Home নীতিহীন রাজ নীতিহীন রাজ পর্ব ৭

নীতিহীন রাজ পর্ব ৭

নীতিহীন রাজ পর্ব ৭
আশিকা আক্তার সোহাগী

“এই দেশের বেশিরভাগ মানুষ জানেই না রাজনীতি কি। গনতন্ত্র কাকে বলে? শহরে একটু আকটু সচেতনতা থাকলেও গ্রামের দিকে রাজনীতি মানে মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী হওয়া। আর নির্বাচনের আগে যে পক্ষ বেশি পান সিগারেট দিবে তাকেই ভোট দেয়া ন্যায্য মনে করে। গ্রামের চায়ের দোকান গুলাতে রাজনৈতিক চর্চা হয় ভোটের এক সপ্তাহ আগে থেকে আর নির্বাচনের দুইদিন পর পর্যন্ত। বাকি মাস চলে মান্নার ছেলে মান্না কিভাবে ফিরে এসে প্রতিশোধ নিলো। সাবানা কিভাবে সেলাই মেশিন চালিয়ে কোটিপতি হয়ে ধনী বোনকে দেখিয়ে দিলো। জসীম যেভাবে লটারি জিতলো আর রাজ্জাকের অহংকারী ছেলেরা তাকে ঘর ছাড়া করলো। এসব রসালো সিনেমার আলাপ কিংবা পাড়া প্রতিবেশী কার ঘরে কি চলে। কে পরকীয়া করলো ,কার মেয়ের বয়স বেশি কিন্তু বিয়ে হচ্ছে না।এইসব পরনিন্দা করেই তারা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে। আর মহিলাগুলো তো দিনরাত বুঁদ হয়ে থাকে বিদেশী সিরিয়ালে।

কলেজ ভার্সিটির চিত্র আরও ভয়াবহ। এখানে ছেলেদের একমাত্র উদ্দেশ্য ,রাজনীতিতে ফ্রেম পেয়ে পাঁচ ছয়টা গার্লফ্রেন্ড পটানো। আর মেয়েদের কাছে কোন রাজনৈতিক ভাই বেশি জনপ্রিয় তাদের কাছে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া।এইজন্য এই দেশে সঠিক রাজনৈতিক চর্চা হয় না।কারণ এদের কাছে দেশের চেয়ে দল বড়। দলের চেয়ে নেতা বড়। আর নেতা তার স্বার্থে কর্মীদের মিস ইউজড করে থাকে।যত প্রকার অসামাজিক কাজ ,লুট ,খুন ,দখলদারি সব করে থাকে এই কর্মীদের জোরেই। কর্মীরা যদি সচেতন হতো। নেতার চেয়ে দেশের স্বার্থ্য আগে ভেবে অর্ডার পালন করতো তবে নিশ্চয় এই হাল হতো না। নেতা গুলাও এত নেতাগিরি দেখাতে পারতো না। ”

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

একটানা বলে থামলো জিয়ানা। সব মানুষ তার দিকে ঘুরে তাকিয়ে। ইতিমধ্যে গুজুরগুজুর ফুসুরফুসুর শুরু হয়ে গেছে তাকে নিয়ে। কলেজের নতুন বিল্ডিং উদ্বোধনে চেয়ারম্যান সাহেব তরুনদের কাছে পরামর্শ চাইলে কেউ যখন কোন সাড়াশব্দ করলো না তখন জিয়ানা উঠে উক্ত কথা গুলো বলল।
সবার আগে আলহাজ্ব মামুন ইসলাম নিজেই হাত তালি দিলেন।উনার দেখাদেখি হলরুমের বাকিরাও তালি দিয়ে ভরিয়ে দিলো।

“কি নাম তোমার মামনি? চমৎকার কথা বলেছো। এখন আমি যদি বলি এই দেশে মেধাবীরা রাজনীতির মতো কঠিন রাস্তা বাছাই করে না বলেই মেধাহীন অযোগ্যরা আসে। এটা কি ভুল হবে?হবে না? এই ধরো আমি তোমাকে বললাম তুমি রাজনীতিতে যোগ দাও। দিবে কি?”
“অবশ্যই দিবো যদি এইটুকু ইনশিওর করেন ,আপনার পর আমার পুত্ররা কেউ চেয়ারম্যান হবে না। কারণ একজন মেধাবী তার মেধা দিয়ে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে চায়। কিন্তু রাজনীতিতে সর্বোচ্চ স্তর অনেক আগে থেকেই পরিবারতন্ত্র দখল করে রাখে বলেই মেধাবীরা সেদিকে যায় না। আর যায় হোক একজন মেরুদণ্ড ওয়ালা মানুষ নিশ্চয় কারো গোলাম হতে চাইবে না? ”

সবাই মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে। চুপ হয়ে গেলো চেয়ারম্যানের জবাবে”দীর্ঘদিন একটা প্রথা চলে আসলেই যে সেটাই চলতে থাকবে এমনটাও না। এইদেশে রাজার ছেলে রাজা আর প্রজার ছেলে প্রজা হয় একমাত্র কারণ পৃষ্ঠপোষকতা। অন্যরা এগিয়ে আসে না দেখেই রাজা নিজ রাজ্যের চিন্তায় নিজের সন্তানকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলে। খুব বেশি দূরে না ,এই দেখো আমার পরে আমার ছোটপুত্র নিবিড়ের মত এই এলাকায় কেউ রাজনীতি বুঝে বলে আমি মনে করি না। তোমার কাছে আছে এমন কেউ? ”
“সেটা আপনার বেশি জানার কথা না?পার্টিতে যত কর্মী আছে সেখানে কে যোগ্য আর কে অযোগ্য সেটা একজন লিডারের চেয়ে কেউ বুঝবে না। আমাদের দেশে একজন রেসলিং ডোনার কখনো প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে? কিংবা আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর সন্তান কি কোন ক্যাফেতে ওয়েটারের কাজ করবে? সিস্টেমের যে গন্ডগোল আমি সেটার কথা বলেছি। ”

“তোমার সাথে আমার আড্ডা জমবে মেয়ে। তোমাকে আমার বাসায় দাওয়াত থাকলো। আজ এখানে এভাবে কথা বলে আমার মন ভড়ছে না। ” বলে উনি স্টেজ থেকে নেমে আশরাফকে ইশারা করলো খুঁজ নিতে।
“স্যার এই মেয়েটার কথায় বলেছিলাম রাফিন স্যারের সাথে রেস্টুরেন্টে যে ছিলো। ”
মামুন ইসলাম আরেকবার তাকালো জিয়ানার দিকে। তারপর বললো “আশরাফ পাত্রী দেখো বারুদ আগলে বসে থাকা উচিত না। এক সপ্তাহ সময় দিলাম। ”

প্রোগ্রাম আরও কিছুক্ষন চলবে কিন্তু জিয়ানার এক জায়গায় বেশিক্ষন মন টিকে না। ছটফটের স্বভাবের কারণে হলরুম থেকে বের হয়ে এলো। কিন্তু চেয়ারম্যানের গাড়ির সামনে নিগ্রো গার্ড দেখে ভ্রু কুচকে গেলো তার। ফটাফট ফোন বের করে নিজের সেল্ফি নেয়ার পোজ দিয়ে ব্যাক ক্যামেরায় গার্ডদের ছবি তুলে নিলো। ফোন বন্ধ করার সাথে সাথে পেছন থেকে কেউ হাতের কনুইয়ে শক্ত করে ধরে টেনে হলরুমের পেছনে নিয়ে যেতে লাগলো। জিয়ানা না ঘাবড়ে শক্তি বাঁচানোর জন্য সাথে সাথে পা মিলালো। আটসাট একটা চিপা জায়গায় এসে ছেড়ে দিলো কিন্তু হাত ছেড়ে দানবীয় হাত দিয়ে দুইগাল একসাথে চেপে ধরায় মাছের ঠোঁটের মতো তার ঠোঁট গুলো বের হয়ে এলো। এমন সিরিয়াস মুহূর্তে নিজের চেহারার কথা মনে পড়ে ফিক করে হেঁসে দিলো জিয়ানা। এমন হঠাৎ আক্রমণে কোন মেয়ে না ঘাবড়ে বরং হাঁসছে দেখে নিবিড় নিটোল চোখে চেয়ে রইলো জিয়ানার মুখের দিকে।

“আপনি কি আমার প্রেমে পড়ে গেছেন কাবলিওয়ালা? দেখুন আগেভাগেই বলে দিচ্ছি পোশাক আশাকে আধুনিক মেয়ে হলেও আমি ওইসব প্রেম-টেমে বিশ্বাসী না। যদি করতেই হয় বিয়ে করবো। আর সব জামাইয়ের জন্য তুলা। এইভাবে চিপায় আনবেন না। আমার আবার মুখ হাত পা সব চলে। ভুলে থার্ড লাইন বরাবর মে*রে টেরে দিলে প্রতিরাতে আর কোন রমণী তো দূর কি বাত কোন রমণও কাছে আসবে না। ” বলে আবার হাঁসা শুরু করলো।
“তোমার সাহস দেখে দিন দিন আমি অবাকই হচ্ছি। এতদিন ভাবতাম যথেষ্ট বিচক্ষন একটা মেয়ে কিন্তু তোমার আসলে কোন বাস্তবিক জ্ঞান নেই।ঝুঁকের বসে সব বলা আর করা তোমার কাজ। চেয়ারম্যান সাহেব বের হওয়ার সময় উনাকে সরি বলবা। এর বিপরীতে আর কোন শব্দ না। উনার গার্ডদের যে ছবি উঠিয়েছো সেটাও ডিলিট করো। ফোন দাও। কুইক।”

জিয়ানা এতক্ষন খেয়াল করলো নিবিড় তার দিকে তাকিয়ে কথা বলছে না। দুই প্রকার লোক চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলে না। এক,যারা কিছু লুকিয়ে কথা বলে তারা আর দুই,যারা মিথ্যা বলে। এই মুহূর্তে নিবিড়কে দেখে মনে হচ্ছে না সে মিথ্যা বলছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য জিয়ানা বলল”গার্ডগুলার সাইজ আই মিন হাইট আর পোশাক দেখে বেশ ভালো লেগেছে তাই ফটো নিয়েছি। এতে এত রিয়েক্ট করার কি আছে। এক্ষুনি ডিলিট করছি ”
বলে ফোনের গ্যালারি থেকে ফটো ডিলিট করে দিলো। নিবিড় হাত থেকে ফোন নিয়ে রিসাইকেল বিন থেকেও ডিলিট করলো। আর থ্রেট দিলো

” পড়াশোনা করতে এসেছো সেটা করে এই এলাকা থেকে বিদায় হবা। অন্যকিছুতে এত মাতব্বরি করতে যেয়ো না।এটাই ফাষ্ট আর এটাই লাষ্ট ওয়ার্নিং।মনে থাকবে?”
জিয়ানা মাথা দিয়ে ডানে বামে নাড়িয়ে না বুঝালো। তার মনে থাকবে না। এইসব ওয়ার্নিং ফুয়ার্নিংয়ে না গিয়ে সে বলে বসলো

“আপনার নামের সাথে আপনার কামের মিল নেই। নিবিড় মানে কঠিন। কিন্তু আপনার চেহারা স্বচ্ছ জলের মতো। সুরমা কাবলি পড়ে যতই ভং ধরেন ভালোভাবে লক্ষ্য করলে বুঝা যায় সব নাটকের স্ক্রিপ্ট।ওয়ার্নিং দেয়ার জন্য শুকরিয়া। ” বলে জিয়ানা বের হয়ে গেলো। পেছনে বিমূর্ত নিবিড় দাঁড়িয়ে। তাকেও কেউ পড়তে পারবে এই ভন্ড দুনিয়ায় সেটা কাল পর্যন্ত অবাস্তব ঠেকলেও আজ যেনো চরম বাস্তব।
জিয়ানা মেইন গেইটের কাছাকাছি যাওয়ার আগে জিয়ু বলে কেউ ডেকে উঠলো। পেছন ফিরে দেখে রাফিন ইসলাম বেশ দ্রুত পায়ে হেঁটে আসছে। তারপর বলে,

“বাবা তোমার খুব প্রশংসা করলো। এই ক্যাম্পাসে এমন লাউড ভয়েস কোন ছেলেরই নেই সেখানে মেয়ে হয়ে তুমি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছো। আ’ম রিয়েলি প্রাউড অফ ইউ। “বলে হাত থেকে সাইকেল নিয়ে নিজে উঠে বসে জিয়ানাকে পেছনে বসতে বলল। কালবিলম্ব না করে জিয়ানা উঠে বসে। “স্যার আশেপাশে নদী বা খাল টাইপ কিছু থাকলে সেদিকে চলুন। ” বেশ মলিন শোনালো তার গলা। রাফিন কোন কথা না বলে সেদিকেই চলল।
নিবিড় তাদের ঠিক পেছন পেছন গিয়ে টং দোকানে করিম চাচাকে চা দিতে বলল।পরক্ষনে চেচিয়ে উঠে বলে “কিসের বা*লের চা বানাও?চা কি বাগানে পয়দা করে নিয়ে আসতাছো? একঘন্টা লাগে চা বানাইতে। ”
করিম চাচা বুঝলো আজ বাপজানের মাথা গরম আছে। তাই দ্রুত হাত চালালো।

সরু এক মরা নদীর বাকে ,অরুনের বিদায়ের বেলা মন কেমনের সময়টাতে সব কিছু বিষাদ লাগছে জিয়ানার। অদূরে পাখির দল ক্লান্ত শ্লান্ত হয়ে সারাদিনের পর আপন নীড়ে ফিরে যাচ্ছে। তার আজ ফিরতে মন চাচ্ছে না। মনে হচ্ছে অদৃশ্য শেকড় গজিয়ে গেছে। এখান থেকে আর নড়তেই ইচ্ছা হচ্ছে না। বেশ অনেক্ষন চুপচাপ বসে থাকার পর রাফিন নিজেই জিজ্ঞেস করলো “মন খারাপ?”
জিয়ানা মাথা দিয়ে না করলো।

“তাহলে?”
“খারাপ মানুষকে খারাপ আর ভালো মানুষকে ভালো দেখতেই আমরা অভ্যস্ত। কিন্তু যখনই একজন খারাপ মানুষ ভালো আচরণ শুরু করে ব্যাপারটা আমরা সহজেই কেনো নিতে পারি না স্যার?” ডুবন্ত সূর্যের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে জিয়ানা।
“মানব মস্তিষ্ক খুবই জটিল। ছোট একটা অংশ শরীরের কিন্তু সারাটা শরীর চালায়। তার ফাংশন সে নিজেই মাঝেমধ্যে বুঝতে পারে না বলেই এমনটা হয়। অতি স্বাভাবিক ভাবে নিলে দেখো কিছুই না ব্যাপারটা। কারণ রক্ত থেকে শুরু করে প্রতিটা নিউরনে পরিবর্তন হচ্ছে প্রতিনিয়ত তাহলে মানুষের স্বভাব পরিবর্তন সেখানে অতি স্বাভাবিক না?”

“সারাদিন শেষে এই সময়টাতে আমার খুব বিষন্ন লাগে। ” জিয়ানা একমনে বলে উঠলো।
“আজ লাগার কারণ? ”
“আজ কি কোন বিশেষ দিন যে লাগবে না?”
“আমি পাশে আছি তবুও বিশেষ না?”
“ফিল্মি কিংবা কবি সাহিত্যিকদের মতো তো আমি না তাই আমার কাছে বিশেষ মানুষ আছে বলেই যে বিশেষ মুহূর্ত সেটা মনে হয় না।”
“তাহলে স্বীকার করছো?আমি বিশেষ কেউ?”
“অস্বীকার করবো কেনো?আচ্ছা স্যার আপনার বয়স কত?”
“বলবো না পরে তুমি বয়সের দোহাই দিয়ে কেটে পড়বে।”
“আপনার ছোট ভাই যদি হয় বুড়ো আদু ভাই ,আপনার কম করে হলেও ত্রিশ?” জিয়ানা রাফিনের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো।

“আমার একত্রিশ। আর নিবিড়ের উনত্রিশ। আর সে আমার আপন ভাই না। ”
“ওয়েট হোয়াট? আপনি তো আমার স্যার আংকেল। “দাঁড়িয়ে প্যান্ট ঝেড়ে বলল জিয়ানা।
হোঁ হোঁ করে হেঁসে দিয়ে রাফিন বলে,
“তুমি যখন ক্লাস নাইনে তখন আমি মাস্টার্স করছি। এতদিনে এই কথা বলছো? ভেরি ব্যাড জিয়ু।”
জিয়ানা দুইহাত জোড়া করে বলে,
“মুছে ক্ষ্যামা কার দো শিক্ষক জ্বী ”
“তোমাকে একবার জড়িয়ে ধরতে পারি জিয়ানা?” রাফিন কোমল একটা দৃষ্টিতে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো।
জিয়ানা একটু ইতস্তত করে বলে,

“স্যার আমি এই সব সম্পর্কে বিশ্বাস করি না।প্রণয় ঘঠিত এই সম্পর্ক গুলো একদম কচু পাতায় পানি। আজ আছে কাল নেই। ফালতু ইনভেস্টমেন্ট। আপনি নিজেকে দিয়েই দেখুন। সাঞ্জানা আপু প্রায় এসে গদগদ হয়ে আমাদের দেখাতো আপনার দেয়া শাড়ি চুড়ি আর নানা গিফট। কিন্তু সেগুলো নিশ্চয় এখন তাকে লুকিয়ে রাখতে হয়? কিংবা সেই জিনিস গুলো তার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ সৃষ্টি করে। আমি আমার হাজবেন্ডকে জড়িয়ে ধরে ফিল করতে চাই একজন পুরুষের সান্নিধ্য কেমন লাগে। আপনার অনুরোধ রাখতে পারলাম না দুঃখীত। ”

আবেগের বয়সে কেউ এইভাবে ভাবতে পারে? পারে না। যারা পারে কিংবা একটু প্র‍্যাক্টিক্যালি চলে তাদের কিন্তু পরবর্তী জীবনে সত্যি কষ্ট কম হয়। রাফিন নিজেও এক যুগ বড় হয়ে আজ এই ছোট্ট মেয়েটার কাছে কঠিন এই বাস্তবতা শিখলো। আর একবার প্রেমেও পড়লো। তার খুব ইচ্ছা হয় বলতে তুমি এমনি থাকো মেয়ে।সবাই শাড়ি লেহেঙ্গা পড়ে বিয়ে করে আমি তোমাকে বিয়েতে শার্ট প্যান্ট দিবো। রাফিনের দৃষ্টিতে দৃষ্টি রেখে জিয়ানা বলে,
“স্যার আপনি কি ওই সকল পুরুষদের মতো উল্টা পাল্টা কিছু ইমাজিন করছেন? এইভাবে তাকিয়ে থাকবেন না।রাতে নিশ্চিত আপনার জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যাবে। ”

শুকনো কাশি শুরু হলো রাফিনের। কি সাংঘাতিক মেয়ে রে বাবা।
“তোমার মুখে কিছু আটকায় না জিয়ু? এইভাবে কেউ বলে?”
মাথা দিয়ে না করে বলে”যাহা সত্যি তাহাই বললাম। পুরুষ এক আজব চিজ মাইরি।বিচক্ষণ মস্তিষ্কও নারী সঙ্গ পেলে ভোতা মস্তিষ্কে পরিনত হতে কালক্ষেপ করে না। আমার এখন যেতে হবে। আজ নিশ্চিত শাস্তি খাবো। ” বলে সাইকেলের কাছে গেলো জিয়ানা।

“আমি তোমাকে পছন্দ করি জিয়ানা হক। শুধু পছন্দ না ভালোবাসি। অনেক বেশি। সেই পড়ার টেবিলে বাচ্চা মেয়েটার ভোলাভালা চেহারা দেখে আমার মন মস্তিষ্কে তার সিল মেরে দিয়েছে।কতবার বহুবার তাকে সরাতে গিয়েও যে সরেনি। তার কাপাকাপা হাতের সেই চিরকুট যে আমাকে ঘুমাতে দেয়নি। প্রচন্ড সুন্দরী এক প্রেমিকা সেও আমাকে ভুলাতে পারেনি। আজ আমার স্বীকার করতে কোন দ্বিধা নেই। এমন পাগল উদ্ভট স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড মেয়েটাকেই আমি এতকাল ভালোবেসে এসেছি।কোন প্রতিদান ছাড়াই যার জন্য মন আর মস্তিষ্ক দুটোই অপেক্ষা করেছে।প্লিজ আমার সাথে সহজ হও। আমি জানি তুমিও আমাকে পছন্দ করো।”
“প্রেমে পড়লেই তাকে বিয়ে করতে হয় না স্যার। সমরেশ মজুমদার কি বলেছেন জানেন? ‘প্রেম হচ্ছে বেনারসি শাড়ি। যাকে আপনি তুলে রাখবেন যত্ন করে। মাঝেমধ্যে নামিয়ে রোদে দিবেন। আবার আলমারিতে তুলে রাখবেন। কিন্তু বিয়ে হচ্ছে পাটভাঙা তাতের শাড়ি।যাকে প্রতিদিন গায়ে জড়ানো হয় ,ধোয়া হয় ,রোদে শুকানো হয়। দিন শেষে সেটার চেহারা মলিন আর রুক্ষ হয়ে যায়। ”

নীতিহীন রাজ পর্ব ৬

“একটু আগে না বললে কবি সাহিত্যিকদের মতো না তুমি?এখন আবার পল্টি কেন?”
“জেনি আপুর বিয়ে হোক।যদি অপেক্ষা করতে পারেন আমার আপত্তি নেই। আর আপনার এখন আব্বু ডাক শোনার বয়স।পারলে বিয়ে করে দাওয়াত দেন।তবুও এই লেমেনজুস মার্কা প্রেম পিরিতি আমার পক্ষে সম্ভব না। “বলে সাইকেলে প্যাডেল মেরে চলে গেলো জিয়ানা।
রাফিন নরম ঘাসে শুয়ে পড়লো। এক অদ্ভুত পিচ্চির প্রেমে পড়লো সেও তাকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাচ্ছে। কি অদ্ভুত মানব হৃদয়।

নীতিহীন রাজ পর্ব ৮