়রার কাঁধের কাছের বোরকা খামচে মাকে ডাকলো ভীষণ নরম এবং দূর্বল সুরে,
— আম্মুজান, এতা কুতায়?
আয়রা মেয়ে জেগে উঠেছে বুঝতে পেরে তার মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলো কেননা আমিরা হসপিটালকে বড্ড ভয় পায়,
— কোথায় না আম্মিজান, আপনি ঘুমোন।
আয়রা নিম্নস্বরে আয়রাকে অভয় দিলেও সে নাছোরবান্দা। মাথা উঁচিয়ে ঘাড় ঘুরোতেই সাদা ডাক্তারি পোশাকে আবৃত মাঝবয়সী লোকটিকে দেখামাত্রই তার সংবেদনশীল কায়া যা বোঝার বুঝে গেলো,

— উন্না, এতা তো হপপিটাল। আমনি(আপনি) আমাতে এতানে নিয়ে এতেছেন তেনু? ইনজিশন(ইনজেকশন) দিতে?
আমিরার চক্ষুযুগল ছলছল করে উঠলো। টুইটম্বুর হলো স্বচ্ছ নোনাজলে। অন্তঃকরণ ভীত হলো অজনা শঙ্কায়। জুনায়েদকে দেখে ডক্টর সালাউদ্দিন উঠে দাঁড়ালেন। বড্ড ভালো করে চেনেন তিনি জুনায়েদ শাহরিয়ারকে। এক নাম্বারের বেয়াদব ছেলে। ভদ্রতার ছিঁটেফোঁটাও যার মাঝে নেই। ডক্টর সালাউদ্দিন উঠেই প্রথমে সালাম দিলেন,
— হ্যালো স্যার, আসসালামু আলাইকুম!
না, ডক্টর সালাউদ্দিন সালামের ফিরতি জবাবের আশায় জুনায়েদকে সালাম জানাননি। তিনি কেবল ভদ্রতার খাতিরে সালাম জানিয়েছেন এই উশৃঙ্খল পুরুষটিকে। অথচ জুনায়েদ তাকে অবাকতার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে তুলে নিয়ে জবাবে অত্যন্ত শীতল কন্ঠে সালামের ফিরতি জবাব দিলো,

— ওয়ালাইকুম আসসালাম!
এই শব্দটি সে আয়রার নিকট হতে বহুবার শুনেছে। অবশ্য, শুধু আয়রা নয়। তার আব্বু-আম্মুও নিজেদের মধ্যে কথোপোকথন শুরু করার পূর্বে একে অপরকে সালাম জানাতো। তবে জুনায়েদ কভু সেসব আমলে না নিলেও আয়রা আসার পর হতে তার এসবেও বেশ আগ্রহ জেগেছে। কেনো কে জানে! সেই কৌতুহল হতেই এবং পরবর্তীতে সে যাতে আয়রার সালামের ফিরতি জবাব দিতে পারে তাই সে নিজেকে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করছে। তাছাড়া, আমিরাও তাকে একবার বলেছিলো অবশ্য! ডক্টর সালাউদ্দিন হতবিহ্বল হয়ে চেয়ে রইলেন। এই ছেলে এতোটা ভদ্র কবে হলো? পাশেই একজন অতি সুন্দরী রমণী এবং তার কোলে বাচ্চা দৃশ্যমান হতেই সে আরও খানিকটা অবাক হয়। তাইতো সে ভাবছিলো যে কেনো হঠাৎ জুনায়েদের তাকে প্রয়োজন পড়লো। জুনায়েদ তাদের কথোপকথনের মাঝে আমিরাকে ভয় পেতে দেখে দ্রুত বেগে নৈকট্যে গেলো তার। কোলে নিতে নিতে শুধালো,

— হোয়াট হ্যাপেন্ড?
আয়রা ক্ষীণ স্বরে জবাবে বললো,
— তেমন কিছু না, আমিরা হসপিটাল ভয় পায় একটু।
জুনায়েদ আমিরাকে কোলে নিতে নিতে তার পানে নিজের নীল সায়রের ন্যায় গভীর আঁখিযুগলের সাহায্যে দৃষ্টিপাত করলো। বুকে জড়িয়ে নিতেই শুধালো নমনীয় কন্ঠে,
— তাই নাকি প্রিন্সেস?
আমিরা ওপর-নিচ মাথা নাড়লো। জুনায়েদ আমিরার মাথায় আলতো করে চুমু এঁকে আওড়ায়,
— উঁহু, ভয় পায় না মামণি। আমার প্রিন্সেস তো ব্রেইভ গার্ল। আঙ্কেল আছি না? সব ঠিক হয়ে যাবে!
আমিরা কিছু বলার পূর্বেই তার নজর যায় ডক্টর সালাউদ্দিনের হাতের পানে। যিনি বসতে বসতে আপাতত তাদের বলছেন,
— আপনারা বসুন প্লিজ!
ডক্টর সালাউদ্দিন তখন ড্রয়ার হতে একটি ইনজেকশন বের করছিলেন। আয়রা চেয়ারে বসলো। জুনায়েদও যেই-না বসতে যাবে তখনই বাধলো বিপত্তি। আমিরা জুনায়েদের প্রশস্ত বক্ষের বা’পাশের শার্টের কিছুটা অংশ নিজের তুলতুলে হাতের মাঝে পুরে পুরুষটির বুকে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে বলে উঠলো,

— আঙ্তেল, ইনজেশন।
আমিরার কাঁপা কাঁপা ভঙ্গুর কন্ঠস্বরে চোখ উঁচিয়ে ডাক্তারের ওদিকে চায়তেই জুনায়েদের চক্ষু চড়কগাছ। ডক্টর সালাউদ্দিনের কাছে ইনজেকশন। জুনায়েদের স্থির; কঠিন বুকের মাঝে কাঁপন ধরিয়ে দিলো তা। ভ্রুদ্বয় কিঞ্চিত কুঞ্চিত হলো শঙ্কায়! এ’কি? এখন কী আমিরাকে ইনজেকশন দেওয়া হবে নাকি? জুনায়েদ তা কী করে দেখবে? ভাবতেই তো বেচারার দম আটকে এলো! আমিরার ছোটো ছোটো ধূসর বর্ণের চোখদুটো মনস্পটে ভেসে উঠলো তার। মূহুর্তেই তার গম্ভীর ব্যক্তিত্ব উবে গেলো কোথাও; বাচ্চাটার মাথায় চুমু খেয়ে ফিসফিস কন্ঠে আওড়ালো,
— আমাদের ইনজেকশন দিতে হবেনা প্রিন্সেস, আঙ্কেল তোমাকে ইনজেকশন দিতে দেখতে পারবেনা। চলো আমরা পালিয়ে যাই, তোমার আম্মু দেখার আগেই।

জুনায়েদ সত্যি সত্যিই তা করলো। আয়রা তখন ডক্টরের সাথে কথা বলছিলো। যেহেতু জুনায়েদ আমিরার পরিস্থিতি সম্পর্কে ততটা অবগত নয় সেহেতু সে-ই ডক্টরকে সকলকিছু বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে আরম্ভ করলো। অপরদিকে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জুনায়েদ এক বাচ্চামো করে বসলো। এক পা…দু পা করে পেছাতে আরম্ভ করলো। আয়রা নিজের পাশে জুনায়েদকে না দেখে হঠাৎ করেই কপাল কুঁচকে পাশে তাকালো। তাদের খোঁজে পিছু ফিরতেই জুনায়েদকে দরজার কাছে দেখে কুঞ্চিত কপাল আরও কুঁচকালো। জুনায়েদ ধরা পড়ায় অপ্রস্তুত হলো। সটান হয়ে দাঁড়িয়ে দৃষ্টি এপাশ-ওপাশ ঘোরালো। অস্থির মণি দুটো স্থির হলো আয়রার দু’চোখের মাঝে। অস্বস্তি কাটাতে শুধালো,
— কী?
জুনায়েদ স্বাভাবিক কন্ঠে শুধালেও আয়রার কন্ঠ অস্বাভাবিক। সে দ্বিধান্বিত স্বরে শুধালো,
— আপনি ওখানে কী করছেন?
জুনায়েদ ঢোল গিলে গন্ডদেশ ভেজালো। গলা খাঁকারি দিয়ে জবাবে বললো,
— কী করবো? একটু পানি খাবো ভাবছিলাম।
ডক্টর সালাউদ্দিন ভ্রু কুঁচকে চেয়ে আছে। দেখে তো দুজনকে হাজব্যান্ড-ওয়াইফ ই মনে হচ্ছে। জুনায়েদ বিয়ে কবে করলো আবার বাচ্চা-ইবা কবে হলো? অদ্ভুত! সকল কিছুই গুলিয়ে ঘেটে যাচ্ছে। তিনি পাশ থেকে পানির বোতল টা এগিয়ে দিতে দিতে বললেন,

— মি.শাহরিয়ার, এই যে পানি।
জুনায়েেদর কাছে অন্য কোনো রাস্তা রইলোনা। অগত্যা, হতাশ ভঙ্গিমায় ধীরে সুস্থে গিয়ে আয়রার পাশে বসলো। আয়রা একবার তার পাশে বসা পুরুষটির পানে নজর নিবিষ্ট করলো। ন্যানোসেকেন্ডের মাঝেই তা আবার ফিরিয়েও নিলো। জুনায়েদের দৃষ্টি আপাতত ইনজেকশনের পানে। আয়রা তা লক্ষ্য করলো। আয়রা ডক্টরের সাথে নিজের কথোপকথন অব্যাহত রাখলো,
— গতকাল একটু বেশি কান্না করেছিলো মেয়েটা, এখন জ্বর ১০৪° থেকে ১০৩°। নামছেই না, আর খওায়ার রুচিও নেই।
— হুম, বুঝতে পেরেছি। প্রেসক্রিপশনে কয়েকটা ওষুধ দিচ্ছি, আর ডোজ দিয়ে দিবেন আজ একটা যদি ওষুধ খাওয়ার পরও জ্বর না নামে। আশা করি নেমে যাবে। সিরাপ দিচ্ছি, ফার্মেসী থেকে কিনে নিবেন।
আয়রা মাথা নাড়লো। মাঝে জুনায়েদ আচানক শুধিয়ে বসলো,

— ওকে কী ইনজেকশন দিতে হবে?
ডক্টর প্রেসক্রিপশন লিখছিলেন। জুনায়েদের কথায় তিনি মুখটা তুলে একপলক চায়লেন জুনায়েদের পানে। প্রত্যুত্তরে বললেন,
— কেনো? ওর জ্বর তো তেমন গুরুতর নয়। ইনজেকশন দিতে হবেনা এই জ্বরে।
জুনায়েদের বক্ষস্থলে যেনো এইক্ষণে পানি এলো। আপনমনে রক্তিম ঠোঁটদুটো গোল করে শ্বাস ফেললো। অতঃপর জিহ্ব দ্বারা ঠোঁট ভেজালো। আমিরাকে নিচু কন্ঠে বললো,
— আম্মু, ইনজেকশন দিতে হবেনা! ডোন্ট ওয়ারি।
কিছুক্ষণের মাঝেই কথাবার্তা শেষে তারা বেরিয়ে এলো। জুনায়েদ আমিরাকে নিয়ে ফার্মেসির দিকে এগোলো ওষুধের তাগিদে। ডাক্তারের দেওয়া প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নিজে দেখে দেখে সকল ওষুধ পরখ করে কিনলো। পিছুপিছু অবশ্য আয়রাও রয়েছে। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী কাশির সিরাপ, জ্বরের ওষুধ সহ ডোজ নিলো সে। আয়রা ফার্মেসির ভীড়-ভাট্টায় না দাঁড়িয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে। কিছুসময়ের মাঝে জুনায়েদ ওষুধগুলো নিয়ে এলো। আয়রা তাকে দেখেই কাছে থাকা ওষুধগুলো নিজের হাতে নিতে নিতে আওড়ালো,

— দিন, আমাকে।
জুনায়েদ হাত গোটাতে গোটাতে জবাবে বললো,
— উঁহু, নো নিড। আই ক্যান ক্যারি বাই মাইসেল্ফ।
তাদের কথোপকথনের মাঝেই আমিরা হঠাৎ গুণগুণিয়ে ডেকে উঠলো,
— আঙ্তেল।
আমিরার আওয়াজ ফিসফিসালো, যেনো আয়রার কান অব্দি না পৌঁছায় তা। সে মাথাটা সামান্য ঝুঁকিয়ে কান পেতে শুনতে চায়লো কী বলতে চায়ছে মেয়েটা,
— হু?
— তকলেত।
জুনায়েদ বুঝলোনা সারে তিনবছরের বাচ্চা কায়া আমিরার আদো আদো ভঙ্গুর বুলি। সে ফের শুধালো,

— কী বললে মামণি?
আমিরা নিজের মুখখানা হালকা উঁচিয়ে আওড়ালো,
— তকলেত।
জুনায়েদ না বুঝলোও আয়রা মূহুর্তেই ধরে ফেললো মেয়ের আকাঙ্ক্ষা। এমন অযাচিত ইচ্ছায় তার ভ্রু কুটি হয়ে এলো। সাবধানী এবং কড়া স্বরে বুলি ছুঁড়লো,
— না, আম্মিজান। একদম না।
জুনায়েদ বুঝলোনা কিছু, কেবল বুঝলো মেয়েটা বাচ্চাটাকে ধমকাচ্ছে। আমওরার ছোট্ট আদলখানা এইটুকুনি হয়ে গেলল চুপসে। ঠোঁট উল্টে কাঁদবে কাঁদবে ভাব। জুনায়েদ তা দেখে আয়রার উদ্দেশ্যে বললো,
— আহ! বকছো কেনো? কী চায়ছে?
— চকলেট চায়ছে, জ্বরের সময় এসব খাওয়াবো?
—চকলেট খাবে?
জুনায়েদ আয়রার কথা শুনে মোলায়েম কন্ঠে আমিরা হতে শুধালো। আমার নিঃশব্দে ওপর-নিচ মাথা নাড়ালো। জলে টুইটম্বুর আখিঁযুগল। সেই স্নিগ্ধ চোখদুটির মাঝে চেয়ে থেকে জুনায়েদ খেঁই হারালো। অনুভর করলো——ভেতরের কিছু একটা ভেঙেচুড়ে আসছে। গন্ডদেশ শুকিয়ে এলো তার। ঢোক গিলে ভঙ্গুর কন্ঠে আওড়ালো,

—অমন কান্নামাখা চোখে তাকাতে হয়না আম্মু! আপনার ধূসর বর্ণের চোখদুটোতে পানি দেখলে আঙ্কেলের বুক ভেঙে আসে; মনে উচাটন শুরু হয়; মন খারাপেরা জেঁকে বসে।
অতঃপর ছোট করে চুমু আঁকলো পুরুষটি আমিরার ক্রন্দনরত ভেজা আঁখিপল্লবে। সেই ছোঁয়াতে ছিলোনা কোনো বিতৃষ্ণা, অন্যের সন্তান বলে না-তো কোনো অবহেলা! যা-ছিলো তার সবটুকুই পিতৃস্নেহ!
আয়রা চেয়ে রইলো সেদিকপানে। নিজের সন্তান না হওয়ার সত্তেও কাওকে কী এতোটা যত্নে রাখা যায়? তাও আবার জুনায়েদ শাহরিয়ারের দ্বারা? এ’ও সম্ভব? তার ভাবনাগুলোর মাঝেই জুনায়েদ ওদিকের স্টোরে গিয়ে গুটিকতক পলিথিন ভর্তি চকলেট কিনে নিয়ে এলো। সবকটা মোটামুটি এক্সপেন্সিভ ই ছিলো। এই এতগুলো চকলেট দেখে আমিরার খুশি আর দেখে কে? এবারে জুনায়েদের এক এবং একমাত্র লক্ষ্য হলো আমিরাকে ওষুধটা খাইয়ে দেওয়া। আয়রা এবং জুনায়েদ গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলো।

— ওষুধ খাইয়ে দিলে তো জ্বর থাকবেনা তাইনা?
জুনায়েদ আয়রাকে যেতে যেতে প্রশ্ন করলো।
— আশা তো তাই রাখছি।
আয়রা নিচে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থেকে তার প্রত্যুত্তর করলো। জুনায়েদ তা খেয়াল করলো। গাড়ির কাছে আসতেই সে এগিয়ে গিয়ে কারের ডোর ওপেন করে দিলো। আয়রা গিয়ে সেখানটায় বসলো। অতঃপর জুনায়েদ ধীরেসুস্থে আমিরাকে হস্তান্তর করলো মায়ের কাছে। পরিশেষে নিজেও গিয়ে তাদের পাশে বসে পড়লো। পরপরই গাড়ি স্টার্ট করা হলো। আয়রা তখনও অন্যমনষ্ক। সেই অন্যমনষ্ক রমণীটিকে বাস্তবে ফেরাতে জুনায়েদ ডাকলো তাকে। জুনায়েদ মেয়েটার নির্লিপ্ততা যেনো বুঝতে পারছে।
— এই নাও, ওকে ওষুধটা খাইয়ে দাও।
জুনায়েদ পানির বোতল, ওষুধটা আয়রার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো। জুনায়েদের চেয়ে আয়রা-ই ছলে-বলে-কৌশলে আমিরাকে ওষুধ খাইয়ে দিতে পারবে। তাই সে আপাতত এই দায়িত্ব আয়রার কাঁধেই গছিয়ে দিলো। আয়রার যেনো হুশ ফিরলো,

— হু?
— সাধে কী তোমায় বয়রা ডাকি?
জুনায়েদের এমন কথায় এবারে রমণী কোনো তর্কে জড়ালো না। চুপচাপ পানির বোতল আর ওষুধ নিয়ে আমিরাকে খাওয়ানো আরম্ভ করলো। তা দেখে জুনায়েদ খানিকটা চিন্তিত হলো। আয়রার মুড ঠিক কী করলে ঠিক হবে বুঝে উঠলোনা সে। তবে নিজের এহেন পরিবর্তনে যারপরনাই অবাক হয় সে। একদৃষ্টে তার নীল মণিদুটে স্থির হয়ে থাকে আমিরাকে ওষুধ খাওয়ানের চেষ্টায় রত থাকা আয়রার পানে। আনমনে বিড়বিড়িয়ে বলে,
— আমার মতো মারামারি আর পার্টি করা জেদী ছেলের ২২ বছরের রেকর্ড ভেঙে ফেললো; কী মারাত্মক ডেইঞ্জারাস এই হিজাবিনী। জাস্ট লাইক আ ‘কালোজাদুকরনী।’
জুনায়েদ যেনো কোনো একঘোরে আটকে গিয়ে কথাগুলো আওড়ালো। তার নজর দুটোতে তখন একরাশ মুগ্ধতা। নিজে নিজেই মুচকি হাসলো সে।
এভাবেই তারা বাড়িতে পৌঁছে গেলো। তবে বাড়িতে এসেই বাধলো এক বিপত্তি। বাড়ি তো সম্পূর্ণ ফাঁকা। জুনায়েদ তা দেখে কপাল কুঁচকালো, বিড়বিড় করলো,

— এরা আবার কোথায় উধাও হয়ে গেলো?
অতঃপর আয়রার পানে নজর রেখে শুধালো,
— তুমি জানো কিছু? বলে গিয়েছে তোমায়?
আয়রা নিজেও হতবিহ্বল,
— কই না-তো! আমিতো আপনার সাথে বেরোলাম। কথা বললাম—অথচ আমাকে তো কিছু জানাননি।
— এক কাজ করি, ফোন দিয়ে দেখি।
জুনায়েদ পরক্ষণেই ফোন বের করে রুহানি সৈয়দের নাম্বার ডায়াল করলো। রিং পড়তেই তা রিসিভ হয়ে গেলো যেনো।তার একটি কলের অপেক্ষাতেই তিনি বসে ছিলেন। কল রিসিভ হতেই জুনায়েদ গম্ভীর স্বরে শুধালো,
— হ্যালো মম? হোয়্যার আর ইয়্যু? ড্যাড কোথায়?
তিনি ছেলের কথার জবাবে স্বল্প হেসে জবাবে বললেন,

— আমরা একটু তোমার নানুবাড়ি এসেছি!
বিস্মিত হয়ে পড়লো জুনায়েদ। চোয়াল ঝুলে গেলো তার,
— তাই বলে আমাদের একা ফেলে?
— ইমারজেন্সি ছিলো, আব্বু!
— কবে ফিরছো?
— কালই চলে আসবো।
— আজ থাকবে?
— হ্যাঁ, থাকবো। আচ্ছা, আমি তোমায় পরে ফোন করছি কেমন? আয়রার খেয়াল রেখো; আমিরাকে দেখে রেখো। ফি আমানিল্লাহ!
তিনি দ্রুততায় ফোন কেটে দিলেন। সামনেই এহমাদ শাহরিয়ার। তিনি মুচকি হাসলেন স্বামীর পানে চেয়ে। এহমাদ শাহরিয়ার শুধালেন,

— ওরা কী সামলাতে পারবে সব?
রুহানি সৈয়দ জবাবে হেসে বললেন,
— আয়রার ওপর আমার ভরসা আছে। আপনি চিন্তা করবেন না।

তাকদীর পর্ব ১৭

অপরপাশে জুনায়েদ তখনও তব্দা খেয়ে রয়েছে। পুরো বাড়িতে শুধু তার তিনজন? জুনায়েদের কী অকোয়ার্ড লাগবেনা? এখন সে তার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কীভাবে আয়রার দিয়ে করাবে? ওসব তো রুহানি সৈয়দ নিজ দায়িত্বে করে দিতেন! জুনায়েদ একবার আড়চোখে আমিরাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আয়রার পানে তাকালো। জুনায়েদের এতো নার্ভাস লাগছে কেনো? ও তো পুরুষ! তার ওপর এটা নতুন নয় যে সে কোনো মেয়ের সাথে একা। এর আগেও সে ক্লাবে গিয়েছে। তবু, জুনায়েদের আজ অস্বস্তি হচ্ছে অনেকটা!

তাকদীর পর্ব ১৯

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here