নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৬
সুরাইয়া জিয়াসমিন
“তোমাদের যা ইচ্ছা তাই মন্তব্য করো i don’t mind,,, তোমাদের অধিকার এটা,,আর কখনোই তোমাদের মন্তব্যের রিপ্লাই আমি দিবো না, sorry everyone তবে মন্তব্য করতে ভুলবে না 😊”
_ আশা করি ভেবে চিন্তে মতামত দিবেন,,কথাটা ভেবে দেখবেন ভালোর জন্যই বলেছি আর পরির পুরো খেয়াল রাখার দায়িত্ব আমাদের,,,,
আরহাম বাড়িতে এসে পৌঁছেছে মাত্র,,মাথাটা পুরাই ঘুরছে তার,,,এতো সময় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিলো,,,
আরহাম আয়ারকে নিয়ে বাড়িতে ফিরেই নুবার খোঁজ লাগালো তবে পেলো না হাজেরার থেকে জানতে পারলো নুবা বাইরে গেছে,,আসলে নুবা টাকা নিয়ে ভেলপুরি মামার টাকা দিয়ে আসতে গেছে,,,ঋন থাকলে তার অস্থির লাগে,,, যেহেতু এখন হাতে টাকা আছে দিয়ে আসাই উত্তম,,,
আরহাম আয়ারকে হাজেরার কাছে রেখে যেএ গোসল সেরে নিচে আসলো,,তখনো নুবা আসেনি,,ভিতরটা অস্থির হয়ে পড়লো আরহামের এই মেয়ে কখন আসবে,,
এর ভিতরে বাড়িতে এসে সবাই হাজির হলো,,আমিনা বেগম এসেই চিল্লাচিল্লি শুরু করলেন যে কোনো সে এভাবে চলে আসলো,,কতটা অসম্মান জনক একটা কাজ করে এসছে আরহাম এদিকে হারুন মির্জা স্ত্রীর উপর ক্ষেপে আছেন,,পরি কেন এই বাড়িতে থাকবে,,ইশিতা আরফের সাথে বাধিয়েছে ওখানে বসে ইশিতার সামনে পরিকে চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছিলো,, এদিকে বেচারি আরশির রিহানের সাথে ঝগড়া হয়েছে,, দুপুর থেকে বিকাল হয়ে গেলো ৭/৮ বার কল দিছে কেন ধরেনি তাই,,সে কি করে ধরবে মা বাবার সামনে ছিলো যে,,,
বাড়িতে এসেই এক হৈ হুল্লোড় পরে গেলো যেনো মাছের বাজার,,কেউ কাউকে দিয়ে সন্তুষ্ট না,,সবাই,, সবাইকে দোষারোপ করছে কি একটা অবস্থা,,,
এদিকে হারেজা আর তানিয়া এদের চেঁচামেচি দেখতে ব্যস্ত কেউ কিছু বুঝতে পারছে না,,
নুবা রাস্তা দিয়ে হাঁটছে,,, ভেলপুরি ওয়ালা মামার বিল চুকিয়ে দিয়ে এসেছে তবে এখন আর বাড়ি ফিরতে মন চাইছে না,,কেনো জানি অস্থির লাগছে তার,,,এই ভেবেই নুবা বাড়ির দিকে আস্তে আস্তে হেঁটে যাচ্ছে,,,এক পর্যায়ে নুবা নিজের প্রতি বিরক্ত হলো অতঃপর রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটা রিকশা নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো,,,
লিভিং রুমের অর্ধেক জিনিস ভাঙ্গা শেষ অলরেডি,,,একে তো বাড়িতে এসে নুবাকে পায়নি তার উপর চেঁচামেচি,, সবকিছুতে ধৈর্য হারা হয়েছে আরহাম তেতে উঠেছে,,,, এদিকে আরহামকে রাগতে দেখে সবাই চুপ হয়ে গেছে,,,
আরহাম tea টেবিল ফ্লোরে আছার মেরে বললো,,,
_ শুধু তোমার কারনে চুপ ছিলাম আমি,,,ওই মেয়েকে আমি বিয়ে করতে পারবো না,,,পারবো না মানে পারবো না,,,
শেষ টুকু চিকিৎসা করে বললো আরহাম,,,আমিনা বেগম রেগে উঠে বললেন
_ তোর ভালোর জন্যই তো করছি,, মেয়েটা কত ভালো,,দেখতে যেমন সুন্দর ব্যবহার আচরন,, পড়া লেখার দিক দিয়ে কতটা পারফেক্ট,তোর মেয়েকেও সামলে নিবে,,মনে কোনো অহংকার নেই,,,কত কষ্ট করে ওর মা বাবাকে রাজি করালাম,, সমস্যা কি তোর হ্যাঁ,,,কে করবে তোকে বিয়ে,,একে তো আচরনের ঠিক নেই তার উপর বিবাহিত এক সন্তান আছে,,,,মেয়েটাকে বোঝানোর পরে তাও রাজি হয়েছে শুধু আয়রার কথা ভেবে আর তুই,,, তুই সব ভেস্তে দিচ্ছিস,,,এখন যা,,যেএ না করে দে যাতে আমাদের মান সম্মান সব ধুলোয় মিশে যায়,,যা দূর হ,,,
চিৎকার করতে করতে আমিনা বেগম হাঁপিয়ে উঠলেন,,, আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ ওকে,, আমাকে নিয়ে সমস্যা,, আমাকে নিয়ে তোমাদের যেহেতু মান সম্মান যাচ্ছে,,,তাহলে তোমাদের আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না,,এখনি চলে যাচ্ছি আমি,,এখনি চলে যাবো,, তোমাদের যা ইচ্ছা তাই করো,,,
বলেই রক্তাক্ত হাত নিয়ে হাজেরার দিকে এগিয়ে গেলো,,,হাজেরা কিছুটা ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলো,,, আরহাম যেএ কম্পিত হাত এগিয়ে দিয়ে বললো
_ দিন,,,,
হাজেরা আয়ারকে এগিয়ে দিলো,, আরহাম আয়ারকে কোলে নিয়ে কোনো রকম শব্দ ব্যতিত বাড়ি থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,,আমিনা বেগম ওখানেই বসে পড়লেন,,,
হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ আমি বলেছিলাম ওর ব্যপারে নাক গলাতে না,, বলেছিলাম তো,,,এখন দেখো কি হলো,কুকুরের পেটে ঘি হজম হয়,,,ওর ভালো করতে যেএ আরো খারাপ হলে তার কাছে,,এখন শান্তি লাগছে,,,খুব শান্তি,,,
সবাই নিস্তব্ধ,,,কারো মুখে কোনো কথা নেই,,ভাবনার ভিতরে ছিলো না আরহাম বাড়িতে এসে এতো ভয়ংকর হয়ে উঠবে,, হয়তোবা সেখানে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে চুপ ছিলো,,,
আমিনা বেগম কপাল চাপড়িয়ে কেঁদে উঠলো,,,দোষটা কি ছিলো তার,,নিজের সন্তানের ভালো চাওয়া কি দোষ,,,,
নুবা বাড়ির সামনে এসে রিকশা থামাতেই দেখলো বাড়ি থেকে কেউ বেড় হয়ে চলে যাচ্ছে,,,আরহামের মতো লাগলো তার তবে পাত্তা দিলো না তার কি,,নুবা রিকশা ভাড়া চুকিয়ে দিয়ে ভিতরে চলে গেলো
নুবা গুনগুন করে বাড়ির ভিতরে ঢুকে হতভম্ব হয়ে গেলো পুরো লিভিং রুমের অবস্থা নাজেহাল,,আমিনা বেগম ফ্লোরে বসে আছেন,, হারুন মির্জা সোফায়,,,আমিনা বেগম হাউমাউ করে কাঁদছেন,,,, বাচ্চাদের মতো প্রায় গড়াগড়ি খাচ্ছেন উনি,,,
নুবার বুকটা ভারি হয়ে উঠলো,,কি হয়েছে আবার,,নুবা ভাঙ্গা চুরা সব জিনিসের দিকে এক পলক তাকিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মায়ের দিকে এগিয়ে যেএ বললো
_ কি হয়েছে মা,,,
হাজেরা ফিসফিস করে বললো
_ আরহাম বিয়েতে রাজি না তাই এই ভাংচুর করে আয়ারকে নিয়ে চলে গেছে,,
নুবা পিলে চম্কে উঠলো,,, অবাক কন্ঠে বললো
_ কি,,কেউ আটকায়নি,,
_ না,,,,
নুবার নিঃশ্বাস যেনো এখনি বন্ধ হয়ে যাবে,,আয়ারকে নিয়ে চলে গেছে,,আয়ারকে নিয়ে চলে গেছে কথাটা ভাবতেই তার গলার কাছে এসে কষ্ট গুলো দলা পাকিয়ে গেলো,,,
নুবার মনে পড়লো এই মাত্র আরহাম বেড় হলো,সে যখন বাড়িতে ডুকছিলো,,,,নুবা শুকনো ঢোক গিলে অনেকটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে আর আশা ভরা মন নিয়ে বাইরে ছুটে গেলো,,,গেছে গেছে আয়ারকে কেন নিয়ে যাবে,,রেখে গেলে কি মন্দ হতো,,
নুবা ছুটে বাড়ির বাইরে বেড় হয়ে আশে পাশে তাকালো,পরপর খেলায় করলো আরহাম রাস্তার শেষ মাথায়,,পিছন থেকে দেখেই চিনে ফেললো নুবা,,, পরপর আরো নজরে পড়লো সামনে গাড়ি,,মনে হচ্ছে ওখানেই উঠবে সে,, সেদিকেই যাচ্ছে,,,
নুবার বুকটা কেঁপে উঠলো,, অন্ততপক্ষে শেষ বারের মতো আয়ারকে একটু চোখের তৃপ্তি ভরে দেখে নিলে মন্দ হয় না,,,
নুবা দৌড়ে রাস্তা পার হলো পিছন থেকে আয়ারকে ডাকতে লাগলো,,,
_ আরু,, আরহাম ভাই,আয়রা,,,
আরহাম মাত্র গাড়িতেই উঠছিলো তবে চিনা কন্ঠ শুনে পিছন ফিরে তাকালো,,কোনো এক লং গাউন পড়া,,হিজাব বাঁধা রমনি হাতে ছোট্ট ব্যাগ নিয়ে এদিকেই ছুটে আসছে চিনতে সময় নিলো না সে,,
আরহাম এক পলক নুবাকে আসতে দেখে আবারো সামনের দিকে তাকিয়ে ভাবলো বাদ দেওয়া উচিত এই সব,,,সে চলে গেলেই এই বড়িতে আগের মতো শান্তি হবে,,,আসলেই,,,, শান্তি হবে,,,নুবা যদি তার ভাগ্যের থাকে তবে অবশ্যই সে পাবে,, আবার ভাবলো পাখি যখন নিজেই হেঁটে হেঁটে আসছে নিয়ে চলে গেলে কেমন হয়,,না মন্দ হয় না,,,তবে সে এমন কিছুই করবে না,,, কখনোই না,,,এটা করার হলে অনেক আগেই করতো,,
আরহাম তাও গাড়িতে উঠে বসলো আর ড্রাইভকে বললো,,
_ started দেও,,,
ড্রাইভ বলে উঠলো,,
_ কিন্তু কেউ তো আপনাকে ডাকছে sir,,
_ যা বলেছি তাই করো,,,
কাউকে বেঁধে রাখবে না সে,,,তার জন্য কারো ক্ষতি হোক সে চায় না,,,যেভাবে খালি হাতে এসেছিলো সেভাবেই খালি হাতে চলে যাবে,,,
ড্রাইভ গাড়ি stared দিলো,,নুবা দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁপিয়ে উঠলো,,,এই মাত্র আরহাম তাকে আসতে দেখলো,,তাহলে কি তাকে দূর থেকে চিনতে পারেনি নাকি ইচ্ছা করে এমন করলো,,,
গাড়ি চলতে শুরু করলে নুবার নিঃশ্বাস আঁটকে আসলো,,,আয়রাকে শেষ বারের মতো দেখার আশা বোধহয় স্বপ্নই রয়ে যাবে,,আয়রা কি আর কখনো এই বাড়িতে আসবে ভেবেই নুবার হাঁপিয়ে যাওয়া দৃষ্টি দুটো দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,,
নুবা দৌড়ে ডাকতে লাগলো আরহামকে তবে নিষ্ঠুর আরহাম থামলো না,,,এক পর্যায়ে নুবা হাঁপিয়ে যেএ হাঁটুতে ভর দিয়ে নিঃশ্বাস ফেলে চলন্ত গাড়ির দিকে তাকালো,,যার কাছে দৌড়ে পৌছানো অসম্ভব
আরহাম গাড়ির বাইরে লাগনো ছোট্ট মিরোর দিয়ে নুবাকে দেখলো,,মেয়েটা হাঁপিয়ে উঠেছে,, আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সামনের দিকে তাকালো,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৫৫
তখনি নুবা গগন ফাটিয়ে নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে “আয়রা” বলে চিৎকার করে উঠলো,আর একবার শেষ চেষ্টা করে দৌড়াতে চাইলো সে তবে দুই কদম এগোতেই মুখ থুবড়ে উঁচুনিচু ধুলোর রাস্তায় পরে গেলো,,,,
নুবার বুক ফাটা নিঃশ্বাসে ধুলো গুলো উড়ে গেলো,,,থেমেও যেনো থামলো না কেউ,,,,যেখান থেকে এসেছিলো যেখানে চলে যাওয়ার জন্য রওনা হলো
