Home তোমার আমার গল্প তোমার আমার গল্প পর্ব ৫

তোমার আমার গল্প পর্ব ৫

তোমার আমার গল্প পর্ব ৫
noorayn

আরহাম আর আলিশা রুম থেকে বের হয়ে ব্রেকফাস্ট টেবিলে এসে বসেছে সবার সাথে।
শাইনা বেগম আলিশার পছন্দের চিজ অমলেট আর স্যান্ডউইচ তার প্লেটে দিলেন এবং আরহামকে দিলো তার ডায়েট ওটস; কিন্তু আরহাম এর নজর ছিলো আলিশার প্লেটের দিকে; তার কেন যেন প্রতিদিন আলিশার সাথে কাড়াকাড়ি করে খেতেই হবে। সে হঠাৎ করে আলিশার হাত থেকে তার আধখাওয়া স্যান্ডউইচটা কেড়ে নিয়ে নিজের মুখে পুড়লো আর ব্যাস এতেই আলিশা নিজেও আরহামের ওটসে ভাগ বসালো – তাদের কাড়াকাড়ির এই দৃশ্য নিত্যদিনের ব্যাপার তাই কেউ আর এই নিয়ে মাথা ঘামালোনা। যে যার নাস্তা করতে ব্যাস্ত কিন্তু হঠাৎই শাইনা বেগম বলে উঠলেন – “পুতুল আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবি, বিকেলে তোর জন্য ডাক্তারের এপোইন্টমেন্ট নিয়েছি আর আরহাম তুইও যাবি সাথে।”
দুজনই এতে মাথা নেড়ে সায় জানালো।
নাস্তা শেষে আরহাম-আলিশা বের হয়ে গেলো একসাথে। সবাই জানে তারা যাচ্ছে স্কুল/ভার্সিটি কিন্তু কেবল মাত্র এই দুজনই জানে তারা যাচ্ছে তাদের আস্থানায়।

–অবশেষে আরহাম-আলিশা পৌঁছালো তাদের গোপন আস্থানায়- যা শহর থেকে অনেকটা দূরের পথ। জঙ্গলের মাঝামাঝি একটা লেকের ধারে। ওদের আসার একটু পরই চলে আসলো আরহাম-আলিশার বন্ধুমহল।
আরহামের ফ্রেন্ডস গ্রুপে আছে – রিহান, কাহাফ, আদি, নেহা, নিধি এবং আরহামের বেস্ট ফ্রেন্ড আরাফ। সাথে ছিলো আলিশার দুজন বেস্টফ্রেন্ড – দিহান এবং মিথি।
তারা সবাই আজ অনেকদিন পর একসাথে হয়েছে। বয়সে পার্থক্য থাকলেও একসাথে থাকলে যেন এরা সবাই একটা পরিবার। আরহাম-আলিশার বিয়ের কথা তাদের পরিবার ব্যাতিত যদি কেউ জেনে থাকে তবে তারা এই আটজন।
যদিও তারা আলিশার প্রেগন্যান্সির বিষয়ে এখনো জানেনা।
অনেকদিন পর একসাথে হওয়ার কারনে তারা ঠিক করলো আজকে হাল্কা পাতলা ড্রিংক করবে কিন্তু কথাটা শুনেই আরহাম মানা করে দিলো কারন আলিশা ড্রিংক না করলেও সবার জোড়াজুরিতে একটু হলেও মুখে নিবে যা এখন বেবির জন্য রিস্কি। সবাই এই নিয়ে সন্দেহ করলে আরহাম দোহায় দিলো বাসায় ফিরলে সবাই বুঝে যাওয়ার।
তারা সবাই একসাথে হলে ঠিক/বেঠিক মানেনা – যা মন চায় করে, তাদের কাছে সবকিছুই যেন একটা চ্যালেঞ্জ।

অবশেষে, সকলে মিলে ঠিক করলো ছেলেরা লেকে সুইমিং কম্পিটেশন দিবে এবং যে হারবে তাকে সবার কথামতো একটা ডেয়ার করতে হবে। ছেলেরা যখন প্রিপারেশেন নিচ্ছিলো তখনই নিধি হঠাৎ করে আলিশা বলে চিৎকার করে উঠলো।
নিধির আওয়াজ শুনে ছেলেরা এদিকে এসে দেখে – আলিশা ইটের সাথে হোচট খেয়ে নিচে পড়ে আছে আর তা দেখেই আরহাম দৌড়ে এসে তাকে ধরলো কিন্তু আলিশার পা থেকে রক্তপাত থামানো যাচ্ছেনা দেখে আরহাম গাড়ি থেকে ফার্স্টএইড বক্স এনে কোনোমতে ব্যান্ডেজ করে দিলো আলিশার পায়ে। পরিস্থিতি দেখে আরহাম বললো আজ আর কিছু হবেনা – এখন আলিশাকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে। সকলে তা মেনে নিয়ে যে যার গন্তব্য রওনা হলো।
আরহাম আলিশাকে কোলে করে গাড়িতে তুলে নিলো আর গাড়ি স্টার্ট দিতেই বকা শুরু করলো, আজ যদি কোনো অঘটন ঘটে যেতো? তবে সে বাড়ির সবার কাছে কি জবাব দিতো?
আলিশা কিছু না বলে চুপ করে আছে – এখন কোনো কথা বলা মানেই এই গন্ডারকে ক্ষেপানো। তাই সে ব্যাথা সয়ে চুপ করে থাকলো।
–বাড়িতে ফিরতে ফিরতে অনেকটা দেরি হয়ে গেলো তাদের।
আলিশার এই অবস্থা দেখে সকলেই বুঝে গেলো – নিশ্চয়ই তারা আজ আবার কোনো না কোনো অঘটন ঘটিয়েছে।
এই নিয়ে এক দফা রাগারাগি পর্ব চললো আরহাম-আলিশার উপরে।

বিকেলে হসপিটাল যাওয়ার কথা থাকলেও তাদের পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় সন্ধ্য হয়ে এলো।
বর্তমানে, ডাক্তারের কেবিনে বসে আছে শাইনা, আরহাম আর আলিশা।
ডাঃ নিলুফার খান বাড়ির পারিবারিক ডাক্তার। অনেক বছর পুরানো সম্পর্ক দেখে তারা উনার কাছেই এসেছেন – কারন আলিশার প্রেগন্যান্সির বিষয়টা খুবই গোপন রাখা হয়েছে যেহেতু আরহাম মিডিয়া পারসোন এবং ওদের বিয়ের বিষয়টা এখনো কেউ জানেনা।
–সব চেকআপ শেষে, ডাক্তার জানালেন – এখনই কন্সিভ করাটা উচিত হয়নি তবে ভুল যেহেতু হয়েই গেছে তাই এখন এক্সট্রা কেয়ারে থাকতে হবে আলিশার যেহেতু সে এখনো বাচ্চা নেওয়ার জন্য পরিপক্ক নয়।
–টেস্ট আর বাকিসব চেকআপ করে জানা গেলো আলিশা ২ মাসের প্রেগন্যান্ট।
হসপিটালে থাকার পুরাটা সময় আরহাম-আলিশা যেন লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যাচ্ছিলো।
সবকিছু ঠিকঠাক করে বাসায় ফিরতে রাত হয়ে গেলো তাদের।
–এখন থেকেই সব কিছুতে আলিশার যত্ন যেন আগের তুলনায় বহুগুন বেড়ে গেলো।

রাত প্রায় ১২ টার কাছাকাছি…
এখন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করার জন্য আবার সবাইকে ডাকা হলো লিভিং রুমে।
–সেখানে উপস্থিত বড়রা শুধালো – সব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আলিশার প্রেগন্যান্সির পুরাটা সময় যেন সে ঘরে থাকে আর বেবি ডেলিভার হওয়ার আগে যেন পড়াশোনাটা স্টপ রাখে।
এই কথা শুনেই আলিশা যেন থমকে গেলো, – এই প্রথম যেন তার লাগলো কিছু একটা ঠিক হচ্ছেনা। সে সিরিয়াস হয়ে প্রতিবাদ করলো যে সে কিছুতেই এসব মানবেনা এবং দরকার পড়লে এই বাচ্চাই রাখবেনা। তার কথা শুনে সবাই কিছুটা নরম হলেও আবার প্রস্তাব দিলো – যেহেতু আলিশার O লেভেল এক্সামের আর মাত্র ২ মাস বাকি আছে এবং এরপর তার স্কুল জীবনের সমাপ্তি ঘটবে। তাই ভেবে চিন্তে বড়রা বললো যে O লেভেলেরএক্সামটা দিয়েই যেন আলিশা গ্যাপ দেয় নাহলে জানাজানি হলে আরহাম-আলিশার ব্যাপারটা খারাপের দিকে চলে যাবে। এবং এতে খান ইন্ডাস্ট্রির শত্রুরা এটাকে মুখ্য করে বিজনেসের ক্ষতি করার চেষ্টা করবে সাথে আরহামের গানের প্রফেশনেরও অনেক ক্ষতি হবে তাই সব ভেবে আলিশা আর আরহামকে মানিয়ে নিলো তারা। তবে তারা কি জানে – এই এক সিদ্ধান্ত আরহাম-আলিশার জীবনে আগামীতে ঠিক কতটা প্রভাব বিস্তার করবে?

৩ মাস পর…
আলিশার এক্সাম শেষ হয়েছে আরও ১৫ দিন আগে। এখন সে পুরোপুরি ঘরকুনোতে পরিনত হয়েছে, আসলে সে হয়নি তাকে বাধ্য করা হয়েছে পরিস্থিতির জন্য। এখন তার প্রেগন্যান্সির প্রায় ৫ মাস চলছে। পেটটা হাল্কা ফুলে উঠেছে যদিও খেয়াল নাক করলে তেমন একটা বুঝা যায়না তাই হয়তো এতদিনেও কেউ বুঝতে পারেনি।

তোমার আমার গল্প পর্ব ৪

এই কয়েক মাসে আলিশা যেন প্রতি মুহুর্তে আরহামকে জ্বালিয়েছে – তবে মজার ব্যাপার হলো, এতকিছুর মাঝেও আরহাম একবারও…..

তোমার আমার গল্প পর্ব ৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here