Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ২৪

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৪

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৪
noorayn

ঘরে ছোট বাচ্চার আগমন হয়েছে শুনে মেহরোজা আক্তার এর খুশি যেন উপচে পড়ছে।
তিনি পারছেন না এখনি হসপিটাল যেতে কিন্তু ঘরে কেও নেই বিধায় পারছেন না তবে আরহাম কে আদেশ দিয়েছে যাতে সে দ্রুত এসে মেহরোজা আক্তার কে নিয়ে যায়।
আরহাম ফোন রাখার পর থেকে একি জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, তার কেমন যেন ভিন্ন অনুভূতি হচ্ছে, আরহাম নিজের দিকে আগা গোড়া চোখ দিয়ে স্কেন করলো তারপর আবার ফোন এর সেল্ফি ক্যামেরা অন করে নিজেকে দেখছে।
তার এসব কান্ডকারখানার মাঝেই আরাফ এসে হাজির।
আরহাম এর মাথায় গাট্টা দিয়ে বললো,

“কিরে বাচ্চার বাপ এখানে কি করছিস?”
“এই দেখ তো আমাকে কেমন লাগছে?”
“একদম আলিশার ললাত এর মত লাগছে”
“এ্যাহ! ললাত আবার কি?”
“ললিতা এর মেইল ভার্সন।”
“শালা হারামি”
“সত্যি বলছি তোকে একদম আলিশার ললাত এর মত লাগছে রে” বলেই হাসতে লাগলো আরাফ।
“এই ব্যাটা সিরিয়াস হও আর আমায় কেমন লাগছে বল”
“বেটা রুপি বেটি লাগছে”
আরহাম পা দিয়ে একটা লাথি দিলা আরাফ কে।
“এই কি করছিস থাম” (আরাফ)
“এসব কেমন উত্তর?”
“তো তুই মাইয়া দের মত কেমন লাগছে বারবার জিগ্যেস কিরছিস কেন?”
আরহাম যেন এবার গুরগম্ভীর হলো, গলা খাকারি দিয়ে বললো, না মানে বাপ বাপ লাগছে নাকি সেটা জিগ্যেস করছি?

“লাগছে তো” বলে আবারো হাসতে লাগলো আরাফ।
“সিরিয়াস হও আরাফ”
“আমি সিরিয়াস ই আছি, তুই নিজেই পাগলামি করছিস”
“এখানে পাগলামির কি আছে?”
“তোর কি ডেলিভারি হয়েছে?”
“আবার…
“আরেহ আগে উত্তর দে,
” না”
“তাহলে তোকে আলাদা লাগবে কেন? সবসময় যেমন লাগে এখনো তেমনি লাগছে”
“না মানে, কেও আমাকে বাপ বলে ডাকবে এটা ভাবতেই কেমন অদ্ভুত লাগছে ভাই”
“এখনো ডাকার বয়স হয়নি, যখন ডাকবে তখন এসব ভাবিস, এখন চল ওইদিকে সবাই তোর অপেক্ষায় আছে”
বলেই আরহাম কে সাথে করে নিয়ে গেলো আরাফ।

আলিশা কে কেবিনে শিফ্ট করেছে প্রায় এক ঘন্টা হবে,
আয়শা আর শাইনা এতক্ষন আলিশার সাথেই ছিলো তবে আরহাম এখনো আসেনি দেখা করতে।
আলিশার জ্ঞান ফিরেছে এই ১৫ মিনিট এর মতো হবে এরমধ্যে সে তেমন কথাবার্তা বলেনি শুধু হু হা উত্তর দিচ্ছে আর কেবল বাবুর কথা জিগ্যেস করেছে, শাইনা বেগম জানালেন বাবুকে কিছু টেস্ট এর জন্য নিয়ে গেছে তবে একটু পরেই দিয়ে যাবে।
“পুতুল শোন” (শাইনা)
আলিশা তাকাতেই,
“আরহাম এসেছে”
আলিশা শুনলো তবে কোনো প্রতিউত্তর করেনি।
“বাবুকে কিন্তু সবার আগে আরহাম ই কোলে নিয়েছে” (আয়শা)
-আলিশা তাও চুপ।
শাইনা আর আয়শা একে অপর এর দিকে তাকালো তারপর আলিশার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে সোজা ক্যাবিন থেকে বের হয়ে গেলো।
শাইনা বাইরে বেড়িয়েই আরহাম কে খুজতে লাগলো।

“আজ এই ছেলের একদিন তো আমার একদিন”
“আপা শান্ত হও, আজকের মত দিনে এমন কেন করছো?’
“আলিশার এই সময়ে আরহাম এর পাশে থাকা সবচেয়ে বেশি দরকার ছিলো কিন্তু এই ছেলের কোনো খবর নেই”
“আরহাম কিন্তু এসেছে”
“শেষ মুহুর্তে এসেছে”
“বাদ দাও না আপা”
“কেন বাদ দেবো ছোট? এখনো তার কোনো খবর নেই আর না এসেছে পুতুল এর সাথে দেখা করতে”
আয়শা আর কিছুই বলেনি সে বুঝে গেছে আজ আরহাম এর রেহায় নেই।
শাইনা আর আয়শা সামনে এগুতেই দেখতে পেলো আরহাম বেঞ্চ এর উপর বসে আছে মুখে হাত দিয়ে আর আরাফ তার পাশেই কোমড়ে হাত দিয়ে মিটিমিটি হেসে চলছে।
শাইনা এসেই আরহাম এর কাম মুচরে দিলো।

“আহহ মা ছাড়ো।”
“এখানে কি করছিস হতচ্ছাড়া?”
“তাহলে কোথায় থাকবো?”
“পুতুল এর কাছে”
“আহা আপা হচ্ছে কি এসব? ছাড়ো ওকে, বলেই আরহাম কে ছাড়িয়ে নিলো আয়শা।
“আন্টি ছাড়লেন কেন? আবার ধরেন।” (আরাফ)
“বদের হাড্ডি চুপ কর” (আরহাম)
“পুতুল এর কাছে এখনো যাসনি কেন?”
“নতুন আব্বা লজ্জা পাচ্ছে তাই” বলেই আরাফ আবার হাসতে লাগলো।
শাইনা আর আয়শা অবাক হয়ে তাকালো আরহাম এর দিকে।
“লজ্জা কিসের জন্য পাচ্ছিস? তুই কি নতুন জামাই?” (শাইনা)
-আরহাম মুখ নিচু করে রেখেছে।

“কিরে বল।
“ওই সে মা মানে”
“কি মানে মানে করছিস? বল কিসের জন্য লজ্জা পাচ্ছিস?”
“লজ্জা লাগছে”
“সেটা কেন লাগছে তাই জিগ্যেস করছি”
“ওই মানে বাবুর জন্য”
“সোজাসাপটা বল নাহলে এবার কান মলে দিবো”
“আহারে আন্টি বেচারা নতুন আব্বা লজ্জা পাচ্ছে বলতে, আমিই বলছি”
“বলো বাবা”
“আরহাম আলিশার সামনে যেতে লজ্জা পাচ্ছে কারন সে বাবা হয়েছে”
“কিইই?” (শাইনা)
“মানে কি এসব এর?” (আয়শা)
আরহাম বড় বড় চোখ করে তাকালো আরাফ এর দিকে।
“আন্টি দেখেন কিভাবে তাকাচ্ছে আমার দিকে” বলেই শাইনার পিছনে গিয়ে দাড়ালো।
“ওদিকে কি হ্যাঁ? এদিকে তাকা।”

“আরহাম তার মায়ের দিকে তাকাতেই আবার লজ্জা পেলো।”
“শাইনা যেন আকাশ থেকে পড়লো, এই ছেলে কি তাকেও লজ্জা পাচ্ছে নাকি?”
“কিরে তাকা”
“আরহাম মুখ নিচু করেই আছে”
“তুই কি আসলেই লজ্জা পাচ্ছিস?”
“আরহাম চুপ”
“ওমা এই ছেলের দেখি লজ্জাও আছে, আমি তো এতদিন ভাবতাম এর মতো বেশরম ছেলে আর একটাও নেই।”
“আহা আপা এভাবে কেন বলছো? নতুন নতুন বাবা হয়েছে তাই লজ্জা পাচ্ছে”
“ছোট মা তুমিও মজা নিচ্ছো?”
আয়শা হাসছে।
“এখনি এই অবস্থা! যখন তোর ছেলের মুসলমানি হবে তখন তো বোধহয় তোকে খুজে পাওয়াই যাবেনা” (শাইনা)
আরাফ এটা শুনে হেসে ঢলে পড়ছে।

“আরহাম মায়ের কথা শুনে আবার লজ্জা পেলো” তারপর বললো, আমি কেন লজ্জা পাবো তখন?”
“কারন তুই এখনি পুতুল এর কাছে না গেলে আমি তোর ছেলের সাথে আবার তোর মুসলমানি করাবো”
“মাাাা”
আরাফ হাসতে হাসতে সব কিছুর ভিডিও করছে আর আয়শা আচঁলে মুখ লুকিয়ে হাসছে।
আরহাম অগত্যা চলে গেলো ক্যাবিন এর দিকে।
আরহাম যাওয়ার পর শাইনা ও হেসে দিলো।

আলিশার ক্যাবিন এর সামনে গিয়ে আরহাম আবার দাঁড়িয়ে গেলো।
“কিভাবে আলিশার সামনে যাবে সে? তার কেন জানি বড্ড লজ্জা লাগছে, কিন্তু মায়ের কথা মনে পড়তেই সোজা ক্যাবিনে ঢুকে পড়লো।”
“আলিশা চোখ বন্ধ করে ছিলো কিন্তু দরজা খোলার আওয়াজে চোখ খুলে তাকালো।”
আরহাম কে দেখতে পেয়ে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো।
আলিশা কে দেখতেই যেন আরহাম এর সব লজ্জা পালালো, তার লিশার মুখ টা কেমন শুখিয়ে গেছে।
বুক টা ধক করে উঠলো তার।
আরহাম আলিশার পাশে গিয়ে বসলো।
আদরের সহিত চুমু খেলো তার লিশার কপালে।
আলিশার চোখের কোন থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো, আরহাম সেখানেও ঠোঁট ছুয়ে দিলো তারপর একে একে মুখে, ঠোঁটে সবখানে।
আলিশা টু শব্দ ও করেনি।
আরহাম এবার আলিশা কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
আলিশা এখনো অনেক দুর্বল তাই আরহাম কে সরাতে পারছেনা তবে হাত দিয়ে হালকা ধাক্কা দিচ্ছে কিন্তু আরহাম তো নাছোড়বান্দা।

“সরো” (আলিশা)
“একদম না”
“কেন এসেছো?”
“কেন আসবোনা?”
“যেখানে গিয়েছিলে সেখানেই যাও, আমাদের পাশে আসবেনা”
“আমাদের বলতে?”
“আমার আর আমার মিনি গন্ডার এর পাশে”
“মিনি গন্ডার টা কার?”
“আমার”
“তাহলে আমি কে?”
“ভাড়াটিয়া”
“মিনি গন্ডার কে কি ভাড়া নিয়েছিস আমার থেকে?”
“আমার বাচ্চা কেন আমি ভাড়া নেব?”
“তাহলে ভাড়াটিয়া কেন বলছিস?”
“কারন আমরা তোমায় চিনিনা”
“না চিনলে তুই মা হয়েছিস কেমনে?”
“এমনে এমনে”

“আমি দিয়েছি তোকে তোর মিনি গন্ডার”
“সরো এখান থেকে”
“সরবোনা”
“যাবি নাকি চিল্লাবো?”
“চিল্লানোর শক্তি আছে?”
“ফায়দা নিচ্ছিস এর?”
“আবার তুই তোকারি করছিস?”
“১০০ বার করবো, কি করবি তুই?”
“বেশি কিছুনা শুধু এখানে মিনি গন্ডার এর ছোট ভাই/বোন কে এনে দিবো” (আলিশার পেটে হাত দিয়ে বললো আরহাম)

“আগে একটা কে সামলিয়ে নিজে বড় হও”
“আমাদের বড় করার জন্য তুই আছিস তো”
“হ্যাঁ, আমি তো তোদের চাকরানি”
“না আমাদের রাজরানী”
“দূরে সরতে বলেছি”
“না সরলে?”
“কিক দেবো”
“আমার ছেলে দেখি তোকে কিক দেয়ার ভালো ট্রেনিং দিয়েছে”
আলিশা এবার চুপ করে রইলো।
আরহাম আবার আলিশা কে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে,
“সরি”
“চাইনা তোর সরি”
“আর হবেনা এমন”
“মাফ করে দে জান”
“ছাড়ো আগে”
“না আগে বল সরি এক্সেপ্ট করেছিস”
“আমার তোমাকে দরকার ছিলো”
“আমি জানলে তোকে কোনোদিন ছেড়ে যেতাম না”
“মানা করেছিলাম আমি”

“আর হবেনা এমন, তুই যেতে মানা করলে আর যাবোনা”
আলিশা কান্না করছে।
“আজকের দিনে কান্না মানায়?”
আলিশা তাও কান্না করছে।
“আবার…
” হ্যাপি বার্থডে গন্ডার”
আরহাম অবাক হয়ে তাকালো,
“তোর মনে আছে?”
“কোনোদিন ভুলেছি?”
“কিন্তু এবার এমন সিচুয়েশনে?”
“আমার শুরু থেকেই মনে ছিলো, পেইন না উঠলে ফার্স্ট উইশ আমিই করতাম”
“ফার্স্ট না করলেও বেস্ট উইশ এবং আর লাইফ এর বেস্ট গিফ্ট তুই আমাকে দিয়েছিস”
“কেমনে?”
“এইযে আমাকে এমন মুহুর্তে উইশ করেছিস”
“আর গিফ্ট?”
“আমার বার্থডের দিন আমাকে দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দর ফিলিংস এর সাথে পরিচয় করিয়েছিস, আমাকে বাবা বানিয়েছিস”

“এটা কোনো গিফ্ট হলো?”
“লাইফ এর বেস্ট গিফ্ট যেটার আর কোনো অল্টারনেটিভ নেই”
“খুশি হয়েছো?”
“এতোটা বেশি হয়েছি যতটা ভেবেও দেখিনি”
“ওকে দেখেছো?”
“হুম, জানিস এতো ছোট্ট হয়েছে” (হাত দিয়ে দেখালো আরহাম)
“কোলে নিয়েছো?”
“সবার আগে নিয়েছি, আমার লাগছিলো যদি হাতের ফাক দিয়ে পড়ে যায়”
আলিশা হেসে দিলো এটা শুনে।
“কেমন হয়েছে?”
“একদম লাল টমেটোর মতো, এতো ছোট ছোট চোখ আর নাক তো আরো ছোট।”
“বাবুরা ছোটই হয়”
“কিন্তু ও অনেক বেশি কিউট একদম আমার মতো।”
“তোমার মতো না, আমার মতো কিউট হবে”
“না একদম আমার মতো হয়েছে, মা আর ছোট মা ও বলছিলো”
“আমি মানিনা”

“তুই দেখেছিস?”
“ডেলিভারির পরে একবার দেখেছি তবে কোলে নিতে পারিনি”
“কোলে নিলে বুঝবি,একদম আমার মত হয়েছে, বাপকা ব্যাটা।”
ওদের কথার মাঝেই নার্স বেবি কে নিয়ে ভেতরে এলো,
“বাবুকে কোলে দেব নাকি দোলনায়?” (নার্স)
“আমি নেবো” (আলিশা)
“পারবি?”
“হুম”
আরহাম আলিশা কে উঠে বসতে হেল্প করলো।
“নার্স আস্তে করে বাবুকে আলিশার কোলে দিলো”
আলিশার যেন বিশ্বাস হচ্ছেনা এই ছোট ছানা টা তার, এইতো একটু আগেই যেন তার পেটে ছিলো আর এখন কোলে।
আলিশার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৩

“আমার জান” বলেই বাবুর মাথায় আদর এর পরশ দিলো আলিশা।
“তাহলে আমি কি?”
“গন্ডার”
“আর এটা?” বাবুর দিকে ইশারা করলো আরহাম।
“আমাদের মিনি গন্ডার” (দুজনে একসাথে বলে হেসে উঠলো)

তোমার আমার গল্প পর্ব ২৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here