নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৭
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_”আগের মতো আমাকে আর ভয় পাও না জানু but why?”
নুবা জোরপূর্বক হেঁসে আমতা আমতা করে বললো
_”আপনি কি চান আমি আগের মতো আপনার থেকে দূরে দূরে থাকি?”
_”একদমি না?”
_”তাই ভয় পাওয়ার কথাটা পাশে রাখুন। কারণ এরকম কোনো কাজ যদি আপনার দাঁড়া হয়,যার পর থেকে আমার দ্বিধাবোধ হবে আপনার কাছে যেতে বা ভয় হবে তখন আমাকে ভুলে যাবেন। কারণ আমার দাঁড়া ভীতু হয়ে কোনো সংসার করা সম্ভব না।আর না এটা আমার ইচ্ছার ভিতরে পড়ে।”
আরহাম মুচকি হাসলো নুবার কথায় পরপর এগিয়ে যেয়ে বেশ গভীর ভাবেই চুম্মুন করলো নুবাকে। এদিকে বুকের দুধ খেতে খেতে আয়রা আর চোখে সেদিকে তাকিয়ে দুখ খেতে খেতে হাসলো।
পরি মাত্র apartmentএ এসে পৌঁছালো।নাবিল সেই তর্কাতর্কের পরেই পরিকে রেখে বেড় হয়ে গিয়েছিলো।তবে নাবিল বেড়িয়ে আসার পরেই পরি কোনো মতে জামা কাপড় পড়ে সেও পিছন পিছন বেড় হয়ে আসে। কারণ সে আর হসপিটালে থাকতে চায় না।সে না থাকবে হসপিটালে আর না নাবিলের চেলা পেলার তাকে পাহাড়া দিয়ে সময় নষ্ট করতে হবে।
পরি apartment ফিরেই চুপচাপ নিজের বরাদ্দ করা রুমে চলে আসলো।রুমে আসতেই তার দম বন্ধ হয়ে গেলো। ইচ্ছা হলো পালিয়ে যেতে।তবে কোথায় যাবে সে।তার উপর তার পরিবার।একা পালিয়ে গেলেও তো কোনো কাজ হবে না।সেই নাবলি আবার তাকে ধরেই ফেলবে।পরি নিজের ভবনা চিন্তার উপর এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে চুপচুপ শাওয়ার নিতে চলে গেলো।
দুপুরের কড়া রোদ জানালা দিয়ে এসে রুমে পড়ছে। চাঁপা গড়ম পড়েছে,যা শরীরের মাংস জ্বালিয়ে দিচ্ছে।এই গড়মের ভিতরে নুবা আবেশে ঘুমিয়ে আছে।বুকের কাছে এলোমেলো হয়ে আয়রা শুয়ে আছে।আয়রাকে ঘুম পাড়াতে যেয়ে বেচারি নুবাও ঘুমিয়ে পড়েছে। কারণ কাল রাতে আরহামের সাথে নাটক করতে করতে আর তার ঘুম হয়নি।
এদিকে আরহাম মাত্র বাইরে থেকে ফিরলো।তার আর কি, খাওয়া দাওয়া নেই,কাম কাজ নেই শুধু ঘুরা। অফিসে যাওয়ার নাম গন্ধ নেই।আর কি যাবে সে? আরাফ অনেক আগেই তার জায়গা দখল করেছে।সে মরতে না মরতেই তার জায়গা ছোটো ছেলেকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আপাতত আরহাম অন্য বিষয় নিয়ে চিন্তিত,একটি গোপন বিষয়ের উপর কাজ করছে সে।আর সেটা হচ্ছে ফিরোজ।এই ফিরোজ যেনো আঠার মতো এই পরিবারের পিছনে লেগে আছে।শালা দেশে নেই তাই এরকম উৎপাত শুরু করেছে। আরহাম কোনো মতে ঠেস দিয়ে রেখেছে। তারউপর নতুন নতুন শত্রু তৈরি হচ্ছে।কথায় আছে, পুরাতন পাগলের ভাত নেই, নতুন পাগলের আমদানি। ঠিক সেরকমি হচ্ছে এই পরিবারের সাথে।একটাকে ছাড়ালে আর একটা এসে চেপে ধরছে।এই নতুন প্রজেক্টটা যেনো তাদের উপর কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। হারুন মির্জা কোনো মতে কোমড়ে লোহার শিকল বেঁধে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।যখনি শিকল ছিরে যাবে তখনি তিনি কম্পানি সহকারে নিজের দিকে ধসে পড়বেন।
আরহাম মাথা থেকে সকল প্রকার চিন্তা ঝেড়ে ফেলে রুমে প্রবেশ করলো।রুমে আসতেই তার চোখ দুটো জুরিয়ে গেলো।মা মেয়ে কত সুন্দর করে ভর দুপুরে ঘুমিয়ে আছে। আরহাম মুচকি হেসে ফ্রেশ হতে চলে গেলো।
একটু সময় নিয়ে ফ্রেশ হয়ে বেড় হলো আরহাম।পরপর এসেই নুবার পাশে বসলো। এদিকে নুবা আর আয়রা ঘুমে বেভুর। আরহাম কিছু সময় নুবার দিকে তাকিয়ে থেকে তার মাথায় হাত রেখে মৃদু কন্ঠে সুধালো
_”উঠে খাওয়া দাওয়া করবে না নাকি।না দুইজন ঘুমিয়েই দিন পাড় করবে?”
মাথায় হাত রাখায় নুবা আরো আয়েশ করে ঘুমে মগ্ন হলো।সকাল সকাল গোসল দেওয়ায় ভালোই ঘুম এসেছে তার। আরহাম নুবার দিকে এক পলক তাকিয়ে পরপর তার পাশে জাগা করে নিয়ে শুয়ে পড়লো।বেশি জায়গা নেই নুবার পিছনে তবু আরহাম কোনো মতে জাগা করে নিলো।
আরহাম কিছু সময় ভদ্র মানুষের মতোই চুপ রইলো,তবে একটু সময় পার হতেই তার উপর শয়তান ভর করলো।সে শুয়ে শুয়ে ঘুমন্ত নুবাকে ঘুম থেকে উঠানোর জন্য উতলা হয়ে পড়লো।আরহামের অত্যাচারে ঘুমের ভিতরে অতিষ্ঠ হলো নুবা।মুখ দিয়ে বিরক্তিকর শব্দ বেড় করলো।নুবাকে নড়তে দেখে আর মিচকে শয়তানের মতো হাসলো।পরপর নুবার পেটে হাত গলিয়ে দিলো। উন্মুক্ত পেটে আরহামের শক্ত হাতের স্পর্শ লাগতেই নুবা সরে যাওয়ার চেষ্টা করলো তবে পারলো না।
আরহাম পেটে আঙ্গুল বুলাতে বুলাতে নুবার গলায় মুখ গুজে চুমু খেয়ে গাল দিয়ে স্লাইড করতে লাগলো। এদিকে ঘুমের ভিতরে আরহামের খোঁচা খোঁচা দাড়ির ঘষা খেয়ে নুবা মুখ দিয়ে “উফ্” উচ্চারণ করলো।যেনো সে গোর বিরক্ত হচ্ছে। আরহাম সুযোগ পেয়ে আরো বিরক্ত করতে লাগলো তাকে।নুবা এবার ঘুমের ভিতরে আরহামের হাত ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিয়ে ঘুম ঘুম কন্ঠে সুধালো
_”উফ্,স,সরুন অসহ্য!”
আরহাম কি শোনার মানুষ।সে আরো মন মর্জি করতে লাগলো।নুবা এবারো তাকে কিছুটা ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিয়ে আরহামের দিকে ঘুরতে ঘুরতে বললো
_”কি শুধু করলেন।”
আরহাম নুবাকে নিজের দিকে ঘুরতে দেখে বিশ্বজয় করা হাসি দিয়ে নুবার কপাল থেকে গাল পর্যন্ত আঙ্গুল স্লাইড করতে করতে আদুরে কন্ঠে সুধালো
_”উঠেন, বিকাল হয়ে যাচ্ছে।এভাবে ঘুমিয়ে থাকলে হবে?”
নুবা নাক মুখ কুঁচকে বিরবির করে বললো
_”উফ্, বিরক্ত কেনো করছেন? সরুন তো!”
বলতে বলতে আবারো বালিশে মুখ গুজে দিলো। আরহাম নুবাকে এক হাত দিয়ে জরিয়ে ধরে বুকে মুখ গুজে দিলো।নুবা ঘুমের ঘোরে পর্যন্ত বিরক্ত হলো কারণ আরহামের খোঁচা খোঁচা দাড়ি তার শরীরে বিঁধে যাচ্ছে।ঘুমের ভিতরে এরকম অসহ্য জ্বালা কার ভালো লাগে? তবু নুবা চুপ করে রইলো।তবে আরহাম তাকে বেশি সময় চুপ থাকতে দিলো না। ঠোঁট আর দাঁত চালাতে শুরু করলো সে।নুবা এক হাত দিয়ে আরহামের মাথা কোনো মতে ঠেলে কিছুটা ঝাড়ি মেরে বললো
_”উফ্,কি শুরু করলেন? একটু ঘুমাতে দিবেন নাকি? এরকম বিরক্ত করলে কার ভালো লাগে, বাল।”
_”আর কতো ঘুমাবে?উঠো।”
_”না।আপনি যান তো, বিরক্ত করবেন না, আমাকে ঘুমাতে দিন।রাতে আমার ঘুম হয়নি।”
_”আরে উঠো?”
নুবা এবার কিছুটা তেতে উঠে ঝাড়ি মেরে বললো
_”দূর হ, কেমনডা লাগে,বালের পেচাল শুরু করছে হেনে আইয়া, উফ্।”
নুবার বন্ধ চোখে মুখে স্পষ্ট বিরক্তির ভাঁজ। আরহাম তা খেলায় করেও আবারো মন মর্জি শুরু করে দিলো।নুবা এবারো ঝাড়ি মারলো।তবে আরহাম একটুও সরে গেলো না বরং আরো চেপে ধরলো নুবাকে।নুবা আরো কয় একবার ঝাড়ি মারলো তবে কাজ হলো না।এবার আরহাম হঠাৎ করে বুকের সমতল অংশে দাঁত বসিয়ে দিলো। ব্যথায় কুকিয়ে উঠলো নুবা।না বুঝেই এক ধাক্কায় আরহামকে বিছানা থেকে ফেলে দিলো। যেহেতু আরহাম একটু খানি জায়গা নিয়ে শুয়ে ছিলো তাই সহজেই পড়ে গেলো।
নুবা ধাক্কা মেরেই চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”সবসময় অতিরিক্ত,একটা ঘুমন্ত মানুষকে,মানুষ এতোটা কি করে বিরক্ত করে? অসহ্য,গেয়েও লজ্জা নেই,কয়েও লজ্জা নেই, যতসব ফালতু।”
নুবা ঘুমের ঘড়ে বিরক্তি নিয়ে বকবক করতে লাগলো, এদিকে পড়ে যাওয়ার ফলে আরহামের এক হাতে প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছে। মনে হচ্ছে চাঁপা ব্যথা পেয়েছে। আরহাম ডান হাত দিয়ে বাম হাত চেপে ধরে চুপচাপ ফ্লোরেই পড়ে রইলো।
এতো চেঁচানোর পড়েও আরহামের টু শব্দ না পেয়ে নুবা টিপটিপ করে তাকালো।যেনো সে নিজের প্রতিই বিরক্ত।নুবা ফোঁস ফোঁস নিঃশ্বাস ফেলে এক হাতের সাহায্যে উঠে বসলো।সে বুঝতে পারলো না আরহাম কোথায় গেলো? এক ধাক্কায় আবার বগার পাড় হয়ে গেলো নাকি?
নুবা ভুরু কুঁচকে টিপটিপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো। কিছু সময় পড়ে ঘুম হালকা হয়ে আসতেই চম্কে উঠলো নুবা।বেচারা আরহাম নিচে পড়ে আছে।নুবা হাঁসফাঁস করে উঠলো, তাড়াতাড়ি করে নিচে নামতে যেয়ে ধপাস করে আরহামের উপরে পড়ে গেলো।যেনো মারার উপর খাঁড়া। আরহাম চোখ মুখ খিচে নিলো।নুবা মাতালের মতো তাড়াতাড়ি করে সরে গেলো। আরহাম মুখ দিয়ে কিরকম অদ্ভুত শব্দ বেড় করলো যেনো তার দম বেড় হয়ে যাচ্ছে।নুবা পাশে হাঁটু গেড়ে বসে আরহামের দিকে তাকিয়ে তাকে টেনে তুলতে তুলতে বলে উঠলো
_”কি,কি করে পড়লেন?আপনিও না একটু খেয়াল রাখতে পারেন না?”
আরহাম কোনো মতে উঠে বসে ব্যথা পাওয়া হাতটা ঝাড়া মারলো।নুবা আরহামের হাত ধরে বিরবির করে বললো
_”বেশি লেগছে?”
আরহাম নুবার হাত ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিলো,পরপর দাঁতে দাঁত চেপে নুবার দিকে তাকিয়ে কটমট করে বললো
_”তুই যেয়ে ঘুমা।তোর তো আমার আগে ঘুম, তাই না?”
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে চোখের পাতা টিপটিপ করে উঠলো। শুকনো ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলল
_”আমি,তো উফ্,আমি আবার কি করলাম?”
আরহাম মেয়ে মানুষের মতো রাগ দেখিয়ে চলে যেতে লাগলো। বেচারি নুবা পিছন পিছন এসে মিনমিন করে ভেজা কন্ঠে বললো
_”আমি বুঝতে পারিনি,আপনিই তো ঘুমের ভিতরে বিরক্ত করছিলেন।আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি এভাবে পড়ে যাবেন?”
আরহাম নুবার দিকে এক পলক তাকিয়ে কেমন দাঁতে দাঁত চেপে কটমট করে বললো
_”একদম আমার পিছন পিছন আসবি না তুই। বিরক্তি করছিলাম না? এখন আর করবো না, তুই তোর মতে যেয়ে ঘুমা।”
নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে শুকনো ঢোক গিলে বললো
_”অনেক ব্যাথা পেয়েছেন?”
আরহাম এবার ঠিক নুবার মতো ঝাড়ি মেরে বলে উঠলো
_”তোকে যেতে বলেছি আমি।পিছন পিছন আসলে একদম ঠাঁটিয়ে একটা চড় মারবো। আমার চোখের সামনে থেকে দূর হ।”
আরহামের ধমকে কিছুটা কেঁপে উঠলো নুবা।পরপর ভিজা বেড়ালের কন্ঠে বলে উঠলো
_”এখন ঘুম উড়িয়ে দিয়ে,ঘুমাতে বলছেন? একটা মানুষকে ঘুমের ভিতরে বিরক্ত করা খুবি খারাপ অভ্যাস। মানুষের শরীরে জন্য ঘুম কতটা প্রয়জন আপনি জানেন? দেখুন,ঘুমের ঠেলায় চোখে কম দেখছি আমি আর আপনি ত,,,”
নুবার কথা শেষ হওয়ার আগেই আরহাম পিছন ঘুরে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”তা যেয়ে ঘুমা না। পকপক করছিস কেন?আমার লজ্জা থাকলে আর কখনোই তোর কাছে যাবো না।”
বলেই আরহাম ওয়াশ রুমে চলে গেলো,পরপর বেশ শব্দ করে দরজা লাগিয়ে দিলো সে।নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো।বেশ কান্না পেলো তার,এক ঝামেলা সারতে না সারতে অন্য ঝামেলা লেগে গেলো আশ্চর্য।নুবা যেয়ে ধপাস করে বিছানায় সোজা হয়ে শুয়ে পড়লো।পরপর নিজের গালে নিজে থাপ্পর মেরে বললো
_”কি করলি এটা।এখন কি হবে তোর।এই বেডা শুধু মেয়ে মানুষের মতো রাগ করে।হাই আল্লাহ,কার পাল্লায় পড়লাম।মনে হচ্ছে সব দোষ আমার।আসলেই সব দোষ আমার।”
বলতে বলতে নুবার চোখ লেগে আসে,নুবা আবার টেনে খুলে কারণ এই বেয়াদব ঘুমের জন্য সবটা হলো।
দুপুরের কড়া রোদ্দুরের ভিতরেই apartmentএ ছুটে এসেছে নাবিল । কারণটা পরি! সাগরকে হসপিটালে পাঠানোর পরপরই জানতে পারে পরি হসপিটালের নেই। অতঃপর নাবিল নিজের কাজ রেখে হসপিটালে ছুটে যায়। যাওয়ার পরে জানতে পারে, কাউকে না বলে,কোনো রকম কথা বার্তা ব্যতিতই পরি চলে গিয়েছে।নাবিল প্রথমে একটু চম্কে উঠে কারণ তার মনে হচ্ছিলো পরি সুযোগ বুঝে পালিয়েছে।তবে এতো সাহস হবে না তার, কারণ পরির পরিবারতো আছে।এতো কম সময়ের ভিতরে পরিবার সহ পালানো অসম্ভব। অতঃপর নাবিল apartment এ ছুটে আসে।আসার পরেই রুমে ডুকে দেখা মিলে মহারানি শুয়ে আছে।
নাবিল কিছু সময় পরির দিকে তাকিয়ে রইলো,পরপর এগিয়ে গেলো।কি নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে।নাবিল ফোঁস ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো। কাজের চাপে বাশি শরীর নিয়ে এখনো গোসলটা পর্যন্ত করেনি নাবিল।আর এদিকে পরি বাড়িতে এসে গোসল সেরে কি সুন্দর ঘুমিয়ে আছে।
নাবিলের ইচ্ছে করলো পরিকে উঠিয়ে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিতে।তবে সে পারলো না।পরিকে আর বিরক্ত না করে গোসলে চলে গেলো।একটু সময় নিয়ে বেড় হলো নাবিল,পরপর রুমে এসে মাথার চুল মুছতে মুছতে সাগরকে কল দিলো। মাত্র ২ বার রিং হতেই সাগর কল রিসিভ করে বলে উঠলো
_”ভাবিরে পাইছেন ভাই?”
নাবিল বেশ শান্ত কন্ঠেই বললো
_”হো, তুই এখন কই আছোস?”
_”গোডাউনের আছি।”
_”আইচ্ছা,তাইলে হোনেই থাক।আজ আমি আর আইতাম না।সব খেয়াল রাখিস।”
_”আইচ্ছা ভাই,তাইলে কি কি লাশটা আমরাই ঠিকানায় লাগায় দিমু?”
_”না,আমি আইয়া যা করার করমুনে।”
_”কিন্তু লাশতো পইচা যাইবো ভাই।”
নাবিল বিরক্তি নিয়ে বললো
_”পচুক ওর লাশ।লাশ কইচা কিরা হইয়া যাক। তুই বরফ চাপা দিয়া রাইখা দে।”
_”আইচ্ছা, কিন্তু ওর বউরে কি করমু ভাই।”
_”যা ইচ্ছা তাই কর,মন চাইলে ছাইরা দে।না হইলে রাইখা দে। কিন্তু আকাম কুকাম করলে মাইরা ফালাইস।না হইলে ওই মাগির লাইগা আমরা ফাসমু।”
সাগর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বেশ মৃদু কন্ঠে বললো
_”ঠিক আছে ভাই। কিন্তু মাইয়া তো পুয়াতি (গর্ভবতী)।মারতে কেমন জানি লাগতাছে!”
নাবিল সাগরের কথায় বেশ বিরক্ত হলো। দাঁতে দাঁত চিপে বললো
_”জীবনে কয়টা খুন করছোস হিসাব আছে?এহন যত্তসব ঢং।মনে হইতাছে জীবনের প্রথম খুন করতাছোস। চুপচাপ মাইরা ফালা।”
বলতে বলতে নাবিল পরির দিকে এগিয়ে গেলো।যে কিনা বরাবরের মতোই ঘুমিয়ে আছে।যেনো দীর্ঘ এক জার্নির পর বেশ ক্লান্ত সে।নাবিল পরির উঁচু পেটের দিকে চোখ বুলিয়ে নিলো।পেটের ভিতরে তার অনাগত সন্তান নড়ছে।যা উপর থেকেই দেখেই বুঝতে পারছে নাবিল।পরপর নাবিলের ভাবনার ভিতরে অপাশ থেকে সাগর বলে উঠলো
_”আইচ্ছা রাখি।তাইলে দুইটারে মাইরা বরফ চাপা দিয়া রাখুমনে।”
বলতেই সাগর ফোন কেটে দিতে লাগলো।তবে তখনি নাবিল দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ব্যস্ত কন্ঠে বলে উঠলো
_”থাক,ওই মাইয়াডারে ছাইরা দে।তবে কইয়া ছাড়বি যাতে মুখ না খুলে।খুললেই বাচ্চাসহ বগার পার কইয়া দিমু।একটু ভালো কইরা শাশায় দিবি যাতে পরে ওর লাইগা ফেসাদ আন হয়।”
সাগর একটু অবাক হলো নাবিলের উদরতা দেখে তবে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_”আইচ্ছা,আপনে যা কইবেন তাই হইবো।”
নাবিল কথা শেষ করে কল কেটে দিলো।কল কেটেই নাবিল পরির পাশে বসলো। কেমন অদ্ভুত লাগছে তার।মনে হচ্ছে জীবনটা নষ্ট হয়ে গেছে তার।পরির উপর বেশ রাগ হলো নাবিলের,তার কাছে মনে হচ্ছে পরি তার জীবনে আসার পর থেকে,তার পুরো জীবনটা এলোমেলো হয়ে গেছে
আরহাম বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। মেজাজটা পুরাই বিগরে গেছে তার।এই বেয়াদবি মেয়েটা একটু ভালো মতো romance ও করতে দেয় না। কিছু করতে নিলে বেগরা না দিলে পেটের ভাত হজম হয় না মনে হয়।
এদিকে আরহামের পিছনে নুবা দাঁড়িয়ে উঁকি ঝুঁকি মারছে আর আফসোস করছে।কি একটা কাজ করলো সে।ছ্যে!এখন এই লোকটার সামনে কি করে যাবে। নিশ্চয় প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছে।তাই তো রেগে আছে।তার উপর আবার ঝাড়িও মেরেছে।এখন সামনে গেলে নির্ঘাত মুখে একখানা থাবা লাগিয়ে দিবে।
নুবা শুকনো ঢোক গিলে,গলা ছেড়ে কেশে ভেজা বিড়ালের মতো আরহামের কাছে এগিয়ে গেলো। অনেক সাহস নিয়ে তার সামনে দাঁড়ালো। আরহাম খেয়াল করলো তার মিনি হাতি এসেছে।তবে সে একটুও তার দিকে তাকালো না।
নুবা এসেই ঠোঁটে ঠোঁট চেপে, আস্তে করে আরসামের বুকে দুই হাত রাখলো।বেশ ভয়ে আছে সে কারণ আরহাম যেই কেকানি দেয়,কলিজা ধরিয়ে দেয়।তার একটা ধমক শুনলেই নুবার চোখের পানি নাকের পানি এক হয়ে যায়।
নুবা শুকনো ঢোক গিলে এবার আস্তে করে আরহামের বুকে মাথা রেখে দিলো।তবে জরিয়ে ধারার সুযোগ পেলো না সে। জরিয়ে ধরার আগেই আরহাম সরে গেলো।নুবা যেহেতু আরহামের বুকের উপর পুরো ভর ছেড়ে দিয়েছিলো তাই সে পড়ে যেতে নিলো।তবে কোনো মতে আবারো সোজা হয়ে দাঁড়ালো।
আরহামকে সরে যেতে দেখে নুবা মুখ বিকৃত করেও আবার একটু জোরপূর্বক হেঁসে নিজেকে শান্ততা দিলো।পরপর আবারো গুটিগুটি পায়ে আরহামের কাছে এগিয়ে গেলো।তবে এবার কাছে যাওয়ার আগেই আরহাম বলে উঠলো
_”don’t touch me!”
আরহামের কর্কশ কন্ঠ শুনে নুবা একটু নুইয়ে পড়লো তাবু বেশ ভাবুক হয়ে আরহামের দিকে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে আদুরে কন্ঠে বললো
_”sorry.”
আরহাম কিছুই বললো না।বাইরে্য দিকে তাকিয়ে রইলো।নুবা টিপটিপ করে আরহামের দিকে তাকিয়ে রইলো,জবাব না পেয়ে আর একটু এগিয়ে যেয়ে মলিন কন্ঠে বললো
_”আমি সত্যি বুঝতে পারিনি যে আপনি ওভাবে পড়ে যেয়ে ব্যথা পাবেন।”
আরহাম নুবার দিকে না তাকিয়েই কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_”আমি কাছে আসলে,তুমি বিরক্ত হও, তাই না?”
আরহামের কথায় নুবা বেশ কাতর কন্ঠে বলে উঠলো
_”একদমি না,তখন তো ঘুমের ঘড়ে!!! বিশ্বাস করুন,আমি না ঘুমের ঘড়ে ঝাড়ি মেরে উঠেছি।”
_”বিরক্ত লাগে আমাকে?”
_”আরে না,আপনি কাছে আসলে আমার আরো ভালো লাগে।মা কসম।”
আরহাম ঘ্যাত ত্যারামো করে আবারো একি প্রশ্ন করে বললো
_”আমি সবসময় অতিরিক্ত করি।”
নুবা বিচলিত হয়ে সুধালো
_”আরে না,আমরি ভুল ছিলো।”
_”আসলে আমারি ভুল ছিলো।একে তো তোমাকে জোর করে নিজের জীবনে এনেছি তার উপর নিজের মন মর্জি করি।”
নুবা আরহামের কথায় হাঁসফাঁস করে উঠলো, ভাঙ্গা কন্ঠে বলে উঠলো
_”আপনি কিরকম কথা বলছেন।আমি বললাম তো ঘুমের ভিতরছ।”
আরহাম কেমন কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_”আমি যা বলছি ঠিকি বলছি!”
_”দেখুন,আমি sorry বলছি,এই কথাটাকে আর আগে বাড়াবেন না।”
আরহাম কিছুটা তেতে উঠে বললো
_”আমি কথা বাড়াচ্ছি। তুমি সবসময় এরকম করো। তোমার কাছে যাওয়াই যেনো মুস্কিল। husband হই তোমার তবে তোমার ব্যবহার দেখে মনে হয় কোনো পরপুরুষ আমি।আমি ছুঁয়ে দিলেই বিরক্ত হয়ে যাও তুমি। চোখে মুখে স্পষ্ট বিরক্তির ছাপ দেখা যায়।এটাও বলো মিথ্যা? তুমি কখনো আমাকে সময় দিতে চাও না। সবসময় কোনো না কোনো বাহানা দিয়ে দেও।আমি যখনি ___”
বাকি কথা বলতে পারলো না আরহাম। কারণ তার গলায় কথা আঁটকে আসছে। আরহাম শুকনো ঢোক গিললো নুবার কান্ডে।নুবা এক হাত তার বুকের উপর রেখে অন্য হাত আরহামের গলায় স্লাইড করছে।আরহামকে চুপ হয়ে যেতে দেখে নুবা বেশ একটু ভারি কন্ঠে বলে উঠলো
_”হুম,কি যেনো বলছিলেন?”
আরহামের হাত দুটো আস্তে আস্তে নুবাকে জরিয়ে ধরতে চাইলো।সে দূর্বল হলো নুবার স্পর্শে ,তবে সে তা প্রকাশ করতে চাইলো না।সে দেখাতে চাইলো সে অনেক স্ট্রং,তাই শক্ত করে এক জায়গায় এঁটে রইলো।বেশ স্বাভাবিক কন্ঠে বললো
_”স,সরো,সমস্যা কি?”
নুবা ফ্যালফ্যাল করে আরহামের দিকে তাকালো।পরপর একটু romantic ভাব নিয়ে আরহামের চলতে থাকা ঠোঁট তার বুড়ো আঙ্গুল স্লাইড করে, ঠোঁটে দাঁত চেপে সুধালো
_”কি বললেন? শুনলাম না তো।আবার একটু বলুন!”
আরহাম নুবার কান্ডে নিজের রাগ টুকু পুষে রাখতে পারছিলো না।তবে সে নুবাকে তার এরকম ঝাড়ি মারার জন্য অন্ততপক্ষে একটা শিক্ষা দিতে চাইছিলো।তাই সে নুবার হাত ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিয়ে রাগি কন্ঠে বললো
_”সরো।”
বলেই নুবাকে ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে দিলো।নুবা একটু অবাক হলো।এতো সুন্দর ভাবে বললো তাও কাজ হলো না নাকি?আজব,কাজ হওয়ার তো কথা ছিলো।তবে কি সে বরাবরের মতো অভিনয়ে কাঁচা।নুবা আবারো চেষ্টা করলো। এগিয়ে যেয়ে আরহামের গলা জরিয়ে ধরে আদুরে গলায় বলল
_”sorry না জান।ok fine ,আর কক্ষনো এরকম করবো না।”
আরহাম নুবার দিকে তাকালোই না। বরং কেটে কেট করে বললো
_”তুমি প্রতিবারি এরকমটা করো।তার পর sorry বলো। তোমার sorry’রির আমার কোনো দরকার নেই।সরো!”
বলেই আবারো সরিয়ে দিলো।নুবা বিরক্ত হলো।আবারো এগিয়ে এসে আরহামের গলা জরিয়ে ধরে kiss করার চেষ্টা করলো তবে আরহাম তা উপেক্ষা করে নুবাকে সরিয়ে দিলো।kiss করতে না দেওয়ায় বেচারি নুবা অনেকটা রেগে গেলো। ঠিক আরহামের মতো, যেমন আরহামকে কাছে না আসতে দিলে গাল ফুলায়।
নুবা নিজের রাগ উপেক্ষা করে আবারো এগিয়ে গেলো তবে আরহাম এবরো রিজেক্ট করলো।কিছুটা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”don’t touch me নুবা। একদম অতিরিক্ত করবে না বলে দিচ্ছি।”
নুবার আরামের কথায় বেশ রাগ হলো তবে সে প্রকাশ করলো না। এদিকে আরহাম একি কাজ বারবার করতে লাগলো। হয়তোবা সে নুবাকে অনুভব করানোর চেষ্টা করলো,’একটু কাছে আসলে বারবার এরকম সরিয়ে দিলে কেমন অনুভব হয়।”কতটা খারাপ লাগে,কতটা রাগ হয়।তার উপর ঝাড়ি মারলে কেমন লাগে।নুবা আর আরহাম দুইজনি একি জায়গায় এঁটে থেকে কাজ বারবার করার চেষ্টা করলো।
নুবা কাছে আসতে চাইলো, আরহাম সরিয়ে দিলো।এক পর্যায়ে নুবা রাগে দুঃখে ফুঁসতে লাগলো।পরপর চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”সমস্যা কি আপনার? এরকম করছেন কেনো? আমি তো sorry বলেছি!”
আরহামো দিগুন চেঁচিয়ে উঠে বলে উঠলো
_”সেম আমারো এরকম লাগে যখন তুমি আমার সাথে এরকম করো। তুমি হয়তোবা বুঝতে পারবে না, তোমার rejection কতটা পিরা দেয় আমাকে।”
_”আপনি এমন ভাবে বলছেন যেনো আমি ইচ্ছে করে এই সব করি।আর সবসময় সবকিছু ভালো লাগে না।আপনি সবসময় এমন করেন। আমার কি দোষ।”
নুবার কথায় আরহাম বেশ তেতে উঠলো,রাতে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_”তাই তো বলেছি আমার কাছে আসবে না।দূরে থাকো।আমি যেহেতু সবসময় এরকম করি তাই আমার কাছে আসার তো দরকার নেই।”
আরহামের কথায় নুবাও বেশ তেতে উঠে বললো
_”আপনি অতিরিক্ত করেন। ছোট্ট ছোট্ট বিষয় নিয়ে মেয়ে মানুষের মতো মুখ ফুলিয়ে রাখেন।আমি বুঝি না পুরুষ মানুষের এতো ঢং কোথা থেকে আসে।নিজে ছোটো ছোটো বিষয় গুলোকে টেনে হিচরে লাম্বা করে হোপ ফুলিয়ে বসে থাকেন অতঃপর সব দোষ আমার ঘাড়ে চাপান।তবে সত্যিই আমার জানা থাকে না যে আসলে হয়েছেটা কি?”
নুবার কথা আরহামের একদমি পছন্দ হলো না। আরহামের কিরকম খারাপ লাগা কাজ করলো।ফল স্বরুপ আরহাম আঙ্গুল দিয়ে নুবরা দিকে ইশারা করে রাগে হাঁসফাঁস করে বললো
_”actually you deserve better , তুমি আমার মতো কাউকে ডিজার্ভ করো না। তুমি আরো ভালো কাউকে ডিজার্ভ করো, কারণ তুমি আমার টাইপেরি না। আমার তোমাকে চিনতে ভুল হয়েছিলো। না আমি তোমার যোগ্য,না তুমি আমার যোগ্য।l”m just totally speechless. উফ্, “Please don’t irritate me নুবা। আমি কোনো রকম ঝামেলা করতে চাইছি না please নুবু।”
বলেই আরহাম সরে যেতে চাইলো, কারণ সে বুঝতে পারছে এখন এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে বড় আকারে তর্ক বিতর্ক হয়ে যাবে। এদিকে আরামের কথা শুনে নুবার চোখ ফেটে পানি বেড় হয়ে আসলো।রাগে শরীর রিরি করে উঠলো। কেমন কান্নায় কন্ঠ ভেঙ্গে আসলো। নুবা আরহামকে সরতে দিলো না বরং তার সামনে যেয়ে দাঁড়ালো। দাঁতে দাঁত চেপে হাঁসফাঁস করে বললো
_”কি,কি বললেন আপনি?”
আরহাম নুবাকে পাশ কাটিয়ে সরে যেতে যেতে বললো
_”nothing.আমাকে যেতে দেও।না হলে বড় আকারে গন্ডগোল হয়ে যাবে বলে দিলাম।”
নুবা আরহামের কথা উপেক্ষা করে ফুঁপিয়ে উঠলো, এগিয়ে যেয়ে আরহামের শার্ট খামচে ধরে ভাঙ্গা কন্ঠে অস্থির হয়ে বললো
_”আমি আপনার টাইপের না।এটাই তো বললেন?”
আরহাম নুবাকে কাঁদতে দেখে নিজেও বিচলিত হলো।তবু রাগি কন্ঠে বললো
_”don’t cry, একদম কান্না কাটি করবে না। আমার অসহ্য লাগছে।”
নুবা আরো কেঁদে উঠলো, চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”আমি আপনার যোগ্য না, তাই না।তাহলে বিয়ে কেনো করেছিলেন? আমি কি আপনার কাছে গিয়েছিলাম,নাকি আপনি আমার কাছে এসেছিলেন।কে বিয়ের জন্য প্রপোজ করেছিলো? আমি নাকি আপনি। যেহেতু আমি আপনার যোগ্যই না,তবে কেনো বিয়ে করলেন আমায়।কেনো?”
শেষ শব্দ টুকু চেঁচিয়ে উঠে বললো নুবা। আরহাম মুখ ঘুরিয়ে নিলো।পরপর কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_”আমি বলেছি আমি তোমার যোগ্য না। তুমি ভালো কাউকে ডিজার্ভ করো।”
_”যেটাই বলেন না কেন আপনি। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমাকেই তো বলেছেন,আর আমি ভালো কাউকে ডিজার্ভ করি জানার পড়েও আমার পিছনে কেনো পড়লেন।আমি আগে এসেছিলাম আপনার কাছে? বলুন,আমি এসেছিলাম।আমি বলেছিলাম আমাকে বিয়ে করুন।আমি বলেছিলাম?”
নুবা বারবরা আরহামকে ব্লেম করতে লাগলো।যাতে করে আরহাম বেশ রেগে গেলো।নুবাকে নিজের দিকে ঝাড়া মেরে ছাড়িয়ে কেমন কর্কশ কন্ঠে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”হ্যাঁ আমি গিয়েছিলাম তোমার কাছে।সেটাই তো ভুল করেছিলাম। তুমি কখনো আমাকে বুঝতেই পারোনি।এটাই আমার আফসোস।যা বলি তার উল্টো মিনিং টেনে আনো!”
নুবা সাপের মতো ফোঁস ফোঁস করতে করতে নিজের দিকে আঙ্গুল দিয়ে অবাক কন্ঠে বলে উঠলো
_”আমি,আমি উল্টা পাল্টা মিনিং টানি? আমি? নাকি আপনি সবসময় অতিরিক্ত করেন। আপনার কাছে কখন ভালো থাকবো,হুম? যখন কথায় কথায় শুয়ে পড়বো তখন। ”
আরহাম নিজের কথায় যুক্তি ঠেলে,নুবার মতো ফোঁস ফোঁস করে বললো
_”হ্যাঁ,শুয়ে পড়বে। কারণ আমি তোমার husband.এটা কি তোমার কর্তব্য না?”
নুবা আরহামকে থামতে না দেখে আরো চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”আপনার সমস্যা কি? সবসময় এরকম করেন।বিয়ের আগেও এরকম ছিলেন।বিয়ের পড়েও এরকম।আগেও আপনি এরকমি করতেন। কিছু বললেই মুখের দিকে তাকানো যেতো না।আমিও তো মানুষ,আমারো একটা জীবন আছে, ইচ্ছা আছে। সবসময় কি সবকিছু ভালো লাগে।তবু আমি সবসময় আপনার মন মতো চলার চেষ্টা করি।তবু আমি আপনার টাইপের হতে পারলাম না। এটাই আমার আফসোস।আসলে আপনি আমাকে কোনো দিনও বুঝেননি।আ,আপনি,আপনি একটা অসহ্য। just অসহ্য।”
নীরব উন্মাদনা দ্বিতীয় খন্ড পর্ব ১৬
_”same to you.”
আরহামকে তার দিকে আঙ্গুল তুলতে দেখে নুবা আরো ক্ষেপে গেলো। এগিয়ে যেয়ে আরহামকে ধাক্কা দিয়ে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”আমি আমার জায়গায় ঠিকি আছি।আপনি একটা অসহ্য।আমি না,আপনি।”
ধাক্কা দেওয়ায় আরহামো বেশ তেতে উঠলো।আর রেগে চেঁচিয়ে উঠে বললো
_”আমি কাখনোই তোমাকে দিয়ে satisfied হয়নি।আমি ভেবেছিলাম তুমি সবসময় আমার কাছে আসবে। but সেদ,,
