Home তুই আমার বিশ্বাস ছিলি তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪৭

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪৭

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪৭
জান্নাতি আক্তার জারা

শেষ বিকালে বিষন্ন মন নিয়ে মিম বেলকনিতে বসে আছে, বিষন্ন চোখ দুটি নিবন্ধ গার্ডেনে ফুল বাগানে, সকালের সিন্ধ সৌন্দর্য নিয়ে ফুটে বাড়ানো ফুলগুলো কেমন নেতিয়ে পড়েছে, নতুন কলি থেকে নতুন ফুল ফুটছে, কী আজব দৃশ্য, বেলা শেষে সৌন্দর্য কেমন করে নেতিয়ে পড়ে, তাঁদেরও শেষ আছে,মিমের জীবনে সামনে কী হবে কী ঘটবে যানা নেই,আরাত ফ্রেশ হয়ে মিমের রুমে এলো, মিম কে রুমে না পেয়ে বেলকনিতে এসে দাঁড়ালো, মিম কলেজ থেকে ফিরে কলেজ ব্যাগটা সোফাতে রেখে দিয়ে বেলকনিতে এসে বসেছে,না ফ্রেশ হয়েছে না খাবার খেয়েছে, কোথায় থেকে কী ঘটে গেলো, না এটা তো ঘটে নি ইচ্ছাকৃত ভাবে ঘটানো হয়েছে, আরাত মিমের পাশে বসে গার্ডেনে চোখ রাখলো, তালুকদার বাড়ির কেউ এখনো কিছু জানে না, রশ্মি বলতে বারণ করেছে, আরশ যেহেতু ডিভোর্সের কথা বলছে দেখা যাক নেক্সট কী হয়, আরাত কয়েক সেকেন্ড মিমের পাশে চুপচাপ বসে থেকে বলে উঠলো,

___” চল তোর ফুপি ডাকছে, খাবার খাওয়ার জন্য!
মিম ফুল বাগান থেকে চোখ ফিরিয়ে ফুপিয়ে উঠলো, আরাত অবাক হলো, মিম কান্না করছিলো এতক্ষণ, আরাত মিম কে জরিয়ে ধরে নিমেষেই, মিম এক চিমটি বিশ্বস্ত জায়গা পেয়ে এতক্ষণে জমানো কান্নাগুলো মুখ ফুটে হাউমাউ করে কান্না করে উঠলো, আরাতের চোখের কোণে পানি এসে জমা হলো, মিম কান্না করে ফুপাতে ফুপাতে ভাঙ্গাভাঙ্গা গলায় বলে উঠলো,

আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন 

___”মা-বাবার সামনে কোন মুখ নিয়ে দাঁড়াবো আপু!
মিমের ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে কথাটা অসহায়ত্ব লাগলো আরাতের কাছে, ভিতর থেকে ভেঙ্গে পরছে মেয়েটা, আরাত কী বলে বুঝ দিবে ছোট বোন টাকে,মিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে মলিন মুখে বলে উঠলো,
___” সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, শুধু তোকে স্ট্রং হতে হবে।
মিম আগের ন্যায় কান্না করতে করতে বলল,

___” বিয়ে থেকে পালাতে আম্মু কে কষ্ট দিয়ে এই শহরে পা দিয়েছিলাম, কিন্তু দেখো আমার জীবনটা এই বিয়ে নামে নিষ্ঠুর খেলায় জরিয়ে গেলো,আমার জীবনটা সকাল বেলা তো কত সুন্দর গুছানো ছিলো আপু, এখন এত এলোমেলো হয়ে গেলো কেনো? আম্মু কে কী জবাব দিবো আপু, কী জবাব দিবো!
বলেই মিম হাউমাউ করে কান্না করতে লাগলো, মিমের কান্না আরাতের বুক ছিরে যাচ্ছে, কতটা কষ্ট পেলে মানুষ এভাবে ভেঙ্গে পড়ে, আরাত নিজেও কান্না করতে করতে মিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,

___” আমি জানি না তোদের মধ্যে কী ঘটেছে আর জানতেও চাই না,কারণ আমার বোনের উপর আমার পুরোপুরি বিশ্বাস আছে,আমার বোন নির্দোষ, শোন একদম কষ্ট পাবি না বুঝলি,সবকিছুর সমাধান আছে।
দুজনের কখনকখনের মধ্যে রশ্মি আর আইরা মিমের রুমে ঢুকলো, আইরার হাতে ভাতের প্লেট, রশ্মি ফ্রেশ হয়ে তালুকদার বাড়িতে এসে দেখলো, মিমের বেলকনিতে দু বোন এক সঙ্গে মেঝেতে বসে কান্না করছে, রশ্মি দুজন কে দেখেই বুঝলো দুজনের কেউ এখনো খাবার খায়নি, রশ্মি পুনরায় রুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িং রুমে এলো, ড্রয়িং রুমে এসে কাউকে না দেখতে পেয়ে কিচেন রুমে ঢুকে ভাতের প্লেট সাজাতে লাগলো, আইরা নিজের জন্য চা বানাতে এসে দেখলো রশ্মি ভাতের প্লেট সাজাচ্ছে, আইরা হাসি মুখে রশ্মি কে বলল,

___” মাছের ঝোল টা নে মজা হয়েছে।
কথাটা বলেই আইরা নিজের জন্য চা বানাতে পানি তুলে দিলো পাতিলে, রশ্মি পুনরায় আরেকটা বাটিতে মাছের ঝোল তুলতে তুলতে আইরা কে বলল,
___” আপু তুমি এখন চা খাবে?
আইরা হাসি মুখে বলে উঠলো,
___” হ্যাঁ, কী বলতো বিকাল বেলা উপন্যাসের সঙ্গে দুধ চা জমে ভালো, ফিলিংস টা অন্যরকম।
রশ্মি আইরার কথায় মলিন হেঁসে আইরা কে বলল,
___” তুমি কী কিছু জানো?
আইরা রশ্মির দিকে অবাক চোখে তাকালো, সন্ধিহান গলায় রশ্মি কে প্রশ্ন করে,
___” কই না তো, কিছু হয়েছে?
রশ্মি একহাতে পানির গ্লাস অন্য হাতে মাছের ঝোলের বাটি নিচ্ছিল, আইরা অবাক হয়ে পুনরায় বলল,
___” দাঁড়া ভাতের প্লেট আমি নেই, প্লেট সাজাচ্ছিস কেনো ডাইনিং টেবিল বসে খা।
আইরা ভাতের প্লেট হাতে নিতে নিতে জিজ্ঞেস করলো রশ্মি কে, রশ্মি আইরার কথায় কিচেন থেকে বের হতে হতে বলল,

___” মিম আর আরাতের জন্য, মিমের রুমে চলো জানতে পারবে সবকিছু।
আইরা গ্যাস বন্ধ করে দিয়ে, অবাক হয়ে ভাতের প্লেট নিয়ে রশ্মির পিছনে পিছনে যেতে যেতে বলল,
___” কী হয়েছে রে, এমন লাগছে কেনো তোকে?
___” আমার সঙ্গে চলো, জানতে পারবে।
আইরা আর কথা বাড়ালো না অবাক হয়ে রশ্মির সঙ্গে মিমের রুমে এলো,বেলকনিতে আরাত মিম কে জরিয়ে ধরে সান্তনা দিতে দেখে আইরা আরো বেশি অবাক হলো, আরাত কারো পায়ের আওয়াজে সামনে তাকালো, আইরা রশ্মি কে খাবার সেজে নিয়ে আসতে দেখে আরাত গলা খাঁকারি দিলো, মিম এখনো অস্বাভাবিক আচরণ করছে, মিমের অস্বাভাবিক আচরণে আইরা বিচালিত হয়ে দ্রুত পায়ে মিমের কাছে এসে বলতে লাগলো,

___” মিম কান্না করছে কেনো?
আইরা রশ্মিরাতের দিকে প্রশ্ন ভরা চাহনিতে তাকালো মিমের চোখমুখ কান্না করার ফলে ফুলে ফুলে উঠেছে
রশ্মি একে একে আজকের ঘটে যাওয়া সবকিছু খুলে বলল, আইরা নিস্তব্ধ হয়ে দেখতে শুনছে সবকিছু, আইরার বিশ্বাস হচ্ছে না মিমের বিয়ে হয়েছে, তাও আরশের সঙ্গে, মিম কান্না করতে করতে এখন চুপ হয়ে গেছে, ফাঁকা চোখে মেঝের দিকে চেয়ে আছে, আইরা রশ্মিরাতের দিকে চেয়ে ভারী কন্ঠে বলে উঠলো,
___” তোরা দুজন তখন কই ছিলি?
আরাত ক্ষিপ্ত চোখে রশ্মির দিকে তাকালো, রশ্মি আরাতের ক্ষিপ্ত চোখে তাকানোর কারণ বুঝলো না, আরাত আইরার দিকে তাকিয়ে রাগী গলায় বলল,

___” মিম রশ্মি কে খুঁজতে ওয়াশরুমে গিয়েছিল, তাঁর কয়েক মিনিট পর মিরা আর রাফি ভাইয়া কোথায় থেকে এসে বলল, আরশ ভাইয়া, ভাইয়া বলতেও লজ্জা করছে, আরশ আর মিম কোথায়, রাফি ভাইয়ার কথায় আমি অবাক হলাম, আরশ মিম কোথায় মানে, পরমুহুর্তে রাফি ভাইয়া বলল, আমি মিরা কে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্য বাইক নিয়ে বের হতেই রুপার কল এলো, আরশ মিম কে সবার সামনে টেনে কোথাও একটা নিয়ে যাচ্ছে, রাফি ভাইয়ার কথা শুনে আমি দ্রুত ক্যান্টিনে দৌড় লাগালাম, রাফি ভাইয়া আর মিরা আমার সঙ্গে এলো, ক্যান্টিনে এসে দেখলাম রপা তাসিন ওরা ক্লাস রুমের দিকে যাচ্ছে, আমরাও এদের পিছু নিলাম, মাঝপথে দেখলাম রশ্মি আমার কাছে এসে জানতে চাইছে, এভাবে কোথায় যাচ্ছি আমরা, তারপর তো রশ্মির মুখ থেকে শুনলেই সবকিছু।
আইরা আরাতের দৈর্ঘ্য কথা গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনলো, আরাতের মুখ কিছুটা গম্ভীর, আইরা মিম কে কিছুপলক দেখলো, মেয়েটা সবসময় চেয়েছিলো ভেজাল মুক্ত থাকতে, কিন্তু নিয়তি তাঁকে কলঙ্ক করার সাথে সাথে হতভাগা করে দিলো, যদি ডিভোর্স হয় তাহলে কলঙ্কর সঙ্গে সঙ্গে ডিভোর্সের দ্যাগ বয়ে বেড়াতে হবে, আইরা রশ্মিরাতের দিকে চেয়ে বলল,

___” এখন কী করবি ভাবছিস?
আরাত রাগী গলায় বলল,
___” কী আর করবো, আমার মনে হয় ফ্যামিলিতে সবকিছু বলা প্রয়োজন, এভাবে তো আর এতবড় একটা ঘটনা লুকিয়ে রাখা যায় না।
রশ্মি আরাতের কথায় বলে উঠলো,
___” আরে না, এখন বলা যাবে না, যাক কয়েকদিন তারপর আরশ ভাইয়া কী করে তারপর না হয় বলিস!
রশ্মির কথায় আরাত তেতে উঠলো, ক্ষিপ্ত কন্ঠ বলল,
___” আরশ কী করে মানে, তুই কী অমানুষের আশা করছিস, আমার বোন ওই অমানুষের ডিসিশনের জন্য ওয়েট করবে লাইক সিরিয়াসলি রশ্মি, হাঁসালি আমাকে।
আরাতের ব্যঙ্গ করে কথা বলার রশ্মি গম্ভীর গলায় বলল,
___” মানুষ কে পুরোপুরি না জেনে চেনে অমানুষ বলতে পারিস না তুই, এখানে কী হয়েছে তুই আমি কেউ সিওর না।
আরাত এই প্রথম রশ্মির কথায় দ্বিমত পোষণ করলো, রশ্মির কথায় আরাতের রাগ তিরতির করে বাড়তে লাগলো,

___” তুই কী বলতে চাইছিস, মিম বাজে মেয়ে?
___” আরে এত রেগে যাচ্ছিস কেনো, আমি জাস্ট বলছি আমরা তো সবকিছু জানি না তাইনা, মিম কে আমি কখন বাজে বললাম, ভুলে যাস না মিম কে আমি আমার ছোট বোনের নজরে দেখি।
রশ্মির কথায় আরাত তাচ্ছিল্য হেঁসে উঠলো,
___” হ্যাঁ দেখতেই পারছি তাঁর নমুনা।
আইরা অসহায় মুখে একবার রশ্মি তো আরেকবার আরাত কে দেখছে,মিমের এদিকে কোনো ধ্যান নেই সে মাথা নিচু করে নিজের ভাবনায় মগ্ন, আইরা রশ্মিরাত কে ধমক দিয়ে বলল,

___” কী শুরু করেছিস তোরা, নিজেদের মধ্যে ঝামেলা না করে সলিউশন খোঁজ!
আইরার ধমকে দুজনেই শান্ত হয়ে গেলো, আইরা একপলক তিনজনকে চোখ বুলিয়ে, হাত ধুয়ে মিমের পাশে বসে আরাত কে বলে উঠলো,
___” এদিকে আয় খাইয়ে দিচ্ছি, পেতে খিদা থাকলে ঝগড়া শেষ হবে না তোদের।
আরাত আইরার দিকে চেপে বসতে বসতে আরচোখে রশ্মির দিকে চেয়ে বলল,
___” খেয়েছিস?
রশ্মি ভার কন্ঠে উত্তর করলো,

___” আমার কথা ভাবতে হবে না, তুই খেয়ে উদ্ধার কর।
আরাত কথা বলল না সেজা রশ্মি কে এক টানে নিজের পাশে বসালো,রশ্মিও কথা বলল না, আইরা দুজনের কান্ড দেখে মলিন মুখে ভাত মাখতে লাগলো, ভাত মেখে প্রথমে এক লুকমা মিমের মুখের সামনে ধরলো, মিম এখনো আগের ন্যায় মাথা নিচু করে আছে, রশ্মিরাত মিমের দিকে চেয়ে রইলো, আইরা মিম কে ডেকে উঠে ,
___” মিম?
মিম শুনলো না আইরার ডাক, আইরা রশ্মিরাতের দিকে তাকালো, রশ্মিরাত পুনরায় আইরা কে চোখের ইশারায় ডাকতে বলল,আইরা এবার মিম কে উঁচু স্বরে ডেকে উঠলো,
___” মিম?

আইরার ডাকে মিম মাথা তুলে আইরার দিকে তাকালো, সঙ্গে সঙ্গে চোখের পানি গাল বেয়ে গড়িয়ে পরলো, রশ্মিরাত আইরা হকচকিয়ে গেল, মিম এতক্ষণ শব্দ করে কান্না না করলেও নীরবে চোখের পানি ফেলছিল, গ্রামের মেয়েরা চঞ্চল টাইপের হইলেও তাঁরা খুব নিজের কলঙ্কের ভয় করে, শহরের মানুষ যেমন কলঙ্ক খুব সহজে ভুলতে পারে, গ্রামের মানুষ তা ভুলতে পারে না, আশেপাশের মানুষ ভুলতে দেয় না, শহরে তুমি কলঙ্কিত হয়ে গেলে, হয়তো তোমার মনে কলঙ্কর দ্যাগ লেগে থাকবে,কিন্তু আশেপাশের মানুষ দু’চার দিন নাক ছিটকাবে, এবং কয়েকমাস পড়ে তোমাকে আগের মতো ট্রিট করার চেষ্টা করবে, শহরের মানুষ অন্য কে নিয়ে নাক ঘামায় না কিন্তু গ্রামের মানুষ, আশেপাশের প্রতিবেশী কে নিয়ে সবসময় নাক ঘামাবে এটা তাঁদের স্বভাব, তাঁরা তোমাকে একদিন না দুদিন না বারবার কথা শুনাবে, এবংকি দশ পনোরো বছর পড়ে, যখন তুমি হাজারো কলঙ্ক নিয়ে মন থেকে নিজেকে ভালো রাখার সফল হবে, তখন প্রতিবেশী তোমার সামনে তাঁর ছেলেমেয়ে বলবে, তুই ওর মতো হবি দেখ মেয়েটা এমন ছিলো দেখ মেয়েটার সঙ্গে এটা ঘেঁটেছিল, তখন আর কী পুনরায় তিক্ত অতীতগুলো এভাবেই মনে করে দিয়ে তোমাকে ধীকে ধীকে মারবে, মিম গ্রামের মেয়ে তাঁর গ্রাম সম্পর্কে সব জানা, তাঁদের গ্রামে তো কলঙ্ক হাওয়ায় ভয়ে ছোট ছোট মেয়েদের দ্রুত বিয়ে দিয়ে দেয়, এই আধুনিক যুগের ছেলেমেয়ে বুঝতে চায় না তাঁদের এক কিছুক্ষণের ছেলেমানুষীর জন্য একটা ছেলেমেয়ে কে সারাজীবন কলঙ্কের দ্যাগ বয়ে বেড়াতে হয়। আরাত পুনরায় মিম কে নিজের সঙ্গে জরিয়ে ধরলো, আইরা মিম কে শান্ত করতে বলে উঠলো,

___”কান্না করিস না কষ্টকে শক্তি বানা, তোর চোখের পানি যেন তোর বিপরীত কে শক্তি না দেয়, বরং চোখের পানিকে নিজের শক্তিতে পরিণত কর, তোর কষ্ট তোর শক্তি হবে, কোনো দুর্বলতা নয়।
আইরার কথায় মিম ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় বলল,
___” আমি স্টং ছিলাম আপু, আমাকে ভেঙ্গে দিয়েছে!
মিমের বিপরীত কী বলবে জানা নেই কারো, সত্যি মিম স্টং,মুখের উপর উচিত কথা বলে সবসময়,কেউ কিছু বললে তাঁর মুখ থেকে কথা কেরে নিয়ে নিজে বলতে লাগে, দুষ্টু চঞ্চল মেয়ে সবসময় হাসিখুশি থাকতে ভালোবাসে, রশ্মি মিম কে বলে উঠলো,

___” আগে হা করো তো!
মিম বিরক্ত মুখে বলল,
___” আপু প্লিজ আমাকে একা ছাড়ো।
আরাত রাগী গলায় বলল,
___” হ্যাঁ একা ছাড়বো, আগে খেয়ে নে!
আইরা মিমের সামনে পুনরায় লুকমা তুলে ধরলো, মিম বিরক্ত মুখে আইরার হাত সরিয়ে বলল,
___” আমার খিদে নেই আপু প্লিজ একা থাকতে দেও।
রশ্মিরাত আইরা তিনজন রাগী গলায় একসঙ্গে বলল,
___” হা কর বলছি!

মিম একপলক তিনজন কে দেখে নিয়ে দুহাতে চোখের পানি মুছে হা করলো, চোখের পানি মুছতেই পুনরায় গাল বেয়ে দুফোঁটা পানি গড়িয়ে পরলো, আইরা এক এক করে তিনজন কে খাইয়ে দিলো, মিম চোখে পানি নিয়ে ভাত চিবোতে লাগলো, খেতে খেতে এক পর্যায়ে গলায় ভাত বেজে কাশতে লাগলো, রশ্মি দ্রুত পানির গ্লাস মিমের মুখের সামনে ধরলো,মিম কাশতে কাশতে এক হাতে চোখের পানি মুছে রশ্মির দিকে তাকিয়ে পানি খেয়ে নিলো,আরাত মিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, মিম নীরবে দেখলো তাঁকে ঘিরে কাজিনদের ভালোবাসা, খাওয়া শেষে আইরা প্লেট নিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো, রশ্মি মিমের সঙ্গে মিমের রুমে থেকে গেলো,

রাত প্রায় এগারোটার ঘরে তাকবীর কোলের উপর ল্যাপটপ রেখে এক হাতে ল্যাপটপে টাইপিং করছে, চোখ তাঁর ল্যাপটপে, অন্য হাতে পাশে শুয়ে থাকা আরাতের মাথায় চুলগুলোর মধ্যে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, আরাত তাকবীরের পাশে শুয়ে থেকে মোবাইলে রিল দেখছে আর ডেইরি মিল্ক খাচ্ছে, রিল দেখতে দেখতে বিরক্ত হয়ে ফোনটা বালিশের নিচে রেখে দিলো, তাকবীর আরচোখে আরাত কে দেখে পুনরায় কাজে মগ্ন হয়ে গেলো,, আরাত নড়াচড়া করে শুয়ে থেকেই মাথা উপরে তুলে তাকবীরের দিকে তাকালো, পুনরায় মাথা বালিশে রেখে মিম কে নিয়ে ভাবতে লাগলো, এক মন বলছে ফ্যামিলিতে সবকিছু বলে দিতে আরেক মন বলছে থাক এখন না গোপনে ওদের ডিভোর্স করিয়ে দেওয়া যাবে, তাঁর আগে মিমের মনোভাব জানতে হবে, বিয়ে তো ছেলে খেলা না, মুখ দিয়ে বললে ডিভোর্স হয়ে গেলো, আরাত মিম কে নিয়ে হাজারো ভাবনায় মগ্ন হয়ে গেলো, আরাত কে শান্ত হয়ে থাকতে দেখে তাকবীর ল্যাপটপে চোখ রেখেই বলে উঠলো,

___” ঘুমাও না কেনো?
তাকবীরের কথায় আরাত নীরব কন্ঠে উত্তর করলো,
___” ঘুম ধরছে না!
তাকবীর ভ্রু কুঁচকে আরাতের দিকে তাকালো, আরাত কে অন্য মনষ্ক দেখে কোল থেকে ল্যাপটপ বন্ধ করে বেডসাইড এর উপর রেখে নিলো, নিজের মাথায় ক্যাপ এক হাতে খুলে বেডসাইডের উপর রেখে শুয়ে আরাত কে দু’হাতে জরিয়ে ধরলো, আরাত একনজর তাকবীর কে দেখে পুনরায় নিজের ভাবনায় মগ্ন হয়ে গেলো, আজকে আর তাকবীরের বুকে মাথা রাখতে লজ্জা পেলো না আরাত, তাকবীর দুহাতে আরাত কে জরিয়ে মাথায় ভালোবাসার পরশ রেখে দিয়ে বলল,

___” কী ভাবছো?
আরাত প্রথমে দ্বিধা করলো বলতে, পর মুহূর্তে নিজের মনে কথা না রাখতে পেয়ে বলে উঠলো,
___” কিছু বলার ছিলো?
__” হুম বলো।
আরাত তাকবীরের বুকে মাথা রেখেই সবকিছু খুলে বলতে লাগলো, আরাত সবকিছু বলার শেষে মুখ তুলে তাকবীরের মুখের দিকে তাকালো, তাকবীর স্বাভাবিক,মুখে নেই কোন প্রশ্নের চিহ্ন, আরাত তাকবীর কে কিছু বলতে না দেখে নিজেই জানতে চাইলো,
___” ডিভোর্স কী সমাধান?
এতক্ষণে তাকবীর আরাতের কথায় মুখ খুলে বলতে লাগলো,

___” ডিভোর্স কেনো সমাধান না, ডিভোর্সের দাগ মেয়েদের অভিশপ্ত করে দেয়।
আরাত তাকবীরের কথায় পুনরায় বলল,
___” তাহলে ফ্যামিলিতে বলবো সবকিছু?
___” মিম কী চায়?
___” জানি না।
তাকবীর কিছুক্ষণ নীরব থাকলো, যেভাবেই হোক না কেনো বিয়ে হয়ে গেছে তাঁদের, সংসার ভাঙ্গা মানে একটা মসজিদ ভাঙ্গার সমান, অন্যকে সংসার ভাঙ্গার উৎসহ করা মানে জেনে-বুঝে পাক কাজে লিপ্ত হওয়া, তাকবীর আরাত কে ঠান্ডা কন্ঠে বলে উঠলো,
___” যেভাবেই হোক না কেনো, ওরা পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেছে,ওঁদের লাইফ ওদের ডিসিশন নিতে দেও, সামনে নিচ্চয় ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।
আরাত তাকবীরের কথায় বলে উঠলো ,

___” সন্ধ্যা আর হাবীব ভাইয়ার বিয়ের পড়ে, মামা-মামি কে জানাবো, আপাতত সবাই অজানা থেকে যাক, সামনে বিয়ে বিয়ের সামনে বললে বিয়ের আনন্দ নষ্ট হয়ে যাবে সবার মধ্যে।
আরাত কে সবার কথা ভাবতে দেখে তাকবীর আরাত কে নিজের সঙ্গে আরো বেশি জরিয়ে নিয়ে বলতে লাগলো,
___” মাশাআল্লাহ আমার বউটা সবকিছু বুঝতে শিখেছে, ঘুমান ম্যাম নামাজ আদায় করতে হবে।

আরাত হাসি মুখে তাকবীর কে জরিয়ে ধরে চোখ বন্ধ করলো, তাকবীর আরাতের মুখের দিকে চেয়ে আছে, কখনো কী ভেবেছিলো ভালোবাসা প্রকাশ না করে কোনো মসিবত ছাড়া আরাত কে পেয়ে যাবে, তাকবীর আরাত কে আরাতের মতো ছেড়ে দিয়েছিল, পরমুহূর্তে নিজের ভাবনায় ব্যাঘাত ঘটে, মুক্ত পাখির মতো উঠতে উঠতে সে তো নিজের ক্ষতি করছে, তাঁকে হারাম থেকে হালাল করতে হবে, মুক্ত পাখিকে তো সে ভালোবাসে তাহলে তাঁর ক্ষতি কীভাবে দেখবে সে, তাইতো নিজের ভাবনা বাদ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া না এভাবে আর মুক্ত পাখির ক্ষতি দেখবো না, মনের পবিত্র ইচ্ছা কী অপূর্ণতা থাকে?

না কখনো না, সঙ্গে সঙ্গে খবর আছে ছোট ভাইয়ের, ছোট ভাই তাঁর ফ্যামিলি কে রাজি করেছে, এতে পবিত্র চাওয়া গুলো খুব অনায়াসে পেয়ে যাচ্ছে, মনের চাওয়া গুলো পবিত্র ছিলো জন্য আজকে কোনো ইচ্ছা ছাড়ায় নিজের পাশে নিজের ভালোবাসার মানুষটাকে অর্ধাঙ্গিনী হিসাবে পেয়ে গেছে, কারো সংসার ভাঙ্গতে হবে না, তাঁদের যদি চাওয়া গুলো এক হয়, দু’জন দুজন কে সম্মান করতে পারে, যত্ন ভালোবাসা যদি টিকিয়ে রাখতে পারে, তাহলে তাঁদের পূর্ণতা হবেই ইনশাআল্লাহ, বিয়ে হয়ে গেলেই সংসার হয় না ভালোবাসা থাকতে হবে, যদি বিয়ে হয়ে গেলো পূর্ণতা হত তাহলে এই দুনিয়াতে ডিভোর্স নামটা থাকতো না।

কোট প্যান্ট পরিহিত তাকবীর বারবার ঘড়ি দেখছে আর উপরে নিজের রুমের দিকে তাকাচ্ছে, মাথায় বাবরি কাটা চুলগুলো জেল দিয়ে পরিপাটি করা, তবুও বারবার মাথা উপরে তুলে নিজের রুমের দিকে তাকানোর কারণে চুলগুলো দুলছে, কয়েটা চুল মুখের সামনে আসার কারণে বা হাত দিয়ে বারবার ঠিক করছে, আরাতের অপেক্ষা করতে করতে তাকবীর এক পর্যায়ে আরাত কে ফোন লাগলো, দু থেকে তিন বার ফোন রিং হতেই ওপাশে আরাত ফোন রিসিভ করে বলতে লাগলো,

___” বাসায় থেকে ফোন কেনো করেছেন?
তাকবীর মেঝের দিকে তাকিয়ে নিস্তব্ধ হয়ে আরাতের ভয়েস ফিল করলো, আরাতের ভয়েস ফোনের মধ্যে মারাত্মক লাগে, এক নিমিষেই পাগল করে দেয়, আরাত তাকবীর কে কথা বলতে না দেখে সিড়ি বেয়ে নামতে নামতে তাকবীরের দিকে চেয়ে পুনরায় ফোনে বলে উঠলো,
___” উপরে তাকান!
আরাতের কথায় তাকবীর সিঁড়ির দিকে তাকালো, সঙ্গে সঙ্গে কানে গুঁজে রাখা ফোন হাত ফসকে মেঝেতে শব্দ করে পড়ে গেলো, তাকবীরের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই, তাকবীর তো সামনে নিজের অর্ধাঙ্গিনী রুপে হুরপরী কে দেখতে ব্যস্ত,আরাত নীল শাড়ি পড়েছে,সুতির নীল শাড়ির সাদা পাড়ের সঙ্গে মাথায় সাদা স্কাপ বেঁধেছে, স্কাপের উপরে নিকাব পড়া,চোখে হালকা কাজল, হাতে তাকবীরের দেওয়া কাচের নীল চুড়ি, এতেই যেন আরাত কে পরীর থেকে কম লাগছে না, আরাত তাকবীরের খামখেয়ালী দেখে দ্রুত পায়ে নেমে এলো, তাকবীর আগের ন্যায় মুগ্ধ হয়ে আরাতের দিকে তাকিয়ে আছে, আরাত মেঝে থেকে তাকবীরের ফোন হাতে তুলে তাকবীরের সামনে ধরলো,

___” ধরুন!
তাকবীর বেখেয়ালি বলে উঠলো,
___” এখন?
তাকবীরের কথায় আরাত তাজ্জব বনে গেলো, তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে জানতে চাইলো,
___”এখন মানে, আপনি কী ধরার কথা বলছেন?
আরাতের কথায় তাকবীরের ধ্যান ভাঙ্গ, গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
___” মাশাআল্লাহ, সুন্দর লাগছে বাট বোরকা পড়লে বেটার লাগতো।
তাকবীরের কথায় আরাত বাহানা ধরে বলে উঠলো,
___” না বিয়ে বাড়িতে বোরকা পরবো না, সবাই শাড়ি পরবে,পর্দা তো করেছি!
আরাতের বাহানাতে তাকবীর কে গম্ভীর দেখা গেলো, আরাত খানিকটা তাকবীরের চাহনিতে ভয় পেলো, মাথা নিচু করে বলল,

___” সরি দু মিনিট অপেক্ষা করেন, বোরকা পড়ে আসিতেছি।
কথাটা বলে আরাত রুমের দিকে যেতে লাগলো, তাকবীর আরাতের হাত টেনে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে আগের ন্যায় গম্ভীর গলায় বলল,
___” তুমি আমার অর্ধাঙ্গিনী, তুমি বাহিরে মুক্তা পাখির মতো উড়বে বাট ঝিনুকে লুকায়িত মুক্তার মতো।
আরাত মাথা নিচু করে বলল,
___” সরি আর হবে না।
তাকবীরের গম্ভীর মুখটা ধীরে ধীরে সাভাবিক হয়ে এলো,
___” মাথায় থাকে যেনো।
তাকবীর গলা খাঁকারি দিয়ে মুচকি হেঁসে আরাতের মুখ উপরের দিকে তুলে পুনরায় বলে উঠলো ,

___” বাই দ্যা ওয়ে শাড়িতে কিন্তু মারাত্মক লাগছে!
আরাতের মুখে হাসি ফুটে উঠলো, হাসি মুখে লাজলজ্জা ভুলে তাকবীরের দিকে তাকাতেই দেখলো তাকবীর নেশা ভরা চাহনিতে চেয়ে আছে, আরাত তাকবীরের চাহনিতে জানতে চাইলো,
___” মুখ নেকাবের আড়ালে,ঘায়েল হওয়ার মতো কী দেখলেন?
তাকবীর আরাতের চোখের দিকে চেয়ে ভয়েসটা স্লো করে বলে উঠলো,
___” আমাকে ঘায়েল করার জন্য তোমার ওই মায়াবী চোখ দুটোই যথেষ্ট বউ!
আরাত নেকাবের আড়ালে মুচকি হেঁসে পুনরায় জানতে চাইলো ,
___” তাই?
তাকবীর শীতল কণ্ঠে আরাতের চোখে চোখ রেখেই নির্দ্বিধায় ছোট করে উওর করলো,
___” হ্যাঁ।
আরাতের আরো জানতে ইচ্ছা জাগলো, তাকবীরের মুখে নিজের নামে প্রশংসা শুনতে ইচ্ছা করলো, তাকবীরের মুখের দিকে চেয়ে আরাত বলে উঠলো,

___” আচ্ছা আমাকে আপনার খোলা চুলে কেমন লাগে?
তাকবীরের চোখ আরো গভীর দেখা গেলো,
___” খোলা চুলে নেশা ধরে যায়।
আরাত একটু লজ্জা পেলো, মুচকি হেঁসে চোখ নামিয়ে পুনরায় জানতে চাইলো,
___” এলোমেলো চুলে কেমন লাগে?
আরাতের প্রশ্ন করতে দেরি তাকবীর উওর করতে দেরি করল না,
___” বেসামাল করে দেয়।
আরাত তাকবীরের চাহনিতে অন্যদিকে ফিরে তাকালো, তাকবীর আরাতের মুখ স্পর্শ করতে হাত বাড়িয়ে দিতেই আরাত তাকবীরের কাছে থেকে দূরে সরে দাঁড়ালো, দূরে সরে দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলল,

___” আমাদের লেট হয়ে যাচ্ছে।
তাকবীর আরাত কে আমতা আমতা করতে দেখে সদর দরজার দিকে পা বাড়িয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
___” লেটস গো।
আরাত তাকবীর কে যেতে দেখে উপরে মিমের রুমের দিকে তাকালো, মেয়েটা তিনদিন থেকে না নিচে নেমেছে না কলেজ গিয়েছে, আজকে সন্ধ্যা হাবীবের বিয়ে, তালুকদার বাড়ির কেউ নেই, আরাত সকাল থেকে মিম কে বলছি, শুধু আমাদের সঙ্গে যাবি খাবি চলে আসবি, তোকে থাকতে হবে না, কিন্তু না মিম না তিনদিন আগে রশ্মিদের সঙ্গে গিয়েছে, না আজকে আরাত তাকবীরের সঙ্গে যাচ্ছে, আরাতের মন ছটফট করছে মিম কে একা বাড়িতে রেখে যেতে, আনহা শেখ আদিবা তালুকদার এবং রাহিমা সুলতানা সকাল বেলা গিয়েছেন সন্ধ্যাদের বাড়িতে, রাবেয়া তালুকদার কয়েকদিন আগেই গিয়েছিলেন ভাতিজির বিয়ে উপলক্ষে, আইরা রশ্মি আহিন আলভী মেয়েপক্ষ, তিনদিন আগে সন্ধ্যাদের বাড়িতে গিয়েছে,তাঁদের মধ্যে আরিশা শশুর বাড়ি থেকে আমান কে নিয়ে এসেছে সন্ধ্যাদের বাড়িতে, আনাস আশিক মায়া আদিল চারজন হাবীবের বাড়িতে তিনদিন আগে ছেলেপক্ষ হয়ে গিয়েছে।

এর মধ্যে কেটে গেছে তিন দিন,এই তিনদিনে হাবীব আর সন্ধ্যার বিয়ের অনুষ্ঠান বেশ ধুমধাম ভাবে হচ্ছে, মেহেন্দি থেকে গায়ে হলুদ সবকিছু হচ্ছে, তবে তাঁদের মধ্যে দেখা মেলেনি আরাতের, তাকবীর তো এ-সব পছন্দ করে না, কিন্তু আরাত কে যেতে বলছিলো, আরাত নিজে থেকে যায়নি সে-সব অনুষ্ঠানে, গতকাল হাবীব সন্ধ্যার বিয়ে হয়ে গেছে, আজকে হাবীবের বাড়িতে রিসিপশন চলছে, সচারাচর তাকবীর কোনো বিয়ে বাড়ি আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যায় না। কিন্তু আরাতের জন্য যেতে হচ্ছে, রশ্মিরাত মিম সন্ধ্যা চারজন একজনও কলেজ যায় না, রশ্মি বিয়ের জন্য যেতে পারেনি, মিম নিজেকে একপ্রকার ঘরবন্দী করে রেখেছে, এই কয়েকদিনে আরাত আর তাকবীরের মধ্যে অনেকটা পরিবর্তন ঘটেছে, দুজন সুন্দর সুন্দর মুহূর্ত পার করছে,

তাকবীরের গাড়ি এসে থামলো বিয়ের বাড়ির সামনে, চারপাশ অন্ধকার হয়ে এসেছে, কিন্তু বিয়ে বাড়ির সাজসজ্জায় চারপাশ ঝিকমিক করছে, তাকবীর গাড়ি থেকে নেমে আরাতের সামনে এসে দাঁড়ালো, আরাত গাড়ি থেকে নামার জন্য, এতক্ষণে এক পা মাটিতে ফেলেছে। তাকবীর আরাতের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো, তাকবীর কে নিজের দিকে হাত বাড়িয়ে দিতে দেখে আরাত নেকাবের আড়ালে মুচকি হেঁসে হাত তাকবীরের হাত রাখলো,তাকবীর বিয়ের বাড়িতে আরাতের এক হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে হাঁটতে লাগলো, আশেপাশে অনেক মানুষ,তাকবীর বিরক্ত হলো চারপাশ এত মানুষ দেখে, সবসময় নীরব পরিবেশ পছন্দ করা তাকবীর শুধু মাএ বউয়ের জন্য মানুষ জনের মধ্যে হাঁটতে হচ্ছে, আরাত তাকবীরের মুখ দেখে বুঝতে পারলো, তাকবীর বিরক্তবোধ করছে, কিন্তু মুখ ফুটে বলছে না, স্টেজের পাশে চেয়ার গোল করে নিয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছে,

রশ্মি আইরা আরিশা মায়া, আশিক আনাস আদিল, হাবীব গেস্ট দের খাওয়া দাওয়ার দিকটা দেখছে, বেচারা সন্ধ্যা স্টেজে বসে আছে, আর বারবার আইরাদের দিকে তাকাচ্ছে, আইরা আনাস রা কিছুক্ষণ পরপর আড্ডা দিতে দিতে শব্দ করে হেঁসে উঠছে, সন্ধ্যা পারছে না স্টেজ থেকে উঠতে, পারছে না আড্ডায় সামিল হতে, মন খুটখুট করছে ওরা কী গল্প করছে আর কী নিয়ে হাসিহাসি করছে জানার জন্য, কিন্তু নতুন বউ হওয়ার খাতিরে উঠতে পারছে না, তাঁদের গল্প খুনসুটির এক পর্যায়ে আশিক মায়া কে রাগাতে আনাস কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,

___” জানিস গতকাল রাতে একটা সুন্দরী মেয়ে আমার সপ্নে এসেছিল, মেয়েটা এত সুন্দর এত সুন্দর.
আশিকের কথায় মায়ার হাসি মুখ বন্ধ হয়ে গেলো, বাদবাকি সবাই আশিকের কথা শুনতে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে, হটাৎই মায়া বাঁকা হেঁসে আশিক কে বলল,
___” মেয়েটা একাই এসেছিল নিচ্চয়?
মায়ার কথায় সবার নজর মায়ার দিকে, আশিক অবাক হয়ে বলল,
___” হ্যাঁ তুমি কীভাবে জানলে?
মায়া অ্যাটিটিউড নিয়ে আশিক কে ব্যঙ্গ করে বলল,
___” কারণ ওর বয়ফ্রেন্ড আমার সপ্নে এসেছিল।

সঙ্গে সঙ্গে মায়ার কথায় আশিকের কাশি উঠে গেলো, বাকি সবাই শব্দ করে হেঁসে উঠলো, বলে না সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে, আজকাল মায়া আশিকের যেকোনো কথার মধ্যে বা হাত ঢুকে আশিক কে বোকা বানিয়ে রাখে, আশিক কাশতে কাশতে মন ভার করে মায়ার দিকে তাকালো, বাকি সবার হাসিতে অন্য মেয়েরা তাঁদের দিকে বিরক্ত চোখে তাকালো, মায়া আশিকের দিকে সরু চোখে চেয়ে আছে, আশিক মায়া কে পুনরায় রাগাতে তাঁদের দিকে চেয়ে থাকার মধ্যে একটা মেয়েকে হাত উঁচিয়ে হাই জানালো,মায়া রাগী চোখে দেখছে শুধু আশিক হাই জানাতে মেয়েটা মুচকি হেঁসে কানের পিঠে চুল গুঁজানো, মায়া এতে যেন আরো বেশি রেখে গেলো, রাগী গলায় বসা থেকে উঠে আশিকের কলার চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলতে লাগলো,

___” বিয়ে করেছিস ভুলে গেয়েছিস হ্যাঁ, বউয়ের সামনে অন্য মেয়ের সঙ্গে ফ্ল্যাট করোস লুচ্চা, দাঁড়া তোর লুচ্চামি আমি বের করছি!
মায়া আশিকের কলার চেপে ধরাতে বিয়ের বাড়ির সবার নজর তাঁদের দুজনের দিকে পরল, আইরা আনাস সবাই যে যার চেয়ার থেকে উঠে পড়েছে, আইরা মায়ার কাছে এসে মায়াকে ছাড়াতে ছাড়াতে বলল,
___” মায়া ছাড় কী করছিস, মানুষ দেখছে, এটা বিয়ের বাড়ি, ছাড় বলছি!
আইরা মায়ার হাত আশিকের কলার থেকে ঝাটকা দিয়ে ছড়ালো, সঙ্গে সঙ্গে আশিক কাশতে লাগলো, মুখটা লাল হয়ে গেছে, মায়া আইরার কথায় রাগী গলায় বলল,
___” মানুষ দেখছে তো আমি কী করবো, মানুষ কে চোখ বন্ধ করে থাকতে বল, আমি আমার হাজবেন্ডের কলার চেপেছি অন্য করো না।
আশিক মুখটা কাঁদো কাঁদো করে বলল,

___” তোমার মতো জল্লাদ বউ আমি আমার লাইফে আর দুটো দেখিনি।
মায়া যেন আরো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো , রাগী গলায় আশিকের দিকে তেরে এসে বলতে লাগলো,
___”কী আমি জল্লাদ ?
রিলেশন করে বিয়ে করে বেচারা ভেসে গেছে, না বাবা-মা কে বউয়ের নামে কিছু বলতে পারে, না বউয়ের সঙ্গে ঝগড়ার পেয়ে উঠে, আশিক মায়া নাড়িয়ে কাচুমাচু করতে করতে বলল,
___” না, ভুল বলেছি সরি!
___” ক্ষমা করবো বাট তোকে এই মুহূর্তে বলতে হবে এই দুনিয়াতে আমার বউ ছাড়া সব মেয়ে আমার আম্মা লাগে!
মায়ার কথায় সবাই মিটিমিটি হাসতে লাগলো, আশিক কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
___” বিলিভ মি বউ, আমি আর কোনো মেয়ের সঙ্গে ফ্ল্যাট করবো না তোমার প্রমিস করছি! সব মেয়ে আমার আম্মা লাগে।
আশিক মায়ার মাথার উপর হাত রেখে বলতে লাগলো, মায়া হাতে হাত ভাজ করে ভার কন্ঠে পুনরায় বলে উঠলো,

___”এই কথাটা চিৎকার দিয়ে বলো!
আশিক অসহায় মুখে আনাস এর দিকে তাকালো, আনাস গম্ভীর মুখে আশিক আর মায়ার কান্ড দেখছে, আশিক আনাস এর দিকে চেয়ে ঢোক গিলল, মনে মনে ভাবলো, বন্ধুর জুতার বারির চেয়ে বউয়ের কথা শুনা ভালো আছে, আশিক মনে মনে কথাগুলো ভেবে মায়ার কথায় চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো,
___” এই দুনিয়াতে আমার বউ ছাড়া সব মেয়ে, মহিলা, ভাবি কাকি নানি খালা ছোট বাচ্চা মাঝারি বাচ্চা সব আমার আম্মা লাগে।

আশিক মায়ায় কান্ড বিয়ের বাড়ির অনেকেই বিরক্ত তো অনেকেই মজা দিচ্ছে, হানিয়া আইরাদের পাশ কেটে স্টেজের দিকে আসতে নিয়েছিল, ঠিক তখনই তাকবীর আর আরাত কে একি ওপরের হাত ধরে স্টেজের দিকে আসতে দেখে জায়গায় থমকে দাঁড়ালো, চোখ তাঁর তাকবীর আর আরাতের হাতের উপর, তাকবীর কে দেখে আশিক মায়া সবাই শান্ত হয়ে গেলো,আরাত হানিয়া কে নিজেদের হাতের দিকে অদ্ভুত নজরে চেয়ে থাকতে দেখে আরাত তাকবীরের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিলো, তাকবীর একনজর আরাতের দিকে তাকালো, পুনরায় আশেপাশে অনেক মানুষ দেখতে পেয়ে তাকবীর গম্ভীর মুখে সাইটে এসে দাঁড়ালো, আরাত প্রথমে স্টেজে সন্ধ্যার সঙ্গে দেখা করে রশ্মিদের পাশে এসে বসে, তাকবীর কে সাইটে দাঁড়িয়ে ফোন স্ক্রল করতে দেখে আনাস আশিক আদিল চেয়ার নিয়ে তাকবীরের কাছে এসে দাঁড়ালো, তাকবীর একনজর তিনজন কে দেখে নিয়ে পুনরায় ফোন স্ক্রল করতে লাগলো, আনাস তাকবীর কে চেয়ার দিয়ে বলল,

___” ভাইয়া চেয়ারে বসো।
তাকবীর আনাস এর কথায় ফোন থেকে চোখ সরিয়ে আনাস কে বলল,
___” কোনদিকে খাবার খাওয়াচ্ছে?
আশিক তাকবীরের কথায় বলে উঠলো,
___” ব্রো তুমি এসেই খাওয়ার খবর করছো কেনো একটু রেস্ট নেও, আনাস ব্রো কে বরং ছাঁদে নিয়ে চল নিরিবিলি পরিবেশে।
আশিকের কথায় আনাস আদিল সহমত পোষণ করলে তাকবীর গম্ভীর কন্ঠে বলল,
___” ওখানে নিরিবিলি টাইম কাটাতে আসি নাই, জলদি খাবার দিতে বল বাসায় যাবো।
___” স্যার আপনি শুধুমাএ খেতে এসেছেন?
তাকবীর রাগী চোখে আদিলের দিকে তাকালো, আদিল তাকবীরের তাকানো তে মাথা নিচু করে নিলো,তাকবীর রাগী গলায় বলে উঠলো

___” বিয়ে বাড়িতে মানুষ কেনো আসে?
আদিল ছোট করে বলল,
___” খেতে।
___” তোমরা কেনো এসেছো?
আদিল পুনরায় ছোট করে বলল,
___” মজা করতে।
তাকবীর রাগী চোখে আদিলের দিকে তাকিয়ে আছে, আদিল হাসার চেষ্টা করে নিজের ভুল সংশোধন করে বলল,
___” সরি স্যার খেতে।

তাকবীর কিছু বলল না, চেয়ার টেনে বসে পরলো, হানিয়া সেই প্রথম থেকে তাকবীরের দিকে তাকিয়ে আছে, আরাত আর তাকবীর কে এক সঙ্গে দেখে মনের মধ্যে কেমন হাহাকার করে উঠলো, হানিয়ার যদি ভালোবাসা এক তরফা না হতো তাহলে আজকে তাকবীরের পাশে হানিয়া থাকতো, এক তরফা ভালোবাসা গুলো এমন কেনো, শুরু ভিতর টা ছটফট করে, একতরফা ভালোবাসা মানে মানুষটা অন্য কারও সাথে হাসলে, বুকটা কেঁপে ওঠে তবু মুখে হাসি রেখেই বলতে হয়,খুশি থাকো। আমার ভালোবাসায় দাবি নেই, অধিকার নেই, শুধু দূর থেকে নিঃশব্দে ভালোবাসার অনুমতি আছে। হানিয়া তাঁর এক তরফা ভালোবাসা প্রকাশ করেছিলো, কিন্তু প্রকাশ করেও মিললো না, সে তো তাঁর ভাগ্যই নেই, তাঁকে প্রত্যাখান করেছে তাঁর ভালোবাসা, সুখে সংসার করছে, আজকে ভালোবাসার মানুষটা কে অন্য জনের পাশে দেখে রাগ না, কষ্ট হচ্ছে প্রচুর কষ্ট হচ্ছে, দম বন্ধ হয়ে এলো বোধায়,হানিয়া অসহায় চোখে তাকবীরের দিকে চেয়ে কাঁপাকাঁপা গলায় বিরবির করল,

___” আমাকে কেনো ভালোবাসলেন না আপনি?
কিন্তু তাকবীর হানিয়ার অসহায় হয়ে বলা কথাটা শুনলে তো প্রশ্নের উপর করবে, হানিনা আর দাঁড়াতে পারলো না,দৌড়ে বিয়ের বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো,
হানিয়া বিয়ের বাড়ি থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন হানিয়ার পিছু নিলো। আরাত চেয়ারে বসে থেকে হানিয়ার দৌড়ে বাহিরে যাওয়া দেখলো, আজকে হানিয়ার উপর কষ্ট না হিংসা লাগছে, কেনো তাঁর বরের দিকে এভাবে চেয়ে থাকবে,তাঁর বরের দিকে তাকানোর অধিকার শুধুমাএ তাঁর, আরাত এভাবেই মুখ গম্ভীর করে বসে রইলো, আইরা মায়া রশ্মি আড্ডা দিচ্ছে, আরাতের সেদিকে মন নেই, পুরোটা সময় মন ভার করে বসে রইলো,

গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে তাকবীর আরাতের দিকে তাকালো, আরাত কে গাড়ির কাচ ভেদ করে বাহিরে দেখতে দেখে তাকবীরের কপালে সূক্ষ্মভাজ পরলো,তাকবীর গলা খাঁকারি দিয়ে একহাতে গলার টাই ধিলা করে শার্টের তিনটা বোতাম খুলতে খুলতে সামনে চোখ রেখে বলে উঠলো,
___” হোয়াট হ্যাপেন?
আরাত বাহির থেকে চোখ ফিরিয়ে একনজর তাকবীর কে দেখে পুনরায় মুখ ভার করে বাহিরে চোখ রাখলো, তাকবীর সামনে চোখ রেখেই আরাত কে এক টানে নিজের কোলে বসালো,আরাত খানিকটা চমকে তাকবীরের দিকে তাকালো, তাকবীর আরাত কে একপলক দেখে নিয়ে সামনে চোখ রেখে বলল,

___” প্রবলেম কী, কথা বলছো না কেনো?
আরাত এবারও কথা বলল না,চুপচাপ তাকবীরের ধিলা টাই দু’হাতে পেঁচাতে লাগলো, তাকবীর আরাতের মুখ দেখতে না পেয়ে এক হাতে আরাতের নেকাব খুলে দিলো, তাকবীর কে নেকাব খুলতে দেখে আরাত মুখ অন্ধকার করে মাথায় হাত দিয়ে নেকাব হাতড়াতে লাগলো, তাকবীর আরাতের মুখের দিকে ভ্রু কুঁচকে চেয়ে বলল,
___”মুখটা পেচার মতো ভার কেনো?
আরাত তাকবীরের কথায় মুখ ভার রেখে ভারী কন্ঠে এবার উওর করলো,
___” অন্য মেয়ে আপনার দিকে তাকিয়ে থাকলে আমার ভালো লাগে না।
আরাতের কথায় তাকবীর তীক্ষ্ণ চোখে আরাতের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
___” আর ইউ জেলাস?
আরাত ভারী কন্ঠে বলল,

___” না।
তাকবীর আরাতের কথায় চোখ সামনে রেখে গম্ভীর গলায় ছোট করে বলল,
___” ওকে।
তাকবীর কে স্বাভাবিক ভাবে আগের ন্যায় গাড়ি চালাতে দেখে আরাতের রাগ উঠে গেলো, রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে মুখ ভার করে নিজে থেকে বলে উঠলো,
___” আমি কেন হানিয়া আপু কে জেলাস করতে যাবো, জেলাস তো করবে হানিয়া আপু আমাকে আপনার পাশে দেখে।
আরাত কথাটা বলে মুখ বাঁকালো,কথাটা শুনার সঙ্গে সঙ্গে তাকবীর চলন্ত গাড়ির ব্রেক কষলো,হটাৎই গাড়ির ব্রেক কষাতে তাকবীরের উন্মুক্ত লোমহীন ফর্সা বুকে আরাতের ঠোঁটের ছোঁয়া লেগে গেলো, তাকবীর তাজ্জব বনে আরাত কে দেখতে লাগলো, আরাত কাচুমাচু করছে, তাকবীর চোখ বন্ধ করে ছোট একটা নিঃশ্বাস ফেললো,আরাত চুপচাপ মাথা নিচু করে শাড়ির আঁচল পেচতে লাগলো, তাকবীর পুনরায় গাড়ি স্টার্ট দিয়ে সামনে রাস্তায় চোখ রেখে বলল,

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪৬

___” অন্য মেয়ের নজর তোমার হাজবেন্ডের দিকে থাকলেও তোমার হাজবেন্ডর নজর তোমার উপর ছিলো।
আরাতের মুখে হাসি ফুটে উঠলো, হাসি মুখে আরাত তাকবীরের বুকে মাথা এলিয়ে দিলো,তাকবীর আরাতের কান্ডে হাসফাস করতে লাগলো, আজকে যেন পথটা শেষ হচ্ছে না,

তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪৮