নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৫
সুরাইয়া জিয়াসমিন
নুবা ভুরু কুঁচকে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কি যা তা বলছেন,,
আরহাম এক হাত উঁচু করে নুবাকে আঙ্গুলের ইশারায় ডেকে বললো
_ এদিকে আসো,,
নুবা অমান্য করলো না এগিয়ে গেলো তার কাছে,, আরহাম নুবাকে কোলের ভিতরে নিয়ে বসালো,,পরপর তাকে জরিয়ে ধরে তার কাঁধে থুতনি ঠেকিয়ে বললো
_Give me a kiss হিংসুটে,,,
নুবা মিটমিট করে হেসে বললো
_ যদি না বলি,,,
_ না করবে এতো সাহস,,
_ হুম অনেক সাহস,,,
আরহাম নুবার কাঁধে কামড় বসিয়ে দিলো,,নুবা শব্দ করে উঠলো,,,ভুরু কুঁচকে সুধালো
_ অভদ্র,,চাচা ঠিকি বলেছিলো,,,
আরহাম মুখ কালো করে সুধালো,,
_ চলে যাই,,i think তুমি আমার মতো অভদ্রের সাথে প্রেমালাপ করতে চাও না,,,
নুবা আরহামের এক হাত টেনে হাতের পাতায় চুমু খেলো মিনমিন করে বললো,,
_ চাই তো,,
_ ও ho,,তাহলে আমার দিকে ঘুরুন,,
নুবা পিছন ঘুরে দুই হাঁটুর সাহায্যে ভর দিয়ে বসলো,,পরপর দুই হাত একটু সামনে এগিয়ে রেখে হাতে ভর দিয়ে আরহামের মুখ বরাবর যেএ মুচকি হেসে বললো
_ কি করবো,,,
আরহামের ইচ্ছা করলো নুবাকে কলিজার ভিতরে ঢুকিয়ে রাখতে এই মেয়েকে তার এতো ভালো লাগে যা সে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবে না,,,
আরহাম নিজের ডান হাতের তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে নিজের ডান গালে রাখলো আর আদুরে কন্ঠে বললো
_ এখানে একটা,,,,
বাকি কথা বলার আগেই নুবা বুঝে গেলো,, এগিয়ে যেএ ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো,,, আরহাম অন্য পাশের গালে হাত রেখে বললো
_ এখানে,,,
নুবা টুপ করে চুমু খেলো,,,(নুবা চায় আরহামকে ধরে রাখতে তার ছোটোখাটো আবদার গুলো পূর্ন করে তার মনে আরো জায়গা করতে,,আর বিশেষ করে আমিনা বেগম সব জানেন তাই সে সাহস পায়)
আরহাম পরপর,,কপালে,,নাকে,,চোখের পাতয়,, ঠোঁটে,,গলায়,,পুরো মুখে শুধু স্পর্শ করে বললো
_ এখানে,,
বলার সাথের সাথে নুবা টুপ করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিলো,,,
এক পর্যায়ে নুবা ক্লান্ত হয়ে বললো
_ আর না,,
আরহাম এগিয়ে এসে নুবার কপালে চুমু এঁকে দিলো পরপর নুবার ভেজা চুল এলো মেলো করে দিয়ে মিনমিন করে বললো
_ good girl,,,My personal woman,,
নুবা ক্লান্ত কন্ঠে সুধালো
_ আরো লাগবে
_না,,আর লাগবে না,,,
নুবা ধপাস করে বিছানায় শুয়ে পড়লো,, আয়রাকে বুকের উপর নিয়ে গালে ঠেসে চুমু খেএ বললো
_ আমার কচুপু আরু ,,, আমার পঁচা মেয়ে,,, আমার আরু বাবু,,,
বলতে বলতে পারলে কলিজার সাথে লাগিয়ে রাখে তাকে,, এমন অবস্থা,,,
নুবা আয়রার গালে চুমু খাওয়ার সময় আরহামো এগিয়ে এসে চুমু খেলো,,দুই জন দুই গালে এক সাথে চুমু খেলো,,,নুবা আরহামের দিকে তাকালো,, আরহাম নুবার দিকে,,পরপর দুই জন এক সাথে শব্দ করে হেসে উঠলো,,
আরহাম সরে আসলো,,নুবা আয়রাকে বুকে জরিয়ে বিরবির করে বললো
_ মিষ্টি মেয়ের দুষ্ট পাপা,,
আরহাম কিছু সময় চেয়ে রইলো পরপর এক অনাকাঙ্ক্ষিত কান্ড করে বসলো এগিয়ে এসে নুবার উদরে মাথা রেখে মুখ গুজলো,, হঠাৎ এরকম কান্ডে নুবা চম্কে উঠলো,,লাফিয়ে অর্ধ উঠে বসলো,,এক হাত দিয়ে আয়ারকে জরিয়ে ধরে আরহামের দিকে তাকালো,,
হঠাৎ নুবার লাফিয়ে উঠায় আরহাম চোখ তুলে উপড়ে নুবার মুখের দিকে তাকালো,,পরপর আবার মুখ গুজলো,,
নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বিরবির করে বললো
_কি,,কি করছেন,,,
আরহাম আদুরে কন্ঠে বললো
_ একটু ঘুমাই please,,,
নুবার শরীর কেঁপে উঠলো ,,আরহামের গড়ম নিঃশ্বাস উদরে পড়তেই নুবা স্তব হয়ে গেলো,,,বুকের ভিতর ধুকপুক করতে লাগলো,,,নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ এভাবে,,,
_ হুম,,তো কি হয়েছে,,
নুবা এক হাত দিয়ে ঠেলে আরহামের মাথা সরিয়ে দিতে দিতে বললো
_ না,,এতোটা কাছে আসতে পারেন না,,, দেখুন সব মেনে নেই বলে সবি যে মেনে নিবো এমন তো না,,, উঠুন,,
আরহাম বিরক্ত হয়ে বললো ,,
_ Don’t disturb me, let me sleep.
নুবা আশ্চর্য বনে গেলো এই লোক এতোটা এতোটা কাছে কেন আসতে চাইছে,,নুবা সিনা বুঝতে পারছে তার কেমন লাগছে,,,
আরহামের কাছে আর বাধ্য মেয়ে হয়ে থাকতে পারলো না সে,,আয়ারকে পাশে শুইয়ে দিলো,,, অতঃপর আরহামকে দুই হাত দিয়ে এক প্রকার ঠেলে সরিয়ে দিলো,, আরহাম হতভম্ব হয়ে নুবার দিকে তাকালো,,,নুবা ইতস্তত করে বললো,,
_ sorry but আমি এতো কিছু,,,,
আরহাম নুবাকে থামিয়ে দিয়ে বললো রেগে বললো,,
_ সরিয়ে দিলি কেন,,
আরহামের শব্দ শুনেই নুবা টের পেলো পাগল খেপে গেছে,,নুবা একটু পিছিয়ে সুন্দর মতো আসাম করে বসে বললো
_ আপনি বিয়ের আগেই বেশি কিছু চাইছেন,, আমার পক্ষে এতোটা দেওয়া সম্ভব না,,,
আরহাম বিরক্ত নিয়ে এগিয়ে গেলো,,এগিয়ে যেয়েই নুবার কোলে মাথা রাখলো,, দুই হাত দিয়ে নুবাকে পেঁচিয়ে ধরে উদরে আনন(মুখ) হেলিয়ে দিলো,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,, কেমন কান্না পেলো তার,, আরহাম কি বুঝতে পারছে না তার খারাপ লাগছে,,
নুবা অস্থির কন্ঠে বললো,,
_ সরুন তো,,কি করছেন,,
আরহাম বিরবির করে বললো
_ আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে,, তুমি আমার বউ বুঝলে,,একদম দূরে সরানোর চেষ্টা করবে না,,,
নুবা ভাবলো কথাটা আরহাম হয়তোবা বলেছে”আমাদের রিয়ে অলরেডি হবে”মানে সামনে বিয়ে পাক্কা তাই আরহাম এতোটা অধিকার চাইছে,, কারণ বিয়ের আগে প্রেমিক ১০০ বার বউ বলে ডাকে,,বিয়ে হয়ে গেছে,,হয়ে গেছে করে,,,যার ফলস্বরূপ নুবা আর প্রশ্ন করলো না বরং আরহামকে সরানোর চেষ্টা করলো,,,
নুবা আরহামের চুল ধরে টান দিলো ,, আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ ব্যাথা পাচ্ছি নুবু,,
নুবা তার কান্ডে বিরক্ত হলো,,এবার অতিরিক্ত হচ্ছে,,না হয় চুমুই খেয়েছে তাই বলে এতোটা কাছে আসতে দিবে নাকি তাও বিয়ে আগে,,
নুবা ঠেলে সরালো আরহামকে,,, বিরক্ত নিয়ে বললো
_ অতিরিক্ত করছেন,,সব সাই দিবো না আমি,,,একটা দুটো চুম্মুন করেছি বলে এই না এভাবে আপনাকে এখানে সেখানে মুখ দিতে দিবো,,,সরুন,,,
নুবার কন্ঠ কাঁপছে,,এখনি কান্না চলে আসবে তার এমন অবস্থা,,,তার ভিতরে ভিতরে যে কি চলছে এটা সেই জানে,,,
আরহাম অতিষ্ঠ হয়ে কঠিন কন্ঠে বললো
_ আর একবার ঠেলাঠেলি করলে,,তোকে তুলে এক আছার মারবো বেয়াদব,,
_ উফ্,, অসহ্য,,,
বলেই এক ধাক্কা দিয়ে আরহামকে সরিয়ে দিলো,,,নুবার এক আঙ্গুল আরহামের চোখে যেএ খোঁচা লাগায় আরহাম বাধ্য হয়ে সরে গেলো,,,পরপর উঠে চোখে হাত চেপে ধরলো,,,,,
নুবা বিরক্ত নিয়ে বললো
_ অতিরিক্ত,,,
শব্দ টা আরহামের কানে যেএ বারি খেলো,,, আরহাম চোখ থেকে হাত সরালো,,চোখটা লাল হয়ে গেছে,,,নুবা আরহামের দিকে তাকাতেই অবাক হয়ে বললো
_ চোখে,,চোখে লেগেছে,, দেখি,,
বলেই হাঁটুতে ভর করে এগিয়ে গেলো নুবা,,,হাত বাড়িয়ে দিলো দেখার জন্য কি হয়েছে,, আরহাম রেগে ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিলো,,নুবা হতবাক হয়ে গেলো,,,
আরহাম বিছানা থেকে নেমে আয়ারকে কোলে তুলে নিলো,,,নুবা তাড়াতাড়ি যেএ আরহামের এক হাত চেপে ধরে বিরবরি করে বললো,,
_ sorry,,আমি বুঝতে পারিনি লেগে যাবে, সত্যি,,
আরহাম নুবার হাত ঝাড়া মেরে সরিয়ে বললো
_ Don’t touch me. ,,, আর কক্ষনো touch করবো না তোকে,, তুই তোর মতো থাক,,
বলেই আরহাম গটগট করে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলোই,,নুবা অসহায় চোখে তাকিয়ে রইলো,,কি করলো সে,,, কেমন মেয়ে মানুষের মতো রাগ দেখিয়ে চলে গেলো,,, সামান্য ব্যপারে,,
অতঃপর নুবা নিজেকে বুঝিয়ে বললো
_ আমারি ভুল ছিলো,, ভালো ভাবে বুঝিয়ে বলা উচিত ছিলো,,, এমনিতেই “না” শব্দ উচ্চারণ করলেই মুখের দিকে তাকানো যায় না,,কি করলাম,,, ইস্,,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে কিছু সময় বসে রইলো অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে ড্রেস ঠিকঠাক করে রুমের বাইরে বেড় হলো,,,,
নুবা আস্তে করে আরহমের রুমে প্রবেশ করলো,, মাত্র বিছান এসে বসা আরহাম তা টের পেলো,,,নুবা নিরাশ কারণ এতোটা রাগ তো সেও কখনো কারো উপর করেনি যতটা আরহাম কিছু না কিছু হলেই করে,,,
নুবাকে রুমে আসতে দেখেই আরহাম ভারি কন্ঠে বললো
_ Get out of my room.,,,
নুবা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ s,, sorry,,,আমি সত্যি বুঝতে পারিনি এভাবে ব্যাথা পাবেন,,,
আরহাম উঠে এসে নুবার বাহু ধরে রুম থেকে বেড় করতে লাগলো,,,আর বললো
_ তোর sorry দিয়ে তুই পিঠা বানিয়ে খা,,,
নুবা হাত হাত পা ছড়িয়ে শব্দ করে বললো
_ আমি ইচ্ছা করে আপনাকে ব্যাথা দিবো,,আপনি,,,
আরহামের রাগ হলো,, কই এসে দুই হাত ছড়িয়ে দিয়ে বলবে
“আচ্ছা ঠিক আছে আসুন,,আর এমন করবো না,,”তা না sorry মারাচ্ছে,,
আরহাম নুবাকে রুম থেকে বেড় করে দিতে নিলো,,নুবা আগ বাড়িয়ে আরহামকে জরিয়ে ধরে বিরবির করে বললো
_ please,, sorry না,,,
হঠাৎ জরিয়ে ধরায় আরহাম একটু শান্তি পেলো পরপর নিজের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মৃদু কন্ঠে সুধালো
_ I will sleep with my head on your stomach.
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে নিজ অজান্তেই বলে উঠলো
_ না,,,,
এক ধাক্কায় নুবাকে রুম থেকে বেড় করে দিলো আরহাম,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,,পুরো কথা তো আগে শুনবে,,, কেমন লোকরে বাবা,,
পরপর আরহাম দরজা লাগানোর আগে রাগি কন্ঠে বললো
_ Get out of here and don’t come into my room. ,,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে দাঁড়িয়ে রইলো,,,বেয়াদব আরহাম মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিলো,,,
কিছু সময় ওভাবেই দাঁড়িয়ে থেকে নুবা দরজায় কড়া নাড়লো
_ আয়রা,,আরু বাবু,,,
আরহাম ভিতর থেকে চেঁচিয়ে উঠলো
_ যেতে বলেছি তোকে,,,
নুবার এতো খারাপ লাগলো,,,যা চাইবে তাই হবে নাকি,,,নুবা আবারো কড়া নেড়ে বললো
_ দরজা খুলুন,,,এই রুমে আমার অধিকার আছে,,,
আরহাম ভিতর থেকে গম্ভীর কন্ঠে চেঁচিয়ে বললো
_ কোনো অধিকার নেই তোর,, আমার নেই তোর উপর তাহলে তোর এই রুমের উপর থাকে কি করে,,,এখান থেকে যা,,না হলে আর একবার রুম থেকে বেড় হলে তুলে এক আছার মারবো,,,
নুবা এরপর হুমকি+ ধমকে অভিমান হলো,, ফুঁপিয়ে উঠলো সে রেগে আরো জোরে দরজায় কড়া নেড়ে বললো
_ অসভ্য,,বেয়াদব,,আপনি যা বলবেন তাই হবে নাকি,,,, সবসময় মন মর্জি,, আমার তো কোনো দামি নেই,,আর কক্ষনো আসবো না এখানে,, থাকুন আপনি,,,,
আরহাম চেরে এসে দরজা খুললো,,,পরপর দেখা গেলো কান্না করে গাল ফুলিয়েছে,,দরজা খুলতেই নুবার মুখে একটু হাসি ফুটে উঠলো,,,
আরহাম তেরে আসলো,,নুবা ভয়ে পিছিয়ে গেলো,,তার কাছে মনে হলো মারবে,,, তবে না আরহাম এগিয়ে এসে শক্ত হাতে তার চোখের পানি মুছে বললো,,
_ বিনা কারনে চোখের পানি ফেলবি না আর এখন যা এখান থেকে না হলে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে তোর,,,আর একবার যাতে বলতে না হয়,,,
বলেই রুমের দিকে যেতে লাগলো,,যেতে যেতে বললো
_ কান্না করবি না,,
আরহাম রুমে যেএ দরজা লাগিয়ে দিলো,,
আরশি এসেছে মাত্র,,,বেবি ঠিক আছে,, সবকিছু পারফেক্ট,,এখন শুধু আরশির খেলায় রাখতে হবে এটাই,,,
নুবা গাল ফুঁপিয়ে বসে আছে সকাল থেকে দুপুর হলো তবে আরহাম আর রুম থেকে বেড় হলো না,,রাগ করে নুবাও আর গেলো না,,,
এভাবে গাল ফুলিয়ে আমিনা বেগমের রুমে আসতে দেখে আমিনা বেগম বিছানা থেকে উঠে বসে সুধালো
_ কিরে কি হয়েছে আবার,,,
নুবা এসে পাশে বসে ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_”না” বললেই তোমার ছেলেল মুখের দিকে তাকানো যায় না,,,
আমিনা বেগম উঠে বসে বললো
_ ঝগড়া হয়েছে,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বললো
_ একটা অসভ্য,, বেয়াদব তোমার ছেলে,,,দেখতে ইচ্ছা করে আমার,,
_ কি হয়েছে বলবি তো,,
_ তেমন কিছু না,,উনার অভ্যাস প্রচন্ড খারাপ শুরু মেয়েদের মতো গাল ফুলায়,,,
আমিনা বেগম একটু অবাক হয়ে বললো।
_ আরহাম,,আর গাল ফুলানো,,,মজা পেলাম,,,তা কি হয়েছে,,,
_ ওই কিছু না,, শুধু তোমার বেয়াদব ছেলেকে সাবধান করে দিও,,,
খাবার টেবিলে সাক্ষত হলো তাদের তবে কথা হলো না,,নুবা যাই একটু আকটু তাকাচ্ছে তবে আরহাম না,,,পাশে বসার বলে নুবা একটু রাগ করে থাকলেও আরহামের পায়ের উপর ডান হাত রাখলো,, আরহাম প্রতিক্রিয়া করে ঝাড়া মেরে সরিয়ে দিলো,,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,
এতো রাগ,,, সামান্য একটা ব্যপারে,,নুবা এখন থেকে টের পেলো এরকম রাগে রাগে তার জীবন পার হবে,,,
নুবা আরশির পেটের কাছে বসে আছে মাঝে মাঝে হাত বুলাচ্ছে,,আর বলছে
_ মুভ করে না তো আপু,,
আরশি এক গাল হেসে সুধালো
_ এখনি মুভ করবে পাগল,,৬/৭ মাস যাক তার পর,,
_ ও,,,
আমিনা বেগম এসে সামনে ছোট্ট টি টেবিলে কিছু ফল রেখে বললেন
_ আস্তে আস্তে খেএ নে তো,,,
নুবা এক পলক সেদিকে তাকিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ কত ভালো না এই সময়ে especiall Treatment পাওয়া যায়,,(বলেই হাসলো সে)
আরশি এক টুকরো ফল মুখে দিয়ে বলল
_ হ্যাঁ,,তোর যখন পেটে বেবি আসবে তখন তুইও পাবি তবে যদি তোর শাশুড়ি ভালো হয়,,আর না হলে তোর বাড়িতে এসে মায়ের হাতে especiall treatme নিতে হবে,,,
নুবা মিটমিট করে হেসে বললো
_ আমার শাশুড়ি অনেক ভালো হবে,,
আমিনা বেগম গড়ম দুধ এনে পাশে রাখতে রাখতে বললো
_ তুই কি করে জানলি ভালো হবে,, কারণ তখন চুল টেনেও তো ছিরতে পারে,, শাশুড়ি তো শাশুড়ি ই হয়,,
নুবা ভুরু কুঁচকে নিল আর বললো
_ আমার শাশুড়ি অনেক ভালো আমি জানি,, তোমার বলতে হবে না,,,
আমিনা বেগম এক গাল হাসলেন,,,যাক অন্ততপক্ষে বিকাল দিকে আরহামের মন টেনেছে নিছে,,, আরহাম মেয়েকে নিয়ে এসে নিচে বসলো,,,নুবা মুখ বাঁকিয়ে একবার সেদিকে তাকালো,,, আরহাম তাকালো না,,নুবার বেশ ইগোতে লাগলো,,, একবার বিয়ে হোক তার পর একে যদি নাকে দড়ি দিয়ে না ঘুরিয়েছে তবে তার নামো নুবা না,,,
নুবা এগিয়ে যেএ আরয়াকে কোলে তুলে নিলো,, আরহাম তেমন কিছু বললো না,,, শুধু এক পলক চাইলো,,নুবা আয়রাকে কোলে নিয়ে সুধালো,,
_ আমিও দেখবো কত সময় হাত্তা ফুলে থাকে,,
আরহাম চোখ তুলে তাকালো তবে তার আগেই নুবা মুখ বাঁকিয়ে সরে গেলো,,,
অতঃপর রাত ১১ টা বেজে গেলো,,,খাবার টেবিলে বা চোখে চোখ পড়লেও আরহাম কথা বললো না,,, আরহাম কথা বলছে না নুবার সাথে ভেবেই নুবার গলা শুকিয়ে আসলো,,অজানা এক কষ্ট এসে নুবার বুকে ভর করলো,,
_ হ্যাঁ,,আমি তো সাথে থাকবোই,,,
হাজেরা আমিনা বেগমের কথা শুনে একটু নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ আচ্ছা,,,
আমিনা বেগম শুকনো ঢোক গিলে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ চল,,,
নুবা ঠোঁট চেপে হাসলো,,এখন প্রায় রাত ১১:৩০ নাগাত,,,নুবাই বলেছিলো যাতে রাতে আরহামের রুমে যাওয়ার সুযোগ করে দেয় কারণ আমিনা,,সেই সকাল থেকে আরহাম রেগে আছে,,,
আমিনা বেগম আর কি এসে শুধু বললো
_ আয়রার ক্ষুধা লেগেছে সাথে একটু জ্বর জ্বর ভাব,,যদি একটু নুবাকে আমার সাথে আসতে দিতে হাজেরা খুব ভালো হতো,,,
আমিনা বেগম সাথে থাকবেন হাজেরা কি না করতে পারে তাই অনুমতি দিয়ে দিলেন,,,
আমিনা বেগম কোরিডোর দিয়ে নুবার সাথে যেতে যেতে সুধালেন,,
_ আমি আরশির রুমে আছি,,,যখন রুমে যাবি আমাকে সাথে করে নিয়ে যাবি
নুবা শান্ত কন্ঠে সুধালো
_ আচ্ছা শাশুড়ি আম্মা,,,
আমিনা বেগম একটু হাসলেন পরপর আরশির রুমে চলে গেলেন,,,নুবা ছুটে চলে গেলো আরহমের রুমের সামনে,,,দরজা খুলাই ছিলো তাই ভিতরে প্রবেশ করতে অসুবিধা হলো না,,,রুমে প্রবেশ করেই নজরে পড়লো আরহাম আর আয়রার ফিসফিসানির শব্দ,,,দুই বাপ মেয়ে কি সুন্দর অর্ধ রাতে খিলখিল করে হাসছে,,,
হঠাৎ করে কেউ রুমে প্রবেশ করায় আরহাম মেয়েকে রেখে পিছন ফিরে তাকালো,,,নুবাকে দেখে ভুরু কুঁচকে বললো,,
_ এখানে কি,,,
নুবা দরজা লাগিয়ে দিতে দিতে বললো
_ আসতে পারবো না নাকি,,,
আরহাম বেঙ্গ করে বললো
_ লজ্জা লাগে না তোমার অর্ধ রাতে পরপুরুষের রুমে আসতে,,যদি উল্টা পাল্টা কিছু করে ফেলে,,,
নুবা এগিয়ে আসতে আসতে মৃদু কন্ঠে বললো
_ প্রথমতো এটা আমার হবু স্বামীর কক্ষ,, দ্বিতীয় তো তার উপর আমার ভরসা আছে,,সে যে আমার সাথে কোনো অন্যায় করবে না,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে বললো
_ যদি করে ফেলি তখন,,,
নুবা ফিসফিস করে বললো
_ বিশ্বাস আছে,,,না থাকলে আসতাম না,,,
_ এতোটা বিশ্বাস রাখা ভালো না,,,
কথাটা শুনে নুবার বুকটা ছ্যাত করে উঠলো,,আসলেই এতোটা বিশ্বাস করা ভালো না,,তাও নুবা শান্ত কন্ঠে বললো
_ ফালতু কথা বন্ধ করুন,,
অতঃপর নুবা আয়রার দিকে তাকিয়ে গেলো,,,এই অর্ধ রাতে আয়রাকে পেঁচার মতো চেয়ে থাকতে দেখে নুবা ভুরু কুঁচকে বললো
_ এই ছোট্ট চোখ দুটোতে এখনো ঘুম ভর করেনি হুম,,একটু ঘুমাতে পারেন না,, সারাদিন বাপের কোলে কোলে টই টই করে বেড়ান,,,
আয়রা নুবাকে দেখে খিলখিল করে হাসলো,,এই চেহারাটা তার খুব চিনা,,,এটা তার আপন মানুষ তার ক্ষুধা নিবারণের উপায়,,এই মেয়েকে সে কি করে ভুলে,,,বরাবরের মতো নুবাকে দেখে ঠোঁট নাড়তে ভুললো না সে,,,
নুবা এক গাল হেঁসে আয়রার সরু ঠোঁটে চুমু একে বললো
_ আমাকে দেখলেই ঠোঁট দুটো গোল করে চকচক শব্দ তুলতে ইচ্ছা করে হুম,,,
আয়রা পারে না হামলে পড়তে নুবার উপর,,,নুবা চাপা নিঃশ্বাস ফেলে আয়রাকে বুকের সাথে আগলে নিলো,,,আয়রার পেট ভরা ছিলো তাই আর খাওয়ায় জন্য বায়না ধরলো না,, বরং উষ্ণ বুক পেয়ে আস্তে আস্তে ঘুমের দেশে পারি দিলো,,,আধ ঘন্টা খানিকের ভিতরে আয়রা ঘুমিয়ে গেলো,,,নুবা আস্তে করে তাকে বিছানায় শুইয়ে দিলো,,,
এতো সময় আরহাম সব দেখছিও এবার চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ এতো কষ্ট করে এসে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ এবার যেতে পারো তুমি,,,
নুবা আর চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে,,বড় বিছানার মাঝখান বরাবর আসাম করে বসে মাথা নিচু করে নিজের কোলের দিকে ইশারা করে বললো
_ আসুন,, আপনাকেও ঘুম পাড়াতেই এসেছি,,,
নুবার মুখের বাক্য শুনে আরহাম অন্য দিকে মুখ করে বললো
_ বাচ্চা না আমি,,বালিশ খেতাই যথেষ্ট আমার জন্য,,আপনি যেতে পারেন,,,
নুবা ঘাড় ঘুরিয়ে আরহামের দিকে তাকালো,, আরহাম চুপ রইলো,,নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
_ সত্যি চলে যাবো,,,
_ যাও কে না করেছে,,
আরহামের কাঠকাঠ উত্তর,,,
নুবা মাথা নিচু করে নিলো,,,এতো সহজে চলে যেতে বললো,,কতটা খারাপ এই লোকটা,
পরপর নুবা অনেকটা সাহস নিয়ে বিছানায় সোজা হয়ে শুয়ে পড়লো ঠিক সকালে যেভাবে সোজা হয়ে ছিলো,,পরপর নুবা শুকনো ঢোক গিলে আরহামকে বাচ্চাদের মতো আদুরে কন্ঠে ডেকে বললো
_ আমার হাতে সময় নেই,,নাটক কম করে আসবেন নাকি সত্যি সত্যি চলে যাবো,,,,
আরহাম আর চোখে এক পলক নুবার দিকে তাকালো,,দুই হাত বাড়িয়ে আছে নুবা,, আরহাম শুকনো ঢোক গিলে এগিয়ে আসলো,,,তবে এবার নুবার উদরে না ডিরেক্টর শক্ত করে বক্ষ স্থলে চলে আসলো আরহাম,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো পিলে চম্কে উঠলো সে,,,আরহাম যুত করে শুয়ার আগেই নুবা কম্পিত কন্ঠে বললো
_ এখানে না,,,আপনি কিন্তু,,,,,,
বাকি কথা বলার আগেই আরহাম নুবার দিকে ভুরু কুঁচকে তাকালো,,,নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো,,আবার ফুলে যাবে মনে হয়,,তাই নিজের মুখের কথা মুখে আটকে বললো
_ আচ্ছা,, আচ্ছা আপনার যেভাবে ইচ্ছা,,যেখানে ইচ্ছা ওখানেই মাথা রাখুন,,, না করলে আবার হাত্তা ফুলে যাবে,,,
আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,,পরপর নুবার উদরে যেএ মাথা রাখলো,,দুই হাত দিয়ে জরিয়ে ধরলো তাকে,,,,নুবা যেনো হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো,,,
কিছু সময় এভাবেই কেঁটে গেলো,,নুবা আস্তে আস্তে আরহামের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো,,, নিঃশ্বাস আঁটকে রেখে পেট চিপে রেখেছে সে,, আরহামের খোঁচা খোঁচা দাড়ি আর গড়ম নিঃশ্বাস নুবার ভিতরের নারী সত্তা কাপিয়ে তুলছে,,তার উপর এই লোকটা আবার একটু পর পর আয়রার মতো ঠোঁট নাড়ছে যেনো যেও কিছু খাচ্ছে,,সেই ওধরের ঘর্ষণে নুবা আরো কেঁপে উঠছে,,
নুবা ঠোঁটে ঠোঁট চেপে নাক মুখে খিচে শাঁস ফেললো,,এভাবে কত সময় দম আঁটকে রাখা যায় তার উপর যদি বুকের ভিতরে ধুকপুক শুরু হয় ,,,দুই হাত দিয়ে জরিয়ে ধরায় নুবার সুরসুরি লাগে,,
এভাবে ১০ মিনিট খানিক কাটলো তবে আরহাম এখনো ঘুমায়নি,,হাতের আঙ্গুল,,ওধর এখনো একটু পর পর আকা বাকা করছে,,নুবা এবার একটু অস্থির হয়ে বললো
_ একটু স্থির হবেন আপনি,,, এরকম আয়রার মতো মোচরামুচরি শুরু করলেন কেনো,,,
আরহাম হতভম্ব হয়ে গেলো,,নুবাকে আরো শক্ত করে আঁকড়ে ধরে বললো
_ একটুও মোচরামুচরি করিনি তো,,,
নুবা চোখের পলক ফেললো,,,কথা বলছে সে তবে সমস্যা হচ্ছে নুবার উদরের সাথে মুখের ঘর্ষণ হচ্ছে,,,নুবা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_ কথা বলবেন না,,
_ আচ্ছা ঠিক আছে,,,
নুবা বিরক্ত হয়ে বললো
_ কথা বলতে না করেছি আর বলছে ” আচ্ছা ঠিক আছে”
_ তাহলে কি বলবো,,,
নুবা কপাল চাপড়ে নিজের মুখ আগে বন্ধ করলো,,, মিনিট খানিক পরে আমিনা বেগম এসে দরজায় কড়া নাড়লো,,নুবা উঠতে চাইলো আরহাম উঠতে দিলো না,,,পরপর আমিনা বেগম নুবাকে সতর্ক করে চলে গেলো,,,
আরহাম নুবার অস্থিররতা দেখে মিটমিট করে হাসলো,,,
বাড়িতে একটু তরঝোর পড়েছে,,কাল গায়ে হলুদ,,বাড়ির ছাদে ছোটো করে সব সজানো হয়েছে,,,কাল রাতে নুবা ঘন্টা খানি থেকে আরহামকে ঘুম পাড়িয়ে চলে এসেছিলো ,, শেষ পর্যন্ত নুবা সক্ষম হয়েছিলো মানুষ টার রাগ ভাংতে,,
হারুন মির্জা আজ বাড়িতেই,,তিনি কিছু অফিসের ফাইল চেক করছিলেন এমন সময় দরজায় কড়া নেড়ে হাজেরা ডেকে উঠলো,,,
_ভাইজান আপনি কি ভিতরে আছেন,,
হারুন মির্জা চোখের চশমা ঠিক করে দরজার দিকে তাকিয়ে বললো
_ ভিতরে আসো হাজেরা,,
হাজেরা বেগম দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো,,,হাজেরাকে দেখেই হারুন মির্জা মৃদু কন্ঠে বললেন
_ হঠাৎ যে,,, কিছু বলবে,,
হাজেরা মাথা নিচু করে মৃদু কন্ঠে বললো
_ নুবার ব্যপারে যে বলেছিলাম ভাইজান,,বিষয়টা কতদূর,,অবশ্য এই সময়ে আমার বলা উচিৎ নয় তবু,,,বুঝতেই তো পারছেন,,
হারুন মির্জা পাশ থেকে মোবাইল নিয়ে বললো
_ ভুলিনি,,মনে আছে আমার,,, চিন্তা করো না এই সপ্তায় আসতো তবে আরশির বিয়েটা অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা নেই বিয়ের পরের দিনি আসবে আমি ওদের বলেছি,,,
হাজেরা মৃদু কন্ঠে সুধালো,,
_ আচ্ছা ঠিক আছে,,আমি শুধু জিগ্গেস করতে এসেছিলাম,,,
হারুন মির্জা মোবাইল ঘেটে একটা ছবি বেড় করে হাজেরার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো
_ ছেলেটাকে দেখে যাও হাজেরা,, পছন্দ হয় কিনা,,
হাজেরা বেগম হাত বাড়িয়ে মোবাইল হাতে নিলো,,সুট বুট পড়ে দাঁড়িয়ে আছে,, হ্যাঁ সুদর্শন,,বয়সো বেশি মনে হচ্ছে না,,
হাজেরা মোবাইল এগিয়ে দিয়ে বললো
_ ভালোই,, লম্বা কতটুকু,,নুবা তো আবার একটু লম্বা,,
হারুন মির্জা হেসে ফেলে বললো
_ আরহামের মতো লম্বা,, চিন্তা করো না নুবার সাথে মানবে,,ছেলে ইন্জিনিয়ার,,খুবি ভালো,,, ব্যবহার আচার,,সাথে পরিবারো ছোটো,,আমি নিজের ওর সাথে দেখা করেছি,,,ও নামটাই বলা হলো না,,ওর নাম সাব্বির আহমেদ,,,ছেলেটা বড্ড ভালো,,,
হাজেরা হেসে বললেন
_ আপনি যা ভালো বুঝেন ভাই,,,
হারুন মির্জা মোবাইল রেখে বললেন
_ কিন্তু তুমি তো বলেছিলে নুবার পড়া লেখা শেষ করাবে হঠাৎ কি হলো,,,
হাজেরা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ মেয়ের ২০ পার হয়ে যাচ্ছে ভাইজান,,,বাকি পড়া লেখা না হয় শশুর বাড়ি যেএ করবে,,তা আজ আসি,,
বলেই হাজেরা কেটে পড়লো,,, হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো হঠাৎ নুবার বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হারুন মির্জার ভালো লাগলো না তবু হাজেরার মেয়ে তার মর্জি,,,,
হাজেরা ওখান থেকে বেড় হয়ে চুপচাপ রুমে চলে আসলো,,রুমে এসে নজরে পড়লো আয়রাকে নিয়ে ব্যস্ত নুবা হাজেরা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেললো,,
এতো তাড়াতাড়ি মেয়েকে বিয়ে দেওয়া কোনো ইচ্ছাই ছিলো না তার তবে আরো সপ্তাহ খানিক আগের ঘটনা তাকে কাঁপিয়ে তুলেছে,,,সে যেনো বিশ্বাস করতে পারছিলো না এই বিষয়টা,,,
এই তো সপ্তাহ খানিক আগের কথা,,,বিকাল বিকাল বরাবরের মতো নুবাকে কাপড় আনতে ছাদে পাঠিয়েছিলো হাজেরা তবে ছাদ ভরা কাপড় মেয়ে একা আনতে পারবে না দেখে সেও পিছন পিছন গিয়েছলো তবে ওখানে যেএ এমন কিছু দেখবে বা শুনতে তার ধারনার বাইরে ছিলো
নুবা কাপড় তুলতে তুলতে খেয়াল করলো আরাফ দাঁড়িয়ে আছে,, তেমন দেখা হয় না তাদের তবে মাঝের মাধ্যে হয়,,,
আরফ নুবাকে দেখে এগিয়ে আসলো নুবা ধ্যান দিলো না কাপড় তুলতে লাগলো,,আরফ এগিয়ে এসে মৃদু কন্ঠে বললো
_ কেমন আছিস,,,
নুবা উত্তর দিলো না,, আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ ইদানিং আরহামের রুমে তোর এতো কি রে,,,বাড়িতে আসলেই দেখি ওর পিছু পিছু,,খাবার টেবিলেও এক সাথে,,হুম ব্যপার কি,,
নুবা বিরক্তি নিয়ে আরাফের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আমার যা ইচ্ছা তাই করবো,, আপনাকে বলে না,,আপনি আমার বিষয়ে নাক না গলালেই খুশি হবো,,,
আরফের উত্তর পছন্দ হলো না,,এসেই খপ করে নুবার হাত ধরে বসলো,,,নুবা স্তব হয়ে গেলো এখনো এই স্বভাব যায়নি এর,,নুবা হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে বললো
_ আপনার সাথে এখানে কোনো ঝামেলা করতে আসিনি আমি,,ভালোই ভালোই হাত ছাড়ুন,,
আরাফ রেগে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৭৪
_যখন আমি একটু kiss করতে চাইতাম তখন মুখের উপর না করে দিতি,,আর এখন আমার বড় ভাইয়ের রুমে দরজা লাগিয়ে কি করিস,, হ্যাঁ,,,তোর লজ্জা করে না,, নির্লজ্জ মহিলা,,,
_ হাত ছাড়ুন,,
_ আগে উত্তর দে,,ওর সাথে তোর এতো কি,,,সেদিনো দেখেছি তোকে জরিয়ে ধরে আছে আর তুই সাই দিচ্ছিস,,ওর সাথে কিসের সম্পর্ক তোর,,কেনো জরিয়ে ধরবে তোকে,,,কেনো কাছে আসবে, আমাকে তো কখনো আসত_
