তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৬
জান্নাতি আক্তার জারা
পুরো রুম জুড়ে অন্ধকার নীরবতায় ঘেরা । চাঁদের সৌন্দর্য যেন খোলা জানালা দিয়ে অন্ধকার নীরবতা রুমটায় উঁকি দিয়ে যাচ্ছে বারংবার।খোলা জানালায় পাশে থেকে কারো প্রেমকথনের গুনগুন আওয়াজটাও অন্ধকার রুমটাই প্রতিধ্বনি হয়ে বারি খেয়ে যাচ্ছে বারেবারে। সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই। সে তো জানালার পাশে রুমের মেঝেতে বসে চুপিসারে প্রেমকথনে মগ্ন।
“ফোনের ওপাশে থেকে একটা ছেলের ঠান্ডা কন্ঠ ভেসে এলো! ভয়েসটা রশ্মির কানে যেন একধরনের মাদকতা মতো নেশা ধরে দিলো!
“ম্যাম! আপনার ফোনের আশায় কতক্ষণ ওয়েট করতাছি? এই খেয়াল আছে কী আপনার হুম?
রশ্মির উত্তর না করে কেমন যেন ঘোর ঘোর চোখে জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছে।
“ম্যাম? আমাকে কী শুনতে পারছেন? হ্যালো ম্যাম?এই যে রশ্মিরানী?
রশ্মি এবার থতমত গলায়, হ্যাঁ, হু, মানে, পার্থ আপনি কী কিছু বলছিলেন?
“কই হাড়িয়ে যান রশ্মিরানী? আমার খেয়ালে নাকি হুম?
কথাটা বলেই দুষ্টমাখা হাসলো পার্থ চৌধুরী ।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
” আপনার ভয়েসের নেশায় তো অনেক আগেই হাড়িয়ে গেয়েছি পার্থ চৌধুরী।
“ওহ তাই নাকি। আজকে দেখছি আমার রশ্মিরানী রোমান্টিক মুডে হুম? আমাকে মিস করছেন বুঝি?
“এবার রশ্মি হয়তো কিছুটা লজ্জা পেলো। হুম সত্যিই তো মিস করতাছে রশ্মি তার পার্থ কে। এটা কি মুখে বলা যায় নাকি। রশ্মি লজ্জামিশ্রণ মুখ নিয়ে পার্থর কথায় নিরবতা পালন করলো।
পার্থ রশ্মির জবাব না পেয়ে মুচকি হেঁসে বলে উঠলো,
“হ্যাঁ আমি তাহলে ঠিক ধরেছি। ম্যাম তাহলে সত্যিই আমাকে মিস করতাছে!
রশ্মি মুচকি হাসি দিয়ে এবার ছোট্ট করে বলে উঠলো,
“হুম!
পার্থ দুষ্টমি হাসি দিয়ে পুনরায় বলল ,
“তাহলে কানাডায় চলে আসেন ম্যাম?
রশ্মির লজ্জাটা নিমিষেই মন খারাপের রূপ নিলো। সত্যিই তো পার্থ সঙ্গে দেখা করতে হইলে। আরাত কে ছাড়া তাকে ওই দূর কানাডা যাইতে হবে। কিন্তু আরাত কে ছেড়ে রশ্মি যাবে কিভাবে। রশ্মির যে আরাত কে ছাড়া চলবেই না। আবার পার্থর কে সামনাসামনি একনজর দেখার লোভও হচ্ছে। একদিকে আরাত আরেকদিকে পার্থ। রশ্মি কোনটা বেছে নিবে বন্ধুত্ব নাকি ভালোবাসা।
কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই রশ্মি মন খারাপ নিয়ে পার্থকে আল্লাহ হাফেজ বলে ফোনটা রেখে দিলো। পার্থর ফোনটা রেখে দিয়ে রশ্মি জানালার পাশে বসা অবস্থায় মুখটা হাটুর অপরে রেখে নিজের ভাবনায় ডুপ দিলো।
ঠিক তখনই আরাত ওয়াশরুম থেকে। তয়েলা দিয়ে মাথার লম্বা চুলগুলো মুছতে মুছতে বের হয়ে। রশ্মিকে জানালার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে। আরাত রশ্মির দিকে এগিয়ে গিয়ে — কী এতো ভাবছিস?
রশ্মি মাথাটা উপরে তুলে দেখে আরাত ওর দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। রশ্মি আবার মাথাটা নিচের দিকে করে বলে ওঠে।
“বুঝতে পারছি না রে আমার কী করা উচিত?
আরাত রশ্মির কাছে বসে পড়লো। তারপর রশ্মির কথায় বলে ওঠে।
আমি তোকে প্রথমেই পার্থর বিষয়ে সাবধান করছিলাম।এখন দেখ তোর কী ভালো হয়। কিন্তু বিশ্বাস কর রশ্মি তোকে ছাড়া ভালো থাকবো না রে, তুই আমার থেকে দূরে চলে যাবি এই কথাটা ভাবলেই কেমন যেন দম বন্ধ বন্ধ লাগে সত্যিই দূরে যাবি আমাকে ছেড়ে। তোর কষ্ট হবে না?
রশ্মি আরাত কে জাপতে জড়িয়ে ধরলো —বিশ্বাস কর আরাত, তোকে ছাড়া থাকার কথা আমি কখনো ভাবি নাই। আমার মনে কখনো এমন খেয়াল আসেই নাই। কিন্তু এখন, এখন আমি কী করবো রে? ভেবে পাচ্ছি না রে আরাত?
আরাত কে জড়িয়ে থাকা আবস্থায় কিছুক্ষণ চুপ থেকে রশ্মি আবার বলতে শুরু করলো।
বিশ্বাস কর তুই! আমি ভেসে বেড়াচ্ছি একদিকে তুই আরেকদিকে পার্থ। পার্থকে খুব ভালোবেসে ফেলাইছি রে। ওকে দেখার লোভ আমাকে ভালো থাকতে দিচ্ছে না। ও যদি বাংলাদেশের ছেলে হইতো তাহলে ওকে বাংলাদেশে আনতে পারতাম। কিন্তু ওতো ভীনদেশী ওর ফ্যামিলি ছেড়ে ও কখনো আমার কাছে আসবে না। কিন্তু আমার যে ওকেও চাই।
“আমার পরিস্থিতি ঠিক এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে।পার্থকে চাইলে তোর থেকে দূরে থাকতে হবে। তোর সঙ্গে থাকতে চাইলে পার্থকে সারাজীবনের জন্য হারাতে হবে। এখন আমি কী করবো রে আরাত বললা?
আরাত চুপচাপ জানালার দিকে তাকিয়ে বাহিরের আবহাওয়া দেখছে। আরাত কী বলবে ওর কী কিছু বলার আছে, সত্যিই নেই। আরাত প্রথমেই রশ্মিকে সাবধান করছিলো। ফ্ল্যাশব্যাক….
আজথেকে প্রায় পাঁচ ছয়মাস আগে। একটি রাতে রশ্মি ফেসবুক রিল দেখতে দেখতে হটাৎ একটা মেসেজ এলো।
” Hey miss…?
রশ্মি মেসেজ টা সিন করে। প্রোফাইল পিকে ড্যাশিং লুক দেখে ফেক আইডি ভেবে, মুখ বেঁকে আবার রিল দেখতে লাগলো। সঙ্গে সঙ্গে আবার সেই আইডি থেকে মেসেজ এলো।
“পার্থ চৌধুরীকে ইগনোর গুড ….. আই এম ইমপ্রেস”
রশ্মি এবার মেসেজটা দেখে বিরক্তি হয়ে আরাত কে ফোনটা এগিয়ে দিয়ে,আরাতের ফোনটা কেড়ে নিয়ে বলে উঠলো — ফেক আইডি থেকে ডিস্টার্ব করছে, এটাকে টাইট দে।
বলেই রশ্মি আরাতের ফোন নিয়ে রিল দেখতে লাগলো। আরাত রশ্মির উপরে রেগে গেলো, রিল দেখার মধ্যে মিন সিনেই রশ্মি আরাতের হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিলে নিলো, রাগ তো উঠবেই। আরাত রশ্মির রাগ, মেসেজ দেওয়া ছেলেটার উপরে তুলতে লাগলো।
আরাত রাগ নিয়ে মুখ বেঁকে রিপ্লাই করলো,
“এহহহ আই এম ইমপ্রেস,এই বেডা তুই কেডা রে, ফেক আইডি থেকে ফাতরামি করোস হুম।সাহস থাকলে রিয়েল আইডি থেকে মেসেজ দিয়ে দেখা,তারপর তোর ফাতরামির খালাম্মা করে দিমু।
“হেই মিস! আই এম নট ফেক…..
আরাত এবার বিরক্তি নিয়ে বলল,
” তো কী করবো, সেই খুশিতে নাচবো এখন।
” বিলিভ মি, আই এম নট ফেক!
আরাত মেসেজ রিপ্লাই না করে আইডি মধ্যে দেখতে লাগলো, কিছুক্ষণ ঘাটাঘাটি করার পর আরাত রশ্মিকে ফোনটা দেখিয়ে বললো।
” এটা রিয়েল আইডি।
রশ্মি আরাতের ফোন রেখে দিয়ে হাসি মুখে আরাতের হাত থেকে নিজের ফোনটা কেড়ে নিয়ে বলে উঠলো,
“কীহহহ সত্যিই এটা রিয়েল আইডি ছিলো। দেখি দেখা একটু।
বলেই ফেসবুক আইডিতে একটার পর একটা পিক দেখতে থাকলো, আর আরাত রশ্মির মুখে উৎফুল্লতা দেখে বললো,
” এতো খুশি হয়ে লাভ নেই, বেডা বাঙালি না, এদের থেকে যত দূরে থাকা যাবে ততই নিজের শরীরের জন্য উপকার, আমি ঘুমালাম গুড নাইট।
বলেই আরাত ঘুরে দেশে পাড়ি জমাইলো, আর রশ্মি ছেলেটার আইডি তে একটার পর একটা পিক দেখতে লাগলো। পড়ের দিন আবার ছেলেটার মেসেজ এলো, এবার রশ্মি সুন্দর মতো মেসেজ রিপ্লাই করলো। এভাবে নিত্যদিন টুকিটাকি মেসেজ করতে করতে ফ্রেন্ডশিপ শুরু তারপর ভালোলাগা, ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা রুপ নিয়ে নিয়েছে রশ্মির।
আরাত রশ্মিকে বুঝাতো — কথা বলিস না মায়ায় পড়ে যাবি, ছেলেটা তোর জীবনের ভুল সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়াবে।
হ্যাঁ সত্যি রশ্মি কথা বলতে বলতে এই কয়েকমাসে পার্থ চৌধুরীর মায়ায় পড়ে গেয়িছে। রশ্মির চোখে পার্থ জন্য ভালোবাসা দেখে আরাত আর কিছু বলে না এখন।
বর্তমান……
রশ্মি জানালার দিক থেকে চোখ উঠিয়ে আরাতের দিকে তাকিয়ে মুখে মলিন হাসি দিয়ে বলে উঠলো।
” ইদানিং পার্থ আমাকে বারংবার কানাডা সেটেল হতে বলছে, আমার কী করা উচিত আরাত বল’লা একটু।
আরাত রশ্মিকে জড়িয়ে নিয়ে বলে উঠলো।
” মেয়েদের বন্ধুত্ব বাস্তবতা কাছে হেঁরে যায়। বাস্তবতা যে বড়ই স্বার্থপর। দেখ না মেয়েদের বন্ধুত্ব অন্তরে থেকে গেলেও শখের পুরুষের সামনে তুচ্ছ। আমি বলবো বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসার মানুষটা আগে।বন্ধুত্ব সময়ে সঙ্গে সঙ্গে মরীচিকা হয়ে ধরা দিবে। আর ভালোবাসার মানুষটা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পাশে থেকে যাবে।
“যদি বলিস, শখের মানুষের কাছে ধোকা মিলে, তাহলে বলবো। সে তোকে কখনো ভালোবাসে নাই।
দুজনের কথাকথন মধ্যে দিয়ে রশ্মির ফোন নতুন করে আবার বেজে উঠলো। আরাত মাথাটা ঘুড়িয়ে সেদিকেই তাকালো।রশ্মি মেঝে থেকে ফোনটা হাতে তুলে নিতেই ফোনের স্ক্রিনে ইংরেজিতে আব্বু নামটা দেখেই আরাতের দিকে তাকালো একবার। আরাত স্বাভাবিক ভাবেই চোখের ইশারায় ফোটটা রিসিভ করতে বললো। রশ্মি এবার ফোনটা রিসিভ করেই লাউডস্পিকারে দিয়ে ঠান্ডা গলায় বলে উঠলো।
“আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ, আব্বু ।
ফোনের ওপাড়ে থেকে সালামের উত্তর ভেসে আসলো
” ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ, আম্মু। “কেমন আছে আমার আম্মুটা ?
“জ্বি আব্বু,আলহামদুলিল্লাহ। তুমি কেমন আছো আব্বু ?
“আলহামদুলিল্লাহ, আম্মু। নিশ্চয়ই আমার আরাত আম্মুও তোমার পাশে।
আইরা রশ্মির থেকে ফোনটা কেড়ে নিয়ে হাসি মুখে বলে উঠলো,
” হ্যাঁ আঙ্কেল,আমি এখানেই, আর আমার লাইফ একদম ঝাক্কাস চলতাছে। এবার আপনি বলুন আপনার লাইফ কেমন যাচ্ছে।
ভদ্রলোক আরাতের কথায় হেসে দিয়ে বলে উঠলো।
আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ আম্মু, একদম তোমার লাইফের মতো বিন্দাস যাচ্ছে।
আরাত দুষ্টুমি হাসি দিয়ে বলে উঠলো।
“শুধু কী বিজনেস নিয়ে ভাবলে চলবে ? একটু আপনার সুন্দরী বউটাকেও নজরে নজরে রাখেন, ইদানিং দেখতাছি। শুধু ফোনে কার সঙ্গে যেন কথা বলে। আমার তো সন্দেহ হচ্ছে কাকীমনি কে।
আরাতের দুষ্টমাখা কথাটা শুনতেই ওপাশের ভদ্রলোক শব্দ করে হেসে উঠলেন। আর রশ্মি আরাত কে চোখ পাকিয়ে ফোনটা আরাতের থেকে কেড়ে নিয়ে ফাজিল বলে উঠলো।
ওপাড়ে ভদ্রলোক হাসতে হাসতে, আরাত কে বলে উঠলো — আমার পাগলী মেয়ে একটা।
রশ্মি ফোনটা কানে তুলে নিয়ে বলে উঠলো — আব্বু ওর কথা বাদ দেও তো, পুরো দিন শুধু বাজে বকে।
এভাবেই বাবা মেয়ের কথাকথন চলতেই থাকলো বেশ কিছুক্ষণ। আরাত হেঁসে ওখান থেকে ওঠে এসে বিছানায় বসে পড়লো, রশ্মির দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে উঠলো।
“মহান রব্বুল আলামীনের কাছে একটাই চাওয়া সারাজীবন এভাবেই সুখে থাক। তোকে খুব মিস করবো রে শাঁকচুন্নি।
ঘড়ির কাঁটা সকাল ৭:৪৩ ঘড়ে, আরাত ফজরের নামাজ আদায় করে একটা শান্তির ঘুম ঘুমাইছিলো,কিন্তু ঘুমটা হয়তো আহিনের পছন্দ হইলো না। আহিন আরাতের রুমে দরজায় সামনে দাঁড়িয়ে প্রায় দশবারো মিনিট ডাকার পর কিছুটা সফল হইলো হয়তো আরাত কে ওঠাতে।আহিনের ডাকাডাকিতে আরাতের ঘুমের রেশ কেটে যাওয়াতে। আরাতের মুখে কিছুটা বিরক্তি ফুতে উঠলো। সেই বিরক্তি মাখা মুখ নিয়েই বিছানা থেকে নেমে দরজার দিকে যাইতে যাইতে আহিনের উদ্দেশ্য।
” উফফ সাতসকালে আমার মাথা খাইতে হাজির।
কী হইছে কী, সকাল সকাল ব্রেকফাস্টের বদলে আমার মাথা খাইতে, আইছিস কেনো?
কথাটা বলতে বলতে আরাত রুমের দরজা খুলে দিয়ে। একটা হামি তুলে আহিরের দিকে বিরক্তিকর চোখে চেয়ে রইলো। আহির আরাতের কথা যুক্তি দেখিয়ে বলে উঠলো।
“আজব তো আমি তোমার মাথা কেন খাইতে আসবো। তোমার মাথায় ভন্ডামি ছাড়া খাওয়ার মতো রয়েছেটা কি।
“মানে? কী বলতে চাইছিস?
“বলছি তোমার ওই ভন্ড মাথা খাওয়ার জন্য,তোমার দরজার সামনে আমার মূল্যবান সময় বেয় করবো নাকি হহহহ!
” এ,এই আহিন! তুই কিন্তু বড়ো বোনের সঙ্গে বেয়াদবি করছিস। বেশি বাজে না বকে আসল কথায় আই এখন বল কী চাই?
কাকীমনি তোমাকে আধা ঘন্টা ডাকার পড়ে, হাতে ঝাড়ু নিয়ে তোমার রুমের দিকে আসতে ছিলো।আমি কাকীমনি কে এভাবে আসতে দেখে কাকীমনিকে বললাম আমি তোমাকে ঘুম থেকে ডেকে ওঠাচ্ছি।
তোমাকে সকাল সকাল ঝাড়ু পিটানির হাত থেকে রক্ষা করলাম। তার প্রতিদানে তুমি এত হ্যান্ডসাম ছেলেটাকে বেয়াদব বলে দিলে আপু।
আহিন মুখটা একটু দুখী দুখী করে কথাগুলো বলার মধ্যেই, আলভী আরাতের রুমের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলে উঠলো।
“মায়াবতী তোমাকে আমরা রাতেই হাড়ে হাড়ে চিনে ফেলেছি, তুমি আমাদের দু’জন কে ঘার ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছো, আমাদের দু’জন কে ওই শাঁকচুন্নি সামনে হালকা করে অপমান করছো।
আরাত আলভী দিকে তাকিয়ে একটা সয়তানি হাসি দিয়ে বলে উঠলো — ও আচ্ছা অপমান টা হালকা হয়ে গেছে তাইনা। আচ্ছা ঠিক আছে।নেক্সট টাইম তোদের অপমানের চুড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাবোনি। এবার এখান থেকে বিদায় হ, আমি ফ্রেশ হবো।
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৫
কথাটা বলেই আরাত রুমের ভিতরে চলে গেলো ফ্রেশ হতে। আর আহিন আরাতের কথায় মুখ বাকিয়ে নিচে দিকে চলে গেলো আলভী কে সঙ্গে নিয়ে।
আরাত ফ্রেশ হতে হতে বকবক করতে লাগলো — এই ১৭ বছর জীবনে নিজেকে নিজেই চিনতে পারলাম না আরেকজন নাকি আমাকে হাড়ে হাড়ে চিনে ফেলছে হুহহহহ ভন্ড কোথাকার ।
