দাহশয্যা পর্ব ৩৯
Raiha Zubair Ripti
সেপ্টেম্বর মাস আসে যেন এক নিস্তব্ধ নিঃশ্বাসের মতো। গ্রীষ্মের ঝাঁপানি গরম আর বর্ষার বৃষ্টির ঝমঝমানি শেষে, আকাশ হয়ে ওঠে অমলিন শীতল ও স্বচ্ছ। সকালে উঠে যখন জানালার বাইরে তাকানো হয় তখন দেখতে পাওয়া যায় বিশাল বিশাল মেঘেরা ডানা মেলেছে, তাদের মৃদু সাদা চাদরে পুরো আকাশ ঢেকে রেখেছে। কখনো সোনালী সূর্যের হালকা আভা বিকিরণ করে মেঘেদের ফাঁকে ফাঁকে, সন্ধ্যায় আকাশে মায়াময় রঙের রঙিন চিত্র ফুটে ওঠে গাঢ় নীল থেকে ধূসর, আর লালিমার থেকে কমলা ছড়িয়ে পড়ে এক অপূর্ব দৃশ্য। পাখিরা এখন কম আসে, কিন্তু যারা আসে তাদের গান যেন আরও কোমল এবং মৃদু। বাতাসে শীতল হাওয়ার ছোঁয়া, যা গ্রীষ্মের উত্তাপ থেকে মুক্তি এনে দেয়। গাছপালা ধীরে ধীরে রঙ পালটে নেয়। পাতাগুলো যেন একটু একটু করে হলুদ আর লালাভ রঙের ছোঁয়া পায়।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের চরম ভয়াবহ মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়। কোভিড মহামারির মাঝেও প্রায় প্রতিদিনই ধর্ষণ, গ্যাং রেপ, নির্যাতন ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। গড়ে প্রতিদিন ৩-৪টি ধর্ষণ মামলা হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হয়।
এই মাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল,২৫ সেপ্টেম্বর সিলেট এমসি কলেজে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ছাত্রলীগের কয়েকজন সন্ত্রাসীর গ্যাং রেপ।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে ঘরে ঢুকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, গোপনাঙ্গে আঘাত ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া,দেলোয়ার বাহিনীর কাজ।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় শিশু ও কিশোরীদের ধর্ষণ, হত্যা, ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল এ ধরনের নির্মম ঘটনা ঘটে। এসব অপরাধের পেছনে রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রশাসনের ব্যর্থতা স্পষ্ট ছিল।
ঘটনাগুলোতে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে—সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাস্তায় নেমে মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ #ধর্ষকের_ফাঁসি_চাই জাতীয়ভাবে ট্রেন্ড করে।
নিউজ পেপার গুলো এক এক করে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে সব দেখলো সোলেমান। রাগে তার কপালের রগ ফুলে গেছে। এটা দেশ নাকি ন’রকে পরিনত হচ্ছে? ধ’র্ষণে বেশির ভাগই রাজনৈতিক দলের লোকজন যুক্ত থাকলে সেই অভিযুক্ত দের শাস্তি তো দূরে থাক পুলিসস্টেশনে নেওয়ার আগেই তাদের জামিন অগ্রীম রেডি হয়ে থাকে। এই ধ’র্ষণ জিনিস টাকে প্রচণ্ড ঘৃণা করে সোলেমান। এই ধ’র্ষণের ভুক্তভোগী তার মা নিজেও ছিলেন। সে নিজেও তার মায়ের সেই ধ’র্ষণকারী হত্যাকারী কে খুঁজে চলছে। সোলেমান এত বছরে বুঝে গিয়েছে পর্দার আড়ালে থাকা সেই লোকটা সোলেমানের থেকেও ক্ষমতাশালী চতুর কেউ। তা না হলে এতদিনে সোলেমান তাকে ঠিক খুঁজে নিতো। তার চেহারা তো দূরে থাক কন্ঠস্বর অব্দি শোনে নি সোলেমান । শুধু একটা ক্লু লোকটার হাতে একটা উরোবোরোস ট্যাটু আঁকা দেখেছিল। পুরো শরীর ঢাকা ছিলো কালো পোশাকে। এমনকি মুখটাও। শুধু হাতের এক অংশ দেখেছিলো সে৷ তার আম্মাকে গু’লি করার সময় যখন পিস্তল তাক করেছিল ঝোপের ভেতর থেকে ঠিক তখনই দেখেছিল সোলেমান। সোলেমান বুঝে গিয়েছিল সেই লোকই তার বাবাকেও নি’র্মম ভাবে হ’ত্যা করেছে।
ইমন বসে আছে বাগানে গাছের নিচে। হাতে তার স্মার্ট ফোন৷ ফোনের স্কিনে ঊর্মির হাস্যজ্বল ছবি। ঊর্মির পেছনেই মেহরিনের উল্টো করে দাঁড়ানো ছবি। মাথায় কাপড় দেওয়া লম্বা চুল দেখা যাচ্ছে। এই এক ছবি ছাড়া আর কোনো ছবি নেই তার কাছে মেহরিনের। প্রতিদিন নিয়ম করে ছবিটা দেখে। বুক ভারি হয়ে আসে। শিরা-উপশিরায় রক্তের চলাচল তীব্র হয়। বুকে দারুন ব্যথা অনুভব হয়। তারপর ও ইমন দেখে। অভ্যাস কি আর এত সহজে যায়? ইমন এক ধ্যানে ছবিটার দিকে তাকিয়ে বলে-
-” তুমি ক্যান যে আমার হলে না মেহরিন। আমার হলে কি অনেক ক্ষতি হয়ে যাইতো তোমার বলো? আমার টাকা নাই কিন্তু ভালোবাসার কোনো কমতি আমার মাঝে ছিলো না। এই যে আমি তোমারে চাইলাম। দু হাত তুলে চাইলাম, মোনাজাতে তোমার জন্য অশ্রু বিসর্জন দিলাম। তারপরও দেখো আমি তোমারে পাইলাম না। অথচ তোমার স্বামী তোমারে না চাইয়াও পাইয়া গেলো। আল্লাহ কি আমার দুঃখটাকে চোখে দেখলো না? এই হৃদয়ভাঙা মোনাজাতগুলো কি তাঁর করুণার তালিকায় ঠাঁই পাইলো না? এইখানে আল্লাহ আমারে ঠকায় দিলো না?
এই তুমি যে আর কোনো দিন আমার হইবা না এটা তো আমি মানতে পারি না। তোমারে নিজের জন্য চাওয়াটাও তো অসম্ভব। তোমার আল্লাহ তো আমারে সব দিক দিয়ে ঠকায় দিছে মেহরিন৷
তোমাকে ভালোবাসার ভাগ্য হলো, কিন্তু পাওয়ার ভাগ্য হলো না। এই দুঃখ এই কষ্ট আমি কাকে দেখাবো? কেউ নেই শোনার মতন। আমার বুক ফেঁপে উঠে, দমবন্ধ হয়ে আসে। তোমার স্বামীর ভাগ্যটা ক্যান যে আমার হলো না।
কথাগুলো এলোমেলো গলায় বলে থামলো ইমন। ইব্রাহিম খুঁজছিলো ইমন কে। জানালা দিয়ে ইমন কে বাগানে দেখে এগিয়ে আসলো। ইমনের পেছন দাঁড়াতেই ফোনের স্কিনে চোখ পড়তেই চমকে উঠলো। ইমনের ফোনের স্কিনে ঊর্মির ছবি কেনো? ঊর্মিই কি তাহলে সেই মেয়ে যাকে ইমন…
ইব্রাহিম গলা ঝেড়ে ইমন কে ডাক দিলো। ইমন ঘাড় বেঁকিয়ে ইব্রাহিম কে দেখে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল-
-” জ্বি স্যার বলুন।
-” ভালো আছো?
-” জ্বি।
-” মন খারাপ মনে হলো যে।
-” না না ঠিক আছি আমি৷ কোথাও যাবেন?
-” না যাব না। তোমার কি কিছু হয়েছে? বাড়ি থেকে ফেরার পরই দেখছি চুপচাপ থাকো।
-” ক..কিছু হয় নি।
-” আচ্ছা যাও দুপুরের খাবার টা খেয়ে নাও।
সোলেমান তার ক্লাবে এসেছে আজ অনেক দিন পর। ৩৫ বছরের এক কুলাঙ্গার সন্তান কে চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে৷ ইয়াসিন উত্তমমধ্যম দিয়েছে এতক্ষণ । সোলেমানের কানে খবর এসেছে এই ছেলে তার মা কে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে ভদ্রমহিলার সব সম্পত্তি আত্মসাৎ করে। সেই মহিলা এখন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ভিক্ষা করে। স্থানীয় রা বিচার দিয়েছে বউয়ের কথা শুনে মায়ের উপর অত্যাচার ও করতো।
সোলেমান ক্লাবে ঢুকেই পড়নের কালো শার্টের হাতাটা গুটিয়ে নেয়। তারপর সরাসরি ঐ লোকের সামনে চেয়ার টেনে বসে শান্ত গলায় বলল-
-” তোকে কি করা উচিত আমার বল। একেবারে জা’নে মে’রে ফেলবো নাকি জে’ন্দা লাশ বানিয়ে রেখে দিব। কোনটা চাস?
লোকটার নাম সেলিম। সে ভয়ে তটস্থ হয়ে আছে৷ সোলেমানের হিংস্র চাহনি দেখে বুকের ভেতরটা কাঁপছে। ব্যথায় টানটান করছে শরীর টা
-” স্যার মাফ করে দেন।
সোলেমান সহসা গলা চেপে ধরলো সেলিমের।
-” মাফ? তোর মতন কুলাঙ্গার কে মাফ! এই তোর ভাবনায় একবারও আসে নি যার গর্ভে তুই জন্মালি, না খাইয়ে যে তোকে খাইয়ে মানুষ করেছে তার উপর অত্যাচার করতে একটু বুক কাপে নি? শালার ব্যাটা মায়ের সাথে কোন জা’নোয়ার এমন করে রে?
-” বউয়ের কথায় স…
-” তোর বউয়ের মায় রে বাপ শুয়ো** বাচ্চা। ঐ ওর বউরে ধরে নিয়ে আয়। ঐ মহিলার সমস্যা কি? নিজের মাকে মাসে মাসে এটা ওটা পাঠায় অথচ যার টাকায় পাঠায় তার মাকেই দেখতে পারে না! ঐ তোর বাচ্চা কয়টা?
-” এক ছেলে এক মেয়ে।
সোলেমান ঠাটিয়ে একটা চ’ড় বসিয়ে দিয়ে বলল-
-” তোর ছেলে বিয়ের পর তোরে লাত্থি দিয়ে বের করে দিলে কেমন লাগবে?
-” ভাই ভুল হয়ে গেছে৷ আমি আর বউয়ের কথা শুনবো না।
-” তোর মা’কে এখন কি করবি তুই?
-” বাসায় নিয়ে যাব।
-” তোর বউ?
-” ডিভোর্স দিয়ে দিব।
সোলেমান আরো একটা চ’ড় বসিয়ে দিলো।
-” আমি ডিভোর্স দিতে বলেছি? তুই ব্যাডা, না স্বামী হওয়ার যোগ্য আর না ছেলে হওয়ার যোগ্য। পুরুষ হওয়ার কথা তো বাদই দিলাম। তোর বউ যখন তোর মায়ের নামে কূটনামি করতো তখন উল্টা কয়েকটা থা’প্পড় দিলি না কেনো? ঐ ইয়াসিন ওরে আরো ঘন্টা কয়েক উত্তমমধ্যম দিয়ে রাস্তায় ফেলে আসবি৷ আর ঐ বৃদ্ধ মহিলার যা যা এই মাঙ্গের নাতি কেঁড়ে নিছে সব উনাকে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবি। যদি না দেয় তাইলে একেবারে জা’নে মে’রে বস্তায় ভরে বুড়িগঙ্গার নদীতে ফেলে আসবি। এর মতন দু একটা কিট ম’রলে কোনো সমস্যা হবে না।
সোলেমান বাড়ি ফিরে আসলো। এখন বাজে রাত সাতটা। বাড়িতে মায়ের ফোনে ফোন করে সবার খোঁজ খবর নিতেই জানতে পারলো রুমাইসা এখনও বাসায় ফিরে নি৷ বান্ধবীর বাসায় অ্যাসাইনমেন্ট করতেছে। সোলেমান কাটকাট গলায় বলে দিলো সন্ধ্যার আজান দেওয়ার পর যেন বাড়ির মেয়ে গুলো তো দূরে থাক ওদের ছায়াও যেন ভিলার বাহিরে না যায়। চারিদিকে এমনিই এত ধর্ষ’ণের ঘটনা ঘটছে।
স্পিকারে ফোনটা থাকায় মেহরিন শুনলো সব কথা। ভীষণ রাগী শুনালো কন্ঠ৷ রেগে আছে। আফিয়া সুলতান বলল-
-” মেহরিনের সাথে কথা বলবি?
সোলেমান সরাসরি না করে দিলো। মেহরিনের খারাপ লাগলো। কত গুলো দিন হলো সে কথা বলে না। সবার সাথে কথা বলে কিন্তু মেহরিনের সাথেই বলে না।
সোলেমান ভাবলো শান্ত হয়ে তারপর কথা বলবে বউয়ের সাথে৷ এই রাগী কন্ঠ স্বর নিয়ে বউয়ের সাথে কথা বলতে রাজি না সোলেমান।
সোলেমান ফোনটা কেটে রুমাইসা কে ফোন করলো। রুমাইসা বাড়ির মোড়েই চলে এসেছে৷ ভাইয়ের ফোন পেয়ে হাসি মুখে রিসিভ করলেও ভাইয়ের এক ধমকে মুখটা চুপসে গেলো। ওয়ার্নিং করে দিলো মাগরিবের আজানের পরে যেন রুমাইসা বাড়ির বাহিরে না থাকে। যদি কানে আসে সে বাহিরে তাহলে তার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না।
রুমাইসা তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে বাড়িতে আসলো।
মেহরিন কি বসার ঘরে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো-
-” মুড অফ নাকি তোমার?
মেহরিন তাকালো রুমাইসার দিকে৷
-” না।
-” তাহলে?
-” ভালো লাগছে না।
-” ভাইয়াকে মিস করছো?
-” উনি আমার সাথে কথা বলে না আপু৷ সেই যে সেদিন গেলো এর মধ্যে একটিবারের জন্যও তিনি কথা বললেন না আমার সাথে৷ আমি কোনো দোষ করেছি?
-” আচ্ছা মন খারাপ করো না। তোমার এই ননদ আছে না? সব ঠিক করে দিবে৷ ভাইয়া তো আজ ভীষণ রেগে আছে আমাকে বকলো জানো?
-” আম্মা কে ফোন করেছিল তখন শুনেছি।
-” কিছু একটা হয়েছে ঢাকা বুঝলে। শুনলাম কাল মাহি ভাবি আর ভাইয়া চলে যাবে?
-” হুমম।
-” বাড়িটা আরো ফাঁকা হয়ে যাবে।
-” তোমার বিয়ে হয়ে গেলে তো আরে ফাঁকা হয়ে যাবে বাসা টা।
রুমাইসা বাঁকা চোখে তাকালো।
-” এ্যাহ আমি বিয়ে করবো না। কুমারী থাকবো।
মেহরিন মৃদু হাসলো।
-” প্রেমে পড়লে তখন আর এ কথা বলবে না হু।
-” প্রেমই করবো না কখনও। আর বিয়েও করবো না৷ আমি এ বাড়িতেই থাকবো। তোমার মাহি ভাবির বাচ্চা কাচ্চা পালবো। এখন চলো রুমে চলো।
মাহি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুঁটিয়ে দেখছে। সকালে আজ সাফওয়ান ফোন করেছিল। লোকটা এখনও স্বাভাবিক হতে পারে নি৷ ব্যাকুল হয়ে বলল একটা বার সে মাহির সাথে দেখা করতে চায়। মাহি বলল সে সুলতানপুর এসেছে৷ সাফওয়ান সুলতান ভিলার সামনে আসতে চেয়েছে। বাড়িতে ঢুকবে না, মাহি শুধু জানালার সামনে দাঁড়াবে সাফওয়ান দূর থেকে দেখেই চলে যাবে৷ একটুও ছুঁতে চাইবে না।
মাহির তখন কি যে কান্না পেলো সাফওয়ানের বাচ্চামো গলায় বলা কথা গুলো শুনে। একজন শক্ত পোক্ত সিআইডি অফিসার কে সে জাস্ট ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে৷ না হোক মিল এই জনমে৷
মাহি নিজেকে যতটা সম্ভব ঠিক রেখে বলেছে-
-” আমি ঢাকা ফিরে দেখা করবো৷
সাফওয়ান যেনো এই টুকুতেই মহা খুশি হয়ে গেলো।
-” আমি অপেক্ষায় রইলাম তোমার মাহি।
মাহি কেটে দিয়েছিল ফোনটা। তার কষ্ট হয় সাফওয়ানের কথা ভাবলেই৷ কিন্তু যা ভাগ্যে নেই তা নিয়ে মিছে আশা সে সাফওয়ান কে দিবে না৷ সাফওয়ান কে সে মুভ অন করতে বলবে। তার কারনে সাফওয়ানের জীবন থেমে থাকবে তা মাহি চায় না৷ তার নিজের জীবনের শেষ টা সে ভালো মতই জানে। এক হিসাবে ভালোই হয়েছে সাফওয়ান তার হয় নি। মাহির কোনো পিছুটান আর নেই। সে এখন শুধু তার লক্ষের দিকে আগাবে। বাশার সুলতান আর এজওয়ান সুলতান কে তাদের প্রাপ্য টা সে দিয়েই ছাড়বে।
তার কিছুক্ষণ পরেই সাফওয়ানের বাবা শামসুল মির্জা ফোন করেছিল। বোধহয় পাশেই ছিলে ছেলের। ছেলের কথা গুলো শুনেছিল। শামসুল মির্জা এক প্রকার হুমকি দিয়েই মাহিকে বলল- জীবনে যেনো সে সাফওয়ানের সামনে না আসে। মাহির কারনে আজ তার ছেলের এই অবস্থা। মাহিকে যাচ্ছে তাই বলে অপমান অপদস্ত করলো। এ-ও শুনতে হলো মায়ের মতনই হয়েছে মেয়ে৷ প’রকীয়া করে ধরা খেয়ে আত্মহ’ত্যা করেছে মা। তার মেয়ে তো তার পথেই চলবে।
মাহি দাঁত চেপে সব সহ্য করলেও তার মায়ের বিষয়ে এসব সে মোটেও সহ্য করে নি। শামসুল মির্জা কে ওয়ার্নিং করে দিলো তাকে যা ইচ্ছে বলবে কিন্তু তার মা কে নিয়ে যেন কিছু না বলে। লোকজন তার মায়ের বিষয়ে যেটা জানে সেটা সত্যি না। তার মা প’রকীয়া করো নি। করেছে তার বাবা তরিকুল চৌধুরী।
সময়টা ১৯৯২ সালের গ্রীষ্মকাল। শাহজাহানপুর স্টেশনের এক ফাঁকা প্ল্যাটফর্মে বিদেশি চেহারার এক নারী নেমে দাঁড়ায় কোলে দেড় বছরের এক কন্যাশিশু মোহনা কে নিয়ে। নারীটির নাম মেরিলিন দেমির।
তাকে রিসিভ করতে আসে খয়েরি স্যুট-পরা এক লোক তার নাম তরিকুল চৌধুরী। বাংলাদেশের একজন নামকরা ব্যবসায়ী।
মেরিলিন দেমির ফ্রান্সের Maison du Bon Pasteur নামের এক এতিমখানায় বড় হয়েছে। মেরিলিন দেমির বাবা মা অনেক ছোট বেলাতেই মারা যায়। মেরিলিন দেমির বাবা মা মেরিলিন দেমি যেই এতিমখানায় বড় হয়েছে সেই এতিমখানার মালিকের বাড়ির মালি ও কাজের লোক ছিলো৷ ১৯৬০ সালে দুজনেই মা’রা যান।
তরিকুলের সাথে তার পরিচয় হয়েছিল ১৯৯০ সালে, প্যারিসের এক আর্ট এক্সিবিশনে,সেখান থেকেই তাদের প্রেমের সূচনা। ফ্রান্সেই বিয়ে করে তারা। বিয়ের এক বছর পরই তরিকুল চৌধুরী দেশে চলে আসে৷ মেরিলিন ফ্রান্সেই একা থাকতো৷ কিন্তু মোহনা হবার পর মোহনার বয়স যখন দেড় বছর হয় তখন সে বাংলাদেশে চলে আসে।
প্রথমদিকে সবকিছুই স্বপ্নের মতো ছিল। রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি, গৃহপরিচারিকা, দামী গহনা, সামাজিক মর্যাদা। তবে তরিকুলের রাতগুলো ছিল অনুপস্থিত। মোহনা বড় হতে থাকে বাবার গর্জনে এবং মায়ের কান্নায়।
১৯৯৫ সালের ২৪ জানুয়ারি জন্ম নেয় মাহি। মেরিলিনের দ্বিতীয় সন্তান। মাহির জন্মের পর থেকেই তরিকুল বদলাতে শুরু করে৷ তরিকুল নিত্য নতুন মেয়েকে নিয়ে আসে ঘরে, অনেক সময় এমনও হয় মেরিলিনের সামনেই মেয়েটিকে আলিঙ্গন করছে, দরজা না বন্ধ করেই।
মেরিলিন বিদেশিনী হলেও তার চোখের সামনে তারই স্বামী এসব করবে আর সে চুপচাপ হাসি মুখে মেনে নিবে তা পারে নি৷ তরিকুল কে বাঁধা দেওয়ার জন্য কত মা-র যে মেরিলিন কে খেতো হয়েছে তার হিসেব নেই।
মোহনার মুখে শুনেছে মেরিলিন দেমির রাতে কাঁদতো.. আর চিৎকার করে বলতো তোমার মতো পুরুষের সাথে থাকার চেয়ে মৃত্যু অনেক শান্তির।
বোনের মুখে এ-ও শোনে যে তরিকুলের সবচেয়ে কাছের বন্ধু বাশার সুলতানের কাছে তার মা সাহায্য চাইতে গিয়েছিল এক রাতে। মোহনা কে নেয় নি সাথে৷ সুলতান বাড়িতে গিয়েছিল, ভোরে ফিরেছিল বিবর্ণ বিধ্বস্ত চেহারায়। কি হয়েছিল তার মায়ের সাথে সুলতান বাড়িতে মাহি জানে না৷ সেদিনই নিজ রুমে সিলিং ফ্যানের সাথে দ’ড়ি বেঁধে আত্মহ’ত্যা করে মেরিলিন দেমির।
তরিকুল চৌধুরীর চোখ মুখ একটুও অনুতপ্তের ছায়া ছিলো না৷ উল্টো রটিয়েছিল মেরিলিন দেমির পর’কীয়া করেছিল৷ তরিকুল চৌধুরী তা হাতে নাতে ধরে ফেলেছে সেজন্য আত্মহ’ত্যা করেছে।
এই সব কথা মোহনা বলেছে মাহি কে।
মাহি ড্যাম শিওর বাশার সুলতান আর তরিকুল চৌধুরী দু’জনই কিছু একটা করেছে সেদিন রাতে৷ সেজন্য তার মা আত্মহ’ত্যার মতন এমন একটা পাপ কাজ করেছে।
এজওয়ান টাওয়াল দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে ওয়াশরুমের দরজা খুলে বের হতে হতে গাইছিলো-
-” Tere bina jeena pade
Woh pal mujhe naa de..
এই দু লাইন গাওয়া শেষ হতেই মাথা ঘুড়িয়ে আয়নার দিকে তাকাতেই থমকে গেলো। হায় হায় মাহি কে কি স্নিগ্ধ লাগছে মিষ্টি কালার কামিজে। এজওয়ান হাতের ভেজা টাওয়াল টা বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে আয়নায় থাকা মাহির প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে মাথাটা হাল্কা হেলিয়ে দিয়ে বলল-
-” Tu itni khoobsurat hai
Fida deedaar pe tere
Muqammal ishq ho mera
Zara sa pyaar toh de de..
মাহি ভ্রু কুঁচকালো। আয়নায় থাকা এজওয়ানের প্রতিবিম্বের দিকে তাকালো। শা’লা লু’ইচ্চা, ভণ্ড বলে দুটো গালি দিলো বিরবির করে। তারপর হেয়ার ব্যান্ড দিয়ে চুল গুলো বেঁধে দিলো। এজওয়ান কে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলে এজওয়ান মাহির হাত টা খপ করে ধরে ফেলে। মাহি বিরক্ত হয়ে তাকায়।
-” সমস্যা কি আপনার? সব সময় এমন ছোঁয়াছুঁয়ি করেন কেনো? আমার অপমানজনক কথা না শুনলে…
-” বিশ্বাস করো পেটের ভাত হজমই হয় না।
-” হাত ছাড়ুন।
-” না ছাড়লে কি করবে?
-” খু’ন করে ফেলবো।
-” অনেক আগেই খু’ন হয়ে গেছি তোমার প্রেমে। এবার ভালোবাসার ঔষধ দিয়ে আমায় সারিয়ে তুলো।
-” টয়লেটের গু দিব আপনায়। খাবেন?
এজওয়ান মাহি কে ধাক্কা দিয়ে সামনে থেকে সরিয়ে দিয়ে বলল-
-” যা শালি এখান থেকে। আমি ভুলেই গেছিলাম— কিছু কিছু মানুষের জীবনে
ভালোবাসা চাওয়াটাই ভুল।
সারাটি জীবন ধরে দিতে হয়
শুধু সেই ভুলের মাশুল …
-” গোলা’মের পুত তোরে ভালোবাসা দেওয়ার জন্য তো আমি বসে আছি।
কথাটা বিরবির করে বেরিয়ে আসলো রুম থেকে মাহি।
রাতের ডিনার করে মেহরিন আর রুমাইসা আসলো আফিয়া সুলতানের রুমে। তাদের পিছু পিছু মাহিও আসলো। বিছানা জুড়ে গয়নার বাক্স। আফিয়া সুলতান ধরে ধরে দেখছে সেগুলো। মাহি আর মেহরিন আসতেই আফিয়া সুলতান তাদের বসতে বললো। মাহি মেহরিন পাশাপাশি বসলো।
আফিয়া সুলতান যদি মেহরিন কে তার শ্বাশুড়ির সব গয়না দিয়ে দিয়েছিল বিয়ের আগেই। তারপরও একটা পেনডেন্ট রয়ে গেছে। আফিয়া সুলতান সেটাই মেহরিনের হাতে তুলে দিয়ে বলল-
-” এটা দিতে একটুও মনে ছিলো না মেহরিন। এটা তোমারই।
মেহরিন খুলে দেখলো একটা পেনডেন্ট সেখানে M অক্ষর খোদাই করা। M ফর মেহরিন?
-” পেনডেন্ট টা কার ছিলো আম্মা?
-” তোমার শ্বাশুড়ির।
মেহরিন ভ্রু কুঁচকালো। তার শ্বাশুড়ির? কিন্তু শ্বাশুড়ির নাম তো A দিয়ে শুরু হয়। M এর তো কোনো চিহ্নই আসে না।
আফিয়া সুলতান পাশ থেকে একটা বালার বাক্স আর একটা গলার গয়নার বাক্স মাহির হাতে দিয়ে বলল-
-” তোমার প্রাপ্য তোমাকে বুঝিয়ে দিলাম মাহি। এগুলো তোমার শাশুড়ির।
মাহি গয়না গুলোর দিকে তাকিয়ে বলল-
-” উনি কোথায়?
আফিয়া সুলতান চুপ হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল-
-” মৃ’ত।
-” কিন্তু আন্টি গয়না গুলো আমি নিতে পারবো না। কিছু মনে করবেন না৷ যেখানে এই বিয়েটার কোনো মূল্য নেই আমার কাছে সেখানে আমি এসব নিতে পারবো না৷ এসব রেখে দিন। কোনো কাজেই লাগবে না আমার।
আফিয়া সুলতান সহ সবাই বেশ অবাক হলো মাহির কথা শুনে।
-” বিয়ের কোনো মূল্য নেই মানে?
-” বিয়েটা আপনাদের বাড়ির ছেলে আমাকে জোর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে একপ্রকার বাধ্য করে করিয়েছে৷ এসব রাখুন আপনার কাছেই৷ আসছি আমি।
মাহি চলে গেলো৷ রুমাইসা মেহরিনের হাত থেকে পেনডেন্ট টা নিয়ে মেহরিনের গলায় পড়িয়ে দিলো।
-” পেনডেন্ট টা বোধহয় তোমার জন্যই বানানো হয়েছিল৷ যার পেনডেন্ট সে একদিনের জন্যও পড়তে পারে নি।
-” পড়তে পারে নি মানে? ঠিক বুঝলাম না আপু।
-” এই পেনডেন্ট টা সবসময় পড়ে থাকবে৷ তুমি একদম আমার মায়ের মতন মেহরিন। এজন্যই তোমাকে প্রথম দেখেই আম্মুকে বলছি এই পুষ্পের ন্যায় মেয়েটাকে ভাইয়ার বউ বানাবো।
মেহরিন মৃদু হাসলো। আফিয়া সুলতান গয়নার বাক্স গুলো আলমারি তে তুলতে লাগলেন। মেহরিন কি মনে করে যেন জিজ্ঞেস করলো-
-” আম্মা আপনার ছেলের জন্ম মাস কোনটা?
আফিয়া সুলতান আলমারির পাল্লা টা লাগিয়ে বলল-
-” অক্টোবরের একু…
রুমাইসা থামিয়ে দিলো।
-” অক্টোবর না আম্মু সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখে ভাইয়ার জন্মদিন। যা ৪ দিন আগে চলে গেছে। তুমি সবসময় ভুলে যাও।
মেহরিন কিছুট মন খারাপ করলো। ৪ দিন আগেই উনার জন্মদিন চলে গেছে অথচ সে জানতোই না৷ আর মানুষটা একটু তার সাথে ফোনে কথাও বললো না! মেহরিন তো বেশি কিছু চায় নি। একটু কন্ঠস্বর টাই তো শুনতে চায়। এই সময়টাও তার হয় না? মেহরিন রুমে চলে আসলো। তার ভীষণ খারাপ লাগছে৷ তার সুলতান সাহেব তাকে একটুও ভালোবাসে না। তার সুলতান সাহেব কত বছরে পা দিলো তাহলে? ৩৩ এ? বোধহয়।
সোলেমান চাচার সাথে বাগানে বসে কফি খাচ্ছে। কফি খাওয়ার এক ফাঁকে সোলেমান বলল-
-” বছর টা শেষ হলে আমি মেহরিন কে ঢাকায় নিয়ে আসবো। আমার সাথেই রাখবো।
বাশার সুলতান সাথে সাথে প্রশ্ন করলো-
-” কেনো?
সোলেমান ভ্রু কুঁচকালো। কেনো মানে? চাচা কি বুঝে না নাকি কেনো বউ নিয়ে আসবে?
-” ফ্রী ফায়ার খেলতে বউকে ঢাকায় নিয়ে আসবো। তোমার খেলার ব্যবস্থা করবো?
বাশার সুলতান খানিকটা লজ্জা পেলো। হুট করে বউ আনার কথা শুনে প্রশ্ন টা করে ফেলছিলো।
-” কাল মাহি আর এজওয়ান ও চলে আসবে।
-” সেই খুশিতে কি লুঙ্গি ডান্স দিব আমি?
-” এমন ত্যাড়া কথা বলছিস কেনো চাচার সাথে সোলেমান? বাপের সমতূল্য হই আমি।
-” বাপ তো না। বাপ হলে সোজা ভাবে কথা বলতাম। তুমি তো মিয়া আমার চাচা হও। জানের জিগার। তোমার সাথে সোজা কথা বললে মনে হয় অচেনা কোনো বুড়া ব্যাটার সাথে কথা বলছি।
-” এজওয়ান কে রাজনীতি তে ঢোকালে কেমন হয়?
সোলেমানের কপালে কঠিন ভাজ পড়লো।
-” কেনো সুখে থাকতে কি ভূতে কেলাচ্ছে নাকি?
-” আমাদের দল আরো ভারী হতো৷
-” দল আমাদের এমনিতেই অনেক ভারি। এত ভারি যে মাঝেমধ্যে হা’গু ধরলে ভুলে যাই বাথরুমে যাব পেট ক্লিয়ার করতে নাকি বেডে যাব রেস্ট নিতে। শুধু শুধু এজওয়ান কে ঢুকাইও না। তখন দেখা যাবে এজওয়ান চাঙ্গে আমার রাজনীতি গাঙ্গে। এর থেকে বিজনেস সামলাক। এখন রুমে যাও ঘুমাও। ঘুম না আসলে বাপের মতন ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমাও। আমি এখন তোমার বউমার সাথে প্রেমালাপ করবো। যা তোমার শোনা মোটেও কাম্য নয়।
বাশার সুলতান চায়ের কাপ নিয়ে চলে গেলো। সোলেমান ফোনটা পকেট থেকে বের করে রুমাইসা কে কল করলো। সেদিন আর মেহরিনের ফোনটা পাঠানো হয় নি। ফোনটা এখনও সোলেমানের রুমে পড়ে আছে। আইফোন এগারো প্রো কিনেছে বউয়ের জন্য রাশিয়া থেকে কাস্টমাইজেশন করে। অথচ দিতে চেয়েছিল একটা নোকেয়া বাটন ফোন।
রাশিয়ার বিলাসবহুল ব্র্যান্ড Caviar-র iPhone 11 Pro Max Solarius Zenith Edition।
পুরো ফোনটির শরীর তৈরি করা হয়েছে ২৪ ক্যারেট খাঁটি সোনায়। গ্লাসের বদলে ব্যবহৃত হয়েছে উন্নতমানের সোনার শরীর, ফোনের পেছনে বসানো হয়েছে এক বিশাল সূর্যের আকৃতির যান্ত্রিক সোলার ঘড়ি৷ তার ভেতরই লেখা
Mehrin sultan
Wife of nowaj suleman sultan
দাম বাংলাদেশী টাকায় ৯৮ লাখ। ২০২০ সালে এই ফোনটাই দামী ফোনের প্রথম সারিতে ছিলো।
সোলেমান রুমাইসাকে কল লাগালো। রুমাইসা ঘুমাচ্ছিলো। ভাইয়ের ফোন পেয়ে উঠে বসলো। সোলেমান সোজা বলে উঠলো-
-” মেহরিন কে দিয়ে আয় ফোন টা।
রুমাইসার মেজাজ টা তুঙ্গে। বউকে একটা ফোন কিনে দিতে পারে না? বোনকে তাদের পিওন বানিয়ে রেখেছে।
রুমাইসা ঢুলো ঢুলো শরীরে মেহরিনের রুমের দিকে গেলো।
ডার্ক রাস্টি ব্রাউন কালারের সেলোয়ার-কামিজ পড়া মেহরিন জানালার সাদা পর্দায় হাত রাখে। আকাশের চাঁদ টা কালো মেঘে ঢাকা। এই বিষন্ন রাতে মেহরিন ভাঙা গলায় গেয়ে উঠলো —
কালা আমার বোঝে নারে
আমি যে তার রাই
তারে বীনা বিরহতে
জ্বলে পুড়ে ছাই..
বাঁশি যে তার ডাকে নারে,
কেমনে বাঁচি ছাড়া তারে,
পরান কাঁদে তবু আমার
দু’চোখ কাঁদে না ,
ভাঙ্গা মনে ভালবাসা বাসা বাধে না।
কয়েক কলি গেয়েই মেহরিন থেমে গেলো। ভালো লাগছে না। ইচ্ছে করছে সুলতান সাহেবের কাছে ছুটে যেতে।
খাটের পাশে টেবিলে থাকা সোলেমানের ছবিটার দিকে একবার তাকলো। মুখে হাত রেখে ব্যস্ত হয়ে কাগজে কি সব যেনো লিখছে। মেহরিন ছবিটা তুলে নিলো।
ছবিটার উপর হাত বুলালো-
আঁখি ভড়ে দেখি তারে
পরাণ দিয়া ছুঁই..
যতই মোরে দূরে সরায়
তত কাছে রই…
হায়রে একি তার ছলনা
কেনো মোরে দেয় বেদনা
বোবা মনের ভালবাসা, সে তো বোঝেনা
নাগর আমার নিঠুর বড়
মন ও বোঝে না,
আমার ভাঙ্গা খাঁচা পড়ে আছে
সেতো আসে না ,
পোড়া মনে ভালবাসা,বাসা বাধে না…
রুমাইসা রুমের দরজার কাছে আসতেই মেহরিনের গলায় গানটা শুনতে পেলো। সোলেমান ও শুনলো। রুমাইসা ভাইকে বলল –
দাহশয্যা পর্ব ৩৮
-” তুমি হাসবেন্ড হিসাবে ভীষণ পাষাণ ভাইয়া৷ বউকে ভালোবাসো না। এমন এক মেয়েকে না ভালোবেসে কিভাবে থাকতে পারছো?
সোলেমান মুচকি হেঁসে বলল-
-” বউ আমার কি শোকে শোকাহত হয়ে গেছে নাকি?
-” এটাই কি স্বাভাবিক না?
-” ঢাকায় নিয়ে আসবো ভেরি সুন। তখন সব ব্যথা ভুলিয়ে দিব। ক’টা দিন শোকে থাকুক। কাল ফোন আসবে সুলতান ভিলায়৷ আমার বউকে দিয়ে দিবি। সেদিনই চলে যেত ফোনটা। কিন্তু বউ আমার অসুস্থ থাকায় যায় নি।
