নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭১
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_ আমার প্রথম kiss ছিলো,,আমি আমার husband এর জন্য বাঁচিয়ে রেখেছিলাম 😭
আরহাম মনে মনে হালসো,এটা নাকি তার first ছিলো সে তো জানেই না অনেক আগেই এটা আরহাম চুরি করেছে,,,তবে আফসোস হলো মেয়েটার কারণ ব্যতিত কষ্ট দেখে,,কত কষ্ট করেই না বাঁচিয়ে রেখেছিলো,,
আরহাম নুবার চোখের দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_ তাই নাকি আমি জানতাম না তবে আফসোস করো না ইনশাআল্লাহ তোমার আফসোসের সুর টানতে হবে না,,,
নুবা টিপটিপ করে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ যদি বিয়ে না করেন তবে,,,তবে কি হবে,,
আরহাম নুবার ছলছল চোখের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপনার কেনো মনে হচ্ছে আমি পিছিয়ে যাবো,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো
_ প্রথম বার ঠকে গেছি দ্বিতীয় বার যদি আপনি এমন করেন তাহলে,,তাহলে আমি আপনাকে কক্ষনো মাফ করবো না,,এই নুবু কখনোই আয়রার পাপাকে মাফ করবে না,, সারাজীবন অভিশাপ দিবে,, শুধু অভিশাপ,,,
আরহাম নুবার কথা মনযোগ দিয়ে শুনে বললো
_ আমি দ্বিতীয় হলে প্রথম কে,,,
নুবা আরহামের প্রশ্নে চমকে উঠলো চোরা কন্ঠে বললো
_ আমি বলতে চাইছি না,,ওই সব ভাবতেও চাই না আমি,,, শুধু জেনে রাখুন আপনার আগে আমার জীবনে অন্য কেউ ছিলো তবে সে আমাকে খুব জঘন্য ভাবে ঠকিয়েছে,,আর আজ বা কাল যদি আপনি পরি মেমকে বিয়ে করেন তবে আপনিও ওর কাতারে পড়বেন,,,
আরহাম এগিয়ে এসে ছোট্ট করে নুবার ওধরে চুমু খেএ বললো
_ প্রথম কে বা দ্বিতীয় কে জানতে চাই না,,আপনি শুধু আমার,, এতটুকুই,,,আর ডানা কাটা পরি যাক জাহান্নামে,,
নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
_ আম্মু মানবে না,,,কেউ মানবে না,,
_ আমি আছি তো,,আপনি চাইলে আমি এখনি আপনাকে নিয়ে চলে যাবো,,,আপনি কি আমাকে চান,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ চোরের মতো পালানোর কথা বলছেন কেন,,বুকের পাঠায় কি সাহস নেই আমাকে স্বীকৃতি দেওয়ার ,,,সবাইকে মানিয়ে নেওয়ার,,,
আরহাম মুচকি হাসলো,,বুঝতে পারলো তার নুবু কি চাইছে তাই শান্ত কন্ঠে বললো
_তবে আমাকে শুধু একটু সময় দেন আমি সব ঠিক করে দিবো,,,সব,,,,,
নুবা কেমন যেনো ভরসা পেলো,,বিরবির করে বললো
_ সত্যি বলছেন,,
_হুম,,
নুবা চুপচাপ গাড়িতে মাথা নিচু করে বসে আছে কেমন লজ্জা লাগছে তার,,আরহামের দিকে তাকাতেই পারছে না,,, আরহাম নুবাকে এরকম বিচলিত হয়ে লজ্জা পেতে দেখে বিরবির করে বলে উঠলো
_এখনো কিছু হলোই না এতোটা লজ্জা,,,
নুবা দুই হাত কচলে বললো,,
_ চুপ করবেন,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সামনে হাত বাড়িয়ে সুন্দর একটা গান বাজালো ,,,
আস্তে আস্তে সুরের তালে ভেসে আসলো,,
_ tu mary samny ,,ma tara samny ,,
Donoka bhic ha meloki duria
Dak dak dil bola tara sam sam mari curhia,,
গানটা শুনে নুবার বুকটা আরো টিপটিপ করে লাগলো,,, কেমন পরিস্থিতির সাথে মিলে গেলো,,তবে কি বাস্তবতা দেখে,,বা অনুভব করেই মানুষ গান তৈরি করে,,
পুরটা রাস্তা গানের সুরে সুরে দুই জন বাড়ি পৌঁছালো,,,গাড়ি এসে বাড়ির ভিতরে থামলো,,,গান বন্ধ হলো তবে দুই জনেই স্তব,,, আরহাম একটু কেশে বললো
_ নামো,,,,
নুবার আরহামের কথায় হুস ফিরলো,,,শুকনো ঢোক গিলে আস্তে করে নামতে লাগলো,,তখনি আরহাম নুবার হাত ধরে ফেললো,,নুবা চম্কে উঠলো,,তবে আরহামের দিকে যে তাকাবে সেই সাহস পেলো না তাই মুচরামুচরি করে মৃদু কন্ঠে সুধালো
_ ছাড়ুন,,
আরহাম নুবার হাত ছাড়ে দিয়ে শীতল কন্ঠে বললো
_ আমি চাই আয়রার মাম্মা যাতে তার মেয়েটাকে একটু ক্ষুধা নিবারণ করে দেয়,, কারণ হয়তোবা তার জানা নেই আয়রা যে দুপুরে একটু খেয়েছিলো,,,
নুবার কেমন কেমন লজ্জা লাগলো “আয়রার মাম্মা”শুনতেই নুবা লাল টমাটো হয়ে গেলো,,,ভারি কন্ঠে বললো
_ আচ্ছা,,,
বলেই নুবা গাড়ি থেকে নেমে ছুটে বাড়ির ভিতরে চলে গেলো,,, আরহাম এক গাল হাসলো,,,
নুবার চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়ছে,,গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছে,,, এদিকে বাড়ির সবাই চিন্তিত নুবাকে নিয়ে,,,নুবা বাড়িতে ঢুকতেই কান্না রত হাজেরা মেয়ের গালে ঠাস করে একটা লাগিয়ে দিয়েছে,,,
_ কয়টা বাজে,,কয়টা বাজে হ্যাঁ,,রাত ১২ টা বাজতে চললো এখন আসছিস তুই,,,
আমিনা বেগম আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
_ তোর বাপকে ফোন দে,,বল নুবা বাসায় এসেছে,,,,আবার ওকে খুঁজতে কই কই চলে যাবে আল্লাহই জানে,,
আরশি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চলে গেলো,,,ইশিতা আর আরফ রুমেই,,আরফ অফিস থেকে এসেই খেএ দেয়ে বউ কে নিয়ে রুমে ঢুকেছে,, কিন্তু এদিকে,হাজেরা,,আমিনা,,আরশি,,তানিয়া,,পরি সাথে আমাদের কান্নারত আয়রা,,,
হাজেরা এগিয়ে এসে পারে না নুবাকে বেশি করে দুটো চর থাপ্পর মারতে,,,তবে পারে না সে,,,হাজেরা কান্না করতে করতে জিগ্গেস করলো
_ কোথায় ছিলি,,,
নুবা নাক টানলো,,হাজেরা উত্তর না পেয়ে এগিয়ে এসে নুবার বাহুতে দিলো এক কিল,,নুবা শব্দ করে উঠলো,,আমিনা বেগম এগিয়ে এসে বললো
_ আহহ হাজেরা,,,কি শুরু করলে,,,
হাজেরা আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আপা ওকে জিজ্ঞাসা করেন কই ছিলো ও,,রাতে বেড় হতে দিয়েছি তাই বলে রাত ১২ টায় ফিরবে,,, জিগ্গেস করো ওকে,,,,
তখনি আরহাম বাড়ির ভিতরে ঢুকলো,,,আমিনা ছেলেকে দেখে ছুটে এসে বললো,,
_ কিরে তুই আবার কখন বাড়ি থেকে বেড় হলি,,,পরি যে বললো তুই রুমে,,,
পরিও অবাক হলো,,,সে তো রুমেই দেখেছিলো কোন ফাঁকে বেড় হলো কে জানে,,, আরহাম এগিয়ে এসে কান্নারতো মেয়েকে কোলে তুলে নিলো,,
এদিকে হাজেরা নুবাকে একটার পর একটা প্রশ্ন করতে লাগলো,,,
_ জবান আটকে গেছে,,বলছিস না কেন,,,??
নুবার কিছু বলার আগেই আরহাম বলে উঠলো
_ আমার সাথে ছিলো,,,
কথাটা যেনো হাজেরার মাথায় বজ্রপাত করে ছাড়লো,,হাজেরা হতভম্ব হয়ে গেলো,,,মনে পড়ে গেলো মাস খানিক আগে পরিকেও ছাড়তে যেএ কত রাত করে ফিরেছিলো এরা,,,হাজেরা আরো রেগে গেলো এগিয়ে এসে ঠাস করে নুবার গালে চড় মেরে দাতে দাঁত চেপে বললো ,,
_কোথায় ছিলি তুই,,,
নুবা ফুঁপিয়ে উঠলো,,,এই লোকটার এখনি এই কথা বলার দরকার ছিলো,,হাজেরা কতখন পকপক করে থেমে যেতো তবে এবার নুবাকে চালতে (চালতা) ছেচা করবে,,নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ রুমে,,রুমে চলো বলছি,,,
_ তুই এখানেই বলবি,,,
_ please মা,,,
হাজেরা আবারো তেতে আসলো,,, আরহাম এগিয়ে এসে নুবাকে সরিয়ে নিলো ফল স্বরুপ মারটা আরহামের বাহুতে যেএ লাগলো,,নুবা পিলে চম্কে উঠলো,,, আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ আপনাকে বলে যেখানে যায় সেখানেই ছিলো,,আমি ওই রাস্তা দিয়ে ফিরছিলাম তাই ওকে নিয়ে এসেছি,, বিশেষ করে রাস্তায় একটা দূর্ঘটনা হয়েছিলো তাই আমাদের আস্তে দেরি হলো,,,
হাজেরা দাঁতে দাঁত চিপে বললো ,,
_ কিসের দূর্ঘটনা,,,
আরহাম এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ রাস্তায় ছোটো খাটো এক্সিডেন্ট হয়েছিলো যা থেকে বেঁচে ফিরতে সক্ষম হয়েছি,, হয়তোবা আপনাদের দোয়া ছিলো,,i think এখন আর প্রশ্ন করবেন না,,,আর নুবা আয়রাকে একটু ফিড করিয়ে দিয়ে যেও,,
নুবা ফিরে তাকালো আরহামের দিকে,,,এই বাটপার কত বড় মিথ্যা বললো,, আল্লাহ মাফ করুক,,এই বেডার নাকি আমার মিথ্যা অপছন্দ তাই তো নিজেই মিথ্যা বলে বেড়াচ্ছে,,
আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললো
_ এক্সিডেন্টি কিন্তু ছিলো,,, অনাকাঙ্ক্ষিত,,,
নুবা বলদের মতো তাকিয়ে রইলো,,
আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ আর কোনো ঝামেলা চাইছি না রাত করে,,সব থেকে বড় কথা রাতে মেয়েকে বাইরে যেতে দিবেন না,,,না হলে মেয়ে কিন্তু হাত ছাড়া হয়ে যাবে,,দিন কাল ভালো না,,,
পরপর আরহাম আয়ারকে নিয়ে চলে গেলো,,,
নুবা ফ্রেশ হয়ে রুমে আসতেই হাজেরা হাঁসফাঁস করে বলে উঠলো
_ ওই ছেলের সাথে তোর এতো কি,,সেদিনো একবার রাত করে ফিরেছিলি,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে ডাহা মিথ্যা কথা বলে বললো
_ তুমি আমাকে সন্দেহ করছো আম্মু,,, এক্সিডেন্ট হয়েছিলো বেঁচে ফিরেছি এটাই তো অনেক আর তুমি আমাকে উল্টা পাল্টা প্রশ্ন করছো,,
হাজেরা মেয়ের বাহুতে ঠুয়া মেরে বললো
_ আর কোনো দিন ওই ছেলের আশে পাশে ঘেঁষিস,,দেখবি কি করি আমি,,শরীরের ছাল তুলে লবন দিবো,,,
হাজেরার কথায় নুবা শুকনো ঢোক গিললো,, কিছু সময় পর নুবা রুম থেকে বেড় হতে লাগলো,,তখন হাজেরা বিছানা গুছাচ্ছে,,,
হাজেরা মেয়েকে রুমের বাইরে যেতে দেখে বললো
_ কিছু খেএ এসেছিস,, কিছু নিয়ে আসবো,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ আয়,,আয়রাকে খাওয়াতে যাচ্ছি,,,
হাজেরা বিছানা থেকে একটা বালিশ নিয়ে ছুরে মারলো,,,নুবা তা ধরে ফেললো,,পরপর বালিশের উপর দিয়ে উঁকি মেরে বললো
_ বাচ্চা টা কান্না করছে,,
_ কান্না করলে নিজেই নিয়ে আসবে, তুই এই অর্ধ রাতে কোত্থাও যাবি না,, চুপচাপ রুমে আয়,,
নুবা হাত পা ছুরে বললো
_ আয়রা কান্না করছে তখন শুনোনি,,আর,,আর আমি চাচিকে নিয়েই যাবো,,, বাচ্চাকে কষ্ট দিলে অভিশাপ লাগবে মা,,,
হাজেরার সাথে এক প্রকার যুদ্ধ করলো নুবা,, শেষ পর্যন্ত মেয়ের কাছে হাজেরা হেরে যেএ বললো
_ তাড়াতাড়ি আসবি,,আর চাচিকে নিয়েই যাবি,,,
নুবা মাথা ঝুকালো,,
নুবা ছুটে আরহামের রুমের সামনে যেএ দাঁড়ালো,,,পরপর আরহামের দরজায় কড়া নাড়লো,,
সাথে সাথে দরজা খুলে গেলো,,,নুবার কেমন কেমন যেনো লাগলো,, আরহাম ডোর খুলে দরজায় হেলান দিয়ে নুবার দিকে তাকালো,,,নুবা মাথা নিচু করে দুই হাত কচলাতে লাগলো,,
আরহাম হালকা ঝুঁকে এসে নুবার মাথায় ফু দিলো,,,নুবার শরীর কেমন শীরশীর করে উঠলো,,, আরহাম নুবাকে নুইয়ে পড়তে দেখে বললো,,,
_ এতো অবুঝ ডাকলাম আর এতো রাত করে আমার মতো লুচ্চার রুমে চলে আসলেন,,,,
নুবা মিনমিন করে বললো
_ তাহলে চলে যাই,,,
আরহাম নুবার কোমড় ধরে এক টানে ভিতরে নিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো,,,পরপর দরজার সাথে পিঠ ঠেকে গেলো নুবার,,,নুবা এক হাত আরামের বুকে রেখে মাথা নিচু করে নিলো,,, আরহাম এগিয়ে এসে নুবার মাথায় ঠোঁট ঠেকিয়ে বললো
_ কি হয়েছে,,,
নুবা একটু কম্পিত হয়ে বললো
_ আয়রা,,,
_ ইদানিং আপনার অবহেলায় আমার মেয়েরো ক্ষুধা মরে গেছে,,, ক্ষুধা লাগলে একটু কান্না কাটি করে আঙ্গুল চুষতে চুষতে ঘুমিয়ে যায়,,,
নুবা মিনমিন কন্ঠে বললো
_ আমার কোনো দোষ নেই,,আপনি সুযোগ করে দিয়েছিলেন,,তাই আপনার দোষ,,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,, অতঃপর এগিয়ে আসলো,,তবে নুবা আরহামের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে মৃদু কন্ঠে বললো
_ ওটাই প্রথম ওটাই লাস্ট,,বিয়ের আগে আর একটাও না,,,
আরহাম সরে দাঁড়ালো নুবার থেকে আর বললো
_ আচ্ছা ঠিক আছে,,,
নুবা ঘুমন্ত আয়ারকে কোলে তুলে চুমু খেলো,,,নুবার স্পর্শ পেয়ে আয়রা কেঁপে উঠলো,,,নুবা আয়রার মুখ থেকে ছোট্ট ছোট্ট আঙ্গুল গুলো সরিয়ে দিলো,,,আয়রা ফুঁপিয়ে উঠলো,, ঠোঁট ফুলালো,,
নুবা হেসে আয়রার ছোট্ট সরু ঠোঁটে চুমু খেএ বললো
_ sorry মাম্মা,,, I am so sorry,, next time আর এমন হবে না,,,
বলতে বলতে নুবা আয়ারকে নিয়ে বিছানার এক কোনায় বসে নিজেদের কম্বল দিয়ে কাভার করে আয়ারকে বুকের দুধ দিলো,,আয়রা ঘুমের ভিতরে সুযোগটা লুফে নিলো,,, ছোট্ট ছোট্ট দুই হাত দিয়ে নুবাকে আঁকড়ে ধরলো,,নুবা নিজের হাতের আঙ্গুল দিয়ে আয়রার পিঠে আর মাথায় হাত বুলিয়ে চুমু খেলো,,,
আরহাম এসে পাশে বসলো,,, কিছু মূহূর্ত এভাবেই কেটে গেলো,,, অতঃপর আরহাম এক দু হাত করে এগিয়ে আসতে চাইলো,,নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ এখানে আসি,,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ না,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,,তাও একটু এগিয়ে এসে বসলো,,,দুই জনের ভিতরে এক হাতের মতো গেপ,,, আরহাম একটু সাহস নিয়ে নুবার ডান হাতটা আস্তে করে চেপে ধরলো,,যেটা কিনা আয়রার মাথার নিচে ছিলো,,,
নুবা আলতো করে ফিরে তাকালো,, আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ নুবু please,,,
নুবা এতো সুন্দর করে বলায় না করতে পারলো না,,, আরহাম নুবার আঙ্গুলের ফাঁকে আঙ্গুল গুঁজে চেপে ধরে বসে রইলো,,,
নুবা কিছু সময় চুপ থেকে ভীতু কন্ঠে শুধালো,,
_ আয়রার আম্মু কি কখনো ফিরে আসবে,,
আরহাম হঠাৎ নুবার প্রশ্ন শুনে একটু হেসে বললো
_ কেন ভয় পাচ্ছো,,
_ উত্তর দিন,,
_ আসবে না,,আর আসলেও আমি দ্বিতীয় বার তাকে ফিরিয়ে নিবো না,,
_ কেন,,,
_ এতো কিছু জানতে হবে না শুধু জেনে রাখো তোমার পর আর কেউ আসবে না,,
নুবা মাথা নিচু করে মুচকি হাসলো,,
এভাবে ঘন্টা খানিক পার হয়ে রাত দেরটা বেজে গেলো,,, এদিকে নুবার ক্লান্ত ভরা চোখ লেগে আসছে,,
তিন জন যখন আলতো ঘুমে মগ্ন তখনি কেউ এসে আরহামের দরজায় কড়া নাড়লো,,, ভেসে আসলো হাজেরার কঠোর কন্ঠ,,,নুবা লাফিয়ে উঠলো,,আরহামো নুবার দিকে ফিরে তাকালো,,নুবা ফিসফিস করে বললো
_ আম্মু,,, ahhh ,,কয়টা বাজে,, নিশ্চয় দেরি হচ্ছে দেখে চলে এসেছে,,
আরহাম বিরক্তে মুখ দিয়ে চ উচ্চারণ করে বললো,,
_তোমার মার আমার সুখ সহ্য হয় না,, আস্ত বেয়াদব একটা মহিলা,,
নুবা গড়ম চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ মুখ সামলে কথা বলুন,,, আপনার মেয়ে যদি এরকম পরপুরুষের রুমে যেএ বসে থাকতো আপনি কি নিশ্চিন্তে বসে থাকতেন,,
_ অবশ্যই,, কারণ আমার মেয়ের সুখ তো আমি সহ্য করতে পারলো,,তবে তোমার মা তা পারে না,,,বুঝলে,,,
বেশি কথা না বলে যেএ রুমের দরজা খুলুন,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে যেএ দরজা খুলে দিলো,, হাজেরা আর আমিনা হুড়মুড়িয়ে রুমে প্রবেশ করলো,,,দুই জনকে এক সাথে দেখে আরহামো অবাক হলো,,,
হাজেরা এসেই নুবার উপর তেতে উঠে বললো
_ চাচি কে নিয়ে নাকি আসবি,,
আমিনা বেগম নুবার দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলো ঝামেলা বাড়বে তাই বলে উঠলো
_ ওর সাথেই ছিলাম আমি,,,একটু আগে রুমে গেছিলাম তোমার ভাই ডাকছে দেখে,,,মাথা টিপে দিতে বললো,,,পাশে শুয়েছিলাম তাই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম,,তখনি যেএ তুমি ডাক দিলে,,
আসলে নুবা ফিরছে না দেখে হাজেরা আমিনা বেগমের কাছে দেখতে গিয়েছিলো যে নুবা তার কাছে কিনা তবে যেএ দেখলো আমিনা বেগম ঘুমাচ্ছে,,,,তাই কিছু না বলে আরহামের রুমে আসলো,,আমিনা কিছু না বুজতে পেরে তার পিছন পিছন আসলো,,
হাজেরা একটু শান্ত হয়ে আরহামের দিকে তাকালো,ছেলেটা একদমি সুবিধার না,, আস্ত বেয়াদব,,,
নুবা আর আরহাম চেপে রাখা নিঃশ্বাস ফেললো,,যেনো আমিনা বেগম তাদের বাঁচিয়ে নিলো তবে নুবা বুঝতে পারলো না আমিনা বেগম মিথ্যা কেন বললো,,যাক গ্গে তারি তো সুবিধা,,
অতঃপর হাজেরা দাঁড়িয়ে থেকে সময় মতো নুবাকে নিয়ে গেলো,,,, এদিকে তারা যেতেই আমিনা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কি,, ব্যপার কি,,,
আরহাম কিছু না বলে এগিয়ে এসে তার মাকে জরিয়ে ধরলো,,,আমিনা বেগম একটু অবাক হয়ে বললো
_ কি হয়েছে,,
আরহাম মুচকি হেসে বললো
_ যাক তোমার পায়েতারা কাজ করেছে,,,
আমিনা বেগমের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো,, মৃদু কন্ঠে বললো
_ কি সত্যি,,,নুবা কি বলেছে
আরহাম একগাল হেসে বললো
_she has accepted me mom,,নুবা রাজি হয়েছে মা,,এবার এই ডানা কাটা পরিকে বাড়ি থেকে বেড় করো,,,
আমিনা বেগম ছেলের কথায় মৃদু হেসে বললো
_ ও,, congratulations,,,তালহে আপনি পেরেছেন,,
আরহাম তার মাকে ছেড়ে বললো
_ I kissed her, mom,, but she didn’t say no, instead she embraced me. ,,,
আমিনা বেগম ছেলের মুখের হাসি দেখে নিজেই একটু লজ্জা পেয়ে বললো,,,
_ really,,নুবা kiss করতে দিয়েছে,,
আরহাম মাথা ঝুঁকিয়ে বললো,
_ yes,,,
_ তাহলে তো ভালোই তবে একনি পরিকে বেড় করা যাবে না,, আমাকে ৩/৪ দিন সময় দে,,,আগে তোর বাবাকে বুঝাই,,হাজেরাকে বুঝাই তার পর,,এবার থেকে পরির কাছ থেকে দূরে থাকবি না হলে নুবা যেই হিংসুটে এবার দু এক কপ তোকেই বসিয়ে দিবে,,
আরহাম বিছানায় বসে বললো
_ প্রচুর হিংসুটে ও,,আয়রাকে ওর কাছে দিতে না করেছি দেখে সেই গাড়ি বেসে কি কান্না করতে করতে অভিযোগ করলো,,,My own life seems worthwhile. ,,,
আমিনা বেগম হেসে বললো
_ তাহলে এবার ওর মাকে পটানোরো শুরু কর,,দেখলি তো একটা হিমটাল কি করে মেয়েটাকে শাসালো,,,মানে ও আমার সোনা টুকরা ছেলেটাকে দেখতেই পারে না,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_নুবা রাজি হয়েছে এটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ,,,
আমিনা বেগম ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে কপালে চুমু খেএ বললো
_ ওর খেলায় রাখবি,, অভিযোগ করার সুযোগ দিবি না,,নুবা অনেক especially একজন মনের মানুষ,,সবার ভিতরে এরকম মনভাব থাকে না,,
আরহাম মাথা ঝুকালো,,,
মেয়ে মানুষ মানেই হিংসা,,,আমিনা বেগমের কেন জানি মনে হচ্ছিলো নুবা বুঝতে পারছে না নিজের মনের অনুভূতি,,তাই সে ছেলেকে,,,,
আরহাম ধীরো কন্ঠে বললো
_ হবে না mom,,ও কখনোই আমাকে পছন্দ করবে না,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_মেয়ে মানুষ মানেই হিংসা,,৩/৪ মাস ওকে বেশি প্রয়োরেটি দিয়েছিস,,এখন ওর থেকে নজর সরা পরিকে সময় দে দেখবি নুবা আপনাআপনিই চলে আসবে,,,
আরহাম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আমাকে যদি পছন্দ করতো তবে একটা কথা ছিলো,,, এমন কিছুই হবে না উল্টো ভুল বুঝবে আর পরিও অনেক নরম ওর মনটা ভাংতে চাই না আমি,,
আমিনা বেগম চাঁপা কন্ঠে বললেন
_ তুই যদি সবার চিন্তা করিস তবে তো হবে না,, স্বার্থপর হতে হয় বাবা,,না হলে আজকাল কেউ কিছু দেয় না,, তুই দুটো দিন ওকে উপেক্ষা কর,,, বিশ্বাস কর যদি ওর মনে তোর জন্য একটুও অনুভূতি থাকে তবে ও অবশ্যই রিয়েক্ট করবে ,,, তুই তো মেয়ে মানুষ কে চিনিস না বাবা,,ওরা গুরুত্বের পাগল হয়, তুই যতটা ওকে গুরুত্ব দিবি ততটা ও পাগল হবে,,তবে হয়তোবা নাও বুঝতে পারে তাই দূরত্ব বাড়ানো উচিত,, আমার কাথাটা একবার হলেও শুনে দেখ,,,, ইনশাআল্লাহ সব হবে
_ আয়ারকে ওর কাছ থেকে সরিয়ে দে,,,পরির কাছে বেশি রাখ,,,পরিকে গুরুত্ব দে,,দেখবি নুবার মনে একটুও যদি অনুভূতি থাকে তবে ও অবশ্যই রিয়েক্ট করবে,,, তুই আমার কথা বিশ্বাস কর,,আমি জানি মেয়ে মানুষ কেমন,,,
সেদিন কথা টুকু ভেবে আমিনা বেগম মৃদু হাসলো,,সে জানে পরির মন ভেঙ্গে যাবে তবে পরি অনেক ভালো,,আরহামের থেকে ভালো ছেলে পাবে,,আর আছেই ১ মাসের মতো কি আর হবে, কারণ আরহাম এতোটাও তো পরিকে কাছে আনবে না শুধু নুবার সামনে,,,
আমিনা বেগম তো জানে নুবা আয়রার জন্য কতটা পাগল আর ওকে যদি একটু টাইট দেওয়া যায় তবে এমনিতেই গলে যাবে,,,এতো বছরের অভিজ্ঞতা আছে তার একটু হলেও তো ধরতে পারবে,,বলতে পারবে,,নুবাকে ছোটো থেকে দেখে আসছে সে,,,,
প্রেমের মিষ্টি অনুভূতি নিয়ে নতুন একটা সকাল শুরু হলো।জানালার ফাঁক দিয়ে আসা রোদের আলো যেন মনে নতুন স্বপ্নের ছোঁয়া দিলো।চারপাশের সবকিছু আজ অন্যরকম সুন্দর লাগছে, কারণ হৃদয়ে লুকিয়ে আছে ভালোবাসার আবেশ।পাখির কিচিরমিচিরের মাঝেও যেন কারো মায়াবী কণ্ঠের অনুভূতি ভেসে আসছে।নতুন দিনের প্রতিটা মুহূর্ত আজ শুধু ভালোবাসার গল্প লিখতে চাইছে।মনে হচ্ছে এই সকালটা শুধু দুজনের ছোট্ট এক পৃথিবীর শুরু।,,অতীত ভুলে নতুন কিছুর আগমন,,,আবারো ভরসা রা আস্তা,,একটু ভয় একটু প্রেম প্রেম অনুভূতি,,আবার শুরু হলো তবে জানা নেই কবে এই সব শেষ হবে,,,
নুবা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়েই মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে আয়রাকে নেওয়ার জন্য ছুটে চললো আরহামের রুমে ,,নুবার মুখে গুনগুন গান যেনো তার থেকে বড় সুখী কেউ নেই,,
নুবা আরহামের দরজায় যেএ নক করলো না ডিরেক্টর ঢুকে গেলো,,তবে মুখ থেকে হাঁসি সরে গেলো তার রুমে ঢুকেই দেখলো পরির চেহারা ,, আরহাম আর পরি দুই জনেই দাঁড়িয়ে আছে,,পরি আয়রাকে কোলে নিয়ে,,,যেনো দুই জন কোনো বিষয়ে তর্ক বিতর্ক করছে,,,,
তবে হঠাৎ দরজা খুলার শব্দে দুই জনি ফিরে তাকালো,,, আরহাম নুবাকে দেখে এগিয়ে গেলো,,নুবার মুখটা কালো হয়ে গেলো,,,নুবা চোখ মুখ কুঁচকে আরহামের দিকে তাকালো পরপর পরি আর আয়রার দিকে,,,,
পরি একটু চেঁচিয়ে বলে উঠলো,,,
_ এতোটা বেয়াদব তুমি,,, কতদিন বলেছি এখানে আসলে নক করে আসবে,,,
নুবার শরীর তিরতির করে উঠলো,, কিছু বলতেই যাবে তার আগেই আরহাম গর্জে বলে উঠলো
_ গলার আওয়াজ নামিয়ে কথা বল,, টুঁটি টেনে ছিরে ফেলবো,,,চেচানোর আগে ভেবে নিবি কাকে কি বলছিস,,
পরি দিগুন রাগ দেখিয়ে বললো
_ বউ কি আমি আপনার হবো না ও (নুবা ),সেটাই আমি বুঝতে পারছি না,, আমাকে এখানে এনে নাটক করছেন,,,
আরহাম কিছু বলার আগেই নুবা পিছন দিকে হাত বাড়িয়ে আরহামের গেঞ্জি খাবলে ধরে বললো
_ He is only mine. ,, আমার,,,, আমার,,,,
পরি হতভম্ব হয়ে গেলো,,,পরি সকাল সকাল এই বিষয়ে কথা বলতে এসেছিলো যে কাল রাতে নুবাকে নিয়ে আরহাম কোথায় ছিলো,, কারণ আরহামের কথা পরির একদম মিথ্যা মনে হয়েছিলো তাই নিয়ে দুই জনের ভিতরে তর্ক চলছিলো,,,
পরি কি বলবে বুঝতে পারলো না তবে আলাদা একটা জেদ ধরে বললো
_ তোমার বললেই তোমার হয়ে যাবে,, কয়দিন পর আমাদের বিয়ে তুমি হয়তোবা ভুলে যাচ্ছো,,,উনি আমার হবু husband আর আয়রা আমার মেয়ে,,
পরির কথায় বেশ অধিকারবোধ ছিলো,,নুবার শরীর শিরশির করে উঠলো,,কত বড় সাহস,,,এই দুটো মাল নাকি তার,,,নুবার ইচ্ছা করলো পরিকে যেএ ঠাস করে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিতে তবে সে তা করলো না,,
নুবা কিছু সময় ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বললো
_ উনি আপনার,,আয়রা আপনার তাই তো,,
পরি অস্থির কন্ঠে বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭০
_ হ্যাঁ,,,এটা সবার জানা,,,
নুবা ঠোঁট হেলিয়ে হেসে একটু শব্দ করে বললো
_ okay fine,,
বলেই নুবা পিছনে ঘুরলো,,,তবে বরাবরই সে আরহামের থেকে সর্ট তাই আরহামের দুই পায়ের উপর পা রেখে তার গলা জড়িয়ে ধরে এক পলক ঘাড় ঘুরিয়ে পরির দিকে তাকালো,, পরপর আরহামের পায়ে আঙ্গুলের সাহায্যে ভর দিয়ে,,,
