না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩২ (৩)
মাইশা জান্নাত নূরা
নির্ঝর তেজকে হালকা ধাক্কা প্রয়োগ করতেই তেজের শরীর খানিক ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো। ধ্যন কাটিয়ে বেড়িয়ে এলো তেজ। অতঃপর নির্ঝরের দিকে ভ্রু কুটিয়ে তাকিয়ে বললো…
—”কি সমস্যা? ধা*ক্কা-ধা*ক্কি করছিস কেনো?”
নির্ঝর ফিসফিসিয়ে বললো….
—”যেভাবে তাকিয়ে ছিলে ইলমার দিকে ভাবলাম মনে মনেই হয়তো বিয়ে, বাসর, হানিমুন সব সেরে ফেললে। তাই তোমার ধ্যন কাটাতে এই রাস্তাই বাছতে হলো আমায়।”
—”সবাইকে নিজের মতো ভাবিস নাকি?”
তেজের এরূপ কথায় নির্ঝরের ভ্রু কুঁচকে এলো, কপালের ডান পার্শে ডান হাতের শাহাদত আঙুল ঠেকিয়ে হালকা ভাবে ঘষতে শুরু করলো সে, ভাবুক ভাব স্পষ্ট হলো ওর মুখশ্রী জুড়ে। ইলমা বললো….
—”চলুন, তেজ।”
তেজ ছোট্ট করে ‘হুম’ বললো। অতঃপর ওরা বেড়িয়ে গেলো বাংলো বাড়ি থেকে। তেজ বাইকে উঠে হেলমেটটা পড়তে পড়তে বিরবিরিয়ে বললো…..
—”এভাবে আর কতোদিন বিনা রেজিস্টারে আমার বাইকের পিছন সিটটাতে চেপে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ভ্রমণ করবেন আপনি ইলমা? আপনার কি আমাকে আর আমার বাইকে পিছন সিটটাকে নিজের নামে আজীবনের জন্য রেজিস্টার করে নিতে মনে চায় না?”
ইলমা বললো….
—”ইন্ঞ্জিন চালু না করে আর কতো সময় বসে বসে বিরবির করবেন আপনি তেজ? এভাবে কি আমার যথাসময়ে কফিশপে যাওয়া হবে আজ?”
তেজ বিরবিরিয়ে বললো….
—”কতো সুন্দর একটা বিষয় চিন্তা করছিলাম ওমনি সময় তিতকরলিনীর খ্যাঁ*ক করে উঠতেই হলো।”
এই বলে তেজ বাইক স্টার্ট করলো। ইলমার তেজের ডান কাঁধের উপর হাত রেখে বাইকে উঠে বসলো। ইলমা এই একটু স্পর্শেই যেনো তেজের হৃদপিণ্ডের গতি তরতর করে বেড়ে গেলো। তেজ ওর পুরোট ঠোঁট জোড়া ভাঁজের মতো করে ‘উফফঃহহ’ বলে উঠে বাইকের গিয়ার বাড়ালো। বাংলো বাড়ির মেইন গেইট অতিক্রম করে পিঁচঢালা রাস্তা ধরে তেজ ওর বাইকে করে ইলমাকে নিয়ে ছুটছে ইলমার গন্তব্যস্থলপানে৷
পিহু ওর রুমে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে হাঁটু ছুঁই ছুঁই চুলগুলো চিরুনি করছিলো অতি যত্নের সহিত। শ্যম্পু করার কারণে চুলগুলো যেনো স্বাধীনতা বেশি পেয়েছে আজ। একজন আরেকজনের সাথে মান-অভিমানে জড়িয়ে জট পাকাচ্ছে না খুব একটা। সেইসময় অনু পিহুর রুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো….
—”আপনার চুলগুলো অনেক সুন্দর ভাবী।”
হঠাৎ অনুর কন্ঠ কানে পড়তেই পিহু ঘুরে তাকালো দরজার দিকে। অতঃপর এক গাল হেসে বললো….
—”আল্লাহর দান। ভিতরে এসো অনু।”
অনু শুকনো হাসি হেসে বললো….
—”আপনার চুলে তেল দিয়ে দিতে দিবেন ভাবী? অনেক ইচ্ছে করছে আপনার চুল গুলো হাত দিয়ে ধরার, একটু যত্ন নেওয়ার।”
অনুর এরূপ আবদারে পিহু কিছুটা অবাক হলো। যে মেয়েটা প্রয়োজনের বেশি একটা শব্দও অতিরিক্ত বলে না সেই মেয়ে আজ নিজ থেকে ওকে চুলে তেল দিয়ে দেওয়ার মতো আবদার করছে! পিহু কয়েক সেকেন্ড নীরব থাকার পর বললো….
—”দিয়ে দিলে তো ভালোই হয়। এতো লম্বা চুলে আমি একা হাতে তেল দিতে দিতে এখন হাতেই ব্য*থা ধরার জো হয়েছে।”
অনু রুমের ভিতরে এলো। পিহু ড্রেসিং টেবিলের সামনে থাকা মাঝারি টুল-টা টেনে নিয়ে বসলো বিছানার কাছে। আর অনু পিহুর দু’পাশে পা ঝুলিয়ে বিছানার উপর বসলো। পিহু তেলের বাটিটা অনুর দিকে বাড়িয়ে দিলো। অনু মাঝ বরাবর সিঁথি পেতে চুলগুলো দু’ভাগ করে মাঝ থেকেই আগে একপাশে এরপর আরেকপাশে তেল দিয়ে দিতে শুরু করলো। পিহু বললো…..
—”তুমি তো দেখছি দারুণ গুণি মেয়ে অনু। মাথায় ভিষণ আরাম আরাম অনুভূতি হচ্ছে তোমার হাতের ছোয়ায়।”
অনু স্মিত হেসে বললো….
—”মাত্র একটা গুণ দেখেই আমায় গুণি মেয়ে বানিয়ে দিলেন ভাবী!”
—”যে গুণি তার এক গুণকে পর্যবেক্ষণ করলেই তাঁকে চেনা যায়। অনেকে তো আছে শত গুণ বিচার করেও বলবে এই কাজে এটা ভুল, এটা এমন করে করলে ভালো হতো ইত্যাদি। যেনো প্রশংসা করলে তাদের মুখে ব্য*থা ধরে যাবে। এই ধরণের লোকদের উদ্দেশ্যে কেবল একটা কথাই বলা যায়, ‘কলিজা কে*টে ভুনা করে দিলেও এরা বলবে লবন কম হয়েছে।”
পিহুর এরূপ কথা শুনে অনু শব্দ করে হেসে উঠলো। পিহু ঘাড় বাঁকিয়ে অনুর হাসিমাখা মুখশ্রীপানে তাকালো। পিহুর ঠোঁটেও হাসির রেখা স্পষ্ট ফুটে আছে। অনুকে হাসতে দেখে পিহুর মনে হচ্ছে ওর হাসির মাধ্যমে অদৃশ্য মুক্তা ঝরছে, ঝনঝন শব্দ হচ্ছে রুম জুড়ে। পিহু মনে মনে বললো…..
—”হাসলে কি মিষ্টি লাগে মেয়েটাকে। অথচ এইভাবে হাসতে থাকা মায়ায় মাখানো মুখশ্রীর অধিকারী বাচ্চা মেয়েটার অতীত আল্লাহ কতোই না ভ*য়ং*কর লিখে রেখেছিলেন!”
তৎক্ষণাৎ পিহু ভিতর থেকে বেড়িয়ে এলো দীর্ঘশ্বাস। অনু হাসি থামিয়ে বললো…
—”ওভাবে আমার দিকে তাকিয়ে কি ভাবছেন ভাবী?”
পিহু শান্ত স্বরে বললো….
—”এই প্রথম তোমাকে এভাবে হাসতে দেখার সুযোগ হলো। সবসময় এভাবেই হাসবে তুমি বুঝলে! তোমার মুখ মলিন অবস্থায় থাকতে দেখলে আমারও কষ্ট হয় অনু।”
অনু শব্দ করে একবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো…..
—”হাসতে তো চাই আমি ভাবী। সুন্দর – হাসি – খুশি জীবন কেই বা না কাটাতে চায় বলুন! কিন্তু সব চাওয়া কি সবার পূরণ হয়? সব চাওয়া যদি পূর্ণ হতো তাহলে কেউ কি তার সৃষ্টি কর্তাকে স্মরণ করতো? সবাই তো নিজ নিজ সুখ নিয়েই কেবল মেতে থাকতো। তাই আমার ভাগ্য নিয়ে আমার সৃষ্টিকর্তার কাছে কোনো অভিযোগ করি নি আমি। মেনে নিতে নিতেই আজ আপনার সামনে বসে আছি। হাসতে ভুলি নি। হাসছিই। হোক না তা ক্ষণস্থায়ী।”
কথা গুলো বলার সময় অনুর গলার ভিতর কিছু কিছু শব্দটা দলা পাঁকিয়ে যেতে শুরু করেছিলো যেনো। তবুও সে এক নিঃশ্বাসেই সব কথা শেষ করেছে। কিন্তু চোখদু’টোকে নোনাজলের পুকুরে টইটম্বুর হওয়া থেকে আটকাতে পারে নি। অনু একবার পলক ফেললেই টপ টপ করে ঝরে পড়বে কয়েক ফোঁটা অশ্রু। পিহু ঘন ঘন পলক ফেলে কিয়ৎক্ষণ ওভাবেই তাকিয়ে রইলো অনুর দিকে। আর না পেরে পপরপরই দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে সোজা হয়ে বসলো পিহু।
কফিশপের সামনে এসে ব্রেক কষলো তেজ ওর বাইকের। ব্রেকের জোরটা একটু জোড়ালোই ছিলো। ফলস্বরূপ ইলমা না চাইতেও কিছুটা ঝুঁকে পড়েছিলো তেজের দিকে। একহাতে ধরা কাঁধের জায়গায় এখন ইলমার দুই হাত-ই তেজের পিঠের উপর বিরাজ করছে। তৎক্ষনাৎ ইলমা নিজেকে সামলে নিয়ে বাইক থেকে নেমে দাঁড়িয়ে বললো….
—”ইচ্ছে করেই এতো জোড়ে বাইকের ব্রেক কষলেন আপনি তাই না? যেনো আমি আপনার শরীরের উপর এসে পড়ি?”
তেজ দাঁতে দাঁত চেপে বিরবিরিয়ে বললো….
—”ওরে না*ট*কির নাতনী ইচ্ছে করে কেউ এভাবে ব্রেক কষে নিজের বংশের বাতি নেভাতে চাইবে নাকি? আহহ, অল্পের উপর দিয়ে গিয়েছে প্রেসারটা।”
ইলমা ভ্রু কুঁচকে বললো….
—”কি হলো কিছু বলছেন না কেনো?”
তেজ ইলমার দিকে তাকিয়ে জোরপূর্বক হাসার চেষ্টা করে বললো…..
—”ক্ষেমা দিন আমায়, এতো জোড়ে ব্রেক কষা একদমই উচিত হয় নি আমার।”
—”ঠিক আছে, ঠিক আছে এটাই শেষ বার বুঝে দিলাম ক্ষমা করে। ৭ টার পর এখানে চলে আসা হয় যেনো। আমি আপনার জন্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে পারবো না বলে দিলাম।”
এই বলে ইলমা কফিশপের ভিতরে চলে গেলো। তেজ ইলমার যাওয়ার পানে তাকিয়ে থেকে বললো…..
—”এহহ, যেভাবে হুকুম করে গেলো যেনো উনি আমার ঘরের বউ হয়।”
পরপরই তেজ কিছুটা ভাবুক ভাব নিয়ে বললো….
—”অবশ্য ওনার এমন আচারণের সাথে নিজেকে অভ্যস্ত করে নেওয়াটাই উচিত হবে আমার। কারণ ক’দিন পর যখন আমি আমার মনের কথাগুলো ওনাকে জানাবো তখন উনি আমায় এক্সেপ্ট করে নিলে বিয়ের পর ওনার এই সব আচারণ আমায় ৩ বেলা খাবার খাওয়ার মতো ডোজ হিসেবে হজম করে নিতে হবে।”
তেজের ভাবনায় ছেদ ঘটলো ওর ফোন বেজে উঠার শব্দে। তেজ পকেট থেকে ফোনটা বের করতেই ওর ঠোঁটে ব্রকহাসির রেখা ফুটে উঠলো। কল রিসিভ করেই তেজ বললো…..
—”ভেবেছিলাম আমার কোনো পরিচিত জায়গায় ডাকবো তোমায় একান্তে সময় কাটানোর জন্য। কিন্তু তা আর হলো না। যদি তোমার সমস্যা না থাকে তাহলে একটা নিরিবিলি পরিবেশ তুমিই চুজ করো না হয়। যেখানে কেবল তুমি আর আমিই থাকবো। আর কেউ না।”
তেজের কথা শুনে নিশার মনের মধ্যে ‘১, ২, ৩’ করে সবগুলো লাড্ডু ফট ফট করে ফুটে গেলো যেনো। নিশা নিজের মধ্যকার এক্সাইটমেন্ট চেপে রাখতে না পেরে ‘ইইইইইইইইইইইইইই’ বলে জোড়ে চি*ল্লিয়ে উঠলো। তেজ সঙ্গে সঙ্গে কান থেকে প্রায় ১ হাত পরিমাণ দূরে ফোনটা সরিয়ে মুখ-চোখ কুঁচকে নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে ধীরস্বরে বললো…..
—”ইচ্ছে হচ্ছে এক্ষুণি ফোনের মধ্যে ঢুকে এই ই*ন্দু*রের গলাটা শ*ক্ত করে টিপে ধরে সা*ন্ডে-মা*ন্ডে ক্লোজ করে দেই। কেমন ভাবে চিল্লিয়ে উঠলো। কানটাই মনে হয় তালি লেগে গেলো। ইসসসস।”
ফোনের ওপাশ থেকে নিশা ‘তেজ, তেজ বেইবি, ডার্লিং, কি হলো তোমার বেইবি’ বলে বলে মুখের ফ্য*না তুলে ফেললো যেনো। তেজ শব্দ করে একবার নিঃশ্বাস ফেলে নিজেকে সামলে নিয়ে পুনরায় ফোনটা কানের কাছে এনে বললো….
—”এই তো আছি আমি।”
—”কখন থেকে ডাকছিলাম তোমায় সাড়া দিচ্ছিলে না কেনো?”
—”একটু নেটওয়ার্ক প্রবলেম হচ্ছিলো মনে হয়, কথা আটকে আটকে আসছিলো তোমার তাই আমার উত্তর তোমার কাছে পৌঁছায় নি এতোসময়।”
—”এখন তো নেট ঠিক আছে মনে হচ্ছে।”
—”হুম ঠিক হলো জন্যই তোমার সুরেলা কন্ঠস্বর শুনতে পারছি আমি।”
নিশা খুশিতে গদগদ হয়ে বললো….
—”তোমার এতো এতো প্রশংসা নিতে নিতে আমি একেবারে ফুলে-ফেঁ*পে উঠছি বেইব। মনে হচ্ছে, জীবনে করা সব ভালো কাজের ফল আজ আমি একসাথে পাচ্ছি।”
তেজ মনে মনে বললো, ‘একদম। সব ফল পাবি আজ। এমন ভাবে পাবি যে নিজের বাপের নামটাও ভুলে যাবি। আর পরে না পেরে আমাকেই আব্বা, আব্বা বলে ডাকবি।’
নিশা আবারও বললো….
—”আমি তোমাকে ঠিকানাটা মেসেজ করে দিচ্ছি জলদী চলে এসো বেইব৷ সেখানে কেবল তুমি আর আমিই থাকবো। আর কেউ থাকবে না আমাদের ডিস্টার্ব করার জন্য।”
তেজ বক্র হাসি হেসে মনে মনে বললো….
—”ডিস্টার্ব না বলতে হতো তোকে বাঁচানোর জন্য কেউ থাকবে না সেখানে।”
পরপরই তেজ নিশাকে বললো….
—”আমি এক্ষুণি আসছি তোমার কাছে।”
নিশা ‘আচ্ছা’ বলতেই তেজ কল কেটে দিলো। মিনিট খানেক পরই নিশার ঠিকানা দেওয়ার মেসেজ চলে এলো তেজের কাছে। তেজ মেসেজটা নির্ঝরকে ফরওয়ার্ড করে বললো…..
তেজ ওর বাইক নিয়ে একটা প্রাইভেট রিসোর্টের ভিতরে আসলো। মোটামুটি ছোট পরিসরে ১ তলা ছাদ বিশিষ্ট একটি সুন্দর বাড়ি নিজের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশে নানান ধরণের ফুলের গাছ রয়েছে যা পুরো পরিবেশকে এক অন্যরকম রূপ দিয়েছে। মেইন গেইট থেকে বাড়িটার মূল দরজা পর্যন্ত আসার রাস্তাটা ক্ষুদ্র রং-বেরঙের পাথর ফেলে তৈরি করা হয়েছে। তেজ বাইক চালিয়ে যতো ভিতরের দিকে আসছে খেয়াল করে দেখছে আশেপাশে কোনো জনমানব এ-র চিহ্ন পর্যন্ত নেই।
বাড়িটার একেবারে সামনে এসে তেজ ওর বাইকের ব্রেক কষলো। বাইক থেকে নেমে বাড়িটার দরজার সামনে এসে দাঁড়াতেই পায়ের কাছে থাকা কার্পেটের উপর সাদা A4 সাইজের পেপারে ‘ভিতরে এসো বেইব’ লেখা দেখতে পেয়ে তেজের ভিতর খানিক কৌতুহল জাগলো। তেজ ভিতরে প্রবেশ করে একটু সামনে আসতেই মেঝের উপর গোলাপের পাপড়ি পরে থাকতে দেখে তা অনুসরণ করে সামনের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলো সে। কয়েক সেকেন্ড পরই একটা রুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো তেজ। দরজার উপর লেখা ছিলো ‘ভিতরে এসো’।
তেজ দরজা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখলো পুরো রুম খুব সুন্দর করে সাজানো রয়েছে। কৃত্রিম বাতি, মোম বাতি, ফুল ইত্যাদির দ্বারা। তেজ পুরো রুমটাতে চোখ বুলালো কিন্তু সেখানে নিশা ছিলো না। তেজ মনে মনে বললো….
না চাইলেও তুমি শুধু আমারই পর্ব ৩২ (২)
—”এই ই*ন্দুরের ঘরের ই*ন্দুর গেলো কই…?”
তখুনি খট করে ওয়াশরুমের দরজা খুলে গেলো। তেজ শব্দ শুনে সেদিকে তাকাতেই ওর চোখের আকৃতি খানিক বড় হয়ে গেলো। নিশা একটা মিনি টপ এর সাথে মিনি স্কার্ট পড়ে ওয়াশরুমের দরজাটর সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে একটা গোলাপ ফুল ধরা ওর। টপ আর স্কার্ট যথেষ্ট ছোট হওয়ায় নিশার পেট খানিকটা বেড়িয়ে আছে আবার হাঁটুর খানিক উপর থেকে পুরো পা-ই খোলা অবস্থায় আছে। তেজ সঙ্গে সঙ্গে নিজের নজর অন্যত্র ছড়িয়ে বিরবিরিয়ে বললো……
❝তওবা, তওবা, আসতাগফিরুল্লাহ, আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম❞
ইয়া মাবুদ, এই শ*য়তা*নের হাত থেকে রক্ষা করে আপনার নিকট আশ্রয় ভিক্ষা দিন আমায়।

Nice