তোমার আমার গল্প পর্ব ২২ (২)
noorayn
আয়শা ডাক্তার নিলুফার কে কল দিলে তিনি জানালেন উনি এখন হসপিটালে নেই তবে উনি অন্য ডাক্তার কে ইনফর্ম করছেন যাতে আলিশা গিয়ে চেকআপ করাতে পারে।
কথা শেষে আয়শা সব জানালেন আলিশা কে তবে আলিশা বললো সে নিলুফা আন্টি ছাড়া কাওকে দেখাবেনা এখন অন্য ডাক্তার নাকি অনেক প্রশ্ন করে যা বিব্রতকর।
“এসব কেমন কথা আলিশা? ডাক্তার তো ডাক্তার ই। (আয়শা)
“না মাম্মা, আমি অন্য কারো কাছে কম্ফোর্টেবল না।
“তাল করোনা আলিশা, চলো দেখিয়ে আসি।”
“যাবোনা আমি”
“আলিশা একটা কথাও শুনোনা তুমি।” (রেগে বললেন আয়শা)
“আমি ঠিক আছি এখন, ডাক্তার লাগবেনা।”
“না যাওয়ার জন্য আর কত বাহানা করবে?”
“সত্যি ঠিক আছি, আর দাদি বলেছেন এমন একটু আধটু হয়।”
“সত্যি ঠিক আছো?”
“হুম”
“তাহলে খেয়ে নাও এখন”
“একটু পরে খাই?”
“না”
আয়শা জোর করে আলিশা কে একটু পায়েশ খাইয়ে দিলেন।
খেয়ে আলিশা আবার শুয়ে পড়লো, হসপিটাল না যাওয়ার জন্য মা কে মিথ্যা বলেছে তবে আলিশার শরীর টা বেশ খারাপ লাগছে।
এই সময় তার আরহাম এর কথা বড্ড মনে পড়ছে, এই গন্ডার টার সাথে কাল থেকে কথা হয়নি আর আলিশা বলবেও না কারন সেই মানা করা শর্তেও আরহাম গিয়েছে তাও মানা যেতো তবে আরহাম তাকে কষ্ট দিয়েছে তার বাবুকে আনওয়ান্টেড বলেছে যেটা সে মেনে নিবেনা।
আলিশা পেটে হাত রেখে ভাবতে লাগলো কাল রাতের কথা…
গতকাল রাতে :
আরহাম সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেই হুরুস্তুর কান্ড করছিলো।
“এমন গন্ডার এর করছো কেন?” (আলিশা)
“আজ রাতে রাজশাহী যেতে হবে” (আরহাম)
“কিইই! কেন?”
“কন্সার্ট আছে কাল’
” আমাকে তো আগে জানাও নি!
“আমি নিজেও জানতাম না, আজ বিকেলেই কনফার্ম করেছে টিম”
“তুমি তো ৩ মাস আগে বুকিং ছাড়া যাওনা”
“হ্যাঁ, তবে এই প্রজেক্ট টাতে ওরা ৫ গুন বেশি টাকা অফার করেছে”
“টাকার জন্য কবে থেকে এতো ডেস্পারেট তুমি?”
“টাকা ফেক্ট না লিশা, এই টাকা ড্যাড কে বললে সাথে সাথে দিয়ে দিবে”
“তাহলে কেন যাবা?”
“কারন এটা অনেক বড় কর্পোরেট কম্পানি এর কন্সার্ট যেখানে বাইরের দেশ থেকে অনেক নামী-দামি মানুষ আসবে যা আমার ব্যান্ড এর জন্য একটা এলিট চান্স।”
“যাই হোক, তুমি যাবেনা”
“বললেই হলো?”
“আমি বললে অবশ্যই হবে”
“কেন তুই এমন কি?”
“তোর বউ”
“বউ এর কথা শুনতে নেই, এরা ভেজাল করে”
‘আমি ভেজাল করি?”
“করিস না বলছিস?”
“হ্যাঁ।”
“হাসালি”
“তুমি যাবেনা, ব্যাস।”
আরহাম শুনেও শুনলোনা, সে ব্যাস্ত তার প্যাকিং করতে।”
“যাবে তুমি?”
আরহাম এবার আলিশার হাটু গেরে বসে তার গালে ডান দিয়ে বললো,
“বোঝার চেষ্টা কর লিশা, এখানে যাওয়া দরকার নাহলে আরহাম এর শিডিউল পেতেও সবার কাঠখড় পোহাতে হয়।”
আলিশা চুপ করেই রইলো।
আরহাম আর কথা না বাড়িয়ে প্যাকিং শেষে ল্যাপ্টপ হাতে নিয়ে বসলো।
আলিশা হচ্ছে উড়নচণ্ডী মেয়ে সাথে বেশ সরল মনের যেমন এখন রাগলে একটু পরেই নরমাল হয়ে যাবে সব ভুলে আর সবার সাথে রেগে থাকলেও আরহাম এর কাছে দেই এক খোলা বই যার কাছে আলিশার কোনো রাগ ঢাক নেই তাই এখন নিজের থেকেই বকবক করতে আছে আর আরহাম হুম হা উত্তর দিতেই আছে।
আলিশা আজ কি কি হলো সব বলা শেষে হঠাৎ বলে উঠলো,
“জানো বেবি আজ অনেক নড়ছে”
“আচ্ছা”
“কি আচ্ছা?”
“উফ একটু চুপ থাক না”
“না থাকবোনা”
“আচ্ছা”
“আচ্ছা তোমার কি মনে হয়?”
“কি মনে হবে?”
আরহাম এর মনোযোগ ল্যাপ্টপ এর দিকে।
আমাদের ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে?” (বেশ এক্সাইটেড হয়ে কথাটি জিগ্যেস করলো আলিশা)
“আরহাম চুপ”
“কি হলো উত্তর দাও”
“কিসের?”
“আমাদের কি বাবু হবে ছেলে নাকি মেয়ে?”
“আমি কেমনে জানবো?”
“আমিও তো জানিনা তবে প্রেডিক্ট তো করতেই পারি”
“তাহলে কর”
“তুমি বলো তোমার কি চাই?”
“যেখানে বাচ্চা ই চাইনি সেখানে ছেলে মেয়ের কথাটা ভাবা বিলাসিতা”
আলিশা যেন থমকে গেলো কিছু সময় এর জন্য।
আলিশার থেকে কোনো রেসপন্স না পেয়ে আরহাম তাকালো আলিশার দিকে।
তাকাতেই দেখলো আলিশা ছলছল দৃষ্টি তে চেয়ে আছে তার দিকে, আরহাম এর এখন খেয়াল হলো সে কাজের ঘোরে কি থেকে কি বলে ফেলেছে!
সে তাড়াতাড়ি উঠে আলিশার কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলো,
“লিশা আমি সেটা মিন করিনি”
“তাহলে কি মিন করেছো?”
“তুই ভুল ভাবছিস”
“তাহলে সঠিক কোনটা?”
“আসলে বাচ্চাটা আনওয়ান্টেড তাই মুখ থেকে এমন বেড়িয়ে গেছে”
আলিশা ঝটকা মেরে তার হাত সরালো।
আরহাম এবার জিভ কাটলো, সে আজ এসব কি বলছে কি করছে কিছুই বুঝতে পারছেনা।
আগুনের উপর ঘি ঢেলেছে সে।
“উফ আমি আজ কি বলছি এসব”
“সরো এখান থেকে”
“আমি এসব মিন করিনি লিশা”
“তাহলে কি মিন করেছো?”
“আমি বলতে চেয়েছি বাবু টা প্রিপ্লেন্ড ছিলোনা তাই ছেলে নাকি মেয়ে হবে এসব ভেবে দেখিনি।”
“তাই বলে আশা ও করোনা?”
“কথা বাড়িয়ে বুঝিস না”
“তুমি….
“একটু পর রওনা দেবো আর এখন ঝগড়া করছিস?”
“এত ব্যাস্ততা?”
“উফ লিশা…
“আমরা যখন থাকবোনা তখন বুঝবে”
আরহাম প্রতিউত্তর করার আগেই তার ফোন বেজে উঠলো
“হ্যালো” (আরহাম)
“এই ব্যাটা, কয়টা বাজে খেয়াল আছে তোর?” (আদি)
“কি হয়েছে?”
“আমরা সবাই স্টুডিও তে চলে এসেছি, তুই কই?”
“বের হচ্ছি বাসা থেকে”
“কিইইই? এখনো বের হসনি?”
“বেশি সময় লাগবেনা আমার”
“একটু পরের ফ্লাইট আর তুই এখনো বের ই হোসনি!”
“আসছি আমি, ওইদিকে সব রেডি আছে?”
“হ্যাঁ সব আমরা সেট করে নিয়েছি, তুই জলদি আয়”
“আসছি”
কল রেখে আরহাম আলিশার কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে তার কপালে চুমু খেয়ে বললো,
“সবাই অপেক্ষা করছে আমার, বের হচ্ছি”
আলিশা চুপ।
“আসার সময় তোর আর বাবুর জন্য এতগুলা জিনিস আনবো”
“লাগবেনা”
“রাগ করেনা জান, আমি জলদি ফিরবো।
“নিজের খেয়াল রাখবি” বলেই লাগেজ হাতে বেরিয়ে গেলো আরহাম।
আলিশার ভাবনার মাঝেই বাবু কিক মারলো এতেই যেন আলিশার ধ্যান ভাঙলো।
“তোর বাবা পচাঁ, দেখলি ওখানে গিয়ে আমাদের ভুলে গেছে”
আমি ব্লক করেছি তাকে তাই বলে কি সেও পারতোনা অন্য কারো ফোন দিয়ে কল দিতে?
আলিশার অভিমান যেন আরো বাড়লো।
আরহাম স্টেজে উঠেছে গিটার সহ আর তার পরে বাকি সবাই।
স্টেজ এর সামনে প্রায় লক্ষাধিক দর্শক ওয়েট করছিলো তাদের ড্রিম বয় আর প্রিয় গায়ক আরহাম এর।
আরহাম আসতেই সবাই একসাথে চেচিঁয়ে উঠলো আরহাম আরহাম বলে।
নিজের ফ্যানবেস দেখে বাঁকা হাসলো আরহাম।
“হ্যালো রাজশাহী” (মাইক হাতে চিল্লিয়ে বললো আরহাম)
“হ্যালো…..(সবাই একসাথে চেচিঁয়ে উঠলো)
পাশ থেকে আরাফ গিটার হাতে আরহাম এর কানে কানে এসে বললো,
” আমরা অলরেডি লেট ব্রো, শুরু করা যাক”
“হম, মাইক এর ভলিউম সেট কর’
“করেছি”
“অল ডান?”
“ইয়েস”
“লেটস স্টার্ট”
গানের মিউজিক শুরু হলো সাথে আরহাম এর গান,
প্রতি গানের বিটে যেন দর্শক তাল মিলাচ্ছে নিজেদের প্রিয় গায়ক এর সাথে।
এক ঘন্টা পর
আরহাম এর ব্রেক টাইম এর সময় হয়েছে এখন তার জায়গায় গান গাইবে আরাফ।
আরহাম গিটার রেখে রেস্ট রুমে গিয়ে ঠান্ডা পানি খেয়ে রিলেক্স হয়ে বসলো।
ফোন হাতে দেখলো আলিশা এখনো ব্লক খুলেনি।
“এই ধানিলঙ্কার এতো জেদ উফফফ”
মনে মনে আলিশা কে গালি দিলেও তার মন কেমন যেম খচখচ করছে আজ।
আলিশা ঘুমিয়েছিলো কিছুক্ষন এর জন্য কিন্তু না তার পেটে ব্যাথা যেন বেড়েই চলছে,
সে কি তবে হসপিটাল না গিয়ে ভুল করলো?
“কি হয়েছে বাবু? আজ মাকে এত জ্বালাচ্ছিস কেন? (পেটে হাত রেখে বললো আলিশা)
“তোর কি কিছু লাগবে?”
“আজ এতো চুপচাপ কেন?”
তোমার আমার গল্প পর্ব ২২
“কই না তার ছানা তো কোনো উত্তর দিচ্ছেনা আজ, এমনি আলিশা কথা বললে তো একবার কিক দিয়ে হলেও মার কথার উত্তর দেয় তবে আজ এত শান্ত কেন?
“আমি ই হয়তো বেশি ভাবছি, বাবু হয়তো ঘুমিয়ে আছে।”
“উফ পেটে ব্যাথায় যেন নড়াও মুশকিল হয়ে গেছে”
