তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১৬
রিমঝিম বৃষ্টি
সকাল হতেই ঘরের মধ্যে যেনো তুফান তুলেছে ফারিশা। আর ইয়াশ তার মায়ের কথা শুনে কেবল ঠোঁট দুটো প্রশস্ত রেখে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রয়েছে মায়ের দিকে। ফারিশা এইমাত্র তাকে ধুইয়ে রুমে আনলো। তার গা মুছতে মুছতে বললো,
” কতবার করে যে বারণ করলাম ঝালমুড়ি খেও না, ওটা বাইরের জিনিস পেট খারাপ করবে শুনেছো তুমি। মায়ের কথা না শুনলে দেখেছো তো কী হলো, এই দিয়ে চার বার বাথরুমে গেছো তুমি। এর ওপর যতবার বাথরুমে গেছো বালতি থেকে পানি নিয়ে জামা ভিজিয়েছো কেনো। এত জামা কোথায় পাবো তোমার আমি। এইবার এই কাজ করলে তোমাকে খালি গায়েই রেখে দিবো। আর না করবে না তো মায়ের কথাকে বলো..?”
ইয়াশ মাথা দুলিয়ে বললো,
” না! ”
ফারিশা ইয়াশের কথা শুনে একবার গম্ভীর দৃষ্টিতে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে গেঞ্জি পড়িয়ে দিতে লাগলে ইয়াশ ফের ঠোঁট উল্টে বললো,
” মা পেত ব্যাতা, বাততুম ( বাথরুম) যাবো..? ”
ছেলের কথা শুনে ফারিশা ফোঁস করে শ্বাস ফেললো তারপর গেঞ্জি ফের খুলে বললো,
” চলো যায়..! ”
ফারিশা ইয়াশকে বাথরুমে বসিয়ে দরজা টা খুলেই রান্নাঘরের দিকে ছুটলো। ছেলের পেট একদম খালি হয়ে গেলো বাথরুমে যেতে যেতে তাই গরম গরম ভাত আর কাঁচকলা ভর্তা করছে সে। রান্না ঘরে গিয়ে দ্রুত ভর্তা টা করতে করতে ছেলের ডাক শুনে আবারও হাত ধুইয়ে তার কাছে এলো তাকে ধুইয়ে বিছানায় বসিয়ে দিলো। ঘরেই মেডিসিন ছিলো তা বের করে টেবিলের ওপর রেখে তার জন্য ভাত এনে দিলো। ইয়াশকে ভাত খাইয়ে সিরাপটা খাইয়ে দিতে গেলে সে আগেই নাক-মুখ ছিটকে বললো,
” আমি খাবো না ওসুত, তিতা বমি করে দিবো..!”
ফারিশা মুখের সামনে ধরে কিছুটা চোখ বড় বড় করে বললো,
” হা করো হা….! ”
ইয়াশ হা করতেই ফারিশা আল্লাহ্ সাফী বলে ঔষধ খাইয়ে দিলো।
চৌধুরী প্যালেস————–
” একি তুই কাজ করছিস যে। জ্বর কমেছে তোর
দেখি.? “,
বলেই ইভা এগিয়ে এসে ইরাদের কপালে হাত দিয়ে চেক করতেই দেখলো জ্বর আর নেই। ইভা ছেলেকে ল্যাপটপে কাজ করতে দেখে বললো,
” ফারিশার বাড়ি গিয়েছিলাম কাল রাতে আমি আর তোমার বাবা। ”
ইরাদ মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
” কী বললো..?”
” বললো যে, তোমার দাদীকে গিয়ে বলতে সে যদি তার বাড়ি গিয়ে তার কাছে ক্ষমা চায় তবেই সে আসবে নয়তো না। তবুও জোর করে কয়েকবার বললাম তো বললো, ভেবে দেখবো.! ”
ইরাদ আবারও ল্যাপটপে কাজ করতে লাগলে ইভা উঠে যেতে যেতে বললো,
” নিচে আসবি না খাবার রুমে পাঠাবো.?”
” নিচে আসছি যাও তুমি..!”
নিচে টেবিলে সবাই খাবার খাওয়ার জন্য বসে আছে। ইরাদ নেমে ইভানের পাশের চেয়ার টা টেনে বসলো। ইভা ছেলেকে দেখে খাবার দিতে লাগলো তার প্লেটে। তাদের খাওয়ার মাঝে তারেক ইমদাদুল কে বললো,
” ভাই হুট করে এমন কোম্পানিতে লোস হচ্ছে যে তা ঠিক বুঝলাম না। কোনো কোম্পানিই আমাদের কোম্পানির সাথে ডিল করছে না আর যারা করেছিলো তারা ক্যান্সেল করে দিয়েছে। ”
ইমদাদুল খাবার মুখে পুড়ে নিয়ে ভাবান্তর হয়ে বললো,
” সেটায় ভাবছি এমন হতে থাকলে তো অবনতি হবে কোটি কোটি টাকা আমাদের লোস হবে.!”
ইরাদ পাশ থেকে খেতে খেতে স্বাভাবিক গলায় বললো,
” লোস হলোই বা তখন না হয় রিক্সা কিনে দিবো তোমায় রিক্সা চালিও। ”
ইমদাদুল পাশ ঘুরে ছেলের দিকে বাঁকা চোখে তাকালো। ইরাদের কথা শুনে খাবার টেবিলের সবাই মুখ টিপে হেসে উঠলো। ইমদাদুল সবার দিকে রাগে গরম চোখে তাকাতেই সবাই আবার চুপ। ইভান পাশ থেকে ইরাদের দিকে সরে এসে ফিসফিসিয়ে বললো,
” ভাইয়া কাল ভাবীর কাছে গেছিলাম শুনেছো..?”
” হুম.!”
ইভান সামনে থেকে পানির গ্লাসটা নিয়ে পানি খেতে খেতে বললো,
” তাহলে ভাবীর বাড়ি যাচ্ছো কখন..?”
ইরাদ ঘাড় বাকিয়ে কিছুটা ভ্রু কুঁচকে তাকালো আর বললো,
” মানে..?”
” আরে ভাবী তো আম্মুকে বলেছে, উনি সুস্থ হলে আমার বাড়ি পাঠিয়ে দিবেন কথা আছে.! ”
ইভান সেইম মেয়েলি ভাষায় বললো সাথে মেয়েদের মতো ভঙ্গি দেখিয়ে কিন্তু ইরাদের চিৎকার শুনে সে একদম থ হয়ে গেলো। ইরাদ শোনার সাথে সাথে ধপাশ করে দাঁড়িয়ে পড়লো। ইরাদের চেয়ারের শব্দে সবাই তার দিকে তাকালো। ইরাদ ইভানের দিকে তাকিয়ে কটমটিয়ে বলে উঠলো,
” হোয়াট…! এই কথা এখন বলছিস তুই গাধা একটা..! “,
বলেই দুম করে ইভানের পিঠে দিলো এক কিল। ইভান চোখমুখ খিঁচড়ে নিলো একদম। পাশ থেকে ইভা এসে বললো,
” কী রে ওমন করছিস কেন তোরা দু’জন..? ”
” আম্মু ফারিশা আমায় যেতে বলেছে.?”
ইভা ছেলের কাছে এগিয়ে এসে বললো,
” তা তো বলেছে কিন্তু তোর শরীর ঠিক হোক আগে.!”
ইরাদ খাবার রেখেই বেসিং এর কাছে গেলো হাত ধুতে তা দেখে ইভা তার ছোট ছেলে ইভানের দিকে তাকিয়ে রাগে বললো,
” তোর পেটে কোনো কথায় থাকে না রে ইভান। ছেলেটা খাচ্ছিলো খেতে দিতি পরেই না হয় বলতি.!”
ইভান মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললো,
” আমি কী জানি তোমার ছেলে লাফিয়ে উঠবে..!”
ইরাদ দ্রুত ওপরে গিয়ে তৈরি হয়ে তাড়াতাড়ি নিচে চলে এলো। ইরাদ নিচে নামতেই ইভা বললো,
” একা যাস না অসুস্থ শরীরে, ইভানকে নিয়ে যা..!”
ইরাদ বেরিয়ে যেতে যেতে তাড়া গলায় বললো,
” আহ্ আম্মু আমার শরীর ভালো হয়ে গেছে একাই যেতে পারবো আমি..!”,
বলেই বেরিয়ে গেলো। ইরাদ বেরিয়ে যেতেই ইভা ফিরে এসে রান্নাঘরের দিকে যেতে লাগলেই আয়েশার চেঁচিয়ে উঠলো যেনো রুম থেকে । আয়েশা কোমর নিয়ে গত দু’দিন হলো ভালো করে বসে থাকতে পারে না জন্য ঘরে শুইয়ে-বসেই থাকে বেশিরভাগ সময়। আয়েশার গলা পেয়ে সবাই খাওয়া ছেড়ে ছুটে গেলে তার রুমে। আয়েশা আলমারির সব জামাকাপড় ফেলতে ফেলতে বললো,
” আমার গয়নার বাক্স পাচ্ছি না রে ইমদাদুল। চুরি হয়ে গেলো রে। হায়! হায়! আমার সর্বনাশ হয়ে গেলো রে.!”
ইমদাদুল এগিয়ে এসে বললো,
” তুমি খেতে খেতে গয়না দেখতে গেলে কেন হঠাৎ। ওই তাড়াহুড়ো তো খুঁজতেছো তাই হয়তো পাচ্ছো না। খেয়ে ঠান্ডা মাথায় মনে করো পেয়ে যাবে নে..!”
” আরে আমি সবসময় এই জায়গায় রাখি। গত দু’দিন হলো শুধু দেখি নাই। চুরি হয়ে গেছে আমার মনে হচ্ছে আর ওইটা চুরি হলে আমার আর কিচ্ছু থাকবে না রে পোলা একটু দেখ। এ কি এক-দুই ভরির স্বর্ণ নাকি পুরো দশ ভরির বেশি হবে তাও কম না। তাড়াতাড়ি খুঁজে দে আমারে..! ”
সুমানা আর ইভা এগিয়ে এসে বললো,
” মা আপনি খাওয়া শেষ করেন তো, আমরা খুঁজে দিচ্ছি! ”
আয়েশা টুকটুক করে বেডের কাছে এগিয়ে গিয়ে প্লেটে অল্প খানিই আর ভাত ছিলো তার মাঝেই পানি দিয়ে হাত ধুইয়ে উঠলো আর বললো,
” গলা দিয়ে ভাত আর নামবো নান, আমারে আগে খুঁজে দে তোরা..?”
ইভা দরজার দিকে তাকিয়ে বললো,
” আপনারা গিয়ে খেয়ে উঠুন তাড়াতাড়ি আমরা দু’জন খুঁজছি..! ”
ইমদাদুল আর তারেক আর দাঁড়ালো না চলে গেলো খাবার টেবিলে তাদেরও অফিস আছে যেতে হবে দ্রুত আর ইভান বাঁকা হাসি দিয়ে চলে গেলো সাথে তমাও চলে গেলো খেতে।
দুপুর হতেই ইয়াশ ঘুম থেকে উঠলো। বেচারা সকাল থেকে বাথরুম করতে করতে দুর্বল হয়ে গেছে শরীরটা তার। ঘুম থেকে উঠে বেড থেকে নামতেই দেখলো ওয়াশরুম থেকে পানির আওয়াজ হচ্ছে সে বুঝতে পারলো তার মা গোসলে ঢুকেছে । ইয়াশ ঘুমো ঘুমো চোখ নিয়ে ঢুলতে ঢুলতে বেলকনিতে গিয়ে রেলিং ধরে দেখলো বাইরে আজ তাদের রাস্তা দিয়ে গাড়ির জ্যাম লেগেছে। কত গাড়ি আর গাড়ির আওয়াজ শুনে ইয়াশ বড় বড় চোখ করে সব দেখছে কত রকমের গাড়ি আছে সেখানে।
” ঘুম ভেঙেছে তোমার..?”
পিছন থেকে মায়ের কন্ঠ পেতেই পিছন ঘুরে মায়ের দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো কোলে উঠার জন্য। ফারিশা ছেলেকে কোলে তুলে বললো,
” পেট কমেছে তোমার আর ব্যাথা করছে না তো..?”
” না আল কলছে না..! তোমার হাত কলছে কী ব্যাতা.?”
ফারিশা ছেলের কথায় খিলখিলিয়ে হেসে উঠে ইয়াশের কপালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে বললো,
” আমার খেয়াল রাখার জন্য আমার জানপাখিটাই তো আছে আমি তো ভুলেই গেছিলাম হে । আমার পাখিটা আমার জন্য কত্ত ভাবে.. হুম.!”
ইয়াশ মায়ের গালে হাত রেখে বললো,
” আমি তো তোমাল লককী ছেলে তাই ভাবি.!”
“ওলে বাবা লে। চলেন এবার সুসু করে আসেন। ”
মায়ের কথা ইয়াশ ঠোঁট উল্টে বললো,
” না আমার সুসু পাই নি..!”
ফারিশা শুনলো না জোর করে বাথরুমে নিয়ে গেলো তাকে। তারপর দু’জনে রুমে এসে দুপুরের খাবার খেয়ে উঠলো। খাওয়া শেষ করে ফারিশা সব কিছু রান্না ঘরে নিয়ে যেতেই কলিং বেল বেজে উঠলো। এই ভর দুপুরে আবার কে এলো তা দেখার জন্য ফারিশা দরজা খুলতেই দেখতে পেলো ইরাদকে। ইরাদকে দেখে ফারিশার ভ্রু কিছুটা কুঁচকে গেলো। ইরাদ মুচকি হেসে ফারিশার পারমিশন না নিয়েই ভেতরে ঢুকে পড়লো আর বললো,
” আমায় আসতে বলেছিলে তুমি..?”
ফারিশা দরজা আটকে ভেতরে আসতে আসতে বললো,
” হে! কিন্তু আপনার না জ্বর ঠিক হয়ে গেলো এত
তাড়াতাড়ি.! ”
ইয়াশ কোনো ছেলের গলা পেতেই বেড থেকে নেমে বাইরে আসতেই ইরাদকে দেখে দৌড়ে এসে বললো,
” মিলাদ এসেচো তুমি। জানো তোমাল মা এসেচিলো কাল..?”
ইরাদ অবাক হওয়ার ভান করে ছেলেকে কোলে তুলে বললো,
” ওমা তাই কিন্তু আমায় তো বলেনি.! ”
ইয়াশ ইরাদের হাতে থাকা চিপস্ এর ব্যাগ থেকে ইয়াশ ইরাদের গালে হাত দিয়ে নিজের সামনে করে বললো,
” তুমি কী আমাল জন্য চিপস্ এনেচো মিলাদ..!”
ইরাদ ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো,
” হে তো এনেছি তুমি কী খাবে..?”
ইয়াশ কিছুটা মন খারাপ করে বললো,
” না আজ আল খাবো না আমাল পেত খারাপ হয়েচে অনেক। আজ অনেক হাগু কলেছি..?”
ছেলের কথা শুনে ইরাদ ফারিশার দিকে তাকিয়ে কিছুটা চিন্তিত গলায় বললো,
” তুমি ওকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাও নি। শরীর দুর্বল হয়ে যাবে তো.!”
ফারিশা স্বাভাবিক গলায় বললো,
” খেয়েছে ঔষধ, ঠিক হয়েছে এই বেলায় আপাতত নেই আর..! ”
ইয়াশ কে কোল থেকে নামিয়ে ব্যাগ থেকে একটা নতুন গাড়ি বের করে দিতেই ইয়াশ তা নিয়ে রুমে চলে গেলো খেলতে। ফারিশা এক নজর সেদিকে তাকিয়ে ইরাদ কে বললো,
” বসুন আপনি..?”
ইরাদ বসতেই পাশের চেয়ারে ফারিশা বসে আস্তে করে বললো,
” কাল কী কথা হয়েছে নিশ্চয় সব শুনেছেন..?”
ইরাদ মাথা দুলিয়ে বললো,
” হুম আমি দীদার সাথে কথা বলবো তুমি চিন্তা করো না কিন্তু প্লিজ ফিরে চলো..!”
” উনি এসে আগে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে নয়তো আমি যাবো না ও বাড়িতে..! আচ্ছা আপনার অফিসের ছুটি কতদিনের জন্য দিয়েছে..!”
ইরাদ কিছুটা ভেবে বললো,
” দেড়-দুই মাস হবে কেন? শুনো, ফারিশা দীদা কে আমি আনবো বলেছি তো আমার জন্য কী যাওয়া যায় না আর.! ”
ফারিশা ফিকে হাসি দিয়ে বললো,
” আপনার জন্য আমার মনে কী আদো ফিলিংস বেঁচে আছে বলুন..?”
” ফিলিংস আমি এনে দিবো.!”
” অভিমান মুছে দিতে পারবেন..!”
” অভিমান ভেঙে দেওয়ার দায়িত্ব টাও আমিই নিবো.!”
ফারিশা কিছুটা স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,
” আমার রাগ? ”
” রাগ কমিয়ে দিবো.!”
ফারিশার দৃষ্টি কিছুটা যেনো আরও গভীর হলো,
” আর ভালোবাসা না জাগলে..?”
ইরাদ সোফা থেকে উঠে ফারিশা হাটুর কাছে গিয়ে বসে পড়লো। ফারিশার হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় এনে বললো,
” নতুন করে না হয় ভালোবাসবো দু’জনে। ভালোবাসার তো আর সময়, দিন, তারিখ নেই। ভালোবাসা জন্মাতে যা লাগে সব করতে রাজি আছি। তুমি শুধু আমার হাত টা ধরো, ভালোবাসার দায়িত্ব টা না হয় আমিই নিলাম। এই ইরাদের জান চলে যাবে তবুও সে তার স্ত্রী আর সন্তানের সম্মান আর সুখের কাছে বাঁধা আসতে দিবে না আই প্রমিস ফারিশা..!”
ফারিশা ঘনঘন শ্বাস ফেললো। টলমল চোখ নিয়ে বললো,
” আপনাকে সেদিন এত মারলাম। দোষের ভাগিদার তো আমিও। আমাকেও শাস্তি দিন, দিবেন না আপনি আমায় শাস্তি..?”
ইরাদ ফারিশার হাত দু’টোর তালু সামনে উঁচু করে ধরে কিছুটা মলিন হয়ে ফারিশার দিকে তাকালো আর বললো,
” আঘাত করলে অন্যের শরীরে
অথচ, দাগ পড়েছে তোমার অন্তরে..!”
ফারিশা হাত দু’টো সরিয়ে নিতে গেলেও ইরাদ ছাড়লো না বরং সেই পোড়া তালুর ওপরেই নিজের উষ্ণ ঠোঁট জোড়া আলতো করে ছুঁইয়ে দিয়ে বললো,
” ভালোই যদি না বাসো তাহলে নিজেকে কেনো শাস্তি দিয়েছো..? ”
ফারিশা উত্তর দিলো না মাথা কিছুটা নিচু করে রইলো তা দেখে ইরাদ বললো,
” তোমায় আঘাত করবো এর মতো দু:সাহস আমার নেই ফারিশা। আমি ভীষণ লজ্জিত যে তোমার সংসার জীবনে একা সন্তানকে নিয়ে এতগুলো বছর চলতে হয়েছে, কষ্ট করতে হয়েছে । তুমি শুধু ফিরে চলো এর বিনিময়ে আমার আর কিচ্ছু চায় না..!”
ফারিশা নিজেকে সামলিয়ে কিছুটা গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
” বিশ দিনের জন্য আপনি আমাদের সাথে আমাদের বাড়িতে থাকবেন। একদম খালি হাতে আসবেন শুধু জামা-কাপড় নিয়ে । আমাদের মতো চলবেন, দেখবেন কীভাবে আমরা দিন কাটিয়েছি, ঠিক আপনাকেও আমাদের মতো করেই চলতে হবে যদি থাকতে পারেন তবেই আমি আপনার প্রশ্নের জবাব দিবো। পারবেন আপনি..? ”
ইরাদ কিছুটা দম ধরে থেকে ফারিশার মুখ পানে তাকিয়ে বললো,
তুমি এলে বসন্ত নামে পর্ব ১৫
” পারবো। আমি সব পারবো কিন্তু আমি উত্তর হ্যাঁ যেনো শুনি, না ছাড়া আমার আর কিচ্ছু চায় না ফারিশা শুধু তোমরা ফিরে গেলেই হবে..!”
” আচ্ছা তাহলে চলে আসবেন কালকে..!”
