তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪৯
জান্নাতি আক্তার জারা
__” হাজবেন্ডের থেকে পালিয়ে বাঁচবে কতক্ষণ বউ?
মিম জায়গায় দাঁড়িয়ে গেলো, মিম কে দাঁড়াতে দেখে আরশের মুখে বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো, রশ্মি মিম কে ফিসফিস করে বলতে লাগলো,
___” দাঁড়ালে কেনো চলো!
মিম রশ্মির দিকে তাকিয়ে বলল,
___” ওয়েট আপু।
কথাটা বলে পিছনে ফিরল মিম, আরশ কে বাঁকা হেঁসে তাকিয়ে থাকতে দেখে মিম মাথা হেলিয়ে আরশের পিছনে তাকালো, রুপা আর তাঁদের ক্লাসের কয়েকটার ছেলেমেয়ে আরশের কয়েকপা পিছনে দাড়িয়ে মিমের দিকে চেয়ে আছে, মিম কে পিছনে তাকাতে দেখে আরশ কপাল কুঁচকালো, মিম হাতের ইশারায় রুপা কে ডেকে উঠলো,
___” এই মেয়ে এদিকে শোনো!
মিমের ডাকে আরশের কপালে তীক্ষ্ণভাঁজ ফুটে উঠলো,মিম কে হুকুম করতে দেখে রুপা অবাক হয়ে হেঁসে বলল,
___” হোয়াট,তুমি আমাকে অর্ডার করছো লাইক সিরিয়াসলি?
মিমের চোখমুখ গম্ভীর হয়ে এলো, সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে অ্যাটিটিউড নিয়ে ভারী কন্ঠে পুনরায় বলল,
___” হোয়াট মট ছাড়ো এদিকে এসো, কী যেন নামটা ওওও হ্যাঁ রুপা আই এম রাইট?
আরশ চুপচাপ তীক্ষ্ণ চোখে মিমের কান্ড দেখছে, রুপা আরশের দিকে তাকিয়ে অভিযোগের কন্ঠে বলল,
___”দেখছিস আরশ, এই মেয়েটার সাহস দেখছিস, আমার নাম ধরে ডাকছে, তুই কিছু বলবি না?
আরশ কে বলার সুযোগ না দিয়ে মিম বাঁকা হেঁসে আরশের চোখে চোখ রেখে বলে উঠলো,
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
___” তোমার ফ্রেন্ড কী বলবে, বিয়ের পর সব ছেলে তাঁর বউয়ের নেউটা হয়ে যায়।
আরশের চোখমুখে রাগ ফুটে উঠলো নিমেষেই, দাঁতে দাঁত চেপে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে রাগী চোখে মিম কে দেখছে, আরশের রাগী চোখ মিম কে ভীতু বানাতে পারলো না, আগের ন্যায় চোখে চোখ রেখে বাঁকা হেঁসে চেয়ে আছে, রুপা মিমের কাছে এসে রাগী গলায় বলল,
___” এই মেয়ে এই তোমার সাহস তো কম না, একটার পর একটা বাজে বকে যাচ্ছ?
মিম আরশের থেকে চোখ ফিরিয়ে রুপার দিকে চেয়ে হাতে হাত ভাজ করে পুনরায় বলল,
___” সাহস তো হবেই বিকজ তোমাদের ফ্রেন্ডের একমাত্র বউ আমি।
হানিয়া মিমের কথায় বাঁকা হেঁসে ব্যঙ্গ করে বলে উঠলো,
___” বউ না সাই, তোমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিবে, তখন ডিভোর্সের দাগ নিয়ে ঘুরতে হবে সারাজীবন।
রুপার কথায় মিমের মুখ সিরিয়াস হয়ে এলো, মুখটা গম্ভীর করে আরশের দিকে চেয়ে ভারী কন্ঠে বলল,
___” কাপুরুষের সঙ্গে সংসার করার চেয়ে ডিভোর্সের দাগ নিয়ে বেঁচে থাকা ধের ভালো।
মিম কথাটা শেষ করতেই তৎক্ষণিক হাতের কব্জিতে টান অনুভব করলো, আরশ মিমের কব্জি ধরে এক টানে নিজের মুখোমুখি করে রাগী গলায় বলল,
___” তোর অনেক তেজ তাই না, দেখবো এই তেজ কতদিন থাকে, তোর তেজের কারণে তোকে বিয়ে করতে হয়েছে, নয়তো তোর মতো মেয়ের দিকে এই আরশ ফিরেও তাকায় না।
মিম না কষ্ট পেলো, না ভেঙ্গে পড়লো, আর না কান্না করলো,রুপার মুখে হাসি, রশ্মি নিস্তব্ধ চোখে দু’জন কে দেখছে, কী করবে ভেবে না পেয়ে আতঙ্ক মুখে জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো, মিম আরশের রাগের থেকে দ্বিগুণ রাগ নিয়ে চোখে চোখ রেখে আরশের মতো করে বলে উঠলো,
___” হ্যাঁ আমার তেজ খুব তীব্র, ঝড়ের গতিতে সব কিছু এলোমেলো করার ক্ষমতা রাখে।
মিমের কথায় আরশ মিমের কব্জি শক্ত করে চেপে ধরলো, এতে মিম ব্যাথা পেয়ে কেঁপে উঠে আহ বলে চোখ খিঁচে বন্ধ করলো, আরশ মিম কে ব্যাথায় চোখ বন্ধ করতে দেখে বাঁকা হেঁসে মিমের কানের কাছে মুখ এনে বলল,
___” আমি তোর প্রত্যেকটা ঝড়ের গতির সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবো!
মিম চোখ খুললো, আরশ কথাটা বলে মিমের মুখের দিকে তাকালো, মিম আরশের দিকে ঘেন্নারচোখে কিছুপলক চেয়ে থাকলো, মুখটা কতটা সাদাসিধে, অথচ তাঁর ব্যাবহার কতটা নোংরা, কতটা চিফ মিন্টালিটি নিয়ে বসবাস করে ছিহ,মিম হতাশা চোখে আরশের দিকে চেয়ে থেকে নরম কিন্তু কঠিন কন্ঠে বলে বলল,
___” ভাগ্য আমার বেলায় খুব নিষ্ঠুর ছিলো, আর আমি আপনার বেলায় খুব নিষ্ঠুর হয়ে দেখিয়ে দিবো ইনশাআল্লাহ।
মিম কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গে আরশ মিমের কব্জি ছেড়ে দিয়ে মিম কে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে বড়বড় পা ফেলে জায়গা ত্যাগ করে ,মিম নিজের হাতের দিকে দেখছে আরশের ধরে রাখা জায়গা টায় কালো দাগ পড়ে গেছে, আরশ কে যেতে দেখে রুপা আর তাঁদের সঙ্গে ছেলেমেয়ে গুলো মিমের দিকে তাকিয়ে কিছু না বলে আরশের পিছনে হাঁটতে লাগলো, রশ্মি মিমের কাদে হাত রেখে বলল,
___” ঠিক আছো?
মিম নিজের হাত থেকে চোখ তুলে একনজর রশ্মি কে দেখে নিয়ে পুনরায় আরশের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছোট করে বলল,
___” হুম।
রশ্মি মিমের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” চলো ক্লাস রুমে চলো,তোমাকে আমি বললাম না দাঁড়াতে, দেখে শুধু শুধু ঝামেলা হয়ে গেলো।
মিম কথা বলল না চুপচাপ নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে রশ্মির সঙ্গে হাঁটতে লাগলো, দুজন হাঁটার মধ্যে দিয়ে রশ্মি থমকে গেলো,মনের মধ্যে হাজারো ধুকপুক শব্দ নিয়ে ধীরে ধীরে মিমের পাশে হাঁটতে হাঁটতে সামনের মানুষটা কে দেখতে লাগলো, কতদিন পড়ে দেখছে সামনের মানুষ টাকে, আজকে থেকে তাও তো ছয় থেকে সাতদিন হবে,আরাত মাহির কে থাপ্পড় দেওয়ার পর যে মাহির কলেজ থেকে বের হয়ে গেলো, তারপর থেকে রশ্মি কলেজ এসে এদিক ওদিক মাহির কে অনেক খুঁজেছে, কিন্তু মাহিরের দেখা পায়নি, ওই দিন তো কলেজ ছুটির পর রশ্মি ওয়াশরুমের বাহানা দিয়ে মাহির কে খুঁজতে কেন্টিনে গিয়েছিল,মাহির কে আরশ দের সঙ্গে না দেখে ক্লাস রুমে খুঁজতে গিয়েছিলো, এরমধ্যে মিম আর আরশের মধ্যে কতকিছু ঘটে গিয়েছে,রশ্মি সবকিছু জানার পড়েও নিজের অজান্তে মাহির কে পুরো কলেজ খুঁজেছে, এতকিছু মাথায় ছিলো না শুধু একটা কথায় মাথায় ঘুরছিলো,মাহির ঠিক নেই, সবার সামনে একে একে দুইদিন রশ্মিরাত থাপ্পড় এবং অপমান করাতে মাহির ঠিক নেই, এতে পুরো ভার্সিটির সামনে অপমান হয়েছে,আত্মসম্মানে আঘাত লেগেছে হয়তো, রশ্মির মাথায় শুধু একটা কথায় ঘুরতো মাহিরের সঙ্গে কথা বলতে হবে, রশ্মি না পারছিলো মাহিরের কথা কাউকে জিজ্ঞাস করতে, না পারছিলো কারো সঙ্গে শেয়ার করতে, মনের মধ্যে সবসময় বাজে এক অনূভুতি হচ্ছিল, মাহির ঠিক নেই, রশ্মি বাড়িতে সবসময় নিজের সঙ্গে ফোনটা রেখে দিয়েছিলো,যদি একবার মাহির ফোন করে এই আশায়, কিন্তু না মাহির না ফোন করেছে না কলেজে এসেছে, তারপর তো সন্ধ্যার বিয়ের জন্য আর কেউ কলেজে আসে নাই, আজকে প্রায় পাঁচদিন পড়ে কলেজে পা ফেললো রশ্মিরাত, রশ্মি সামনে মাহির কে আসতে দেখে বুকের মধ্যে ভিন্ন রকমের অনুভূতির ছাড়াছাড়ি করছে, মাহির কে ঠিকঠাক দেখে মনে ভালোলাগা কাজ করছে, মাহিরের সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করছে, এবং বুকটা ধুকপুক করছে এই বুঝি মাহির রশ্মির পথ আটকে রশ্মির সঙ্গে কথা বলবে এই আশায়,কিন্তু না রশ্মি কে আশাহত করে মাহির রশ্মি কে পাশ কেটে চলে গেলো, রশ্মির দিকে তাকালো না পর্যন্ত,যেন রশ্মি কে সে চেনে না, এতে রশ্মির হাসি মুখটা নিমেষেই ফেকাসে হয়ে জায়গায় দাঁড়িয়ে গেলো,পর মুহূর্তে ঘার ঘুরিয়ে পিছনে তাকিয়ে মাহির কে দেখতে লাগলো, মিম রশ্মি কে দাঁড়াতে দেখে বলল,
___” আপু দাঁড়ালে কেনো চলো?
মিমের ডাকে রশ্মির ধ্যান ভাঙ্গে, নিজের মধ্যে ফিরে এসে মিম কে একপলক দেখলো,
___” হু!
মিম রশ্মি কে অন্যমনস্ক হতে দেখে পুনরায় বলল,
___” ক্লাসে চলো!
রশ্মি পুনরায় ঘার ঘুরে পিছনে ফিরে একপলক মাহিরের যাওয়ার পথে তাকিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে মিম কে উওর করলো ,
___” হুম চলো।
মিম রশ্মি নিজেদের ক্লাসে চলে গেলো, মাহির প্রায় ছয়দিন পড়ে কলেজে পা রাখলো, নিজের ভিতরে ছটফটানি গুলো দমাতে ব্যস্ত ছিলো, মাহির বুঝতে পারছে আগে মাহির কে ভার্সিটির ছেলেমেয়েরা যেমন চোখে দেখতো, এখন মাহির কে পুরো ভার্সিটি বাজে ছেলে হিসাবে দেখছে, মুখে কিছু না বললেও বুঝছে পারছে মাহির তাঁর একটা ভুলের কারণে আজকে তাঁকে সবাই বাজে ভাবে দেখছে, মাহিরের এতে খারাপ লাগছে না, কে খারাপ ভাবছে কে কেমন ভাবছে তাঁদের সমস্যা মাহিরের না, কিন্তু অপমান আর থাপ্পড় গুলো মনে পরলে রাগ লাগে নিজের উপর, নিজেকে কাপুরুষ লাগে একটা মেয়ের জীবন নিয়ে খেলার জন্য, আরাতের বলা কাপুরুষ, এই একটা কথা মাথার মধ্যে নিয়ে মনের মধ্যে তিক্ততা নিয়ে ওইদিনের পর নিজেকে একদম পুরোপুরি ঘর বন্দী করে দিয়েছিলো, ধীকে ধীকে নিজের ভুল গুলো বুঝতে সক্ষম হয়েছিল, নিজের সম্মান নিজের আত্মসম্মান নিজের জায়গাটা বুঝতে শিখে গিয়েছে, এখন শুধু নিজের ক্যারিয়ার ফোকাস করবে অন্য কোথায় না, এই যে মনের মধ্যে পাথর রেখে রশ্মি কে দেখেও না দেখার মতো পাশ কেটে চলে এলো, কষ্ট হয়েছে একবার চোখটা ছটফট করছে রশ্মি কে দেখতে, কিন্তু নিজের আত্মসম্মান আর নিজেকে দেওয়া ওয়াদা তাঁকে বাঁধা দিয়েছে, রশ্মির পাশ কেটে যাওয়ার সময় উপরে স্বাভাবিক দেখা গেলেও মনে মনে মাহির নিজকে বাঁধা দিয়েছে এই বলে,
___” মাহির তুই জাস্ট তোর ক্যারিয়ার ফোকাস কর।
ব্যাস রশ্মি কে পাশ কেটে চলে এলো, কিন্তু বিপত্তি বেজে গেলো, কয়েক পা হাঁটতে সামনে আরাতের দেখা মিললো, আরাত মাঠে পা রাখতেই মিম আর আরশ কে কাছাকাছি দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখতে পায়, আরাত দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিল মিম কী করে, মিম কে আরশের সঙ্গে কঠিন হয়ে কথা বলতে দেখে শান্তি পেলো, মনে মনে ঠিক করে নিলো মিম কে আরো কঠিন করে তুলবে, মিমের পাশে থাকবে, মিম আর রশ্মি ক্লাসের জন্য পা বাড়ানোর পরপর আরাত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে তাঁদের পিছনে হাঁটতে লাগলো, দূরত্বটা ছিলো অনেকপা, মাহির নিজের সামনে বোরকা পরিহিত মেয়ে কে দেখেই চিনতে পারলো আরাত কে , সঙ্গে সঙ্গে জায়গায় দাঁড়িয়ে পরলো, আরাতের মধ্যে কোনো দু-টানা নেই, আরাতের চোখ ছিলো সামনে রশ্মির উপর, রশ্মির চাহনি আরাত লক্ষ করছিলো, আরাত স্বাভাবিকভাবে মাহির কে পাশ কেটে চলে গেলো, আর মাহির আরাতের ইগনোর দাঁড়িয়ে দেখলো, নেই কিছু বলার শুধু মনের বিশ্রী অনুভূতি থেকে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে নিজের গন্তব্যে পা বাড়ালো,
রশ্মি ক্লাস করছে ঠিকই কিন্তু মন বসাতে পারছে না শুধু ছটফট করছে, মিমের ক্লাসে কোনো মনোযোগ নেই সে কলম খাতায় এটা ওটা আঁকাআকি করতে করতে নিজের জীবনের হিসাব মেলাতে ব্যস্ত, আরাত ক্লাসে করার ফাঁকে ফাঁকে বিরক্ত মুখে বারংবার দুজন কে পরক করছে, রাগ লাগছে দুজনের প্রতি, ক্লাসে যদি অমনোযোগী হওয়ার ছিলো, তাহলে কলেজে আসলো কেনো, আরাত দুজন কে পরক করে নিজেও এখন ঠিক মতো ক্লাসে মন বসাতে পারছে না, বারবার দুজনের দিকে চোখ যাচ্ছে, এতে আরাত ধের বিরক্ত হলো, কিন্তু দু’জন কে কিছুই বলল না, এভাবে সকাল গড়িয়া ছুটির ঘন্টা বেজে উঠলো, মিরা তাঁদের সঙ্গে আর কথা বলে না, না এক সঙ্গে বসে, রশ্মিরাতের থেকে একপ্রকার দূরত্ব বজায় রেখে চলে, এতে আরাতের কিছু আসে যায় না, কে কথা বলল কে কথা বলল না, শুধু এতটুকু জানে সে দিনদিনে কলেজ লাইফ নিয়ে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে, চারপাশে সবকিছু আর আগের মতো গুছানো পাচ্ছে না,সবাই বদলে যাচ্ছে দিনকে দিন, মিম রশ্মিরাত করিডর দিয়ে ক্লাস থেকে বের হচ্ছিল, তাঁদের বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরশ তাঁদের সামনে এসে দাঁড়ালো, এখন আর তাঁর সঙ্গে সংগোপংগোর দেখা মিললো না, তিনজনের সামনে দাঁড়িয়ে মিমের দিকে চেয়ে বলল,
___” আমি মিমের সঙ্গে আলেদা কথা বলল!
রশ্মিরাত নিজেদের মধ্যে মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে, মিম কে একা ছাড়বে নাকি ছাড়বে না ভাবছে, মিম হাতে হাত ভাজ করে তীক্ষ্ণ গলায় বলল,
___” আইম নট ইন্টারেস্টেড!
আরশ যেন রেগে গেলো, কিন্তু প্রকাশ করলো না, রশ্মিরাতের দিকে একপলক দেখে নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে মিম কে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
___” হানিফ ভাই কোনো কলেজে এসেছে?
হানিফের কথা শুনে মিম কিছুটা অবাক হলো, হানিফ কলেজে কেনো এসেছে মিম জানে না আর জানার কথাও না, কারণ হানিফের সঙ্গে মিমের নিজেদের বাড়িতে প্রথম দেখা হয়েছিল তারপর দ্বিতীয়বার আর দেখা বা কথা হয়নাই দুজনের, কিছুদিন আগে রুপোলী বেগম ফোন করে বলেছিলেন হানিফের সঙ্গে দেখা করতে, দুজন ফ্রি হতে, তারপরে তো এক নিমেষেই জীবনের নতুন মোর ঘুরে গেলো, মিম আরশের কথায় প্রথমে অবাক হলেও পর মৃহ অ্যাটিটিউড নিয়ে বলে উঠলো,
____” কেনো আবার আমার সঙ্গে দেখা করতে, অফ টা অল আমি উনার হবু….
___” জাস্ট সেটআপ
আরশের রাগী গলায় মিম দমে গেলো না, আরশ কে অগ্রহ করে রশ্মিরাতের দিকে তাকিয়ে বলল,
___”আপু তোমরা বাড়িতে যাও আমার বাড়ি ফিরতে লেট হবে!
রশ্মিরাত কপাল কুঁচকালো, আরাত মিম কে নাকচ করে গম্ভীর গলায় বলে উঠে,
___” লেট হবে মানে, কতটুকু লেট হবে আমরা তোকে নিয়েই বাড়ি ফিরবো!
মিম আরশের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” আমাকে হানিফ পৌঁছে দিবে!
মিমের মুখে হানিফ নামটা শোনামাত্র আরশ তেতে গেলো,
___” লিসেন হানিফ আমার বড় ভাই, তুমি নাম ধরে ডাকতে পারো না!
রশ্মিরাত আরশ আর মিম কে চুপচাপ দেখছে, মিম যেন আরশের কথা শুনতে পারেনি, তাঁদের পাশ কেটে ছেলেমেয়েরা যাচ্ছে আর তাঁদের দিকে দেখছে, কলজেটা যেন তাঁদের কারণে নাটকের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়ে ছে, এতে বাকি ছেলেমেয়ে বিরক্ত, মিম রশ্মিরাতের দিকে তাকিয়ে পুনরায় বলল,
___” আপু তোমরা যাও, টেনশন করো না আমি ঠিকঠাক বাড়িতে ফিরবো।
রশ্মি মিমের কথায় বলে উঠলো,
___” শিওর?
মিম মাথা ঝাঁকে হ্যাঁ বুঝালো, আরাতের মন টানলো না মিম কে একা ছাড়তে, তবুও ছাড়তে হচ্ছে, দুজন স্বামী স্ত্রী একা কথা বলতে চাইছে, সেখানে বাঁধা দেওয়া উচিত হবে না, রশ্মি কিছুটা সামনে এগিয়ে আরাত কে আসতে বলছে, আরাত রশ্মির সঙ্গে যেতে যেতে মিম কে উদ্দেশ্য করে বলল,
___” সাবধানে ফিরবি, আর বাড়ি ফিরার আগে আমাকে ফোন করবি, আমি তোর ফুপি কে ম্যানেজ করে নিবো।
রশ্মিরাত চলে গেলো, মিম দুজনের যাওয়ার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে আরশের দিকে রাখলো, আরশ কে রাগী চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে মিম স্বাভাবিক মুখে বলল,
___” হানিফ আপনার বড় ভাই হতে পারে,বাট আমার না ওকে, আর আপনি মেবি ভুলে গেছেন আপনার ভাইয়ের সঙ্গে আমার বিয়ের কথা চলছে….
আরশ এক টানে মিম কে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে কোমরে হাত রাখলো,আরশের হটাৎ আক্রমণে মিম হকচকিয়ে গেলো, আরশের মুখে বাঁকা হাসি, মিম আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো কেউ নেই,কলেজ ছুটির কারণে করিডর ফাঁকা হয়ে গেছে, মিম আশেপাশে তাকাতে তাকাতে নিজেকে আরশের কাছে থেকে ছাড়াতে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
___” ছাড়ুন বলছি!
আরশ মিম কে নিজের বুকে ছটফট করতে দেখে বাঁকা হাসি দিয়ে মিমের চোখে চোখ রেখে বলল,
___” যদি না ছাড়ি ?
___” আমি চিল্লাবো।
আরশ হেঁসে মিমের কপালে নিজের কপাল ঠেকিয়ে বলল,
___” তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে, তোমার ব্রেন বাড়িতে খুলে রেখে এসেছো, আমরা হাজবেন্ড ওয়াইফ আমাদের এভাবে দেখলে কেউ কিছু বলবে না, যা কলঙ্ক তা আগেই হয়ে গেছে।
মিম কিছু বলল না, আরশের কাঁপালে কপাল ঠেকিয়ে রাখতে ভালো লাগছে, চোখ দুটো বন্ধ করে নিলো মিম, কেমন যেন নিজের মধ্যে দুর্লতা লক্ষ করছে, সবকিছু ভুলে যেতে ইচ্ছা করছে, মিম যখন নিজের ভাবনায় মগ্ন ছিলো, আরশ মিমের কপালে কপাল ঠেকে ভয়েস স্লো করে বলে উঠলো,
___” ডিভোর্স পেপারের সাইন করার আগে তোমার কিছু চাওয়া থাকতে বলতে পারো?
মিমের বন্ধ চোখ নিমেষেই খুলে গেলো, ডিভোর্স নামটা কাঁটার মতো বিনতে লাগলো, আরশের প্রতি কিছুক্ষণ আগের দুর্বলতা ভেঙ্গে গিয়ে ঘিন্নায় রূপান্তরিত হলো, মিম নিজের সর্বশক্তি দিয়ে আরশ কে নিজের থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে উঁচু গলায় বলল,
___” আপনার জন্য শরম প্রয়োজন, পারলে বাজার থেকে নিজের জন্য শরম কিনেন বেটার হবে।
মিম হিসহিসিয়ে কথাটা বলে বড় বড় পা ফেলে সিড়ির কাছে এসে সিড়ি বেয়ে দৌড়ে নিচে নেমে গেলো, আরশ নিস্তব্ধ হয়ে মিমের যাওয়া দেখলো কিছুপলক, কয়েক সেকেন্ড নীরবতা পালন করার পর মনে পড়ে গেলো, মিম হানিফের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছে, কথাটা মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরশ দৌড় লাগলো, মাঠ দিয়ে দৌড়ে এসে গেটের কাছে দাঁড়াতেই দেখলো মিম আর হানিফ একটা রিকশা করে চলে যাচ্ছে, আরশ দ্রুত পুনরায় কলেজে ঢুকে দৌড়ে পার্কিং এরিয়ায় এসে বাইক বের করলো, আরশ বাইক বের করতেই তাসিন এসে সামনে দাঁড়ালো, আরশ কপাল কুঁচকে তাসিনের দিকে তাকালো,
___” সামনে থেকে সর, নয়তো বাইক তোর শরীরে চাপা দিয়ে দিবো!
তানিস রাগী গলায় বলল,
___” তোর সঙ্গে নিয়ে চল, আমিও যাবো!
আরশের মেজাজ বিগরে গেলো, রাগে তাসিনের দিকে আঙ্গুল তুলে বলতে লাগলো,
___” এতকিছু শুধু মাএ তোর জন্য হয়েছে, নিজের স্বার্থের জন্য আমাকে ফাঁসিয়েছিস, আমি তোর মনের আশা কখনো পূরণ হতে দিবো না, তোর স্বপ্ন স্বপ্নে রয়ে যাবে।
তাসিন আরশের কথা পাওা না দিয়ে বাইকের পিছনে বসতে বসতে বলল,
___” পড়ে দেখা যাবে, এখন চল তোর ভাই আর তোর বউ কী করছে এটা দেখি আগে।
তাসিন আরশের ঘারে হাত রেখে ছেলেদের মতো বাইকে বসে পরলো, আরশ রাগ নিয়ে বাইক টান দিয়ে বলল,
___” হাফ লেডিস একটা।
তাসিন আরশের কথায় রাগ করলো না, আরশ মাঝেমধ্যেই তাসিন কে এই নামে সম্মোধন করে, করবে নাই কেনো মেয়ে হয়ে ছেলেদের মতো চলাফেরা, ছেলেদের মতো শার্ট প্যান্ট পড়ে থাকে সবসময়, যদিও লেডিস শার্ট, মাথার উপর নিত্যদিন একটা ঝুঁটি বেঁধে রাখে, রাফি, আরশ আর তাসিন কে বাইক নিয়ে যেতে দেখে কিছু বলল না, আগের বন্ধুত্বটা কেমন যেন হারিয়ে যাচ্ছে তাঁদের দিন কে দিন, রাফি একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে নিজের বাইক বের করে মাঠে এলো, মাঠে আসতেই দেখতে পেলো মিরা মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, রাফি আর আজকে বাইক ব্রেক করলো না সোজা গেটের দিকে যেতে লাগলো, রাফি কে বাইক নিয়ে সোজা যেতে দেখে মিরা কিছুটা দৌড়ে চিল্লিয়ে উঠলো,
___” রাফি ভাইয়া….?
রাফি না চাইতেও বাইক দাঁড় করালো, মিরা দৌড়ে রাফির সামনে এসে হাঁপাতে লাগলো, রাফি বিরক্ত মুখে মিরার দিকে তাকালো, মিরা হাপাতে হাপাতে বলে উঠে,
___” আমাকে না নিয়ে চলে যাচ্ছেন কেনো?
মিরার কথায় মধ্যে কেমন যেন রাফি অধিকার অনুভব করলো, রাফির মনে হলো মিরা রাফির উপর অধিকার খাটাচ্ছে, রাফি কপাল কুঁচকে বলল,
___” আমাকে কী তোমার ড্রাইভার মনে হয়?
মিরা মাথা ঝাকিয়ে বলল,
___” না।
রাফি নিজের গম্ভীর্য বজায় রেখে পুনরায় বলল,
___” চাকরি নিয়েছি তোমাকে লিফট দেওয়ার?
মিরার ক্লান্ত মুখে হাসি ফুটে উঠলো, কিছুটা লজ্জাও পেলো, মাথা নিচু করে সাহস নিয়ে রাফির কথার জবাবে বলে উঠলো,
___” না বাট চাকরি টা আপনার সঙ্গে যায়, আপনি আমার পার্সোনাল ড্রাইভার হলে মন্দ হয় না!
রাফি যেন মিরার কথায় সাত আসমান থেকে টুপ করে পরলো,মিরা মাথা নিচু করে আছে কথাটা বলে, রাফি গম্ভীর মুখে কিছুক্ষণ মিরার দিকে চেয়ে রইলো, মিরা রাফি কে কিছু বলতে না দেখে চোখ তুলে রাফির দিকে তাকাতেই রাফি কে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে পুনরায় চোখ নামিয়ে নিলো, রাফি মিরার কান্ড নীরব চোখে পরক করে মিরার আড়ালে মুচকি হাঁসে, পুনরায় গলা পরিস্কার করতে গলা খাঁকারি দিয়ে বলে উঠলো,
___” বাইকে উঠো !
রাফির বলতে দেরি, কিন্তু মিরার বাইকে উঠতে দেরি হলো না, রাফি নিজের মাথার হেলমেট খুলে মিরার দিকে বাড়িতে দিয়ে বলল,
___” পড়ে নেও!
মিরা নাকচ করে বলে উঠে,
___” আমার লাগবে না, আপনার প্রয়োজন, আপনি পড়ে নেন প্লিজ!
মিরার কথায় রাফি কিছু বলল না, গম্ভীর মুখে পিছনে ঘুরে মিরার মাথায় হেলমেট পড়িয়ে দিতে লাগলো, মিরা অবাক হয়ে রাফির মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, দু’জন অনেকটা কাছাকাছি, মিরা খুব কাছে থেকে রাফির চোখমুখে চোখ বুলালো, রাফি মিরার চাহনি দেখে হেলমেট পড়িয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে সোজা হয়ে বসলো, মিরার মুখে লজ্জামিশ্রিত হাসি, ঠিক তখনই মাহির কে দেখা গেলো বাইক নিয়ে আসতে, রাফি বেশ অবাক হয়ে মাহির কে দেখলো, মাহির এখনো যায় নি কিন্তু মিরা মাহিরের সঙ্গে না গিয়ে রাফির জন্য অপেক্ষা করছিলো, রাফি মাহিরের সঙ্গে কথা বলে না এক জায়গায় বসেও না, এক প্রকার অভিমান করে মাহিরের থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করছে রাফি, মাহির নিজের বোন আর বন্ধু কে একসঙ্গে দেখে স্বভাবিক ভাবে বাইক নিয়ে চলে গেলো, রাফি তীক্ষ্ণ কন্ঠে মিরা কে বলে উঠলো,
___” তুমি মাহিরের সঙ্গে গেলে না কেনো ?
মিরা হাসফাস করতে লাগলো, মনে মনে মাহির কে কয়েটা বকাও দিলো ভুল সময়ে আসার জন্য, মুখে মেকি হাসি টেনে রাফি কে কৈফিয়ৎ দিতে বলে উঠলো,
___” ভাইয়ার নাকি ইম্পরট্যান্ট কাজ পড়ে গেছে , এজন্য আপনার সঙ্গে বাসায় ফিরতে বলল,আপনার প্রবলেম থাকলে থাক লাগবে না, আমি নেমে যাচ্ছি।
মিরা যে মিথ্যা বলছে রাফি ভালো করেই যানে, মিরা বাইক থেকে নামনে নিলে রাফি বাঁধা দিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
___” নামতে হবে না, ঠিক হয়ে বসো!
মিরা মুচকি হাসি দিয়ে ঠিকঠাক হয়ে বসলো, পরমুহুর্তে ইতস্তত করতে করতে সাহস জুটিয়ে রাফির কাঁদে এক হাত রাখলো, মিরা কাঁদে হাত রাখার সঙ্গে সঙ্গে রাফি নিজের কাঁদের দিকে তাকালো, নিজের কাঁদের উপর মিরার হাত দেখে বাইকের সাইড মিররে মিরাকে দেখতে লাগলো, মিরা রাফি কে সাইড মিররে নিজের দিকে তাকাতে দেখে চোখ অন্য দিকে ঘুরালো, রাফি কিছু বলল না, হাতাশার নিঃশ্বাস ফেলে চুপচাপ বাইক মিরার বাড়ির উদ্দেশ্য টান দিলো,
হানিয়া নিজের ভার্সিটি থেকে বের হয়ে আশেপাশে তাকালো, কারণ মন বলছে অন্য দিনের মতো আজকেও আদিল এসেছে, কোথাও ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে হয়তো, হানিয়া আশেপাশে আদিল কে খুঁজতেই ভার্সিটির সামনে দোকানে চোখ পরল, আদিল দোকানের বিরেঞ্চ বসে চা খাচ্ছে, হয়তো হানিয়ার বেরোনোর অপেক্ষা করছিল, হানিয়া আদিল কে দেখে না দেখার ভান ধরে রিকশা খুঁজতে লাগলো, আদিল গরম চায়ের কাপে ফু দিতে দিতে ভার্সিটির দিকে তাকালো, হানিয়া কে এদিক ওদিক তাকাতে দেখে বুঝলো, হানিয়া রিকশা খুজতাছে, আদিল বসা থেকে দ্রুত দাঁড়াতে দাঁড়াতে চা শেষ করতে এক ঢোকে খেতে নিলো, আর সঙ্গে সঙ্গে জিব্বা পুড়ে গেলো,আদিল চায়ের কাপ মাটিতে ফেলে দিয়ে মুখে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে লাগলো, হানিয়া দূর থেকে আঁড়চোখে আদিলের কান্ড দেখলো, আদিলের কান্ডে দোকানদার বিরক্ত হয়ে বললেন,
___” মামা আপনি কী ছোট বাচ্চা, গরম চা আপনি জুসের মতো খাচ্ছিলেন কেন?
আদিল উওর করলো না, জোরে জোরে শ্বাস ফেলতে ফেলতে পকেট থেকে ওয়ালেট বের করে চায়ের বিল পরিশোধ করে রাস্তা পার হয়ে দ্রুত পায়ে হানিয়ার দিকে আসতে নিলো, হানিয়া আদিলের সামনে পরতে চাইলো না, তারপরও কপাল খারাপ থাকার পরতে হলো, আদিল দ্রুত পায়ে হানিয়ার কাছে এসে মুচকি হাসি দিয়ে বলল,
___” পালাতে চাচ্ছেন ?
হানিয়া আদিলের কথায় এদিক ওদিক তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলে উঠলো,
___” পালাতে যাবো কেনো, জদলি বাসায় ফিরতে হবে, মা-বাবার সঙ্গে ভাবী কে আনতে যাবো।
হানিয়া সত্যিই আদিলের থেকে পালাচ্ছিল, এখনো সে দোটানায় অবস্থান করছে,আদিলের প্রস্তাবে কী উত্তর করবে তাঁর ভয়ে পালাতে চাইলো কিন্তু পারলো না, হানিয়া আঁড়চোখে আদিলের দিকে চেয়ে আছে, আদিল হানিয়ার কথাতে হাতের ঘড়িতে সময় দেখলো সময় দেখে নিয়ে হানিয়ার দিকে চেয়ে নীরব কন্ঠে বলে উঠলো,
___”কিন্তু আপনাদের তো রাতে যাওয়ার কথা ছিলো?
আদিলের কথায় হানিয়া ধরে পড়ে যাওয়া চোখে চেয়ে বলল,
___”হ্যাঁ এ-ই আরকি, রেডি হতে লেট হবে এইজন্য, বাট আমরা রাতে যাবে আপনি জানেন কীভাবে?
আদিল কোনো ভনিতা না করে বলে উঠলো,
___” হাবীব ভাইয়া বলছে।
আদিলের কথায় হানিয়া অবাক হয়ে জানতে চাইলো,
___”ভাইয়ার সঙ্গে আপনার কথা হয়?
আদিল স্বভাবিক ভাবে বলল,
___” হবে না কেনো, হাবীব ভাইয়ার সঙ্গে কথা বলে এখানে এসেছি।
হানিয়া যেন একটার পর একটা অবাক হচ্ছে, অবাক হয়ে পুনরায় বলে উঠলো,
___” ভাইয়া জানে আপনি এখানে আসবেন?
___” হ্যাঁ।
হানিয়ার এখন কেনো যেন মনে হচ্ছে হাবীব আদিলের সবকিছু জানে, হানিয়া সন্দেহ কন্ঠে ছোট করে বলল,
___” ওহ।
কথাটা বলে পুনরায় এদিক ওদিক তাকিয়ে রিকশা খুঁজতে লাগলো, আজকে যেন রিকশার দেখা মেলা দায় হয়ে দাঁড়িয়ে, আদিল হানিয়ার মনোভাব বুঝতে পেয়ে ঠান্ডা কন্ঠে বলল,
___” চলো হাঁটা যাক?
হানিয়া রাস্তা থেকে চোখ ফিরিয়ে আদিলের দিকে তাকালো, আদিল রাস্তার পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে হাতের ইশারায় রাস্তায় দিকে দেখিয়ে হাঁটতে ইশারা করল,হানিয়া চুপচাপ সামনের দিকে চেয়ে হাঁটতে লাগলো, আদিল হানিয়া পড়ন্ত বিকালে রাস্তায় পাশ ঘেঁষে নীরবতা কে সঙ্গী করে হাঁটছে, দুজনের মুখে নেই কোনো কথা, এভাবে কয়েকপা হাঁটার পড়ে হানিয়া মনে খসখসানি নিয়ে বলে উঠলো,
___”হাবীব ভাইয়া আর কী কী জানে ?
আদিল নীরব কন্ঠে উত্তর করলো,
___”শুরু থেকে চলমান।
হানিয়ার সন্দেহ ঠিক, হাবীব সবকিছু জানে, হানিয়া স্বাভাবিক গলায় পুনরায় জানতে চাইলো,
___” কবে থেকে জানে হাবীব ভাইয়া ?
___” আপনি জানার কয়েক মুহূর্ত আগে।
হানিয়া আর প্রশ্ন করলো না পাশাপাশি হাঁটতে লাগলো, কয়েক মিনিট পড়ে নীরবতা ভেঙ্গে আদিল মলিন মুখে বলে উঠলো,
___” কিছু বলবেন না ?
হানিয়া থমকে গেলো, এই ভয়টায় পাচ্ছিল, আদিল তাঁর কাঙ্ক্ষিত উত্তর জানতে চাইছে, যেটার উত্তর হানিয়ার কাছে দোটানা, হানিয়া সময় নিলো, আদিল হানিয়ার উওরের অপেক্ষা করছে, মনের মধ্যে ছটফট করছে উত্তর জানার জন্য, হানিয়া কিছুটা সময় নিয়ে ধীর কন্ঠে বলে উঠলো,
___”আমার ভালো লাগছে আপনার সঙ্গে হাঁটতে, বাট আমি দ্বিতীয়বার ভালোবাসতে পারবো না।
আদিল কিছুটা হাতাশা হলো, জানা ছিলো এমন কিছুই শুনতে হবে,পরমুহুর্তে কিছুটা বিচলিত মুখে বলে উঠলো,
___” আমি বলেছি আপনাকে ভালোবাসতে?
হানিয়া জায়গায় থেমে গেল, সঙ্গে অবাকও হলো, আদিলের প্রশ্নে অবাক হয়ে মাথা নাড়িয়ে না বুঝালো, যার অর্থ না আপনি বলেন নি ভালোবাসতে, আদিল হানিয়া কে মাথা নাড়াতে দেখে পুনরায় বলল,
___” হ্যাঁ বলে নাই, আমি বলছি বিয়ে করে নিতে।
হানিয়া অবাক হয়ে চোখ বড়বড় করে আদিল কে দেখছে, ডিরেক্ট বিয়ের প্রপোজাল, হানিয়া কে চোখ বড়বড় করে তাকাতে দেখে আদিল আগের ন্যায় বলল,
___” আপনি ঘাবড়ে যাবেন না, কোনো জোর নেই সব আপনার ইচ্ছায় হবে, আমার আপনার কাছে কিছুই চাওয়ার নেই, শুধু আপনার সাথে সংসার করতে চাই এতটুকুই ব্যাস।
হানিয়া মলিন মুখে জানতে চাইলো,
___”কেনো আমাকে এতটা ভালোবাসেন?
আদিল হানিয়ার দুই কাদে হাত রাখল, হানিয়া নিজের কাদের দিকে তাকিয়ে পুনরায় আদিলের দিকে তাকালো, আদিল হানিয়ার চোখে চোখ রেখে ঠান্ডা স্বরে মুচকি হেঁসে বলে উঠলো,
___” আপনার চোখের দিকে তাকালে সত্যিকারের ভালোবাসা দেখতে পাওয়া যায়, হোক অন্যকারো জন্য, বাট আপনার সঙ্গী যে হবে, তাকে আপনি আপনার পাস্টের থেকেও বেশি ভালোবাসবেন এই লোভে।
হানিয়া আদিলের চোখ চোখ রাখলো, বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করছে, একই পথ পারী দিতে ইচ্ছা করছে, সংসার করার ইচ্ছা হচ্ছে, হানিয়া আদিলের দিকে চেয়ে প্রশ্ন করলো,
___” সত্যি আপনি আমাকে বিয়ে করতে চান, আমার পাগলামো সহ্য করতে পারবেন তো?
___”আমি আপনাকে আমার মতো করে সামলে নিবো।
হানিয়া বিশ্বাস পেলো যেন, তবুও মুখে কিছু বলল না, আদিল হানিয়ার থেকে কোনো উওর না পেয়ে মলিন মুখে হানিয়ার কাঁধ ছেড়ে দিলো,গলা খাঁকারি দিয়ে সামনে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
___” চলুন আপনার লেট হয়ে যাচ্ছে!
আদিল কে মন খারাপ করে যেতে দেখে হানিয়া বলে উঠলো,
___” আমার নাম্বার আপনার কাছে আছে ?
আদিল সামনে রাস্তায় চোখ রেখে বলল,
___” না।
হানিয়া হাতাশা মুখে আদিলের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
___” দেখি আপনার ফোনটা দেন?
আদিল অবাক হলো, অবাক মুখে নিজের ফোনটা হানিয়ার হাতে দিলো, হানিয়া আদিলের ফোনে নিজের নাম্বারটা সেভ করে দিয়ে আদিলের হাতে পুনরায় ফোনটা ফেরত দিয়ে সামনে হাঁটতে হাঁটতে উঁচু গলায় বলল,
___” নাম্বারটা মাথায় গেঁথে রাখুন, আর হ্যাঁ নিয়ম মতো আমাকে ফোন দিবেন, মনে থাকে যেন।
কথাটা বলে হানিয়া নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্য হাঁটা ধরলো, আদিল অবাকের রেশ কাটিয়ে ফোনে হানিয়ার সেভ করা নাম্বারটা দেখতে লাগলো, নামের জায়গায় বউ নামটা দেখে আদিলের মুখে চওড়া হাসি ফুটে উঠলো, হানিয়া নিজের নামের জায়গায় বউ নাম দিয়ে নাম্বার সেভ করেছে, চিকনচাকন লম্বা গটনের আদিল খুশিতে উপরের দিকে লাফিয়ে উঠে দৌড়ে হানিয়ার পিছু নিলো, আদিলের কান্ডে হানিয়া হেঁসে উঠলো,
মিম আর হানিফ একটা রেস্টুরেন্টে বসেছে, তাঁদের সামনে একটা জুসের গ্লাস আরেকটা কফির মগ, হানিফ মাঝেমধ্যে কফিতে চুমুক বসাচ্ছে আর মিমের কথা শুনছে, মিমের জুসের গ্লাস কিছুটা খালি , আরশ আর তাসিন রেস্টুরেন্টে ডুকতেই দেখলো, হানিফ আর মিম নিজেদের মধ্যে কথা বলছে, আরশ কিছুটা শান্ত হয়ে দাঁড়ালো, তাসিন কোমরে হাত রেখে হাঁপাচ্ছে, আরশ তাসিন কে নিয়ে কলেজ থেকে বের হতে হতে হানিফ আর মিম তাঁদের চোখের আড়াল হয়ে গেয়েছিল, আরশ কলেজের আশেপাশে তিনটা রেস্টুরেন্ট আর পাশাপাশি দুটো পার্ক খুঁজেছে কিন্তু দুজনের দেখা পায়নি, তাঁদের খুঁজতে খুঁজতে প্রায় আধাঘন্টা সময় পার করে এই রেস্টুরেন্টে এসে দাঁড়ালো, আরশ মনে মনে স্থির করে নিয়েছিলো এই রেস্টুরেন্টে দু’জন কে না পেলে বাড়িতে ফিরে যাবে, কিন্তু রেস্টুরেন্টে ঢুকার মাএ সামনে টেবিলে দু’জন কে বসে গল্প করতে দেখতে পেলো, আরশ কোনোদিকে না তাকিয়ে মিম দের টেবিলের এসে সোজা মিমের পাশে চোয়ার টেনে বসে পরলো, ক্লান্তিতে টেবিলের উপর মিমের খাওয়া এঁটো জুস ধকধক করে খেয়ে নিলো, মিম আর হানিফ অবাক হয়ে আরশ কে দেখছে, এতক্ষণে তাসিন এসে তাঁদের টেবিলের পাশের টেবিলে কোমর হেলিয়ে দাঁড়ালো, হানিফ অবাক হয়ে আরশ কে বলল,
___” তোরা এখানে ?
হানিফের কথায় তাসিন উত্তর করল,
___” দেখতে আসলাম, তোমরা ঠিকঠাক কথা বলছো কি-না ?
হানিফ তাসিনের কথায় একপলক মিমের দিকে তাকালো, আরশ জুস খেয়ে মিমের ওড়নার এক সাইট টেনে নিয়ে মুখ মুছতে লাগলো, আশের হটাৎ কান্ডে মিম রাগী মুখে আরশের থেকে ওড়না ছাড়াতে লাগলো, সবার সামনে আরশ কে মিমের ওড়না টেনে মুখ মুছতে দেখে হানিফ রাগী গলায় বলল,
___” আরশ কী করছিস এটা, আমার সামনে তুই একটা মেয়েকে অসম্মান করছিস?
আরশ হানিফের কথা অগ্রহ করে বলে উঠলো,
___” তুমি তো এই মেয়ের সঙ্গে দেখা করবে না বলে আমাকে এদিক টা ম্যানেজ করতে বলছিলে, আজকে আমাকে না জানিয়ে ডিরেক্ট দেখা করতে চলে এলে?
মিম হানিফের দিকে তাকালো, আরশ মুখের উপর এভাবে বলার কারণে হানিফ কিছুটা লজ্জা পেলো, মিম হানিফ কে কী ভাবছে এটা ভেবে, মিম হানিফের থেকে চোখ ফিরিয়ে মাথা নিচু করে মলিন হাসলো, হানিফ আরশের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” এই বিষয়ে আমরা বাড়িতে ফিরে কথা বলবো।
আরশ হেঁসে উঠে বলল,
___” তুমি এই মেয়ে কে দেখে লজ্জা পাচ্ছো, লাইক সিরিয়াসলি ভাইয়া?
হানিফ আঁড়চোখে মিমের দিকে তাকালো, মিম পাশের চেয়ার থেকে কলেজ ব্যাগ নিয়ে উঠে দাঁড়ায়, মুখে মেকি হাসি টেনে হানিফের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো
___” আজকে তাহলে উঠলাম, আল্লাহ হাফেজ।
মিম কে উঠতে দেখে হানিফ চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে গেলো,
___” এখন উঠবেন!
হানিফ কে প্রশ্ন করতে দেখে আরশ ঠোঁট উল্টে হানিফ আর মিম কে দেখতে লাগলো, মিম হানিফের কথায় হাসি মুখে বলল,
___” হ্যাঁ উঠতে হবে, অনেকটা লেট হয়ে গেছে।
মিমের কথায় আরশ চেয়ারের সঙ্গে শরীর হেলিয়ে দিয়ে বলল,
___” কথা শেষ হয়েছে নাকি আমরা এসে ডিস্টার্ব করলাম?
মিম রাগী চোখে আরশ কে দেখে হানিফের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” কী বলুন তো, চারপাশে এতটা চিফ মিন্টালিটি মানুষের আনাগোনা, আমার আবার চিফ মিন্টালিটি মানুষজন কে দেখলে শরীর চুলকায়।
আরশ আগের ন্যার চেয়ারের সঙ্গে হেলিয়ে থেকেই বলল,
___” চুলকানির মলন লাগাতে পারেন মিস, ওহহ সরি মিসেসসস!
মিম কিছু বলল না হানিফের সামনে আরশের কথায় নিজেকে অপমান বোর করে দাঁতে দাঁত চেপে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে আসতে নিলো, হানিফ আরশের দিকে বিরক্ত চোখে চেয়ে পুনরায় মিমের পিছু নিয়ে বলল,
___” চলেন আপনাকে বাসা অবধি পৌঁছে দেই!
মিম কিছু বলতে নিবে আরশ চেয়ার থেকে উঠে এসে মিমের হাতের কব্জি টেনে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হতে হতে হানিফের উদ্দেশ্য বলল,
___” নিজের জিনিস নিজে সামলে নেও, বড়ো ভাই বড়ো ভাইয়ের মতো থাকবে।
কথাটা বলে আরশ মিম কে টেনে নিয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে এলো, রেস্টুরেন্ট থেকে বের হতেই মিম দাঁতে দাঁত চেপে আরশের হাত ঝাটকা দিয়ে দূরে সরালো,আরশ তীক্ষ্ণ চোখে মিমের দিকে চেয়ে আছে, মিম আরশ কে রেখে চলে যেতে নিলে আরশ মিম কে টেনে নিজের বাইকের সঙ্গে চেপে ধরে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
___” তোর প্রবলেম কী, এভাবে তেজ দেখাচ্ছিস কেনো,তোর তেজ আমি খাই মনে করছিস?
মিম আরশের মতো করে বলে উঠলো,
___” আমি চাইলেই তোকে পাবলিক দিয়ে মা-র খাওয়াতে পারবো জানিস তো?
আরশ হুট করেই মিম কে ছেড়ে দিলো, কারণ আশেপাশে অনেক মানুষ, মিম যদি একবার চিল্লিয়ে মানুষজন কে ডাকে নিমেষেই আরশ কে গণধোলাই দিবে পাবলিক, মিম সোজা হয়ে ঘেন্নাভরা দৃষ্টিতে আরশ কে দেখছে, আরশ মিমের চাহনি অগ্রহর করে বাইকে বসে বলে উঠলো,
___” বাইকে উঠো!
মিম অবিশ্বাস্য চোখে তাকালো,নিমেষেই ব্যাবহার চেঞ্জ, কিছুক্ষণ আগে তুইতোকারি করে সম্বোধন করা ছেলেটা এখন তুমি বলে সম্বোধন করছে, মিম কিছু না বলে পুনরায় আরশ কে পাশ কেটে যেতে নিলো, আরশ মিমের হাত টেনে ধরে বলল,
___” লাস্ট বার বলছি বাইকে উঠো নয়তো….
মিম আরশের কথা কেড়ে নিয়ে বলল,
___” নয়তো কী করবেন হ্যাঁ, আর কী বাকি রেখেছেন?
আরশ বাঁকা হেঁসে বলে উঠলো,
___” সবার সামনে কিস করবো, তাও লিপ কিস, কী করবো?
মিম হতভম্ব হয়ে গেলো, এর প্রতি ঘেন্না ছাড়া কিছুই আসছে না, মিম আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো চারপাশে অনেক ব্যস্ত পথচারী, আরশের প্রতি ঘেন্না ছাড়া বিশ্বাস এলো না, মিম চুপচাপ আরশের বাইকের পিছনে দূরত্ব বজায় রেখে বসে পরলো, আরশ নিজেদের মধ্যে দূরত্ব ঘোচাতে চলন্ত বাইক হালকা ব্রেক কষলো, আর সঙ্গে সঙ্গে মিম আরশের পিঠের সঙ্গে হুড়মুড়িয়ে ধাক্কা খেলো, মিম মনে মনে আরশ কে বকা দিতে দিতে আরশের কাঁদে হাত রেখে ঠিক হয়ে বসে, আরশের মুখে বাঁকা হাসি,
তাকবীর বেলকনির সোফাতে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে আর বারবার রুমের দিকে তাকাচ্ছে, আরাত এখনো নিচে থেকে রুমে আসেনি, রাতের ডিনার শেষ করে তাকবীর রুমে এসে বেলকনিতে বসে অফিসের কাজ করছে, আরাত নিচে আইরা আহির দের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছে, তাকবীর কাজ করছে শুধু বাহানা তাকবীর তো আরাতের রুমে আসার অপেক্ষা করছে, তাকবীর অপেক্ষা করতে করতে এক পর্যায়ে সোফায় মাথা এলিয়ে দিলো, মুখে বিরক্তি তে চ জাতির শব্দ বের করে কপালে হাত ঘুষতে ঘুষতে বিরবির করলো,
___” এই মেয়ের বোধবুদ্ধি কবে হবে মাবুদ!
তাকবীর সোফাতে মাথা এলিয়ে দিয়ে অন্ধকার আকাশের দিকে চেয়ে আছে, বউয়ের বিহনে হাসফাস করছে সে, আরাত তাকবীরের অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেছে, বাড়িতে ফিরেই বউয়ের সঙ্গ চাই তাঁর, অফিসে বারবার মনে পড়ে বউটা কলেজে বাড়িতে কী করছে কে জানে, তাকবীর যখন মাথায় হাত রেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজের ভাবনায় মগ্ন, ঠিক সে সময় মুখের সামনে হটাৎই হুট করে কফির মগ দেখতে পেয়ে চমকে উঠলো তাকবীর, তাকবীর কে চমকাতে পেয়ে আরাত শব্দ করে হাসতে লাগলো, তাকবীর আরাত কে হাসতে দেখে গম্ভীর মুখে সোফাতে ঠিকঠাক হয়ে বসে আরাতের পায়ের দিকে তাকালো, না নেই আরাতের পায়ে নুপুর নেই, তাকবীর আরাতের পায়ে নুপুরের আওয়াজে আরাতের উপস্থিতি বুঝতে পায়, কিন্তু আজকে আরাতের পায়ে নুপুর নেই, তাকবীর আরো গম্ভীর হয়ে আরাত কে দেখতে লাগলো, আরাত হাসতে হাসতে কফির মগ পুনরায় তাকবীরের সামনে ধরে বলল,
___” আপনার কফি।
তাকবীর হাত বাড়িয়ে কফির মগ না নিয়ে আরাতের হাত ধরে এক ঝটকায় আরাত কে নিজের কোলে বসালো, হটাৎ হাতে টান পড়ায় আরাত হকচকিয়ে গেলো, কিছুটা কফি মেঝেতে পড়ে গেছে, তাকবীর আরাত কে নিজের কোলে বসিয়ে দিয়ে আরাতের খোলা চুলে মুখ ডুবালো,দুহাত আরাতের কোমরে, আরাত হাসফাস করছে, ঢোক গিলল, তাকবীর আরাতের ঘারে নাক ঘসতে ঘসতে ভয়েস স্লো করে বলল,
___” পায়ে নুপুর কই ?
আরাত তাকবীরের কথায় কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
___” খুলে রেখে দিয়েছি।
তাকবীর এবার আরাতের কানের নতিতে ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে, কোমর থেকে এক হাত সরিয়ে আরাতের হাত থেকে কফির মগ টা নিয়ে টি-টেবিলে রেখে দিলো, আরাতের অবস্থা এতক্ষণে নাজেহাল, তাকবীর পুনরায় আগের সুরে বলে উঠলো
___” রুমে আসতে লেট হলো কেনো ?
আরাত ভদ্র মেয়ের মতো উত্তর করলো,
___” আপুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম।
আরাতের কথায় তাকবীর আরাত কে কোলের মধ্যে নিজের দিকে করে বসালো, আরাত তাকবীরের মুখের দিকে চেয়ে আছে, তাকবীর কিছু না বলে টি-টেবিল থেকে একটা প্যাকেট আরাতের সামনে ধরল, আরাত অবাক হয়ে একবার প্যাকেট তো আরেকবার তাকবীর কে দেখছে, আরাত কে কিছু জিজ্ঞেস করতে না দেখে তাকবীর নিজে থেকে গম্ভীর গলায় বলে উঠলো,
___” খুলে দেখো।
আরাত তাকবীরের কোলে বসেই আনমনে প্যাকেটটা খুলতে লাগলো, তাকবীর টি-টেবিল থেকে কফির মগ নিয়ে আরাতের মুখের দিকে তাকিয়ে কফিতে চুমুক বসাচ্ছে, আরাত প্যাকেটটা খুলতেই তিনটা বক্স দেখতে পেলো, আরাত বক্স নিয়ে তাকবীরের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” কী বক্সের ভিতরে?
তাকবীর আগের ন্যায় বলল,
___” ওপেন করো।
আরাত একটা বক্স খুলতেই চোখ কপালে, বক্সের ভিতরে নুপুর, তাও আবার স্বর্ণের, আরাত অবাক চোখে বলল,
___” নুপুর কার জন্য ?
আরাত কে বোকার মতো প্রশ্ন করতে দেখে তাকবীর কিছুই বলল না, তাকবীর কে উত্তর করতে না দেখে আরাত ঠোঁট উল্টে একে একে আর দুটো বক্স খুলতে লাগলো, একটাতে স্বর্ণের মালা আরেকটাতে স্বর্ণের চিকন দুইটা চুড়ি, আরাত স্বর্ণ গুলো দেখে টি-টেবিলে রেখে দিলো, তাকবীর আরাত কে স্বর্ণ গুলো রেখে দিতে দেখে কপাল কুঁচকে বলল,
___” পছন্দ না?
আরাত তাকবীর দিকে তাকালো,এখানে তাও তো চার গড়ি স্বর্ণ হবে, আরাত উত্তর না দিয়ে নিজে উল্টো তাকবীর কে প্রশ্ন করলো,
___” বললেন না তো, কার জন্য এগুলো?
তাকবীর আরাতের কথায় কফির মগ টি-টেবিলে রেখে দিয়ে একটু ঝুঁকে আরাতের পা নিজের হাঁটুর উপর তুলে নিলো, হটাৎ পা ধরাতে আরাত পড়ে যেতে নিয়ে তাকবীরের গলা জরে ধরে দু-হাতে, তাকবীর আরাতের পা ধরে একটা নুপুর পরিয়ে দিচ্ছে, আরাত বাঁধা দিয়ে বলে উঠলো,
___” কী করছেন , পায়ে হাত দিচ্ছেন কেনো, পায়ে হাত দিতে হয় না!
তাকবীর কপাল কুঁচকে তাকালো আরাতের দিকে, আরাত আমতা আমতা করে বলল,
___” না মানে নানুমনীর মুখে শুনেছিলাম স্বামী পা ধরলে পাপ…
___”উশশশ এতো কথা বলো কেনো।
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৪৮
তাকবীর আরাত কে বাঁধা দিয়ে নিজের কাজ করতে লাগলো, আরাত চুপচাপ তাকবীর কে দেখছে, দুপায়ে নুপুর পড়িয়ে দিয়ে তাকবীর নিচু হয়ে আরাতের পায়ে ঠোঁট ছুঁয়ে দিলো, সঙ্গে সঙ্গে আরাত চোখ বন্ধ করে নিলো, তাকবীর আরাতের বন্ধ চোখের দিকে তাকিয়ে পুনরায় দু-হাতের সোনার চিকন চুড়ি দুটো পড়িয়ে দিলো, আরাত এখনো চোখ বন্ধ করে রেখেছে, তাকবীর হাতের কব্জিতে ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে পুনরায় আরাতের গলায় চেনটা পড়িয়ে দিয়ে তাকবীর চেনের গুড়ায় নিজের মুখ লাগিয়ে দাঁত দিয়ে লাগিয়ে দিলো, আরাতের নিঃশ্বাস উঠানামা করছে, তাকবীর নেশাতূর চোখে আরাতের গলায় মুখ ডুবে দিলো, আরাত কেঁপে উঠলো, তাকবীর নেশা লাগানো কন্ঠে বলে উঠলো ,
___” রুমে চলো।
