তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৬৬
জান্নাতি আক্তার জারা
___” বুকে তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে ?
আরশ তাকবীরের কথায় পাশ ফিরে তাকালো, তাকবীর কে দেখে চোখ অন্যদিকে ফিরে নিয়ে চোখের কোণে জমা পানি টুকু মুছে ফেললো, তাকবীর মুচকি হেঁসে আরশের সামনাসামনি হলো, কী অদ্ভুত তাই-না, তাঁর বউ সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে আর সে সবকিছু গুছাতে এসেছে, আরশের সাথে কখনো সামনাসামনি কথা বলেনি তাকবীর, অথচ আজকে তাঁর বউটার জন্য বলতে হচ্ছে, তাকবীর আরশ কে খুব গোপনে চোখের পানি মুছতে দেখে মুচকি হেঁসে বলল,
___” চিৎকার দেও।
আরশ অবাক হলো,
___” চিৎকার?
___” হ্যাঁ চিৎকার, মাথাটা ঠান্ডা রেখে খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে মোহাম্মদ বলে চিৎকার দাও, দেখবে মনের মধ্যে যে চাপা ব্যথাটা অনুভব করছো, এই ব্যথাটা আর থাকবে না, মনটা ফুরফুরে হয়ে এক ধরণের প্রশান্তি এসে যাবে, একবার মোহাম্মদ বলে চিৎকার দাও আর মনের সব দুঃখ কষ্ট গুলো দূর করে দাও।
আরশ তাকবীরের কথায় দু-হাত মুখে রেখে মোহাম্মদ বলে চিৎকার দিয়ে উঠলো, আরশের চিৎকারে নিস্তব্ধতা কেটে গিয়ে গাছপালা থেকে পাখি গুলো হটাৎ উঠতে শুধু করল, ডানার ঝাপটার শব্দে চারদিক যেন এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠল, সেই শব্দে নিস্তব্ধতাও ভেঙে গেল, আরশ চিৎকার দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো, হ্যাঁ সত্যি সত্যি কিছুটা হলেও মনটা হালকা লাগছে, আরশ তাকবীরের দিকে তাকিয়ে অবাক সুরে বলল,
___” ইন্টারেস্টিং।
তাকবীর মুচকি হেঁসে,
___”ট্রাই এগেইন।
আরশ শুনল তাকবীরের কথা, আবারো আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠলো,
___” ইয়া মোহাম্মদদদদদদদদ।
চিৎকার দিয়েই জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলে হাপাতে লাগলো, আরশের বুকের ধড়ফড় শব্দটা স্পষ্ট, এক নিমেষেই বুকটা ফান হয়ে গেলো, তাকবীর আরশের পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
___” ভালোবাসো?
আরশের সোজাসাপটা স্বীকারউক্তি,
___” বড্ড বেশি ।
___” নিজের করে নিচ্ছ না কেনো?
আরশের গলায় অভিযোগ,
___” আমাকে বুঝতে চায় না।
তাকবীর এবার আরশের কাঁধে হাত রেখে ঠান্ডা সরে বলল,
___” প্রেজেন্ট টাইমে যে সিচুয়েশন ক্রিয়েট হয়েছে, সবকিছু মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে নিজের লাভকে নিজের করে নাও, জানো তো, মিমের জেদ কতটা তীব্র, এবার মিমকে যদি না আটকাতে পারো, তাহলে সারাজীবনের জন্য তাকে হারিয়ে ফেলবে, আশা রাখবো, আমার কথা বুঝতে পারছো।
___” থ্যাংকস ফর এভরিথিং ব্রো।
তাকবীর চলে যেতে নিলেই আরশের মলিন কন্ঠে শুনে থেমে গেলো, পিছু ফিরে মুখে মুচকি হাসি টেনে আরশের কাঁধ চাপড়াতে চাপড়াতে বলল,
___” ডোন্ট ওয়ারি, হারি আপ।
তাকবীর চলে গেলো, আরশ বেশ কিছুক্ষণ আকাশের দিকে চেয়ে থাকলো, নিজেকে সময় দিলো হয়তো, ভাবতে লাগলো মিমের রাগ ভাঙ্গাবে কিভাবে, এখন সন্ধ্যা, বেশি রাত না, বাড়ির সবাই জেগে আছে, মিমের সাথে কথা বলতে হলে গভীর রাতে বলতে হবে
আরশ প্রায় দু’ঘন্টা বাদে নিচে নেমে এলো, ড্রায়িং রুমে শুধু আনাস আইরা আর বাচ্চাদের দেখতে পেলো, মাহা আইরার কোলে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে, আর আনাস এর কোলে বীরাত আর এরান ঘুমাচ্ছে, আরশ আশেপাশে মিম কে দেখতে না পেয়ে গলা খাঁকারি দিয়ে উঠলো, আরশ গলা খাঁকারি দেওয়াতে আনাস আইরার নজরে পরলো আরশ কে, আনাস হাসি মুখে আরশ কে নিজের পাশে বসতে বলল, আরশ আশেপাশে তাকিয়ে বলল,
___” বাকিদের দেখছি না যে?
আরশের কথায় আনাস আর আইরা নিজেদের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে মুখ চেপে হাসলো, কারণ আরশ বাড়ির বাকিদের খুঁজছে না, বরং বাকিদের খোঁজের বাহানায় মিমের খোঁজ নিতে চাইছে,আইরা হাসিমুখে বলল,
___”বাকিদের তো বলতে পারলাম না, কিন্তু মিমের খোঁজ ঠিকই দিতে পারি।
আরশ এবার আর কোনো ভনিতা করলো না, সরাসরি আইরাকে বলল,
___” এটাই আমার লাগবে, কই আপনার ননদী?
আরশের মুখে তখন অদ্ভুত এক ব্যাকুলতা দেখা গেলো, আইরা আর মজা করলো না, সিরিয়াস মুখে বলল,
___” মিম উপরে, পার্থর লাগেজ গুছিয়ে দিচ্ছে।
মিম পার্থর রুমে ব্যাপারটা মাথায় আসতেই আরশের হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে এলো, আজকাল এই পার্থ নামটা আরশের গলার কাটা হয়ে গেছে, মিম আর পার্থ কে একসঙ্গে দেখলেই কোথায় থেকে যেন শান্ত মস্তিষ্ক টা আর শাস্ত থাকে না গরম হয়ে যায়, আরশ আর দাঁড়ালো না, বড় বড় পা ফেলে পুনরায় উপরে চলে গেলো, আরশ কে যেতে দেখে আইরা আনাস কে জিজ্ঞেস করল,
___” পার্থ রুমে আছে?
আনাস বাঁকা হেঁসে বলল,
___” না।
___” ভালো হয়েছে, চলো বাচ্চাদের বিছানায় শুয়ে দেই,বাহিরে বড়রা কী ডিসিশন নেয় দেখতে হবে।
___” হুম চল।
আনাস আইরা বাচ্চাদের রুমে শুয়ে দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে এলো উঠানে, উঠানে বড়রা সবাই বসে মিম আর আরশ কে নিয়ে কথা বলছে, আজকের ঘটে যাওয়া ঘটনা তুলে ধরছে, আর পার্থ সবার সামনে বসে আছে , বসে আছে বললে ভুল হবে, কেনো না পার্থ বসে নেই তাকে বসে রাখা হয়েছে, পার্থ নিজের রুমে যেতে চেয়েছিলো, কিন্তু আনাস রা পার্থ কে যেতে দেয় নি, মিম পার্থর থুতনির র*ক্ত অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে পরিস্কার করে পার্থর রুমে পুনরায় চলে যায়, লাগেজ গুছাতে, পার্থ নিচেই ছিলো, তখনই আনাস আইরা পার্থ কে নিয়ে বাড়ির বাহিরে আসে, কিছুক্ষণ তিনজন মিলে মিম দের বাড়ি থেকে কিছুদূর দূরে রাস্তায় গল্প করতে করতে খোলা আকাশটা উপভোগ করে পুনরায় মিমদের বাড়িতে চলে আসে, উঠানে আসতেই দেখে বাড়ির বড়রা উঠানে বসেছে, আনাস আইরা বাচ্চাদের ঘুম নেওয়াতে বাড়ির ভিতরে চলে যায়, এবং পার্থ কে জোর করে সবার মধ্যে বসিয়ে রেখে যায়, বড়দের কথা চলছে, আর ওদিকে আরশ বড় বড় পা ফেলে পার্থর রুমে এসে শব্দ করে দরজা খুললো, দরজার শব্দে মিম চমকে উঠে দরজার দিকে তাকালো, দরজার সামনে আরশ কে দেখে মিম রাগী গলায় আরশের দিকে এগিয়ে এসে আঙ্গুল তুলে বলতে লাগলো,
___” এই ঘরে কী চাই, বের হন বের হন বলছি।
আরশ মিমের বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা ধরে এক ঝাঁটকায় নিজের কাছে টেনে নিল, মিম হকচকিয়ে গেল, আরশের দুই হাত মিমের কোমরে বন্দী, আরশ ধীরে ধীরে মাথা নামিয়ে মিমের কানের কাছে মুখ নিয়ে এলো, কন্ঠ খাদে নামিয়ে ফিসফিস করে উঠলো,
___” ভালোবাসি।
মিমের শ্বাসটাও যেন আটকে গেছে, কণ্ঠে ছিল চাপা কাঁপন, ভেতরের অনুভূতিটা স্পষ্ট, একটা ঢোক গিলে আরশের চোখে চোখ রেখেই বলল,
___”আমি কখনো আপনাকে ভালোবাসিনি।
আরশ আরো শক্ত করে মিম কে নিজের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়ে চোখে চোখ রেখে বলল,
___” আমি তো বেসেছি।
আরশের স্বীকারোক্তিতে মিম থমথমে মুখে চাইলো, বিকালের কথা মনে পড়তেই মিম নিজের কোমর থেকে আরশের হাত সরানোর চেষ্টা করে বলল,
___”আমি আপনাকে ভালোবাসি না, কতবার বলবো।
___”হাজারবার বলো,শতবার বলো বাঁধা নেই, তোমার চোখ তো বলছে তুমি আমাকে ভালোবাসো ।
মিম আরশের হাত ছাড়াতে ব্যর্থ হয়ে অসহায় গলায় বলে উঠলো ,
___” আর কিছু করার বাকি আছে আপনার, একটু একটু করে সব শেষ করার চেয়ে একদম মেরে ফেলুন আমাকে। আরে, কী শত্রুতা আপনার সঙ্গে আমার, আমার সঙ্গে যা করেছেন, মেনে নিয়েছি কিন্তু ডাফার, ডাফারকে কেন আঘাত করলেন, আমাদের মধ্যে ডাফারকে কেনো ইনভলভ করলেন, কী বলেন তো
আমি অতীতের সব ভুলে আপনার কাছে ফিরতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আপনি বুঝিয়ে দিলেন, সময় বদলায়, মানুষের স্বভাব না।
____” হ্যাঁ আমি বদলায় নি, আমার স্বাভাব আমি চেঞ্জ করতে পারিনি, আজও তোমাকে ভালোবাসি, ভালোবাসি বলেই তোমার পাশে অন্য ছেলেকে সহ্য করতে পারি না,আমার ভুল হয়েছে তো কোথায় হয়েছে বলতে পারবে, আমি এসবের মধ্যে কেনো ফেঁসে গেলাম, আমি তো শুধু এতটুকু চেয়েছিলাম তুমি আমার সঙ্গ দেও, তুমি আমাকে বুঝো, তুমি আমাকে নিজের বলে অধিকার দেখাও,বলো আমার এ এক্সপেক্টেশন রাখা কী ভুল ছিলো, ছিলো না, কিন্তু তুমি, তুমি বরাবরের মতো কখনো হানিফ তো কখনো ডাফার ডাফার করো, কেনো মিম, কেনো, ভালো তো বাসি বলো, আমারও তো বুকে ব্যথা হয়, আমিও তো মানুষ ।
মিম নিঃশব্দে অশ্রু বিসর্জন দিতে লাগলো, মেয়েরা শখের পুরুষের প্রতি একটু বেশিই দুর্বল, সেখানে যদি ভালোবাসার মানুষ টা কান্না করতে করতে মিথ্যা ভালোবাসি ও বলে, তবে মেয়ে তুমি তাঁর কাছে পরাজিত, আরশ নিজের বাহুডোরে মিম কে জরিয়ে নিলো, আজ আর আরশের মধ্যে নেই কোনো দিধা, সে জানে তাঁর মন কী চায়, কেনো এতটা বছর অপেক্ষা করেছিলো, মিম আর পারলো না আরশ কে নিজের থেকে ছারাতে,সে নিজেও আজ দূরত্বর কাছে ক্লান্ত হয়ে গেছে, আরশ কম্পিত গলায় অস্ফুট স্বরে বলতে লাগলো,
__” হয়তো তুমি বোঝনি, হয়তো বা কখনো খেয়ালই করোনি, তুমি আমার জন্য কি,তোমার মতো ভালোবাসা আজ অবধি আর কাউকে বাসিনি,আমি দুনিয়ায় সামনে দেখায় তুমি হারিয়ে গেলে আমার কিছুই যায় আসবে না, কিন্তু আমার অনেক কিছু এসে যায়, তুমি না থাকলে এই সবকিছুর কোনো মানে থাকে না, সবকিছু যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগে, তোমাকে হারানোর ভয়টা আমি আর নিতে পারি না মিম।
___” এতটা ভালোবাসেন কখনো প্রকাশ করেন নি কেনো?
মিমের প্রশ্নে আরশ হালকা হাসলো,
___” তোমার কী মনে আছে, সেদিন আমি তোমাকে কী বলতে চেয়েছিলাম ?
মিমের কৌতুহল চোখে তাকালো, আরশ সেদিন কী বলতে চেয়েছিল যা মিম বুঝতে পারেনি, নাকি অভিমানের কারণে বুঝতে চেষ্টা করেনি, আরশ কিছুক্ষণ মিমের চোখের দিকে তাকিয়ে নীরবতা পালন করলো, মিমের এখনো কিছু মনে না পড়তে দেখে বলল,
___” আমি জাস্ট তোমাকে হাসিখুশি দেখতে চেয়েছিলাম, আমি তো তোমার সঙ্গে নিজের জীবনের শেষ নিঃশ্বাস অবধি কাটাতে চেয়েছিলাম বাচ আর কিছুই না, কিন্তু তুমি ভেবে নিয়েছিলে আমার থেকে দূরে থাকলে তুমি ভালো থাকবে, বাচ আর ইচ্ছা হলো না তেমার ভালো থাকা আটানোর, তবে আমি ছুটে গিয়েছিলাম, হয়তো আমাদের নসিবে এক হওয়া ছিলো না, কিন্তু আজ আর তোমাকে দূরে যেতে দিবো না, তোমার দূরত্ব আমাকে এই সাতটা বছর কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছে,আমার সত্যি তো এটাই, আমি এমনই, আমি হয়তো ভালো না, তবুও তোমাকে ভালোবাসি, আমি তোমাকে কষ্ট দিই, তারপরও জানি না কেন, তোমাকেই পাওয়ার জন্য ছটফট করি, আমি নিজের উপরেই ভীষণ বিরক্ত, নিজেকে থামতে পারি না শুধু তোমাকেই ভালোবেসে যাই, কখনো প্রকাশ করিনি, কখনো বলতে পারিনি, আমি তোমাকে ভালোবাসি, আমি তোমাকে বড্ড বেশি ভালোবাসি মিম।
মিম গলা কাঁপছে, কথা বের হচ্ছে না, দুজন একিউপর কে কতটা ভালোবাসো, শুধুমাত্র ভুলবোঝাবুঝি আর অভিমান কে জিতিয়ে দিয়ে কেউ কারো মুখোমুখি হয়নি, মিম তো দূরে থেকেও কষ্ট দিয়েছে আরশ কে, ডিভোর্স পেপার সাইন করে দিয়েছে , তাতে কী মিম কম কষ্ট পেয়েছে, প্রতি রাত কান্না ছাড়া ভোর হয়নি, দুজন ভালোবাসার মানুষ দুই প্রান্তে তীলে তীলে শেষ হয়েছে শুধুমাত্র ভুলবোঝাবুঝির কারণে, না ভুলবোঝাবুঝি ছিলো না ছিলো রাগের পরিমাণ টা একটু বেশি, আরশ তো ছোটছোট কারণে রাগের মাথায় মিম কে যা ইচ্ছা বলে অপমান করেছে, একটা মেয়ের তো আত্মসম্মান আগে, কিন্তু সাতটা বছর পর মিম প্রামান করলো, আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে থাকতে সে ক্লান্ত, তাঁর ভালোবাসা চাই, যদি কথা আসে, ভালোবাসা পেতে হলে নির্লজ্জ হতে হয়, তাহলে তো আরশ নির্লজ্জ, কেনো না আরশ ছ্যাঁচড়ার মতো লির্লজ্জ হয়ে বারবার মিমের ভালোবাসা চাইছে, আর মিম নিজের আত্মসম্মান দূরে সরিয়ে ভালোবাসা চাইছে,এখানে দুজনই সমান দোষী, কেউ নির্লজ্জ তো কেউ আত্মসম্মানহীন, এই দুই শব্দ হেরে গেলো ভালোবাসার নামে শক্তিশালী এক শব্দের কাছে, মিম কান্না করতে করতে কম্পিত গলায় অস্ফুট স্বরে বলল,
___” আমাকে মাপ করে দেন,আমি বুঝতে পারিনি আপনি কি বুঝাতে চেয়েছিলেন।
আরশ এতক্ষণ মিম কে জরিয়ে রাখলেও মিম এবার আরশ কে দু’হাতে আষ্টেপিষ্টে জরিয়ে ধরলো, আরশের বুকে তোলপাড় সৃষ্টি হলো, ভালোবাসার মানুষ টা মানঅভিমান ভুলে নিজে থেকে জরিয়ে ধরেছে, হৃৎস্পন্দনের গতি বাড়তে লাগলো, আরশ নিজের বুক থেকে মিমের মাথা তুলে এলোপাতাড়ি চুমু রেখে দিতে দিতে বলল,
___” সরি মিম খুব করে সরি, তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি, আর কষ্ট পেতে দিবো না, ভরা মজলিসে সবার সামনে সুসন্মানে পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ করে আমার ঘরে তুলে নিবো, আমার ঘর যে তোমার অপেক্ষায় অপর্ণতা হয়ে আছে।
মিম আরশ কে প্রশ্ন করলো,
___” আপনি যে আমাকে পাওয়ার জেদ করছেন, আমাকে পেয়ে গেলে যদি বদলে যান, এই কখনো আমাকে একা ছাড়বেন না তো?
মিমের কৌতূহলী প্রশ্নে আরশ কপাল কুঁচকে কয়েক সেকেন্ড মিমের মুখের দিকে চেয়ে থেকে হটাৎ মুচকি হেঁসে মিমের কপালে কপাল ঠেকিয়ে বলল,
___” জেদ হইলে তো ছেড়ে দিতাম, তুমি আমার নিঃশ্বাস, নিঃশ্বাস কে ছেড়ে দেয় হুমমমম?
মিম ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল,
___” বেশি ভালোবাসলে কিন্তু অভ্যস্ত হয়ে যাবো।
___” সেটাই তো চাই তুমি যেন সারাজীবন আমার ভালোবাসায় অভ্যস্ত থাকো।
মিম আরশ কে পুনরায় জরিয়ে ধরে বুকে মাথা রেখে বলল,
___” তাই?
আরশ মিম কে জরিয়ে নিয়ে চোখ বন্ধ করে বলল,
___” হুম।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে,
___” ভালোবাসি মিম।
মিম আগের ন্যায় আরশের বুকে মাথা রেখে বলল,
___” আপনার আর আমার মধ্যে পার্থক্য কি জানেন, আপনি কাঁদিয়ে বলেন ভালোবাসি,আর আমি কাঁদতে কাঁদতে বলি ভালোবাসি।
___” তবুও তোমাকে ভালোবাসি, আমি কষ্ট দিবো আমিই ভালোবাসবো, তোমার শান্তি যদি খুঁজতেই হয়, আমাতেই খুঁজতে হবে বিকজ আমি তোমাকে ভালোবাসি।
___” ওয়াও জাস্ট লাইক ফিল্মি।
হটাৎ আইরার কথায় মিম আরশের থেকে সিটকে সড়ে দাঁড়ালো, মাথার চুল ঠিক করতে করতে গলা খাঁকারি দিয়ে দরজার দিকে তাকাতেই দেখলো, দরজার সামনে আইরা আনাস আরাত তিশা নূরফিহা দাঁড়িয়ে আছে, সবার মুখে চাপা হাসি,তাঁদের থেকে কিছু দূরে নিস্তব্ধ মুখে দাঁড়িয়ে আছে পার্থ, মিম আঁড়চোখে আরশের দিকে তাকালো, আরশ কে একদম স্বাভাবিক দেখা গেলো, যেন এখানে এতক্ষণ কিছুই হয়নি, মিম আমতা আমতা করে বলল,
___” এখানে কিছুই হয়নি, তোমরা ভুল ভাবছো।
মিমের কথায় আনাস আইরার কাঁদে এক হাত রেখে বলল,
___” এত ভাব নেস না, আমরা মুভির শেষ সিন দেখে ফেলছি।
মিম সবার মুখে দুষ্টমির হাসি দেখে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে গেলো, চোখ ছোট ছোট করে আমতা আমতা করতে লাগলো,
___” মা.. মানে, তোমরা কখন এসেছো?
সবাই মিলে একসঙ্গে হুড়মুড় করে রুমে ঢুকে গেলো, নূরফিহা বলে উঠলো,
___” মাএ এসেছি ভাবি, ইশ পুরো মুভি মিস করে ফেললাম, এ দুঃখ কোথায় রাখবো।
নূরফিহা কথাটা বলতেই আরশ নূরফিহার মাথায় গাট্টা মেরে বিছানার উপর বসে পরলো, আর নূরফিহা বিরক্ত মুখে হা করে মাথা ঘষতে লাগলো, তিশা বলে উঠলো,
___” ওদিকে বড়রা তোদের জোর করে বিয়ে দেওয়ার প্ল্যান করছে, আর তোরা সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চুটিয়ে প্রেম করছিস?
মিম অবাক কন্ঠে বলল,
___” মানে, কার বিয়ে?
আরাত এতক্ষণে কথা বলে উঠলো, বেচারা এতক্ষণ চুপচাপ ঘাপটি মেরে ছিলো, কেনো না তাকবীর আগেই আরাত কে এতবেশী পাকনামি করতে বারণ করে দিয়েছে, মিম আরশের মান অভিমান শেষ হতে দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো, মুখে উৎফুল্লতা নিয়ে বলে উঠলো,
___” তোর আর আরশ ভাইয়ার।
___” যোর করে কেনো?
___” কারণ তোরা একিউপর কে মানতে চাইছিলিস না, অথচ দু’জনেই কষ্ট পাচ্ছিল, তোরা বিয়েতে রাজি হবি না, এজন্য তোদের জোর করে বিয়ে দেওয়ার প্ল্যান চলছে।
মিম ছোট করে বলল,
___” ও।
আইরা এবার কন্ঠে দুষ্টুমি মিশিয়ে বলল,
___” তাহলে বড়দের গিয়ে বলবো, তোদের জোর করতে হবে না, তোরা আগে থেকেই বিয়েতে রাজি হুম হুম বল ?
মিম একনজর আরশ কে দেখে মাথা নিচু করে নিলো, আজ যেন নতুন করে লজ্জা এসে ঘিরে ধরেছে, অথচ আরশ বিন্যাস বিছানায় বসে আসে, তাঁকে দেখে মনে হচ্ছে, সেও সবার মতো মিমের সঙ্গে মজা দিতে এসেছে, মিম লাজুক মুখে বলল,
___” না আপু বড়দের কিছু বলো না, উনারা যা ডিসিশন নিবে আমরা তাতেই রাজি।
মিমের কথায় পুরো ঘর হো হো শব্দ করে হেঁসে উঠলো, মিম কথাটা এমন ভাবে বলছে যেন তাঁকে সত্যি সত্যি বড়রা জোর করে বিয়ে দিবে আর সে বাধ্য মেয়ের মতো মুখ বুঝে সব মেনে নিবে, পুরো রুম হাসি লজ্জা তে মেটে থাকলেও আরশের নজর স্থির হয়েছে, দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা হতাশা আর উদাসিন মনে তাকিয়ে থাকা পার্থর দিকে, মিম আরশের নজর অনুসরণ করে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা পার্থর দিকে তাকালো, পার্থ কে উদাসি মুখে দেখে মিমের পার্থ কে ডাকে উঠলো,
___” ডাফার, একা একা কী করছিস, রুমে আয়?
পার্থ মিমের ডাকে হাসার বৃথা চেষ্টা করে রুমে ঢুকে গেলো, মিমের সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
___” তলে তলে টিম্পু চালাও আমি বললে হরতাল, তাই না,শুধু শুধু এতগুলো বছর নিজেকে কষ্ট দিলি কেন ?
পার্থর কথায় মিম হেঁসে উঠলো
___” এতগুলো বছরের কষ্টের জন্যই তোকে পেয়েছি, নিজেকে কষ্ট না দিলে তোর সঙ্গে দেখা হতো না, আর আমি এই জীবনে কিউট একটা বেস্টফ্রেন্ডকে মিস করে ফেলতাম।
পার্থ হাসি মুখে বলল,
___” হুম এটা ঠিক বলছিস।
পার্থ এবার আরশের সামনে দাঁড়াল, মুখে চাপা হাসি টেনে হ্যান্ডশেক করতে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
___” কনগ্র্যাচুলেশনস ব্রো, দোয়া করি, তোমরা দুজন অলওয়েজ বিন্দাস লাইফ লিভ করো, আমি যে আজ কতটা হ্যাপি, সত্যি বলতে নিজেকে এক্সপ্লেইন করতে পারছি না, বাই দ্য ওয়ে, ট্রিট চাই কিন্তু!
আরশ নিজেরও হাত বাড়িয়ে দিয়ে হ্যান্ডশেক করতে করতে বাঁকা হেঁসে বলল,
___” ট্রিট তো তুমি আমাকে দিবে, আফটার অল
আমি তোমাকে তোমার রেসপন্সিবিলিটি থেকে বাঁচিয়ে দিলাম।
পার্থ বোধহয় হাসলো, হাসিটা ছিলো তাচ্ছিল্যর,
___” আমি মেবি একটু বেশিই আশাবাদী ছিলাম, সারাজীবনে জন্য রেসপন্সিবিলিটিটা নিজের করে নিতে চেয়েছিলাম।
আরশ বুঝলো না পার্থর কথা, ভ্রু কুঁচকে বলল,
___” সরি ব্রাদার?
পার্থর ভারী কন্ঠস্বর শোনা গেলো,
___” নেভার ।
দুজনের চোখাচোখি নীরব যুদ্ধ হয়ে গেলো,পার্থ এখনো আরশ কে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থাকতে দেখে স্বাভাবিক হয়ে হাসির চেষ্টা করে বলল,
___” রিল্যাক্স ব্রাদার, নাথিং সিরিয়াস আই’ম কিডিং ম্যান।
আনাস সবার উদ্দেশ্য বলল,
___” চলো গাইস, অনেক রাত হয়ে গেছে, পার্থকে রেস্ট নিতে দিই, লেটস গো, লেটস গো, গুড নাইট ব্রো।
পার্থ চাপা হাসি টেনে গুডনাইট বলল,আনাস কে সহমত পোষণ করে একে একে সবাই রুম থেকে বের হয়ে গেলো, মিম পার্থর দিকে তাকিয়ে বলল,
___” ডাফার তুই রেস্ট নে, মেডিসিন খেয়ে ঘুমিয়ে পড়, নয়তো পুরোনো জ্বর আবার ফিরে আসবে।
___” আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না,আমি ঠিক আছি, তুই তোর নতুন জীবনের দিকে ফোকাস কর।
আরশ পার্থর কথায় মিমের হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল,
তুই আমার বিশ্বাস ছিলি পর্ব ৬৫
___” অফকোর্স, শেষ থেকে শুরু করবো।
মিম আরশের কথায় মুচকি হাসলো, পুনরায় মিম পার্থ কে গুড নাইট বলে রুম থেকে বের হয়ে গেলো, মিম আরশ দুজন একিউপরের হাত ধরে করিডোর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, পার্থ দরজার কাছে এসে দাঁড়ালো, যতক্ষণ দু’জন কে দেখা যায়, দেখলো, মুখে লেগে আছে বিদ্রোবের হাসি,
___” মায়া জিনিসটা বড্ড নিষ্ঠুর।

Porer part ta joldi Dio please 🥺
Pls ajkei diye diyen next part……🫠🤌🏼