Home ইশকে দে ফানিয়ার ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩৩

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩৩

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩৩
মেহজাবিন নাদিয়া

অরির স্পর্শটা ছিল বড্ড কোমল, মায়াবী আর একটুখানি কাঁপনে ভরা।এক অদ্ভুত ব্যাকুলতা মিশে ছিল সেই ছোঁয়ায়। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পার হতেই সেই কোমলতা রূপ নিল এক তীব্র জখমে। অরি আচমকা সারিমের নিচের ঠোঁটটা নিজের দাঁতের নিচে চেপে ধরে সজোরে একটা কামড় বসিয়ে দিল!
_”আহ্…”

সারিমের কণ্ঠ চিরে একটা মৃদু আর্তনাদ বেরিয়ে আসতে চাইল, কিন্তু অরির ঠোঁটের চাপে তা মাঝপথেই আবার মিলিয়ে গেল।সারিম স্পষ্ট অনুভব করতে পারল, ওর ঠোঁটের চামড়া কেটে চুইয়ে চুইয়ে নোনতা স্বাদের উষ্ণ রক্ত বের হতে শুরু করেছে। অরি তার সমস্ত রাগ, রাতের সবটুকু অভিমান গভীর চুম্বনের মধ্য দিয়ে সারিমের ওপর ঝাড়ছে। সারিম সব বুঝতে পারল। বুঝতে পেরেও ও একটুও বাধা দিল না, নিজের শরীরটাকে এক চুলও সরাল না। বরং অরির দুই হাত তখনো ওর গালে চেপে বসা। তা দেখে সারিম নিজের ঘাড়টা আরও কিছুটা নিচু করে দিল। যাতে অরি আরও সহজে। নিজের ইচ্ছেমতো ওকে কষ্ট দিতে পারে। ওর ওপর প্রতিশোধ নিতে পারে। ওর চন্দ্রিমা কাল রাতে ওর দেওয়া ব্যাথায় কেঁদেছে।তাকে আজ এইটুকু অধিকার না দিলে সারিমের ভেতরের পুরুষালি অনুশোচনা যে শান্ত হবে না!
বেশ কিছুক্ষণ পর, যখন অরির নিজেই হাঁপিয়ে ওঠার উপক্রম হলো। তখন ও সারিমের ঠোঁটজোড়া ছেড়ে দিল।অরির ঠোঁটের কোণেও সারিমের গাঢ় লাল রক্ত লেগে আছে কিছুটা।সে বিছানায় কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে বসল, তারপর দুই গাল ফুলিয়ে, চোখ-মুখ শক্ত করে সারিমের দিকে তাকিয়ে রইল। ওর বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছে, চোখ দুটোতে জ্বলছে একরাশ ক্ষোভ।

সারিম বউয়ের এই রূপ দেখে নিজের ঠোঁটের যন্ত্রণা ভুলে মৃদু হাসল।নিজের ডানহাতের বুড়ো আঙুলটা ঠোঁটের কোণে ঠেকিয়ে রক্তটুকু পরম অবহেলায় মুছে নিল। লাল রক্তে ওর আঙুলের ডগাটা রাঙিয়ে উঠল। সারিম এক পলক সেই রক্তের দিকে তাকিয়ে,পরক্ষণেই অরির দিকে ঝুঁকে এল। অরিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই। সারিম ওকে টান মেরে আবার নিজের বুকের খুব কাছে টেনে আনল। অরি ছটফট করে ওঠার আগেই সারিম ওর কপালে নিজের ভেজা ঠোঁটের এক গভীর পরশ এঁকে দিল। যেন এই চুম্বনের দ্ধারা সে বউয়ের সমস্ত ক্ষত মুছে দিতে চায়।
অরি সারিমের বুকের মাঝে হাত দিয়ে তাকে দূরে ঠেলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে করতে ভাঙা, ক্ষুব্ধ গলায় বলল,
_”ছাড়ুন আমাকে! একদম ছুঁবেন না। আপনি খুব খারাপ, বড্ড বেশি খারাপ!”
সারিম অরির সমস্ত ছটফটানিকে নিজের শক্ত দুই বাহুর খাঁচায় বন্দি করে নিল। তারপর নিজের মুখটা অরির নরম বুকের মাঝে ডুবিয়ে দিল। সেখানে নাক ঘষতে ঘষতে অত্যন্ত ক্লান্ত, বুঁদ হয়ে যাওয়া গলায় বলল,
_”আর এমন ভুল কখনো হবে না, জান। আর কখনো না… প্রমিস।”
অরি মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে ঝাঝালো গলায় বলল,

_”আমি আপনাকে আর বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করি না! কাল রাতেও আপনি বারবার প্রমিস করেছিলেন যে আমাকে ব্যথা দিবেন না, আমি না চাইলে কোনো জোর করবেন না। কিন্তু আপনি সেগুলোর একটাও মানেন নি। আপনি আপনার কথার খেলাপ করেছেন!”
স্ত্রীর এমন ধারালো অভিযোগে সারিম দমে গেল না। ও অরির বুক থেকে মুখটা সামান্য ওপরে তুলে, সরাসরি ওর স্পর্শকাতর গলার নিচের কলারবোনের খাঁজে নিজের মুখ ঘষতে লাগল। ওখানকার নরম চামড়ায় সারিমের উষ্ণ নিঃশ্বাস আছড়ে পড়তেই অরি শিউরে উঠল। সারিম নেশাতুর গলায় ফিসফিস করে বলল,
_”কী করব বলো, জান? তোমাকে দেখলেই আমার ভেতরের সব নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়। একটা অবাধ্য নেশা মাথায় চড়ে বসে ।তখন তোমাকে একটুও ছাড়তে ইচ্ছে করে না একদম।এই অপার্থিব সৌন্দর্য আমি চেয়েও কখনো উপেক্ষা করতে পারি না।”
অরি সারিমের কথা শুনে ভেতর থেকে আরও বেশি আহত হলো। ও সারিমের কাঁধে ধাক্কা দিয়ে মুখটা সামান্য উঁচুতে তুলে ধরে বলল,

_”তার মানে আপনি শুধু আমার এই বাহ্যিক রূপটাকে ভালোবাসেন? আমার সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন, আমাকে না?”
সারিম অরির তীক্ষ্ণ প্রশ্নটা শুনে থমকে গেল না। আলতো হাতে অরির চিবুকটা ধরে মুখটা সরাসরি নিজের চোখের সমান্তরালে নিয়ে এল। সারিমের চোখের সেই চিরচেনা গভীর চাউনিটা অরির চোখের মণি ছুঁয়ে যাচ্ছে।সারিম শান্ত ভাবে গম্ভীর গলায় বলল,
_”সৌন্দর্য মানুষকে বাহ্যিক আকর্ষণে টানে। এটা একটা চিরন্তন সত্য। যা আমি তোমার পাশে থাকলে, তোমাকে ছুঁলে প্রতিটা মুহূর্তে তীব্রভাবে অনুভব করি।কিন্তু তার চেয়েও বড় সত্যি হলো, একাকিত্ব। যা তোমার শূন্যতা আমাকে সবচেয়ে বেশি পোড়ায়। তুমি যখন সামনে থাকো না, তখন আমার এই চারপাশটা খাঁ খাঁ করে।”
একটু থেমে সারিম অরির চোখের দিকে তাকিয়ে আবার বলতে লাগল,

_”আমি আসলে ‘ভালোবাসা’ নামক শব্দটাতে বিশ্বাসী না, বউ। ভালোবাসা জিনিসটা বড্ড সস্তা। এটা যে কারো সঙ্গে, যে কোনো মুহূর্তে হুট করে তৈরি হতে পারে, আবার সময়ের ফেরে এক নিমেষে চলেও যেতে পারে। তাই তোমাকে আমি ভালোবাসি বললে উল্টো তোমাকে আর আমার অনুভূতিকে আরও ছোট করা হবে। ভালো তো দুনিয়ার সবাইকে কোনো না কোনোভাবে বাসা যায়… কিন্তু ‘অভ্যাস’ কয়জনকে বানানো যায়, বলো?”
অরি স্তব্ধ হয়ে সারিমের কথাগুলো শুনছিল। সারিম ওর চুলে আঙুল চালাতে চালাতে আরও নিচু স্বরে বলল,
_”তুমি আমার জীবনের এমন এক তীব্র, মরণনেশার মতো অভ্যাস-যা আমি নিজের পুরো অস্তিত্ব দিয়ে চাইলেও কখনো ছাড়তে পারব না। তুমি আমার নিঃশ্বাসের মতো জড়িয়ে গেছ।আমার ওপর অভিমান করো, রাগ করো, ঝগড়া করো,প্রয়োজনে রক্তাক্ত করে দিবে।তবে যাই করো না কেন… আমার থেকে দূরে যাওয়ার চিন্তা ভুল করেও কখনো এই পুচকে মাথায় এনো না। আমি কিন্তু মানুষটা তোমাকে ওপর থেকে যেমন দেখাই, আসলে আমি ঠিক তেমনটা নাও হতে পারি।”
অরি সারিমের নাকের ডগায় আলতো করে নিজের আঙুল ছুঁইয়ে দিয়ে বলল,

_”তা আপনি নিজের ভেতর কী লুকিয়ে রেখেছেন শুনি? আপনি কি কোনো রাক্ষস নাকি?”
সারিম অরির মুখটার দিকে পলকহীন চোখে তাকিয়ে রইল। ওর গম্ভীর চাউনিতে কৌতুক ছিল না। অত্যন্ত শান্ত গলায় জবাব দিল,
_”প্রয়োজন পড়লে আমি রাক্ষস থেকেও হাজার গুণ বেশি ভয়ানক হিংস্র হতে পারি, চন্দ্রিমা। কিন্তু… তোমার জন্য আমি সারাজীবন একটা নিরীহ বিড়াল হয়েই থাকতে চাই।”
অরি সারিমের সহজ স্বীকারোক্তি শুনে মনে মনে এক অদ্ভুত ভালোলাগায় শিউরে উঠল।নিজের দুই হাত বাড়িয়ে সারিমের চওড়া গলাটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ওর বুকের সাথে নিজেকে লেপ্টে দিয়ে কিছুটা দুষ্টুমির সুরে বলল,
_”কিন্তু আমি যতটুকু জানি, বিড়াল তার মালিক কে খুব ভয় পায়।তো… আপনিও আমাকে ঠিক ওভাবেই ভয় পান বুঝি?”
সারিম অরির চুলে নিজের মুখটা ডুবিয়ে দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।কোনো দ্বিধা না রেখে সরাসরি বলে ফেলল,

_”যদি বলি হ্যাঁ, পাই?”
অরি বেশ অবাক হলো। ও সারিমের বুক থেকে মাথাটা সামান্য তুলে সারিমের চোখের দিকে তাকিয়ে কৌতূহলী গলায় জিজ্ঞেস করল,
_”কেন ভয় পান?আমায় নিয়ে কিসের জন্য এত ভয় আপনার?”
সারিম অরির চোখের মণি দুটোর দিকে তাকাল, যেখানে এই মুহূর্তে কেবলই সারিমের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠছে।সারিম অত্যন্ত ভারী কন্ঠে গাঢ় গলায় বলল,
_”তোমাকে হারানোর ভয়। এই একটা ভয় আমার পুরো অস্তিত্বকে কাঁপিয়ে দেয়।”
অরি সারিমের কথা শুনে মৃদু হেসে ওর বুকে নিজের কপালটা ঠেকিয়ে বলল,
_”ধুর! আমি আবার আপনার কাছ থেকে কোথায় হারিয়ে যাবো? আমি তো আপনার কাছেই আছি।”
সারিম অরির পিঠে নিজের হাতের বাঁধনটা আরও শক্ত, নিশ্ছিদ্র করে তুলল। কণ্ঠস্বর হুট করে একদম বদলে গেল,
_”হুম, না হারানোই তোমার জন্য ভালো। কারণ তুমি হারাতে চাইলেও আমার হাত থেকে কখনো নিজেকে ছাড়াতে পারবে না। এই মৃধা আবরার সারিম যতদিন বেঁচে আছে, ততদিন তো নয়ই… কিন্তু…”
সারিমের কথার মাঝখানে হুট করে এই ‘কিন্তু’ শব্দটা শুনে অরি একটু দমে গেল। ও ওপরের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,

_”কিন্তু কী?”
সারিম অরির চোখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে অত্যন্ত ধীর শীতল গলায় বলল,
_”কিন্তু… আমি যদি কখনো কোনো কারণে মরেও যাই,তখন তোমাকে এই পৃথিবীতে মরতে হবে। আমি বিহীন, আমাকে ছাড়া এই পৃথিবীতে তোমার বেঁচে থাকার বিন্দুমাত্র কোনো অধিকার নেই। আমার মৃত্যুর সাথে সাথেই তোমার জীবনের আলোও নিভে যাবে।”
সারিমের মুখে এমন ভয়ংকর কথা শুনে অরির বুকের ভেতরটা এক অজানা আশঙ্কায় ধক করে উঠল। ও নিজের ভয়টাকে আড়াল করার জন্য কিছুটা জোর করে হেসে বলল,
_”কী সব অদ্ভুত কথা বলছেন সকাল সকাল! আপনি কি মরে গিয়ে ভূত হয়ে আসবেন নাকি? যে ভূত হয়ে আমার ওপর নিজের অধিকার খাটাবেন?”
সারিম অরিকে নিজের বুকের সাথে আরও শক্ত করে মিশিয়ে নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
_”ভূত হতে হবে না, জান। তোমার জন্য সব ব্যবস্থা আগে থেকেই করা আছে।”
_”কিসের ব্যবস্থা করে রেখেছেন!ইয়ে মানে… আজরাইলের সঙ্গে আপনার আগে থেকে কন্টাক্ট হয়ে আছে নাকি।”
_”সময় হলেই এর উত্তর একদিন ঠিক পেয়ে যাবে। তার আগে নয়।”
কথাটা শেষ করেই সারিম বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল এবং ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়াল। আর অরি বিছানায় স্তব্ধ হয়ে বসে রইল,সারিমের রেখে যাওয়া সেই রহস্যময় উত্তরের গোলকধাঁধায়।অরি মনে মনে বিরবির করতে থাকলো।
_”আজব লোক!আমাকে সঙ্গে নিয়ে মরার শখ কত বেডার, হুহ।

জেবা আজ বেশ সকাল সকাল ঘুম ছেড়ে উঠে পড়েছে। ওপাশে আরিশান মৃধা তখনো গভীর ঘুমে মগ্ন। জেবা অত্যন্ত সাবধানে, পা টিপে টিপে খাট থেকে নামল যেন ওনার ঘুম না ভেঙে যায়। রুম থেকে বের হওয়ার আগে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে একবার আরিশান মৃধার শান্ত মুখের দিকে তাকাল সে। তখনি ওর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে সয়তানি হাসি ঝুলে উঠল। বোঝাই যাচ্ছে, মেয়ের মাথায় নতুন কোনো সয়তানি বুদ্ধি ভর করেছে! রাতের সেই বিষাদীনি মন যেন সকালের রোদের সাথে সাথে এক নতুন জেদে রূপ নিয়েছে। জেবা মনে মনে এবার ঠিক করে নিয়েছে।বেডা নিজে যখন মুখে স্বীকার করছে না, জেবাও আর স্বীকার করবে না। এবার সেও বোঝাবে ভালোবাসার মানুষকে অবহেলা করলে কেমন লাগে!’
একদম আগের মতো চটপটে রূপে ফিটফাট হয়ে আজ সকাল সকাল নাস্তার টেবিলে গিয়ে বসল জেবা। বিয়ের পর থেকে সবসময় আরিশান মৃধার মিষ্টি বউ হওয়ার জন্য থ্রিপিস পড়তো জেবা। আজ তার গেটআপ সম্পূর্ন চেঞ্জ,আবার আগের মতো পছন্দের চিরচেনা পোশাক একটা ক্যাজুয়াল শার্ট আর জিন্স। চুলগুলো পেছনের দিকে শক্ত করে ঝুঁটি করে বাঁধা। কোচিং যাবে বলে আজ একদম আঁটসাঁট ভেবে সেজেগুজে তৈরি সে।

টেবিলে সবার আগে আজ নিচতলায় নামলেন আনতারা মৃধা।সকাল সকাল ব্রেকফাস্টের টেবিলে জেবাকে দেখে ওনার ভেতরের রাগটা চট করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। তবে আরিশানের কথা ভেবে নিজেকে সামলে নিয়ে চুপ থাকলেন।আর কিছুদিন এই আপদটাকে সহ্য করতে হবে ওনার, তারপর আরিশান মৃধা শুধুই আনতারা মৃধার। বুঝাই যাচ্ছে মাথায় কোনো বড় চক্রান্ত ঘুরপাক খাচ্ছে মহিলার।
আনতারা মৃধা শান্ত ভঙ্গিতে এসে নিজের চেয়ারটায় বসলেন। জেবার সাথে কোনো কথা বললেন না। কিন্তু জেবা আজ ছাড়ার পাত্রী নয়। সে নিজেই ইচ্ছে করে আগ বাড়িয়ে এক গাল হেসে বলে উঠল,
_”গুড মর্নিং আন্টি!”
আনতারা মৃধা গম্ভীর মুখে কিছুই উত্তর দিলেন না। জেবা ভালো করেই জানে, এই অহংকারী বেডির মুখ থেকে সহজে খই ফুটবে না। তাই চালটা একটু অন্যভাবে চালল সে। কিছুটা নরম আর অসহায় ভাব ফুটিয়ে তুলে টেবিলে রাখা আনতারা মৃধার একটা হাত হঠাৎ নিজের দুহাতের মুঠোয় পুরে নিল জেবা।জেবার এই আকস্মিক কাণ্ডে আনতারা মৃধা ভীষণ বিরক্ত হলেন, হাতটা সরিয়ে নিতে চাইলেন। কিন্তু জেবা ওনার হাতটা আরও শক্ত করে ধরে করুণ গলায় বলল,

_”প্লিজ আন্টি, আমাকে একটু হেল্প করুন! যেভাবেই হোক আরিশান আঙ্কেলকে আমার জীবন থেকে দূরে সরানোর ব্যবস্থা করুন।”
আনতারা মৃধা সবেমাত্র এক টুকরো ওমলেট মুখে নিচ্ছিলেন, ওমনি জেবার মুখ থেকে এমন কথা শুনে বিস্ময়ে ওনার মুখ থেকে খাবার ছিটকে পড়ার উপক্রম হলো! ওনি চরম অবিশ্বাসে চোখ বড় বড় করে জেবার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন,
_”তুমি… তুমি আমার সাথে ইয়ার্কি করছ? আমার সংসার, আমার স্বামী সবকিছু কেড়ে নিয়ে এখন বলছ দূরে সরাতে?”
জেবা ওনাকে কথার পিঠেই থামিয়ে দিল।নিজের ফেসের ওপর একরাশ দুঃখী দুঃখী ভাব ফুটিয়ে তুলে বলল,
_”আন্টি, আপনি প্লিজ আমাকে ভুল বুঝবেন না। আপনি তো আমার মায়ের মতোই! আমি আসলে নিজের ইচ্ছেতে আরিশান আঙ্কেলকে বিয়ে করিনি। ওই সারিম ভাইয়া জোর করেছিল, নয়তো আমি আমার কাজিন সাদমান ভাইকে বিয়ে করে নিতাম। সাদমান ভাইকে বিয়ে করলে আজ হয়তো আমি একটা কিউট, হ্যাপি কাপল লাইফ কাটাতে পারতাম। কিন্তু আমার আবেগী মনমস্তিষ্কে তখন আরিশান আঙ্কেল ঘুরছিল। আবেগের বশে নিজের বিবেক-বুদ্ধি ভুলে আমি একটা বুড়ো লোককে বিয়ে করে বসেছি!”
আনতারা মৃধা ভ্রু কুঁচকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বললেন,

_”তো এখন এসব আফসোস করে কী লাভ? যা হওয়ার তা তো করেই বসেছ। সেদিন যখন তোমার বাবা তোমাকে নিতে এল, তখন ওনার সাথে চলে গেলে না কেন?”
জেবা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাঁদোকাঁদো গলায় বলল,
_”সেদিন আমি বাবার সাথেই চলে যেতে চেয়েছিলাম আন্টি, বিশ্বাস করুন! এই বুড়ো লোকের সাথে সংসার করার আমার কোনো ইচ্ছে নেই। কিন্তু সেদিন কে যেন আমাকে চিলেকোঠায় আটকে রেখেছিল। পরে যখন জ্ঞান ফিরল, আমি নিজেকে রুমের ভেতর আবিষ্কার করি। আন্টি… এখন আমি কী করব বলুন তো?”
আনতারা মৃধা এবার মনে মনে কিছুটা আশার আলো দেখতে পেলেন। ওনার গলার স্বর কিছুটা নরম হতে শুরু করল। বললেন,
_”কী করবে মানে? এখন কী করার আছে?”
জেবা চোখের পলক ফেলে আরও একটু নাটকীয় ঢঙে বলল,
_”আন্টি, আমি এই সংসার আর করতে চাই না। আপনি ঠিকই বলেছিলেন—সমাজ কী বলবে? তা ছাড়া আমার সঙ্গে ওনাকে একদমই যায় না। আঙ্কেলের সঙ্গে শুধু আপনাকেই মানায়।”
আনতারা মৃধা এবার পুরোপুরি লাইনে চলে এলেন। জেবার কথায় ওনার ভেতরের সুপ্ত আকাঙ্ক্ষাটা তীব্র হয়ে উঠল। ওনি নরম গলায় বললেন,

_”তাহলে এখন আমি কী করতে পারি বলো?”
জেবা বুঝল পাখি এবার খাঁচায় ঢুকছে। সে আরও একটু দুঃখী ভাব এনে ফিসফিস করে বলল,
_”আপনি যেভাবেই হোক, আমাদের দুজনের ডিভোর্সের ব্যবস্থাটা করিয়ে দিন আন্টি। তবে হ্যাঁ, আমি যে আপনাকে এসব বলছি, এগুলো আবার ওনাকে বলতে যেয়েন না যেন!”
আনতারা মৃধা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন,
_”কেন? তোমার নাম নিলে কী এমন সমস্যা হবে?”
জেবা এবার কপালে হাত দিয়ে আমতা আমতা করতে লাগল। যেন ভীষণ ভয় পেয়েছে এমন ভান করে বলল,
_”আসলে আন্টি… কী করে যে বলি আপনাকে!”
আনতারা মৃধা অধৈর্য হয়ে বললেন,
_”পরিষ্কার করে বলো কী বলতে চাচ্ছ?”
জেবা এবার একদম মিনমিন স্বরে, এদিক-ওদিক তাকিয়ে বলল,

_”আঙ্কেল আমার থেকে এমন একটা জিনিস চাইছে, আমি যদি সেটা ওনাকে না দেই তাহলে ওনি আমাকে মারবেন বলেছেন। এমনকি আমাকে কোনোদিন ডিভোর্সও নাকি দেবেন না!”
জেবার এমন করুণ আর কথা শুনে আনতারা মৃধার মনে একদিকে যেমন দয়া হলো, অন্যদিকে আরিশান জেবার কাছ থেকে কী এমন চাইছে-তা জানার কৌতূহল ওনাকে গ্রাস করল। ওনি জেবার হাতটা চেপে ধরে ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন,
_”আরিশান তোমার কাছ থেকে কী চাচ্ছে, জেবা? খোলোসা করে বলো!”
জেবা ওনার চোখের দিকে তাকিয়ে একদম গম্ভীর মুখে বোম ফাটানোর মতো করে বলল,
_”বাচ্চা! ওনি এই বয়সে এসে আমার কাছ থেকে বাচ্চা নিতে চাচ্ছেন আন্টি!”
কথাটা শোনা মাত্রই আনতারা মৃধার মাথায় যেন আস্ত আকাশটাই ভেঙে পড়ল! ওনার হাত-পা মুহূর্তের মধ্যে ঠাণ্ডা হয়ে গেল। ওনি কখনো কল্পনার আকাশেও ভাবেননি যে আরিশান মৃধা এই বয়সে এসে আবার নতুন করে সন্তান নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন! ওনার পুরো সর্বাঙ্গ এক তীব্র হিংসায় জ্বলেপুড়ে খাক হতে লাগল। সারিমের মতো একজন জোয়ান ছেলে ঘরে থাকতে, আরিশান মৃধা এই বয়সে এসে এই পুঁচকে মেয়ের সাথে বাচ্চা নেওয়ার চিন্তা কীভাবে করতে পারেন? তার মানে কি আরিশান জেবাকে নিজের জীবনের সাথে চিরতরে জড়িয়ে নিতে চায়?আনতারা মৃধার চোখের সামনে নিজের ভবিষ্যৎ যেন এক নিমেষেই অন্ধকার হয়ে যেতে লাগল।

ঠিক সেই মুহূর্তেই সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলেন আরিশান মৃধা। পরনে তাঁর একদম ফরমাল গেটাপ। নিচে নামতেই চোখ সবার আগে গিয়ে পড়ল ব্রেকফাস্ট টেবিলের দিকে। সেখানে আনতারা মৃধা আর জেবাকে এভাবে একসাথে বসে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখে তিনি মুহূর্তের জন্য থমকে গেলেন। নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি।মনে হলো, তিনি এমন কিছু অবাস্তব দৃশ্য দেখে ফেলেছেন যা কোনো দিনই ঘটার কথা ছিল না।
আরিশান মৃধা ধীর পায়ে নিচে নেমে এসে জেবার ঠিক পাশের চেয়ারটা টেনে বসে পড়লেন। কিন্তু জেবা ওনাকে দেখেও না দেখার ভান করল। সে আরিশানকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সরাসরি আনতারা মৃধার উদ্দেশ্যে বলে উঠল,
_”আন্টি, আপনি প্লিজ একটু আমার এই চেয়ারটাতে এসে বসবেন? আমার ঠিক এখানে বসতে কেমন যেন অসুবিধা হচ্ছে।”

জেবার মুখে এমন কথা শুনে আনতারা মৃধার মুখে এক উৎফুল্ল ফুটে উঠল। তিনি বেশ হাসিমুখে নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়ে আরিশান মৃধার একদম পাশের চেয়ারটায় জাঁকিয়ে বসলেন। আর জেবা সানন্দে উঠে গিয়ে আনতারা মৃধার খালি হওয়া চেয়ারটায় বসে পড়ল।
জেবার এই কাণ্ড দেখে আরিশান মৃধা মনে মনে চরম ক্ষুব্ধ হলেন। কপাল কুঁচকে গেল ওনার।খুব ভালো করেই বুঝতে পারছেন, এই ধড়িবাজ মেয়েটা গতরাতের প্রতিশোধ নিতে এই নাটকটা করছে।এদিকে আনতারা মৃধা তো জেবার আগের বাচ্চা নেওয়ার কথা শুনে এমনিতেই ভেতরে ভেতরে জ্বলছিলেন, তবে আরিশান মৃধাকে পাশে পেয়ে তিনি নিজেকে জাহির করার জন্য এটা-সেটা এগিয়ে দিতে লাগলেন। আরিশান মৃধার কাছে ওনার এই অতিরিক্ত আদিখ্যেতা ভীষণ বিরক্তিকর লাগছিল।
জেবা ওনার এই অবস্থা দেখে মনে মনে এক চিলতে মিচকা হাসি হাসতে লাগল। আরিশান মৃধা শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে আনতারা মৃধাকে থামিয়ে দিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন,ওনি নিজেই নিজের খাবার নিতে পারবেন। আরিশানের এমন রুক্ষ আচরণে আনতারা মৃধা আর কিছু বলার সাহস পেলেন না, চুপ করে গেলেন।
ওদিকে জেবা ভাবল চালটা আরও একটু পাকা করা যাক। আরিশান মৃধা আর আনতারা মৃধাকে কিছুটা প্রাইভেট সময় দেওয়ার জন্য সে তড়িঘড়ি করে নিজের খাবার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।ব্যাগ নিয়ে হাটা ধরলো দরজার দিকে।জেবাকে এভাবে চলে যেতে দেখে আরিশান মৃধা তৎক্ষণাৎ ডাক দিয়ে উঠলেন,

_”কোথায় যাচ্ছো?”
জেবা কিছু বলার আগেই আনতারা মৃধা মাঝখান থেকে ফোড়ন কেটে বললেন,
_”আহা, ওকে যেতে দাও আরিশান। ওর কোচিংয়ের দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।”
আরিশান মৃধা আনতারার কথায় কান না দিয়ে জেবার পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত এক পলক দেখে নিলেন।বিয়ের আগে জেবাকে এইসব পোশাকে দেখলে ওনার মনে কোনো বিকার হতো না, কিন্তু বিয়ের পর কেন জানি এই পুঁচকে মেয়েটাকে এই আঁটসাঁট পোশাকগুলোতে ওনার সহ্যই হচ্ছে না! এক তীব্র অধিকারবোধ আর অসন্তোষ ওনাকে গ্রাস করল।
তিনি আর কাউকে কিছু বলার সুযোগই দিলেন না। খাবার টেবিল ছেড়ে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়ালেন। জেবা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরিশান মৃধা শক্ত হাতে জেবার কবজি চেপে ধরলেন এবং প্রায় টানতে টানতে হড়হড় করে বাড়ির বাইরে নিয়ে এলেন।পাশ থেকে আনতারা মৃধা আটকাতে চেয়েও আরিশান মৃধার ভয়ে চুপ রইলেন।আরিশান মৃধা জেবাকে জোর করে গাড়ির ভেতর বসিয়ে দিয়ে নিজে ধপ করে ড্রাইভিং সিটে বসে পড়লেন। জেবা হাঁপাতে হাঁপাতে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু আরিশান মৃধা ওকে কোনো সুযোগই দিলেন না। ফুল স্পিডে গাড়ি স্টার্ট দিলেন।ফর্সা কপালে রাগের চোটে রগগুলো ফুলে ফেঁপে উঠেছে। এই মেয়েটার এমন প্রকাশ্য অবাধ্যতা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।

কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়ি এসে থামল বিশাল মলের সামনে। আরিশান মৃধা গাড়ি থেকে নেমে জেবাকে প্রায় টানতে টানতে নামিয়ে মলের ভেতরের একটা বিশাল হলের মতো শোরুমে ঢুকে গেলেন। পুরো হলটা আগে থেকেই কেমন যেন ফাঁকা ছিল, কোনো কাস্টমার নেই। আরিশান জেবার হাত ধরে টেনে হিঁচড়ে একদম পেছনের একটা কর্নারে নিয়ে গেলেন, যেখানে সারি সারি একঝাঁক বোরকা ঝুলছিল।
আরিশান মৃধা জেবাকে একটা ট্রায়াল রুমের ভেতর ধাক্কা দিয়ে ঢুকিয়ে দিলেন। তারপর পাশ থেকে একটা কালো বোরকা টেনে নিয়ে জেবাকে জোর করে সেটা পরিয়ে দিতে লাগলেন। জেবা হাত-পা ছুড়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ওনার শক্তির কাছে পারল না। এরপর একটা নিকাবের মতো মুখোশ স্টাইলের স্কার্ফ দিয়ে জেবার পুরো মুখ ঢেকে দিলেন, এমনকি জোর করে হাতে-পায়ে মোজাও পরিয়ে দিলেন।মুহূর্তেই জেবার সারা শরীরের মধ্যে শুধু তার ওই ডাগর ডাগর চোখ দুটোই বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছিল।
জেবাকে এই রূপে দেখে আরিশান মৃধা সন্তুষ্ট হলেন। জেবাকে নিয়ে ট্রায়াল রুম থেকে বের হয়ে এসে ডাকলেন একজন সেলস গার্লকে। একদম হুকুমের সুরে বললেন,

_”এই হলের মধ্যে যতগুলো বোরকা আর নিকাব আছে, সবকটা প্যাক করো।”
জেবা বোকার মতো তাকিয়ে আছে।বোরকার আড়াল থেকেই হাঁ হয়ে গেল! এই বেডা করছেটা কী? পুরো মলের বোরকা ও কেন, ওর বাপ-দাদার চৌদ্দগোষ্ঠীর আমলের মহিলারা মিলেও পরে শেষ করতে পারত কিনা সন্দেহ! এদিকে দেশের মন্ত্রীর আদেশ বলে কথা, সেই সেলস গার্ল আরও কয়েকজন স্টাফকে ডেকে ঝটপট সব বোরকা প্যাক করে ফেলল। আরিশান মৃধা বিল মিটিয়ে ওগুলো সরাসরি ওনাদের বাড়িতে ডেলিভারি করার নির্দেশ দিলেন।
এরপর একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে, যেন কিছুই হয়নি-এমন ভাব করে একহাতে নিজের ফোন স্ক্রোল করতে করতে অন্য হাত দিয়ে জেবার হাতটা শক্ত করে ধরে হল থেকে বের হয়ে এলেন তিনি। আশেপাশের মানুষজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এভাবে এক বোরকাওয়ালী মেয়ের হাত ধরে টানতে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।কিন্তু সেসবে আরিশান মৃধার কোনো পাত্তা নেই।
এদিকে বেচারি জেবার মাথা তো রাগে-ক্ষোভে ভনভন করছে। নিজের উপর নিজেরই এখন চরম তাচ্ছিল্য হচ্ছে। কী এক পাগলা বেডাকে সে ভালোবেসে বিয়ে করল! মুখে বউ বলে স্বীকার করবে না, অথচ অধিকার খাটানোর বেলায় একেবারে ষোলো আনা পার করে বসে আছে! জেবা মনে মনে বিরবির করলো

_”আগে যদি জানতাম এই বুড়ো খবিশ এমন সাইকো, তবে ছ্যাকা খেয়ে পুরো ব্যাকা হয়ে বসে থাকতাম, তাও এমন বেডাকে বিয়ে করতাম না!”
আরিশান মৃধা জেবাকে নিয়ে পুনরায় গাড়িতে ফিরে এলেন। জেবা এবার আর ওনার দিকে তাকালই না। একদম চুপচাপ জানালার দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে রইল, আরিশান মৃধার সাথে একটা কথাও বলল না। আরিশান মৃধা গাড়ি চালাতে চালাতে আড়চোখে একবার জেবার ওই গোমড়া মুখের দিকে তাকালেন, তারপর আবার চোখ ফিরিয়ে নিলেন।
তিনি ভালোই টের পাচ্ছেন। এই মেয়েটার সাহস দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এর একটা স্থায়ী ব্যবস্থা ওনাকে শীঘ্রই করতে হবে। এভাবে চলতে থাকলে এই চটপটে মেয়েটা আবার কোনদিন না জানি অন্য কোনো ছেলের ফাঁদে পড়ে ওনাকে ছেড়ে ভেগে যাবে! এমনিতেই এই পুঁচকে মেয়েটাকে বিয়ে করার পর থেকে ওনার মনের ভেতর ইনসিকিউরিটির কোনো শেষ নেই। নিজের অফিশিয়াল কাজেও আজকাল ঠিকমতো মনোনিবেশ করতে পারেন না এই মেয়ের চিন্তায়। ওনার মতো একজন ক্ষমতাধর মানুষের মুখে এসব কথা শুনলে হয়তো পুরো দুনিয়া হাসবে। তবে কিছু করার নেই, এই মেয়ে অলরেডি ওনার মনের পুরোটা জুড়ে রাজত্ব করে বসে আছে, যা এই বোকা মেয়েটা নিজেও জানে না।

আরিশান মৃধা জেবাকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত কোচিংয়ের সামনে এসে গাড়ি থামালেন। জেবা এতক্ষণ বোরকার ভেতর রাগে হাপিত্যেশ করছিল। গাড়ি থামামাত্রই আরিশান মৃধার দিকে অগ্নিদৃষ্টি হেনে, একটা কথাও না বলে, রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে গাড়ি থেকে নেমে হনহন করে ভেতরের দিকে চলে গেল।রাগের মাথায় জেবা-নিজের ব্যাগটা গাড়ির সিটেই ফেলে রেখে গেছে সে।
আরিশান মৃধা সিটের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। জেবার এই ভুলোমনা স্বভাব ওনার চেনা। ব্যাগটা দেওয়ার জন্য তিনি আর দেরি না করে গাড়ি থেকে নেমে জেবার পিছু নিলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এভাবে প্রকাশ্য কোচিং সেন্টারের সামনে হাঁটতে দেখে চারপাশের শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের চোখ ছানাবড়া! অনেকেই ওনাকে চিনে ফেলে বিস্ময়ে জায়গায় দাঁড়িয়ে গেল, চারদিকে ফিসফিসানি শুরু হয়ে গেল।কিন্তু আরিশান মৃধার সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তিনি হনহন করে ভেতরে এগোতেই থমকে দাঁড়ালেন। সামনের করিডোরে জেবা দাঁড়িয়ে আছে, আর ওর ঠিক সামনেই একটা কমবয়সী ছেলে। জেবা হাত নেড়ে নেড়ে বেশ চনমনে ভঙ্গিতে সেই ছেলেটার সাথে কথা বলছে!

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩২

বোরকা-নিকাব পরিয়েও যে বউকে পরপুরুষের থেকে দূরে রাখা যাচ্ছে না, তা দেখে আরিশান মৃধার মাথার রগ আবারও দপ দপ করে জ্বলে উঠল। ভেতরের তীব্র হিংসা আর রাগ এবার ওনার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিল। নিজের হাতের ব্যাগটার দিকে তাকিয়ে আরিশান মৃধা দাঁত কিড়মিড় করে নিজের মনেই বিড়বিড় করে উঠলেন,
_”বা*লের বউ আর পড়াবোই না! এত কায়দা করে ঢেকেডুকে রেখেও,এটাকে আমি সেফ রাখতে পারছি না!”

ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here