তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩৭
জান্নাতি আক্তার জারা
তালুকদার বাড়ি ড্রয়িং রুমে সাদা পাতলা কাপড় দিয়ে সাজাচ্ছে। সাদা ফুল সাদা বেলুন সঙ্গে সাদা লাইটিং। পুরো হলরুম জুড়ে ডেকোরেশন চলছে। গার্ডেনে গেস্ট দের খাওয়ানো ব্যবস্থা চলছে। আরাতের এখনো অজানা সবকিছু। তাঁর জানা মতো আজকে আইরা আনাস এর রিসিপশন। আরাত নিজের রুম থেকে গুটিগুটি পায়ে বের হয়ে এলো।চোখমুখে অনুভূতিহীন খেলা করছে। অন্য কোনো দিন হইলে হয়তো আরাতের হইচয়ে পুরো বাড়ি মাথায় উঠে যেতে। সকাল সকাল অতি কাছের মেহমান রা চলে এসেছে। সন্ধ্যা ওর মা-বাবার সঙ্গে এসে পড়েছে।
আইরা গতকাল মায়া কে বাসায় ফিরতে দেয় নাই। হাবীব আশিক নিজেদের বাসায় ফিরে গেয়েছিল। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশিক তালুকদার বাড়িতে উপস্থিত। গ্রাম থেকে মিম ওর বাবা-মার সঙ্গে বেস্টফ্রেন্ড ( তিশা) কে নিয়ে রাতেই তালুকদার বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিয়ে ভোরে এসে পৌঁছেছে। আরাত মলিন মুখে আশেপাশে তাকিয়ে মায়া আইরা আরিশা কে সোফায় বসে থাকতে দেখেও তাদের কাছে না গিয়ে ড্রয়িং রুমে থেকে বের হয়ে গেলো। আইরা সকাল বেলা আনাস এর রুম থেকে বের হওয়ার পর আনাস নিজের রুমের কাছে আইরা কে ঘেঁষতে দিচ্ছে না। এই নিয়ে আইরার মনে আনাস এর উপর অভিমান জমে গেছে। আনাস আশিক কে নিয়ে নিজের রুম সাজাচ্ছে।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
মিম আর তিশা গেস্ট রুম থেকে বের হয়ে আইরা দের কাছে এসে সোফাতে বসে পরলো। তালুকদার বাড়িতে এসেই সবার সঙ্গে তিশার পরিচয় করিয়ে দিয়েছে মিম। সবাই মিলে টুকিটাকি কথা বলার মধ্যে
উপর থেকে আশিক নিচে নেমে এলো। আশিক কে নিচে নামতে দেখে তিশা মিম কে ইশারায় ছেলেটা কে জানতে চাইলো। আশিক তিশার ইশারা বুঝতে পেয়ে সোফাতে বসে তিশার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো,
___” হাই ম্যাম পছন্দ হইলে বলে দিয়েন, আমি আবার ঐসব ইশারা টিশারা বুঝিনা।
তিশা ভেবাচেকা খেয়ে গেলো। মায়া আইরার পাশে বসে আশিকের দিকে রাগী চোখে দাঁতে দাঁত চেপে চেয়ে আছে। মায়ার মুখে রাগ দেখে আইরা মায়ার হাতের উপর হাত রাখলো। মুখের ইশারায় কী হয়েছে জানতে চাইলে,মায়া আইরার দিকে তাকিয়ে মুখে হাসি টেনে মাথা ঝাকিয়ে কিছু না বুঝায়। আশিক হল রুমে আসার পর থেকে একবারও মায়ার দিকে তাকায়নি। এতে যেন মায়ার রাগ বাড়তেই থাকে। তিশা আশিকের কথায় বলল,
___” সরি ভাইয়া, এমন কিছু না।
___” হই হই হই ভাইয়া থেকে ছাইয়া ছাইয়া?
মায়া মুখ হা করে দাঁড়িয়ে গেলো। আশিকের কথায় বাকি সবাই মিটিমিটি হাসলেও। তিশা আশিকের সঙ্গে পূর্ব পরিচিত না থাকায় অস্বস্তিকর ফিল করছে।আশিক মায়া কে ইগনোর করে তিশার দিকে তাকিয়ে মিম কে বলল ,
___” মিম এই সুন্দরী কী তোমার ফ্রেন্ড?
___” হ্যাঁ ভাইয়া।
___” সুন্দরীর নাম কী?
___” নাম দিয়ে তুই কী করবি বল,তোর কয়টা লাগে?
মায়া হটাৎ আশিকের কাছে এসে আশিকের শার্টের কলার চেপে ধরে দাঁড় করাতে করাতে কথাটা বলল। হটাৎ আক্রমণে সবাই অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো।আইরা মায়া কে আটকাতে যেতে নিলে আরিশা আইরার হাত ধরে আটকায়। আইরা অবুঝের মতো আরিশার দিকে তাকাতেই আরিশা চোখের ইশারায় পুনরায় আইরা কে আটকে সামনে দেখতে বলল। মায়া কলার চেপে ধরায় আশিকের মুখ গম্ভীর হয়ে উঠলো। গম্ভীর মুখে বলল,
___” এতটুকু মেয়ে হয়ে এতো তেজ দেখাও কেনো?
___”এতটুকু মানে?
___”হ্যাঁ এতটুকু তো, তোমাকে আমার মনের মধ্যে লুকিয়ে রাখলে কেউ জানতেই পারবে না তুমি কোথায়।
মায়ার মুখটা হা হয়ে গেলো। আপনাআপনি আশিকের কলার থেকে হাতটা ঢিলা হয়ে গেলো। মায়া আশিকের উপর এবার আর চিল্লিয়ে উঠলো না। সবাই আশিক আর মায়া কে দেখছে। আশিক নিজের চরিত্রে ফিরে এসেছে। গতকাল আনাস এর কথায় খারাপ না লাগলেও মায়ার মলিন মুখ দেখে বুঝতে পেরেছে । মায়ার মনে কিছুটা আশিকের জন্য সফট কর্নার তৈরি হয়েছে।আশিক মায়া কে বাজিয়ে দেখার জন্য গতকাল থেকে আশিক মায়া কে ইগনোর করছে। মায়ার সঙ্গে আগ বাড়িয়ে কথা বলছে না। মায়া কে দেখছে না পর্যন্ত। ভাবটা এমন আশিকের কাছে মায়া অজানা অচেনা একজন। মায়া গতকাল থেকে আশিকের সবকিছু লক্ষ করছিলো। আশিক কে ইগনোর করতে দেখে অজানা অভিমান জমে গেছে । নিজের সামনে অন্য মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারলো না। মায়া কে রেগে যেতে দেখে আশিক পুনরায় মায়া কে জ্বালাতে তিশার দিকে তাকিয়ে বলল,
___” সুন্দরী তোমার নাম…
মায়া পুনরায় আশিকের কলার চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলে উঠলো,
___” তোর কয়টা লাগে, একটা দিয়ে হয় না লুচ্চা একটা। এতদিন আমাকে ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব করে মন ভরে নি তাই-না! তাহলে আমাকে ফোন দিতি কেনো। আজকে নতুন পেয়ে আমাকে ভুলে গেছিস সালা লুচ্চা। তোকে আমি খুন করবো। তোকে আমি জেলের ভাত খাওয়াবো।
___” চেয়ারম্যানের মেয়ে, জেল খুন সমসময় মাথায় ঘুরে। আমি আমার জীবন কে খুব ভালোবাসি, তোমার মতো গুন্ডা মেয়ে কে আমার জীবনের সঙ্গে জড়ালে বিয়ের আগে মৃত্যু নয়তো সারাজীবন জেল কনফার্ম।
মায়া আশিকের কথায় কান না দিয়ে আশিকের চোখ মুখে চোখ বুলিয়ে মুচকি হাসলো,
___”কথাবার্তা তো লুচ্চা দের মতো, বাট ইন্টারেস্টিং। একটু হ্যান্ডসাম, হুমউ আমার এতেই চলবে। আজ থেকে আমার জেলে বন্দী তুই, যদি এদিকওদিক পালানোর চেষ্টা করছোস ডিরেক্ট ফাঁসি।
মায়ার কথায় বাকি সবাই হাত তালি দিয়ে চিল্লিয়ে উঠলো, মায়া আশিক কে কথাগুলো বলে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে দূরে সরালো। আশিকের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে চোখ টিপ দিয়ে হাতে হাত ভাজ করে দাঁড়াতেই। আশিক মুখে হাসি টেনে মায়ার একটু কাছাকাছি এসে বলল,
___” কী বললে তুমি?
মায়া মাথা ঝাকিয়ে,
___” কী?
___” তুমি আমাকে পছন্দ করো?
মায়া এদিকওদিক তাকিয়ে পুনরায় আশিকের দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা করতে লাগলো,
___” হ্যাঁ, করি পছন্দ, আমি যানি না কিভাবে। আমার তোমার মতো ছেলেকে ভালো লেগে গেছে। আমি কী করবো। তুমি অন্য মেয়ের সঙ্গে কথা বললে আমার রাগ উঠে যায়। আমার কী করার আছে এতে?
আশিক মুচকি হাসলো,সবার সামনেই মায়ার দিকে হাত বাড়িয়ে দিতে দিতে বলল আশিক,
___”তোমার হাতটা অনেক সুন্দর, আমি কী ধরতে পাড়ি?
আশিক কে হাত বাড়িয়ে দিতে দেখে মাথা আগের রূপেই বলে উঠলো,
___”আমার হাতের থাপ্পড় অনেক মজা আমি কী দিতে পাড়ি?
মায়ার কথায় আশিক দ্রুত পায়ে মুখ ভার করে আনাস এর রুমের দিকে যেতে যেতে বলল,
___” গতকাল বলল ভালোবাসি না,ভালোবাসবো না, আর আজকে, হায় মেয়েদের মন বোঝা বড়োই কঠিন কাজ। সুন্দরী আই এম সরি তোমার সঙ্গে আর প্রেম করা হলো না।
আশিক চলে গেলো। ড্রয়িং রুমে সবাই হেঁসে উঠলো, মায়ার হাসির দিকে তাকিয়ে আইরা বলল,
___” তুই আশিক ভাইয়া কে ভালোবাসিস! কই আগে তো বলিস নাই! আঙ্কেল জাললে প্রবলেম হবে না?
আইরার প্রশ্নে মায়ার হাসি মুখ মলিন হয়ে গেলো। সবার নজর মায়ার উপর। মায়া একনজর সবাই কে দেখে নিয়ে ধীর কন্ঠে আইরার প্রশ্নের উত্তর করলো,
___”ভালোবাসা ভেবেচিন্তে হয় না, হটাৎ হয়ে যায়। এখন আমি কষ্ট পায় বা ধ্বংস হয়ে যাই না কেনো। ওই লুচ্চা কে ছেড়ে দিবো না।
রশ্মি আগেই মাহির কে লোকেশন দিয়েছিল, রশ্মির লোকেশন অনুযায়ী পার্থ আগেই এসে রেস্টুরেন্টের রোমান্টিক ক্যান্ডেল ডিনার আয়োজন করেছে। ক্যান্ডেল লাইটের নিচে চারপাশ টা স্লিক, পুরো টেবিলে লাল গোলাপের পাপড়ি, তারমধ্যে একটা মোমবাতি। একটু ড্রিমি,সঙ্গে ঠান্ডা ঠান্ডা ওয়েদার। রশ্মি রেস্টুরেন্টে দরজায় ঠেলে এসে দাঁড়ালো। মাহির অনেকক্ষণ যাবৎ রশ্মির আসার অপেক্ষা করছিলো। ইন করা সাদা শার্টের ওপরে কালো কোট প্যান্ট পরিহিত মাহির হাতের ঘড়িতে চোখ বুলালো। পুনরায় চোখ ঘুড়িয়ে রেস্টুরেন্টের দরজার দিকে তাকাতেই মাহিরের চোখ আটকে গেলো। রশ্মি পুনরায় নতুন ভাবে সেজেছে, সাদা গাউন সঙ্গে সাদা পাতলা ওড়না গলায় ঝুলানো। চোখে কাজল, কানে সাদা বড় ঝুমকা, দু’হাতে গোন্ডেন চিকন চুড়ি, একদম এয়ারপোর্টের রশ্মি। রশ্মি কে প্রথম দিনের লুকে দেখে পার্থর হাত আপনাআপনি বুকে চলে গেলো। বুকে হাত রেখে মাথাটা নিচু করে মুচকি হাসলো পার্থ। পুনরায় হাসি মুখে চেয়ার থেকে ওঠে রশ্মির কাছে এসে দাঁড়ালো।
___” মাশাল্লাহ, কারো নজর না লাগুক আমার রশ্মিরানী কে।
মাহির রশ্মির দিকে ঝুকে কানের কাছে স্লো ভয়েসে বলল, রশ্মি চমকে উঠে তাকালো মাহিরের দিকে। হটাৎ রশ্মিরানী নামটা কানে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক সেকেন্ডের মতো মনে হতে লাগলো পার্থ ডাকছে। রশ্মি কয়েক সেকেন্ড মাহিরের দিকে তাকিয়ে থাকলো। পুনরায় নিজেকে সামলে নিয়ে মুখে হাসি টানলো। মাহির একটু ঝুকে এক হাত রশ্মির দিকে বাড়িয়ে দিতেই রশ্মি একনজর আশেপাশে তাকালো। মাহির কে হাত বাড়িয়ে দিতে দেখে রশ্মি হাত রাখলো মাহিরের হাতে। দু’জন ধীর পায়ে চলছে টেবিলের দিকে। রশ্মি মাহিরের হাতে হাত রেখে পেছনে হাঁটতে হাঁটতে টেবিলের দিকে তাকালো। টেবিলের কাছে এসে পার্থ রশ্মির হাত ছেড়ে দিয়ে টেবিলের উপর থেকে একটা লাল টকটকে গোলাপ হাতে নিয়ে রশ্মির সামনে হাঁটু গেড়ে বসলো। মুখে হাসি, চোখে কিছু পাওয়ার আশা, মনে ব্যাকুলতা, সবমিলিয়ে মাহির রশ্মির দিকে তাকিয়ে উৎফুল্লতা কন্ঠে বলল,
___” ভালোবাসবেন আমায়, আপনি আমাকে ভালোবাসলে আমি আমার ভালোবাসা দিয়ে আপনার অতীত ভুলে দিবো। সারাজীবন পাশে থাকবেন আমার। আপনি আমার পাশে থাকলে আমি আমার পূর্ণতার সুখ খুঁজে পাবো। আপনি আমার প্রথম আর শেষ ভালোবাসা হয়ে থেকে যাবেন প্লিজ। বিশ্বাস করুণ আমার হৃদয়ে সারাজীবন যত্ন করে রেখে দিবো।
রশ্মি মাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে, মাহিরের মুখে হাসি। রশ্মি মাহিরের থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে মাহিরের পেছনে তাকালো। রশ্মি কে গোলাপ না নিয়ে পেছনে তাকাতে দেখে মাহির রশ্মির চোখ অনুসরণ করে মাথা ঘুরিয়ে পেছনে তাকাতেই মুখের হাসি বিলিম হয়ে গেলো। আরাত অশ্রুসিদ্ধ নয়নে দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে। মাহির নিস্তব্ধ হয়ে গেলো, আরাত কে এখানে একদম আশা করে নি। রশ্মি মাহিরের সামনে থেকে আরাতের কাছে এসে এক ঘাড়ে হাত রেখে বলল।
___” বিশ্বাস করছিস তো আমার কথা! নিজের চোখে দেখতে চেয়েছিলিস না,দেখ সবকিছু।
মাহির এখনো একিভাবে হাঁটু গেড়ে বসে আছে। মুখে অবিশ্বাস্যর রেস কাটছে না। মাহির তো এভাবে আরাতের সামনে আসতে চায় নি। রশ্মি আরাত কে দিন কে দিন বুঝিয়ে রশ্মির সঙ্গ চেয়েছিলো। মাহিরের সত্যিটা আরাতের মস্তিষ্ক ফাঁকা ফাঁকা করে দিচ্ছে। আরাত এক পা দুপা করে মাহিরের কাছে আসলো। আরাত কে নিজের দিকে আসতে দেখে মাহির চুপচাপ উঠে দাঁড়ালো। দুজন দুজনের সামনাসামনি। রশ্মি চুপচাপ দুজন কে দেখছে। মাহির আরাতের সামনে মাথা নিচু করে রইলো। আরাত মাহিরের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
___” রশ্মি যদি আপনার প্রথম আর শেষ ভালোবাসা হয়, তাহলে আমি কী?
মাহির উওর করতে পারলো না। শুধু অসহায় মুখে আরাতের দিকে তাকালো। আরাতের চোখের পানি গাল বেয়ে গড়িয়ে পরছে। হটাৎ আরাত মাহিরের কলার চেপে ধরে বলল,
___”আমিও তো আপনাকে বিশ্বাস করেছিলাম, আমাকে কী আপনার হৃদয়ে যত্ন করে রেখে দিতে মন চাইলো না! বলেন না মাহির, কথা বলছেন না কেনো উওর দেন, আমার উওর চাই মাহির উওর চাই ?
আরাত কান্না করতে করতে মাহিরের কলার ছেড়ে দিয়ে, দুহাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে দূরে সরে বলতে লাগলো,
___” কেনো বেইমানি করলেন, আমাকে ধোঁকা না দিয়ে বলতে পারতেন। আমি আপনার খুশির জন্য আপনার জীবন থেকে সারাজীবনের জন্য হাসতে হাসতে চলে যেতাম। শুধুমাত্র আপনার জন্য আমি রশ্মির সঙ্গে খারাপ ব্যাবহার করেছি। রশ্মি আমাকে সব সত্যি দেখানোর পড়েও আমি ওকে অবিশ্বাস করেছি। কারণ আপনার উপর আমার ভরসা ছিলো।
আমি তো আপনাকে সত্যিই খুব ভালোবেসেছিলাম, তাহলে আপনি আমাকে ভালোবাসার লোভ দেখিয়ে ধ্বংস করে দিলেন কেনো?
আরাতের চিৎকার দিয়ে কথা বলায় রেস্টুরেন্টের অনেকেই তাঁদের দিকে তাকিয়ে দেখছে এবং ফিসফিস করছে। রশ্মি আরাতের দিকে এসে আরাত কে শান্ত করতে বলল,
___” আরাত প্লিজ শান্ত হয়ে যা, দেখ মানুষ দেখছে। আমারা পরিচিত কারো নজরে পরলে বাসায় নালিশ করবে, প্লিজ শান্ত হয়ে যা। তাকা আমার দিকে তাকা, তুই ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছিস কেনো, তুই না বলতি তুই প্রেমের ছ্যাকা খেলে ডিজে গানে নাচবি। চল আমরা বাসায় গিয়ে ডিজে গানে নাচবো।
রশ্মির ডিজে গান বাজানোর কথা শুনে রেস্টুরেন্টের অপরিচিত মানুষ গুলো শব্দ করে হেঁসে উঠলো। মাহির শুধু রশ্মির দিকে তাকিয়ে আছে। আরাত এতক্ষণ যাবত কান্না করে যাচ্ছে তাঁর এদিকে কোনো খেয়াল নেই।মাহিরের মাথার মধ্যে শুধু একটা কথায় চলছে রশ্মি তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করলো। মাহির কে রশ্মির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরাত চোখের পানি মুছলো। মাহিরের সামনে দাঁড়াতেই মাহির রশ্মি থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে আরাতের উপর রাখলো।আরাত মাহিরের উপর তাচ্ছিল্য হেঁসে বলল,
___”বুক বরাবর হার্টবিটের অবস্থান,বোকা পুরুষ বুকে আঘাত হানে হার্টবিট কে ভালো রাখতে চাইছে।
মাহির এতক্ষণে কথা বলে উঠলো, অসহায় গলায় আরাত কে বলল,
___” সরি আরাত আমি এমনটা করতে চাইনি, আমি তোমাকে সবকিছু বলছি শুনো?
___” কী বলবেন আপনি, হ্যাঁ বলবেন তো আমি তোমাকেই ভালোবাসি, তুমি ভুল ভাবছো?
___” না তুমি ভুল বোঝোনি আমি তোমাকে না রশ্মি কে ভালোবাসি, আর আমি রশ্মি কেই বিয়ে করতে চাই। তোমার প্রতি শুধু আমার ভালোলাগা তৈরি হয়েছিল, এর বেশি কিছু না।
আরাত মাহিরের কথায় নিস্তব্ধ হয়ে চেয়ে রইলো, কত সহজে বলে দিলো শুধুই তোমার প্রতি আমার ভালোলাগা ছিলো। আরাতের মনের মধ্যে কিছুক্ষণের জন্য মাহির কে নিয়ে আশা তৈরি হয়েছিল। এই বুঝি মাহির সবকিছু মিথ্যা প্রমান করবে। কিন্তু না মাহির মিথ্যা প্রমান বা নিজেকেও নির্দোষ প্রমাণ করলো না। সে খুব নির্দয়ে বলে দিলো। সে আরাত কে ভালোবাসে না। রশ্মি নিজেকে অপরাধী চোখে চেয়ে আছে আরাতের দিকে। কিন্তু মাহিরের মধ্যে সেই অপরাধের ছিটে টুকু দেখা যাচ্ছে না। তাঁর মধ্যে কেনো প্রকার অপরাধ কাজ করছে না। আরাত অসহায় চোখে মাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে। মাহির পুনরায় বলল,
___” আমি তোমাকে কোনোদিন বলে নাই আমি তোমাকে ভালোবাসি। তোমার প্রতি আমার এমন ফিল আসে না। রশ্মি কে প্রথম দিন দেখার পর ওর জন্য আমি এক আলেদা অনুভূতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছি । এই অনুভূতি আমার ভালোবাসার অনুভূতি, আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি রশ্মি আমার ভালোবাসা। আমি রশ্মি কে ভালোবাসি রশ্মি কে।
আরাত মাহির কে কিছু বলল না। চোখের পানি মুছতে মুছতে দ্রুত পায়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে গেল। রশ্মি আরাত কে যেতে দেখে নিজেও রেস্টুরেন্ট থেকে বের হতে যাবে। মাহিরের কথায় আটকে গেলো।
___” আমার সঙ্গে প্রতারণা করলেন কেনো রশ্মি?
রশ্মি মাহিরের দিকে তাচ্ছিল্যস্বরূপ তাকিয়ে বলল,
___” প্রতারণা! আপনি কোন প্রতারণার কথা বলছেন, আপনি আরাত কে যেভাবে ঠকালেন তাঁর কাছে এতটুকু প্রতারণা বেমানান নয়-কি?
___” আমি আপনাকে ভালোবাসি রশ্মি?
___” রিয়েলি, তাহলে এতদিন আরাতের সঙ্গে আপনার কী ছিলো?
___” বললাম তো ভালোলাগা।
___” আরাতের সঙ্গে এতদিন কথা বলে ওর প্রতি আপনার ভালোবাসা সৃষ্টি হয়নি। আমাকে দুইদিন দেখেই ভালোবেসে ফেলছেন। বাহ আপনার তারিফ না করলেই না। আপনার তো দুইদিন পড়ে এটাও মনে হবে আমার প্রতি আপনার ভালোলাগা ছিলো।
মাহির হুট করে রশ্মির হাত ধরে বলল,
___” না আপনি আমার ভালোলাগা না আপনি আমার ভালোবাসা। আপনি যা বলবেন যেভাবে বলবেন আমি সেভাবেই চেঞ্জ হয়ে যাবো।
___” সবকিছু এত সহজ না।
___” একবার বলে তো দেখেন, আমি আপনার সব কথা শুনবো। আপনি শুধু আমার হয়ে যান?
___” প্লিজ আমার হাতটা ছাড়েন?
___” না ছাড়বো না, আমার উত্তর চাই?
___” হাতটা ছাড়েন বলছি?
___” না।
রশ্মি নিজের সামলাতে পারলো না, মাহিরের হাতের মধ্যে থেকে নিজের হাত ঝাটকা মেড়ে বের করে মাহির কে থাপ্পড় লাগালো। রেস্টুরেন্টের সবাই আগে থেকেই তামাশা দেখছিল। এখন আরো বেশি করে মনোযোগ সহকারে দেখছে। একটা মানুষও কাছে এলো না। রশ্মি মাহির কে থাপ্পড় মেয়ে আঙ্গুল উঠিয়ে হিসহিসিয়ে বলল,
___”আপনি হয়তো ভুলে যাচ্ছেন, আরাতের জীবনে আমার ইম্পরট্যান্ট কতটা, আরাত আমাকে কতটা ভালোবাসে একমাত্র আমি জানি। আরাত কী বলছে আপনি হয়তো বুঝতে পারেন নি। বুকে আঘাত করে হার্টবিটের যত্ন নিতে চাইছেন, হ্যাঁ বুক আর হার্টবিট দুটোর অবস্থান একখানেই। আমরা দুজন আলেদা কেউ না একজন’ই। আর আপনি ওকে কষ্ট দিয়েছেন, আপনি ভাবলেন কিভাবে আমি আপনাকে ভালো বাসবো। আমাদের থেকে দূরে থাকবেন মাইন্ডেট।
রশ্মি হিসহিসিয়ে কথাগুলো বলে আশেপাশে তাকালো, সবাই আগের মতো তাঁদের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসতাছে। রশ্মি সবার উদ্দেশ্য বলে উঠলো,
___” ডামা শেষ, আপনারা আপনাদের কাজে কন্টিনিউ করতে পারেন।
কথাটা বলে রশ্মি রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে গেলো। রেস্টুরেন্টে বাকি সবাই রশ্মির কথা বেশ লজ্জা পেলো। মাহির ডেকোরেশন করা চেয়ারে ধপ করে বসে পরলো। গতকাল মাহির রশ্মি কে মেসেজ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রশ্মি ছাঁদ থেকে আরাতের হাত টেনে ধরে আরাতের রুমে এসেছিলো। আরাত এভাবে টেনে আনার কারণ জানতে চাইলে রশ্মি নিজের হাতের ফোনটায় কিছু বের করে আরাতের সামনে ধরে। গতকাল সকাল থেকে মাহির কী কী মেসেজ দিয়েছে সবকিছু আরাত কে দেখায়। আরাত অবিশ্বাস্য চোখে ফোন হাতে নিয়ে একটার পর একটা মেসেজ চেক করে। কিছু মুহূর্তর জন্য রশ্মি কে অবিশ্বাস করে বলে উঠে,
___” সবকিছু মিথ্যা তুই মিথ্যা বলছিস?
___” তুই আমাকে অবিশ্বাস কেনো করছিস, তোকে মিথ্যা বলে আমার লাভ কী?
আরাত রশ্মির কথায় গুরুত্ব না দিয়ে হেঁসে বলছিলো,
___” তোর ব্রেকআপ হয়েছে বলে তুই মাহিরের মেসেজ এডিট করে আমাকে দেখাচ্ছিস তাইনা, তুই যত যাই কর আমি বিশ্বাস করবো না। ফাজিল সবসময় মজা করিস।
রশ্মি আরাতের কথায় রাগ হয়ে বলল,
___” প্রেমে অন্ধ হয়ে গেছিস, তোকে আগামীকাল সামনাসামনি প্রমান দেখাবো।
রশ্মির কথায় আরাত বেশ রেগে যায়,
___” একদম মজা করবি না রশ্মি, সবসময় মজা ভালো লাগে না, তোর সঙ্গে মাহিরের দেখা হয়েছে মাএ একদিন। একদিনের মধ্যেই মাহির তোকে ভালোবেসে ফেলছে তাই-না যতসব।
তাঁদের কথা বলার মধ্যেই আলভী চিৎকার দিয়ে উঠেছিলো। সঙ্গে সঙ্গে দুজন নিচে নেমে যায়। রাতে রশ্মি পুনরায় আরাতের সঙ্গে দেখা করে। মাহির রশ্মির সঙ্গে ফোনে কী কথা বলছে সবকিছু খুলে বলে। আরাত সবকিছু শুনে শুধু অবিশ্বাস্য হয়ে মলিন মুখে চুপচাপ বসে ছিলো। রশ্মি রাতের বেলায় আরাত কে বলে। মাহির কে যে লোকেশন দেবে ওই লোকেশনে আরাত আগে থেকেই উপস্থিত থাকবে। দুজনের কথা হওয়ার পর আরাত ওয়াশরুমে মুখে পানির ছিটা দিতে দিতে মাহির আর রশ্মি কে নিয়ে ভাবছিলো। ওভাবেই প্রায় পনেরো মিনিট পার হয়ে যায়। আরাত ওয়াশরুম থেকে রুমে আসতেই তাকবীরের ডাক শুনতে পেয়ে রুমের দরজা খুলে দেয়। তাকবীর, নিজে পছন্দ করে আরাতের জন্য বিয়ের শাড়ি দেখছিলো।
সাদা পাথরে কাজ করা শাড়ি পছন্দ হয়েছে। আরাত কে কেমন মানাবে এটাই দেখতে আরাতের রুমের সামনে এসে আরাত কে ডেকে উঠে। আরাত কে কয়েকবারে ডাকার পড়েও আরাতের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ষষ্ঠম বারের বেলায় দরজা খুলে দেয় আরাত। আরাত ঠিক আছে ভেবে স্বস্তির একটা নিশ্বাস ফেলে, তাকবীর একবার ফোন তো আরেক বার আরাত কে দেখতে লাগলো। তাকবীরের পছন্দ করা শাড়ি তে আরাত কে কেমন লাগবে। রাত কেটে সকালের আলো ফুটে ওঠে। প্রায় এগারোটার নাগাদ রশ্মির কথা মতো আরাত রেস্টুরেন্টে মাহির উপস্থিত হওয়ার আগে আরাত উপস্থিত হয়। রেস্টুরেন্টের এক কোনার টেবিলে বসে থেকে নিজ চোখে আরাত, মাহিরের সব আয়োজন দেখছিলো। রশ্মি আসার সঙ্গে সঙ্গে মাহিরের সব সত্য আরাতের সামনে পরিস্কার হয়ে গেলো। আরাত যতই বলুক না কেনো পার্থ যদি কোনোদিন আরাতের সামনে পড়ে। রশ্মি কে কষ্ট দেওয়ার অপরাধে আরাত পার্থ কে কঠিন শাস্তি দেবে। হয়তো দিতোও, অন্যার ব্যাপারে অনেক কিছুই বলা যায়। একই ঘটনা নিজের সঙ্গে হয়ে গেলে তখন বুঝা যায় মুখের সবকিছু সহজ, কাজে না।
আরাত তালুকদার বাড়িতে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরিশা সন্ধ্যা মায়া মিম তিশা, পাঁচজন আরাতের পথ আটকে ধরে। আরাতের চোখমুখ ফোলা ফোলা হয়ে আছে। আরিশা আরাতের পথ আটকে ধরে হাসি মুখে বলে উঠলো,
___” কী বিয়ের কনে, এতক্ষণ কই ছিলি জবাব দে, তালুকদার বাড়ি কিন্তু আজকে থেকে তোর শুধু বাবার বাড়ি না শশুর বাড়িও। ননদের কথায় জবাব চাই?
শেষের লাইটা সবাই মিলে চিল্লিয়ে বলল। আরাত কথাগুলো না বুঝে না শুনে রাগী গলায় বলল,
___” কী সমস্যা তোমাদের, আমাকে রুমে যেতে দেও।
আরাতের রাগের কারণ বুঝতে পারলো না কেউ। সবাই সবার মুখ চাওয়াচাওয়ি করল, আরাত বিরক্ত হয়ে রাগী গলায় কথা গুলো বলে নিজের রুমের দিকে যেতে নিলো। আরিশা আরাত কে আটকে ধরে জানতে চাইলো,
___” আরাত দাঁড়া, তোর চোখমুখের এই অবস্থা কেনো! তোর কী হয়েছে?
___” কিছু না।
___” তুই কান্না করেছিস?
আরাত আর নিজেকে আটকে পারলো না, ড্রয়িং রুমে চিৎকার দিয়ে কান্না করতে করতে বলল,
___” হ্যাঁ হ্যাঁ আমি কান্না করেছি, তোমাদের সমস্যা কী,তোমাদের জন্য কী কান্নাও করতে পারবো না?
আরিশা আরাতের কাছে আসতে নিলেই আরাত সিড়ি বেয়ে নিজের রুমে চলে যায়। সবাই শুধু অবাক হয়ে আরাতের যাওয়ার পথে চেয়ে রইলো। আরাতের চিৎকারে সবাই ছুটে এসেছে। বাড়ির বড় থেকে ছোট সবাই। আনাস আশিক হাবীব নিচে নেমে এসে জানতে চাইলো কী হয়েছে। কারো মুখে কথা নেই কেউ জানে না কি হয়েছিল যার জন্য আরাত কান্না করেছে। আদিবা তালুকদার আর রাবেয়া তালুকদার আরাতের জন্য শাড়ি নিয়ে আরাতের রুমে ঢুকলো। এতক্ষণে রশ্মি বাড়িতে ফিরছে। রশ্মি সদর দরজায় দাঁড়িয়ে সবাইকে দেখছে। আনাস রশ্মি কে সদর দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে দ্রুত পায়ে রশ্মির কাছে এসে দাঁড়ালো। আনাস রশ্মির কাছে আরাতের কান্না করার বিষয়ে জানতে চাইলে রশ্মি সবার দিকে তাকিয়ে, নিচু স্বরে আনাস কে সবকিছু খুলে বলে। আনাস রশ্মির মুখে সবকিছু শুনে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো। আনাস কে রাগী লুকে বাড়ি থেকে বের হতে দেখে আনাস এর পিছু পিছু আশিক হাবীব বের হয়ে গেলো।
আনাস রেস্টুরেন্টের সামনে বাইক থেকে নেমে দ্রুত পায়ে রেস্টুরেন্টের ভিতরে ঢুকে গেলো। আনাস এর পেছনে আশিক হাবীব রেস্টুরেন্টের ভিতরে ঢুকে যায়। আনাস রেস্টুরেন্টে ঢুকতেই চোখে পরলো মাহির আগের ন্যায় চেয়ারে নিশ্চুপ হয়ে মেঝের দিকে তাকিয়ে কিছু নিয়ে ভাবনায় মগ্ন। আনাস কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা মাহিরের সামনে এসে দাঁড়ালো। মাহির হটাৎ নিজের সামনে কাউকে অনুভব করে চোখ তুলে উপরে তাকাতেই, আনাস কে দেখেই চমকে ওঠে বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেলো মাহির। আনাস কে দেখা মাত্রই মাহিরের মনে মধ্যে ভাবনা চলে এলো। আরাত কে কষ্ট দেওয়ার অপরাধে আনাস শাস্তি দিতে এসেছে। মাহির আনাস কে কিছু বলতে নেবে আনাস হঠাৎই মাহিরের সব জল্পনা কল্পনা পানিতে ফেলে, শুক্ত করে জরিয়ে ধরলো মাহির কে,
___” থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ আমার বোনের জীবন থেকে বিদায় হওয়ার জন্য।
আনাস হটাৎ মাহির কে জরিয়ে ধরায় আশির হাবীব মাহির তিনজনই ভেবাচেকা খেয়ে গেলো। তাঁদের ধারণা আরাত কে কষ্ট দেওয়ার অপরাধে মাহির কে আনাস মারধর করতে এসেছে। কিন্তু তাঁদের ভাবনা উল্টোটা হয়ে গেলো। আনাস মাহির কে ছেড়ে দিয়ে আর কিছু না বলে হাসিমুখে যেভাবে এসেছিলো পুনরায় একেকভাবে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে গেলো। মাহির শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো। আশিক মাহিরের কাছে এসে মাহিরে ঘারে হাত রেখে বলল,
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৩৬
___” ব্রো অবাক হওয়ার কিছু নেই, আনাস বরাবরই তাকবীর ব্রোর সঙ্গে আরাত কে দেখতে চেয়েছিল। মাঝখানে তোমার এন্ট্রি হওয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। তাকবীর ব্রো নিষেধ না থাকলে তোমাকে অনেক কিছু সহ্য করতে হতো। যাকগে এসব কথা, আজ থেকে আরাতের আশেপাশে যেন তোমাকে দেখা না যায়।
