Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ৪২

তোমার আমার গল্প পর্ব ৪২

তোমার আমার গল্প পর্ব ৪২
noorayn

আরহাম ঝড়ের গতিতে বাইক চালাচ্ছে। তার মেজাজ এখন সপ্তম আসমানে চড়ে আছে। রিসোর্টের কাছাকাছি আসতেই দেখলো বাইরে মিডিয়া ভিড় করে আছে। আরহামের ভ্রুজোড়া কুচকে গেলো – সে কোন জায়গায় থাকছে এই খবর মিডিয়া জানলো কেমনে?
আরহাম হতাশার শ্বাস ফেলে আওড়ানো – “উফ ট্রিপে এসেও এই শাওয়ার নাতিগুলোর জ্বালায় শান্তি নেই।”
সে মাস্ক/ক্যাপ পড়ে থাকায় তাকে কেউ চিনলোনা দূর হতে। আরহাম সতপর্নে রিসোর্ট ম্যানেজারকে কল দিয়ে পিছনের গেইট দিয়ে ঢুকার ব্যাবস্থা করলো।
এদিকে, খান বাড়ির সবাই আলিশার কাছে এসে বসেছে। সবার মাথায় হাত। আলিশা সারারুম পায়চারি করছে ভয়ে – সে আবেগের বসে কেন নিজের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দিতে গেলো? এখন এইসব ছবিও সারা নিউজফিড জুরে ঘুরছে।
আয়শা অনেক বকেছে এই নিয়ে আলিশাকে। তার টেনশেনে মাথা ফেটে যাচ্ছে – আরহাম কোথায়? কবে আসবে? ঠিকাছে তো? এতো মিডিয়ার মাঝে কিভাবে ফিরবে? এইসব চিন্তা যেন আলিশাকে গ্রাস করছে ক্ষনে ক্ষনে।
তার ভাবনার মাঝেই রুমের দরজা খট করে খুলে গেলো। আলিশাসহ বাকিদের নজর গেলো রাগান্বিত আরহামের দিকে। ইজাজ সাহেব তাকে দেখেই ক্ষেপে বললেন –

“এখন সময় হয়েছে লাট সাহেবের ফেরার? এখানে যে আমরা সবাই চিন্তা করছি তার কোনো খেয়াল আছে? একটা কলও কি উঠানো যেতোনা?”
আরহাম বাবার কথার উত্তর না দিয়ে সোজা এগিয়ে গেলো আলিশার দিকে। নিজের দিকে আগাতে দেখে আলিশা ঢোক গিলে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো – “তু..তুমি ঠিক আছ…”
“ঠাসসসসসসস”
জোরালো এক শব্দে সকলে থমকে গেলো। এটা কি হলো?
আলিশার কথা শেষ হওয়ার আগেই তার গালে ঠাটিয়ে এক চড় মারলো আরহাম। রাগে কাঁপছে সে। আলিশা গালে হাত দিয়ে অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে চেয়ে আছে আরহামের দিকে। সে যেন কথা বলতে ভুলে গেছে – চোখভরা বিষ্ময় এবং অভিমানের আভাস।

“মেহতাববব! তোমার সাহস কি করে হয় আমার বাড়ির মেয়ের গায়ে হাত তোলার? ইজাজ সাহেব গর্জে উঠেলেন।
আরহাম যেন রাগে হুশ-জ্ঞান হারিয়েছে। সেও পাল্টা জবাব দিলো – “আপনার বাড়ির মেয়ে হওয়ার আগে সে আমার বউ এবং নিজের বউয়ের সাথে কি করবো না করবো তার জন্য কারও কাছে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নয় আমি।”
“অবশ্যই বাধ্য তুমি। আমার মেয়ে তোমার স্ত্রী বলে কি যা ইচ্ছা তাই করবে?” নিয়াজ সাহেব আর চুপ থাকতে পারলেন না।
“আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কাউকে কথা বলার অধিকার দেইনি আমি। আমাদের একা ছেড়ে দিলে খুশি হবো।”
“আরহাম! এবার বেশি বাড়াবাড়ি করছিস। তুই আপাতত মাথা ঠান্ডা কর। আমি পুতুলকে সাথে করে নিয়ে যাচ্ছি।”
এই বলে শাইনা সকলকে তাড়া দিলো রুম খালি করতে।
ইজাজ খান এবং নিয়াজ খান ঠায় দাঁড়িয়ে আছে দেখে নীলা পরিস্থিতি ঠান্ডা করার জন্য একপ্রকার জোরজবরদস্তি করেই দুজনকে সাথে নিয়ে বেড়িয়ে গেলো রুম থেকে। আরশাদও পিছু পিছু চলে গেলো।
ইজাজ খান যাওয়ার আগে হুশিয়ারি দিয়ে গেছেন যাতে আলিশা এবং আরশানকে সাথে করে নিয়ে আসা হয়।

“আলিশা চলো এখান থেকে। এখন কথা বললে কথা বাড়বে। আমরা বরং দেশে গিয়ে এই নিয়ে কথা বলি।” এই বলে আয়শা এগিয়ে গেলো ঘুমন্ত ডোরার কাছে।
শাইনা আলিশাকে নিয়ে বের হতে গেলে সেখানেই একটি বাক্যে থেমে গেলো দুজনের চলন্ত পাজোড়া।
“আলিশা এই রুম থেকে এক কদম বাইরে রাখলেও আমার থেকে খারাপ কেউ হবেনা।” – ঠান্ডা স্বরে উচ্চারিত হুমকি শুনে উপস্থিত সকলের শিরদাঁড়া বেয়ে যেন এক শীতল স্রোত নেমে গেল।
–শাইনা ছেলের এই স্বর চেনেন। ছোট থেকেই আরহাম যেমন চঞ্চল তেমনি জেদি। সবকিছু তার নিজের মতো হওয়া চায় নয়তো তুলকালামকান্ড ঘটিয়ে ফেলে। কারও কথায় পাত্তা না দিয়ে নিজের মতো চলা ছেলেটা রাগলে ভয়ংকর রুপ ধারন করে। শেষ বার এমন স্বর শুনেছিলেন ৪ বছর আগে যখন আরহাম তার মিউজিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলো – এই নিয়ে ইজাজ সাহেবের সাথে বেশ ঝামেলা হয়েছিলো আরহামের। তারপর থেকেই যেন বাপ-ছেলের এতো দূরত্ব!
আজও ঠিক সেই একই স্বর একই জেদ। শাইনা বেগম ঢোক গিললেন। এই অসময়ে এসে কোনো অশান্তি তিনি চান না। কাল সকালের ফ্লাইট – ভালোই ভালো দেশে পৌঁছাতে পারলে হয়। তারপর নাহয় বাদবাকি দেখা যাবে। তিনি আরহামকে যেই না কিছু বলতে যাবে তখনি থেমে যান তার রুক্ষস্বর শুনে।

— “আমার ছেলে ঘুমাচ্ছে ছোট মা। ওকে এখন ধরবেনা নয়তো উঠে যাবে।”
“না ধরলে নিবো কিভাবে? রাতে মায়ের বুক ছাড়া কেমনে থাকবে?”
” মা থাকতে মায়ের বুক ছাড়া থাকবে কেন? আমার বাচ্চা এবং বাচ্চার মা এখানেই থাকবে। তোমরা যেতে পারো এখন। সকালের ফ্লাইট আছে জলদি উঠতে হবে।”
আয়শা আর কিছু না বলে সরে গেলো সেখান থেকে।
–শাইনা কিছু বলতে গেলে আয়শা তাকে চোখের ইশারায় থামিয়ে দিলেন। মিয়া-বিবির ঝামেলার মধ্যে কথা বলা উচিত নয়। তিনি নিজেও আলিশার উপর রেগে আছেন তবে আরহাম যা করেছে মোটেই তার পক্ষপাতী নয়। মা হয়ে নিজের মেয়েকে থাপ্পর দিতে দেখা মোটেই সুখকর নয় তবে মেয়ের সংসারে আর বাড়তি অশান্তি চাননা বলেই শাইনাকে নিয়ে বের হয়ে গেলেন রুম থেকে।
উনারা যেতেই আরহাম দরজা লক করে একপ্রকার খাবলে ধরলো আলিশাকে – কোমড় পেঁচিয়ে চোয়াল চেপে ধরলো। রাগে হিসহিসিয়ে বললো – “কেন করলি এটা?”
আলিশা উত্তর করলোনা। চোখের দিকে তাকালোও না। দৃষ্টি তার অন্যাদিকে।
আলিশার জবাব না পেয়ে আরহাম কোমড়ে রাখা হাতের চাপ বৃদ্ধি করলো।

“কিছু জিজ্ঞেস করেছি?”
“যা করেছি বেশ করেছি।”
“একটা থাপ্পর বোধহয় কম হয়েছে।”
“তবে আরও দাও। এটাই পারবে তুমি।”
“জেনেশুনে আমাদের ঘনিষ্ঠ ছবি পোস্ট করেছিস। তার উপর আমার তুলে দেওয়া নিজের হট ছবিও ছেড়েছিস! বাহ ভালোই তো।” বলেই আরহাম খামচে ধরলো আলিসার কোমড়।
–আলিশা দাঁতে দাঁত চেপে ব্যাথা সয়ে নিলো।
“আমাদের ব্যাক্তিগত কোনো ছবি আমি আপলোড করিনি আরহাম। এতোটাও নির্বোধ আমি নয়।”
–আলিশার উত্তরে আরহামের ভ্রুজোড়া কুচকে গেলো। তাদের একত্রিত ছবি আলিশা পোস্ট করেনি মানে? তবে কে করেছে? সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ভাইরালের কথা শুনে আরহাম সাইটে ঢুকে দেখেছিলো আলিশার আইডি থেকে পোস্ট করা গতকালকের শাড়ি পড়া কিছু ছবি – যা ইতিমধ্যেই ভাইয়াল। স্ক্রল করতেই দেখেছিলো বিভিন্ন পেজ এবং নিউজ চ্যানেলে তাদের একত্রিত কিছু ছবি। যা দেখেই আরহাম আর বিশেষভাবে চেক করেনি বরং হতদন্ত পায়ে ফিরেছে। আরহাম ভেবে নিয়েছিলো সেইসব ছবিও আলিশা পোস্ট করেছে তবে এখন তার বলা কথায় আরহামের টনক নড়লো। সে আলিশাকে ছেড়ে ফোন হাতে নিলো। ছাড়া পেয়ে আলিশা বেডে বসে পড়েছে – মুখ দুহাত দিয়ে ঢাকা।

আরহাম বেশকিছুক্ষন ঘাটাঘাটির পর বুঝলো তাদের ঘনিষ্ঠ ছবি আলিশার প্রোফাইল থেকে পোস্ট হয়নি বরং পোস্ট হয়েছে একজন সাধারন ফ্যান দ্বারা। গতকাল টাইগার হিলে ছবি তুলার জন্য আরহাম কিছু সময়ের জন্য মাস্ক খুলেছিলো আর সেই সময়ের মধ্যেই কোনো এক অজ্ঞাত ফ্যান ছবি তুলে নিয়েছিলো যা আজ ভাইরাল। সব দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেললো সে। কি থেকে কি হয়ে গেলো? তবে আরহামের মেজাজ একটুও কমেনি বরং বেড়েছে কারন তার সাথে আলিশার ছবি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে সকলে আলিশার আইডি খুজে বের করে তার ছবি নিয়েও টানাটানি করছে। এরমধ্যে আলিশার রাগের বসে পোস্ট করা রিসেন্ট ছবিগুলা বেশ নজর কেড়েছে সবার – কমেন্ট সেকশেনে হাজার হাজার কমেন্টস যার মধ্যে বেশিরভাগ নেগেটিভ। কেউ কেউ ভালো বললেও বাকিসবাই আলিশার চরিত্র/ফিগার নিয়ে আজেবাজে মন্তব্য করছে। যা দেখে আরহামের রাগ আগের তুলনায় দ্বিগুন বাড়লো। এই বেয়াদব মেয়েকে মানা করেছিলো এইসব ছবি আপলোড না করতে। কিন্তু না সে তো মহা ত্যাড়া মহিলা। তার ভাবনার মাঝেই কানে এসে ঠেকেছে এক মলিন কন্ঠস্বর –
“দেখেছো? বিশ্বাস হয়েছে? আমি এমন কিছুই করিনি যা তোমার ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলবে।”

আরহামের রাগে যেন ঘিয়ের কাজ করলো কথাটি। সে তেড়ে গিয়ে বেডের সাথে চেপে ধরলো আলিশাকে।
“বেয়াদব মহিলা। আমাদের ছবি না দিলেও নিজের হট ছবিতো ঠিকই ছেড়েছিস। লজ্জা করেনি এমন ছবি পোস্ট দিতে?”
“সাধারণ একটা বিষয় নিয়ে এতো বাড়াবাড়ি করছো কেন? ছবি দিয়েছি তো কি হয়েছে? সবাই দেয়। আমিও দিতাম বিয়ের আগে এমন অনেক।”
” রাইট! বিয়ের আগে, আই রিপিট বিয়ের আগে। তবে বিয়ের পর এমন ছবি পোস্ট করার অনুমতি আমি তোকে দেইনি।”
“আমি অনুমতি চেয়েছি তোমার কাছে? তুমি যা ইচ্ছা তাই করবে আর আমি সামান্য ছবি দিলেও দোষ?”
“সামান্য ছবি কোনটাকে বলছিস? পেট দেখিয়ে, ফিগার দেখিয়ে শরীর প্রদর্শন করা ছবি কখনোই সামান্য হয়না। যা আমার তা একান্তই আমার। আমার অধিকারে অন্যাকারো হস্তক্ষেপ আমি পছন্দ করিনা।”
“নীলাপু ও দেয় এমন ছবি। সবাই দেয়। তুমিও নিজের জিম করা উদাম গায়ের ছবি পোস্ট দাও। আমি মানা করলে বলো এইসব ছবি আপলোড করা আমার প্রফেশনের অংশ।তোমার ফ্যানরা এসব চায়।”
” নীলা কি করে তা আমার দেখার বিষয় না – তা দেখার জন্য আরশাদ ব্রো আছে। আর যেখানে আমার কথা – আমি শুরু থেকেই এমন ছিলাম আর থাকবো।”

“রিয়েলি? তুমি এমনই থাকবে আর আমি কিছু করলেই দোষ?”
“তোর কোনো কাজে আমি বাধা দেইনি আজ পর্যন্ত। তবে আমার ব্যাক্তিগত কিছু নিয়ে ছিনিমিনি খেলা আমি সহ্য করবোনা আলিশা। আমি মানা করেছিলাম এসব দিতে।”
“এতো রেসট্রিকশেনস থাকলে তুলে দিয়েছিলে কেন? আমি তো চাইনি তেমন ভাবে তুলতে। তুমিই বাধ্য করেছো।”
“আমি নিজের জন্য তুলেছিলাম কেবল মাত্র নিজের জন্য। কোনো পরপুরুষ কে দেখানোর জন্য নয়।”
–আলিশা মুখ ফিরিয়ে ফেলেছে। এখন যাই বলবে তার যুক্তি দাঁড়া করাবে আরহাম তাই সে আপাতত আর কিছু বলতে চাইছেনা। আলিশা থামলেও আরহামের থাকার কোনো নাম নেই। সে বলতেই আছে – ” কমেন্টস দেখেছিস? ওয়াও/হট/নাইস ফিগার/মেহতাবের খাওয়া মাল আরও কতো কি!
এসব দেখে নিজেকে কিভাবে ঠিক রাখবো আমি?
খান বাড়ির মেয়েদের নিয়ে কথা বলার দুঃখসাহস আজ পর্যন্ত কেউ করেনি।”
–কমেন্ট সেকশেন আলিশা দেখেনি। সে কিছুই চেক করেনি। বাইরে মিডিয়া আর নীলার মুখ থেকে যা শুনেছে এতোটুকুই সে জানে। তবে এখন আরহামের মুখে নিজেকে নিয়ে এতো বিকৃত রুচির কথা শুনে আলিশা চোখ খেঁচে বন্ধ করে নিলো। এতসব হবে জানলে সে কোনোদিনও আরহামের অবাধ্যতা করতোনা।
“নীলাপু ও তো দেয় এমন ছবি। সবাই দেয় তবে তাদেরটাতে কেন বাজে কমেন্টস আসেনা? আমাকে নিয়েই কেন?”

“কারন সবাই আরহাম মেহতাব খানের বউ না।”
“কেউ তো জানেনা আমাদের বিয়ে সম্পর্কে?”
“না জানলেও আমার সাথে তোর কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে যার কারনে সবাই তোকে নিয়ে মেতেছে।”
“এতেও কি আমার দোষ?”
” অবশ্যই। আমার কথার অবাধ্যকতা করেছিস কেন?”
“তাই বলে সবার সামনে গায়ে হাত তুলবে?”
“ভুল করিনি।”
“তুমি আমার সেল্ফ রেসপেক্টে আঘাত করেছো আরহাম। বদ্ধ কামরা আর সবার সামনে গায়ে হাত তোলার মধ্যে বিশাল পার্থক্য আছে।”
“রাগ সামলাতে পারিনি। তবে আমি ভুল করিনি। তুই যতবার এমন বেহায়াপনা করবি আমি আরহাম ততবার এমন করতে বাধ্য হবো।”
“তুমি আমায় মারতে পারোনা।”
“আমি সব পারি।” বলতে বলতে আরহাম মুখ গুজলো আলিশার গলায়। পুরাদিনের দখল আবার এতো ঝামেলার মধ্যে সে ক্লান্ত। তার রেস্ট চায় – বাকিসব দেশে গিয়ে হ্যান্ডেল করে নেবে।

“সরো আমার উপর থেকে।”
“মেজাজ গরম আছে আলিশা। চুপচাপ থাক।”
“আমি ব্যাথা পাচ্ছি। সেই কবে থেকে আমার গায়ের উপর পড়ে আছো।”
“এতোদিনে আমার ভার সামলাতে আশা করি অভ্যস্ত করাতে পেরেছি। সো নো মোর টক।'”
“আই নিড ডিসট্যান্স প্লিজ। আমি তোমার সান্নিধ্য চাইনা এখন।”
“ডিকলাইন করছিস?”
“করছি। সরো।” বলেই আলিশা আরহামের বুকে ধাক্কা দিলো।

আরহাম রিজেকশন সহ্য করতে না পেরে আলিশাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে হতদন্ত পায়ে ওয়াশরুমের দিকে ছুটলো – দরজা এতো তীব্রভাবেই লাগিয়েছে যে বিকট শব্দ হয়েছে – যাতে আলিশাসহ ঘুমন্ত ডোরাও কেঁপে উঠলো। আরশান ঘুমের মধ্যে ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদবে কাঁদবে ভাব – আলিশা দ্রুত ছেলেকে বুকে নিয়ে পিঠে আলতো চাপড় দিতে লাগলো।

তোমার আমার গল্প পর্ব ৪১

ছোট্ট ডোরা ঘুমের মধ্যে মায়ের বুক ঘেষছে দেখে আলিশা তার মুখে খাবার তুলে দিলো।
আলিশার চোখ বেয়ে অজস্র অস্রু বিন্দু গড়িয়ে পড়ছে।
এই কেমন সম্পর্কের বেড়াজাল যেখানে সম্মানের চেয়ে বেশি অধিকার আদায় করা হয়?

তোমার আমার গল্প পর্ব ৪৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here