Home তোমার নামের রোদ্দুরে তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৫০

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৫০

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৫০
আশফিয়া হিয়া

দু বছর পর,
আজ শেখ বাড়িতে অনেকদিন পর উৎসবের আমেজ, শেখ বাড়ির ছোট ছেলে পাঁচ বছর পর বাড়িতে ফিরছে, সেই অনুযায়ী বাড়িতে আত্নীয় – স্বজনদের নিয়ে ছোট খাটো আয়োজন করা হয়েছে। ইয়াজকে এয়ারপোর্ট থেকে আনতে রুদ্ধ ফারিশ এবং সঙ্গে তার বাবা – চাচারা গিয়েছে৷ মা – চাচীরা সব ছেলের পছন্দ অনুযায়ী রান্নার আয়োজন করতে ব্যস্ত। আরু সকাল থেকে ছেলে – মেয়ে দুটোকে নিয়ে একা পেরেই উঠছে না, ছেলেটা স্বভাবশত কিছুটা শান্ত ও চুপচাপ হয়েছে তবে ভীষণ জেদ তার যেটা চাই তাকে দিতেই হবে ন নয়তো পুরো বাড়ি মাথায় করে ফেলবে। মেয়েটা হয়েছে একদম তার ঠিক উল্টো, ভীষণ দুষ্টু ও চঞ্চল সারাক্ষণ ছুটোছুটি করে বাড়ি মাতিয়ে রাখবে। এক দন্ড স্থির হয়ে বসবে না৷ আরুর হাড় – মাংস সব একেবারে জ্বালিয়ে খাচ্ছে। রুদ্ধ ও আরুর মেয়ের নাম অদ্রিজা শেখ এবং ছেলে শেখ রুদ্র মাহতাব। আরু ও রুদ্ধ দুজনের নামের সঙ্গে মিলিয়েই তাদের নাম ঠিক করা হয়েছে।

আরু দুজনকে গোসল করাতে এনেছে, প্রথমেই ছেলের গায়ে সাবান মাখিয়ে, মাথায় ভালো করে শ্যাম্পু করে চুল গুলো ধুয়ে দিল, ওদিকে মেয়ে তার বালতি থেকে মগ তুলে নিজের গায়ে পানি ঢেলে বসে আছে। আরু নিজের কপাল চাপড়াল। মেয়ের দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকাতেই অদ্রিজা ঠোঁট উল্টালো। এদের আবার কিছু বলাও যায় না, কিছু বললেই ঠোঁট ভেঙ্গে কেঁদে ফেলবে। রুদ্ধর সামনে আবার ছেলে – মেয়েদের বোকাও যাবে না তাহলে উল্টো তাকেই ধমক খেতে হয়।

এই বাপ ও ছেলে – মেয়েদের জ্বালা সে আর পেরে উঠছে না। একেই তো কাল সারারাত রুদ্ধর জ্বালায় ঘুমোতে পারেনি এখন ভীষণ মাথা ব্যাথা করছে, অন্যদিকে বাচ্চাদের দুষ্টুমি তো আছেই। আরু ছেলের গায়ে টাওয়ার জড়িয়ে ঘরে রেখে এল। মেয়েকেও গোসল করিয়ে দুজকে সুন্দর জামা পড়িয়ে নিচে নিয়ে এল। বসার ঘরে খেলনা নিয়ে তাদের খেলতে দিয়ে রান্নাঘরে চলে গেল এখন তার কড়া করে এক কাপ চা খেতে হবে।
আহি নিজের ঘরে বশে তখন থেকে উশখুশ করে যাচ্ছে। আজ এতগুলো দিন পর তার সঙ্গে ইয়াজের সামনাসামনি দেখা হবে, ভাবতেই ভীষণ লজ্জা করছে। সে এখন আর সেই ছোট্ট মেয়েটি আর নেই সে এখন ২১ বছরের একজন যুবতি। ইয়াজের সঙ্গে তার রোজই মোবাইলে কথা হয়েছে, এমনকি তারা রোজ রোজ ভিডিও কলেও কথা বলেছে, তবুও আহির কেমন কেমন লাগছে, আহি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে ঘুরে ঘুরে দেখল, সে সাজ একটু সেজেছ্র যেমনটা ইয়াজ পছন্দ করে ঠিক সেরকম। ইয়াজের পছন্দ অনুযায়ী কালো রঙের জামা পড়েছে, ঠোঁটে হালকা কটে লিপস্টিক দিয়েছে, চোখের নিচে কাজল পড়েছে। পায়ে ইয়াজের দেয়া সেই পায়েল জোড়া। যেটা ইয়াজ বলে গিয়েছিল সে ফিরে আসা না পর্যন্ত পায়েলগুলো যেন আহির পায়েই থাকে। আহি নিজেকে আরও একবার দেখে নিয়ে ড্রয়িং রুমে চলে এল।
ড্রয়িং রুমে এসে দেখল পিচ্চি দুটো ঝগড়া করছে, একই খেলনা দুজনেরই চাই, অথচ সামনেই একই রকম দেখতে আরোও একটি খেলনা পড়ে আছে। আহি অদ্রিজাকে কলে নিয়ে সোফায় বসিয়ে তার হাতে খেলনাটা দিল, রুদ্রকে কলে তুলে অন্য খেলনাটা দিয়ে গালে অনেকগুলো চুমু খেল। তবে রুদ্র সেটা পছন্দ হলো না সে খেলনাটা ছুঁড়ে মেরে অদ্রিজার খেলনা দেখিয়ে বলল,

– ‘ ও..ওটা ওটা, ওটা দাও নায়ায়া।’
অদ্রিজা দু হাতে খেলনা ঝাপটে ধরে বলল,
– ‘ না.. না না এটা আম..।’ যার অর্থ ওর খেলনা ও কিছুতেই দেবে না। ‘ তা দেখে রুদ্র গলা ফাটিয়ে কান্না শুরু করল। আহি কোলে নিয়ে আদর করে থামাতে চাইলেও থামল না তার ভীষঙ জেদ, যেটা লাগবে সেটা দিতেই হবে তা নাহলেই কান্না শুরু।’
ছেলের কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে আরু দৌড়ে রান্নাঘর থেকে ছুটে এল। আহির কোল থেকে রুদ্রকে নিয়ে বলল,
– ‘ কি হয়েছে বাবা কাঁদছো কেনো? ব্যাথা পেয়েছো?’
আহি সবটা খুলে বলতেই আরু ছেলেকে বুঝিয়ে শুনিয়ে অন্য খেলনা দিয়ে মানিয়ে নিল। ছেলেকে ঠান্ডা হতে দেখেই স্বস্তির শ্বাস ফেলে বলল,
– ‘ পুরো বাপের মতো হয়েছে, একইরকম জেদ পেয়েছে।’
আহি মিটিমিটি হেসে বলল,
– ‘ হুহ রুদ্র ভাইয়ার মতো হয়েছে আর অদ্রিজা পুরো তোর মতো হয়েছে কেউ কারোর থেকে কম নয়।’ আরুও হাসল।

বাড়ির গেটে গাড়ির হর্ণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, সবাই চলে এসেছে বোধ হয়, বাড়ির সবাই সদর দরজার সামনে দাঁড়াল। প্রথমেই গাড়ি থেকে রুদ্ধ নেমে দাঁড়াল। একে একে সবাই নেমে যাওয়ার পর সর্বশেষ গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াল ইয়াজ। তাকে দেখে মা – চাচিরা সব মাশাল্লাহ বলে উঠল। ইয়াজের মাঝে এখন বেশ পরিবর্তন এসেছে, আগেই সেই হ্যাংলা পাতলা ছেলেটার এখন স্বাস্থ্য বেশ ভালো হয়েছে, আগের থেকে অনেকটায় লম্বা হয়েছে। গায়ের রঙেও বেশ পরিবর্তন এসেছে। ইয়াজ ভেতরে প্রবেশ করতেই সুমিতা বেগম ছেলেকে জরিয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন। মিতা বেগম ও রুমা বেগম ও কেঁদে দিয়েছে ইয়াজ মাকে ছেড়ে তাদেরকেও জরিয়ে ধরল। ইয়াজের চোখ গেল এক পাশে তার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকা মেয়েটার দিকে, ইয়াজ সবার আড়ালে আহিরকে এক চোখ মারল আহি থতমত খেয়ে চোখ সরিয়ে নিল। তবে ঠিকই দেখেছে, সে মিটিমিটি হাসছে। রুদ্ধ ও অদ্রিজা নতুন মানুষ দেখে মায়ের পা জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ইয়াজকেই দেখছে। ইয়াজ ফট করে এগিয়ে এসে দুজনকে একসঙ্গে কাঁধে তুলে নিল। দুজনেই চেচিয়ে উঠল। ইয়াজ তাদের ইচ্ছে মতো চুমু খেয়ে বলল,

– ‘ আমি তোমাদের ছোট পাপ্পাহ, রোজ যে আমাকে ভিডিও কলে দেখো, এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে। ‘
রুমা বেগম হেসে বলল,
– ‘ সামনাসামনি প্রথম দেখছে না, তাই এমন করছে একটু পরেই দেখবি তোর কাছ ছাড়াই হচ্ছে না।’
রুদ্ধ ইয়াজের ব্যাগপএ নামাতে সাহায্য করছিল। সে সবেই সদর দরজা দিয়ে বাড়িতে ঢুকেছে, ওমনি রুদ্র ও অদ্রিজা ডেকে উঠল,
– ‘ বাব্বাহহহ।’
ছেলে – মেয়ে দুটোর আধো আধো স্বরে ডাক শুনলেই রুদ্ধর ভেতরটা অদ্ভুত ভালো লাগাই ছেয়ে যায়। রুদ্ধ হালকা হেসে আদুরে গলায় বলল,

– জ্বী বাবা? তোমরা চাচ্চুর কাছে থাকো আমি হাতটা ধুয়ে আসছি।’ তবে বাচ্চাদের সেই অপেক্ষা করার ধৈর্য হলো না, বাবা তাদের কোলে না নিয়ে অন্যদিকে চলে গিয়েছে এটা তারা কিছুতেই নেমে নিতে পারেনি গলা ফাটিয়ে কাঁদতে শুরু করে দিয়েছে। আসলাম এগিয়ে এসে নাতনিকে করে নিলেন, দুজনকে এক সঙ্গে নিতে পারেন না তিনি মাঝে মাঝে নিতে গেলেও হাপিয়ে উঠেন৷ আরুকে ছেলেকে কোলে নিয়ে থামাতে লাগল। রুদ্ধর এই স্বভাবে প্রথম প্রথম বাড়ির সকলেই বেশ বিরক্ত ছিল। রুদ্ধর একটাই কথা বাইরে থেকে এসে হাত না ধুয়ে তার ছেলে – মেয়েদের কোলে তোলা যাবে না। ওদের জন্মের পর থেকেই রুদ্ধ এই নিয়ম মেনে আসছে, আসলাম শেষ প্রথম প্রথম বেশ বিরক্ত হয়ে রুদ্ধকে কথা শোনাতেন তবুও এই অভ্যাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি, তবে রুদ্ধর সঙ্গে সঙ্গে এখন তাদের সবারই অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। রুদ্ধ হাত মুখ ধুয়ে বাবার কোল থেকে মেয়েকে নিল। এরপ্র আরুর কোল থেকে ছেলেকেও নিল। দুজনকে এক সঙ্গে কোলে নিয়ে আদুরে ভাষায় কথা বলছে ও থেকে থেকে চুমু খাচ্ছে। ছেলে – মেয়ে দুটোও বাবার গলা জরিয়ে আধো আধো স্বরে কথা বলছে। আরু তাদের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রুদ্ধকে বাচ্চাদের সঙ্গে দেখলে সে আবারো নতুন করে রুদ্ধর প্রেমে পড়ে যাচ্ছে। আরু মনে মনে বলল,
– ‘ আমার বাচ্চা ও বাচ্চাদের বাবার ওপর কারোর নজর না লাগুক।’

আহি নিজের ঘরের বিছানায় উল্টো দিকে ঘুরে বসে আছে। ইয়াজের প্রতি তার ভীষণ অভিমান হয়েছে। ইয়াজ নিচে সকলের সঙ্গেই কথা বলেছে শুধুমাএ তার সঙ্গেই কোনো কথা বলেনি তাই নিজের ঘরে চলে এসেছে। সবাই এখনো নিচেই অড্ডা দিচ্ছে, নিচ থেকে স্পষ্ট কথার শব্দ ভেসে আসছে। হঠাৎ ঘরের দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ এবং অচেনা পারফিউমের ঘ্রাণ নাকে প্রবেশ করতেই পেছনে ঘুরে তাকাল। ইয়াজকে দেখে ঝট করে দাঁড়িয়ে গেল। ইয়াজকে এখন নিজের ঘরে একদমই আশা করেনি মেয়েটা। আহি বলতে চাইল,
– ‘ তুমি এখা… আহি নিজের কথাটা সম্পূর্ণ করতে পারল না, তার আগেই ইয়াজ এক প্রকার দৌড়ে তাকে শক্ত করে নিজের সঙ্গে জরিয়ে ধরল। এতটায় শক্ত করে ধরেছে আহি ঠিক করে শ্বাসটাও নিতে পারছে না, তাছাড়া ইয়াজের অপ্রত্যাশিত ও অচেনা কাে ন্ড আহির মুখের শব্দ কেড়ে নিয়েছে৷ সে ইয়াজের পিঠে আলতো করে হাত রেখে বলল,

– ‘ ছাড়ো আমাকে, তুমি আসার পর থেকে আমার সঙ্গে একটা কথাও বলোনি।’
ইয়াজ ছেড়ে দিল তাকে, আহি মুখ ভেংচি কেটে মনে মনে বলল,
– ‘ হুহ ছেড়ে দিতে বললাম আর ছেড়ে দিল, এত ভদ্র হলো কবে থেকে।’
ইয়াজ তার মাথায় গাট্টা মেরে বলল,
– ‘ তুই আগের মতোই গাঁধা রয়ে গিয়েছিস, কোনো বুদ্ধি হয়নি মাথায়, আমি সকলের সামনে কথা বলতে পারিনি বলেই তো এখানে এসেছি তোর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলবো বলে।’
আহি হাত দিয়ে মাথা ডলতে ডলতে বলল,
– ‘ তুমি সেই আগের মতোই আছো একটুও পরিবর্তন হওনি।’
– ‘ আর তুই সেই আগের মতো বোকা পিচ্চিই রয়ে গেছিস, একটুও চেঞ্জ হোস নি।’
দুজনেই এক সঙ্গে হাসল। ইয়াজ হঠাৎ তার কোমর জরিয়ে ধরে কাছে টেনে নিল। আহির ঘাড়ে নাক ডুবিয়ে গভীর স্বরে বলল,

– ‘ “আই মিস ইউ। আই মিস ইউ এভরি সেকেন্ড, এভরি মিনিট। ডু ইউ মিস মি?”
আহি ইয়াজের মাথার পেছনের চুলগুলো শক্ত করে চেপে ধরে ঘাড় থেকে মাথা তুলে বলল,
– ‘ আমি তোমাকে একটুও মিস করিনি, মিস করার সুযোগটাই পায়নি, কারণ তুমি আমার সবসময় আমার চারপাশে ঘুরঘুর করতে , যখনই তোমাকে দেখতে ইচ্ছে করত, কোনো না কোনোভাবে তুমি ঠিকই আমার কল্পনায় ভেসে উঠতে। ‘
ইয়াজ এক অপ্রত্যাশির কাজ করে ফেলল। আহির কপালে বেশ অনেক সময় নিয়ে গভীর ভাবে ঠোঁট ছোঁয়াল। আহি এই ছোঁয়ার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিল না। সে ইয়াজকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বলল,
– ‘ বিদেশে থেকে আসতে না আসতেই বিদেশীদের মতো কাজ কারবার শুরু করে দিয়েছে। বিয়ের আগে এসব করা যাবে না।’
ইয়াজ মাথা চুলকে দুষ্ট হাসি দিয়ে বলল,
– ‘ উহু বিদেশি রীতি ফলো করলে কিসটা কপালে না পড়ে সরাসরি ঠোঁটে পড়ত।’ কথাটা বলে ইয়াজ মিটিমিটি হাসতে হাসতে চলে গেল। আহি কপালে হাত তাজ্জব হয়ে ইয়াজের গমন পথে তাকিয়ে আছে, কি বলে গেল এটা? ছিহ্ ছিহ্ বাইরে থেকে এসে এই অবস্থা হয়েছে তাহলে?

বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়েছে, রুদ্ধ কোলে ছেলে ও আরুর কোলে মেয়ে। দুজনকে বিছানায় ভালো করে শুইয়ে দিল। আরু দুজনের বুকে মৃদ্যু চাপড় দিতে লাগল। রুদ্ধ বলল,
– ‘ শাওয়ার নিয়েছিস।’
আরু তার ভাব ভঙ্গি দেখেই বুঝতে পেরে গেছে এখন ঠিক কি হতে পারে, তাই ছটফটে ভঙ্গিতে বলল,
– ‘ দেখুন আমি আজ দুবার শাওয়ার নিয়েছি, আপনি শাওয়ার নিয়ে আসুন আমার নিচে অনেক কাজ রয়েছে। ‘
রুদ্ধ তার দিকে এক ধাপ এগিয়ে এসে বলল,
– ‘ আচ্ছা?’
আরু পালাবার পথ খুঁজছে, বেড থেকে উঠে দরজার দিকে দৌড়ে যাওয়ার পূর্বেই রুদ্ধ তাকে এক টানে কাঁধে উঠিয়ে নিল। আরু বাচ্চাদের জন্য শব্দও করতে পারছে না। হাত পা ছুঁড়ে রুদ্ধর থেকে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করল তবুও এক বিন্দু ছাড় পেল না। রুদ্ধ তাকে সোজা এনে শাওয়ারের নিচে দাঁড় করিয়ে অন করে দিল। আরু ভিজে পুরো চুপচুপে হয়ে গেল। ইচ্ছে মতো রুদ্ধর বুক – পিঠে ঘুষি দিল। রুদ্ধ তার দুহাত চেপে নিজের কাজে মগ্ন হয়ে গেল। গোসল শেষ করতে ঘন্টা খানিক লাগিয়েছে রুদ্ধ। আরু আগেই বেরিয়ে এল। আলমারি থেকে একটা সুতি শাড়ি বের করে পড়ে নিল। বাচ্চারা হালকা নড়ে চড়ে উঠছে, ওদের পাশে শুয়ে বুকে চাপড় দিতে লাগল। রুদ্ধ টাওয়ালটা বেলকনিতে মেলে এসে আরুর পাশে শুয়ে তাকে পেছন থেকে শক্ত করে জরিয়ে ধরল। আরু খুব সাবধানে রুদ্ধর দিকে ঘুরে বলল,

– ‘ অনেক হয়েছে এবার নিচে চলুন। সবাই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।’
রুদ্ধ তার ফ্যাকাশে মুখটা খুব ভালো করেই পরোখ করে বলল,
– ‘ মাথা ব্যাথা করছে?’
– ‘ হুম একটু।’
রুদ্ধ আরুর কপালে হাত দিয়ে বেশ অনেকক্ষণ মাথা ম্যাসেজ করে দিল। আবেশে আরুর ঘুম এসে গেল। তবে এখন চাইলেও ঘুমানো যাবে না, সে এখন এই বাড়ির বউ তার অনেক দায়িত্ব রয়েছে। রুদ্ধর হাতের ওপর হাত রেখে বলল,

– ‘ অনেক হয়েছে, আর লাগবে না। এবার উঠুন।’
রুদ্ধ আরুর নাক টিপে দিয়ে বলল,
– ‘ আমরা তোকে খুব জ্বালাই তাই না?’
আরু মুখটা ফুলিয়ে বলল,
– ” সেটা আর বলতে বিয়ের পর আপনি একা জ্বালিয়েছেন। আর এখন তো আপনার দুজন সঙ্গি আছে, তিন জন মিলে আমাকে জ্বালান।’
রুদ্ধ তার ফোলা গালে আঙুল ডুবিয়ে বলল,

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৪৯

– ‘ তোকে সারাজীবন এসবই সহ্য করে যেতে হবে, আমাদের তোকে ছাড়া একদমই চলবে না।’
আরু তার বুকে মাথা রেখে বলল,
– ‘ জানি তো। যেমন আপনাদের ছাড়া আমার চলবে না। ‘

তোমার নামের রোদ্দুরে পর্ব ৫১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here