দাহশয্যা পর্ব ৮১ (৩)
Raiha Zubair Ripti
পরন্ত এক স্নিগ্ধ বিকেল। রোদের হাল্কা ঝিলিমিলি আছে। ঠান্ডার প্রকোপ টাও একটু বেড়েছে রাজধানী তে। ঊর্মির ভীষণ গরুর ভুঁড়ি খেতে ইচ্ছে করছে। সেজন্য ইব্রাহিম কে ফোন করে বলল- আসার পথে যেন গরুর ভুঁড়ি নিয়ে আসে।
বেচারা ইব্রাহিম ছিলো মিছিলের সামনে। চারিদিকের শোরগোলের আওয়াজে সে শুনতে পেলো বউ তাকে চুড়ি আনতে বলেছে। তাই বলেছে- আচ্ছা ফেরার পথে নিয়ে আসবো। এখন ব্যস্ত আছি,মিছিল হচ্ছে। পরে ফোন করছি। সাবধানে থেকো।
কথাগুলো বলেই ইব্রাহিম ফোন কে’টে দেয়। ঊর্মির পাশেই ছিলো মেহরিন। মেয়েটা যা বলে ইব্রাহিম পাশা তাই করে। খুব ভালোবাসে পাশা ঊর্মি কে? মেহরিন জিজ্ঞেস করলো-
“ ভাইয়া খুব ভালোবাসে তাই না? কখনও তার মুখে না শুনি না তোকে নিয়ে। ”
ঊর্মি উপর নিচ মাথা নাড়ালো।
“ আমি ছাড়া যে উনার কেউ নেই। ”
“ উনার আব্বা আম্মা মা-রা গেছে শুনছি। উনার কি কোনো আত্মীয় স্বজনও নেই? ”
“ না। তুর্কী তে হয়তো কেউ নেই। থাকলে তো বলতো। ”
“ ওহ্। সুলতান সাহেব নিয়ে গিয়েছিল তো তুর্কী তে গত বছর। ভীষণ সুন্দর। তুই তো তাহলে যেতেই পারিস। তোর শ্বশুর বাড়ি তো ওখানেই। ”
“ হ্যাঁ বাবু হওয়ার পর বেড়াতে নিয়ে যাবে বলছে। ”
“ তাড়াতাড়ি আসুক বাবুটা। আদর করবো অনেক।”
“ তুই বাচ্চা নিবি কবে মেহু? ২ বছর তো হতে চললো। একেবারে এডমিশন শেষে বাচ্চা নিবি নাকি? ”
“ চেষ্টা করছি নেওয়ার। বাকিটা আল্লাহ ভরসা। ”
কথাটা শুনে ঊর্মি আনন্দে মেহরিন কে জড়িয়ে ধরে বলল-
“ ইনশাআল্লাহ খুব তাড়াতাড়ি যেন সুখবর শুনতে পারি। ”
মেহরিন স্মিত হাসলো। মেহরিনও এই সুখবর টা অতি শীগ্রই শুনতে চায়। মেয়েদের পূর্ণতা দুইয়ে। এক সুদর্শন দায়িত্বশীল স্বামী তে। আর দুই মা ডাকে।
এই যে একটা ছোট্ট প্রাণ মেহরিন কে মা মা করে ডাকবে আধোআধো গলায়। ডাকটা নিশ্চয়ই পৃথিবীর সবচেয়ে সুমধুর ডাক হবে। মেহরিন মুগ্ধ হয়ে শুনবে। তার নরম তুলতুলে ছোট হাতটা ধরে হাঁটবে। সারাটা দিন আগলে রাখবে,খুনসুটি করবে। খুব খুব আদর ভালোবাসা দিবে তাকে। একটুও কষ্ট পেতে দিবে না।
টুকটাক বেশ অনেক কথাই হলো ঊর্মির সাথে মেহরিনের। কথার তালে তালে ঊর্মি জানালো- ইব্রাহিম পাশার জীবনে ঊর্মিই প্রথম নারী যাকে পাশা ভালোবেসেছে। ঊর্মি এ-ও জিজ্ঞেস করলো মেহরিন কে। মেহরিনও কি সোলেমান সুলতানের জীবনে প্রথম নারী?
মেহরিন চুপ হয়ে যায় সেই কথার বিপরীতে। সে জানে না এটার উত্তর। শখের পুরুষের জীবনে ভালোবাসার প্রথম নারী হওয়া ব্লেসিং। তার চেয়ে বেশি ব্লেসিং শেষ নারী হওয়া। আর যে দুটো এক সাথে হয় তার জীবন বোধহয় সবচেয়ে ভাগ্যবতী । মেহরিনের জীবনে তো সোলেমান প্রথম এবং শেষ পুরুষ। নিশ্চয়ই সোলেমান সুলতান ভাগ্যবান। কিন্তু সোলেমানের জীবনে কি মেহরিনও প্রথম আর শেষ নারী? জিজ্ঞেস করতেও তো কেমন অস্বস্তি হয়। কেউ থেকে থাকলে সুলতান সাহেবের কি উচিত না নিজ থেকে মেহরিন কে জানানোর? আর না থাকলেও তো বলা উচিত। মেহরিন খোলা বই হয়ে ধরা দেয় তাকে। অথচ সুলতান সাহেব সৃজনশীল প্রশ্নের ঘ নং প্রশ্নের উত্তরের মতো হিজিবিজি। স্পষ্ট না,এলোমেলো। সোলেমানের সম্পর্কে আদোও কি কিছু জানে মেহরিন? নাহ্ কিছুই তো জানে না। একদিন জিজ্ঞেস করতে হবে কথাটা। সেদিনও অপরিচিত এক নারী জিজ্ঞেস করলো। আজ আবার ঊর্মিও জিজ্ঞেস করলো। আচ্ছা যদি শুনে মেহরিন তার জীবনের প্রথম নারী না তখন মেহরিনের অনুভূতি কেমন হবে? একটু কাঁদবে? না কাঁদলেও মন যে খুব খারাপ হয়ে যাবে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
সন্ধ্যার পরপর ইব্রাহিম বাড়ি আসলো। হাতে আছে একটা মিনি সাইজের বক্স। মেহরিন আর মাহি তখন বসার ঘরে বসে ছিলো। মাহি পাশার হাতে ওমন বক্স দেখে জিজ্ঞেস করলো-
“ বক্সে কি আছে ? ”
ইব্রাহিম হাঁটা থামিয়ে দিয়ে মাথা চুলকে বলল-
“ চুড়ি আছে। ঊর্মি আনতে বলেছিল। ”
মেহরিন ভ্রু কুঁচকালো। চুড়ি! ঊর্মি চুড়ি আনতে বলেছিল! কখন বললো?
ইব্রাহিম চলে গেলো। ইব্রাহিমের পর পর এজওয়ান আর সোলেমান ও বাসায় আসলো। সোলেমান রুমে যাওয়ার সময় মেহরিন কে আসতে বলল। মেহরিন চলে গেলো। এজওয়ান গিয়ে মাহির কোলে মাথায় দিয়ে সোফায় শুয়ে পড়লো। মাহি ছিটকে উঠলো। সরে যেতে যেতে বলল-
“ শোয়ার আর জায়গা নেই? আমার কোলে এসেই শুতে হবে? ”
এজওয়ান আরো ঠেসে শুয়ে পড়লো।
“ মাথা ব্যথা করছে তরিকুলের বেটি। ”
“ তো মলম লাগান। ”
“ লাগিয়ে দাও। সত্যি মাথা ব্যথা করছে। গোলামের জাত গুলোর গলার আওয়াজ তো না যেন বুলেট। মনডায় চাইছিল গরম পানি ঢেলে দেই ওদের শরীরে। ”
“ একদিনেই এই অবস্থা? তাহলে আরো তো দিন পড়ে আছে সামনে। রাজনীতি আপনাকে দিয়ে হবে না। ”
“ আই এগ্রি উইথ ইউ তরিকুলের বেটি। এখন মাথাটা টিপে দাও। ”
মাহি বা হাত দিয়ে টিপে দিতে লাগলো এজওয়ানের মাথা।
ইয়াসিন একমাত্র প্রয়োজন ছাড়া তেমন একটা কথা বলে না বাতাসির সাথে। কথা বলে একমাত্র বাতাসির কিছু লাগবে কি না সেই সময়। সেই সকালে বের হয় আর আসে রাত ১২ কি ১ টা বাজে। বাতাসি ভাত বেড়ে বসে অপেক্ষা করে। অপেক্ষা করতে করতে কখনও ঘুমিয়েও পড়ে। ইয়াসিন হয় খাবার খেয়ে চলে যায় রুমে,আর তা না হলে সরাসরি রুমে চলে আসে। বাতাসি সকালে উঠে আবিষ্কার করে নিজেকে খাবার টেবিলে। সামনে থাকে কখনও এঁটো প্লেট,না হয় ঢাকা পড়া খাবার।
বাতাসি নিশ্চুপে ঘরে চলে আসে।
ইয়াসিন আজ অনেকদিন পর ক্লাবে আসে। সারাদিন চায়ের দোকানে আর বসে থাকতে ভালো লাগছে না। সোলেমান ইয়াসিন কে দেখামাত্রই বলে উঠে-
“ কিরে আসলি তাহলে অবশেষে ? রেগে না হয় বলেছিলাম এক সপ্তাহ সামনে আসবি না। সেজন্য সত্যি সত্যি সামনে আসবি না!”
প্রতিত্তোরে ইয়াসিন নিশ্চুপ থাকে। সময়ের অভাবে সেভাবে ইয়াসিনের বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতে পারে নি। তবে শুনেছে ইয়াসিন ঢাকায় ছিলো না ক’দিন। বাড়ি গিয়েছিল তাহলে? সোলেমানের ইয়াসমিন বেগমের কথা মনে পড়লো।
“ বাড়ি গিয়েছিলি? খালার শরীর কেমন এখন? অনেক দিন হলো কথা হচ্ছে না। নাকি তোকে নিয়ে টেনশন করে করে শরীরের ১২ টা বাজাচ্ছে?”
ইয়াসিন নিশ্চুপ। সোলেমান ফের জিজ্ঞেস করলো-
“ খালা বকেছে নাকি? তাহলে তো বেশ করেছে। কথা শুনিস না কেনো? মা থাকতে মায়ের মূল্যায়ন করতে শিখ ইয়াসিন। একবার হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়া অসম্ভব। খুব কি বকেছে? আচ্ছা আমি খালার সাথে কথা বলবো। এবার তো কথা বল। ”
কথাটা শেষ করে সোলেমান এগিয়ে আসে। ইয়াসিনের বাহু তে হাত রাখতেই ইয়াসিন হুহু করে কেঁদে উঠে। সোলেমান হকচকিয়ে যায়।
“ এই বোকা কাঁদছিস কেনো? বললাম তো খালার সাথে কথা বলবো। ”
“ আ…আম্মা আর নাই ভাই। আম্মা আমার উপর রাগ করে চলে গেছে। আমি এতিম হয়ে গেছি ভাই। আমার আর কেউ নাই। ”
সোলেমানের কানে বাজতে লাগলো আম্মা আর নাই ভাই। চোখের সামনে সহসা ভেসে উঠলো ইয়াসমিন বেগমের হাস্যজ্বল মুখটা। শেষ বার গিয়েছিল কয়েক বছর আগে। ছেলের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। সেই মানুষ টা আর নেই! মানতে অসুবিধে হচ্ছে। পুরো শরীর কেমন অবস হয়ে আসলো। কোনো রকমে জিজ্ঞেস করলো-
“ ক…কি করে হলো এসব? কবে হলো? আমাকে জানাস নি কেনো? ”
ইয়াসিন সব খুলে বলল। সবটা শুনে থ হয়ে গেলো সোলেমান। কি বলবে ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। শুধু জিজ্ঞেস করলো-
“ বাতাসির কি করেছিস তুই? ”
“ আছে,সাথেই আছে আমার। নিয়ে এসেছি। ”
সোলেমান নিশ্চুপ হয়ে গেল। আকস্মিক প্যান্টের পকেটে থাকা ফোনটা বেজে উঠায় সোলেমান রিসিভ করলো। আজ বিকেলে মন্ত্রীসভায় একটা বৈঠক আছে। সোলেমান কে ঠিক সময় চলে আসতে বললো। সোলেমান হাত ঘড়িতে সময় দেখলো। মিটিং শুরু হতে বেশি সময় নেই। সোলেমান ইয়াসিন কে সামলে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে চলে গেল।
সন্ধ্যার পর ইয়াসিন বাসায় আসে। বাতাসি কোচিং শেষ করে এখনও ফিরে নি। সেজন্য আবার হাঁটা ধরলো কোচিং এর দিকে। বাতাসি কাঁধে ব্যাগ চাপিয়ে বাড়ির দিকে আসছিলো হেঁটে । রাস্তায় ইয়াসিনের সাথে দেখা হলো। দু’জনই হাঁটছে। কারো মুখে কোনো শব্দ নেই। বাতাসি আড়চোখে বারবার তাকাচ্ছে। কেমন থমথমে মুখ তার। বাসায় আসার পর বাতাসি ইতস্ত করে বলল-
“ শুনুন। ”
ইয়াসিন তখন গ্লাসে পানি ঢালছিল।
“ হু। ”
“ আপনার আম্মার সাথে আমার কথা বলিয়ে দিবেন? সেদিন ফোন দিয়েছিলাম। ধরে নি। উনি কি রেগে আছেন আমার উপর? ”
ইয়াসিন পানিটা খেতে গিয়েও আর খেতে পারলো না। শব্দ করে রাখলো টেবিলে। বাতাসি কিঞ্চিত কেঁপে উঠলো।
ইয়াসিন রুমে যেতে যেতে বলে গেল-
“ আর কোনোদিন রিসিভ করবে না আম্মা তোমার ফোন। ”
বাতাসি এ কথা শুনে নির্নিমেষ চোখে চেয়ে রইলো ইয়াসিনের যাওয়ার পানে। কোনোদিন ফোন ধরবে না? কেনো ফোন ধরবে না? বাতাসি কোনো ভুল করেছে? কষ্ট দিয়ে ফেলছে অজান্তেই? বাতাসি খুঁজতে লাগলো তার ভুল। মনে পড়ছে না তো। বাতাসি ইয়াসিনের রুমের দরজার বাহিরে আবার জিজ্ঞেস করলো ইয়াসিন কে-
“ আম্মা আর কোনোদিন আমার ফোন ধরবে না কেনো? আপনার আম্মাকে আমি খুব ভালোবাসি। একটু বলবেন আমার সাথে কথা বলতে? ”
ইয়াসিন ফ্লোরে বসে আছে বিছানায় পিঠ ঠেকিয়ে। এক পায়ের হাঁটুতে হাত ঠেকিয়ে। বাতাসির কথা শুনে ইশারায় বলল-
“ এদিকে আসো। ”
বাতাসি এলোমেলো পায়ে রুমে ঢুকলো। ইয়াসিন বলল-
“ বসো। ”
বাতাসি ইয়াসিনের পাশাপাশি বসলো। ইয়াসিন বাতাসির দিকে ঘাড় বেঁকিয়ে তাকিয়ে বলল-
“ কাঁদবে না, ঠিক আছে? ”
বাতাসির বুকটা ধক করে উঠলো। কাঁদবে না মানে? কাঁদার কোনো কথা বলবে ইয়াসিন? ডিভোর্স দিয়ে দিবে? বাতাসি কিছু বললো না আর।
“ আম্মা আর নেই বাতাসি। চলে গেছে না ফেরার দেশে। ”
কথাটা যেনো ধারালো ফলার বর্শার মতো এসে বিঁধলো বাতাসির বুকে। মুহূর্তে চোখ ঘোলাটে হয়ে আসলো । পলক ঝাপটাতেই গাল বেয়ে পড়তে লাগলো সেই অবাধ্য জলগুলো। বাতাসি কে ভালোবাসার মানুষ গুলো কে আল্লাহ এত তাড়াতাড়ি কেনো নিয়ে যায়? বাতাসি কে সহ্য করতে পারে না বোধহয়? সেজন্য এভাবে সাজা দেয় তাকে না নিয়ে তার ভালোবাসার মানুষ গুলোকে কেঁড়ে নিয়ে। বাতাসি শব্দ করে কেঁদে উঠলো। শেষ বারের জন্য দেখতে পারলো না সে ইয়াসমিন বেগম কে। কেউ আর বাতাসির মাথায় তেল দিয়ে দিবে না। আদর করে বুকে জড়িয়ে ধরবে না। কপালে গালে চুমু খাবে না। সবাই এখন কষ্ট দিলে স্বস্তি খুঁজবে কার কাছে বাতাসি?
ইয়াসিন কান্নার শব্দ পেয়ে বলল-
“ মানা করেছিলাম কিন্তু। ”
বাতাসি কাঁদতে কাঁদতে জবাব দিলো –
“ আমার কথা জীবনে শুনে নি ও,যে আপনার কথা শুনবে। আপনার আম্মা কে আল্লাহ কেন নিয়ে গেল? এতো অপছন্দ আমাকে তার! আমার জন্যই আপনার আম্মা চলে গেল! না উনি আমাকে ভালোবাসতেন আর না আল্লাহ উনাকে নিয়ে যেত। আম্মার মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী,আমি ! এত মৃত্যুর দায় আমার মাথার উপর! প্রথমে আব্বা তারপর ভাইয়া এখন আপনার আম্মা! ”
এদিকে ইয়াসিন তার আম্মার মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী করছে। অথচ প্রকৃত পক্ষে তাদের কেউ কি দায়ী? মৃত্যু তো আগে থেকেই লেখা থাকে।
ইয়াসিন বাতাসির মাথায় হাত রাখলো।
“ নিজেকে দোষী ভেবো না। দোষী অন্য কেউ। ”
“ কে দোষী? ”
“ আমি। ”
বাতাসি চমকে উঠলো।
“ আপনি দোষী মানে! আপনি কি করে দোষী হন?”
“ রুমে যাও রাত হয়েছে। কেঁদো না আর। ”
বাতাসি আর এক মুহূর্তও থাকলো না। দৌড়ে নিজের রুমে এসে দরজা বন্ধ করে মুখ চেপে কাঁদতে লাগলো। এই কথাটা যে তাকে কোনোদিন শুনতে হবে ভাবতে পারে নি। নিজের মা তো মা না যেন সৎ মায়ের থেকেও নিকৃষ্ট। অথচ মায়ের মতো শাশুড়ী উনার মৃত্যু মানতে পারছে না। যদি জানতো আর কোনোদিন বাতাসি তাকে দেখতে পারবে না তাহলে বাতাসি সেদিন ইয়াসিনের সাথে চলে আসতো না। সারা রাত বাতাসির কাঁদতে কাঁদতে পাড় হলো।
অপর ঘরে ইয়াসিনের সারা রাত কাটলো নির্ঘুমে সেই একই ভঙ্গিতে বসে থেকে।
রাত তখন আনুমানিক ১১ টা বাজে। এজওয়ান সন্ধ্যায় ঘুম দিয়েছিল। সেই ঘুম ভেঙেছে কেবল। কফি দরকার তার। সারা রুমে চোখ বুলিয়ে দেখলো তরিকুলের বেটি নেই। বেয়াদব মার্কা বউ একটা। এজওয়ান কফির জন্য রুম থেকে বেরিয়ে করিডর দিয়ে হাঁটতে লাগলো। মাথা ঝিমঝিম করছে। আকস্মিক ইব্রাহিমের রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু অশ্লীল শব্দ শুনে আপনা-আপনি দাঁড়িয়ে যায়। তাদের কথোপকথন গুলো এমন-
“ আহ্! ব্যথা পাচ্ছি তো,আস্তে ঢোকান না। ”
“ আস্তেই তো ঢোকাচ্ছি। খুব ছোট,সেজন্য ঢুকছে না। তেল ইউজ করে ঢোকাবো? ”
“ যা ইচ্ছে হয়,যেটা মনে চায় সেটা দিয়ে চেষ্টা করুন।ভালো লাগছে না আর এই যন্ত্রণা। ”
দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকা এজওয়ানের মাইন্ড নষ্ট হয়ে গেলো। ছি তার বড় ভাই এসব কি করছে! বউ না প্রেগন্যান্ট? আর সাউন্ড প্রুফ রুমে যেতে পারলো না! এজওয়ান বাহির থেকেই বিরক্ত হয়ে বলল-
“ কি সব অশ্লীল কাজকর্ম করছো ভাই বউ? বউ না প্রেগন্যান্ট?একটু কন্ট্রোলে থাকতে পারো না? অকাজ করছো রুমে আর আমি দরজার বাহিরে থেকে শুনতে পাচ্ছি এসব ফাকিং মার্কা শব্দ। যত্তসব Too much অশ্লীল বেহায়াপনা নির্লজ্জ কারবার।
ইব্রাহিম চমকে উঠলো এজওয়ানের কথা শুনে-
“ কিসব আবল তাবল বকছিস বাহিরে দাঁড়িয়ে? ভেতরে আয় তোর চেহারা টা আমি দেখি।
এজওয়ান অবাকের চরম পর্যায়ে চলে গেল।
“ আবার আমাকে ডাকছো তুমি? বেহায়া পুরুষ। একদম আমাকে ডাকবে না। আর একটাও শব্দ করবে না তোমরা জামাই বউ। আমি বলে হাল্কা মাইন্ড করেছি। অন্য কেউ হলে খবর হয়ে যেত তোমাদের। আবার দরজাটাও আটকাও নি,খোলা রেখে অশ্লীল কাজকর্ম করছো! আমি ঢুকে পড়লে মানসম্মান খেয়ে দিতাম না তোমাদের?
“ বেয়াদব ছেলে, ভেতরে এসে সাহায্য কর আমাকে। ঢুকছে না কেনো? এত ছোট তো হবার কথা না।”
“ ছোট ভাইকে কিভাবে বলছো এসব? আবার সাহায্য চাইছো! ছি গজব নাজিল হোক তোমার উপর। তেল ইউজ না করতে চাইলা। তুমি বরং তেল ইউজ করেই ঢোকাও। ”
“ তেল নেই রুমে। তুই এনে দে তো। অনেকক্ষণ হলো চেষ্টা করছি ঢুকছেই না বান্দা। ঊর্মিও ব্যথা পাচ্ছে।“
এজওয়ানের মায়া হলো। যেতে যেতে বলল-
“ বউ যে প্রেগন্যান্ট মনে ছিলো না এটা?
এজওয়ান বিরক্তির সহিত রান্না ঘর থেকে একটা খাঁটি সরিষা তেলের বোতল এনে বলল-
“ এনেছি,দিব কি করে?
“ দরজা তো খোলাই আছে। ঠেলে ঢোক। ”
এজওয়ান দ্বিধায় পড়ে গেল। সে ভেতরে যাবে!
“ কি হলো দে। ”
এজওয়ান দরজা ঠেলে রুমে প্রবেশ করে সরিষা তেলের বোতল টা বাড়িয়ে দিতেই দেখে ইব্রাহিম ঊর্মির হাত ধরে হাতে চুড়ি ঢোকানোর চেষ্টা করছে…! সাথে সাথে ৩৬০ ভোল্টেজের ধাক্কা খায়। এত বড় মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং! কিন্তু তারা যেভাবে কথাবার্তা বলছিল সেখানে ওসব ভাবনাই তো আসবে মাথায়। এজওয়ানের মাইন্ডের দোষ নাকি?
এজওয়ান একবার সরিষার তেলের দিকে তো আরেকবার ইব্রাহিম আর ঊর্মির দিকে তাকাচ্ছে। চুড়ি ঢোকানোর জন্য তেল চায় কে ভাই?
ইব্রাহিম তেল টা নেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে-
“ দে। ”
এজওয়ান শব্দ করে তেলের বোতল টা টেবিলে রেখে বলল-
“ তেল ইউজ করে চুড়ি ঢুকাতে চায় কে ভাই? সাবান ইউজ করলেই তো হতো। মেয়র হলে কেমনে তুমি? সামান্য কমনসেন্স নেই কোথায় কোন জিনিস ইউজ করতে হয় আর কোথায় কোন শব্দ। ”
আসলেই তো। সাবান ইউজ করলেই তো হয়ে যেত। ইব্রাহিম ওয়াশরুম থেকে সাবান আনলো।
“ আমার মাথাতেই আসে নি সাবানের কথা। ”
এজওয়ান চলে যেতে যেতে বলল-
“ কমনসেন্সের অভাব তোমার। আমার থেকে ধার নিও। ”
“ তেলের বোতল টা তো নিয়ে যা। ”
এজওয়ান পিছু ফিরলো। ফের ঘুরে এসে তেলের বোতল নিয়ে চলে গেল।
ঊর্মি রাগী গলায় ইব্রাহিম কে বলল-
“ আমি আপনাকে গরুর ভুঁড়ি আনতে বলেছিলাম। আর আপনি চুড়ি নিয়ে এসে যন্ত্রণা দিচ্ছেন আমাকে! এনেছেন এনেছেন সেটা আবার ১২ ডজন চুড়ি যা সাইজে ছোট। এই চুড়ি গুলো পড়বে কে? একটা ঢোকাতেই যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ”
“ আমি তো চুড়িই শুনলাম। আচ্ছা ঠিক আছে এনে দিব গরুর ভুঁড়ি। আর চুড়ি আরেক বক্স এনে দিব সমস্যা নেই। এখন এটা পড়িয়ে নেই কিছুক্ষণের জন্য। তারপর আর পড়তে হবে না। ”
ইব্রাহিম দু হাতে চুড়ি পড়িয়ে দিলো। হাতে পড়ানোর তো ঠিকঠাক ই লাগছে। তাহলে ঢোকানোর সময় চুড়ি তুই এতো নাটক করলি কেনো?
এজওয়ান নিচে যাওয়ার পথে হুট করে মাহির সাথে ধাক্কা খেলো । মাহি বিরক্ত হয়ে বলল-
“ চোখ কি কপালে নাকি? ”
“ হুমম কপালেই আমার চোখ। ”
“ চোখের জায়গায় এনে চোখ টা লাগান। ”
“ লাগিয়ে দাও তোমার এত মায়া লাগলে।”
“ বেয়াদব। ”
“ হ আমি বেয়াদব তাতে তোমার সমস্যা? বেয়াদব না হলে কি আর ওসব ভাবি? ”
লাস্টের কথাটা বিরবির করে বললো এজওয়ান। বেয়াদব মাহি শুনে ফেললো তা।
“ কি ভেবেছেন? ”
“ বলা যাবে না। বললে আমাকে খারাপ ভাববে। ”
“ খারাপ তো সবসময়ই ভাবি। ”
“ সেজন্যই তো বলবো না। এখন তরিকুলের বেটি এক মগ কফি এনে দাও। ”
“ আমি এখন নিচ থেকে আসছি। আর যেতে পারবো না। নিজে গিয়ে নিয়ে আসুন। ”
“ একটু এনে দাও না। দেখো রফিক বানিয়ে রাখছে। ”
“ রফিক কেই বলুন না নিয়ে আসতে। ”
“ এতো তর্ক কেনো করছো? একদম থাপ্পড় দিয়ে এক পাশের দাঁত আরেক পাশে এনে দিব। যাও নিয়ে আসো। তোমার সাথে খেলবো আমি। ”
“ কি খেলবেন? ”
“ আগে নিয়ে আসো। তারপর বলছি। ইন্টারস্টিং খেলা এটা। খেলাটার সাথে তুমি পরিচিত। এন্ড আই নো ইউ লাইক ইট। আর নাও এই সরিষার তেলের বোতল টাও নিয়ে যাও। ”
মাহি নিচে চলে গেল। রফিক কফি নিয়ে আসছিলো। মাহির সাথে পথে দেখা হতেই মাহি সেটা নিয়ে রুমে আসলো।
মাহি রুমে আসা মাত্রই দেখে এজওয়ান ওয়াশরুমের দিকে যাচ্ছে। সেটা দেখে মাহি কফির মগ টা টেবিলে রেখে বলল-
“ কই যান?”
“ দেখছো না ওয়াশরুমে। ”
“ ওয়াশরুমে যাচ্ছেন কেনো?
কি আশ্চর্য মানুষ ওয়াশরুমে যায় কি করতে? তরিকুলের বেটি ওয়াশরুমে যা করে এজওয়ান ও তো তাই করে।
“ ওজু করতে যাচ্ছি। ”
“ আগে আমার কথার উত্তর দিয়ে যান। আপনি কি খেলতে চাইলেন আমার সাথে?”
“ এসে তারপর উত্তর দিচ্ছি। ”
“ না আগে উত্তর দিয়ে তারপর ওজু করেন। ”
“ না আগে ওজু করতে হবে। তারপর…
“ তারপর কি? ”
“ তারপর খেলা স্টার্ট করতে হবে। ”
মাহির কপালে দু ভাজ পড়লো।
“ কি এমন খেলা খেলবেন আমার সাথে? যেটা খেলার আগে ওজু করতে হবে?
এজওয়ান এগিয়ে এসে মাহির কোমর চেপে ফিস ফিস করে বলল-
“ দরজা জানালা আটকিয়ে রুমের ভেতর তোমার সাথে….আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম… ”
মাহি ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলল-
“ অসভ্য ইতর লুইচ্চা বেডা। কথায় কথায় শুধু শরীর চেপে ধরেন কেনো? ”
এজওয়ান মাহির ঠোঁটে একটা কড়া ডোজের চুমু খেয়ে তারপর ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে বলে উঠে-
“ Tu agar samne ho kaise
Main khud ko rakh pao hosh mein….
Darta hai dil khata yeh kar baithe
Na Mohabbat ke josh mein…”
মাহি ওড়না দিয়ে ঠোঁট মুছতে মুছতে বলল-
“ সব সময় শুধু জোরজবরদস্তি? ”
“ আহা সোনা গো। জোর না করলে তুমি বোধহয় নিজ থেকে করতে দাও খুব।”
“ আপনাকে আমি প্রচণ্ড রকমের ঘৃণা করি। আমার মনে আপনাকে নিয়ে ঠিক কতটা ঘৃণা জমে আছে তা যদি দেখতে পেতেন তাহলে লজ্জায় কাছে আসতেন না। ”
এজওয়ান দাঁড়িয়ে গেলো সে কথা শুনে। মুখটাকে সিরিয়াস ভঙ্গিতে এনে বলল-
“ আসলেই ঘৃণার পরিমাপ এতো যে আমি লজ্জা পাবো? ”
“ নিঃসন্দেহে। ”
“ তাহলে তো আমি তোমার মনের ভেতর
একবার ঘুরে আসতে চাই…..আমায় কতটা ঘৃণা করো সেই কথাটা জানতে চাই…..ঘৃণা করার যত কথা হৃদয় দিয়ে শুনতে চাই…. যদিও আমার লজ্জা সরম নাই বললেই চলে। ”
“ অবশ্যই ঢুকে খোঁজ করে দেখুন পরিমাপ টা আকাশচুম্বী। ”
“ ঠিক আছে ওয়াশরুমে যখন যেতেই দিবা না তাহলে ড্রিল মেশিন দিয়ে তোমার বুকটা ফুটা করে দেখার চেষ্টা করি। কি বলো? ”
“ দেখুন। ”..
এজওয়ান স্টোর রুম থেকে ড্রিল মেশিন টা এনে মাহির একটা ছবি ড্রয়ার থেকে বের করে, সেই ছবির বুকের অংশ টা ড্রিল মেশিন দিয়ে ছিদ্র করলো। মাহি জিজ্ঞেস করলো-
“ কি,দেখতে পেলেন? ”
“ হু। ”
“ অনুভূতি কেমন? ”
” একদম সলিড। তোর ঘৃণা তুই ধুয়ে ধুয়ে পানি খা। তোর এই মনে আমার জন্য ভালোবাসা জাগা লাগবে না। নর্দমা দিয়ে ভরা তোর বুক। সেই নর্দমায় আমার নাম লিখে রাখছিস লাভ শেপের হার্টে না লিখে। শয়তানের নানি। ”
“ ইউ শয়তানের নানা। ”
“ জ্বি এবার শয়তানের আম্মাকে আনার চেষ্টা করুন ম্যাডাম। নানা নানির জীবনে সে না আসলে নাতি নাতনির মুখ দেখবো কি করে বলুন? ”
মাহি মুখ জামটা মে’রে ঘুমোতে চলে গেলো।
পরের দিন মেহরিন আর সোলেমান কলেজে এসেছে। মেয়েগুলোর মুখ গুলো এখন দেখার মতো। বারবার ঘুরেঘুরে মেহরিন কে দেখছে। নিকাবের নিচে থাকা মুখটা দেখতে চাইছে। এক মেয়ে এসে বলল-
“ তুমি সোলেমান স্যার কে কিভাবে পটালে মেহরিন? রিলেশন ছিলো তোমাদের? প্রেমের বিয়ে নিশ্চয়ই? ”
মেহরিন তপ্ত শ্বাস ফেললো। মেয়েগুলো এখনও সোলেমান সোলেমান করছে!
“ জ্বি না। তোমাদের বাপ সমতূল্য মামা চাচার সাথে আমার রিলেশন করে বিয়ে হয় নি। অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ হয়েছে। ”
কথাটা শুনে মুখ ভার হয়ে গেলো। সোলেমান ক্লাসে আসার পর মেয়ে গুলোর মুখ আরো থমথমে হয়ে গেল দুঃখের ঠেলায়। ব্যাডা বিবাহিত। এটা মানতে কি যে কষ্ট হচ্ছে। সোলেমান যখন হোয়াইট বোর্ডে পড়া বোঝাতে ব্যস্ত তখন মেয়ে গুলো পড়ার দিকে ফোকাস না করে হা করে সোলেমান কে দেখছে। সোলেমান পেছন দিকে ফিরে সেটা বুঝতেই বলে উঠলো-
“মুখ বন্ধ করো হাভাতের দল। মশা ঢুকে যাবে। ”
বেলেহাজ মেয়ে গুলো লজ্জা পেলো। কি অদ্ভুত, নিজে যে পাংপুং করে হ্যান্ডসাম সেজে আসে তার বেলায় কিছু না আর তারা তাকালেই যত দোষ! অপমান করে। আর তাকালো না তারা হা করে। তবে আড়চোখে আড়চোখে দেখলো।
কলেজ ছুটির শেষে মেহরিন ক্লাস থেকে বের হয়ে দেখলো সোলেমান এখন বের হয়নি অফিস কক্ষ থেকে। ফোন চেক করে দেখলো সোলেমান মেসেজ পাঠিয়ে রেখেছে ,মেহরিন কে ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে বললো। মেহরিন অপেক্ষা করলো। সোলেমান ৫ মিনিট পর এসে মেহরিনের হাত ধরে হাঁটা ধরলো।
মেহরিনের ক্লাসের মেয়েগুলো কলেজ ছুটির শেষে মাঠে দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলছিল। কথা বলার সময় হুট করে পাশে তাকাতেই মেহরিন আর সোলেমান কে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে দেখে কষ্টে বুকটা ফেটে যেতে লাগলো। হিংসা হচ্ছে মেহরিন কে।
তাদের মধ্যে একজন মুখ ভেঙচি মেরে বলল-
“ এ্যাহ বুইড়া বয়সে কচি বউ নিয়ে কত ঢং দেখছিস। হাত ধরে হাঁটছে আবার । ”
সোলেমান চলতি পথে হাল্কা তাদের কথা শুনতে পেলো। সাথে সাথে হাঁটা থামিয়ে দিয়ে ঘাড় বেঁকিয়ে পাশে তাকিয়ে বলল-
“ কি বললে তোমরা? ”
মেয়েগুলো সোলেমানের গলা শুনে চমকে উঠলো। আমতা-আমতা করে বলল-
“ ক…কিচ্ছু বলি নি তো আমরা স্যার। ”
সোলেমান হাত ঘড়িতে সময় দেখে বলল-
“ কিছু তো একটা বলেছো । আমার কানে এসেছে।এখন ঝটপট বলো কি বলেছো তোমরা।
মেয়েগুলো ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে হাসার চেষ্টা করে বলল-
“ আপনাদের জুটি টা অনেক সুন্দর স্যার। এমন জুটি আর দুটে হয় না। ”
“ তারপর? ”
“ আমরাও আপনার মতো বাপ সমতূল্য একটা স্বামী ডিজার্ভ করি স্যার।”
সোলেমান এই কথা শুনে চলে যেতে যেতে বলে গেল-
“ প্রি-টেস্টে দেখা হচ্ছে মামনিরা। পড়াশোনা করা বাদ দিয়ে ওমুক তমুকের স্বামীর মতো স্বামী ডিজার্ভ করা বের করছি। পাশ কিভাবে করো আমিও দেখবো এবার। ”
মেয়েগুলো চমকে উঠলো সে কথা শুনে। আসলেই কি ইচ্ছে করে ফেল দিবে?
দাহশয্যা পর্ব ৮১ (২)
“ স্যার আমাদের ফেল দিবে রে। ”
“ ধূর আমরা এতো খারাপ স্টুডেন্ট নাকি যে ফেল করবো? আর যদি আমাদের ফেল দেয় ও হের বউরে পাশ দিয়ে দেখুক না। প্রিন্সিপালের কাছে গিয়ে নালিশ দিব। বলবো বৈষম্যের শিকার হয়েছি আমরা। ইচ্ছে করে ফেল দিছে আমাদের। তার বউরে আগে থেকেই প্রশ্ন দিয়ে রাখছিলো সেজন্য পাশ করছে। তখন মজা বুঝবে উনি হু। ”
