Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৩

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৩

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৩
জান্নাতি আক্তার জারা

আইরা মেয়েটা বরাবরই চুপচাপ নিজের মতো থাকতে ভালোবাসে।শুধু আনাস সের বেলায় তার মধ্যে যত পাগলামি ছটফট দেখা যায়। বরাবরই হইহুল্লার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে ভালোবাসে, সময়ের ব্যবধানে টুকিটাকি কাজিন দের সঙ্গে আড্ডায় সামিল হওয়া। বললে চলে পড়াশোনার পাশাপাশি উপন্যাস নিয়ে নিজেকে মাতিয়ে রাখে। সুযোগ পেলেই শেখ বাড়ি থেকে তালুকদার বাড়িতে এসে আনাস কে বিরক্তি করা নিজের অনুভূতি কে জানান দেওয়া।

বোকা মেয়েটা বুঝতে চায় না, তার অনুভূতি বুঝে-ও বুঝতে চায় না আনাস। শুধু কী অনুভূতি সামনের ব্যাক্তির কাছে জানান দিলে চলবে? উঁহু প্রাকাশ করতে হবে। কিন্তু আইরার ধারনা সে তো তার পাগলামোর মধ্যে দিয়ে অনূভুতি কে জানান দিচ্ছে। তাহলে সামনের ব্যাক্তি আমাকে সেভাবেই ভালোবাসবে একদিন। আইরা, বোনকে নিজের হাতে গায়ে হলুদের শাড়ি গহনা পড়ে দিয়ে তালুকদার বাড়িতে নিজের জন্য বারাদ্ধ করা রুমটায় আসলো নিজে এডি হওয়ার জন্য। রুমে এসে আলমারি থেকে সবার সঙ্গে সেম কালারের ম্যচিং হলুদ থ্রি-পিস বের করে ওয়াশরুমে ড্রেস চেঞ্জ করতে গেলো। বেশ কিছুক্ষণ পর ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে একা একা গুনগুন করতে করতে আয়নায় সামনে দাঁড়ালো। আয়নায় নিজেকে ঠিকঠাক করতে হটাৎ আয়নায় ভিতর দিয়ে বিছানায় চোখ পড়লো।

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

আইরা দ্রুত ঘুরে বিছানার দিকে এগিয়ে গেলো। বিছানায় একটা শপিং ব্যাগ, ব্যাগের উপরে একটা ছোট্ট চিঠি। আইরা রুমের আশেপাশে চোখ ঘুড়িয়ে দেখলো কই কেউ তো নেই। পুনরায় শাপিং ব্যাগ কে রাখলো বা শপিং ব্যাগে কী বা থাকতে পারে। ভাবতে ভাবতে ভ্রু কুঁচকে প্রথমে ব্যাগ টা চেক করলো। ব্যাগের ভিতর সেইদিনের শাড়ি টা অর্থাৎ শপিং মলে আনাস সের নেওয়া শাড়ি টা চোখে পড়তেই আইরার কুঁচকানো ভ্রু সোজা হয়ে গেলো। আইরার পুরো মুখমণ্ডল খুশিতে চিকচিক করে উঠলো। সেদিন আনাস সের বলা, অবহেলিত একটা নিবোর্ধ মেয়ের জন্য, সেই মেয়েটা যে আইরা কথাগুলো সৃতিচারণ হতেই খুশিতে শাড়িটা বুকের সঙ্গে জরিয়ে ধরল। বেশ কিছুক্ষণ জরিয়ে ধরার পর চিঠিটার কথা মনে হতেই চিঠিটা হাতে তুলে নিয়ে পরতে লাগলো,

” শোন ইরা, আমি তোকে শাড়ি দিলাম ভেবে নিজেকে স্পেশাল মনে করে একদম নাচানাচি করবি না। আমার মনে হয়ছে,শাড়ি টা তোকে মানাবে। এর বেশি কিছু না।
আইরা ছোট চিঠিটাতে হাত বুলিয়ে অসংখ্য চুমু রেখে দিলো। আনাস ভাই তার জন্য লেখতে বসেছিলো, কিছুটা সময় তাকে নিয়ে ভাবছে, তাকে নিয়ে লেখছে। কথা গুলো ভেবে আইরা শাড়ি টা হাতে নিয়ে দৌড় দিলো, তার প্রথম ভালোবাসার কাছে। পুরো বাড়ি মেহমানে ভরপুর। আইরা কে এতএত মেহমানের মধ্যে পুরো বাড়িতে কাউকে খুঁজতে দেখে আনহা শেখ দমক দিলেন,
” আইরা তুমি কী ছোট বাচ্চা, এভাবে বাচ্চাদের মতো পুরো বাড়ি দৌড়াদৌড়ি করছো কেনো?
আইরা নিজের মায়ের কথা গুরুত্ব না দিয়ে খুশি মনে আনহা শেখ কে জিজ্ঞেস করলো,

” আম্মু…
ছোট করে দম নিয়ে পুনরায়
” আম্মু আব্বু কই?
আনহা শেখ বেশ অবাক চোখে মেয়ের দিকে তাকালো, আইরা হাতে শাড়ি দেখতে পেয়ে বললেন,
” তোমার আম্মু গার্ডেনে, কিন্তু তোমার হাতে শাড়ি কেনো?
আইরা মায়ের কথা শুনে দ্রুত পায়ে পুনরায় গার্ডেনে দৌড়ে চলে গেলো, আনহা শেখ মেয়ের দিকে চেয়ে পুনরায় কাজে ব্যস্ত হয়ে পরলো। আইরা গার্ডেনে গিয়ে আতিফ শেখের সামনে দাঁড়িয়ে হাঁপাতে লাগলো, আতিফ শেখ হটাৎ মেয়েকে দৌড়ে এসে হাঁপাতে দেখে বলে উঠলো,
” কী হয়েছে আম্মু, আমার আম্মুটা এত খুশি কেনো?
“আব্বু….

হটাৎ আইরা আতিফ শেখ কে জরিয়ে ধরলো,জরিয়ে ধরে খুশিতে বলে উঠলো,
“আব্বু, তোমাকে বলছিলাম না! আনাস ভাই কারো জন্য শাড়ি নিয়েছে, সেই কেউ টা আমি আব্বু। দেখো আব্বু কত সুন্দর শাড়ি টা।
আইরা, আতিফ শেখের বুক থেকে উঠে শাড়ি দেখাতে লাগলো। আতিফ শেখ মেয়ের উৎফুল্লতা মুখে চেয়ে আছে। আইরা আতিফ শেখ কে নিজের দিকে মুচকি হেসে তাকিয়ে থাকতে দেখে পুনরায় বাবা কে জরিয়ে ধরলো। আতিফ শেখ মেয়ের মাথায় আদুরে হাত বুলে দিতে দিতে বললেন,
“যানো তো আম্মু, আমাদের রব আমাদের ইচ্ছা গুলো খুব যন্তসহ কারে কবুল করে। তুমি রবের প্রতি বিশ্বাস রাখো রব তোমার সব হাসিখুশি ইচ্ছা তোমার চাওয়া সবকিছু খুব গোপনে পূরণ করবে।

“ইনশাল্লাহ আব্বু!
আইরা বাবার বুকে খুশি মনে মাথা ঝাকালো৷ আতিফ শেখ মুচকি হাসি দিয়ে মেয়ে কে বললেন,
” যাও আম্মু তোমার আপুর কাছে যাও, এনজয় করো।
আইরা বাবার কথায় হাসি মুখে গুনগুন করতে করতে পুনরায় বাড়ির ভিতরে চলে গেলো, আতিফ শেখ মেয়ের যাওয়ার দিকে চেয়ে তৃপ্তির হাসলেন। তার মেয়েটা অল্পতেই সুখী আবার অল্পতেই বড্ড অভিমানী। আইরা রুমে এসে চিঠিটা খুব যত্নসহকারে আলমারিতে রেখে দিলো। পিছন ঘুরতেই দরজার সামনে আনাস কে দাড়িয়ে থাকতে দেখে মুখে হাসি ফুটে উঠলো, কয়েক সেকেন্ডের হাসিমুখটা আনাস সের কথায় আমতা আমতা করতে লাগলো,
” চুড়ি করা ফুল দিয়ে ছাঁদটা তো দারুণ সাজিয়েছিস!
আইরা অবাক নয়নে,

“চুরি করা ফুল!
” হ্যাঁ আমার টাকা বাঁচিয়ে দুপুরে ফুল চুরি করে নিয়ে আসলি, এজন্য ভাবলাম একটা থ্যাংকস তো দেওয়ায় যায়।
” না মানে…
“ও হ্যাঁ আমি তো বলতে ভুলেই গেয়েছিলাম, কংগ্রাচুলেশন….
আনাস সের ব্যঙ্গ করা কথা,আইরা বুঝতে না পেয়ে জানতে চেয়ে বলল,
” কংগ্রাচুলেশন কেনো আনাস ভাই?
” নতুন নতুন বেয়াই পেয়ে যাচ্ছিস।দেখা করতে গিয়ে ফুল বাগানে মালির দৌড়ানি খেতে হবে না আর!
আনাস সের খুঁটা দেওয়া কথায় আইরা মনে অনুভূতি গুলো পুনরায় উড়তে শুরু করলো। চোখমুখ জুড়ে আনন্দ খেলা করছে। আইরা কই যায় যাচ্ছে সবকিছু তার আনাস ভাই নজরে নজরে রাখে। আনাস ভাই কী রাফি কে নিয়ে জেলাস ফিল করছে। আইরা কথাগুলো ভাবছে আর মুচকি মুচকি হাসতেসে। আইরা কে মুচকি হাসতে দেখে আনাস অবাক নয়নে পরক করে বলে উঠলো,

” তুই কী পাগল, এভাবে হাসতাসোস কেন?
“হুম….
আইরার পুরো কথা না শুনো আনাস রুমের ভিতরে আইরার কাছে আসতে আসতে বলল,
“মানে, কবে থেকে! ফুপি কে জানাইছিস?
” নাহ….
“এখনো বলিস নাই?
আনাস ভাই আমার পুরো কথা তো শুনবে, আমি নাহ মানে বুঝায়ছি আমি পাগল না!
” ও!
আইরা গাল ফুলিয়ে বলা কথায় আনাস, ও, বলতেই আইরা পুনরায় বলে উঠলো,

“তুমি কোথায় দেখছো, কেউ পাগল হইলে নিজে থেকে বলবে আম্মু আমি পাগল?
” জানি না কিছু,তোর কথা ভাবতে ভাবতে আমার মাথা টা খারাপ হয়ে যাচ্ছে উফ অসহ্যকর!
কথাটা বলতে বলতে আনাস আইরার রুম থেকে বের হয়ে গেলো৷ আনাস সের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আবারো সেই পুরনো অনুভূতি গুলো মনের মধ্যে নাচতে শুরু করলো। আইরা দৌড়ে আয়নার সামনে গিয়ে নিজেকে ঘুড়িয়ে ঘুড়িয়ে দেখতে লাগলো। আয়নায় নিজেকে দেখার মধ্যে আনাস সের কথা মনে করে দুহাত মুখে গুজলো।বেশ কিছুক্ষণ আয়নায় সামনে গুনগুন করতে করতে নিজেকে সাজিয়ে চলল ছাঁদের উদ্দেশ্য,
আইরা উৎফুল্ল হয়ে ছাঁদে উঠতেই হটাৎ রাফি সামনে এসে গেয়ে উঠলো,

“দিল কা জো হাল হ্যায়
ওহ তুঝে ক্যায়সে বায়া কারে….
রাফি সামনে আসতে আইরা পিছু হাঁটতে যাবে হটাৎ কারো বুকের সঙ্গে ধাক্কা খেলো। পিছন ঘুরতেই আনাস কে বিরক্তিমাখা মুখচোখ করে থাকতে দেখে রাফি কে পাশ কেটে ছাঁদের অন্য সাইটে গিয়ে দাঁড়ালো। রাফি আনাস কে দেখে হাসি মুখে হাত বাড়িয়ে দিলো। আনাস রাফি কে পাওা না দিয়ে রাফির পাশ কেটে ছাঁদের অন্য পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। এতে রাফি খানিকটা অপমানিত হলো, হাত গুটে নিয়ে মুখে হাসার চেষ্টা করে পুনরায় আইরার দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো,

“কেহ দে তুঝে ইয়া দিল মে রাখে বোলো না ক্যা কারে..!
মিরা রাফির কাছে এসে ঠোঁট উল্টে আইরার দিকে ইশারায় দেখিয়ে দিয়ে রাফির উদ্দেশ্য গেয়ে উঠলো,
“দিল জো তুমহারা হ্যায় ক্যায়সা বেচারা হ্যায় মানে না বেশারাম বিলকুল খাট্রারা হ্যায়….!
রাফি মুচকি হেসে মিরা কে ইশারায় আইরা কে দেখালো,
“তু কারে দিল বেকারার!
মিরা আইরার পিছনে গিয়ে আইরা কে পিছন থেকে জরিয়ে ধরে রাফির দিকে তাকিয়ে,
” কিউ কারু ম্যায় তুঝসে পেয়ার…?
রাফি ~ দিল কা জো হাল হ্যায়
ওহ তুঝে ক্যায়সে বায়া কারে,
কেহ দে তুঝে ইয়া দিল
মে রাখে বোলো না ক্যা কারে…!

আরাত বক্সের কাছে থেকে ওঠে এসে আরিশা কে হলুদ লাগিয়ে দিলো। সন্ধ্যা আরিশার পাশে বসে প্রথম থেকে আরাত আর মাহির কে লক্ষ করছিলো। মাহির কে আরাতের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরাত কে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে মাহিরের দিকে দেখতে ইশারা করলো। আরাত সন্ধ্যার ইশারায় মাহিরের দিকে তাকাতেই মাহির কে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে দ্রুত চোখ ঘুড়িয়ে নিলো। দুজনের চাইনি দেখে পুনরায় সন্ধ্যা আরাত কে হালকা করে ধাক্কা দিয়ে মুচকি হেসে বক্সের তালে তালে ডান্স করতে লাগলো,
সন্ধ্যা ~ “হাওয়া কেনো আজ.. হয়েছে মাতাল.কানে কানে বলে আজ যতো সুখ, ভোরে দেবো আজ তোর এই আঁচলে মন যেনো আজ, মিলেছে ডানা উড়ছে আকাশে আমি বদলে গেছি এক পলকে….
আরাত সন্ধ্যার সঙ্গে গেয়ে উঠলো ~ হাওয়া কেনো আজ.. হয়েছে মাতাল.কানে কানে বলে আজ যতো সুখ, ভোরে দেবো আজ তোর এই আঁচলে মন যেনো আজ, মিলেছে ডানা উড়ছে আকাশে আমি বদলে গেছি এক পলকে….
মায়া আরিশার একপাশে আরিশাকে ধরে আমান কে দেখিয়ে দিতে দিতে,

“এলো যে এলো খুশির লগন!
এলো যে এলো খুশির লগন
মিম আরিশার অন্য পাশে আরিশার লজ্জাময় মুখটা উপরে দিকে তুলে,
“আসবে সে তাই,লাজে রাঙা মন
আসবে সে তাই,লাজে রাঙা মন!
মিরা ~ মেতেছে আনন্দে আজ প্রান যে
আইরা আনাস সের দিকে তাকিয়ে,
“দুরু দুরু বুক কাঁপে কেন আজ, ভয় লাজে মরি
জাদুর কাঠি ছুঁইয়ে দিল, যেন এক পরী..
নিজেরই কাছে নিজে আজে তাই, অচেনা যে আমি
যেন বদলে গেলাম এক পলকে……
আরিশা লজ্জারাঙা মুখ নিয়ে আমানের দিকে তাকিয়ে গেয়ে উঠলো,

“দুরু দুরু বুক কাঁপে কেন আজ, ভয় লাজে মরি
জাদুর কাঠি ছুঁইয়ে দিল, যেন এক পরী
নিজেরই কাছে নিজে আজে তাই, অচেনা যে আমি
যেন বদলে গেলাম এক পলকে……
সবাই একসাথে ডান্স করতে করতে,
“এলো যে এলো খুশির লগন
এলো যে এলো খুশির লগন
আসবে সে তাই… লাজে রাঙা মন
আসবে সে তাই… লাজে রাঙা মন
মেতেছে আনন্দে আজ প্রান যে।
মেয়েদের ডান্স শেষ হতেই পুনরায় বক্সে গান বেজে উঠলো,
Banno ki saheli….. Resham ki dorrii
মাহির আরাতের দিকে তাকিয়ে ডান্স করতে লাগলো, এবার সবাই একসঙ্গে চিল্লায়ে উঠলো,

Chup.. Chup k Sharmaye..
Dekhe… Chori chori…
আশিক মায়ার দিকে হাত দিয়ে নকের ইশারায় দেখিয়ে দিয়ে,
Yeh maane ya na maany,. Mein to uspy mar gaya…
হাবীব, আশিক, আরশ, রাফি, মাহির, সঙ্গে আহিন আলভী,সাতজন একসঙ্গে ডান্স করতে লাগলো….
Yeh Ladki Haai Allah …
Haai Haai Re Allah…
Yeh Ladki Haai Allah …
Haai Haai Re Allah…

আনাস এক সাইটে দাড়িয়ে এতক্ষণ যাবত শুধু আইরা আর আরাত কে দেখছিলো। বিয়ের বাড়ি টুকিটাকি মজা তো করবেই তারপরও বোন আর আইরা কেনো যেনো বর্তমান ঘরে বন্দী করে রাখতে মন চাচ্ছে। আনাস বেশ কিছুক্ষণ থাকার পর পুনরায় নিচে নেমে গেল। একে একে ছাঁদে রাহিমা সুলতানা, আদিবা তালুকদার, রাবেয়া তালুকদার, আনহা শেখ ছাঁদে চলে এসেছে। আদনান আর আহাদ তালুকদার গায়ে হলুদ পছন্দ করে না। মেয়েদের আনন্দর মধ্যে বাঁধা সৃষ্টি করবেনা বিধায় ওনারা বর্তমান অবস্থান করছে, রশ্মি দের বাড়িতে।
রাহিমা সুলতানা কে দেখে আরাত এগিয়ে এসে রশ্মির কথা জানতে চাইলো,

“আন্টি রশ্মি আমার ফোন ধরছে না কেনো! ওর সঙ্গে আপনার কথা হয়ছিলো?
” রাত থেকে কী যেনো হয়ছে, আমার ফোন রিসিভ করছে না, তোমার আঙ্কেল কে বললাম তোমার আঙ্কেল বলল, এই টপিক নিয়ে পড়ে কথা বলব এতটুকুই,
” ওকে, আপু কে হলুদ লাগাবেন না?
“হ্যাঁ চলো!
“আন্টি!
রাহিমা সুলতানা আরাতের দিকে প্রশ্নভরা চাওনি তে তাকালেন, রাহিমা সুলতানা কে নিজের দিকে তাকাতে দেখে আরাত মাথাটা নিচু করে লজ্জামিশ্রত হয়ে আমতা আমতা করতে করতে বলে,

” ওই যে সাদা পাঞ্জাবির সঙ্গে সাদা ওড়না গলায় ঝুলানো। লম্বা করে শ্যাম বর্ণ ছেলেটা কে দেখছেন?
রাহিমা সুলতানা আরাতের ইশারার দিকে তাকিয়ে দেখলেন, পাঁচজন ছেলে, সবাই সেম সাদা পাঞ্জাবি পড়ছে সঙ্গে কালো ওড়না গলার ঝুলানো শুধু একটা ছেলে সাদা পাঞ্জাবি সঙ্গে ওড়না গলার ঝুলানো। রাহিমা সুলতানা মাহিরের দিকে তাকিয়ে বলল,
” ওই ছেলেটার পাঞ্জাবির কথা বলছো তো আমিও লক্ষ করছিলাম ছেলেটা মেহেদী অনুষ্ঠানে সাদা পাঞ্জাবি পড়ে আরছিলো। তবে পাঞ্জাবির কাজ ভিন্ন রয়েছে। দেখো আজকেও সেম পড়ে আরছে!
আরাত বেকুব চাওনি তে রাহিমা সুলতানার দিকে তাকালো, আরাত বুঝাতে চাইছে কী আর ভদ্রমহিলা বুঝতাছে কী। আরাত পুনরায় রাহিমা সুলতানা কে ভনিতা ছাড়ায় বলল,

” ছেলেটা দেখতে কেমন! তালুকদার বাড়ির জামাই হিসাবে পারফেক্ট না?
“হ্যাঁ….
রাহিমা সুলতানা হ্যাঁ বললেই আরাতের কথার অর্থ বুঝতে পেয়ে অবাক নয়নে চাইলো আরাতের দিকে,
” ভালোবাসো?
” জানি না, শুধু তাঁকে নিয়ে ভাবতে ভালো লাগে।
“সিওর হয়ে নেও,ছেলেটা তোমার ভালোবাসা নাকি শুধু আবেগ!
” আবেগ আর ভালোবাসা কী আলেদা কিছু আন্টি?
আরাতের কথায় রাহিমা সুলতানা হাসলেন, মেয়েটার উর্তি বয়স সবে কলেজে পা রাখলো, ভালোবাসা আর আবেগের অর্থ জানে না। সেই মেয়ে ডিরেক্ট একটা ছেলেকে তালুকদার বাড়ির জামাই হিসাবে কল্পনা করছে। রাহিমা সুলতানা আরাত কে তাড়া দিয়ে বলল,

” অন্য কোনো একদিন তোমাকে ভালোবাসা আর আবেগের অর্থ বোঝাবো, চলো আরিশার গায়ে হলুদ লাগাবো এখন ।
বড়োরা আরিশা কে হলুদ লাগিয়ে নিচে নেমে গেছেন, গায়ে হলুদের পর্ব শেষ হতেই হটাৎ রাফি হলুদের বাটি থেকে হলুদ নিয়ে আইরার গালে মেখে দিলো, আইরা বিরক্তি মুখে রাগ নিয়ে বাটি থেকে দুহাত ভর্তি হলুদ নিয়ে রাফির মুখে মেখে দিলো। আনাস সিড়ির দরজা দিয়ে উপরে উঠতেই দূর থেকে দৃশ্যটা চোখে পরত-ই পা থেমে গেলো। আশিক আইরা রাফির দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে আনাস কে ছাঁদ থেকে পুনরায় নিচে নামতে দেখে বাঁকা হাসলো। বন্ধু কে প্রেমের জালে ফাঁসাতে আশিকের আইডিয়া নিজে এসে ধরা দিয়েছে। আশিক বেশ খুশি মনে মায়া কে সামনে পেয়েে দুহাত দিয়ে হলুদ লাগলো,

ক্ষিপ্ত মায়া রাগী লুকে আশিকের দিকে তাকিয়ে নিজেকে সামলাতে না পেয়ে আশিকের সাদা পাঞ্জাবি টেনে ধরে গালের সব হলুদ মুছতে লাগলো পাঞ্জাবিতে। আশিক তো মায়ার রাগ টাও মুগ্ধ চোখে দেখতে লাগলো। হাবীব সন্ধ্যা কে নিয়ে তার বিখ্যাত চিপাতে প্রেমময় হলুদ লাগাতে ব্যাস্ত। আদিল ছাঁদে উঠতে দেখতে পেলো সবাই সবার মতো হলুদ দিয়ে মাখোমাখো হয়ে আছে, তারমধ্যে আরাত বেশ চুপচাপে এক সাইটে দাড়িয়ে বারংবার একটা ছেলের দিকে দেখছে। আদিল আরাত কে নরম সুরে ডাকলো,
“আরাত অনেক রাত হয়ছে আপু, এখন রুমে যাও!
আদিলের কথায় সবাই সেদিকে তাকালো, সবার সঙ্গে মিরা আদিলের দিয়ে চেয়ে রইলো, আরাত আদিল কে উল্টে প্রশ্ন করতে লাগলো,

” আদিল ভাইয়া আপনি এতক্ষণে আসলেন, পুরো দিন কই ছিলেন, আমরা অনেক মজা করেছি! আপনি মিস করলেন।
” তাকবীর স্যারের সঙ্গে বাহিরে ছিলাম, মাএ আসলাম। তাকবীর স্যার কিন্তু নিজের রুমে সো বুঝতেই পারছো, এতো বক্সের সাউন স্যারের রুম অবধি যাবে সো….
হ্যাঁ অনেক রাত হয়ে গেছে, আমরাও বাড়িতে ফিরবো। ইনশাল্লাহ আল্লাহর ইচ্ছার কালকে দেখা হবে,
আমানের কথায় মেয়েরা একসঙ্গে চিল্লিয়ে বলতে লাগলো,
“হ্যাঁ দুলাভাই কালকে দেখা হবে, পকেট ভরিয়ে আসবেন!
আরশ কথায় যুক্তি ধরে বলে উঠলো,
” কেনো, কেনো, ভাইয়া তার বউকে নিজের আমানত কে নিজের করে নিতে আসবে, তারজন্যা পকেট ভরাতে হবে কেনো?
মিম,

“ওমা শহরের পন্ডিত মশাই আপনি জানেন না, আপনার ভাইয়ার আমানত এতদিন আমাদের হেফাজত ছিলো পবিত্র ফুল হয়ে। সেই টপ থেকে ফুলটা নিতে হইলে পয়সা তো লাগবেই!
ছেলেপক্ষ মিরা বলে উঠলো,
“কেনো এতএত ফুলের মাঝে একটি ফুল তো ফ্রিতে যত্নশীল মালির কাছে দেওয়াই যায়?
আরাত মিরার কথায় উওর করলো,
” ফ্রিতে দেওয়া ফুল অবহেলিত হয়ে যায়। ফ্রিতে পেয়ে গেলো মানুষ ভুলে যায়, ফুলটা কারো যত্নকরে গড়ে তোলা এক আমানত ছিলো।

“আমার ঘর কে সৌন্দর্য দিয়ে পরিপূর্ণ করতে ফুল বাগান থেকে এতএত ফুলের মধ্যে একটা ফুলকে ছিড়ে নিয়ে যাবো। সেই ফুলের অযত্ন করলে আমার ঘর আমার হৃদয় দুটোই সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলবে। ফুলের মালি হয়ে নিজের বাগান কে অবহেলিত রাখবো কিভাবে আমি!
“উহহহহহহহহহুুুু দুলাভাই সেরা…..
আমানের উত্তরের মেয়েরা একসঙ্গে চিল্লিয়ে উঠলো, আইরা বোনের দুইকাঁধে হাত রেখে বোনের ঘারে চিবুই রেখে আমানের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
” এমন যত্নশীল মালির হাতে আমাদের ফুল কে সারাজীবনের জন্য ফ্রীতে তুলে দেওয়া আমাদের তরফ থেকে কবুল হে।

গভীর রাত আরাত সন্ধ্যার দিকে সবার সঙ্গে খাবার খাওয়া তে তৃপ্তিমতো খেতে পাড়ে নাই। খিদা সহ্য করে থাকতে পারে না তারপর গরুর মাংসর কথা মনে পড়তেই খিদাতে পেট ডাকাডাকি করছে। উপায় না পেয়ে বিছানার কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকলো। আজকেও রুমটা মেয়েদের দিয়ে ভরপুর,কে কিভাবে শুয়ে গভীর ঘুরে মগ্ন ঠিকঠিকানা নেই। আরাতের বরাবরই বিছানা ছাড়া ঠিকমতো চোখে ঘুম ধরা দেয়না। বিছানা থেকে চুপিচুপি নেমে ফোনের ফ্লাস লাইট জ্বালিয়ে রুমের দরজা খুললো। এদিক ওদিক মাথা ঘুরিয়ে সিড়ি বেড়ে ধীরপায়ে নিচে নামলো কিচেন রুমের উদ্দেশ্য। ড্রয়িং রুমে পা রাখতেই চঞ্চল আরাতের দৃষ্টি ধীরো হইলে। মনের মধ্যে খজখজ করতে লাগলো সোফাতে কারো অস্তিত্ব। ভূতপ্রেত বলতে কিছু নেই আরাতের জানা, তারউপর নিজের বাড়িতে ভয় পাওয়া তো বিলাসিতা। বাড়ির আনাচকানাচে যার মুখস্ত সেই বাড়িতে ভয় মানায় না। চঞ্চল আরাত ধীরপায়ে সোফার দিকে এগুলো। সোফার কাছে গিয়ে ব্যাক্তির মুখ দেখতে ফোনের ফ্লাস মুখে উপর রাখতেই, তাকবীর শুয়া থেকে দ্রুত উঠে বসলো। তাকবীর কে দ্রুত উঠে বসতে দেখে আরাত পিছুপা হয়ে ভয়ে পেয়ে বুকে হাত রাখলো।
“বীর ভাইয়া….

তাকবীর নিজের ঘরে নিজের মধ্যে ছটফটানি বন্ধ করতে রুম এবং বেলকনিতে হাঁটা করেও নিজের মধ্যে ছটফটিনি বন্ধ করতে না পেয়ে, রুম থেকে ধীর পায়ে নিচে নেমে এসে সোফাতে কিছুক্ষণ বসে থাকলো। জায়গা পরিবর্তন করে নিজের মধ্যে ছটফটিয়ে উঠা কে বেশি করে এলোমেলো লাগতে লাগলো, বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকর পর কপালে এক হাত রেখে সোফাতে শুয়ে পরলো। আরাত কে নিয়ে নিজের অনুভূতি গুলো চোখবুঁজে ভাবতে লাগলো,

গম্ভীর তাকবীর বরাবরই নিজেকে একা রাখতে ভালোবাসে। নিজের পোশাক থেকে শুরু করে আসবাবপত্র তে কারো ছোঁয়া পছন্দ না। তাকবীরের গম্ভীর্য তাকবীর কে সবার থেকে দূরে রাখে, বাড়ির বড়োথেকে ছোট পর্যন্ত, হোক না সে বন্ধু বা কাজিন। তাকবীর শুধুমাএ দুটো মানুষের কাছে খোলাসা, এক বন্ধুর মতো ছোট ভাই আনাস। আরেকজন মায়ের থেকে বেশি আদরের, ফুপি আনহা শেখের কাছে। দু’টো মানুষের সামনে নিজের ব্যক্তিত্ব দূরে রেখে মনের ভাষা গুলো খুব সহজের তুলে ধরে। তারপরও কিভাবে যেনো তার অনূভুতি গুলো আশিক হাবীব আদিল জানতে পারে। হয়তো আনাস বলে, বলবে না কেনো চারজন যে একে সুতোয় বাঁধা। চারজন একি উপর কে বেঙ্গ করবে মজা নেবে দিন শেষে চারজন একত্র। তাকবীরের প্রতি চারজনের দুর্বলতা খুব গভীর।

এইযে আদিল তাকবীর কে স্যার মানলেও তার মনে তাকবীরের জন্য শ্রদ্ধা ভালোবাসার কমটি নেই। তাদের তাকবীর কে নিয়ে নিজেদের বর্ননা হয়তো শেষ হবে না, কিন্তু দিনশেষে তাদের তাকবীর কে নিয়ে ভালোবাসা তাকবীরের গম্ভীর্যর কাছে ফিকে পড়ে আছে। সেই গম্ভীর তাকবীর ধীরে ধীরে দিনকে দিন নিজের অজান্তে চঞ্চল আরাতের চঞ্চলতার মধ্যে ডুবে গেছে।

এতদিন নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখা অনুভূতি গুলো বেরিয়ে আসতে চাইছে। ছোট্ট আরাত বড়ো হতে শিখে গেছে, ভালো লাগা কাকে বলে জানতে শিখেছে। একজনকে নিয়ে নিজের মনে ভাবতে কল্পনা করতে শিখে গেছে। তাকবীর তো চেয়েছিলো চঞ্চল আরাত ধীরেধীরে বড়ো হবে তাকবীরের মনের অনুভূতি গুলো সেভাবেই ধীরেধীরে ছোট্ট আরাতের কাছে তুলে ধরবে। কিন্তু তাকবীরের এতদিনের ভাবনা গুলোকে খুব যতনে মুচড়ে ভেঙ্গে ছোট্ট আরাত অন্যজন কে মনে জায়গা দিলো। তাকবীর কে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার সুযোগ পযর্ন্ত দিলো না।

তাকবীর তো আরাতের সঙ্গে যোর করতে পারছে না। এই যুবতী বয়সে অন্যজন কে কল্পনা করছে। তাকবীর বাঁধা দিলে আরাতের মনে তাকবীরের জন্য বিরক্তি সৃষ্টি হবে। আরাত আগে যতটুকু তাকবীরের সামনে এসেছিলো। তাকবীর কে দেখে চঞ্চল আরাত নিমেষেই ভদ্রমেয়ে হয়ে গিয়েছিলো। তাকবীরের সামনে লজ্জা পেয়ে চোখ উপরে তুলে নাই পযর্ন্ত। সে আরাতের চোখে তাকবীর কে নিয়ে বিরক্তি সৃষ্টি হবে। আরাতের চোখে নিজের প্রতি এতটুকু বিরক্তি দেখতে চায় না তাকবীর। যে ভালোবাসবে তাকে নিজের অনূভুতি প্রাকাশ করতে হবে না। এতদিন তো তাকবীর আরাত একি বাড়িতে ছিলো তারপরও আরাতের মনে তাকবীরের জন্য তো কোনো অনূভুতি সৃষ্টি হয়নাই। অথচ অচেনা ছেলেকে কয়েক পলক দেখার পর তাকে নিয়ে কল্পনা সাজিয়ে রাখছে। তাকবীর নিজের ভালো থাকার জন্য আরাতের কল্পনায় বাঁধা দিবে কিভাবে।

কথাগুলো ভাবতেই তাকবীর সোফাতে শুয়ে থাকা আবস্থায়। কপালের উপর এক হাত রেখে বুঝে রাখা চোখজোরায় একফোঁটা পানি গড়িয়ে পরলো। হটাৎ নুপুরের ঝমঝম আওয়াজে তাকবীরের কান জানান দিলো। যে রমনীকে নিয়ে এতক্ষণ ভাবনায় চোখের পানি ঝাড়ালি সেই রমনী তোর খুব নিকটে আরছে।তাকবীর আগের মতোই চোখ বুঝে রইলো। ভাবলো আরাত এদিকে আসবে না, কিন্তু তাকবীর কে ভুল প্রামান করে আরাত কে নিজের খুব কাছে অনুভব করেও চুপচাপ চোখ বুঝে শুয়ে রইলো। পুনরায় আরাত কে নিজের দিকে ঝুঁকে ফোনের ফ্লাস ওন করতে বুঝে শুয়া থেকে ওঠে বসলো। আরাত পিছুপা হয়ে ধীর ঠান্ডা কন্ঠে বীর ভাইয়া ডাকে নিজের মধ্যে ছটফটানি গুলো বেরিয়ে আসার জন্য ধকধক করে উঠলো।

আরাত অন্ধকারে ফোনের ফ্লাস লাইট তাকবীরের দিকে তাক করতেই তাকবীরের লালবর্ন চোখ দেখতে পেয়ে ঘাবড়ে গেলো আরাত। সারাদিনের ক্লান্ত রাতে চোখে ঘুম ধরা না দিয়া এবং সামনে রমনীকে নিয়ে চোখের পানি ঝাড়ানোর কারণে চোখের লালবর্ন হয়ে আছে। আজ তাকবীরের মাথায় তার ফেভারিট কালো কেপটাও নেই। মাথার সিল্ক পরিপাটি গুছানো চুলগুলো উশখুশ হয়ে কপালে পড়ে আছে। আরাত তাকবীরের বিষন্নভরা চেয়ারটা দেখা ঘাবড়ে গিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে। তাকবীরের দিকে এগিয়ে আসতেই তাকবীর সোফাতে বসা আবস্থায় কপালে উশখুশ চুলগুলো দু’হাতে মুঠোয় নিয়ে ভাঙ্গা গলায় বলল,

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২২

” প্লিজ রাত আমার কাছে আসবে না। তুমি আমার কাছে এলো এই নিয়ন্ত্রণ আমি টা পুনরায় এলোমেলো হয়ে যাবো!
আরাত থমকে দাঁড়ালো, বেশ কিছুক্ষণ তাকবীরের দিকে অপলক চেয়ে থেকে নিজের রুমে দিকে যেতে যেতে তাকবীর কে নিয়ে ভাবতে লাগলো। আজ আর আরাতের খাওয়া হইলো না। আরাতের ভাবনায় খিদে টা প্রভাব ফেলতে পারলো না। আরাতের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে তাকবীর বিরবির করলো,
“তুমি যানো তোমাকে চাওয়ার মতো অনেকে আছে আর আমি জানি আমার মতো কেউ নেই।

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ২৪