তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪৩
জান্নাতি আক্তার জারা
___”এনাফ ইয়ার….
তাকবীর ব্যাট হাতে রেখে হাঁটুর উপর দুহাত ভর দিয়ে মাথা ঝুঁকলো, মুখময়ে ক্লান্তর ছাপ স্পষ্ট, তাকবীর কে হারাতে পেয়ে আরাত খুশিতে উপরের দিকে লাফালাফি শুধু করছে, মিম তিশা চিৎকার দিতে দিতে আরাতের কাছে এসে আরাতের সঙ্গে লাফালাফি শুধু করে,
___” ইয়াহু আরাত আপু জিতে গেছে…
তাকবীর হাঁটুর উপর ভর দিয়ে মুখ তুলে আরাতের দিকে চাইলো, আরাত কে খুশিতে লাফাতে দেখে তাকবীরের ঠোঁটের কোণে এক টুকরো হাসি ফুটে উঠে, আরাতের দিকে নীরব চোখে চেয়ে সোজা হতে হতে বিরবির করল,
___” কসম বলছি, তোমার ওই খিলখিলিয়ে হাসির শব্দ একদম বাজে, তুমি বরং লজ্জা পেয়ে মুচকি হেসো বারবার।
আরাত হাসতে হাসতে তাকবীরের দিকে তাকালো, তাকবীর কে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরাতের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল, হাতের ব্যাট মিমের হাতে দিয়ে একপা দু’পা করে তাকবীরের সামনে এসে দাঁড়ালো, তাকবীর পূর্বে থেকেই কপাল কুঁচকে আরাতের দিকে তাকিয়ে ছিলো, আরাত কে নিজের সামনে দাঁড়াতে দেখে ছোট করে জানতে চাইলো,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
___” হ্যাপি.?
তাকবীরের কথায় আরাত হাসি মুখে মাথা ঝাকালো, যাঁর অর্থ হ্যাঁ হ্যাপি আমি, আরাত কে মাথা ঝাঁকাতে দেখে তাকবীর পুনরায় বলল,
___”একটা কথা বলবো?
আরাত হাসি মুখে তাকবীরের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে ছোট করে বলল,
___” হ্যাঁ?
তাকবীর আরাতের হাতে ব্যাট দিয়ে বলল,
___” মন যা চায় তাই করো তাই-না ?
___” হ্যাঁ, কিন্তু কেনো?
আরাত তাকবীরের দিকে উওর জানার জন্য চেয়ে আছে, তাকবীর নিষ্পলক চোখে আরাত কে দেখছে, মুখে কথা নেই, আরাত তাকবীর কে কিছু বলতে না দেখে অবাক হয়ে জানতে চাইলো,
___” বললেন না তো বীর…?
___” হুঁশশশ..
আরাত পুরো কথা শেষ করার আগেই তাকবীর আরাতের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আরাতের ঠোঁটে আঙ্গুল রাখলো,আরাতের ঠোঁট কাঁপছে চোখের পাতা ঘনঘন উঠানামা করছে, তাকবীর আরাতের চোখে চোখ রেখে সরাসরি প্রশ্ন করে উঠলো,
___” তোমার মন চায় না আমাকে ভালোবাসতে?
তাকবির আগের ন্যায় স্বাভাবিক ভাবেই জানতে চাইলো, আরাত কিছুক্ষণ তাকবীরের দিকে নিস্তব্ধ চোখে চেয়ে নীরবতা পালন করলো, উত্তরে কী বলবে জানা নেই, নীরব চোখে তাকবীর কে দেখে চোখ নিচু করে নিলো, তাকবীর আরাত কে কিছু বলতে না দেখে আরাতের থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে নীরবেই জায়গা ত্যাগ করে, আরাতের চোখ তাকবীরের যাওয়ার পথে,
___” জানিনা আমার মন কী চায়,শুধু এতটুকু জানি আপনি অনেক কেয়ারিং, আপনার ছোট ছোট কেয়ার গুলো ভালো লাগতে শুধু করছে, আপনার কথা মেনে চলতে ইচ্ছা করে।
আরাত বিরবির করে বলতে বলতে ব্যাট উলটপালট করে দেখতে লাগলো, এতক্ষণে মিম তিশা আরাতের সামনে এসে গলা খাঁকারি দিচ্ছে, আরাত আর তাকবীর কে কাছাকাছি দেখে দুজন দুজনের মতো কথা বলছিলো, যদিও দূর থেকে তাকবীর আরাতের কথাগুলো শুনতে পায়নি,তাকবীর কে বাড়ির ভিতরে যেতে দেখে দুজন আরাতের সামনে এলো, আরাত নিজের সামনে মিম তিশা কে দাঁড়াতে দেখে,ব্যাট মিমের হাতে দিয়ে দুজন কে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বাড়ির ভিতরে চলে গেলো, দুজন কিছুই বুঝলো না আরাতের এভাবে চলে যাওয়ার মানে,
আনাস আইরা, হাবীব, আশিক আর মায়া কে নিয়ে আশিকের বাড়িতে ড্রয়িং রুমে উপস্থিত , আশিক মায়ার বাড়ি থেকে বের হতে হতে আশিক, আনাস হাবীব কে ফোন করে সবকিছু শেয়ার করে, হাবীব সবকিছু শোনামাত্র কাজি অফিসে এসে হাজির হয়ে যায়, আনাস বের হতে যাবে বিপত্তি বেধে আইরা, মায়া বাড়ি থেকে আশিকের হাত ধরে বের হয়ে এসেছে শোনার পর থেকে বাহানা ধরে আইরাও যাবে আনাস এর সঙ্গে, রাত বেশি না হলেও এই শীতে বাড়ির কেউ আইরা কে বের হতে দিবে না, আনাস চায়না আইরা শীতে মধ্যে বাহিরে বের হক, কিন্তু আইরার জেদের কাছে হার মেনে বাড়ির মানুষদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আইরা কে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
কাজি অফিসে এসে সবকিছু প্রথম থেকে শুনার সঙ্গে সঙ্গে আনাস প্রথমে তাকবীর কে কল লাগায়, তাকবীরের সঙ্গে কথা বলে রাতে রাতে বিয়ের কাগজ রেডি করে আশিক মায়া কে পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ করে,রাত সাড়ে ন’টায় আশিকের বাড়িতে নতুন বউ নিয়ে উপস্থিত হয়। আশিকের বাবা-মা তাজ্জব বনে ছেলের সঙ্গে ছেলের বউ কে দেখে, উনারা ছেলের আবদার পূরণ করতে আগামীকাল মায়াদের বাড়িতে যেতে রাজি হয়েছিলো। কিন্তু রাত কেটে ভোর হওয়ার আগেই যে এভাবে ছেলের বউ কে দেখতে পারবেন কল্পনার বাহিরে ছিলো, আনাস হাবীব, মায়ার পরিবারের কথা আশিকের বাবার কাছে তুলে ধরতেই ভদ্রলোক হাসি মুখে মায়া কে নিজের কাছে আগলিয়ে নেয়, মায়ার সেদিকে মন নেই মায়া আসার পর থেকে পুরো বাড়ি আনাচে কানাচে দেখতে ব্যস্ত, বাড়ির আসবাবপত্র থেকে শুধু করে রুমগুলোই আধুনিকের ধাচ লেগে আছে , আশিকের বাবা বড় মাপের বিজনেসম্যান হওয়ায় সুবিধার্থে ভদ্রলোকের দেশবিদেশ চলাচল থাকে অবনগর, কিছু কিছু আসবাবপত্রে লেগে আছে ভিনদেশী ধাচ, মায়ার বাবার বাড়িতেও কম নেই কিন্তু আশিকের বাড়িতে সবকিছু ভিন্ন ধাঁচের আসবাবপত্র, আশিকের বাবা-মা মায়া কে বেশ পছন্দ করছেন, এবং মেনেও নিয়েছে,
প্রথম কয়েক মুহূর্তে এভাবে বিয়ে করার জন্য নাকচ করলেও মায়া কে দেখে আর কোনো বাঁধা দিলেন না নতুন বউকে ঘরে তুলতে। কিন্তু শর্ত জুড়ে দিলেন, আশিক কে অন্য কোথাও না নিজেদের বিজনেসে হাত লাগতে হবে, আশিক মানতে নারাজ, সে নিজের বিজনেসে না আলেদা একাই নিজেকে সাকসেস করবে। কিন্তু আশিকের বাবা ছেলের একঘেয়েমি পছন্দ করলেন না তিনিও নিজের শর্তে থেকে নরলেন না। মাঝখান থেকে বাপ-বেটার মধ্যে ভেসে গেলো বাকিসবাই, আনাস হাবীব আশিক কে বুঝিয়ে বলল, তুই একমাত্র ছেলে আঙ্কেলের সবকিছু তোর জন্য, তাহলে অন্য কোথাও জব নেওয়ার মানেই হয়না, অনেক বুঝানোর পর আশিক কে বুঝাতে সক্ষম হলো আনাস হাবীব।
এতক্ষণে আশিকের মা মুহূর্তের মধ্যে খাবারের আয়োজন করছেন, নতুন বউ কে নিজের পাশে বসিয়ে সবাই কে সঙ্গে নিয়ে আরাতের ডিনার শেষ করলেন, পুনরায় কোলাহল শেষ করে সময় নষ্ট না করে আনাস আইরা হাবীব, আশিক আর মায়া কে নিয়ে আশিকের রুমে ঢুকলো, হটাৎ ধমকা হওয়া এসে মায়ার সবকিছু এলোমেলো করে দিয়ে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিলো, এভাবে জীবনটাকে গুছাইতে না পারলে হয়তো আশিক কে নিজের করে নিতে পারতো না, মায়া আশিকের রুমে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখছে, আইরা মায়ার সঙ্গে ফিসফিস করে কিছু নিয়ে আলোচনা করছে আর নিজেরা নিজেরা হাসছে, মায়ার মনে কিছুটা টেনশন কিছুটা পূর্ণতার খুশি, সব মিলিয়ে আইরার সঙ্গে হেঁসে উঠলো, দুজনের হাসির শব্দে আশিক বলে উঠলো,
___”দোস্ত তোরা তো সবকিছু করলি, আরেকটা হেল্প কর ভাই, এই চেয়ারম্যানের মাইয়া রে বল আজকে থেকে আমার সঙ্গে ঝগড়া যেন না করে!
___”তোর বউ তুই সামলা, আমাদের বলছিস কেনো?
হাবীবের কথায় আশিক স্বাভাবিক মুখেই বলল,
___” বউ হিসাবে সামলাতে পারবো, যদি একবার চেয়ারম্যানের মাইয়ার রুপে আসে তাহলে আমি…
___”তাহলে তুই একদম জেলে, সালা লুচ্চা তুই অন্য মেয়ের দিকে তাকাবি আর আমি আমার রুপে আসবো, মনে যেন থাকে?
আশিক কে পুরো কথা শেষ করতে না দিয়ে মায়া তেতে উঠে কথাগুলো বলল, আশিক বাদে সবার মুখে হাসি, বিয়ের রাতে দুজন ঝগড়া শুরু করে দিলো, মায়ার কথায় আশিক অ্যাটিটিউড নিয়ে বলে উঠলো ,
___” বিয়ে করেছি আমি, আজকে থেকে সম্মান দিয়ে কথা বলবে,আর অন্য মেয়ে, কোথাও তাড়া, কেমন দেখতে তাড়া আমার তো তোমাকে ছাড়া আর কাউকে চোখে পরছে না?
আশিকের কথায় হাবীব আশিকের ঘারে হাত রেখে বলল,
___” বিয়ে করতে না করতেই অন্ধ হয়ে গেছিস, আইরা ভাবীকে তোর মেয়ে মনে হয় না?
তাঁদের কথাকথনে আনাস বিরক্ত হয়ে গেলো, আশিক আইরার দিকে তাকিয়ে বলল,
___”আরে আইরা তো আমার মেয়ে কম ভাবী বেশি লাগে!
আশিকের কথায় আইরা বুঝতে পারলো না, লজ্জা পাবে নাকি অবাক হবে,আনাস বিরক্ত হয়ে বলে উঠলো,
___” অনেক রাত হয়ে গেছে, আমাদের এখন যাওয়া উচিত, আইরা চলে আসো!
আনাস কথাটা বলে রুম থেকে বড়বড় পা ফেলে বের হয়ে গেলো, আনাস কে বের হতে দেখে আইরা মায়ার কাছে বিদায় নিয়ে বের হয়ে গেলো, হাবীব রুম থেকে বের হতে হতে বলল,
___” ফার্স্ট নাইটের জন্য অল দ্যা বেস্ট, বাট মান সম্মান বজায় রাখিস দোস্ত, গুড নাইট ভাবী!
হাবীব চলে গেলো, হাবীবের কথায় মায়ার মনে পড়ে গেলো আজকে তাঁদের ফাস্ট নাইট, মুহূর্তের মাঝে মায়ার মধ্যে লজ্জাগুলো এসে ভর করলো, আশিক মায়া কে এক নজর দেখে নিয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো, দরজা বন্ধ করার শব্দে মায়া চমকে মাথা তুলে আশিকের দিকে তাকালো,আশিক দরজা বন্ধ করে পিছনে ঘুরে মায়ার দিকে তাকাচ্ছে তো অন্য আবার দিকে তাকাচ্ছে, বুঝতে পারছে না কোথায় থেকে শুরু করবে, যতই ঝগড়া করুক না কেনো, বা ফোনে যতই ফ্রি হোক না কেনো, আজকে প্রথমবার এক রুমে থাকবে, মনের মধ্যে নার্ভাস কাজ করছে দুজনের, মায়া মাথা নিচু করে হাত কচলাতে লাগলো, আশিক এদিক ওদিক তাকিয়ে নীরবতা ভেঙ্গে বলে উঠলো,
___” মন খারাপ?
মায়া মাথা নিচু করেই বলল,
___” একটু!
আশিক মায়ার দিকে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিলো, কাজি অফিসে যাওয়ার আগে দুজন শপিংমলে গিয়ে দুহাজারের মধ্যে সিম্পল সাদামাটা একটা শাড়ি কিনে মায়া বিয়ের জন্য তৈরি হয়,মায়া এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছে, আশিক ফোনে মায়ার কান্না শুনতে পেয়ে শুধু বেডসাইড থেকে ওয়লেট নিয়ে, বাড়ি থেকে বের হয়,ওয়লেটে ছিলো মাএ পঁচিশ শো, সেখান থেকে দুহাজার টাকার মধ্যে একটা শাড়ি কিনে বিয়ের জন্য রেডি হয়ে যায়, কাজি অফিসে সবকিছু আনাস আর হাবীব ম্যানেজ করে নেয়। আশিক নিজেদের মধ্যে দূরত্ব ঘুচে মায়া কে নিজের সঙ্গে জরিয়ে নিয়ে বলল,
___”হতাশ হওয়ার কিছু নেই মায়া, ভালো সময় আসার আগে সময় টা একটু বেশিই খারাপ যায়।
মায়া আশিক কে জরিয়ে ধরে মাথা ঝাকালো, তবুও মনের মধ্যে টেনশন রা কিরমির করছে,বাবার দিকে না ভেবে নিজের ভালো থাকার জন্য বিয়ে করে নিলো, ওদিকে খালেক চেয়ারম্যান মেয়ের শোকে কি অবস্থায় কে জানে, মায়া আশিকের বুকে মাথা রেখে নিজের ভাবনায় মগ্ন ছিলো, আশিক মায়া কে হটাৎ বলে উঠলো,
___” আজকে আমাদের জীবনের নতুন পথ চলা শুরু, হাসি খুশি দুঃখ কষ্ট সবকিছু দুজন শেয়ার করবো, কখনো আমাদের ভালোবাসার মধ্যে কমতি আসতে দিবো না, ইনশাল্লাহ আমি তোমাকে কথা দিলাম, তোমাকে এতটা সুখে রাখবো,যে তুমি সুখী হয়ে তোমার বাবা কে উঁচু গলায় বলতে পারবে, তুমি ভালোবেসে ভুল করোনি।
আশিকের কথাগুলো মায়া মনোযোগ দিয়ে শুনে আশিকের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
___” কথা দেও আমাদের যতই ঝগড়া হোকনা কেনো,একঘন্টার মধ্যে দুজন দুজনকে সরি বলবো!
মায়ার কথায় আশিকের মনে সয়তানি খেলা করলো, দুষ্টু হেঁসে মায়ার হাতে হাত রেখে বলল,
___” ওঁকে,আমরা দিনে যতই ঝগড়া করিনা কেনো, ঘুমানোর আগে এক হবো প্রমিস!
আশিকের কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মায়া আশিকের হাতে থাপ্পড় দিয়ে বলল,
___” উম লুচ্চা একটা।
আশিক শব্দ করে হেঁসে উঠলো, হাসতে হাসতে বলে উঠে,
___” ওকে সরি মজা করলাম, আর কিছু?
মায়া পুনরায় বলে উঠলো,
___” হ্যাঁ, ঝগড়া করে কখনো না খেয়ে থাকবো না, দুজন দুজনের সবসময় খেয়াল রাখবো?
আশিক সিরিয়াস হয়ে গম্ভীর গলায় মায়ার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” আমি তোমার সবসময় খেয়াল রাখবো, তুমি জাস্ট রাতে আমার খেয়াল রেখো।
মায়া আর কথা বাড়ালো না, আশিক কে ছেড়ে দিয়ে ছোট্ট করে বলল,
___”দূরে যাও?
আশিক তীক্ষ্ণ গলায় জানতে চাইলো,
___”কেনো?
মায়া আশিকের কথায় মুচকি হেঁসে বলল,
___”কাছাকাছি থাকলে নায়িকাদের মতো দৌড়ে এসে তোমাকে জরিয়ে ধরবো কিভাবে?
মায়ার কথায় আশিক শব্দ করে হেঁসে উঠলো, তৎক্ষণিক পিছুপা হয়ে দুহাত মেলে দিয়ে উচ্চ স্বরে বলে উঠলো,
___” ওকে জানু ক্যাম অন…
মায়া হাসি মুখে দৌড়ে এসে আশিক কে জরিয়ে ধরলো,আশিক মায়া কে দু’হাতে জরিয়ে ধরে ঘুড়াতে লাগলো, ঘুড়াতে ঘুড়াতে এক সময় তাল সামলাতে না পেয়ে ধপাস করে বেডের উপর পড়ে গেলো, একে-অপরকে জরিয়ে ধরে আছে, দুজনের মুখেই লেগে আছে পূর্ণতার হাসি। সেই হাসি মুখেই আশিক মায়ার গলায় মুখ গুঁজে দিলো।
আনাস আইরা বাড়ির গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেল বাজালো, কিন্তু কেউ দরজা খুললো না পুনরায় কলিংবেল বাজাতেই আদিবা তালুকদার নিজের রুম থেকে বের হতে হতে বলল, কে এতো রাতে এলো, একা একা বিরক্ত মুখে কথা বলতে বলতে দরজা খুলে দিলেন, আইরা শাশুড়ী কে দরজা খুলতে দেখে মুখে হাসি এনে বলল,
___” কেমন আছো মামনী?
আদিবা তালুকদার আনাস আইরা কে একসঙ্গে রাত বারোটার নাগাদ বাড়ির বাহিরে থেকে ফিরতে দেখে বেকুব বুনে দাঁড়িয়ে রইলেন, আইরা মুখে ইনোসেন্ট মার্কা হাসি দিয়ে আদিবা তালুকদারের দিকে তাকিয়ে আছে, আনাস মা বউ কে পাশ কেটে ভিতরে প্রবেশ করলো, আদিবা তালুকদার এতক্ষণে রাগী গলায় উচ্চ স্বরে বললেন,
___” এত রাতে কই থেকে ফিরলি, আর তোরা দুজন বাড়ি থেকে বের হয়েছিস কোন সময়, আর কেনোই বা এই শীতে বাহিরে গিয়েছিস?
আনাস চুপচাপ ক্লান্ত শরীর নিয়ে সোফাতে বসে পরলো, আইরা আনাস কে একবার দেখে নিয়ে আদিবা তালুকদার কে বলে উঠলো,
___” মামনী এত প্রশ্ন একসঙ্গে করলে উত্তর দিবো কিভাবে?
আদিবা তালুকদার রাগী গলায় বললেন,
___” সবকিছু বাদ দেও, আগে বলো তুমি এই শীতে বের হয়েছো কেনো?
আইরা মাথা নিচু করে নিলো, আনাস সোফা থেকে উঠে, আইরা কে পাঁজাকোলা করে নিয়ে নিজের রুমে যেতে যেতে মায়ের উদ্দেশ্য বলল,
___” আশিক মায়ার বিয়ে ছিলো, আমরা খুব ক্লান্ত এই বিষয়ে সকালে কথা হবে আল্লাহ হাফেজ।
আইরা তো লজ্জায় শেষ, ছেলের কান্ডে আদিবা তালুকদার আনাস কে নির্লজ্জ বলতে বলতে সদর দরজা লাগালেন, আনাস নিজের রুমে এসে আইরা কে বিছানায় নামিয়ে দিলো, আইরা আনাস কে রাগী গলায় বলল,
___” মামনীর সামনে এভাবে কোলে তুলে নিলেন কেনো, আমি এখন মামনীর সামনে যাবো কিভাবে?
আনাস রুমের দরজা লাগাতে লাগাতে বললো,
___” যেতে হবে না!
আইরা আনাস এর কথায় মুখ বাঁকালো, আনাস শরীর থেকে ব্লাজার খুলতে খুলতে বলে উঠলো,
___” রাফি তো তোকে গিফট দিয়েছিলো, বক্স ওপেন করেছিস?
আনাস এর কথায় আইরার গিফটের কথা মনে পড়ে গেলো, আইরা আনাস এর দিকে চেয়ে মাথা ঝাকিয়ে বলল,
___” না মনে ছিল না!
আনাস আইরার দিকে কিছুক্ষণ অপলক চেয়ে রইলো, আইরা বিছানা থেকে নামতে যাবে, আনাস বলল,
___” নামতে হবে না বল কই রেখেছিস?
আইরা আলমারির কথা বলতে আনাস আলমারি থেকে গিফট বক্স বের করে আইরার সামনে রাখলো, আইরা আনাস এর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, আনাস আইরা কে তাকাকে দেখে হাসি মুখে আইরার কপালে চুমু রেখে দিয়ে বলল,
___” আমার প্রবলেম নেই, ওপেন কর।
আনাস চলে যেতে নিলে আইরা আনাস এর হাত ধরে আটকে দেয়, আনাস ভ্রু কুঁচকে আইরার দিকে তাকাতেই আইরা বলল,
___” তুমিও কই যাও?
___” কোথাও যাবো, এখানেই!
___” আপনি আমার সামনে বসে থাকবেন, আর আমি আপনার সামনে বক্স ওপেন করবো।
আনাস আইরার কথায়, আইরার পাশে বসে পরলো,
___” কেউ একজন যত্ন করে, তাঁর জমানো অনুভূতি তোকে দিয়েছে, আর তুই ভুলে গেছিস?
আইরা আনাস এর চোখে চোখ রেখে বলল,
___”আমার চাইনা অন্যকারো অনুভূতি!
আনাস আইরার গালে হাত রেখে বলল,
___” তো কী চাই তোর ?
আইরা আনাস এর বুকে মাথা রেখে আহ্লাদি গলায় বলল,
___” আমার তোমাকে চাই!
আনাস মুখে তৃপ্তির হাসি নিয়ে বলে উঠলো ,
___” আমি তো প্রথম থেকেই তোর, এবার বক্স ওপেন কর!
আইরা আনাস এর বুকে মাথা রেখেই ছোট বক্স খুলতে লাগলো, কী ভালোবাসা তাইনা, যাঁর জন্য যত্ন করে শতশত অনুভূতি ধেলে দিলো,নিজের ভালোবাসা বিসর্জন দিয়ে সামান্য গিফটের মধ্যে ধেলে দিলো , বিপরীত মানুষটার কাছে এই অনুভূতি এই ভালোবাসা কোনো দাম নেই, আইরা গিফট বক্স খুলতেই একটা ছোট রিং বক্স দেখতে পেলো তাঁর সঙ্গে ছোট একটা চিরকুট, আইরা প্রথমে চিরকুট টা দেখতে লাগলো, এপাশ ওপাশ করে ছোট লেখাটাই চোখ বোলালো,
___”ভেবেছিলাম চেষ্টা করে যদি পেয়ে যাই, দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে যাওয়ার থেকে বার্থ চেষ্টা করলাম, যদি ভাগ্যের চাকা একবার খুলে যায় এই আশায়,কিন্তু আমি ভুল ছিলাম,তাইতো নিজের হাতে বিষ খেয়ে, বাঁচার আর্তনাদ করছি,বক্সসে আমার জমানো আমার নিজের ফার্স্ট ইনকাম দিয়ে আপনার জন্য রিং কিনেছিলাম, কী করবো বলেন ভাগ্য ছিলো না আমার, তবে আফসোস নেই আপনি সুখী আছেন এতেই আমি আলহামদুলিল্লাহ, আপনার জিনিস আমার কাছে রেখে নিজের কষ্ট বাড়াতে চাইনা, আশা রাখি পছন্দ হবে, আর ব্রো কে বলবেন নিজের হাতে রিং টা আপনার আঙ্গুলে পড়িয়ে দিতে, সারাজীবন হাসিখুশি থাকবেন , নতুন পথ চলার জন্য শুভকামনা রইলো, আল্লাহ হাফেজ।
আনাস আইরা দু’জনেই চিরকুটে চোখ বুলালো, তাদের কিছুই করার নেই, দু’জন দুজনের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে পুনরায় বক্সটা খুলে দেখতে লাগলো, বক্সর ভিতের ঝিকমিক করছে ডায়মন্ড রিং,আইরা আনাস এর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে আনাস রিং টা বের করে আইরার হাতে পড়িয়ে দিয়ে হাতে চুমু রেখে দিলো, আইরা মুচকি হেঁসে উঠলো।
গভীর রাত,আরাত ঘুমের মধ্যে নড়াচড়া করতে ঘুম হালকা হয়ে গেলো,কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ রেখে বিছানা ফাঁকা ফাঁকা অনুভব হতে চোখ মেলে তাকালো, ডিম লাইটে নিজের পাশে তাকবীর কে খুঁজে না পেয়ে আরাত বিছানায় উঠে বসে,সামনে তাকাতেই আবছা আলোয় চোখ আটকে গেলো মেঝেতে, তাকবীর এতো রাতে নামাজে দাঁড়িয়েছে, আরাত দু’হাতে চোখ দলে পুনরায় তাকবীরের দিকে তাকালো,না সত্যিই তাকবীর নামাজ আদায় করছে, আরাতের আর বুঝতে অসুবিধা হলো না তাকবীর তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করছে, আরাত পুনরায় চুপচাপ বিছানায় শুয়ে পরলো, চোখ তাকবীরের দিকে, এভাবেই কেটে গেলো প্রায় আধা ঘন্টা, তাকবীর সালাম ফিরে মোনাজাত ধরলো, মোনাজাত শেষ করে জায়নামাজ তুলে রেখে তাসবিহ গুনতে গুনতে আরাতের সামনে এসে বিছানায় পাশে বসলো,আরাতের চোখ বন্ধ, তাকবীর আরাতের মুখের দিকে মনোযোগ দিয়ে দেখতে দেখতে দোয়া পড়ে পুরো মুখমণ্ডলে ফু দিলো, সঙ্গে সঙ্গে আরাতের চোখের পাতা মিটমিট করে নড়ে উঠলো,তাকবীর আরাত কে জেগে থেকে চোখ বন্ধ রাখতে দেখে মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠলো, মুচকি হেঁসে আরাতের মুখের সামনে নিজের মুখ রেখে ঠান্ডা কন্ঠে বলে উঠলো ,
___”আসসালামু-আলাইকুম বিবিজান?
রাতের নিস্তব্ধ পরিবেশে তাকবীরের মাধুরি মিশানো কন্ঠ আরাত না চাইতেও দুর্বল হয়ে উঠলো, মনে মনে সালামের উত্তর নিতে ভুললো না, না চাইতেও চোখ মেলে তাকবীরের স্নিগ্ধতা ভরা মুখের দিকে তাকালো, দু’জনের মুখেই মিষ্টি হাসি, আরাত নিচু স্বরে বলল,
___” রাগ করেছেন?
তাকবীরের মুখে গম্ভীর ফুটে উঠলো, ভ্রু কুঁচকে আরাতের কথার মানে জানতে চাইলো,
___” রাগ কেনো করবো ?
আরাত তাকবীরের থেকে চোখ অন্যদিকে ফেরালো, তাকবীর আরাতের মনোভাব বুঝতে পেয়ে মুচকি হেঁসে আরাতের কপালে ভালোবাসার পরশ রেখে দিলো, আরাত তাকবীরের দিকে অপলক চেয়ে রইলো, তাকবীর আরাত কে বিছানা থেকে কোলে উঠাতে উঠাতে বলল,
___” রাগ অভিমান অভিযোগ তোমার জন্য, তুমি আমার উপর রেগে থাকবে, আমি তোমার রাগ ভাঙ্গাবো, তুমি আমার উপর অভিমান করবে আমি তোমার মন ভালো করার বাহানা খুঁজবো, তুমি আমাকে নিয়ে অভিযোগ জানাবে,আমি মুখ বুঝে তোমার অভিযোগ সহ্য করবো, এটাই তো সৌন্দর্য!
আরাত তাকবীরের গলা দু-হাতে ধরে তাকবীরের মুখের দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে কথাগুলো শুনছে, তাকবীর আরাত কে ওয়াশরুম নামিয়ে দিয়ে ব্রাশে টুথপেষ্ট লাগিয়ে আরাতের হাতে দিলো, আরাত ব্রাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” আপনি এতটা কেয়ার করেন কেনো আমাকে?
তাকবীর আরাতের কথায় মুচকি হেঁসে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে গেলো, আরাত কিছুই বুঝলো না, তাকবীরের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ব্রাশ করতে লাগলো, তিন সেকেন্ডর মাথায় তাকবীর রুম থেকে শীতের শাল এনে আরাতের শরীরে জরিয়ে দিতে দিতে বলল,
___”নারী কখনোই পুরুষের মাঝে সৌন্দর্য খুঁজে না, নারী একজন বিশ্বস্ত চরিত্রবান যত্নশীল এবং দায়িত্বশীল পুরুষকে খুঁজে, আমি পারফেক্ট হওয়ার ট্রাই করছি, আই মিন আমার বউয়ের অ্যাটেনশন পাওয়ার চেষ্টা করছি,আই নো একটু টাইম লাগবে আমাকে অ্যাকসেপ্ট করতে, তবুও চাই আমি আমার বউয়ের কাছে ইম্পরট্যান্ট হতে, তুমি আমার দুনিয়া আর আখিরাতের সঙ্গী, তোমাকে যত্ন করা হেফাজত করে রাখা আমার দায়িত্ব।
তাকবীরের কথার মধ্যে চারদিক থেকে ফরজের আজান পড়ে গেলো, আজানের মধুময় সুরের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের কুকুরের ডাক ভেসে এলো, তাকবীর সেদিন থেকে মনযোগ ফিরিয়ে এনে আরাত কে ফ্রেশ হয়ে ওজু করে বের হয়ে আসতে বলে, নিজে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এলো,দুজন পাশাপাশি নামাজ আদায় করে, মোনাজাত শেষ করে তাকবীর আরাতের কোলে মাথা রাখে, আজকে আর আরাত কে বলতে হলো না মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে, তাকবীর কে কোলে মাথা রাখতে দেখে আরাত নিজ ইচ্ছায় নরম হাত দিয়ে তাকবীরের চুলগুলোই হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো, নরম হাতের ছোঁয়া পেয়ে তাকবীর চোখ বন্ধ করে নেয়, এভাবেই কেটে যাবে বেশ কয়েক মিনিট, তাকবীর আরাতের কোল থেকে মাথা তুলে বলে,
___” চলো বাহিরে যাবো!
আরাত নাকচ করে বলল,
___” না বাহিরে অনেক কুয়াশা!
___”আরে চলো না, এই কুয়াশার ভীড়ে নতুন সকাল নতুন দিন নতুন আলো নতুন আশা দিয়ে শুরু করি আমাদের জীবনের সুন্দরতম অধ্যায়।
তাকবীরের কথায় আরাত মুচকি হেঁসে বলল,
___” সঙ্গে কফি থাকবে?
___” থাকলে মন্দ না!
গ্রামের সৌন্দর্য বরাবরই মনমুগ্ধকর, তারউপর শীতের মৌসুম, চারদিকে কুয়াশায় ভরা, ধীকে ধীকে পাখির কিচিরমিচির আওয়াজ, বাড়ি বাড়ি গরম গরম ভাপা পিঠা দুধ পিঠা, রাস্তায় দুপাশে খেজুর গাছে মাটির পাতিল, সবমিলিয়ে গ্রামের সৌন্দর্যর তুলনা হয় না, তাকবীরের কাছে সবকিছু নতুন,আরাত তাকবীর কে পুরো উঠান ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে, জবা ফুলের কিছুটা দূরত্বে বড় একটা শিউলি ফুলের গাছ, আরাত তাকবীর কে নিয়ে শিউলি ফুল গাছের নিচে এলো, তাকবীর গতকাল লক্ষ না করলেও আজকে বেশ মনোযোগ দিয়ে দেখছে চারপাশ, শিউলি ফুল গাছের নিচে বড় করে একটা বাঁশের টং বসানো, কুয়াশা ভরা জমিনে শিউলি ফুল ঝরে পড়ে আছে চারপাশ, কুয়াশাতে চারপাশ অন্ধকার দেখা গেলেও সাদা ছোট ছোট শিউলি ফুল গুলো জমিতে মনমুগ্ধকর হয়ে ঝরে পড়ে আছে, তাকবীর এক অজানা প্রকৃতিকে হারিয়ে যাচ্ছে, সকালের চারপাশ এত স্নিগ্ধতা পবিত্রতা লেগে আছে, আরাত শিউলি ফুল নিয়ে ছোট্ট বেলায় গল্প বলতে ব্যস্ত তাকবীর মুগ্ধ হয়ে আরাতের সঙ্গে প্রকৃতিক দেখতে ব্যস্ত, তাকবীর কে কফি হাতে নিয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে আরাত প্রথমবার তাকবীরের হাত নিজ ইচ্ছার ধরলো, আরাত কে হাত ধরতে দেখে তাকবীর নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে, আরাত তাকবীরের হাত ধরে রেখে অন্য হাতে ওড়না দিয়ে কুয়াশায় ভেজা টং টা মুছে দিলো,তাকবীর এখনো আরাতের ধরে রাখা হাতের দিকে তাকিয়ে আছে, আরাত তাকবীরের হাতের কফির কাপটা নিয়ে টংএর উপর রাখলো, পুনরায় তাকবীর কে মুছিয়ে দেওয়া জায়গা টুকুতে বসিয়ে দিলো, তাকবীর যেন একটা রোবট হয়ে আরাতের কান্ড দেখছে, আরাত মাটি তে ঝরে পড়া শিউলি ফুল গুলো হাতে খুঁটে নিয়ে টংএর উপরে উঠে দাঁড়ালো, তাকবীর মাথা ঘুরিয়ে কপাল কুঁচকে আরাতের দিকে তাকাতেই আরাত ঠোঁট উল্টে বলল,
___” সামনের দিকে তাকান?
তাকবীর বুঝলো না আরাতের কথার মানে, চুপচাপ সামনে তাকাতেই আরাত মুচকি হেসে একটা একটা করে শিউলি ফুল তাকবীরের বাবরি চুলগুলোর মধ্যে গুঁজে দিতে লাগলো, তাকবীর আরাতের কান্ডে অবাক হয়ে তাকালো, আরাতের হাসি মুখ দেখে চুপচাপ বসে থাকলো,শিউলি ফুলের মধুর সুবাস এবং তার নরম সাদা পাপড়ি হৃদয়ে এক ধরনের শীতল প্রশান্তি এনে দেয়, দৃশ্যটা দূর থেকে মনমুগ্ধকর লাগছে, টং উপর কফির কাপে একটা ফুল পরে আছে, এতে যেন কফির কাপের সৌন্দর্য বেড়ে গেছে,
রশ্মির গতকাল থেকে শুধু একজনের কথায় ভাবনায় আসছে, শুধু মনে হতে লাগছে আচ্ছা আমি কী মাহিরের সঙ্গে বেশিই হার্ড করে কথা বলছি,গতকাল সন্ধ্যার দিকে আরাতের ফোন আসায় রশ্মি বেশ বিরক্ত হয়,মনে মনে রাগ লাগে সবকিছু অসহ্য হয়ে ধরা দেয়, আরাত যখন বারবার ফোন দিতে লাগে রশ্মি ফোন বিছানার উপর ছুড়ে মারে, বিরক্তিতে মাথার চুলগুলো দু’হাতে খামচে ধরে, তবুও বিরক্ত কমছে না, শেষ পর্যন্ত রাগের মাথায় দরজা ভিতর থেকে শব্দ করে বন্ধ করে দিয়ে বেলকনিতে এসে দাঁড়ালো, রাহিমা সুলতানা ড্রয়িং রুমে বসে মেয়ের রাগ দেখলেন, তিনি লক্ষ করেছেন মেয়েটা আর আগের মতো নেই কেমন যেন বদলে গেছে, বেশি কথা বললে তেতে উঠে, সবসময় মলিন মুখে থাকে, যদিও কানাডা থেকে ফিরে আসার পর আরাতের সঙ্গে থেকে অনেকটা হাসিখুশি মুখে দেখা যায়, কিন্তু মাঝেমধ্যে হটাৎ মলিন মুখ বা রাগী মুখ, কখন কেমন রিয়েক্ট করে ঠিক নেই আগে এমন ছিলো না মেয়েটা, রশ্মি বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সবকিছু বাদ দিয়ে নিজেকে নিয়ে ভাবছে, তাঁর জীবনেটা কোথায় থেকে কোথায় নিয়ে এসেছে, একজন হটাৎই গুছানো জীবনে এসে জীবনটা এলোমেলো করে দিলো, আরেকজন এলোমেলো জীবন গুছিয়ে দিতে চাচ্ছে, যাকে নিজের করে চেয়েছে তাঁকে হারালো আর যাঁকে নিজের করে চায় না, সেই বারংবার ভালোবাসার দাবী নিয়ে হাজির হয়,
রশ্মিও তো ভালোবাসার ভিক্ষুক, যদি ভালোবাসার সাদটা না পেতো তাহলে আর হয়তো ভালোবাসার জন্য লোভী হতো না, যদিও ফেক ভালোবাসা ছিল তবুও তো ভালোবাসার মানে শিখিয়ে দিয়েছে, রশ্মিও তো ইচ্ছা করে, জীবনে একটা সঠিক মানুষ আসুক সে সবকিছু থেকে আগলিয়ে রাখবে, খুব ভালোবাসবে, সবাই তো বেশ জীবনটা গুছিয়ে নিয়েছে, এ কেমন দোটানায় পড়ে গেলো জীবনটা, তাঁর কোনো সলিউশন মিলছে না, রশ্মি ভাবনা গুলো বাদ দিয়ে রাত পেরিয়ে সকালে নিশ্চুপ ভঙ্গীতে খাবার খেয়ে কলেজে চলে এলো, আজকে আর সন্ধ্যার খোঁজ করতে মন চাইলো না, চুপচাপ মাঠ পেরিয়ে ক্লাস রুমে প্রবেশ করলো, কলেজে প্রবেশ করার পর থেকে অনেকের নজর রশ্মির উপর ছিলো, ক্লাস রুমে ঢুকার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক জনের নজর রশ্মির উপর পড়লো, সেগুলো তোয়াক্কে না করে চুপচাপ বই বের করে বইয়ে মুখ গুঁজালো রশ্মি, কয়েক মিনিট পর সন্ধ্যা এসে রশ্মির পাশে বসলো,
___” কেমন আছো আপু?
রশ্মি বই থেকে চোখ তুলে সন্ধ্যার দিকে রাখলো,মুখে মেকি হাসি এনে ছোট করে বলল,
___” আলহামদুলিল্লাহ, তুই কেমন আছিস?
___” এইতো আপু, গতকাল কলেজে আসি নাই তুমি এসেছিলে?
রশ্মি আরাতের দিকে তাকালো, এসেও আসা হয়নাই, রশ্মি তো কলেজে ঢুকলেও ক্লাস করে নি, রশ্মি ছোট করে সন্ধ্যা কে বলল,
___” উঁহু আসি নাই!
সন্ধ্যা ঠোঁট উল্টে বলে উঠলো,
___” ওকে, তাহলো নোট, আইডিয়া মিরা তো আসেই মিরার থেকে সবকিছু, দূরু আমি বরং ওর কাছে ফোন করে জেনে নেই।
সন্ধ্যা ব্যাগ থেকে ফোন বের করে মিরা কে ফোন লাগলো, রশ্মি পুনরায় বইয়ে মুখ গুঁজালো, কিছুক্ষণের মাথায় মিরা কেউ ক্লাসে ঢুকতে দেখা গেলো,
রশ্মি সন্ধ্যা মিরা কলেজ ছুটির শেষে ক্লাস রুম থেকে বের হয়ে গল্প করতে করতে মাঠের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলছে, মিরা সন্ধ্যা গল্প করলেও রশ্মির নজর এদিক ওদিক, সন্ধ্যা গল্প করতে করতে বলে উঠলো,
___” আশিক ভাইয়া আর মায়া আপু বিয়ে করে নিলো, মায়া আপুর বাবা অনেক রেগে আছে মায়া আপুর উপর, কবে রাগ ভাঙ্গে কে যানে, কিন্তু একটা কথা বুঝি না, বাবা মায়ের যে কী হয় ছেলে মেয়ের ভালোবাসা গুলো মেনে নিতে, হুদাই ভিলেন সেজে যায়, মাঝখান থেকে মা-বাবা ছেলেমেয়ে দুজনই কষ্ট পায়, আমি যখন মা হবো আমার বাচ্চা যদি কোনোদিন এসে বলে আমি এই মেয়েরে লাইক করি আমি সঙ্গে সঙ্গে বলল আরে বাপ আগে ট্রিট দে। ভিলেন গুরি নট এলাও।
সন্ধ্যা হাত পা নাড়াতে নাড়াতে বলল কথাটা, মুখে মিষ্টি হাসি, মিরা সন্ধ্যার কথা বাঁধা সেজে বলে উঠলো
___” যানো তো সবকিছু পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে, এখন তুমি তোমার মনের কথা শুনছো বা মনে যা ইচ্ছা আসছে বলছো, বাট যতটা সহজ বলছো বাস্তবতা এতটা সহজ না। আমরা আমাদের জায়গা থেকে কতকিছু ভেবে বলে দেই,একদিন আমিও মা হবো, সেইদিন ছেলেমেয়ে কে কিভাবে বড় করতে হয়,কিভাবে ছেলেমেয়ের আবদার পূরণ করতে হয়, দেখিয়ে দিবো, আসলেই কী তা সম্ভব, একদম না, আজকে আমাদের বাবা-মা যেভাবে আমাদের মানুষ করছে তাঁর পিছনে অনেক গল্প কষ্ট লুকিয়ে থাকে, যা আজকাল জেনারেশনের কাছে অজানা, আচ্ছা আমরা কখনো মা বাবার পাশে বসে জানতে চেয়েছি, আম্মু তুমি ভালো আছো,আমি তোমার শরীর ঠিক আছে, আব্বু তোমার নতুন কাপড় আছে, আব্বু তোমার কাছে টাকা তো শট তুমি এমাস কিভাবে চলাবে, না আমরা তা করিনা, আমাদের ইচ্ছা হইলো আম্মুর কাছে এসে বললাম, আম্মু আমার এটা খেতে মন চায়, রান্না করে দিবে, আম্মু কিন্তু অসুস্থ শরীর নিয়ে আমাদের রান্না করে দেয়, কিন্তু প্রকাশ করে না, আজকে আমার নতুন ড্রেস নিতে ইচ্ছা করলো, বাবার কাছে এসে বললাম, বাবা আমাকে এই ড্রেসটা কিনে দেও আমার খুব পছন্দ হয়েছে, বাবা তখন দেখবে না আমার এই টাকা দিয়ে এই মাসটা নিয়ে যেতে হবে, তখন বাবা কোনোকিছু না ভেবে আমাদের ইচ্ছা পূরণ করবে। আর আমরা যখন মা বাবা হবো তখন হয়তো এত কষ্ট থাকবে না, কারণ আমাদের বাবা-মা আমাদের আগেই কষ্ট করে বাড়ি গাড়ি বানিয়ে দিয়েছে, আমরা শুধু বাবা-মার তৈরি করা বাড়িতে থেকে আমাদের বাচ্চাদের খাওয়াবো, সংসার চালাবো, আমাদের মধ্যে আর তাঁদের মধ্যে পার্থক্য কী জানো, তাড়া নিজেদের কষ্ট দিয়ে আমকদের বড় করছে, আর আমরা শুধু কষ্ট করে আমাদের ছেলেমেয়েদের বড় করবো,
মিরার এতএত কথা শোনার পর সন্ধ্যা এতক্ষণে কথা বলে উঠলো,
___” নিজেদের কষ্ট, আর শুধু কষ্ট একটাই তো শব্দ?
সন্ধ্যার কথায় মিরা মুচকি হাসলো, রশ্মির দিকে একনজর বোলালো রশ্মি এখনো আগের মতো এদিক ওদিক তাকাচ্ছে, মিরা পুনরায় সন্ধ্যার দিকে তাকিয়ে বলল,
___” বাবা-মা নিজেরা কষ্ট করার পাশাপাশি আমাদের কষ্ট করে বড় করছে, আর শুধু কষ্ট হলো, আমরা শুধুই ছেলেমেয়েদের বড় করতে যে কষ্টটা করবো, যদি বলো এ আধুনিক যুগে এসে যাঁরা নিজেরা কষ্ট করে বাড়ি গাড়ি করছে তাঁদের বেলা?
হ্যাঁ তুমি তাদের সঙ্গে দুমিনিট বসে গল্প করবে, দেখবে মনের কথা গুলো তোমাকে খুব সহজে বলে দিবে, তাঁদের কঠিন পথ চলা এতটা সহজ না, কিভাবে চালাচ্ছে তাঁদের পরিবার কে ।
___” হয়েছে এই শীতে তোমার গলা শুকিয়ে যাবে অনেক বলে ফেলছো!
মিরা সন্ধ্যার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলো, সন্ধ্যা রশ্মির দিকে তাকিয়ে দেখলো, রশ্মি বাইক পার্কিং এরিয়ায় তাকিয়ে এদিক ওদিক দেখছে, সন্ধ্যার চোখমুখে সূক্ষ্মভাজ পরলো,রশ্মি কে পরক করে বলে উঠলো,
___” তুমি কী খোঁজো আপু?
রশ্মি সন্ধ্যার কথা শুনতে পারলো না, কলেজ গেটের কাছাকাছি এসে পুনরায় সন্ধ্যা রশ্মির হাত ঝাঁকিয়ে বলল,
___” আপুওও?
___” হ্যাঁ হু, কী হয়েছে বল?
রশ্মি কে থতমত করতে দেখে সন্ধ্যা পুনরায় বলল,
___” তুমি কী খুজতে মগ্ন, আমি তোমাকে কতবার ডাকলাম?
রশ্মি এবার সন্ধ্যার দিকে তাকালো, তাড়া দিয়ে বলল,
___” অনেক লেট হয়ে গেছে, আল্লাহ হাফেজ।
রশ্মি সন্ধ্যা কে কথাটা বলে রিকশা ডেকে রিকশা তে উঠে চলে গেলো, সন্ধ্যা মিম কিছুই বুঝলো না, শুধু অবাক হয়ে চেয়ে রইলো, পর মুহূর্তে সন্ধ্যা মিরার থেকে বিদায় নিয়ে নিজের বাড়ির পথে চলে গেলো, মিরা মাহিরের অপেক্ষা করছিলো, প্রথম প্রথম মাহমুদ ইসলাম মিরা কে কলেজে নিয়ে যাওয়া আসা করলেও কয়েকদিন থেকে মাহির রশ্মি কে নিয়ে আসে বা নিয়ে যায়, বেশ কয়েক মিনিট গেটের কাছে দাড়িয়ে থাকার পর মাহির কে ফোন লাগলো,ক্লাসের সবাই বের হয়ে যাওয়ার পর মাহির বের হচ্ছে না, আরশ মাহিরের পাশে বসে আছে, মনে হচ্ছে এটাই তাঁদের বেডরুম, মনে হয় না ঘন্টা দেড়েক ছাড়া তাড়া ক্লাস থেকে বের হবে না। রাফি দুজন কে দেখে কিছু না বলে ক্লাস থেকে বের হয়ে গেলো , পার্কিং থেকে বাইক বের করে কলেজ গেট দিয়ে বের হতে যাবে, মিরা কে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বাইকের ব্রেক কষে, মিরা রাফি কে নিজের সামনে দাঁড়াতে দেখে মুখে এক টুকরো হাসি ফুটে উঠলো, পর মুহূর্ত হাসি মুখ রাফি দেখার আগেই স্বাভাবিক করে নিলো, রাফি হাতের ঘড়িতে সময় দেখে নিয়ে গম্ভীর গলায় মিরা কে বলে উঠলো,
___” আঙ্কেল আসবে?
মিরা মাথা নিচু করে বলল,
___” না।
রাফির কপাল কুঁচকে এলো,
___” তাহলে কার জন্য ওয়েট করছো?
মিরা চোখ তুলে তাকালো রাফির দিকে, মিরা কখনো আলেদা রাফির সঙ্গে কথা বলেনি, একটু হাসফাস লাগছে কথা বলতে, তারপরও নিচু স্বরে চোখ নামিয়ে রাফি কে উত্তর করলো,
___” ভাইয়ার সঙ্গে যাবো, কিন্তু ভাইয়া ফোন ওঠাচ্ছে না, ভাইয়া কী ব্যস্ত?
রাফি মিরার কথায় একবার পিছন ফিরে ক্লাস রুমের দিকে তাকালো, মাহির আরশ এখনো ক্লাস রুমে, রাফির বেশ রাগ লাগছে মাহিরের উপর, বিরবির করে মাহির কে কমনসেন্স বলে মিরার উদ্দেশ্যে বলল,
___” বাইকে উঠো!
মিরা অবাক হয়ে রাফির দিকে তাকালো, রাফির কথায় মানে বুঝতে না পেয়ে চুপচাপ দাড়িয়ে রইলো, রাফি মিরা কে বাইকে উঠতে না দেখে বিরক্তিতে চ” শব্দ উচ্চারণ করে পুনরায় বলল,
___” কী প্রবলেম বাইকে উঠতে বলছিনা?
রাফির ধমকে মিরা হকচকিয়ে রাফির দিকে তাকালো, রাফি কে চোখ মুখে সূক্ষ্মভাজ ফেলে নিজের দিকে তাকাতে দেখে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে গেলো, মস্তিষ্ক বলছে রাফি তোকে লিফট দিতে চাচ্ছে তাড়াতাড়ি বাইকে উঠে পর কিন্তু এভাবে চলে গেলো মাহির ভাইয়া যদি খুঁজে তাহলে, আমি বরং ভাইয়া কে ফোন করে বলে দেই আসতে তাই ভালো হবে, মিরা রাফির দিকে তাকিয়ে বলল,
___” আমি ভাইয়া কে ফোন করে বলছি আসতে!
___”এই মেয়ে বেশি বুঝো, বাইকে উঠতে বলছি না, আমি মাহির কে বলে দিচ্ছে!
রাফির ধমকে মিরা তৎক্ষণিক বাইকে উঠে বসলো, রাফি ফোন বের করে মাহির কে মেসেজ করে ফোনটা পকেটে ভরে নিয়ে বাইক স্টার্ট দিতে দিতে মিরার উদ্দেশ্য বলল,
___” ধরে বসো!
মিরা রাফির এক ঘারে হাত রাখলো, রাফি একনজর নিজের ঘারে মিরার হাত দেখে নিয়ে বাইক টান দিলো, মাহির কে নিশ্চুপ বসে থাকতে দেখে আরশ মাহির কে ডেকে উঠলো,
___” আর কতক্ষণ চুপচাপ বসে থাকবি?
মাহির আরশের কথায় উওর করলো না, চুপচাপ মাথা বেঞ্চের সঙ্গে এলিয়ে দিয়ে সিলিংএর দিকে তাকিয়ে আছে, আরশ পুনরায় বলল,
___” তোকে এমন দেবদাস মানাচ্ছে না, নিজের মধ্যে ফিরে আয়,আই নো তুই রশ্মি কে ভালোবাসিস বাট তোর জন্য কলেজে হাজারো মেয়ে ফিদা, রশ্মির চেয়ে হাজারো সুন্দরী মেয়ে এই কলেজে আছে, যারা তোর এক হা তে কতশত ওয়েট করছে, জাস্ট একবার একজন কে চুজ করে দেখ,তুই রশ্মির চেয়ে বেটার ডিজার্ভ করিস!
আরশের কথায় মাহিরের চোখমুখ রাগে লাল হয়ে গেছে, সোজা হয়ে আরশের কলার চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলল,
___”জাস্ট সেটআপ, অনেক বকে ফেলছিস আর না, গেট লস।
আরশ মাহিরের রাগ দেখে হকচকিয়ে গেল, মাহি রেগে গেলে নিজের মধ্যে থাকে, মুখে যা আসবে এবং কী হাত চালাতেও বিধাবেট করে না, মাহির রাগের মাথায় আরশ কে ধাক্কা দিয়ে কলার ছেড়ে দিলো, আরশ বেঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লাগতে লাগতে নিজেকে সামলে নিলো,মাহির পুনরায় বেঞ্চে বসে পরলো, আরশ আর কথা বলল না নিজের কলার ঠিক করে নিয়ে মাহিরের পাশে বসলো,কিন্তু কথা বললো না। মাহির মেঝের দিকে চেয়ে থেকে ধীর কন্ঠে বলে উঠলো,
___”আমার কপালে আমার পছন্দের কিচ্ছু নেই, এই জন্য সব কিছুর আশা ছেড়ে দিয়েছি আমি, জাস্ট নিজের ক্যারিয়ার ফোকাস করবো।
পুনরায় নীরবতায় ঘিরে ধরলো, দুজনেই চুপচাপ, আরশ খেয়াল করলো,মাহিরের চোখের কোটায় পানি জমে গেছে, আরশ বেশ অবাক হয়ে দেখলো মাহির কে,
___” তুই কান্না করছিস?
আরশের কথার উত্তর না দিয়ে, সময় নিয়ে ধীরে ধীরে গম্ভীর গলায় বলল,
___”যাকে পাওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই তাকে কেনো এতো ভালোবাসি আমরা বলতে পারবি ?
আরশ এতক্ষণে মাহিরের ঘারে হাত রাখলো,
___” বিশ্বাস ছাড়িস না, ইনআশাল্লাহ সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
মাহির মেঝের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য হাসলো, এভাবে কিছুক্ষণ নীরবতায় কেটে যাওয়ার পর মাহিরের কিছু একটা মনে পড়তেই তাড়াহুড়ায় হাতের ঘড়িটা দেখতে লাগলো, মুখ থেকে ছোট একটা শব্দ বের হয়ে এলো “শিট” পুনরায় পকেট থেকে ফোন বের করে দেখতেই বড় করে নিঃশ্বাস ফেলে বেঞ্চের মাথা হেলিয়ে দিলো,মাহির মিরার কথা মনে পরার সঙ্গে সঙ্গে ভয় পেয়ে যায়, ফোন বের করতেই দেখলো রাফির মেসেজ করছে, মেসেজ টা এমন
___” বেপরোয়া গিরি বন্ধ কর, আমি তোর বোন কে প্রতিদিন লিফট দিতে পারবো না।
মাহির মেসেজ টা পরত-ই বুঝতে পারলো,মিরা রাফি সঙ্গে আছে, রাফি নিজের মনে বাইক চালাচ্ছে, মিরার মন খচখচ করছে রাফি কে কিছু বলার জন্য, বলতে গিয়েও বলছে না, খচখচানি মনে নার্ভাস নিয়ে বলে উঠলো,
___” আইরা আপু কে এখনো মনে পড়ে?
মিরার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাফি বাইকের ব্রেক কষে, মিরা রাফির দিকে ঝুঁকে পড়ে নিজেকে সামলে নিলো,রাফি রাগী গলায় বলল,
___” বাইক থেকে নামো!
মিরা ভেবাচেকা খেয়ে গেলো, বুঝতে পারলো আইরা কে নিয়ে বলাতে রেখে গেছে, মিরা বাইক থেকে কাচুমাচু করে বলল,
___” বাড়ি তো এখনো আসে নাই রাফি ভাইয়া?
___” এই মেয়ে, তোমাকে নামতে বলছি না, নামো?
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪২
মিরা রাফির ধমকে অপমান হলো, মলিন মুখে বাইক থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে রাফি মিরা কে মাঝপথে রেখে বাইক নিয়ে চলে গেলো, এতে মিরা আরো বেশিই অপমান হলো, যদিও বাড়ি পথ আর বেশি দূরে না তিন থেকে চার মিনিট পায়ে হেঁটে গেলেই বাড়ি পেয়ে যাবে, তবুও রাফির আচরণ মিরার পছন্দ হলো না, নেমে দিবে ভালো ভাবে বলতে তো মিরা একাই সুন্দর করে নামতো,তারউপর মিরা নামার সঙ্গে সঙ্গে কিছু না বলে বাইক টান দিয়ে চলে গেলো, মিরা রাফির যাওয়ার পথে কিছু পলক তাকিয়ে থেকে নিজের বাড়ির দিকে চলে গেলো,
