Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৪৭

দাহশয্যা পর্ব ৪৭

দাহশয্যা পর্ব ৪৭
Raiha Zubair Ripti

রাত এখন বাজে সাড়ে আটটা। এজওয়ান ক্লাব থেকে বাহাদুরের উপর রেগে বাড়ির দিকে চলে আসে। কতবড় সাহস এজওয়ান কে কি না বেড়ালের সাথে তুলনা করে! এই বাহাদুর বেশি পটরপটর করছে আজকাল বেশি। নাহ্ বাহাদুর তার বন্ধু কম শত্রু বেশি হয়ে উঠছে। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে রুমের চৌকাঠে পা রাখতেই মুখের উপর একটা কাপড় উড়ে এসে পড়লো।
এজওয়ান মুখের উপর থেকে কাপড় টা সরিয়ে দেখলো এটা তার আন্ডারওয়্যার । এটা উড়ে এসে পড়ছে বললে ভুল হবে মাহি রীতিমত ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলছে এজওয়ানের মুখে। একে তো বাহাদুর তার মেজাজ বিগড়ে দিয়েছে এখন আবার মাহি তার জামাকাপড় আন্ডারওয়্যার ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলছে তাও আবার এজওয়ানের মুখে! এজওয়ান তেড়ে এসে মাহির বাহু চেপে ধরে বলল-

-” এই তরিকুলের বেটি আমার জামাকাপড় ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলছিস কেনো? ওরা কি করেছে তোর?
মাহি হাত ছাড়িয়ে নিলো। সোফা ডিভান সব দেখিয়ে বলল-
-” এগুলো কি?
-” চোখ কি কানা তোর?
মাহি সব জামা গুলো এজওয়ান হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল-
-” ভুলে যাবেন না এই ঘরে এখন আপনি একা থাকেন না। আমিও থাকি। বস্তির মতন রুমের অবস্থা করে রাখেন। আপনার চাকর না আমি রোজ রোজ এসব সরাবো। আজ মুখে ছুঁড়ে ফেলেছি আগামীকাল পুলে ছুঁড়ে ফেলবো।
এজওয়ান হাতের জামাকাপড় গুলো উল্টো মাহির হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল-
-” বউ বউয়ের মতো চলো। তুমি গোছাবে না তো কে গোছাবে? সতীন নিয়ে আসবো আরেক টা?
-” একটা কেনো হাজার টা গিয়ে নিয়ে আসেন। আই ডোন্ট কেয়ার। আর আপনার জামাকাপড় আপনি গোছান। না গোছালে সত্যি ফেলে দিয়ে আসবো। চিনেন তো আমায়?
এজওয়ান জামাকাপড় গুলো থাবা দিয়ে নিয়ে বিরক্তিকর মুখে আলমারির ভেতর ঠুসে রাখতে চাইছিলো। কিন্তু মাহির চোখ রাঙানিতে বাছ করে রাখলো।
এজওয়ান আশ্চর্য হচ্ছে। আসলেই সে বিড়ালের মতন ভয় পাচ্ছে! তাও আবার মাহিকে দেখে। মানসম্মান ডোবানোর মতন অবস্থা।
এজওয়ান সোফায় ছুঁড়ে ফেলে দিলো। বিছানায় গিয়ে পা ঝুলিয়ে বসে বলল-

-” আমি পারবো না মেয়েলি কাজকর্ম করতে। নিজের মৃত্যুর বিনিময়ে বিয়ে করছি তোমায় মাগনা না। সো যতদিন বেঁচে রবো আমার পার্সোনাল কাজের বেটি তুমি।
মাহির নোংরা একদমই পছন্দ না। দুই তিনটা পড়েছিলো মাহি সেগুলো বাছ করে রাখলো।
-” আপনি একটা চরম লেভেলের অসভ্য লোক।
-” হ শুধু তোর কাছেই। বাকি ১৮ কোটি মানুষকে আর এটা বিশ্বাস করাতে পারলাম না।
-” আপনার সাথে আমার কথা আছে।
-” তাহলে এতক্ষণ ধরে কি গান গাইছিলি? আসার পর থেকেই তো কথা দিয়ে আমার কলিজা খুঁড়ে খাচ্ছো।
মাহি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল-
-” আপনার মায়ের মৃত্যু টা কিভাবে হয়েছে?
এজওয়ানের চেহারার রগ ফুলে উঠলো মায়ের কথা শুনতেই।
মাহি এজওয়ান কে চুপ থাকতে দেখে ফের জিজ্ঞেস করলো-

-” কিভাবে মা-রা গেছে?
এজওয়ান বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো।
-” দ্যাট’স নান অফ ইউর বিজনেস।
-” আপনার মায়ের ফটো দেখান তো আমায়।
এজওয়ান মাহিকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে বলল-
-” আমি আর একটা শব্দও শুনতে চাই না ঐ মহিলা কে নিয়ে। আমার কোনো মা নেই। আমি আকাশ থেকে টুপ করে দুনিয়ায় এসে পড়েছি। মনে থাকবে?

-” রেগে যাচ্ছেন কেনো আপনি?
-” রাগার কথাই তুলছো। সেজন্য রেগে যাচ্ছি।
-” আপনার মায়ের নাম কি?
-” আমার মাথা।
-” আপনার নানা বাড়ি কোথায়?
-” মঙ্গলগ্রহে।
মাহি বিরক্ত হলো।
-” সমস্যা কি আপনার? আমি আমার শাশুড়ির ব্যপারে জানতে চাই।
এজওয়ান মাহির মাথায় গুতা মেরে বলল-
-” শালি জামাই কে জামাই মানে না আসছে শাশুড়ী শাশুড়ী করে মুখে ফ্যানা তুলতে।
-” বলুন।
-” না বলবো না। আগে আইলাভিউ বলো।
-” অসভ্য ইতর কোথাকার।
-” হ্যাঁ এটা আসলেই তোর জামাই। এমন জামাই সকল ঘরে ঘরে হোক।
-” নরক হয়ে যাবে ঐ সব ঘর।
-“ চলো বউ বাচ্চা নিয়ে ফেলি একটা।
মাহি রেগে তাকালো। এজওয়ান খাটের নিচ থেকে মদের বোতল বের করে গ্লাসে ঢালতে লাগলো। মাহি কোমরে হাত গুঁজে কিছু বলার উদ্যত হওয়ার আগেই এজওয়ান মাহির দিকে মদের গ্লাস বাড়িয়ে দিয়ে বলল-

-” নাও খাও।
মাহি মুখ ফিরিয়ে নিলো।
-” খাব না।
-” তাহলে মদ খাবি না খাবি কি? মদের মতন আছে কি? মদ হলো এই জীবনের শান্তির চাবি। আয় জমাই বউ মাল খেয়ে টাল হয়ে যাই।
মাহি বিরক্ত হয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
বাশার সুলতান সন্ধ্যার পর থেকে অনেক ব্যস্ততার সময় পাড় করছে। নতুন বিল্ডিংয়ের কনস্ট্রাকশনের কাজ নাকি এখনও শেষ হয় নি। অফিস সাজানো হয় নি। অথচ ডিসেম্বরের শুরুতে উদ্বোধন।
আগামীকাল মেহরিন কে সোলেমান মহাদেবপুর দিয়ে আসবে। আফিয়া সুলতান, রুমাইসা ফোন করে বলল মেহরিন কে ছাড়া তাদের ভালো লাগছে না। ক’দিনের জন্য হলেও জন্য রেখে যায়। এদিকে মোতালেব ভুঁইয়ার ও মেয়েকে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছিল। সব দিক ভেবেই সোলেমান সকাল হলে মেহরিন কে রেখে আসবে। আবার পরে একদিন গিয়ে নিয়ে আসবে। রুমাইসা তো সোলেমান কে বলেই বসেছিল—“ বউ নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে লাপাত্তা হয়ে গেলে ভাই? কথা ছিলো রাতে ফিরবে। সেখানে সপ্তাহ গড়িয়ে গেলো অথচ তোমার রাত আর আসলো না।
সোলেমান মেহরিন কে নিয়ে তার লাইব্রেরি তে এসেছে। মেহরিন অবাক চোখে দেখলো লাইব্রেরি টা। এত বই! হাজারের উপরে আছে বই এখানে। মেহরিন বই গুলো ছুঁয়ে দিয়ে বলল-

-” সব পড়েছেন?
সোলেমান জবাবে বলল-
-” উঁহু।
-” তাহলে এত বই কেনো?
-” পড়ি আর না পড়ি সংগ্রহে রাখা ভালো। সুন্দর দেখায়।
-” ও বাড়িতে তো কোনো এমন লাইব্রেরি নেই।
-” ও বাড়িতে কোনো বই পড়ুয়া নেই। সব গুলো পড়া চোর। তুমি ও বাড়িতে এমন একটা লাইব্রেরি চাও?
-” হুমম।
-” আচ্ছা বানিয়ে দিব।
-” একটা কথা বলি?
-” একটা কেনো হাজার টা বলো আমি শুনবো।
-” আপনি কি খুব বড়লোক? না মানে আপুর মুখে আপনার লাইফ স্টাইলের বিষয়ে অনেক কিছু শুনেছি।
সোলেমান স্মিত হাসলো।
-” মোটামুটি কোনো রকমে খেয়ে পড়ে চলে যাওয়ার মতন টাকা পয়সা আছে আর কি।
-” এটাকে আমার মোটেও মোটামুটি মনে হচ্ছে না। এটাকে মাত্রাতিরিক্ত বিলাসিতা বলে।
সোলেমান বউকে টেনে আনলো। কোমরে হাত ছুঁইয়ে দিয়ে বলল-
-” যার যত টাকা আছে তার তেমন খরচও আছে। আমি জন্মের আগে থেকেই রিচ। মানুষ সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মায়। আর আমি মুক্তা হিরার। আমি এই ৩৩ বছর বয়সে যত শত্রু যত টাকা কামিয়েছি তা বোধহয় প্রধানমন্ত্রীও কামায় নি।

-” এত আয়ের উৎস কি?
-” রাজনীতি, বিজনেস।
-” রাজনীতি, বিজনেস করে এত টাকা কামানো যায়?
-” হুমম যায়।
-” কিভাবে?
-” বুদ্ধি থাকতে হয়। পাওয়ার থাকতে হয়। আর দুটোই আমি জন্মগত ভাবে পেয়েছি।
-” জীবনে তাহলে কোনো কিছুর অভাব ছিলো না আপনার তাই না? কোনো কষ্টই পান নি?
-” পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ কি আছে যার জীবনে কষ্ট নেই? একমাত্র টাকা পয়সার কষ্ট অভাব ছাড়া বাকি সব কষ্টের আমি সম্মুখীন হয়েছি। ইন ফিউচার আরো বাড়তে পারে এটা।
মাহি বোনের সাথে কথাবার্তা বলে রুমে ফিরে আসে। এজওয়ান কে এখনও মদ গিলতে দেখে বিরক্ত হলো সে। এগিয়ে এসে মদের বোতল গুলো টেনে নিয়ে জানালা দিয়ে ফেলে দিলো। এজওয়ান ভয়ংকর রকমে রেগে গেলো। জানালা দিয়ে দেখলো বোতল গুলো বাগানে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পাশেই বাশার সুলতান বসে ছিলো। বাশার সুলতান কিছু পড়ার শব্দে তাকালো ওদের রুমের জানালার দিকে। এজওয়ান বাপের মুখের উপরে জানালা লাগিয়ে দিলো। তারপর মাহির দিকে ফিরে রাগী গলায় বলল-

-” ফেলে দিলে কেনো?
-” আধঘন্টা ধরে গিলেই যাচ্ছেন। এতই যখন গেলার ইচ্ছে ছিলো বাসায় এসেছেন কেনো?
-” তোমার সাথে প্রেম করতে। যাও খাটের নিচ থেকে আরেকটা বোতল এনে দাও।
-” পারবো না।
-” রাগিও না। যা বলছি তাই করো।
-” করবো না।
-” আমি কিন্তু পেটাবো তোমায়।
-” হাত ভেঙে গুড়িয়ে দিব।
-” শালি রাগাবি না আমায় বলে দিচ্ছি। আমার একবার রাগ উঠলে কিন্তু তোকে তালাক দিয়ে বাপের বাড়িতে রেখে আসবো হু। তখন কেঁদে কুটেও আর ফিরতে পারবি না এই এজওয়ানের জীবনে। সো বি কেয়ার ফুল। যা বলি তাই কর।

-” আপনার মুখে তালাকের কথা শুনে তো আমি এখন ঐ সব অবলা নারীর মতো কেঁদে —হাতে ধরি পায়ে ধরি যাইও না গো ময়নার বাপ। আমারে তালাক দিয়া যাইও না। এসব বলবো তাই না? আমিও তালাক চাই। এক বাপের এক ব্যাটা হলে দিয়ে দিন তালাক।
এজওয়ান গিয়ে দরজা লাগাতে লাগাতে বলল-
-” এ্যাহ বাসর না করেই তালাক দিয়ে দিব?
-” দরজা কেনো লাগাচ্ছেন?
-” রাত তো অনেক হলো। আমাদের তো এনজয় করার সময় এটা।
এজওয়ান একপা একপা করে আগাচ্ছে। মাহি পিছিয়ে যাচ্ছে।
-” আগাচ্ছেন কেনো?
-” আমার আজকাল কেনো জানি শুধু বাপ ডাক শুনতে ইচ্ছে করে।
-” এগোবেন না একদম।
এজওয়ান মাহিকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিলো। তারপর দু হাত মাহির দু হাতে চেপে ধরে মাহির দিকে ঝুঁকে আসলো।
মাহির সারা শরীর কাঁপছে ভয়ে ঘৃণায়। ছোটাছুটি করতে লাগলো। কিন্তু অসভ্য বেয়াদব এজওয়ানের শক্তির সাথে পারতেছে না।
এজওয়ান সবেই চুমু খেতে যাবে এমন সময় বাবার গলা আসলো। বলছে—

-” জোর করিস না গাঁধা।
এজওয়ান ভ্রু কুঁচকালো। আশ্চর্য তার বাপ জানলো কি করে সে জোর করে করার চেষ্টা করছে? রুমে স্পাই ক্যামেরা লাগিয়েছে নাকি?
-” তোমার লজ্জা করে না ছেলের বাসর দেখতে?
এজওয়ান উঁচু গলায় বলল।
ফের বাশার সুলতানের গলার আওয়াজ আসলো-
-” তোর কি লজ্জাশরম নেই? যার টা খাচ্ছিস তাকেই অমান্য করছিস এখন।
-” না নেই।
-” দেখ ওর সাথে এমন কিছু করিস না। অন্য আরেক দিন করিস ওসব। সোলেমান এসে যা করার করবে। তুই করিস না।
এজওয়ান রেগে গেলো। হোয়াট দ্যা ফা*ক! ভাই এসে করবে মানে? তার বউয়ের সাথে সোলেমান ভাই কি করবে! এই বাশার সুলতানের মাথায় কি সমস্যা হয়েছে নাকি?
এজওয়ান জানালা খুললো। তার বাপ এখনও বসে আছে বাগানে! এজওয়ান উঁচু গলায় বলল –
-” এই তোমার লজ্জা করে না ছেলের রুমের নিচে বসে আড়ি পাততে? আবার বলছো ভাইজান কে পাঠাবে আমার রুমে!
বাশার সুলতান রেগে বলছে-

-” আমি যখন বলছি সোলেমান করবে। তখন সোলেমান ই করবে। তুই না। তুই সরে যা ওখান থেকে।
এজওয়ান রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে নিচে আসলো। বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। বাশার সুলতান আকস্মিক ছেলেকে সামনে এসে দাঁড়াতে দেখে ফোনের ওপাশে থাকা কাউকে বলল-
-” পরে ফোন দিচ্ছি আমি।
কথাটা বলেই কান থেকে ব্লুটুথ খুলে ফেললো।
এজওয়ান রেগে বাপের হাত থেকে ব্লুটুথ আর ফোন নিয়ে টেবিলের উপর ছুঁড়ে ফেলে বলল-
-” লজ্জা করে না তোমার ছেলের বাসর দেখতে?
বাশার সুলতান হকচকিয়ে গেলো। কিসের বাসর, সে কি দেখছিলো?
-” মাথা ঠিক আছে?
-” না ঠিক নেই। তুমি আমার রুমের নিচে কি করছো? আর ভাইজান আমার বউয়ের সাথে কি করবে?
-” আশ্চর্য আমি ফোনে কথা বলছিলাম। সোলেমান তোর বউয়ের সাথে কি করতে যাবে? ওর কি বউ নেই নাকি?
-” তাহলে কেনো বললে দেখ ওর সাথে আজই কিছু করিস না। অন্য আরেক দিন করিস। সোলেমান এসে যা করার করবে। তুই করিস না।

-” আমি কি এটা তোকে বলেছি নাকি? আমি তো ছেলেপেলেদের বললাম। আমাদের অফিসের এক কর্মচারী ইকবালের হয়ে সব ইনফরমেশন লিক করছিলো। সোলেমান সেটাই ধরতে পেরে ওকে আঁটকে রেখেছে। বলেছে প্রতি তিন বেলা খাবারের বিপরীতে গরুর গোবর খাওয়াতে। তো ওরা সেটা না করে ওর পুরুষাঙ্গ নিয়ে পড়েছে। তুই নাকি কবে খিচুড়ি পার্টি করেছিলি ওসব দিয়ে। ওরাও করতে চাইছে। তাই বলেছি গোবর খাওয়াতে না পারলে বারতি আর কিছু করিস না।
এজওয়ান নাক খিঁচে ধরলো। এজওয়ান যা করে এদেরও কি তাই করতে হবে? ডিজগাস্টিং! আরো সে কি না কি ভেবে সময় নষ্ট করে এখানে এসেছে।
-” এখন থেকে কথাবার্তা বললে নিজের রুমের ভেতরে বলবা। এর ওর রুমের নিচে গিয়ে দাঁড়াও কেনো?
এজওয়ান চলে আসলো। রুমের কাছে এসে দরজা ধাক্কাতেই দেখলো মাহি ভেতর থেকে আঁটকে দিয়েছে। এজওয়ান ধাক্কা দিয়ে বলল-

-” মাহি দরজা খোল বলছি।
ওপাশ থেকে মাহি কি বললো এজওয়ান জানে না। রুমটা সাউন্ডপ্রুফ ভেতরের কথা বাহিরে আসে না। কিন্তু বাহিরের কথা ভেতরে ঠিকই আসে। অতচ তার ভাই জানের রুম দু দিক দিয়েই সাউন্ডপ্রুফ।
-” মাহি খোল না রে রুম।
মাহি খুললো না। এজওয়ান মাহির ঘুমানোর অপেক্ষা করলো। তারপর নিচে আসলো ফের। বাপের রুমে ঢুকে নিজের রুমের এক্সট্রা চাবি টা নিয়ে দরজা খুলে দেখলো মাহি রুমের লাইট টাইট নিভিয়ে বিছানায় ঘুমিয়ে আছে।
এজওয়ান ধীর পায়ে বিছানায় আসলো। মাহির শরীর থেকে চাদর টা টেনে সরাতেই মাহি ছিটকে উঠলো। এজওয়ান কে দেখে ভয়ে সিটে গেলো। এজওয়ান বাঁকা হেসে মাহির দু হাত মাথার উপরে সোজা বিছানার সাথে চেপে ধরে ঠোঁটে চুমু খেয়ে বলল-
-” অনেক দিন হলো বিয়ের। জোর করে বিয়ের করার বদনাম যখন লেগেই গেছে তখন জোর করে বাসর করার ট্যাগ টাও লাগানো যাক।
মাহি অনেক ধস্তাধস্তি করে এক হাত ছাড়িয়ে এজওয়ানের মাথার চুল টেনে ধরলো। এজওয়ান ও কম না। সেও মাহির চুল টেনে বলল-

-” ছ্যেমরি চুল ছাড় আমার। নইলে তোর চুল ও আমি ছিঁড়ে ফেলবো।
মাহি আরো টেনে ধরলো। এজওয়ান ও টেনে ধরলো। কয়েক মিনিট চুল ধরে চুলোচুলি করার পর এজওয়ান মাহির উপর উঠে বসে মাহির হাত নিজের চুল থেকে সরিয়ে পাশ থেকে টাই টা নিয়ে মাহির হাত বেঁধে ফেললো। মাহির রাগে শরীর কাঁপতেছে। এজওয়ান বিশ্ব জয়ীর একটা হাসি দিলো। এখন মাহি নিজেকে কি করে বাঁচাবে? টাইয়ের বাঁধনে হাত-পা অসাড় হয়ে আসছে। এখন তো আটকাতে পারবে না সে এজওয়ান কে। এজওয়ান তার কাজ হাসিল করে নিবে। মাহি বুকের ভেতর ধুকপুকানিটা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে সে। এজওয়ান ঝুঁকে এলো, নিঃশ্বাসে ছুঁয়ে দিলো মাহির মুখ।
মাহি শুধু একটা কথাই বলল-

-” আজীবন আপনাকে আমি ক্ষমা করবো না।
-” আই ডোন্ট নিড ইউর ক্ষমা। আই জাস্ট নিড ইউ।
যেই ভাবা সেই কাজ। সে অঘটন ঘটিয়েই ফেললো মাহির সাথে। মাহির সেলোয়ার ধরতেই যখন মাহি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল এজওয়ান বুঝে গেলো সেই মুখে, সেই চোখে ঠিক গভীর ঘৃণা, এটা কারো অন্তর কেটে ফেলতে পারে। কিন্তু বুঝেও এজওয়ান থেমে গেলো না। আজীবন তো ঘৃণাই করবে। আজ না হয় আরেকটু ঘৃণার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া যাক। স্পর্শ তো হালালই। মাহির স্রেফ এটাকে ধ’র্ষণ ছাড়া আর কিছু মনে হলো না। ধ’র্ষণের সময় যেমন ধ’র্ষক জোর করে হাত পা বেঁধে নিজের কাজ হাসিল করে নেয়। এজওয়ান আজ ঠিক সেটাই করলো। এই ছোঁয়ায় মাহি বেশ ভালো করেই দেখতে পেলো এজওয়ানের আসল রূপ। একজন ধ’র্ষকের রূপ। এজওয়ান যেন এই দিনটার অপেক্ষাতেই ছিলো। এই লোকটা কে মাহি জীবনেও ক্ষমা করবে না। ক্ষমা করার প্রশ্নই আসে না। মাহি একটুও বাঁধা দেয় নি আর। নীরবে চোখের জল ফেলেছে। এজওয়ানের প্রতিটা স্পর্শে যেনো মাহি বিষ খুঁজে পেলো। ঐ যে গরম লোহা শরীরে বিঁধে দিলে যেমন টা লাগে না? ঠিক তেমন টা লাগতে শুরু করলো। কি জঘন্য সেই ছোঁয়া। দম বন্ধ হয়ে আসে। ঘৃণায় ম’রে যেতে ইচ্ছে করে। প্রতিটি স্পর্শে শরীর কেঁপে উঠছে, প্রতিটি সেকেন্ডে আত্মা একটু একটু করে পচে যাচ্ছে।

দাহশয্যা পর্ব ৪৬

আজ না হোক কাল এটা হওয়ারই ছিলো। বিয়ের নাম করে অধিকার টা কিনে নিয়েছে যে।
শেষ রাতের দিকে এজওয়ান মাহির থেকে সরে আসে। চোখে ক্লান্তির ঘুম। আজ থেকে নিজেকে পুরোপুরি ভাবে খারাপ ভাবা যাচ্ছে। এজওয়ান চোখ বুঁজে ফেললো। জোরে জোরে শ্বাস টানছে। কি শান্তি! এই শান্তি আগে কখনও পায় নি সে। আজ ঘুম হবে ভালো। শেষে আরেক টা শ্বাস টানতেই আকস্মিক বুকে ব্যথা হতে লাগলো। শ্বাস নেওয়ার বদলে উল্টো আরো আঁটকে আসলো। মনে হলো কেউ ছু’রি বসিয়ে দিয়েছে বুকে। চোখ মেলে তাকানোর আর ইচ্ছে হলো না। চোখ বুজেই রইলো এজওয়ান । এজওয়ান বুকে ডান হাত টা রাখতেই বুঝতে পারলো তরল কিছু শরীর থেকে বের হচ্ছে । চোখ মেলে দেখলোও না এই তরল জিনিসটার রং দেখতে কেমন । ঠোঁটের কোনে বাঁকা হাসি লেপ্টে আছে। তারপর আর কিছু মনে করতে পারলো না। শুধু শব্দ কানে আসলো দরজা খোলার। মাহি রুম থেকে হয়তো দৌড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে……

দাহশয্যা পর্ব ৪৮