নেশাক্ত প্রহর পর্ব ২৬
রূপন্তী সরকার
ঋষভের এই হুট করে বলা বেফাঁস কথাটা শুনে রুমের সবাই হা হয়ে ওর দিকে চেয়ে রইল।
কারণ বাড়ির সবাই খুব ভালো করেই জানে যে ঋষভ ইয়াশফাকে নিজের বউ বলে মোটেও স্বীকার করে না।
কিন্তু এখন সেই মেয়েটা বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার কারণে যে ও মনে মনে এতো আফসোস করছে, সেটা ওর মুখ ফসকে বের হওয়া কথাতেই একদম ক্লিয়ার হয়ে গেল।
অদ্রীত এতক্ষণ চুপচাপ দেখছিল। এবার ও এক লাফে এসে সরাসরি ঋষভের পাশে বসে পড়ল। একটু খোচা দিয়ে বলল, ” আপনে নাকি বউরে মানেন না, তো মেয়েটা একটু বাপের বাড়ি যেতেই আবার এত আফসোস করেন ক্যা?কাহিনী কী?”
ঋষভ চোখ দুটো বড়ো বড়ো করে একনজরে অদ্রীতের দিকে তাকাল।
ওর ওই চাউনি দেখে অদ্রীত একটা ঢক গিললো। ও জোড় করে হাসির নাটক করে আমতা আমতা করে বলল,
“হে হে ভাই রাগ করেন ক্যা? আমি তো এমনিই বললাম”
শুভ্র এবার ঋষভের সামনে এসে হাত দুটো ধরে বলল,
“ঋষ, প্লিজ চল না ভাই আমাদের সাথে! আজকে না গেলে ওরা সত্যিই জ্যোতিকে অন্য কারও সাথে বিয়ে দিয়ে দেবে। আমার লাইফটা শেষ হয়ে যাবে!”
ঋষভ প্রথমে কিছুতেই রাজি হতে চাচ্ছিল না। ওর নিজের মুড এমনিতেই অফ, তার ওপর এই বউ চুরির ঝামেলার মধ্যে ও জড়াতে চায় না। কিন্তু শুভ্র, অদ্রীত আর রুহি তিনজন মিলে এক প্রকার ওর হাত-পা ধরে টানাটানি শুরু করে দিল। শেষমেশ ওদের এত ছটফটানি দেখে ঋষভ রাজি না হয়ে পারল না। ও আলমারি থেকে একটা পাতলা, ফিনফিনে সবুজ রঙের শার্ট আর একটা কমফোর্টেবল ট্রাউজার পরে নিল।
দুই হাতের সাদা ব্যান্ডেজের ওপর দিয়ে শার্টের হাতাটা একটু গুটিয়ে নিল। ওদিকে শুভ্র জলদি করে একটা পাঞ্জাবি গায়ে চাপিয়ে নিল।
ওরা সবাই মিলে যেমনি ঘর থেকে মেইন গেটের দিকে পা বাড়াবে,
অমনি লিভিং রুমের কর্নার থেকে গম্ভীর একটা আওয়াজ ভেসে এল,
“কী ব্যাপার? তোরা সবাই মিলে এত রাতে সেজেগুজে কোথায় যাচ্ছিস শুনি?”
তাকিয়ে দেখল রিদ সোফায় বসে কফি খাচ্ছে।
ঋষভ কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন স্ক্রোল করতে করতে ভাবলেশহীন মুখে দাঁড়িয়ে রইল।
ওদিকে শুভ্রর তো ভয়ে বুক দুরুদুরু কাঁপছে। ও রিদের সামনে গিয়ে মিনমিন করে বলল,
“কাকাই আমরা বউ চুরি করতে যাচ্ছি। তুমিও চল না আমাদের সাথে!”
রিদ কফির মগে চুমুক দিতে গিয়েও থেমে গেলো। চোখ দুটো মার্বেলের মতো গোল গোল করে অবাক হয়ে বললো
“কার বউ চুরি করবি এত রাতে?”
শুভ্র মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল,
“আমার বউ”
রিদ ঋষভের দিকে তাকালো। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো
“ঋষ! তুমিও যাচ্ছো নাকি ওদের সাথে?”
শুভ্র পাশ থেকে চট করে বলে উঠল,
“হ্যাঁ কাকাই, ও যাচ্ছে আমাদের সাথে। তুমিও চল না, হেভি মজা হবে।
রিদ এবার একটু রেগে গিয়ে কফির মগটা টেবিলের ওপর রাখলো। তারপর মুখ বাঁকিয়ে বললেন,
“তোর বউকে চুরি করতে গেলে আমার বউ বাড়িতে একা হয়ে যাবে না? আমি আমার জানবাচ্চাকে একা রেখে কোথাও যাবো না। তোরাই যা “ফসল” হয়ে ফিরিস, এই দোয়াই দিলাম!”
ঋষভ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এই লোকের পাগলামি কোনোদিনও কমবে না! ওরা আর এক সেকেন্ডও না দাঁড়িয়ে লিভিং রুম থেকে বেরিয়ে গাড়িতে গিয়ে বসলো
বিয়ে বাড়িটা খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। চারিপাশে ঝলমলে লাইটিং, প্রচুর মানুষের আনাগোনা। ঋষভ একটু সাইড করে ওর গাড়িটা থামাল। সবাই গাড়ি থেকে নেমে এক পাশে গিয়ে দাঁড়াল।
ওরা যখন ভেতরে ঢোকার জন্য মেইন গেটের দিকে পা বাড়াবে, তখনই এক লোক ওদের পথ আটকে জিজ্ঞেস করল, “আপনারা কোন পক্ষের?”
শুভ্র পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল, “আগে আপনি বলেন, আপনি কোন পক্ষ?”
লোকটা একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল,
“আমি মেয়ে পক্ষ।”
রুহি পাশ থেকে বলল,
” আমরা ছেলে পক্ষ। আমি বরের নিজের বোন!”
লোকটা রুহির কথা শুনে বলল, “ও আচ্ছা আচ্ছা! বাবা আপনারা ভেতরে যান,”
বিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢোকার পর চারপাশের ভিড় দেখে শুভ্র আর অদ্রীতের মাথা চক্কর দেওয়ার জোগাড়। সময় একদমই কম, যেকোনো মুহূর্তে জ্যোতির বিয়ে হয়ে যেতে পারে। অদ্রীত আর দেরি না করে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক লোককে খপ করে ধরে নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল,
“ভাই, কনের মানে বউয়ের রুমটা ঠিক কোথায় বলতে পারেন?”
লোকটা এক হাতে প্লেট আর অন্য হাতে কোল্ড ড্রিঙ্কসের গ্লাস ধরে এক নিঃশ্বাসে বলল,
“সোজা সামনে যাইয়া ডাইনে যাইয়া, তারপরে বামে যাইয়া, আবার সোজা যাইয়া এক্কেরে ডাইনে!”
কথাটা শেষ করেই লোকটা ভিড়ের মধ্যে হাওয়া হয়ে গেল। এদিকে লোকটার ওই গোলকধাঁধার মতো ডিরেকশন শুনে অদ্রীতের মাথাটাই ঘুরে উঠল! ও হাঁ করে শুভ্র আর ঋষভের দিকে তাকিয়ে বলল,
“ভাইরে ভাই! মরমু আমি গলাই দড়ি দিমু”
ঋষভ একটু বিরক্ত হয়ে অদ্রীত আর শুভ্রর দিকে তাকাল। তারপর গম্ভীর গলায় ওদের উদ্দেশ্যে বলল,
“তোরা বাইরে গিয়ে দাঁড়া ড্রামা করিস না। আমি নিয়ে আসছি জ্যোতিকে।”
ঋষভের কথা শুনে শুভ্র, রুহি আর অদ্রীত আর কথা বাড়াল না। ওরা চুপচাপ মেইন গেট দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে পার্ক করা গাড়ির কাছে দাঁড়াল।
ওদিকে ঋষভ সিঁড়ি বেয়ে সোজা দোতলার দিকে উঠে গেল। উপরে উঠতেই ও দেখল একটা পিচ্চি মেয়ে সুন্দর একটা লেহেঙ্গা পরে করিডোরে ঘুরে বেড়াচ্ছে,
দেখতে বেশ কিউট লাগছে। ঋষভ মেয়েটাকে ইশারা করে নিজের কাছে ডাকল।এরপর ট্রাউজারের পকেটে হাত দিয়ে একটা ডেইরি মিল্ক চকলেট বের করল। আজকাল কেন জানি ওর পকেটে সবসময়ই চকলেট থাকে। ও ইচ্ছে করেই চকলেট রাখে। বাড়িতে একটা বাচ্চা ইন্দুর আছে।
পকেটের একগাদা চকলেট থেকে একটা চকলেট মেয়েটার হাতে দিয়ে ঋষভ নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল, ” বউ তোমার কী হয়?”
মেয়েটা চকলেট পেয়ে একগাল হেসে মিষ্টি করে বলল, “আমার বড় আপুউ!”
ঋষভ বলল, “ওর রুমে নিয়ে চলো তো আমাকে একটু।”
বাচ্চা মেয়েটা চকলেটের লোভে আর কোনো প্রশ্ন না করে ঋষভকে সাথে নিয়ে সোজা জ্যোতির রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ঋষভ আলতো করে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে দেখল রুমে এই মুহূর্তে আর কেউ নেই। জ্যোতি ভারী বেনারসি আর গয়না পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একা একাই চোখ মুছে কান্না করছে। ঋষভ জ্যোতির দিকে তাকিয়ে সোজা সাপটা প্রশ্ন করল,
“আপনিই কি জ্যোতি?”
জ্যোতি হুট করে আয়নায় একটা ছেলের অবয়ব দেখে চমকে পেছন ফিরে তাকাল। তাকিয়েই ও একদম স্তব্ধ। এটা তো শুভ্রর ভাই ঋষভ। ও শুভ্রর ফোনে অনেকবার ঋষভক দেখেছে, আর শুভ্রর মুখে ওর রাগ আর স্বভাবের ব্যাপারেও অনেক গল্প শুনেছে। জ্যোতির বুকের ভেতরটা একটু কেঁপে উঠল, ও একটা ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলল,
“জ্বি আপনি এখানে কীভাবে?”
ঋষভ গম্ভীর গলায় বলল, “চলুন আমার সাথে।”
জ্যোতি চরম অবাক হয়ে নিজের দুই হাত নেড়ে বলল, “কোথায় যাব? আজকে তো আমার বিয়ে!”
ঋষভ ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে বলল, “বাকি সব পরে এক্সপ্লেইন করব, এখন কোনো কথা না বলে চলুন।”
কথাটা বলেই ঋষভ আর সময় নষ্ট করল না। সে জ্যোতিকে নিয়ে সোজা রুমের সাথে থাকা ব্যালকনির দিকে এগিয়ে গেল। এরপর পকেট থেকে ফোন বের করে শুভ্রকে একটা কল দিল। কল পেয়েই শুভ্র, অদ্রীত আর রুহি এক ছুটে বাড়ির পেছনের বাগানের দিকে চলে এল। ঋষভ ব্যালকনির রেলিং ধরে জ্যোতিকে বেশ সাবধানে নিচের দিকে নামিয়ে দিল, আর নিচে দাঁড়িয়ে থাকা শুভ্র জ্যোতিকে ক্যাচ ধরে নিজের বুকের সাথে লেপ্টে নিল।
জ্যোতিকে নামানোর পর ঋষভ নিজেও এক হাত দিয়ে রেলিংয়ে ভর দিয়ে এক লাফে নিচে নেমে পড়লো।
এরপর ওরা আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়াল না, সবাই মিলে হন্তদন্ত হয়ে এক ছুটে গিয়ে গাড়িতে উঠে বসল।ঋষভ গাড়ি স্টার্ট দিতেই পেছনের সিট থেকে রুহি ওর দিকে তাকিয়ে একদম এক্সাইটেড হয়ে বলে উঠল, “ভাইয়া! সিরিয়াসলি তুমি একটা জিনিস!”
শুভ্রখুশিতে একদম আত্মহারা! ও ঋষভের ব্যান্ডেজ করা হাত দুটো টেনে নিয়ে চুমু খাচ্ছে। ঋষভ চরম বিরক্ত হয়ে নিজের হাতটা টেনে নিল, তারপর চোয়াল শক্ত করে কটমট চোখে তাকিয়ে বলল “গে শালা”
ঋষভের কথা শুনে গাড়ির ভেতর রুহি আর অদ্রীত হাসিতে ফেটে পড়ল। কিন্তু জ্যোতি পুরো চুপ বসে আছে, ও আসলে বুঝতে পারছে না ওর সাথে হুট করে কী ঘটে গেল।
জ্যোতি ঋষভের দিকে তাকিয়ে রাগ নিয়ে বলল,
“ভাইয়া, প্লিজ গাড়ি থামান! আমি ওর মতো একটা ক্যারেক্টারলেস ছেলেকে কিছুতেই বিয়ে করব না। আমাকে দয়া করে রেখে আসুন!”
শুভ্র এবার আর দেরি করল না,ও পেছনের সিটেই জ্যোতির গলার কাছে একটা চুমু খেয়ে বলল,
“আর কোনোদিন এমন করব না পাখি, একদম প্রমিজ! আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না রে, ট্রাস্ট মি।”
শুভ্রর এই পাগলামি দেখে জ্যোতি মুখে আর কিচ্ছু বলল না, চুপ হয়ে গেল। আসলে ও মনে মনে মনেপ্রাণে এটাই চেয়েছিল যে শুভ্র যেন এই বিয়ে হতে না দেয়। কিন্তু জ্যোতি কল্পনাও করে নি শুভ্র সত্যিই এমন করবে
গাড়িতে বসার মতো তেমন স্পেস ছিল না, তাই জ্যোতি বাধ্য হয়ে শুভ্রর কোলেই গুটিশুটি মেরে বসে রইল।গাড়ি যখন রায়ান কুঞ্জের কাছাকাছি চলে এসেছে, তখন ঋষভ স্টিয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে সবার উদ্দেশ্যে বলল,
“তোরা বাড়ি যা। আমি একটা জায়গায় যাব, আমার একটু কাজ আছে।”
কথাটা বলেই ঋষভ গাড়ি এনে বাড়ির সামনে থামাল। শুভ্র, জ্যোতি, রুহি আর অদ্রীতকে নামিয়ে দিয়ে ও এক সেকেন্ডও লেট না করে ও গাড়ি স্টাট দিলো
গাড়ি এখন কোন দিকে যাচ্ছে, ও নিজেও ঠিকঠাক জানে না। ওর মস্তিষ্ক কাজ করছে না, ও শুধু ড্রাইভ করে যাচ্ছে।কিন্তু মন তো আর মগজের কথা শোনে না!
গাড়িটা হাইওয়ে পার হয়ে এসে থামল ইয়াশফাদের সেই চেনা গ্রামের কাঁচা রাস্তায়।ঘড়িতে তখন রাত ঠিক বারোটা। চারিদিক একদম ঘুটঘুটে অন্ধকার, নিঝুম রাত। শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে। ঋষভ গাড়িটা রাস্তার একপাশে অন্ধকার গাছের আড়ালে পার্ক করল। এরপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, নিজের ব্যান্ডেজ করা হাত দুটো পকেটে রেখে ধীরপায়ে হেঁটে ইয়াশফাদের বাড়ির উঠোনের দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু দরজা তো লাগানো। এতো রাতে কি ডাকা ঠিক হবে? ঋষভ আশেপাশে একটু দেখতে লাগলো। বাড়ির পেছনের জানালা টা আলগা করা। একটা টান দিতেই জানালা খুলে ওর হাতে চলে আসলো। ঋষভ জানালা বেয়ে ঘরে ঢুকে গেলো। দুইটা ছোট ছোট ঘর একটা বারান্দা। এক ঘরে ওর শশুর শাশুড়ী শুয়ে আছে। আরেক ঘরে ইয়াশফা ঘুমিয়ে আছে। ঋষভ হনহন করে ইয়াশফার রুমে গেলো। ইয়াশফা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। টিনের চালে হঠাৎ করে একটা চালতা পড়লো ইয়াশফা ঘুমের ঘোরে চমকে উঠলো।
নেশাক্ত প্রহর পর্ব ২৫
ঋষভ এগিয়ে গেলো ইয়াশফার দিকে। ইয়াশফার জামাটা উঠে গেছে। মেয়েটা এলেমেলো করে ঘুমায়। হুট করে ঋষভের রাগ হলো। ও গিয়ে ইয়াশফার জামা নামিয়ে দিতে যাবে তখনি ওর ফর্সা পেটের দিকে তাকিয়ে থেমে গেলো। টুপ করে পেটে একটা চুমু খেয়ে নিলো। এরপর ইয়াশফার দিকে তাকিয়ে বললো” তোমাকে আমি বউ বলে মানিনা। তুমি আমার বউ না”
কথাটা বলেই ইয়াশফার গলায় মুখ গুঁজে শুয়ে পড়লো।

Plz 27 porbota taratari dau apu please please please please 🥺🥺❤️❤️❤️ amar ar Tor soiche na acha apu at ki running golpo taratari porbota deu
ভাই এটা কনো কথা🙃বউ মানেনা কিন্তু বউ এর সাথে ঘুমাবে বলে রাত ১২টায় বউ এর বাড়ি হাজির😁😫
Ami bou bole mani na 🤣🤣🤣🤣🤣
Darun hoyeche