নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬৯
সুরাইয়া জিয়াসমিন
আরহাম উত্তর দিলো না,,,চলে গেলো,,নুবার কেমন কেমন শরীর জ্বলে উঠলো,,,একটু অধিকার বোধো দেখালো না,,, ভালোবাসে না আবার ঢং করে,,নুবার হাত মুঠো বদ্ধ হলো,,এই শান্ত আরহামকে তার একটুও ভালো লাগছে না আগের মতো একটা কথা বললে দুবার কেকিয়ে উঠতো এটাই ভালো ছিলো,,এখন কেমন পানশে পড়ে গেছে তার ব্যক্তিত্ব,,
পরি খাবার প্লেটে সব বেড়ে দিতে দিতে বললো
_ আজকে চিকেন টা আমি করেছি খেএ বলবেন কেমন হয়েছে
আরহাম মাথা ঝুকালো,,নুবা বসে বসে শুধু দেখলো,,,এটা কি স্বাভাবিক যে তার জ্বলন হচ্ছে,,একটা মেয়ে সবসময় আলাদা প্রয়োরেটি চায়,,যা আগে আরহাম নুবাকে দিতো তবে এখন দেয় না এতে জ্বলা কি স্বাভাবিক নয়,,কোনো এক পুরুষ রাতে তার জন্য কান্না করলো সকালে তা ভুলে অন্য বেডির হাতের খাবার খেলো তখন কি খারাপ লাগবে হয়তোবা,,, হয়তোবা ভালো নাই বাসতে পারি তাই বলে এভাবে হঠাৎ গুরুত্ব তার দিক থেকে সরিয়ে অন্য মানুষের দিকে দিলে নিশ্চয় শরীর জ্বলবে,,এখন নুবার ঠিক ওরকম জ্বলছে,,
এদিকে হাজেরা ঘুমাচ্ছে মা নেই তার মানে সে ডানা ওয়ালা পাখি ভেবেই নুবা হাসলো,,পরপর খালি প্লেট রেখে উঠে আরহামের পাশে যেএ বসলো,, এদিকে পরি অন্য তরকারি আনতে গিয়েছে,
আমিনা বেগম পরিস্থিতি বুঝতে পারলেন,,টেবিলে ইশিতা আর আরশি নেই,,,দুপুরের খাবার এখন যে যার মতো খেএ নেয় কারণ আরফ আর হারুন মির্জা থাকে না তাই মাঝে মাঝে রাত আর সকালের খাবার সবাই এক সাথে খায়,,,আমিনা বেগম কিছু একটা বুঝতে পেরলেন,তার জন্য নুবা কিছু করতে পারছে না আরহামের পাশে বসেও,,,তাই তিনি প্লেট নিয়ে উঠে চলে গেলেন
টেবিল যখন পুরো ফাঁকা হয়ে গেলো নুবা সুযোগের সৎ ব্যবহার করলো,এরি অপেক্ষা করছিলো সে যে আমিনার চোখ কখন অন্য দিকে যাবে তাতে সে তো উঠে চলেই গেলো,,যাক ভালোই হলো,,
নুবা আমিনা যেতেই আরহামের বারা খাবারের প্লেট আর চামচ সরিয়ে নিলো,,,পরপর সামনে আর একটা প্লেট দিয়ে নিজে ভাত বেড়ে দিলো,,,
আরহাম আর চোখে নুবার গম্ভীর মুখের দিকে তাকালো,, কিছু বলতে যাবে তার আগেই নুবা বলে উঠলো
_ হাত দিয়ে গিলবেন,, বাঙালি আপনি,,হাত দিয়েই খাবেন,,,
আরহাম কিছু বললো না তবে নুবার দেওয়া প্লেট সরিয়ে আগের প্লেট নিয়ে নিলো,,,নুবার কেমন অসহ্য লাগলো,,নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ সমস্যা কি,,,
আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ তোমার সমস্যা কি,,,এখান থেকে উঠো,,,
নুবার মুখটা চুপসে গেলো,,,তাও সাহস করে আবারো প্লট সরিয়ে নিজের খাবার বারা প্লেট দিয়ে বললো
_ চিকেন নিবেন না,,,আর এই প্লেটেই খাবেন,,,
আরহাম বিরক্তি নিয়ে ভুরু কুঁচকে বললো
_ উঠো তো এখান থেকে,, তোমাকে কে মাতব্বরি করতে বলেছে,,,
আরহাম আবারো ওই প্লেট নিতে গেলে নুবা জেদ ধরে প্লেটে পানি ডেলে দিলো,,,
আরহাম একটু অবাক হয়ে বললো ,,
_ সমস্যা কি,,এটা কিরকম বেয়াদবি,,,
নুবা অস্থির কন্ঠে বললো
_ উত্তর চাই আমার,, উত্তর,,, ভালোবাসেন না তালহে বিয়ের জন্য প্রপোজ করেন করলেন,,আর কালকে রাতে,,,,,,
নুবার কথা শেষ হওয়ার আগেই আরহাম বলে উঠলো
_ just shut up,,এক কথা বারবার বলতে পারবো না,,আর ওই সব মাটি চাপা দিয়েছি আমি,,, এমন কি ক্ষমাও চেয়েছি তাই এটাই ভালো হবে তুমিও ভুলে যাও,,
এমন সময় আগুনে কেরাসিন ডালতে পরি এসে পাশে বসে বললো
_ আম্মু কোথায় গেলো,,
নুবা দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ জাহান্নামে,,,
পরি নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ এ্যাঁ,,,
_ এ্যাঁ না হ্যাঁ,,,
বলেই নুবা উঠে চলে গেলো,,, আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে নুবার দেওয়া প্লেটে হাত দিলো,,পরি চামচ এগিয়ে দিয়ে বললো
_ হাত দিয়ে যে,, চামচ,,,
_ না থাক,,
পরি আশে পাশে তাকিয়ে বললো
_ ওই প্লেটে পানি যে,,
আরহাম এক পলক সেদিকে তাকিয়ে বললো
_ ভুল করে পরে গেছে
পরি মুখ গোল করে “ও” উচ্চারণ করলো,,,
নুবা যে রুমে চলে আসলো তবে আরহাম সেদিনের মতো টেনে টেবিলে আনলো না,,,নুবা চুপচাপ যেএ রুমে বসে রইলো,,এতোটা অসহ্য তো তার আরফের বিয়ের সময়ো লাগেনি,, কষ্ট হয়েছে তবে এবার খাপ ছাড়া অনুভূতি হয়নি,,
ঘন্টা খানিক পর যে যার রুমে চলে গেলো,,নুবা সকাল থেকে কিছু না খাওয়ায় পেটের ভিতরে চু চু করতে লাগলো তার,,,নুবা খাবার খাওয়ার জন্য রুম থেকে বেড় হলো,,,পরপর রান্না ঘড়ে যেএ নিজের প্রয়োজন মতো খাবার প্লেটে বেড়ে ওখানে Kitchen shelf এ বসেই খাওয়া শুরু করলো,,,নুবা খেতে খেতে বিরবির করে বললো,,,
_ যতসব ফালতু মানুষের পাল্লায় পড়ে যাই,, আমার কপালেই এইসব হাওরা জাওরা জুটে,,
নুবা হুদায় বসে বসে বকাবকি করতে করতে খেতে লাগলো,,,পরপর খাওয়া শেষ করে ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা ঠান্ডা পানি বেড় করে খেলো নুবা,,,
খাওয়া দাওয়া শেষ করে নুবা টই টই করতে লাগলো,,পা দুটো সিরি বেয়ে উপড়ে চলে গেলো,, না চাইতেও শরীর টেনে টেনে আরামের দরজার সামনে যেএ দাঁড়ালো নুবা,,,পরপর চোখ ছোটো ছোটো করে কান পাতলো দরজায় সে,, যে ভিতরে কি হচ্ছে,,,
তবে আশ্চর্যজনক ভাবে ভিতর থেকে অদ্ভুত শব্দ ভেসে আসলো,তাও মেয়েদের কন্ঠ,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো এরকম শব্দ আসছে কেনো,,নুবার বুকটা ধুকপুক করে উঠলো,, আশ্চর্যকর একটা বিষয়,,,
কিসের শব্দ হচ্ছে দেখার জন্য নুবা দরজায় কড়া না নেড়েই ঠেলে ভিতরে ঢুকে গেলো,,,
হঠাৎ কারো উপস্থিতে আরহাম ফিরে তাকালো,,,পরিও ছিলো সেও ফিরে তাকালো,,,নুবা সামনে তাকিয়ে দেখলো আরহাম বিছানার এক কোনায় পরি,,
পরি আয়ারার শরীরের উপর হাত দিয়ে নুবার দিকে তাকালো,,,দুই জনের এরকম চাহনিতে নুবা বিব্রত হলো,,
পরি মৃদু কন্ঠে বললো
_ নক করে আসা উচিত ছিলো,,,
নুবা ইতস্তত বোধ করে মাথা নিচু করে দুই কদম পিছনে যেয়ে বললো
_ sorry,,,
পরি শান্ত কন্ঠে বললো
_ কোনো কাজে এসেছিলে,,,
নুবা বলতে চাইলো “না” তবে বিরবির করে বললো
_ আয়রা,,দুপুরে তো আয়ার কিছু খায়নি তাই এসেছিলাম আর কি,,
পরি আয়রার পেটে মুখ দিয়ে sweet শব্দ করে কাতুকুতু দিয়ে বললো
_ আন্টি আসছে,,, খাবেন না,, ক্ষুধা লাগেনি
নুবা বুঝতে পারলো এই কারনে এরকম অদ্ভুত শব্দ আসছিলো আর নুবা কি না ভেবেছে,,,
পরি নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ বসো,,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ না,,,,
পরি আয়রাকে নিয়ে উঠতে উঠতে বললো,,,
_ রুমে আসার কি প্রয়জন ছিলো,,,আয়রার ক্ষুধা লাগলে আমিই তো নিয়ে যেতাম
নুবা এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ সেটাই তো 🙂 আচ্ছা আসি,,,
বলেই নুবা বেড় হয়ে আসলো,,তবে আরহাম কেকিয়ে উঠে নুবা বলে ডাকলো না,,,নুবা দরজা চাপিয়ে দিয়ে চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো,,,
নুবার কেন জেনো ইচ্ছা হলো রুমের ভিতরে যেএ চেঁচিয়ে বলতে
_ আমি রুমে আসবো কি না আসবো তুই বলার কে,, তুই বেড় হ রুম থেকে,,ডাইনি,,,সব জায়গায় মাতব্বরি,,,
তবে আফসোস কোনো কারন ব্যতিত অথবা অধিকারের অভাবে নুবা বলতে পারলো না,,,
নুবা দরজা থেকে সরে দাঁড়ালো,,শুকনো ঢোক গিলে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আশে পাশে তাকিয়ে বিরবির করে কিছু একটা ভাবলো নুবা,,
অতঃপর কেমন ক্ষোপে নিঃশ্বাস ফেললো নুবা আর সুধালো,,
_ বিয়ের আগে রুমের দরজা আটকে কি এঁদের,,
বলেই নুবা আবারো এগিয়ে যেএ ঠেলে দরজা খুলে দিলো,,রাগ হলো তার আরহাম ডাকলো না তাকে যেনো অপমান করলো তাকে,,,,
নুবা আবারো ঠেলে দরজা খুলতেই দুইজনি তার দিকে তাকালো,,,পরি মুখ দিয়ে বিরক্তিকর শব্দ বেড় করে বললো
_ আশ্চর্য,, সমস্যা কি নুবা,,
নুবা পরির দিকে সরু চোখে তাকিয়ে বললো
_ আপনাদের তো এখনো বিয়ে হয়নি মেম,,তাই এভাবে দরজা লাগিয়ে এক সাথে কেমন চক্ষু লজ্জা লাগে তাই না,,,বাড়ির সবাই দেখলে কি ভাববে,, হয়তোবা আপনাদের এক সাথে সময় কাটাতে বলেছে তাই এভাবে দরজা লাগিয়ে,,,,,,
লাস্ট শব্দ মুখ বাঁকিয়ে টেনে বললো নুবা,,পরি উঠে দাড়িয়ে বললো
_ অসহ্য নুবা,,আমরা কি করি না করি তোমার তো দেখার প্রয়োজন নেই তাই না,,,কেউ কিছু বলছে না তোমার সমস্যা কি,,,
নুবা অনেক তেতে উঠে বললো
_ আসলেই তো আমার সমস্যা কি,, আজকাল মানুষকে ভালো কথা বললেও খারাপ ভাবে নেয়,,
পরি মুখ কালো করে বললো
_ তোমার কোনো right নেই কথা বলার,,ছোটো মানুষ, ছোটদের মতো থাকো,,আর ভদ্রতা শিখো বারবার কারো রুমে নক না করে ঢুকা বিরক্তিকর,,
নুবার হাত মুঠো বদ্ধ হলো,, এমন রাগ জেদ উঠলো তার,, ইচ্ছা করলো এগিয়ে যেএ যেই মুখ দিয়ে কথা বলছে তা ভেঙ্গে ফেলতে,,,
তবে নুবা আরহামের দিকে তাকালো,,,আরহাম নুবার দিকে তকালো না,,,,নুবার কাছে মনে হলো তার কোনো যায় আসে না এখানে কি হচ্ছে কে কাকে অপমান করছে না করছে,,,
নুবা তার দিকে চেয়েই রইলো,,,রাগে চোখ দুটো কেমন অদ্ভুত ভাবে ছলছল করে উঠলো,,,নুবা উত্তর না দিতে পেরে দাঁতে দাঁত চিপে কটমট শব্দ করলো,,
পরি মৃদু কন্ঠে বললো
_ উনার দিকে তাকিয়ে আছো কেন,,রুম থেকে বেড় হও,,,
তখনি আরহাম শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো
_ রুম থেকে বেড় হও,,
নুবার শরীর জ্বলে উঠলো তাকে রুম থেকে বেড় হতে বলছে,,,
আরহাম বেশ ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললো
_ রুম থেকে বেড় হতে বলেছি,,,
মুখ দিয়ে রাগে বিরক্তিকর শব্দ উচ্চারণ করে নুবা বাচ্চাদের মতো হাত পা ছুরে হাঁটা দিলো,, ইচ্ছা হলো এখন হাতের সামনে যা পাবে তাই ছুরে মারবে,,তখনি আরহাম গর্জে উঠে বললো
_ তোমাকে আমি রুম থেকে বের হতে বলেছি পরি,,,,
পরি নামটা শুনে নুবার পা থামকে গেলো,,পরি হতভম্ব হয়ে আরহামের দিকে তাকালো,,,,নিজের দিকে আঙ্গুল তুলে ভুরু কুঁচকে বললো
_ আ,,আমি,,,
আরহাম চোখ খুলে পরির দিকে তাকিয়ে বললো
_ তোমাকেই বলেছি,,,যাও,,,,Leave the room right now.,,,
পরি হতবাক হয়ে গেলো আর মিনমিন করে বললো
_ কিন্তু,,,,
_ বেড় হতে বলছি তোকে আমি,,,,
পরি কেমন রাগে হাত মুঠো বদ্ধ করে নিলো,,পরপর নুবার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে চলে গেলো সে,,,
নুবার ছলছল চোখে মিচকে শয়তানের মতো হাসলো,,,মনে হলো কত কিছু অর্জন করে ফেলেছে সে,,,
পরি যেতেই আরহাম শান্ত কন্ঠে বলতে চাইলো
_ তুমিও বেড় হও,,রুমে আসবে না,,,,(তবে বললো না আরহাম বরং শান্ত কন্ঠে সুধালো)
_ Door লক করে এখানে এসে বসো ,,,
নুবা মুখ বাকালো,,,বসবে না সে,,,তাই আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনিই বসে থাকেন আমার বসার ইচ্ছা নেই
বলেই নুবা একটু হাসতে হাসতে রুম থেকে বড়ে হয়ে গেলো,,, আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,এই মেয়ে কি যে চায় সে নিজেও জানে না
রাতের খাবার টেবিলেও অনেকটা ঝড় গেলো বললেই চলে,,,পরি বরাবরের মতোই আরহামের পাতে এ তা তুলে দিচ্ছে তবে নুবা চুপচাপ দেখে যাচ্ছে,,,আর বারবার মুখ বাকাচ্ছে,, আরহাম খেয়াল করেছে তবে তেমন কিছু বলেনি,,,
আরো কিছু দিন এভাবেই কেটে গেলো।
সময়ের স্রোতে বদলে যেতে লাগলো অনেক কিছু।
কখনো হাসি, কখনো নীরবতার মাঝে দিনগুলো পার হতে থাকলো।পুরোনো কষ্টগুলো একটু একটু করে ফিকে হয়ে এলো।তবুও মনের কোথাও কিছু স্মৃতি আগের মতোই রয়ে গেলো,,,
ইদানিং নুবা কেমন খিটখিটে মেজাজের হয়ে গেছে বিশেষ করে আরহামের প্রতি,, তাঁকে দেখলে একটা করে খোঁচা না মারলে যেনো পেটের ভাত হজম হয় না,,,
যেমন কিছু সময় আগের কথা আরহাম শান্ত বাচ্চার মতো লিভিং রুমে বসে টিভি দেখছিলো ,, এদিকে পরি তানিয়াকে কিছু হালকা খাবার তৈরি করতে বলছিলো আরহামের জন্য,,যা দেখে নুবা মুখ বাঁকিয়ে খোঁচা মেরে বিরবির করে বললো
_ আপনার জামাই আপনি বানান না,,,তানিয়া আন্টি কেন বানবে,,
পরি মেজাজ দেখিয়ে বললো
_ তার কাজি তো এটা নুবা
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো
_ হ্যাঁ সেটাই তো,,,তবে নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ালে ভালোবাসা বাড়বে মেম,,
কথাটা আরহমের দিকে তাকিয়ে বললো তবে সে গায়ে মাখলো না,,, আরহাম কথা গুলোর পাত্তা না দেওয়ায় নুবার আরো গলা চুলকে উঠলো কিছু বলার জন্য তবে হাজেরা চলে আসায় চুপ হয়ে গেলো
এদিকে পরি হতভম্ব নুবার আচরন দেখে,, ইদানিং মেয়েটার কেমন মেজাজ দেখায় তার উপর,,তার পিছনে লেগেই থাকে,,সে কিছু করলেই তাতে বা হাত ঢুকায়,, আশ্চর্য,,,,
বিকাল দিকে আয়ারকে নিয়ে বাগানে এসে বসেছে পরি,,,বাগানে অনেক রকমের ফুল ফুটেছে সেই গুলোই হাতিয়ে দেখছে পরি আর মাঝে মাঝে আয়রার সাথে বিরবরি করছে,,
এদিকে মেয়েকে খুঁজতে খুঁজতে আরহামো বাগানে চলে আসলো,,আরহামকে হঠাৎ বাড়ি থেকে বেড় হতে দেখে হিংসুটে নুবাও পিছন পিছন আসলো,,,
আরহাম এগিয়ে যেএ আয়রাকে পরির কোলে দেখে মৃদু হেসে বললো
_ তুমি নিয়ে আসছো আর আমি কোথায় কোথায় না খুঁজছি,
পরি নিজের হাতের থেকে নজর সরিয়ে আরহামের দিকে তাকালো,,,পরির ব্যথাতুর মুখশ্রী দেখে আরহাম এগিয়ে এসে বললো
_ হাতে কি হয়েছে
পরি কাতর কন্ঠে বললো
_ গাছে হাত দিয়েছিলাম,,কি একটা লেগে হাত কেটে গেলো,,,
আরহাম এগিয়ে যেএ বললো
_ দেখি,,,
বলেই পরির হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিলো,,পরি অন্য হাত দিয়ে আয়রাকে জরিয়ে ধরে রাখলো,,,,পরপর আরহাম খেয়াল করলো বেশ খানিক কেটেছে,,, রক্ত বেড় হচ্ছে,, আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ ভিতরে চলো,, অনেকটা কেটেছে,,ক্লিন করে ওষুধ দিলে ঠিক হয়ে যাবে,,
পরি মাথা ঝুকালো,,, এদিকে নুবা তাদের পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলো,,,দুইজনি খেলায় করলো বিষয়টা তবে স্বাভাবিক ভাবেই নিলো,,, আরহাম পরিকে নিয়ে ভিতরে চলে গেলো,,,নুবার দিকে ধ্যান না দেওয়ায় নুবা একটু ক্ষুন্ন হলো,, অতঃপর তাদের পিছন পিছন গেলো,,,
আরহাম পরিকে নিজের রুমে নিয়ে গেলো,,,নুবাও তাদের পিছনে ছিলো,,তাদের সাথে নুবা রুমে প্রবেশ করতে নিলো কিছুটা হাবার মতো,,, কিন্তু আশ্চর্য জনক ভাবে আরহাম নুবাকে দেখেও দেখলো না তার মুখের উপর ঠাস করে বিশাল দরজাটা লাগিয়ে দিলো,,,নুবা মৃদু কেঁপে উঠলো,,তবে ওখান থেকে যে সরে যাবে সেই জ্ঞান টুকু হলো না,,,ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো,,
কিছু সময় পর ভিতর থেকে কাতর শব্দ ভেসে আসলো,,
_ আসতে,,,জ্বলছে,,
আরহাম পরিকে মৃদু কন্ঠে বললো
_ একটু জলবেই সহ্য করে নেও,
_ ব্যথা লাগছে,, আস্তে,,
আরহাম পরির ক্ষত স্থান পরিষ্কার করতে করতে বললো
_ হুম ,,,কাটলো কি করে,, খেয়াল রাখতে পারো না,,,
পরি মৃদু কন্ঠে বললো
_বুঝতে পারিনি,,,
মিনিট খানিক পর পরির হাতে ছোট্ট করে অন time টেপ লাগিয়ে দিয়ে আরহাম এসে দরজা খুলে দিলো,,তবে আশ্চর্য হলো সে,,, কারণ নুবা এখনো ওভাবে দাঁড়িয়ে আছে,,, আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ সং সেজে দাঁড়িয়ে আছো কেন,, সামনে থেকে সরো,,
নুবা কেমন করে যেনো আরহামের দিকে তাকালো তার পর এক হাত ঝাড়া দিলো যেনো রাগে পরপর গটগট করে চলে গেলো,, আরহাম চেয়ে রইলো তবে থামালো না,,,
নুবা বাগানের দোলনায় বসে বসে নিজেকে বুঝাতে লাগলো,,,যা হয়েছে ভুলে যাওয়াই উত্তম,,সে এখন তার হবু বউকে নিয়ে ব্যস্ত,,,আর এমনিতেও নুবা রিজেক্ট করে দিয়েছো তাই এই সব একদমি যথার্থ না,,,
নুবা হাতে গাছের পাতা নিয়ে ছিরতে লাগলো আর নিজেকে বুঝাতে লাগলো,,, একটা পর্যায়ে বসে থাকতে থাকতে সন্ধা হয়ে আহলো,,কানে আযান ভেসে আসলো নুবার,,,নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,
আযান শেষ হলে নুবা উঠে বাড়ির ভিতরে চলে আসলো,,,২/৩ দিন পর মোবাইল আনতে যাওয়ার কথা ছিলো তবে এখনো যাওয়া হয়নি,, মোবাইল টা তার দরকার,,যেই ভাবা সেই কাজ,,,নুবা যেএ ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিলো,,,
হাজেরা রুমে এসে মেয়েকে রেডি হতে দেখে সুধালো
_ কোথায় যাচ্ছিস,
_ মোবাইল আনতে
হাজেরা ভুরু কুঁচকে বললো
_ তাই বলে এখন,,একটু পর রাত হয়ে যাবে
নুবা একটু রেগে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ মা আমি বাচ্চা না,,, যথেষ্ট বড়ো হয়েছি,,, আমারো কিছু স্বাধীনতা আছে,,,
হাজেরা হতভম্ব হয়ে বললো
_ তুই আমার সাথে কেমন করে কথা বলছিস নুবাইরা,,
নুবা কপাল কুঁচকে বললো
_ আমাকে আমার মতো চলতে দেও,,, তোমার মতে চলবো না আমি,,
হাজেরা মেয়ের কথায় বেশ কষ্ট পেয়ে ছলছল চোখে তার দিকে তাকিয়ে বললো
_আমার কি কোনো অধিকার নেই নাকি,,,কি হয়েছে তোর,,, ইদানিং সবসময় ডাবিয়ে রাখিস আমাকে কিছু বললেও শুনিস না,,,আবার চেঁচিয়ে কথা বলিছস,,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ সবসময় সব কিছু ভালো লাগে না মা,, আসছি,, তাড়াতাড়ি ফিরবো,,,
হাজেরা তাও মেয়েকে আটেক বললো
_ কালকে যাবি,,এখন ঘড়ে বস,,,
নুবা এবার শান্ত কন্ঠে বললো
_ যাবো আর আসবো,,,অনেক দিন হয়ে গেছে,,, চিন্তা করো না,,,
বলেই নুবা বাসা থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,
নুবা রাস্তার পাশে চেয়ারে বসে আছে,, মোবাইল হাতে পেয়েছে সে,,,তবে কখনোই এরকম রাতে বেড় হয়নি ,,, আশেপাশে পাশে মানুষ দিয়ে ভরা,, রাস্তায় লাল নীল বাতি জ্বলছে,,,জোরায় জোরায় সবাই ঘুরছে,,নুবা এসে বসেছে একটা ফাস্ট ফুডের দোকানের সামনে,,এক প্লেট ভেলপুরি অর্ডার দিয়েছে সে,,,
মিনিট খানিক পর নুবা তার খাবার পেয়ে গেলো,,,নুবা একটু হেঁসে একটা ভেলপুরি মুখে ভরলো,,,আজ নিজেকে কেমন স্বাধীন স্বাধীন মনে হচ্ছে,,,মনে হচ্ছে সে অনেক বড় হয়ে গেছে ঠিক তাদের মতো যারা নিজের ইচ্ছা মতো ঘুরে কোনো বাঁধা নেই,,
নুবা খেতে খেতে আশে পাশে তাকালো সবাই কিভাবে জোর হয়ে বসে আছে,নুবার অতীতের কথা মনে পড়ে গেলো,,, কিশোরী বয়সে আরফের সাথে দিনে দুপুরে এরকম সেও ঘুরেছে,,, স্কুল ফাঁকি দিয়ে তার সাথে এখানে ওখানে গিয়েছে,,,ভেবেই নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো ,,
রাস্তার নীল-লাল আলোয় ভিজে আছে চারপাশ।
এক কোণে ছোট্ট কিছু বাচ্চা বস্তা কাঁধে নিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।ময়লা শার্ট, এলোমেলো চুল আর ক্লান্ত চোখে যেন লুকিয়ে আছে হাজার গল্প।শহরের ব্যস্ততার মাঝেও তাদের সরল মুখটা অদ্ভুত এক মায়া ছড়াচ্ছে।
আলো-আঁধারির মাঝে তাদের দেখে মনে হয়, ছোট্ট জীবনটাও কত বড় স্বপ্ন বয়ে নিয়ে চলছে।নীরব দাঁড়িয়ে থাকা সেই শিশুগুলো দৃশ্য অজান্তেই মন ছুঁয়ে যায়,,,
নুবা দিকে এক পলক তাকিয়ে দেখলো বাচ্চা গুলো তার দিকেই তাকিয়ে আছে,,নুবার এতো মায়া হলো,,,এদের বয়স কত হবে ৮/৯ অতঃপর ১১/১২,,,
নুবা কিছু সময় তাদের দিকে তাকিয়ে থেকে হাতের ইশারায় ডাকলো,,, ওখানে ৩ জন ছিলো,,৩ জনি ছুটে আসলো,,নুবা মুচকি হেসে বললো
_ কিছু খাবে,,
তিন জিনি মাথা নাড়ালো,,নুবা তিন প্লেট ভেলপুরি দিতে বললো,,পরর তাদের দিকে তাকিয়ে পাশে চেয়ার টেনে দিয়ে বললো
_ বসো,,,,
তিন জনেই এক গাল হেসে বসলো,,,নুবা আশে পাশে তাকালো,, মানুষ গুলো এতোই ব্যস্ত যে কারো চোখেই পড়ছে না এই বাচ্চা গুলোকে তবে পড়তেও পারে কিন্তু প্রতিদিন কি আর পড়েব,,
নুবা ভেলপুরির প্লেট থেকে তিন জনকে তিনটা ভেলপুরি দিয়ে বললো
_ না কি তোমাদের,,,,
ছেলে তিনটা হেসে হেসে নাম বললো,,নুবা ওদের বিনা কারনে হাসতে দেখে নিজেও হাসলো,,এর ভিতরে কোথা থেকে আরো দুইজন বাচ্চা চলে আসলো,,,এসে নুবার দিকে তাকালো,,ওই তিন জনের ভিতরে একজন দাঁড়িয়ে থাকা দুটো বাচ্চাকে হেঁসে হেসে বললো
_ আফা আমগোরে খাওয়াইবো,,
ছেলে দুটো একটু হেসে নুবার দিকে তাকালো,নুবা তাদের মুখ ভঙ্গি বুঝতে পেরে বললো
_ তোমরাও এসে বসো,,
ছেলে দুটো খুশি হয়ে গেলো তার ভিতরে একজন বলে উঠলো
_ আফা আমার দুইডা বন্ধু আছে,,,ওরা হেনের ভেলপুরি অনেক পছন্দ করে,,ওগোরে খাওয়াইবা,,
নুবা ওদের কথা শুনে সন্তুষ্ট হলো,,,কতটা নিষ্পাপ তারা,,,নিজেদের বন্ধুর কথা ভুলেনি,,নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
_ আচ্ছা,,,তাহলে তো খাওয়াতেই হয়,,যাও নিয়ে আসো তবে তাড়াতাড়ি,,
ছেলেটা প্রচন্ড খুশি হয়ে দৌড়ে চলে গেলো,,
নুবা দাঁড়িয়ে আছে,,এখানে মোটা ৮ টা চেয়ার সাজানো আছে আর ৮ টা চেয়ারেই ৮ জন ছোট্ট খুদে রাজা বসে আছে,,ওই ছেলেটা যেএ আরো তিন জনকে ডেকে এনেছে,,তবে এতে নুবার সমস্যা হয়নি বরং খুশি হয়েছে কারণ সে টাকা নিয়ে এসেছে সাথে করে,,, আরহামের দেওয়া টাকা ওখান থেকে এক বান্ডিল,,মিনিমাম ১ লাক্ষ আছে ওখানে,,ভাবতেই অবাক লাগে তার,,তার মতো ফকির ১ লাক্ষ নিয়ে ঘুরছে,, আশ্চর্য ব্যাপার সেপার,,,
নুবা বাচ্চাগুলোকে এক প্লেট ভেলপুরি আর পাস্তা খাওয়ালো,,, অতঃপর জিগ্গেস করলো
_ কেউ আর কিছু খাবে,,
তাদের ভিতরে কয় একজন বলে উঠলো
_ আফা ওই পাশে না অনেক সুন্দর একটা রেস্টুরেন্টে হিছে হনে কাচ্চি বেঁচে,, আমার না দেইখা এতো খাইতে মনে চায়,,এতো সুন্দর ঘ্রান,,আহারে,,কি হুন্দর (সুন্দর)
তাদের বলার ভঙ্গি দেখে নুবা খিলখিল করে হেসে উঠে বললো
_ তাহলে তো খাওয়াতেই হয়,,,তাহলে চলো,, আজকে যা খেতে চাইবে তাই খাওয়াবো,,,
রেস্টুরেন্টেটা নতুন তবে অনেক বড় আর সুন্দর,, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে নুবাকে ডুকতে দিতে চাইলেও এই বাচ্চাদের দিতে চাইছে না,,যা দেখে নুবার প্রচন্ড রাগ উঠে গেলো,নুবা খেকিয়ে উঠে বললো
_ সমস্যা কি,,ভিতরে আসতে দিচ্ছেন না কেন,,
_ দেখুন মেম,,এই রেস্টুরেন্টে ওদের জন্য না এখানে ভিআইপি মানুষ আসে,,,
নুবা রাগি চোখে লোকটার দিকে তাকিয়ে বললো
_আমি ওদের বিল দিবো আসতে দিন
_ sorry মেম,,ওদের ডুকালে বাকি কাস্টমারের উপর প্রভাব পড়বে,,,বোঝার চেষ্টা করুন এই অবস্থায় ঢুকানো যাবে না,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আচ্ছা,,তাহলে আমরা ভিআইপি ভাবেই আসবো,,,চলো বাচ্চারা,,
বলেই নুবা সবাইকে নিয়ে একটা মলে ডুকে গেলো,,,ওখান থেকে সবার প্রয়জন আর সাইজ মোতাবেক জুতা শার্ট পেন্ট কিনলো,,,সবাই মিলে অনেক আনন্দ করলো,,, বাচ্চা গুলো তো নতুন ড্রেস পেয়ে প্রচন্ড খুশি,,,,
সব কেনা কাটা শেষে বিল আসলো ৩০ হাজার+
নুবা বিল মিটিয়ে সব কয়টাকে নিয়ে বাইরে আসলো,,,পরপর একজনকে জিগ্গেস করলো
_ এখানে কোনো পানির কল আছে বাবু,,
ছেলেটা বাম দিকে ইশারা করে বললো
_ ওই দিকে আছে আফা,,
_ তাহলে চলো,,
নুবা সবকয়টাকে নিয়ে যেএ টিউবওয়েল থেকে সব কয়টিকে গোসল করালো,, যেহেতু সবাই ছোটো ছোটো তাই বেশি লজ্জাজনক পরিস্থিতি হলো না,,,নুবা ৩/৪ টা গামজা,, শ্যাম্পু প্রয়জনীয় জিনিস এনেছিলো এমন কি পারফিউম ও,, আজকে সবকয়টাকে ভিআইপি করে তবে ওই রেস্টুরেন্টে ঢুকবে,,আসলে ভিআইপি মানে তারা বুঝে সুন্দর জামা কাপড় পড়া আর পকেটে টাকা,,
নুবা এই রাত করে সব কয়টাকে সাফ সুতরা করে ফেললো,, বাচ্চা গুলোর মাথা মুছে দেওয়ার সময় কিছু বাচ্চা খিলখিল করে হাসছিলো,,, এদিকে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার কিছু মানুষ আবার তাকিয়ে আছে কেউ প্রশংসা করছে কেউ আবার নাক ছিটকে নিন্দা করছে,,,
নুবা সবকয়টাকে গুছিয়ে পারফিউম মেরে একজন চকচক করে দিলো,,সবার চুল গুলো হাত দিয়ে ঠিক করে দিলো,,পরপর বললো
_ তোমাদের বস্তা গুলো এখানেই থাক যাওয়ার সময় নিয়ে যেএ,,,
সব বাচ্চারা খুশি হয়ে হ্যাঁ বললো
এবার খুব ভাব নিয়েই এন্টি নিলো নুবারা,,,এবার আর আটকাতে পারলো না সেই লোক,,,
রেস্টুরেন্টের ভিতরে যেতেই সবাই তাদের দিকে তাকালো,,,একটু অবাক হলো এতো গুলো বাচ্চা নিয়ে ডুকায়,,২ টেবিল তারাই বুক করে নিলো,,পরপর নুবা বলে উঠলো,
_ আমি খাবের নাম বলছি যার যেটা ভালো লাগবে হাত তুলবে,,,
ওয়েটার এসে দাঁড়ালো,,নুবা খাবারের নাম বলতে লাগলো তবে বিদায় এই সব খাবের নাম না শুনা বাচ্চারা বুঝতে পারলো না তাই নুবা তাদের পটি পটি করে বুঝিয়ে দিলো যে এগুলো কি,,,বা কেমন খাবার,,,
সবাই সবার মন মতো হ্যাঁ হু করে অর্ডার দিলো,,,,
নুবা নীরবে তাকিয়ে আছে ছোট্ট বাচ্চাগুলোর দিকে।
তাদের মুখে হাসি, চোখে আনন্দ—সামান্য খাবার পেয়েই যেন পৃথিবীর সব সুখ খুঁজে পেয়েছে তারা।
কেউ হাসতে হাসতে খাচ্ছে, কেউ আবার যত্ন করে খাবারটা ধরে রেখেছে।এই ছোট্ট ছোট্ট মুহূর্তগুলো দেখে নুবার মনটা অদ্ভুত এক শান্তিতে ভরে উঠলো।
সে ভাবলো, সুখ আসলে বড় কিছুতে নয়, ছোট ছোট পাওয়ার মাঝেও লুকিয়ে থাকে।বাচ্চাদের নিষ্পাপ হাসি নুবার চোখে এক অন্যরকম মায়া এনে দিল,,,
এক পর্যায়ে সবার খাওয়া শেষ হলো,,,কেউ কেউ আবার বেঁচে যাওয়া খাবার পেক করে নিলো,,,পরপর নুবা বিল দেখে একটু আশ্চর্য হলো,,,১৫ হাজার+ এখানে খাবের দাম এতো বেশি,,নুবা তাও বাকি ৫ হাজার টাকা দিয়ে ভালো ভালো খাবার সবার জন্য পেক করে দিলো,,
সবাই এক সাথে হাঁটছে তখন নুবার হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললো
_ শুনো বাচ্চারা ১০ টা বেজে গেছে,, আমার আম্মা টেনশন করছে মনে হয়, আমার যেতে হবে
নুবার চলে যাওয়ার কথা শুনে বাচ্চাগুলোর মুখের হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।যে মুখগুলো একটু আগেও আনন্দে ঝলমল করছিল, সেখানে নেমে এলো নীরবতা।ছোট ছোট চোখে যেন জমে উঠলো অভিমান আর কষ্ট।তারা চুপচাপ তাকিয়ে রইলো নুবার দিকে, যেন যেতে না দিতে চায়।নুবার বুকের ভেতরেও কেমন একটা শূন্যতা অনুভব হলো।
এই নিষ্পাপ মুখগুলোর মায়া ছেড়ে চলে যাওয়া তার জন্যও কঠিন হয়ে পড়লো,,নুবা পিছনে ঘুরে হাঁটু গেড়ে সবার সামনে বসে বললো
_ আমি কালকে আবার আসবো,,তোমরা চাইলে আরো বন্ধু ডেকে নিবা ওকে,,
বাচ্চা গুলো বেশ খুশি হয়ে গেলো,,নুবা দুই হাত প্রসারিত করে সবাইকে জরিয়ে ধরার চেষ্টা করলো তবে ব্যর্থ হলো সে,,তবু সবাইকে আগলে নিলো,,,সবার গাল টেনে বললো
_ কালকে সকালে আসো ওকে,,
নুবার কথায় সব গুলো বাচ্চা বলে উঠলো
_ আফা রাতে আইসেন,,দিনে আমরা কাজ করি,,,
বাচ্চাগুলোর কথা শুনে নুবার বুক ভেঙ্গে আসলো,,এই ছোট্ট মুখে কাজ করি শব্দ টা কতটা ভারি শুনাচ্ছে,,,নুবা এক গাল হেসে বললো,,
_ আচ্ছা আসবো,,কালকে অনেক কিছু কিনে দিবো,,,এখানেই অপেক্ষা করবে,,আমি সন্ধায় আসতে পারি,, অপেক্ষা করবে ওকে,,,
হাজেরার হাঁসফাঁস বেড়ছে,,, শান্তি মতো বসতে পারছে না হাজেরা,,,একবার ওদিক ওদিক করছে,,,
এমন সময় আমিনা বেগম বলে উঠলো
_ খেতে বসো হাজেরা আর নুবা কোথায়,,
হাজেরা একবার লিভিং রুমের দিকে তাকালো,,আবার এগিয়ে গেলো,,, আরহাম এসে চেয়ার টেনে খাবার টেবিলে বসলো,,,
হাজেরাকে এরকম হাঁসফাঁস করতে দেখে আমিনা বেগম এগিয়ে এসে বললো
_ কি হয়েছে,,,
হাজেরা অস্থির কন্ঠে বললো
_ মেয়েটা সেই সন্ধায় মোবাইলের দোকানে গেছে,,রাত ১০ টা বাজে এখনো এলো না,,,আমি বারবার যেতে না করলাম,,,
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো
_ রাত করে একা বেড়োতে দিয়েছো কেন,,
_ আমি না করেছি আপা,,একটা কথাও শুনে না আমার,,,এতো সময় লাগছে কেন,,,বারবার যেতে না করলাম,,
আমিনা বেগম কি বলবে বুঝতে পারলো না,,,
_ চিন্তা করো না চলে আসবে,,,খেএ নেও,,
হাজেরা মাথা ঝুলিয়ে না করলো,,,আমিনা বেগম বললো
_ আচ্ছা দাঁড়াও আরশির বাবাকে বলছি,,
বলেই আমিনা বেগম এগিয়ে গেলেন,, হারুন মির্জা স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন
_ কি হয়েছে,,
আমিনা বেগম অশান্ত কন্ঠে বললেন
_ সেই সন্ধায় নাকি নুবা মোবাইল আনতে বেড় হয়েছিলো তবে এখনো আসেনি,,এই নিয়ে হাজেরা কান্না কাটি করছে,,
হারুন মির্জা সহ সবাই অবাক হলো,, হারুন মির্জা মৃদু কন্ঠে বললো
_ রাত করে বেড় হতে দিলো কেনো
_ নুবা নাকি কোনো কথাই শুনেনি,,,
হারুন মির্জা খাবার রেখে উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ আমি দেখছি,,,
আরহমের ভুরুটা কুঁচকে গেলো,,দিনদিন সাহস বাড়ছে,,রাত করে বেড় হয়ে গেছে,, আরহাম উঠে দাঁড়ালো,,,,,সবাই যেতে নিলে আরফ বলে উঠলো
_ মা অন্ততপক্ষে তরকারিটা তো দিয়ে যাও,,,কয়রদিন পর রপ যত সব নাটক,,,
নুবার রিকশা এসে রাস্তায় থামলো আর হারুন মির্জাও গাড়ি নিয়ে বেড় হলো,,,নুবা সেদিকে এক পলক তাকিয়ে ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে বাড়ির দিকে এগিয়ে গেলো,,তখনি ভুরু কুঁচকে উঠলো তার কারণ সবাই এদিকে এগিয়ে আসছে,,,
নুবা এগিয়ে যেএ দেখলো পরি,, আরহাম,,,আরশি ইশিতা হাজেরা,, এমন কি আমিনা বেগম,,সবাই জোট বেঁধে বেড় হয়েছে,,
নুবা সামনে এগিয়ে যেএ থামলো,,বুঝতে পারলো না এরা কোথায় যাচ্ছে,,
আমিনা বেগম নুবাকে সহিসালামত দেখে বললো
_ যাক,,এসে পড়েছে,,,আরশি তোর বাপেকে যেএ কল দিয়ে বল চলে আসছে,,,বারা ভাত রেখে গেলো কি একটা জ্বালা,
বলেই আমি আমিনা বেগম আর আরশি চলে গেলো,,,
ইশিতাও পিছন পিছন গেলো,,পরি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে পিছনে ঘুরলো, হাজেরা কিছু বলতেই যাবে তাই আগেই,, আরহাম এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে ভারি কন্ঠে বললো
_ রাত করে কোথায় ছিলে তুমি,, তোমার মা কতটা চিন্তিত হয়ে পড়েছিলো তুমি জানো,,,
নুবান নিজের মায়ের দিকে এগিয়ে যেএ কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_ সেটা আমার মায়ের সাথে আমি বুঝে নিবো,, আপনার মাতব্বরি করতে হবে না
বলেই নুবা নিজের মায়ের দিকে এগিয়ে যেএ তার হাত ধরে বাড়ির ভিতরে যেতে যেতে বললো
_ সব বলছি মা,, চিন্তার কিছু নেই,,
আরহামের দাঁতে দাঁত চেপে আসলো,,, আস্ত একটা বেয়াদব মেয়েটা,,,
নুবা রুমে যেএ চেন্জ করে হাজেরাকে সব খুলে বললো তবে হাজেরা তো কাঁদতেই আছে সে তো প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেছিলো,,,নুবা মায়ের কান্না দেখে জরিয়ে ধরে বললো
_ আমি ঠিক আছি আম্মু,,এবার কান্না অফ করো,,
রাতটা কোনো মতে কেটে গেলো,,, সারাদিন আর কোনো খোঁজ রইলো না নুবার সন্ধ্যা হতেই নুবা হাজেরার থেকে বাইরে যাওয়ার পারমিশন নিলো ততে হাজেরা না করলো যেতে কিন্তু নুবা বললো
_ এই সামনে যাবো আর আসবো,,
মাকে অনেক বুঝিয়ে রেখে নুবা চলে গেল,,এভাবেই কিছু দিন কেটে গেলো,,দিনের বেলা নুবা রুমের এক কোনায় পড়ে থাকতো রাত হলে বাইরে চলে যেতো অতঃপর ১০ টার দিকে ফিরতো,,
আরহাম খেলায় করে সবি কিন্তু তার আফসোস হয় যে হাজেরা তার মেয়েকে এভাবে ছেড়ে দিচ্ছে কেন,,,
এদিকে নুবা আরহামের দেওয়া টাকা গুলো বাচ্চা গুলোর পিছনেই খরচ করতে লাগলো,,কখনো ঘড়ের বাজার করে দেয়,,কখনো যা খেতে চায় কিনে দেয়,,জামা কাপড় কিনে দেয়,,আবার মাঝে মাঝে অনেক বেশি মানুষ নিয়ে আসে তারা,,সব বাচ্চাই তাদেরো কিনে কেটে দেয়,, বিশেষ করে সে এই টাকা গুলো খরচ করতেই ওখানে যাচ্ছে,,
নুবা সন্ধায় রেডি হচ্ছে,,,আজ তৌসিফের সাথে যেএ দেখা করবে সে,, কারণ মোবাইলে কথা হয়েছে তার,, তৌসিফ বলেছে আসবে,,সে না করেনি কারণ নুবার খুব ভালো বন্ধু হতে পারে,,তার উপর নুবা ছোটো থেকে তাকে চিনে তাই বিশ্বাস করে তাকে,,,
নুবা আজ একটু তাড়াতাড়ি রেডি হলো,,পরপর লিভিং রুম পার করতেই কানে ভেসে আসলো মাগরিবের আজান,,,হাজেরা বেগম পিছন থেকে ডেকে উঠলো
_ আযান শেষ হোক,,আধ ঘন্টা পড় বের হ,,,
নুবা মাথা ঝুকালো,,, অতঃপর যেএ লিভিং রুমে বসলো,,
হাজেরা অনুমতি দেয় কারণ মেয়েকে এতো ঘড় বন্দি করতে চায় না সে যাচ্ছে যাক,,ভালো কাজি করছে,,তবে একটু চিন্তা হয় তার কিন্তু এই বেশি দূরে না হওয়ায় চিন্তা কম হয়,,,
নুবা মোবাইল বের করে তৌসিফের মেসেজ গুলো দেখে নিলো,,,সে বলেছে আযানের পরপর আসবে,,নুবা মুচকি হাসলো,,
নুবার ভাবনার ভিতরে আরহাম এসে পাশে বসলো নুবা আর চোখে সেদিকে তাকিয়ে আবার নিজের কাজে মন দিলো,,,এখান দিয়ে পরি আবার আয়ারকে নিয়ে ঘুরঘুর করছে,,,
আরহাম আর চোখে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ ইদানিং রাতে আয়ারকে ফিড করাও না,,মেয়েটা আমার ক্ষুধায় কান্না করে,,
নুবা কাঠকাঠ কন্ঠে বললো
_ তাতে আমি কি করবো,, আপনার বউ আছে তাকে বলুন,, আমি তো আগেই বলেছি এই সব ঝামেলা ভালো লাগে না,,,
আরহাম চেয়ে রইলো নুবার দিকে কথা ঘুরিয়ে বললো
_ ইদানিং রাতে কোথায় যাও,,,
নুবা ত্যারা উত্তর দিয়ে বললো
_ আপনার জেনে তো কাজ নেই,,,
আরহাম হাত মুঠো বদ্ধ করে বললো
_ বেশি উড়ছো না তুমি,,
নুবা দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ আমি উড়ি,,ভাসি,,,আর যাই করি না কেন তাতে আপনার কি,,,
বলেই নুবা ব্যাগ নিয়ে উঠে দাঁড়ালো,,,
সন্ধা পেরিয়ে রাত হলো,,, নুবা আর তৌসিফ বাচ্চা গুলোর সাথে বসে আছে,,, খোশগল্প করছে তারা,,নুবার এতো ভালো লাগছে মনে হচ্ছে এর থেকে সুখ আর নেই,,,
এদিকে দুটো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নুবাকে ঘিরে রয়েছে যেনো জ্বলে যাচ্ছে চোখ দুটো,,,
রাত ঠিক ১০ টা তখন নুবাকে রিকশায় উঠিয়ে দিয়ে তৌসিফ অন্য রিকশায় চলে গেলো কারণ নুবাই না করেছে,,, তৌসিফ চেয়েছিলো নুবাকে বাড়িতে ছাড়তে তবে কেউ দেখলে সন্দেহ করবে তার উপর তার মা তাকে বিশ্বাস করে এই রাতে বেড় হতে দিয়েছে ,, একবার বিশ্বাস ভেঙ্গে গেলে আর জুরা লাগবে না তাই সে এমন কিছু করতে চায় না,,
এদিকে রিকশায় উঠতে হাজেরা কল দিলো,,নুবা কল ধরে শুধু বললো
_ আসছি,,,
কিছু দূর রিকশা এগিয়ে যেতেই হঠাৎ পাশ থেকে একটা গাড়ি এসে ওভারটেকিং করলো ,,,পরপর একদম রিকশার সামনে এসে থামলো,, হঠাৎ রিকশা ব্রেক করায় নুবা পরতে পরতে বেচে গেলো,,নুবা বুকে হাত দিয়ে সামনের দিকে তাকালো,,
তখনি আরহাম গাড়ির ডোর প্রায় ভেঙ্গে ফেলার মতো করে বেড় হয়ে আসলো,,আরহামকে দেখে নুবার ভুরু কুঁচকে আসলো,,,এই লোকটা এখানে কি করছে,,,
আরহাম ধুপধাপ পা ফেলে এগিয়ে আসলো,,নুবা একটু ভয় পেয়ে শুকনো ঢোক গিললো,,ভরা রাস্তায় না মেরে বসে,,রিকশা চালাক রিকশা থেকে নেমে বলে উঠলো
_ বলদ নাকি,,,এখনি একটা এক্সিডেন্ট হইতো
আরহাম পাত্তা দিলো না,,,তেরে আসলো নুবার দিকে,,নুবা চোখ বড় বড় করে তাকালো,, আরহাম কেমন অদ্ভুত কন্ঠে বললো
_ রিকশা থেকে নাম,,,
আরহমের কন্ঠ শান্ত তবে ভয়ানক ,, কেমন ঝড় আসার আগের নীরবতা,,,নুবা একটু ত্যারামি করে বললো
_নামবো না,,,মামা আপনি রিকশা টান দেন তো,,,
আরহাম নুবার হাত ধরে আসলো নুবা আঁতকে উঠলো,,, কম্পিত কন্ঠে বললো
_কি কি করছেন পড়ে যাবো তো,,
রিকশা চালক তেরে এসে বললেন
_ কেডা তুমি,, এমন করো কেন,,
আরহাম টেনে নুবাকে রিকশার থেকে নামালো,,নুবা হাঁসফাঁস করে উঠলো,, অনেকেই তাকিয়ে আছে তাদের দিকে,,নুবা আরহমের আগের মতো ব্যবহার করে একটু চুপসে গেলো ভয়ে রিকশা চালকের দিকে তাকিয়ে বললো
_ মামা আমি এই লোকটাকে চিনি না,,জানি না কোন পাগল,,,আমি,,,,,
আর কিছু বলার আগেই আরহাম নুবাকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো,,
নুবা ছটফট করে বললো
_ ছাড়ুন সবাই দেখছে,,কি ভাবছে,,,
ভাগ্য যেনো বরাবরই একটু কঠিন,,দূরে দাঁড়িয়ে ছিলো ২/৩ জন পুলিশ হঠাৎ এরকম ঝামেলা দেখে তারা এগিয়ে আসলো,,,
এসেই আরহামের সামনে দাঁড়িয়ে বললো
_ রাস্তা ঘাটে হচ্ছে কি,,,
আরহাম এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ she is my personal property. Move away from the front. ,,,
পুলিশ রেগে বললো
_ একে তো রাস্তা ঘাটে বেয়াদবি করিস তার উপর ইংরেজি ঝাড়িছ,,,এই মেয়ে এটা তোমার কি লাগে,,,
নুবা কি বলবে দিশা পেলো না,,আশে পাশের মানুষ আর পুলিশ সাথে আরহমের লাগাম ছাড়া ব্যবহার দেখা নুবা বেশ ভয় পেয়ে বললো
_ আমি,,আমি চিনি না,,, আমাকে জোর করে নিয়ে যাচ্ছে,,,
আরহাম নুবার কথা শুনে তার দিকে ফিরে তাকালো,,আপনা আপনি যেনো হাতটা আলগা হয়ে আসলো তার,,, অবিশ্বাস লাগলো তার কাছে,,নুবা তাকে চিনে না,,এতো সহজে অপরিচিত বলে দিলো
পুলিশ যেনো সুযোগ পেলো,,,আরহামের অন্যমনস্ক থাকাকালীন তার মুখে ঠাস করে একটা থাপ্পর মেরে কলার চেপে ধরে বললো
_ গুন্ডামি করো,,,ওরোইজ্জা ,,,ওরে ধর,, আজকে ১০১ টা মামালা দিয়ে ওকে জেলে পুড়বো,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো এ কি করলো সে,, ঝামেলা আরো বাড়িয়ে দিলো,দুই হাত মুখে চেপে ধরলো,, আরহাম শুধু নুবার দিকে তাকিয়ে রইলো,,,,সুযোগ পেয়ে পাশের জন হাতে থাকা লাঠি দিয়ে একটা বারি বসিয়ে দিলো আর বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৬৮
_ বড় বড় গাড়ি নিয়ে এসে গুন্ডামি ছুটাবো,,, এমন মারা মারবো না,,,
পরপর নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_আপনি বাসায় যান,,বাকিটা আমরা দেখে নিবো,,
বলেই আরহামকে টেনে হিচরে নিয়ে যেতে লাগলো,,,তার মুখে কোনো কথা নেই,, শুধু শক্ত চোখে নুবার দিকে তাকিয়ে আছে,,,নুবা আঁতকে উঠলো,,, আরহাম বাড়ি ফিরলে তার শেষ দিন হবে,,,
