তুই আমার ৭ মিনিট পর্ব ১+২
ঐশী আফরিন
নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে পুরো রুম জুড়ে। শুধু দুটো মানুষের দীর্ঘশ্বাস শোনা যাচ্ছে। দুজনের দীর্ঘশ্বাসের কারন দুটো । কেউ করো দিকে তাকাচ্ছেও না। দুজনেই দুই মেরূর । আজই তাদের প্রথম দেখা। দেখা টা তাদের একটা বড় জটিলতাকে ঘিরে। যদিও কেউ কারো দিক থেকে বিন্দুমাত্র টলতে ইচ্ছুক না। দুজনের জেদটাই আকাশ-পাতাল । এখন দেখা যাক কে হার মেনে নিয়ে আত্মসমর্পণ করে।
কাঠের চেয়ারটায় বসে আছে এডভোকেট আদিত্য বাশার। সে ভীষন ক্লান্ত। তার এই ৩৫ বছরের জীবনে এরকম কেস হেন্ডেল করেনি। যেখানে আসামি নিজেই শাস্তি পেতে উতলা। কিন্ত পুরো তথ্য না জেনেও তো আদালত শাস্তির রায় ঘোষনা করবে না। আদিত্য সবসময় আসামিদের পক্ষে কেস লড়ে।
আসামিদের পক্ষে কেস লড়ে জিতে যাওয়া মোটেও সহজ ব্যাপার না। কিন্ত তিনি এখন পর্যন্ত কোন কেস হাড়েনি। আর এই কেসে কিনা হেরে যাবে। না কখনোই না । সে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কেসটা সে কৌতুহল বসত নিয়েছে। কৌতুহলটা শুধু তার একার না । দেশ বিদেশের লোকেরাও এই কাহিনীর আসল রহস্য জানার জন্য উতলা হয়ে আছে।
আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন
সেই কখন থেকে সে সামনে বসা মেয়েটিকে একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছে। অথচ মেয়েটি নির্বিকার। যেন কিছুই হয় নি। আদিত্য এখন প্রশ্ন করতে করতে হাপিয়ে গেছে। তবুও সে ভাবল আরেকবার শেষ চেষ্টা করে দেখবে। সে গলাটা পরিষ্কার করে নিলো।
” দেখুন! এদিকে তাকান। আপনি যদি এতই শাস্তি পেতে চান যান, দেওয়া হবে আপনাকে আপনার কৃতকর্মের শাস্তি। আপনি অন্তত আমাদের কৌতুহলটা দমন করার জন্যে আপনার অতীতটা জানান। বোঝার চেষ্টা করুন শুধু আমি না পুরো বিশ্ববাসি জানতে চায় আপনাদের ওমর প্রেমের কাহিনী। মমতাজের পরে আপনি বিশ্বের সবচেয়ে ভাগ্যবান নারী। মমতাজের পরে বললে ভুল হবে মমতাজ তো শাহজাহানের বানানো ভালোবাসার “তাজমহলটি” দেখতেও পারেনি,কিন্ত আপনি আপনার জন্য বানানো ভালোবাসার “মধুমহল” দেখতে পেরেছেন এমনকি ভালোবাসার মানুষটির সাথে সেখানে থাকতেও পেরেছেন। এতো ভালোবাসার পরেও এরকম কীভাবে হলো প্লিজ আমাদের জানান। প্লিজ ”
কথাগুলো বলে আদিত্য থামলো। এতক্ষন পর মেয়েটি চোখ তুলে তাকালো।আদিত্যর বুকটা ধক করে উঠল। সাথে সাথে সে চোখ সরিয়ে নিলো। এই মেয়ের চোখের দিকে তাকানো জায়গা ভয়ংকর চোখ, মেয়েটি তাচ্ছিল্য হাসলো ।
“একটা ভয়ংকর অতীত জানতে এতো আগ্রহ”
ঐ ঘটনার পর আজকে মাত্র মেয়েটা মুখ খুললো। অনেক পুলিশ অনেকভাবে চেষ্টা করছে কিন্ত মুখ খোলাতে পারেনি। কন্ঠটা শুনে আদিত্য কতক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। তারপর নিজেকে ধাতস্ত করে বললো,
“আপনার বাবাকে তো আপনি ভালোবাসতেন তাই না?
“এখনও বাসি”
“যেই বাবাকে এতো ভালোবাসতেন সেই বাবার বুকে ….”
“চুপ একদম চুপ। আমি তাকে বাঁচিয়েছি”
” এটা বাচাঁনো ? ”
” হ্যা , হ্যা এটা বাচাঁনো। ঐ আল্লাহর খাতায় ওদের শাস্তি বড় হওয়ার আগে আমি তাদের বাচিঁয়েছি। জানি ততক্ষনে অনেক দেড়ি হয়ে গেছে তবুও…….”
” কী ছিল ওদের অপরাধ ”
” জানেন আমিটা ঐ দুটো মানুষকে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসতাম কিন্ত দেখুন আমি..
মেয়েটার কথা আটকে আসছে ” আমি কেন ওদের ঘৃনা করতে পারিনি এতো কিছুর পরেও। আল্লাহ আমায় মাফ করবেন তো ”
মেয়েটার কন্ঠটা এবার বড্ড করুন শোনালো।
” আমাকে সবটা না জানালে কীভাবে বলবো। আমরা আপনাদের ভয়ংকর ভালোবাসা সম্পর্কে জানতে চাইছি ”
” অতীত মনে করতে চাইছি না ”
” যেখানে অতীতের ভার বয়ে বেড়াচ্ছেন সেখানে নতুন করে আর মনে করার কী আছে ”
কিছুটা থেমে আদিত্য আবার বললো
” আপনি যদি না বলেন পৃথিবীর বুক থেকে আপনাদের গল্প চিরতরে হারিয়ে যাবে। মানুষ আপনাদের মনে রাখতে চাইছে। আপনার ‘মধুমহল’ টা খালি পরে আপনার ভালোবাসা সেখানে আপনার অপেক্ষা করছে। আপনি যাবেন না তার কাছে ”
” উনার কাছে যাওয়ার জন্যই তো এতো পায়তারা ”
” উনার আপনাকে দেওয়া দায়িত্বের কথা ভুলে গেছেন ”
” নাহহ ”
” সেই দায়িত্ব পালনের জন্য হলেও আপনাকে সেখানে যেতে হবে।তাই প্লিজ বলুন আমাদের কী হয়েছিল আপনার অতীতে ”
” সে অনেক কাহিনী ”
” আমরা সবটা শুনবো বলুন আমাদের ”
” আপনি জানেন উনি আপনাকেও মেরে ফেলতো ”
” কেন ”
” এই যে আপনি তার একান্ত ব্যক্তিগত মানুষটির সাথে এতক্ষন ধরে কথা বলার চেষ্টা করছেন ”
” সেই জন্যই কি আপনি বলতে চাচ্ছেন না ”
মেয়েটি চুপ থাকলো। আদিত্য আবার বললো ,
” প্লিজ গল্পটা আমাদের সাথে শেয়ার করুন ”
” এখন যে গল্পটার পাতায় পাতায় হাহাকার। সইতে পারবেন তো ”
” বলেই দেখুন না ”
মেয়েটা নড়েচড়ে বসলো। দু হাঁটুর ভাজে মুখ গুজে দিলো । আর চলে গেলো সেই অতীতে যা তাকে আজ এখানে এনে থমকে দিয়েছে । করে দিয়েছে নিঃস্ব। এক সময় যে জীবনটা ছিলো সম্পূর্ণ আলোকিত আজ তা শুধুই স্মৃতির পাতায় এক রহস্যময় নিস্তব্ধ কালো অধ্যায় ।
বৈঠক খানায় থমথমে নিরবতা বিরাজ করছে। কারো মুখে কোন রাঁ নেই। কেউ চোখের পলকটাও ফেলছে না। পলক ফেললেই যদি পরী উড়ে যায়। প্রায় আধঘন্টা ধরে পাত্রপক্ষ শুধু চেয়েই আছে। শান্তর ফুফু বোন আর মা এসেছে। মাধবী এতক্ষন ধরে চুপ করে থাকলেও এখন তার ধর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। মাধবী উঠে দাড়িয়ে পরে। ” আম্মা আমি ক্লান্ত আমি ঘরে যাচ্ছি ”
কাউকে কোন কথা বলার সুযোগ না দিয়েই সে ধুপধাপ পা ফেলে উপরে চলে যায়।
ঝুমা চৌধুরী জানতেন মেয়ে তার এতক্ষন যে বসে ছিল এটাই বেশি। পাত্রপক্ষ এখনও ঘোর থেকে বের হতে পারেনি। আছিয়া চৌধুরীর কথায় তাদের ধ্যান ভাঙলো,
” তাহলে সামনের কথায় আগানো যাক ”
তিনি খুব ভালোভাবেই জানেন এই মেয়েকে ফেরানোর সাহস কারও নেই। হোক সেটা পুরুষ কিংবা মহিলা। এবার পাত্রের মা মুখ খুললেন, ” হ্যা হ্যা আগান আগান আমার ছেলে বিদেশ চলে যাবে তো মাধবী মাকেও নিয়ে যাবে তাই চাইছি বিয়েটা তাড়াতাড়ি সেরে নিতে। ”
আছিয়া চৌধুরী খুব ভালোভাবে বুঝতে পারলেন এত তাড়ার কারণ একেতো এরকম সুন্দরী মেয়ে কোথাও পাবেনা আরেকে সোনার হরিণ কে বা হাতছাড়া করতে চায় । ” হ্যা বুঝতে পেরেছি । আর ছেলে আমাদেরও পছন্দ হয়েছে । আজ এইটুকুই থাক ভাইজান আসলে আপনাদের জানানো হবে।”
” আচ্ছা তাহলে আজ আমরা উঠি ”
ওরা চলে গেলো। মাধবী উপর থেকে সবটা শুনলো এবং দেখলোও। মাধবীর তার বাবার উপর পূর্ণ বিশ্বাস আছে। তিনি যে মুখের উপর না করে দেবে এটা মাধবী জানে। তাই সে তার রুমের দিকে পা বারায় এটা আসলে রুম না এটা আরেকটা অন্দরমহল যা সম্পূর্ণ মাধবীর। সামনের বড় লোহার দরজাটা খুলতেই চোখে পরে বিশাল ড্রয়িংরুম যা যা বইয়ের সেলফ ,বইয়ের তাক , সোফা , টিভি আর ফুল দিয়ে ঘেরা । ড্রয়িংরুম পেরিয়ে একটা লম্বা বারান্দা পরে একটা খাবার রুম আর দুটো বিশাল বিশাল বেডরুম । আকটা খালি পরে থাকে আরেকটায় মাধবী থাকে। এই অন্দরটি বিশেষভাবে তার জন্য বানানো হয়েছে।মাহফুজ চৌধুরী মাধবীকে উদ্দেশ্য করে অন্দরটির নাম রাখেন “পুষ্পালয়” । পুষ্পালয়ে তার বাবা মাহফুজ চৌধুরী বেতিত কোন পুরুষ ঢুকতে পারবেনা। মাহফুজ চৌধুরীর কঠোরভাবে নিষেধ করা দিয়েছে মাধবীকে যেন কখন কোন পুরুষ দেখতে না পারে।
মাধবী গোসল করে বের হতেই শুনলো নিচের হট্টগোল। বুঝলো তার বাবা এসেছে। সে মিলে গেলো না। সে জানে তার বাবা সর্ব প্রথম এসে তার সাথেই কথা বলবে। আর তাই হলো শোনা গেল খট করে খুলে যাওয়া দরজার শব্দ। মাধবী দৌড়ে গিয়ে জরিয়ে ধরলে মাহফুজ চৌধুরীও মেয়েকে আগলে নিলেন। তিনিও যে বাকিদের থেকে এই মেয়েকেই বেশি ভালোবাসে।
” আব্বা জানেন আপনার বোন আর বৌ আজ কী করেছে ”
” কী করেছে আম্মু ”
” কোথা থেকে কোন পাত্রপক্ষ ধরে নিয়ে এসেছে ”
” কীহ তুমি সামনে গিয়েছিলে ” মাহফুজ চৌধুরী হালকা চিৎকার দিয়ে উঠে । ” আজ ওদের একদিন তো আমার একদিন। আমি দেখছি ওদের। আরশি, রুহি, আয়াত,অজয়, অরিন্দরা এসেছে। আমি ওদের উপরে পাঠাচ্ছি। ”
” কী ?? ওরা তোমাদের সাথে এসেছে? তাড়াতাড়ি নিচে গিয়ে ওদের পাঠিয়ে তারপর ঠান্ডা এক গ্লাস শরবত খেয়ে পরে যা করার করবে।”
” ঠিক আছে আমার আম্মু ”
বলে তিনি চলে যান। কিছুক্ষন পরেই দরজা ঠেলে প্রবেশ করে আরশি, রুহি আর মালতী। আরশি মাধবীর মেজো মামার মেয়ে আর রুহি ছোট মামার । রুহির বড় ভাই অজয় আর আরশির বড় দু ভাই আয়াত আর অরিন্দ। ওরা দু ভাই জমজ কিন্ত চেহারার মিল নেই। আর বড় মামার আল্লাহর দান একটা গন্ডার। সেটা কানাডায় থাকে । মালতী মাধবীর ছোট বোন।
ওরা এসেই মাধবীকে ঝাপটে ধরে। ” আরে আরে কী করছিস তোদের মত হাতিদের ভার আমি নিতে পারি?”
রুহি ‘কেমন আছো আপু’ বলে আবারো জাপটে ধরে। মাধবী টাল সামলাতে না পেরে সোফায় পরে যায় । মাধবী চিৎকার করে উঠে ” আই তোরা উঠবি ”
মাধবীর চিৎকারে এবার ওরা সরে যায় । আরশি আর মাধবী এক বয়সি আর রুহি তাদের দু বছরের ছোট।
” কেমন আছিস মাধবী ”
মাধবী আরশির কথায় উত্তর না দিয়ে মালতীকে জিজ্ঞাসা করে ,” ওরা নাহয় এতোদিন পর এলো তা তুই আমাকে এভাবে সাপের মত ধরে আছিস কেন ”
মালতী হাত ছেরে দিয়ে বললো, ” আপি তোমাকে তো আমার দেখলেই কোলে উঠতে ইচ্ছে করে নয়তো কোলে নিতে ইচ্ছে করে ”
” হ্যা ঠিকই বলেছিস ”
রুহির কথায় আরশিও বলে ” আমারতো ইচ্ছে করে…. থাক আর বললাম না ”
এরমধ্যেই ঝুমা চৌধুরী আসে হাতে ফোন নিয়ে । মাধবী হতাশ শ্বাস ফেলে। এই এখন তার মায়ের শুরু হবে কান্না। ঝুমা চৌধুরীকে মেরে ফেললেও চোখ দিয়ে এক ফোটা পানি বের করা যায় না। আর এই গন্ডার ফোন দিলেই হলো তাকে আর পায় কে । তিনি ওদেরকে নিচে গিয়ে খেতে বসতে বলে উনি একটু পর আসছে। ওরা চলে যায় । মাধবী একটা বই হাতে নেয় । বইটা তার পরা শেষ তবুও উল্টেপাল্টে দেখছে । আর তার মা ফোনে কথাই বলে যাচ্ছে। এক পর্যায়ে নিচের থেকে মাহফুজ চৌধুরীর ডাক আসতেই তিনি মাধবীর হাতে ফোনটা দিয়ে চলে যায় । মাধবী ফোন হাতে হাবলার মত কিছুক্ষণ দরজার দিকে চেয়ে থাকে । আর এদিকে এই গন্ডারটা ” হ্যালো হ্যালো ফুফি শুনতে পাচ্ছো ” বলেই যাচ্ছে। মাধবী কিছুক্ষন চুপ থেকে নিজেকে সামলে নিয়ে বলে , ” আপনার ফুফি এখানে নেই ”
” কে ? কে মাধবী ” লোকটার একটুও সময় লাগলো না কন্ঠটা চিনতে। ” কেমন আছিস মধু ”
” আমাকে ওসব মধু টধু ডাকবেন না আর আমি ভালো আছি ”
” চটকানা খাবি ভালোভাবে কথা বলতে পারিস না ”
” এইযে মাননীয় মধুমুক্ত অতিরিক্ত করলাযুক্ত অতি উন্নত মানের খাটাশ লোক বজ্জাত হাতির মত সুর দিয়ে আকাশ-পাতাল এক করা ধমক আর চোখগুলোকে লাল,নীল, হলুদ, সবুজ, কমলা করা গিরগিটি আপনি কী একটু দয়া করে আমাকে ভালোভাবে কথা বলা শেখাবেন ”
ওপাশের লোকটা ভ্যাবাচেকা খায় । প্রায় দশ বছর পর তার সাথে মাধবীর কথা হয় । আর মেয়েটা কিনা কোন জরতা ছাড়াই এতগুলো কথা দলে দিল? বুঝলো মেয়েটা আগের মতই চঞ্চল। তাই সেও একই ভাবে পাল্টা জবাব দেয় ।
” এই যে মাননীয় মেনার্স মুক্ত অতিরিক্ত বকবক যুক্ত অতি উন্নত মানের উত্তেজিত মহিলা, আমি কোন বাদঁরের মত লাফালাফি, ফরিং এর মান তিরিং বিরিং আর গলা ফাটিয়ে ভাষন দেয়া বঙ্গবন্ধু কে কিছু শেখাতে পারবো না ”
কীহহ!! যেখানে তার কন্ঠ শুনলে নিজের কন্ঠ অফ করে দেয় সেখানে কিনা এই লোক তাকে বলছে সে নাকি গলা ফাটিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ দেয় ????
” এই গিরগিটি এই আপনার কী মনে হয় আমি এখনও আগের মতই আছি। আপনি শুধু আসুন একবার দেশে সামনে যেতে না পারি পেছন থেকে আপনার বুকে তীর ছুরবো দেখিয়েন। ”
” আমি জানতামই না পেছন থেকে তীর ছুরলে পিঠে না লেগে বুকে লাগে ”
” ঐ একটা ……. মাধবীর কথা শেষ হওয়ার আগেই পেছন থেকে আরশি জিজ্ঞাসা করে ” কিরে মাধবী তুই কি আরিয়ান ভাইয়ের সাথে কথা বলছিস ? ”
সবাই অবাক হয় । অবাক হওয়ার দুটো কারন এক, মাধবী যেখানে নিজের চাচাতো ভাই দের সাথেই কথা বলে না সেখানে আরিয়ান ভাইয়ার সাথে কথা বলেছে । দুই, যেখানে আরিয়ান ভাইয়ার সাথে তার মাও উচু গলায় কথা বলেনা সেখানে মাধবী কিনা তীর মারার হুমকি দিচ্ছে?? এখন নিশ্চয়ই আরিয়ান ভাইয়া নিজে আসতে না পারলেও একটা বড়সর থাপ্পড় প্যাকিং করে সাথে একটা চিঠিতে বড় বড় কয়েকটা ধমক দিয়ে পার্সেল পাঠাবে।
মাধবী ওদের অবাক দৃষ্টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে আরশির হাতে ফোন দিয়ে মালতীর হাত থেকে তার জন্য আনা খাবার খেতে বসে পরে । যেন কিছুই হয়নি। এর এদিকে সবাই এখনও তার দিকে তাকিয়ে ।
আরশি ভয়ে ফোন কেটে দেয় । সে কথা বলতে চেয়েছিল। যদিও কখনো কথা বলেনি। বাড়িতে আরিয়ান ভাইয়া তার মা মাহমুদকে মাঝে মাঝে কল দেয় । তখন সে শুধু পাশ থেকে কন্ঠটা শোনে। কন্ঠটা কীযে মধুর লাগে তার কাছে। কিন্ত আরিয়ান ভাইয়া মাহমুদা কাকীর চেয়ে ঝুমা চৌধুরীর কাছেই কল দেয় এবং উনার সাথেই বেশি কথা বলে। আরশি কত দিন অপেক্ষা করে থাকে আরিয়ান ভাইয়ার ফোনের। সেই অপেক্ষা গুলোও তার কাছে মিষ্টি মনে হয় । একটু বেশিই ভালোবাসে কিনা মানুষটাকে । সে মাঝে মাঝে ভাবে মানুষটাকে কিভাবে বলবে তার অনুভূতি। উত্তরেই বা কী বলবে লোকটা। ভাবতেই সে মুচকি হাসে।
” এই মেয়ে এই আমার ফুলগুলোকে এসব কী করছিস”
হঠাৎ মাধবীর তীব্র চিৎকারে আরশির ধ্যান ভাঙে। বুকে থু দিয়ে তাকাতেই দেখে মাধবী মুখে ভাত নিয়ে অগ্নি দৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে। সে মাধবীর হঠাৎ রাগের কারণ বুঝলো না । আশে পাশে তাকাতেই দেখলো কতগুলো মাধবীলতা ফুলের পাপরি ছিরে নিচে পরে আছে। সে এতক্ষন ভাবতে ভাবতে জানালার কাছের টপে লাগানো মাধবীলতা গাছ থেকে ফুলগুলো ছিরছিলো। সে আরিয়ান ভাইয়া কে নিয়ে এতটাই গভীর ভাবনায় ছিলো যে টেরই পায়নি। ভাবতেই আরশি আবারও মুচকি হাসলো। মালতীর দিকে তাকাতেই দেখলো সে কানে হাত দিয়ে দাড়িয়ে আছে। সে ভ্রু কুচকাতেই মালতী বললো,
” এই গাছটা আব্বা আপিকে দিয়েছিলো। আর তুমি সেই গাছের এই দশা করেছো। আপি সব সহ্য করতে পারে কিন্ত আব্বার দেয়া কোন জিনিসে কেউ হাত লাগালেও সেই হাত ভেঙে দিতে পারে। আপি এখন এই ঘরে ছোট খাটো একটা বিশ্বযুদ্ধ ঘটাবে। আজ তুমি শেষ। আমি তোমার জানাযার ব্যবস্থা করছি । টা টা বায় ”
বলেই সে অন্দর থেকে বেরিয়ে যায় । আর বাকিরা মালতীর মত কনে হাত দিয়ে পরবর্তি দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় বসে থাকে ।।
