Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯২

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯২

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯২
সুরাইয়া জিয়াসমিন

কাঁদছেন এদিকে ভয়ে প্রিউর জ্বর এসেছে ছোট্ট প্রিউ মায়ের কোলের ভিতরে পরে আছে,,,তারা যাওয়ার আগে সব ঠিকঠাক করে দিয়ে গেছে তবে আফসোস মানুষ গুলোর মন ভেঙ্গে রেখে গেছে যা ঠিক করা অসম্ভব,,
পুরো একটা পরিবারকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে দিয়ে গেছে নাবিল নামের সেই কালো ছায়া, যার আগমনে একে একে নিভে গেছে হাসির আলো, ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে স্বপ্ন,যে স্বপ্ন নাবিল যাওয়ার পর আবারো জুরেছিলো এই পরিবার তা ভেঙে চুরমার করে দিয়ে গেছে,,,, পরিবারের প্রতিটি মানুষ হারিয়েছে বেঁচে থাকার স্বাভাবিক কারণ, চোখের জল আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়া তাদের ভাগ্যে কিছুই অবশিষ্ট নেই, নাবিল নামের সেই কালো ছায়া শুধু মানুষ নয়, একটি পুরো পরিবারের অভিশাপ যা তাদের শান্তি আর ভবিষ্যৎ কেড়ে নিয়ে গেছে,,,

পরির অবস্থা অনেক খারাপ,,, হসপিটালে নিয়ে গেলে ভালো হতো তবে পরি যাবে না,,,,তাহলে সবাই জেনে যাবে সে কলঙ্কিত,,,এই ভয়ে সে যাবে না,,,
পরির মাঝে মাঝে মৃদু কেঁপে উঠছে,,, শরীর যেনো আর বসে থাকতে সাই দিচ্ছে না,,,সারা রাত ঘুম বিহীন ক্লান্ত দেহ বারবার ঠেলে পড়ে যেতে চাইছে তবে আফসোস শরীরের বেদনায় বিছানায় পিঠ ঠেকানোও মুস্কিল হয়ে পড়েছে,,,এই রাত শুধু একটা রাত ছিলো না তাদের ধংসের প্রথম ধাপ ছিলো,,,
এমন একটা মূহুর্তে পরির ফোন বেজে উঠলো,,যা কাল রাতে সাগর সাথে করে এনেছিলো,,,পরির ইচ্ছা হলো না বাজতে থাকা মোবাইলে দিকে তাকাতে তবু সে কম্পিত হাত বাড়িয়ে ফোনটা হাতে তুলে নিলো,,,
সবাই সেদিকে তাকালো,,, নাম্বার দেখে পরি শুকনো ঢোক গিললো,,কোনো মতে রিসিভ করে সালাম দিলো,,অপাশ থেকে হারুন মির্জা চিন্তিত কন্ঠে বললো,,,

_ পরি,,??
পরি কোনো মতে কন্ঠ স্বাভাবিক করে শান্ত কন্ঠে বললো
_ হ্যাঁ আঙ্কেল আমি,,,
পরির কন্ঠ শুনে হারুন মির্জা শান্তির নিশ্বাস ফেলে বললেন
_ তুমি কোথায় মা,,, তোমার আন্টি বললো সকাল থেকে তোমাকে পাচ্ছে না,,, তোমার আম্মু আব্বুর মোবাইল Switch Off কেনো মা,,, তুমি কোথায়,,
পরির কন্ঠ কম্পিত হলো,,এক পলক সবার দিকে তাকিয়ে মাথা নিচু করে নিলো,,,এই ব্যপারে সে এখন আর কাউকে কিছু বলতে চায় না,,,যা হয়ে গেছে তা তো আর ফিরে পাবে না বরং ঝামেলা আরো বাড়বে,,,তার উপর মির্জা বাড়িতেই কত রকম ঝামেলা,, ঝামেলার শেষ নেই,,পরি এখন নতুন করে তাদের টেনশনে ফেলতে চায় না,,আর না নিজের কলঙ্ক সবাইকে জানাতে চায়,,,নিজের কাছেই তখন তার লজ্জা হবে,,,
আগের ব্যপার আলাদা ছিলো তবে এখন এমন অপবিত্র অবস্থায় কোন মুখে তাদের সব বলবে,,আর বললেও তারা যদি প্রশ্ন করে “আগে কেনো বলোনি” অথবা যদি বলে”তার মানে এতো কিছু লুকিয়ে তুমি আমাদের ধোঁকা দিতে চেয়েছিলে” তখন কি জবাব দিবে পরি,,,
অনেক ভেবে চিন্তে পরি শুকনো কন্ঠে বললো

_আ,,আমি বাসায় আঙ্কেল,,, actually বাড়িতে কারেন্ট নেই তাই আম্মু আব্বু মোবাইলে চার্জ না থাকায় বন্ধ,,, চিন্তা করবেন না,,
হারুন মির্জা বিচলিত কন্ঠে বললেন
_ বাসায় কখন গেলে মা,,,
পরি মিনমিন করে বললো
_ স,সকালে,,ভোর সকালে,,আপনি কিছু মনে করবেন না,,আপনাদের না বলেই চলে আসলাম,,আসলে আমি নুবা আর উনার ভিতরে বাঁধা হতে চাই না,,আমি এই ব্যপারে আম্মু আব্বু কেও বলেছি তারাও আপত্তি করেনি,, কারণ একটা সম্পর্ক তো জোর করে হয় না আঙ্কেল,,তাই না,,
পরির কথা বলতেও পেটের নাড়ি যেনো ছিরে যাচ্ছে,, তবু সে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে,,পরির কথা শুনে হারুন মির্জা ভাবলো হয়তোবা সকালে উঠে কোনো ভাবে পরি নুবা আর আরহামের বিয়ে সম্পর্কে জেনে গেছে তাই বুদ্ধিমত্তার সাথে ঝামেলা ব্যতিত চলে গেছে,, হারুন মির্জা পরির ভদ্র আচরণে মুচকি হাসলেন,, মলিন কন্ঠে বললেন,,
_ এভাবে না বলে চলে যাওয়ার কি ঠিক হয়েছে তোমার,,আমি আরো ভাবছিলাম এই বিষয়ে আমি তোমার parent এর সাথে কথা বলবো,, তোমাকে আরহামের থেকেও ভালো কারো হাতে তুলে দিবো Because you deserve someone better than Arham. You know আম্মু,,,

হারুন মির্জার আম্মু ডাক শুনে পরির মনটা জুড়িয়ে গেলো,, মানুষ এতোটা ভালো কি করে হতে পারে,,,এতো সুন্দর করে পরের মেয়েকে মা কি করে ডাকতে পারে,,জানে না পরি,,ওই পরিবারের সবাই ভালো,,ভেবেই হাসলো পরি,,, মৃদু কন্ঠে বললো,,
_ সমস্যা নেই আঙ্কেল,,,আমি ওতোটা বুদ্ধিহীন না যে জোর করে সম্পর্ক তৈরি করবো,,,
হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ আচ্ছা ঠিক আছে,,, আজকে তো আরশি আসছে এটা তো জানোই মা,,আমি তো এই ব্যস্ততার ভিতরে আসতে পারবো না,, তুমি বরং আম্মু আব্বু কে নিয়ে চলে আসো,,এই বিষয়টা নিয়ে আমরা আলাপ করবো,,এভাবে তো আর সব শেষে করা যায় না,, তুমি আমার মেয়ের মতো তোমার খারাপ হোক এটা কি আদেও আমি চাইবো হুম,,
পরির চোখ বেঁয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,, চাপা নিঃশ্বাস ফেলে সুধালো,,
_ আপনি ভাববেন না আমি আপনাদের উপর রাগ করে চলে এসেছি,, আমার আপনাদের কারো উপর কোনো রাগ নেই,,,যদি ভাগ্যে থাকে তবে ইনশাআল্লাহ আবার দেখা হবে তবে এখন আর আসতে বলবেন না আঙ্কেল,,, আসলে আমরা একটু গ্ৰামে যাচ্ছি,,, হঠাৎ করেই প্লানটা হয়েছে,,আশা রাখছি নিরাশ হবেন না,,,
হারুন মির্জা পরির কথা শুনে অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন

_ কিন্তু পরি,,
_ please আঙ্কেল,,
_ আচ্ছা তুমি তোমার আব্বুর কাছে দেও আমি কথা বলছি ,,একটা দিনিতো,,,
পরি কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_ sorry আঙ্কেল,, আব্বু তো বাসায় নেই,, আম্মুও নেই,,,তাই তো আসতে পারবো না,, আমার ছোটো বোনটা একা,,,
_ আরে পাগল মেয়ে,,,বোনকে নিয়ে চলে আসো,,, আমার কথা আছে তোমার সাথে,,
পরি শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ আমি জানি আপনি কোন ব্যপারে কথা বলবেন,,,তবে মনে রাখবেন আমি গত দেরটা মাস আপনাদের কাছে মেয়ের মতো আদর পেয়েছি,, আপনারা যে আমার মতো একজন মানুষ কে এতোটা যত্ন করেছেন যা আমার প্রাপ্য ছিলো না,,আমি আবারো বলছি আমার কারো উপর কোনো ক্ষোপ নেই,,, please,,,
হারুন মির্জা পরির কথা শুনে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন,,
_ ওকে মামুনি,,,জোর করবো না,,, তোমার ইচ্ছা হচ্ছে না তবে এসো না তবে ইনশাআল্লাহ আমাদের দেখা হবে,,,

পরি হেসে বললো
_ ইনশাআল্লাহ,,,
হারুন মির্জা আরো কিছু কথা বলে কল কেটে আমিনা বেগমের দিকে তাকালেন,,,আমিনা বেগম বিচলিত কন্ঠে বললো
_ কি বললো,,
হারুন মির্জা মোবাইল বিছানায় রেখে শান্ত কন্ঠে সুধালেন,,
_ তেমন কিছু না,,,নিজ ইচ্ছায় চলে গেছে,,আসতে বল্লাম আসবে না,,,,
আমিনা বেগম স্বামীর পাশে বসে মৃদু কন্ঠে বললেন
_ আমাদের কি যাওয়া উচিত না,,, মেয়েটাকে আস্তা দিলাম ঘড়ের বউ করবো কিন্তু এভাবে, আমার খারাপ লাগছে আরশির বাবা,,আমি নিজ হাতে করে ওকে এই বাড়িতে আনলাম,,, সত্যিই নিজেকে দোষী মনে হচ্ছে,,
হারুন মির্জা স্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ চিন্তা করো না,,পরিকে আমরা ভালো কারো হাতে তুলে দিবো,, কয়দিন যাক আমরা যাবো,, নিশ্চিত মেয়েটা কষ্ট পেয়েছে,, কষ্টের ভার কোমুক,,তবেই যাবো,,আর মেয়েটা বড্ড বুদ্ধিমান আমি তো ভেবেছিলাম হয়তোবা আবার ঝামেলা হবে,,

আমিনা বেগম কিছু সময় চুপ থেকে বললেন
_ আচ্ছা,,,পরিকে যদি সাব্বিরের হাতে তুলে দেই,,,না মানে সেদিন দেখলেন কিভাবে ওর মা মিসেস মালা তাকিয়ে ছিলেন,, আমার মনে হচ্ছে উনাদের পছন্দ হয়েছে,,আমার বললে না করবে না,,আর ওমন মেয়েকে কে রিজেক্ট করবে হুম,,
_ তোমার ছেলেই তো করেছে,,,
হারুন মির্জার কথায় আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ আরে ওর কথা বাদ দেন,,,আমি যা বলছি তাই বলুন ,, বলবেন ওদের,,
হারুন মির্জা ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ এতো তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই,,কিছুটা সময় যেতে দেও,,সব পরিস্থিতি ঠান্ডা হোক তারপর,,,আর আফিসের দিকটাও ঠিক চলছে না,,এটা নিয়ে অনেক চিন্তিত আমি,,
আমিনা বেগম স্বামীর কথায় ভুরু কুঁচকে বললেন
_ কেন আবার কি হলো
হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ তুমি বুঝবে না,, কিছু দালাল থাকে সবার কাজে নাক ঢুকাতে চলে আসে,,এই নিয়ে একটু ঝামেলা চলছে,,আর তোমার বড় ছেলে তো একদিন অফিসে গেলে ১০ দিন যায় না,,,এই বয়সে এসেও সব আমাকেই দেখতে হচ্ছে,,এটাই আমার কপাল বুঝলে,,

জায়মা বেগম কম্পিত কন্ঠে বললেন
_ উনাদের থেকে একটু সাহায্য চাইলে কি এমন ক্ষতি হতো,,সব খুলে বললি না কেন,,
পরির চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কি বলতাম মা,,,আর কি বলেই সাহায্য চাইতাম,,,উনাদেরি কত ঝামেলা চলছে,,,আমি আবার নতুন করে কি ঝামেলা পাকাতাম হুম,,, এখন তো সব শেষি হয়ে গেছে,,,এই নিয়ে টানা হেচড়া করলে ওই অমানুষ টা আবারো আসবে,,,তখন কি করবো মা,,, আমাদের জীবনের সাথে উনাদের জরিয়ে কেন ঝামেলায় ফেলবো,,,, আমাদের কি ধোঁকা বাজ মনে করবে না তার,,,এই দের ২ টা মাস উনারা কক্ষনো আমাকে কোনো কিছুর কমতি দেয়নি,, মেয়ের বিয়ে গেছে মেয়ের সাথে সাথে আমাকে প্রয়জনীয় সব দিয়েছে,,, তুমি যেভাবে আমার খেলায় রাখো সেভাবেই উনার মা আমার খেলায় রেখেছেন,,,আমি কিরে বিপদে ফেলবো তাদের,,,বাদ দেও না,,,যা হয়ে গেছে তা তো রা ফিরিয়ে আনা যাবে না তাই না,
পরির কথার উত্তর কেউ দিতে পারলো না,,পরশ হাওলাদার উঠে বাইরে চলে গেলেন,, নিজেকে বাপ বলতেও তার লজ্জা লাগছে,,, কেমন বাপ সে যে মেয়েকে রক্ষা করতে পারলো না,,তার ইচ্ছা হচ্ছে গলায় ফাঁস দিতে,,তবে পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে নিরব সে,, কারণ এই বিপদে তাদের কি করে একা ফেলে যাবেন,,,

জায়মা বেগম অসহায় পরির দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে বললেন
_কয়টা খেএ ওষুধ গুলো খেএ নে মা,,,
পরি বালিশে মাথা হেলিয়ে দিয়ে ফুঁপিয়ে উঠলো,,বালিশে মুখ গুজে বললো
_ আমার সহ্য হচ্ছে না মা,,,এই যন্ত্রনা থেকে মৃত্যুও যেনো ভালো,,,
প্রিউকে রেখে জায়মা বেগমের পরির কাছে এগিয়ে গেলেন,,,মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে ভেজা কন্ঠে বলেন,,,
_ তোর বাবাকে কি বলবো হসপিটালে নিয়ে যেতে,,,
পরি ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ যাতে পুরো হসপিটালের মানুষ জানতে পারে এই কেবিনে একজন ধর্ষিতা মেয়ে আছে,,সবাই যাতে উঁকি মেরে এই কলঙ্কিত চেহারা দেখতে আসে,,,তাই তো মা,,,
জায়মা বেগমের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,,বিরবির করে বললো,
_ এভাবে ছটফট করবি তাহলে,,,
পরি তার লাল কাচলে হাত দিয়ে মায়ের হাঁটুর উপর হাত রেখে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,
_ এক বোতল বিষ এনে দেও মা,,,ভিতরে ভিতরে সব জ্বলে পুরে যাচ্ছে,,যখনি ভাবছি”আমি কে” তখনি ভিতরটা কেমন শিরশির করছে,,বুকটা খালি খালি লাগছে,,,,
জায়মা বেগম হাত বাড়িতে পাশ থেকে doctor এর দিকে যাওয়া মলম নিলেন,,হাতের আঙ্গুলে একটু মলম নিয়ে ফুঁপিয়ে উঠে বললেন,,,

_ হাত দিয়ে তো রক্ত বেড় হচ্ছে,,এখানে দিয়ে দি,,,
পরি হাত সরিয়ে নিলো,,, ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ জ্বলে যায় মা,, এগুলো দিও না,,,ক্ষত গুলো থাক,, অন্ততপক্ষে নিজেকে চিনতে পারবো যে আমি পরি হাওলাদার যে কলঙ্কিত,,,,
জায়মা বেগম চাপা আর্তনাদ করে বললেন
_ কে বলেছে তুই কলঙ্কিত ,, তুই নিষ্পাপ,,যেই জানোয়ার এই পাপ করেছে সে কলঙ্কিত,,, আমার মেয়ে নিষ্পাপ,,,বুঝলি,আর একবারো মুখ দিয়ে এই কথা বেড় করবি না ,,,
পরি ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ বললেই তো আর হয় না মা,, আমার ইচ্ছা করছে মরে যেতে ,, আমার নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে,,মনে হচ্ছে এই পৃথিবীতে আমি একটা বোঝা হয়ে বেঁচে আছি,,,
জায়মা বেগমের অস্থির মেয়েকে শান্ত করতে বললেন,,
_একদম উল্টা পাল্টা কথা বলবি না,, তোর কোনো দোষ নেই,,এই সব বাজে চিন্তা মাথায়ও আনবি না,,আমরা সবাই তোর পাশে আছি,,,

পরি শুকনো ঢোক গিলে একটু চোখ বন্ধ করার চেষ্টা করলো,,,তবে শান্তিও যেনো তাকে ধিক্কার দিচ্ছে,,এতো সময় বাবা সামনে থাকায় পরি কোনো মতে স্থির হয়ে ছিলো তবে এবার যেনো যন্ত্রণায় শরীর ভেঙ্গে আসছে তার,,,হাতে পায়ে যেই কাঁচ ঢুকেছিলো তা পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে তবে এখনো যন্ত্রণা হচ্ছে কারণ কাল থেকে না খেএ থাকা পরি মুখে কিছু তুলেনি,,আর না মেডিসিন নিয়েছে,,,জায়মা বেগম রান্না বসিয়েছে,, অবশ্য হাত চলছে না তার তবু মেয়েটাকে তো কিছু খাওয়াতে হবে,,,
জায়াম বেগম কম্পিত হাতে পরির ক্ষতো গুলোতে মলম লাগিয়ে দিলো,,,পরি দাঁতে দাঁত চেপে সব মেনে নিতে চাইলো তবে আফসোস তার শরীর সহায় হলো না,,,জায়মা বেগমের মেয়ের ছটফটানি দেখে নিজের ছটফট করে উঠলো,,ক্ষত স্থানে মলম লাগিয়ে ফুঁ দিতে দিতে বললো
_ অনেক কষ্ট হচ্ছেরে মা,,,

পরি ডুকরে কেঁদে উঠে মাথা ঝুঁকিয়ে “না” বললো,তবে জায়মা বেগম বুঝতে পারলো,,মেয়ের তার সমস্যা হচ্ছে,,তিনি মেয়েকে রেখে উঠে যেএ দরজা লাগিয়ে দিয়ে আসলেন,,,
অতঃপর এগিয়ে এসে মেয়ের উদরের কাছ থেকে জামা টা সরিয়ে মলম লাগিয়ে দিতে চাইলেন পরি সাথে সাথে মায়ের হাত ধরে ফেললো,, গুঙ্গিয়ে উঠে বললো,,
_ ওদিকে কিচ্ছু হয়নি তো মা,,
পরির কথা শুনে তার ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠলো,,,তবু কান্না আঁটকে কম্পিত কন্ঠে বললো,,
_ এই দুই হাত দিয়ে জ্ঞান শূন্য তোকে গোসল করিয়েছি,,,আমিকি জানি না রে ওই জানোয়ারের বাচ্চা কি কি করেছে,,,

মা”য়ের কথায় লজ্জায় আর ঘৃনায় তার চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,,মুখ দিয়ে শব্দ করতে পারলো না পরি,,, গুনগুন করে কেঁদে উঠলো সে,,,জায়মা বেগম মেয়ের উদরে,, তলপেটে আর বুকে কম্পিত হাতে মলম লাগিয়ে দিলেন,,,,প্রতিটা দাগ এমন যেনো কোনো জানোয়ার খাবলে মাংস ছিরে আনার চেষ্টা করেছে,,, ফর্সা শরীর নীলচে হয়ে গেছে,,, কেমন বিদঘুটে দেখাচ্ছে,, মনে হচ্ছে রক্ত শূন্যতায় ভুগছে পরি,,,
পরি চোখ মুখ কুঁচকে রইলো,,,যেমন একজন নারী সন্তান জন্ম দেওয়ার মুহূর্তে অসহনীয় প্রসববেদনার কাছে সব লজ্জা, সংকোচ, দ্বিধা ভুলে যায়, তার সমস্ত মনোযোগ তখন শুধু সন্তানের নিরাপদ আগমন আর সেই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তির দিকে থাকে, তেমনি পরিও নিজের সমস্ত লজ্জা, সংকোচ আর আত্মসম্মানের দেয়াল ভেঙে মায়ের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করেছে, মায়ের স্পর্শে যদি একটুখানি স্বস্তি মেলে, যদি বুকভরা কষ্টের বোঝা সামান্য হলেও হালকা হয়, যদি এই দমবন্ধ করা যন্ত্রণার মাঝেও এক ফোঁটা শান্তি খুঁজে পাওয়া যায়, তবে সেই আশাতেই সে চোখ বন্ধ করে মায়ের আঁচলে আশ্রয় নিয়েছে,,
জায়মা বেগমের বুক খনে খনে কেঁপে উঠলে,,তার বাচ্চার পা দুটোকেও নিস্তার দেয়নি ওই অমানুষ,,,তার কাছে যেনো এমন হচ্ছে হচ্ছে তার মেয়ে কোনো বস্তু বা খাবারের জিনিস যে সব জায়গায় দাঁত,,হাচর কেটে,,খামচে দেখতে হয়েছে এখানে কি আছে ,,, আস্ত একটা জানোয়ার,,, একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এরকমটা কি করে, করে,,

যতো জ্বালা যেনো পেটের ভিতরে,,তল পেটে কেমন অসহ্য যন্ত্রণা হতে লাগলো,,পরি উঠে বসলো,,,জায়াম বেগম মেয়ের গায়ে ওরনা টেনে দিলো,,,পরি নিজেকে গুটিয়ে নিলো,,,বিছানা থেকে নামার চেষ্টা করলো,,,
জায়মা বেগমের মেয়ের কাঁধে হাত রেখে বললেন
_ কি হলো,,
পরি এক হাত দিয়ে পেট চেপে ধরে, ঠোঁটে ঠোঁট চাপলো,, কেমন করে নিঃশ্বাস ফেলে মাথা ঝুঁকিয়ে “না” উচ্চারণ করলো,,,যেনো সহ্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে,,
_ ওয়াশ রুমে যাবি,,,
পরি মাথা ঝুঁকিয়ে হ্যাঁ বললো,,,তিনি এগিয়ে এসে মেয়েকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করলেন,,,পরি পায়ের আঙ্গুল খিচে ফ্লোরে দাঁড়ালো তবে উঠে দাড়াতেই গলগল করে উষ্ণ রক্তের স্রোত বয়ে গেলো,,,এক নিমিশে পরির ডিলা পায়জামা আর ফ্লোর মেখে একাকার হয়ে গেলো,,,পরি পুরো শরীর কাঁপতে লাগলো,,, শরীর ভেঙ্গে আসলো তার,,,জায়মা বেগম প্রচন্ড ভয় পেলেন,,, অতিরিক্ত (blooding) হচ্ছে,,সেই সকাল থেকে,,,পরি মায়ের কাঁধে হাত দিয়ে কোনো রকম ওয়াশ রুম পর্যন্ত গেলো,,পরপর ভিতরে যেএ তার শরীর ছেড়ে দিলো তাড়াতাড়ি দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসে পড়লো সে,, কাঁদলো না পরি তবে যন্ত্রনায় গুঙ্গিয়ে উঠলো,,,,

জায়মা বেগম ওয়াশরুম থেকে বেড় হয়ে একটা ডিলা পায়জামা আর পালতা গেঞ্জি নিলো সে ন্যাপকিন,,,তবে আশ্চর্য জনক ভাবে ন্যাপকিনে কিছুই হচ্ছে না,,,,উঠে দাঁড়ালেই রক্তপাত শুরু হচ্ছে এই নিয়ে তিন বার সকাল থেকে ড্রেস চেঞ্জ করলো পরি,,,
পরি ভেবেছিলো ঘন্টা খানিক গেলে এটা কমে যাবে তবে সময়ের সাথে সাথে যেনো বাড়লো,,মনে হলো শরীরের তাজা রক্ত গুলো বেয়ে যাচ্ছে,,এ কোনো মাসিকের রক্ত না,,,
জায়মা বেগম ওয়াশ রুমে এসে ক্লান্ত পরির দিকে তাকিয়ে বললেন
_ হসপিটালে যেতেই হবে পরি,,না হলে এরকম blooding হলে কিভাবে হবে,, শরীর ফেকাশে হয়ে যাচ্ছে বুঝতে পারছিস তুই,,,
পরি ঠোঁটে ঠোঁট চেপে কেঁদে উঠলো,,মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আমি যাবো না মা,, আমার ওই পর্যন্ত যাওয়ার না সেই শক্তি আছে,,না মনোবল আছে,,,
জায়মা বেগমের কেঁদে উঠলেন,,,মিনতি করে বললেন
_ তাহলে রান্না হলে কয়টা খেএ ওষুধ খেএ নে মা,,, হয়তোবা কমে যেতে পারে,,

পরি তাও না করলো,তার ধান্দা এভাবে জ্বলতে জ্বলতে মরে যাক সে,,পরিকে ফ্রেশ করিয়ে রুমে নিয়ে আসলেন জায়াম,,পরপর বাইরে যেএ লিভিং রুমে বসে থাকা তার স্বামীর সমানে যেএ বসলেন,,পরশ হাওলাদার ক্লান্ত চোখে স্ত্রীর মুখের দিকে তাকালো,,, স্বামীর এভাবে মরার মতো তাকানো দেখে জায়মা বেগম ফুঁপিয়ে উঠে বললেন,
_ মেয়ের অবস্থা ততভালো না,সকাল থেকে উঠে দাঁড়ালেই কাঁচা রক্ত গড়িয়ে পড়ছে ,, আমার মনে হচ্ছে কিছু একটা হয়েছে পরির বাবা,,,মেয়েটার আমার মেন্স চলছিলো এই সময়,,,,
আর বলতে পারলো না জায়মা বেগম,, ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন,,,পরশ হাওলাদার একদম নীরব যেনো ভিতর থেকে মেরে গেছেন তিনি না দুঃখ না সুখ কিছুই তাকে ছুঁতে পারছেন না,,, অনেক টা সময় নিয়ে পরশ মির্জা বলে উঠলো,
_ ঘড়ে বিষ আছে বিষ,,একটা কাজ করো ৪ টা প্লেটে ভাত বেড়ে নিয়ে আসো,,সাথে একটু বিষ দিয়ে দিবে,,,সবাই শান্তি পাক,,,
পরশ হাওলাদার এমন কথায় জায়মা বেগমের কলিজা কেঁপে উঠলো,,, স্বামীর হাতের উপর হাত রেখে ক্লান্ত কন্ঠে বললেন,,

_ এ কেমন কথা বলছেন আপনি,,ওই অমানুষের পাপের শাস্তি আমরা কেন পাবো,,আপনি ভেঙ্গে পড়েছেন কেনো,,
পরশ হাওলাদার বাচ্চাদের মতো হু হু করে কেঁদে উঠলেন আর্তনাদ করে বললেন,,
_ তাহলে কি করবো আমি,,, কেমন বাপ আমি মেয়ের ইজ্জত চোখের সামনে থেকে কেড়ে নেওয়া হয় আর আমি তা রক্ষা করতে পারি না,,, এতো পুড়া কপাল আমার,,,
পরপর একটু থামলেন উনি আবার আহাজারি করে বললেন
_সবসময় চাইতাম আল্লাহ আমাকে ফুটফুটে পরির মতো একটা মেয়ে সন্তান দিক তবে আমার চাওয়া যে আমার কাছেই অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে কে জানতো,,, আল্লাহ কাউকে আর এমন সুন্দর মেয়ে না দিক,,, হ্যাঁ দিক তাদের দিক যাদের রক্ষা করার ক্ষমতা আছে,, আমার মতো দূর্বল না যে তাকে দিক,,,তবে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের ঘড়ে না দিক,,
জায়াম বেগম স্বামীর স্বামীর কথায় ফুঁপিয়ে উঠে বললো
_ আজ যদি মেয়েটাকে পর্দার আড়ালে রাখতে পারতাম,,তবে হয়তোবা না ওই জানোয়ারের চোখে পড়তো না এমন হতো,,,, কিন্তু সত্য তো এটাই ভাগ্যে যা লিখা থাকে তা তো যেকনো ভাবে হবেই,,,
_ ভাগ্যের লেখা ছিলো না রে জায়মা,,, আল্লাহর দেওয়া প্রদত্ত জিনিসের আমরা হেফাজত করতে পারিনি তাই আমাদের এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে,,,
জায়াম বেগম কান্না থামিয়ে বললেন,,

_ যা হওয়ার তো হয়েছে, এখন কপাল চাপড়ালেও আর কি,,, রান্না হয়েছে এসে কয়টা খেএ নিন,, আল্লাহর দোহাই লাগে না খেএ থেকে নিজেকে অসুস্থ করে আমাকে শাস্তি দিয়েন না,,,
জায়মা বেগম ডাইনিং টেবিলে ভাতর বেড়ে নিজ স্বামীকে চেয়ারে বসিয়ে গেলেন পরি আর ঘুমন্ত প্রিউ কে নিয়ে আসতে,,, কারণ সে চাইছে সব একটু স্বাভাবিক হোক,,,
জায়মা বেগম ব্যস্ত পায়ে রুমে গেলেন তবে পরবর্তীতী পরিস্থিতি দেখার জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না,,বুকটা হাহাকার করে উঠলো তার,,,যেই কারনে মেয়ের কাছ থেকে দুই মিনিটের জন্য সরলেন না তিনি তাই হলো,,
সকালে এতো করে পরি বললো তাকে একটু একা ছাড়তে তবে তিনি ছাড়েননি কারণ এই অবস্থায় কোনো মতে মেয়েকে একা রাখা যাবে না তবে আফসোস যার ভয় পেলেন তাই হলো,,,জায়মা বেগম চিৎকার করে উঠলেন,,,
_ পরি,,,,
হঠাৎ স্ত্রীর এরকম চিৎকারে পরশ হাওলাদার ছুটে আসলেন,,পরপর তার চোখে যা পড়লো সেটা হয়তোবা সে ভাবতে পারছে না,,,পরি ফ্লোরে পড়ে আছে,,,বাম হাত গড়িয়ে রক্ত পড়ছে,,,পাশেই ছোট্ট ছুরিটা পরা,,,
লজ্জায় পরির মাথা কাঁটা যাচ্ছিলো,,,মনে হচ্ছিলো নিঃশ্বাস আটকে আসছে,,,এতোটা মানুসিক চাপ সে সইতে পারছিলো না,,এতোটাই লজ্জা হচ্ছিলো যে নিজ বাবা মায়ের দিকে তাকাতে পারছিলো না,, তবে কি করবে সে,,এই লজ্জাজনক জীবন থেকে মরে যাওয়াও উত্তম,,

পরশ হাওলাদার নিজের কলিজার টুকরা রক্তাক্ত মেয়েটাকে কোনো মতে কোলে নিয়ে রাস্তায় ছুটছেন,,,জায়মা বেগম গাড়ি থামানোর চেষ্টা করছে,,তবে কোনো গাড়িই খালি নেই,,,
ইমন,,হাবিব,,,বিল্ডিং এর সামনের দোখানে দাঁড়ি বিড়ি ফুকছিলো,, কারণ নাবিল বলেছে সে আসা পর্যন্ত ওদের পাহারা দিতে,,,হাবিব রাস্তার অপারে তাকিয়ে ভুরু কুঁচকে বললো
_ ইমোন্না,,,হেগোরে চেনা চেনা লাগে না,,
ইমন বিড়ি ফুঁকে সামনে তাকিয়ে ভুরু কুঁচকে কিছুটা সময় নিয়ে বললো
_ আরে ওরা এখানে কি করে,,,,
বলেই ইমোন এগিয়ে যেতে লাগলো পিছন থেকে হাবিব বলে উঠলো
_ ভাইরে কল করমু,,
ইমোন পিছন ফিরে তাকিয়ে বললো
_ হ কর,,,আইতে ক,,,

নাবিল গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে,,, এমন সময় ফোনটা বেজে উঠলো তার,,নাবিল কিছুটা বিচ্ছিরি গালি দিয়ে ফোন রিসিভ করে বিরবির করে বললো
_ কোন জাওরা রে,,
হাবির ওপাশ থেকে চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ ভাই আমি হাবিব,,,
_ ঘুমাইতে ছিলাম খানকির পোলা,,,এখনি কল দিতে হইলো,,
হাবিব মৃদু কন্ঠে বললো
_ আরে ভাই পড়ে ঘুমান,,,আগে কথা শুনেন,,,,ওই যে কি জানি,,হো,,ভাবিরে নিয়া হেরা কই জানি যাইতেছে,,,,
নাবিল বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ তা তোদের কি ডুমরু বাজাইতে ওখানে রাখছি,,,সব কয়টার ঘাড় ধরে মটকানি দিয়ে ঠিক জায়গায় রেখে আয়,,,
_ আরে বাল পুরা কথা তো শুনেন,,,ভাবি মনে হয় অসুস্থ,,,হেরা অনেক কানতাছে,,,,
নাবিল ভুরু কুঁচকে বললো
_ মাগির মাইয়া আমারে শান্তি দিবো না,, তোরা যা আমি আইতাছি,,,,

নুবা নীরব চোখে উপরের দিকে তাকিয়ে আছে,,,সকাল হয়েছে অনেক,,,নুবার ঘুমটাও পড়েছে,, অবশ্য আমিনা বেগম নাস্তা করতে ডেকে গেছেন,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,, এদিকে আরহামের ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ তাকে ভীষণ বিচলিত করছে,,,লোকটা এমন ভাবে নিঃশ্বাস ফেলছে যা খুবি বিব্রতকর,,,নুবার ভাবনা চিন্তার ভিতরেই আরহাম তার গ্রীবা থেকে মুখ সরিয়ে নুবার মুখশ্রীর দিকে তাকালো,,,
নুবা চোখ সরিয়ে নিলো,,,বিরবির করে বললো
_ আপনি এতো ভারি ,,,বড় হাতি,,,
আরহাম নুবার থুতনি ধরে নিজের দিকে ঘুরালো,, শব্দ ব্যতিত নুবার ওধর দখল করে নিলো,,, প্রচন্ড গভীর ভাবে আঁকড়ে ধরলো তাকে,,নুবা অনুভব করলো লোকটা পুরো 100% love romantic মুডে আছে,,তবে নুবার ইচ্ছা হলো না,,যত সময় পর্যন্ত সব ঠিক না হচ্ছে মন সাই দিলো না তার,,
সময় পার হলো আরহাম নুবাকে ছেড়ে দিয়ে হাঁপিয়ে উঠলো,,,ভারি কন্ঠে বললো,,
_ বেবি ঘুমাচ্ছে,,আমিও মুডে আছি,,,তো তুমি কি বলো,,,
নুবা আরহামের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো
_ সকাল ১১ টা নাগাদ বাজে,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ so what,,,

নুবা মুচকি হেসে আরহামের ওধরে আলতো করে চুমু খেলো,,,ইতর আরহাম সুযোগ নিতে চাইলো তবে নুবা দ্বিতীয় বারের মতো সুযোগ দিলো না,,,,দুই হাত দিয়ে তাকে সরিয়ে দিলো,,পরপর উঠে বসে চুলের খোঁপা করে বললো,,
_ উঠুন,,,নাটক না করে,,
আরহাম বিরক্ত হয়ে বললো
_ বিরক্ত করছি,,, আমার কি সেই অধিকার টুকু নেই,,
নুবা উঠে দাঁড়িয়ে হাম তুলে বিছানা থেকে ওরনা তুলে নিলো,,,রুমে যেএ ফ্রেশ হতে হবে,,এখানেই কিছুই নেই তার,,,
আরহাম নুবার ওরনা টেনে ধরে আদুরে কন্ঠে বললো,,
_ নুবুউউ,,,Try to understand my feelings.,, please nubu,,,
নুবু ওরনা ছাড়িয়ে নিয়ে বললো
_ সবকিছু একটা সময় আছে,,,
আরহাম বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ এখনি সময়,,,বউ হও,, অন্ততপক্ষে এবার তো,,,,,,
_ ফ্রেশ হয়ে নিচে আসুন,,,
বলেই নুবা রুম থেকে বেড় হয়ে যেতে লাগলো,,, আরহাম পিছন থেকে চেঁচিয়ে বলে উঠলো,
_ পাষান মহিলা,, f*** you,,,
নুবা পিছন ফিরে তাকিয়ে আরহামকে ফ্লাইং কিস দিয়ে বললো
_ f*** you too,, তাড়াতাড়ি নিচে আসুন,,
বলেই নুবা চলে গেলো,, আরহাম বাচ্চাদের মতো মুখ ফুলিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো,,বিরবির করে বললো,,
_ what the f****

নুবা ধীরো পায়ে রুমে ঢুকে দেখলো হাজেরা কাপড় কাপড় সহ কিছু জিনিস পত্র গুচাচ্ছে,,নুবা আলতো করে এগিয়ে গেলো,,,হাজেরা মেয়েকে দেখলো তবে কিছু বললো না,,,
নুবা বোঝার চেষ্টা করলো তার মা কি করছে পরপর খেয়াল করলো তার কাপড় গুছাচ্ছে,,,নুবা গলা ছেড়ে কাশলো,,,হাজেরা নুবার কাশি শুনে মৃদু কন্ঠে বললো
_ যেগুলো প্রয়জনীয় গুছিয়ে দিয়েছি,,,রুম পর্যন্ত নিয়ে যেতে সুবিধা হবে,,
নুবা বুঝতে পারলো তার জন্যই সব গুছনো হচ্ছে,,,নুবার ভাবনা চিন্তার ভিতরে আমিনা বেগম রুমে প্রবেশ করলেন,,,,নুবা ফিরে তাকালো,,আমিনা বেগম মৃদু কন্ঠে বললেন,,
_ ফ্রেশ হয়ে নাস্তাটা সেরে নিবি তো,, না সারাদিন তোদের জন্য বসে থাকবো,,একটু পর আবার আরশিকে আনতে যাবি না নাকি,,,
নুবা ক্লান্ত কন্ঠে বললো
_ আসছি চাচি তুমি যাও,,,
আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে বললো
_ চাচিইইইই,,,

নুবা আমিনা বেগমের কথার ধরন দেখে দাঁত দিয়ে জিভ কেটে বললো
_ মানে চাচি মা,, অভ্যাস হয়ে যাবে,,,এতো রিয়েক্ট করো না,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চলে গেলেন,,নুবা তার মায়ের শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে বললো
_ সকালের নাস্তা করেছো মা,,,
হাজেরা কাঠ কাঠ কন্ঠে বললেন
_ আমার খবর তোর রাখতে হবে না,,,
নুবা মুখটা কালো হয়ে গেলো,,মাথা নিচু করে নিলো,,,চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো, মৃদু কন্ঠে বললো,,
_তুমি যতটা ভাবছো ওতটা খারাপ কাজ আমি কিরিনি,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ আমি একবারো বলিনি যে তুই খারাপ কাজ করেছিস,,এখন যেএ নাস্তা করে নে,,
_ তুমি আসো,,
_ আমি এগুলো গুছিয়ে আসছি,, তুই যা,,
মায়ের নরম কন্ঠে নুবা একটু খুশি হলো,,যাক আস্তে আস্তে তবে রাগ অভিমান শেষ হবে,,,

ইশিতা আয়রাকে কোলে নিয়ে বসে আছে,,,সে একটু অবাক কারন কাল রাতে হঠাৎ করে নুবার আরহামের বিয়ে ,, কেমন আজগুবি লাগছে তার কাছে ,,,,
নুবা ব্যস্ত হাতে আরহামের প্লেটে খাবার তুলে দিলো,,, আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো,,,
_ খাওইয়ে দেও,,,
আরহামের কথা শুনে নুবা একটু অস্থির হলো,, কারণ সামনেই তার মা আর শাশুড়ি বসা,,,যতোই হোক এখনো সব কিছু সেভাবে ঠিক হয়নি,, এর ভিতরে এতো ঢং ডং করলে কি ভালো দেখায়,,, অনেকটা ভেবে নুবা জোরপূর্বক হেঁসে ফিসফিস করে বললো,,
_ আপনারটা আপনি খানটা ভাই,,,
আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ what,,ভাই,,আমি তোমার ভাই হই,,,,ভাই,,, like seriously ,,কত কষ্ট করে বিয়ে করার পর ভাই শুনতে হচ্ছে,,,

বেশ জোরেই বললো আরহাম,,,নুবা শুকনো ঢোক গিলে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,,,
_ আস্তে কথা বলুন,,গলা না তো তল্লা বাঁশ,,,
আমিনা বেগম তাদের কান্ড দেখে মুচকি হাসলো তবে হাজেরা চুপচাপ খাওয়া মনযোগ দিয়ে আছে,,, আরহাম আদুরে কন্ঠে বললো,,
_ খাওইয়ে দেও না বউ,,,একটু খাওইয়ে দিলে কি হয় বউ,,,মিসেস মির্জা,, মিসেস মির্জা কি আমাকে একটু খাওইয়ে দিতে পারবে না,,,
আরহাম কথা গুলো টেনে টেনে হাজেরার দিকে তাকিয়ে বললো,,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো আরহামের কান্ডে,,,এই লোকটা কি কোনো ভাবে তার মাকে জেলাস করছে,,,”যে দেখেন,,এখন আপনার মেয়ে আমার বউ,,যা বলবো তাই করবে”
নুবা আরহামের বাচ্চামো কান্ড দেখে অবাক হয়ে বললো
_ আপনি কি আস্তে কথা বলতে পারেন না,,
আরহাম গলা ছেড়ে কেশে বললো

_ কেন আস্তে বলবো,,by the way আমার বউ কে আমি ডাকবো,,,যা ইচ্ছা তাই করবো এতে লোকের কি,,,,হুম,,,,লোকের কথা দিয়ে যায় আসে,,,
নুবা চোখের পলক ফেলে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,হাজেরা খাবার ইচ্ছা মতো চিবাতে লাগলো যেনো সে খাবার না আরহামের মাথা চিবাচ্ছে,,, ইচ্ছা তো করছে ঘারটা মটকে দিতে,,,তবে আফসোস এতোটা বেবাকুফ (বলদ)সে না,,
নুবার গমড় চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কি শুরু করলেন আপনি,,,
বলেই চেয়ারে বসে নিজের প্লেটে খাবার তুলতে লাগলো,,, আরহাম হাজেরার পাংশুটে মুখ দেখে বেশ মজা পেলো,,,মনে মনে শয়তানি হাসি দিলো,,,কি সুন্দর দৃশ্য যাকে পছন্দ করে না সেই তার মেয়ের জামাই,, নিশ্চয় ভিতরে ভিতরে রাগে ফেটে যাচ্ছে,,,
এদিকে নুবাকে আর একটু বিব্রত করতে হঠাৎ করেই থ্রিপিস ভেদ করে নুবার কমড় চেপে ধরলো,,,,নুবা পিলে চমকে উঠলো,,, মাত্র মুখে খাবার দিয়েছিলো সে তবে আরহামের এরকম কান্ডে সে খাবার চিবাতে ভুলে গেলো,,,সরু চোখে আরহামের দিকে তাকালো,,,
আরহাম দুই আঙ্গুল দিয়ে কোমড়ের একটু মাংস চেপে ধরে এগিয়ে এসে হা করলো,,,
নুবা চাঁপা নিঃশ্বাস ফেলে বিরবির করে বললো

_ অসভ্য লোক,,,
বলেই ইচ্ছা না থাকা শর্তেও আরহামের মুখে খাবার তুলে দিলো,,,, আরহাম খাবার মুখে নিয়ে চিবাতে চিবাতে বললো,,
_ বউ এর হাতের খাবারের স্বাদি আলাদা,,,
হাজেরা একটু হেসে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_ মাঝে মাঝে খাবারে বিষও থাকতে পারে বাবা,ভেবো না আমি হুমকি দিচ্ছি,,,আমি তোমাকে সাবধান করে দিলাম,,,
বলেই হাজেরা প্লাট নিয়ে উঠে গেলো,,,আমিনা খেতে খেতে হেসে উঠলেন,,,তার বেশ ভালোই লাগছে শাশুড়ি আর জামাই এর মন কষাকষি,,,
আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বললো
_ কি বলে গেলো তোমার মা,,, সত্যি কি এমন করবে নাকি,,,
নুবা আরহামের মুখে খাবার পুরে দিয়ে বললো
_ দিতেও পারি যদি উল্টা পাল্টা কিছু করেন,,,
_ what,,, the h*** এমন করবে আমার সাথে,,,
নুবা ফিক করে হেসে উঠলো,,,আমিনা বেগম ছেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললো
_ তোর বাবা তোকে অফিসে জয়েন করতে বলেছে,
আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো

_ sorry mom,,নুবাকে নিয়ে তো আমি চলেই যাবো,, আমার পদে বরং আরাফকে বসিয়ে দিও,,,
ছেলের কথায় আমিনা বেগম সহ নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,, আমিনা বেগম ভুরু কুঁচকে সুধালেন,,
_ তুই কি মনে করেছিস নুবাকে নিয়ে তোর বাপ যেতে দিবে,,,কোথাও যাওয়া হবে না,,আপনার এখানেই থাকতে হবে,,,
আরহাম বিরক্ত নিয়ে বললো
_ থাকার জন্য বিয়ে করিনি আমি,,অতী শিঘ্রই আমি নুবাকে নিয়ে চলে যাবো,,আর dad কে কথাটা কানে ঢুকিয়ে দিও,,
আরহামের কথা নুবার পছন্দ হলো না,,,বিরবির করে বললো
_ কোথায় যাবো আমরা,,,
আরহাম নুবার দিকে তাকিয়ে হাতের ইশায় বোঝালো
_ উড়ে উড়ে আমি যেখান থেকে এসেছিলাম সেখানে চলে যাবো,,, সাথে তুমিও থাকছো তাই তাড়াতাড়ি করে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করো,,,
নুবা শব্দ করে প্লেট ডাইনিং টেবিলে রাখলো,,,,পরপর প্লেটে হাত ধুতে ধুতে বললো,,
_ আমি কোথাও যাচ্ছি না,,গেলে আপনি যাবেন আমি না,,,,
বলেই নুবা উঠে চলে গেলো,, আরহাম ভুরু কুঁচকে বললো
_ নুবা,,এই মেয়ে,,,

নুবা উত্তর দিলো না,, আরহাম একটু রেগে বললো
_ সাহস বেড়ে গেছে,, অসভ্য,,,নুবা,,,
নুবা উত্তরি দিলো না,,,তার ভাবতেই বুক পুরছে তারা নাকি চলে যাবে,,,কক্ষনো না,,,এখানেই থাকবে সে,,, নিজের মাকে একা ফেলে যাবে না,,,তাও এই অবস্থায়,,,
আরহাম একটু পানি খেএ বউ এর পিছনে ছুটে গেলো,,,এই মেয়েটার দিন দিন সাহস যেনো বেড়েই যাচ্ছে,,কত বড় সাহস হলে স্বামীর মুখের উপর না করে,,বেয়াদব,,,

নার্স ব্যস্ত কন্ঠে বললো
_ পেশেন্টের অনেক বেশি রক্তক্ষরণ হয়েছে ,,উনার অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে A- নেগেটিভ রক্ত লাগবে,, দুঃখিত, এই মুহূর্তে আমাদের হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে A- নেগেটিভ রক্ত নেই,, আপনারা যত দ্রুত সম্ভব রক্তদাতার ব্যবস্থা করুন,, আমরা ততক্ষণে জরুরি চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি,,
কাঁপতে থাকা পরশ হাওলাদারের নিঃশ্বাস আঁটকে আসলো,, নার্স কথা টুকু সেরে চলে গেলো,,,জায়মা বেগম প্রিউ কে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কারণ মেয়েটারো জ্বরে শরীর পুরছে,,, ওষুধেও যেনো ধরছে না,,,তার উপর এই কথা শুনে তিনি কেঁদে উঠে বললেন,,
_ এখন রক্ত কোথায় পাবো,,,,

পরশ হাওলাদারের নিঃশ্বাসের গতি বেড়ে গেল, মনে হচ্ছে শ্বাসকষ্টে বুকটা ভারী হয়ে আসছে, কম্পিত দৃষ্টিতে তিনি নিজের কাঁপতে থাকা হাতের দিকে তাকালেন, সেই হাতে এখনো লেগে আছে তাঁর মেয়ের শরীরের উষ্ণ রক্ত, পরশ হাওলাদার হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন, যেই সন্তানকে তিনি একদিন এই হাতের তালুতে আগলে রেখে পৃথিবীর সব কষ্ট থেকে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন, আজ সেই হাতই রক্তে রঞ্জিত হয়ে অসহায় হয়ে কাঁপছে, একজন বাবার বুকের ভেতরটা যেন আবারো মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে,,,
তিনি অসহায় দৃষ্টিতে জায়মার দিকে তাকিয়ে বললেন
_ কার কাছে যাবো জায়মা,,,তো,, তোমার জানা মতে আমাদের পরিবারে কারো A- আছে,,
জায়মা বেগম মাথা ঝুঁকিয়ে বললেন,,,
_ আমি কি করে জানবো,, আমার তো B+,,প্রিউ আপনার কারোরি A- না,,,,

নাবিল গাড়ি থেকে নেমে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ইমনের কাছে এগিয়ে যেএ বললো
_ কি হইছে,,,
ইমন শান্ত কন্ঠে বললো
_ ভাবি সুইসাইড করছে ভাই,,হাতের রগ কাইটা ফেলছে,,,,
কথাটা শুনে নাবিলের দাঁতে দাঁত চেপে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বললো,,
_ আজক্কা যদি ওই মাগি না মরে তাইলে আমিই ওরে গলা চাইপা মারমু,,,এতো মরনের সখ,,সব সখ আইজক্কা ঘুচায় দিমু,,এতো সাহস ওর সাওয়া দিয়া ভরমু আমি,,,মাগি,,,,
নাবিল কথা বলতে বলতে এগিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খেলো,,,আরো রেগে নাবিল,,,পিছন ঘুরে লোকটাকে কিছু বলতেই যাবে তখনি ইমন এগিয়ে এসে বলে উঠলো,,
_ ভাবির আব্বায়,,,কাইন্দা কাইন্দা কই জানি যাইতেছে,,, টেনশনে মনে হইতেছে,,,
নাবিল পাত্তা দিলো না,, এগিয়ে গেলো,,,এক তলা ছেড়ে দু তলায় উঠতেই জরুরি বিভাগের সামনে জায়মা বেগমকে প্রিউকে কোলে নিয়ে বসে থাকতে দেখলো,,,নাবিল এগিয়ে যেএ গর্জে উঠে বললো,,
_ তোর ওই চুত***** মাইয়া কই,,,

হঠাৎ চিনা পরিচিতি কন্ঠে জায়মা বেগম চম্কে উঠলো,,,মাথা উঁচু করে উপরের দিকে তাকিয়ে নাবিলকে দেখেই তার বুকটা কেঁপে উঠলো,,,,নাবিল ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললো,,
_ কিরে কস না কেন,,মনে কি ডর ভয় নাই নাকি,,,
জায়মা বেগম উঠে দাড়িয়ে রাগি কন্ঠে বললো
_ আমার মেয়েটাকে মেরেই তো ফেলেছো আবার কেন আসছো,,,নাকি আমাদের তখন মারোনি তাই এখন মারতে আসছো,,,
নাবিল কিছু বলতেই যাবে তখনি ইমন বলে উঠলো,,
_ ভাই ভাবি তো ভিতরে,,,এই যে হের লোগে কথা কও,,,
নাবিল পিছনে তাকিয়ে দেখলো নতুজান হয়ে doctor এর পোশাক পড়া একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে,,নাবিল ক্ষিপ্ত হয়ে বললো,,,
_ ওই মগির কি হইছে,,
Doctor থতমত খেএ বললো
_ জী,,জী sir বুঝলাম না,,,
নাবিল পকেটে গোঁজা গান বেড় করে দাঁতে দাঁত চেপে বলতে লাগলো,,
_ বুঝিস না চুদা***,,,খানকির পুত,,,
ইমন শান্ত কন্ঠে বললো
_ ভাই ভাবি ভিতরে,,

নাবিল doctor কে নিয়ে ডিরেক্ট জরুরি বিভাগে ঢুকে গেলো,, হঠাৎ কারো প্রবেশে ওখানে থাকা নার্স আর doctor ক্ষিপ্ত হলো তখনি পিছন থেকে ওই doctor বলে উঠলো,,
__নাবিল ইফতিয়ার খান,,,, জব্বার খানের,,,
বাকি কথা বলতে হলো না,,, একজন doctor এগিয়ে এসে বললেন
_ পেশেন্ট আপনার কি হয় sir,,
নাবিল doctor কে পাশ কাটিয়ে বেডে পড়ে থাকা পরির দিকে এগিয়ে গেলো,,,,ভুরু কুঁচকে বললো
_ কি হইছে ওর,,, কিছু করোস না কেন তোরা,,
_ actually sir,,উনার A- রক্ত দরকার ,,,বাকিটা আমরা সামলে নিবো,,
নাবিল হাতের গান ঘুরাতে ঘুরাতে এগিয়ে এসে বললো
_ এই তুই মাইয়া না পোলা,,মাক্স খুল,,,
Doctor কম্পিত হাতে ম্যাক্স খুললো,,নাবিল ক্ষিপ্ত হয়ে বললো,,
_ পোলা হইয়া বেডি মানুষের হেনে হনে হাত দিয়া চিকিৎসা করোস, হসপিটালে কি ফিমেইল doctor নাইরে বাইনচো****,,,
তখনি পাশ থেকে ফিমেইল doctor ছুটে এসে বললো
_ sir আছি তো,,
নাবিল সেদিকে তাকিয়ে বললো
_ তাইলে এইডা হেনে কি করে ওরে বাইর কর,,,আর রক্তের ব্যবস্থা করতেছি,,,,ওর যাতে কিছু না হয় আর যদি হয় তাইলে এইখানকার সব কয়টা মাগির পুতরে জেন্ত কবর দিমু,,

নুবা হাঁসফাঁস করে বললো
_ ছাড়ুন,,কি করছেন,,
আরহাম বিরক্ত হয়ে বললো,,
_ ছাড়ুন কি,,,এখন থেকে বলবে ধরুন,,,!!
নুবা একটু রাগ দেখিয়ে বললো
_ ধূর,, সবসময় সবকিছু ভালো লাগে না,,,
_ but আমার তো ভালো লাগে,,,
নুবা অনেকটা বিরক্ত নিয়ে চেঁচিয়ে বললো
_ ছাড়তে বলছি আমি,,, বিরক্ত লাগছে,,
আরহাম নুবাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে করিডোরের দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে মৃদু কন্ঠে বললো,,
_ what happened নুবা,,এতো খিটখিট করছো কেনো,,,এতো বিরক্ত কেনো আমার প্রতি,,,বিয়ে হয়নি ২৪ ঘন্টা আর এখনি এতো বিরক্ত,,,
নুবা চোখ তুলে আরহামের দিকে চেয়েই থাকলো,,এভাবে তাকাতে দেখে আরহাম kiss করার জন্য এগিয়ে আসলো,,নুবা মুখ ঘুরিয়ে নিলো,,, আরহাম আদুরে কন্ঠে বললো
_ ok fine আমরা যাচ্ছি না কোথাও,,,তবে সময় করে সপ্তাহ খানিক ঘুরে আসবো like হানিমুন,,,ok,,
নুবা এবার আরহামের দিকে ফিরে তাকিয়ে মিনমিন করে বললো
_ যদি ওখানে নিয়ে যেএ আর এখানে না নিয়ে আসেন তবে,,,
আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো

_ no way বেবি,,,আমি promise ভঙ্গ করি না,, trust me আমরা ফিরে আসবো আর আমরা এখনি যাচ্ছি না আগে বড় করে বিয়ের অনুষ্ঠান করবো,, কারণ আমি চাই সবার মতো আপনিও বউ সাজুন,,,
নুবা জ্বলজ্বল চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে হেসে বললো,,
_ তাহলে বাসরটাও ফুল সজ্জা রাতেই হবে,,,ওকে,,, honey,,
বলেই আরহামের গালে টুপ করে একটা চুম খেএ দৌড় দিলো নুবা,,, আরহাম হতভম্ব হয়ে গেলো,,কি বলে গেলো নুবা,,তার মানে আবারো ধৈর্য ধরতে হবে,,এটা ভেবেই আরহাম বিরক্ত নিয়ে বললো,,
_ no way,,বাসরটা সেরে আমর কথাটা বলা উচিত ছিলো,, ইস্ আমারি দোষ,,,

জায়মা বেগমের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে,,নাবিল পায়ের উপর পা তুলে পাশে বসে আছে,,, অবশ্যই তার এক পা নবাব জাদাদের মতো ঝুলতেই আছে,,,
জায়মা বেগম টের পাচ্ছেন এই নাবিল মেয়েকে ধংস করে শুধু পিছা ছাড়বে না,,, নিশ্চয় তিলে তিলে মারবে তার কলিজার টুকরাটাকে,,,না হলে এখানে আসার মানে কি,,জায়মা বেগম আর ভাবতে পারলো না,,
শুধু মনে মনে দোয়া করলো যাতে তার মেয়েটা মরে যায়,,, কারণ না হলে নাবিল শান্তিতে বাঁচতে দিবে না পরিকে,,জীবনে মনে হয় জয়মা বেগমি প্রথম মা যে কিনা কোনো এক জানোয়ার থেকে নিজ মেয়েকে রক্ষা করতে পারবে না দেখে তার নিজের মেয়ের মৃত্যু কামনা করছে,,,
জয়মা বেগম মনে মনে বললো

“হ্যে আল্লাহ,, আমার মেয়েটাকে মেরে ফেলো,,নয়তো এই জানোয়ারের হাত থেকে বাঁচিয়ে নেও,,, আমার নিষ্পাপ ফুলটাকে ভালো মতো বাঁচতে দেও না হলে একবারে তোমার কাছে নিয়ে নেও”
জায়মা বেগমের ভাবনার ভিতরে জরুরি বিভাগের দরজা ধীরে ধীরে খুলে গেল,,সাদা অ্যাপ্রন পরা নারী চিকিৎসক বাইরে বেরিয়ে আসতেই জায়মা বেগম তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়ালেন,,তাঁর কাঁপতে থাকা চোখ দুটি চিকিৎসকের মুখের দিকে স্থির হয়ে রইল,, ঠোঁট শুকিয়ে গেছে, বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছে, যেন পরের কথাগুলোই তাঁর পৃথিবী বদলে দেবে,,,
চিকিৎসক শান্ত গলায় বললেন,,
_আপাতত রোগী শঙ্কামুক্ত আছেন,আমরা রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ করেছি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু হয়েছে,,
জায়মা বেগমের মুখটা চুপসে গেলো,, আল্লাহ কেন তার মেয়েটাকে নিয়ে গেলো না,, হসপিটালে না আনাই ঠিক ছিলো,,যেতো মরে তবু শান্তি পেতো,,
এদিকে নাবিলো শুনলো doctor এর কথা,চিকিৎসক জায়মা বেগম কে চিন্তিত দেখে মৃদু কন্ঠে বললেন
_দেখুন উনার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে ,,তাই আপনাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে চাই, উনি কি বিবাহিত, নাকি অবিবাহিত?
জায়মা বেগম কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে চিকিৎসকের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন,, তাঁর গলা শুকিয়ে এলো,,কি উত্তর দিবে সে,,,নাবিল পাশ থেকে বলে উঠলো,,

_ বাঁচবো কিনা হেইডা ক ,,বেশি পকপক না করে,,
চিকিৎসক নাবিলের দিকে তাকিয়ে ধীর স্বরে বললেন,
_ বিষয়টি জানার কারণ চিকিৎসার সুবিধা,,পরীক্ষায় দেখা গেছে, তাঁর যৌনপথে জোরপূর্বক আঘাতের কারণে একাধিক নরম টিস্যু ছিঁড়ে গেছে,, সেই ক্ষতগুলো থেকেই প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে,, এর পাশাপাশি তিনি মাসিকের মধ্যেও ছিলেন, ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় রক্তপাত আরও বেশি হয়েছে,, দুটি কারণ একসঙ্গে থাকায় তাঁর শরীর খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে,,তার উপর সুইসাইড করার চেষ্টা যদি রেপ কেস হয় তবে অবশ্যই থানা পুলিশ করতে হবে তাই না sir,,, না হলে তো আমরা ফাসবো,,,
নাবিল উঠে দাঁড়ালো দাঁতে দাঁত পিষে বললো,,
_ ওর যদি কিছু হয় তাইলে তোরা এমনেও ফাসবি,,
চিকিৎসক শুকনো ঢোক গিলে বললো,,
_আমরা ক্ষত পরিষ্কার করেছি, রক্তপাত নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়েছি এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের চিকিৎসাও শুরু করেছি,,তাঁর শরীরে যে পরিমাণ রক্তক্ষরণ হয়েছে, সেটি বিবেচনা করে প্রয়োজনে আরও রক্ত দেওয়া হয়েছে,,পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে,,

চিকিৎসকের মুখে পেশাদারিত্ব থাকলেও কণ্ঠে সহানুভূতি স্পষ্ট ছিল,,, চিকিৎসক মৃদু কন্ঠে বললো,,
_আমি বুঝতে পারছি, এই খবর আপনাদের জন্য খুব কঠিন,,কিন্তু এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোগীকে শারীরিক ও মানসিক—দুই দিক থেকেই যত্ন দেওয়া,,দয়া করে তাঁকে কোনো চাপ দেবেন না বা বারবার ঘটনার কথা জিজ্ঞাসা করবেন না,,তিনি যখন মানসিকভাবে প্রস্তুত হবেন, তখন ধীরে ধীরে কথা বলা যাবে,,আপাতত তাঁর বিশ্রাম, নিয়মিত চিকিৎসা এবং পর্যবেক্ষণই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন,, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি,,যদি কোনো পরিবর্তন হয়, সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের জানানো হবে,,,
বলেই চিকিৎসক চলে গেলো,, নাবিলের শরীর জ্বলতে লাগলো,, একবার শুধু জ্ঞান ফিরুক,,বাপ মায়ের নাম ভুলিয়ে দেবে ওর,,
আর ভাবতে পারলো না নাবিল,, পকেটে থেকে সিগারেট বের করে সরে গেলো ওখান থেকে,,জায়মা বেগম ধপ করে ওখানে বসে পড়লেন এক হাত কপালে চেপে ফুঁপিয়ে উঠলেন,,,
মিনিট খানিকের মধ্যেই একটা লোককে নিয়ে পরশ হাওলাদার ফিরে আসলেন,,এসেই চিন্তিত কন্ঠে বললেন,,,

_ doctor কোথায়,,,এই যে ,,A- রক্ত ওর,,
জায়মা বেগম মাথা উঁচু করে স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললেন,,
_ সব শেষ পরির আব্বু,,ওই জানোয়ারটা এই পর্যন্ত চলে আসছে,, আমার মেয়ের মৃত্যুর আগে মনে হয় না পিছা ছাড়বে,,
পরশ হাওলাদার ভুরু কুঁচকে নিলেন,,
_ মানে,,,
বাড়ির সবাই ব্যস্ত,,আরশিকে আনতে যাচ্ছে,,নুবা আয়রাকে রেডি করিয়ে মুখে বেবি ক্রিম মেখে দিতে দিতে বললো,,
_ আপনি চুপচাপ শুয়ে থাকেন,, মাম্মা দুই মিনিটে রেডি হয়ে যাবে ওকে সোনা,,,
আয়রা খিলখিল করে হাসলো,,,
এদিকে আরহাম একদম ফিটফাট হয়ে রেডি হয়ে নিয়েছে অবশ্য সে যেতে চাইছিলো না তবে নুবা যাবে,,তার মানে তারো যেতে হবে,,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯১

সময়ের দাঁড়িপাল্লা এতোটাই ভারী, তবুও অদ্ভুতভাবে মুহূর্তগুলো খুব দ্রুত ফুরিয়ে যায়,অপেক্ষার প্রতিটি সেকেন্ড যেন একেকটা দীর্ঘশ্বাস হয়ে বুকের ভেতর জমে থাকে,কিন্তু ঘড়ির কাঁটা কারও জন্য থেমে থাকে না, নিজের গতিতেই এগিয়ে চলে,কিছু ক্ষণ আনন্দ কেড়ে নেয়, কিছু ক্ষণ আবার গভীর কষ্ট উপহার দেয়,
চোখের পলকেই একটি বিকেল সন্ধ্যায় হারিয়ে যায়, তারপর নেমে আসে রাত,মানুষ শুধু সময়ের পেছনে ছুটে চলে, অথচ সময় কখনো ফিরে তাকায় না,
যা একবার হারিয়ে যায়, তা শুধু স্মৃতি হয়ে হৃদয়ের ভাঁজে রয়ে যায়,আর সময় নীরবে শিখিয়ে দেয়, পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসও একদিন অতীত হয়ে যায়,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৯৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here