পৌষপার্বণ ঈদ স্পেশাল পর্ব ২
Irfa Mahnaj
রাত বাজে দুটো, পুরো বারোমাসি নীড় গভীর ঘুমে মগ্ন। অন্ধকারে ছেয়ে আছে গোটা বাড়ি। এই পরিবেশেও শুধু আলো জ্বলছে একটি ঘরে। এটি আর কারো ঘর নয় বরং পার্বণের।
সবাই ঘুমিয়ে থাকলে ঘুম নেই পৌষ পার্বণের চোখে। নিশাচর প্রাণীর মতন তারা জেগে আছে। এলোমেলো বেডের মাঝখানে পৌষ বসে আছে।
ঘুম ঘুম চোখ এলোমেলো চুল চকচকে ফোলা ফোলা দুটো গাল। নরম মেয়েলি এক হাত ধরে আছে পার্বণ। হাঁটু ভাঁজ করে পৌষের মুখোমুখি বসে আছে সে।
ওষুধের প্রভাবে ঘুমিয়ে ছিল ফলে মেহেদী দিতে পারেনি। মাঝরাতে এখন সুর ধরেছে মেহেদী দেবে। ঈদ আসছে করেই হোক তার মেহেদি দেওয়াই লাগবে ফাঁকা হাত তার মোটেই পছন্দ নয়।
অগত্যা বউয়ের আবদার পূরণ করতে এই মাঝরাতেই মেহেদী দিতে বসে যায় পার্বণ। শত হোক কুট্টুস একটা বউ সে আবদার করেছে ওর কিউট মুখটার দিকে তাকিয়েই তো বেচারা গলে গেছে।
এই মাঝরাতে বউয়ের জন্য ভাদ্রের রুমের দরজা একেবারে ভেঙ্গে ফেলবে এমন দশা করে চৈত্রের থেকে মেহেদি ডাকাতি করে এনেছে। এনেছে তো ঠিক আছে কিন্তু
এখন যে বউ তার নিজে মেহেদি পড়তে ইচ্ছুক নয়। তাকে নাকি পড়িয়ে দেওয়া লাগবে।
পোয়াতি বউ তো বার বার শুধু মুড সুইং হয়। আচ্ছা পার্বণ একটা হিসেব কিছুতেই মিলাতে পারছে না। এই যে বউ দশ মাস দশদিন বাচ্চা পেটে রাখবে। কষ্ট হবে তাই তার এতো মুড সুইং হয়।
কিন্তু পার্বণ যে এতো কষ্ট করলো? ও কষ্ট না করলে কি আর পৌষ মা হতে পারে। কই ওর তো মুড সুইং হয় না! সেসব না হয় বাদ। পৌষ মা হবে তাই তাকে কতো যত্ন করে সেও তো বাবা হবে তার বেলায় নিয়ম উল্টো কেনো?
এগুলো নিয়ে কি একটা আন্দোলন করা যায় না? আন্দোলনের শুরুটা না হয় পার্বণ দ্বারাই হোক। কালকেই পার্বণ বড় ভাইদের সাথে কথা বলে শাহবাগে নামবে! হুহ!
পার্বণের এসব উল্টা পাল্টা চিন্তা ভাবনার মাঝেই শুনতে পেলো পৌষের গলা। যে ওকে তাড়া দিচ্ছে।
— এই পার্বণ কি ব্যাপার মেহেদি দিচ্ছিস না কেনো?
পৌষের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে কি জানি হিসেব নিকেশ করলো। এরপর পার্বণ নিলো এক কঠিন সিদ্ধান্ত। গলা খাকারি দিয়ে বলল,
— পৌষ আমি তোকে এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা বলবো।
পার্বণের এমন সিরিয়াস ফেইস দেখে পৌষ ভাবলো হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কিছুই হবে। তাই সে জিজ্ঞেস করলো,
— কি?
বিজ্ঞদের মতো করে তর্জনী উঁচিয়ে শুধালো,
— পৌষ তুই আমার একজন ট্যালেন্টেড মানুষের কাছ থেকে মেহেদি পড়তে চাচ্ছিস। ফ্রি তে তা হবে না। তোর জানার জন্য বলছি বড় বড় মানুষ আসে আমার কাছে মেহেদি পড়িয়ে নিতে কিন্তু…
— কিন্তু কি?
কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করলে পৌষের কথার জবাবে পার্বণ জানায়,
— কিন্তু আমি তাদের রিজেক্ট করি। তবে তোর বিষয় আলাদা। তুই তো আমার বউ। তুই আবার চিন্তা করিস না। তোকে কিন্তু আমি ডিসকাউন্ট দিবো।
— কি ডিসকাউন্ট দিবি শুনি?
— বেশি না আমার ডান পাশের গালে ১২ টা চুমু, বাম পাশের গালে ১২ টা চুমু, থুতনিতে ৫ টা চুমু, কপালে ২ মিনিট সময় নিয়ে আবেশীয় একটা চুমু, নাকে আর ঘাড়ে একটা একটা করে দুটো লাভ বাইট। ব্যাস আপাতত এইই।
পৌষের চোখ দুটো কোটর ছাড়াবার জোগাড়। তিরিক্ষি মেজাজে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
— ওরে আমার ডিসকাউন্ট রে। তোর ডিসকাউন্ট এর ছিরি যদি এই হয় তাহলে বাকিটা তো ইতিহাস।
শেষে পৌষকে এইসব চুমু, লাভ বাইট দিতে হয়। তারপরই পার্বণ মেহেদি পড়াতে শুরু করে। পার্বণ পৌষের হাতটা ওর হাঁটুর উপর রেখে তার উপর ঝুঁকে পড়ে মেহেদি পড়াতে আরম্ভ করে।
যদিও পৌষ জিজ্ঞেস করেছিল পার্বণ এভাবে ঝুঁকে মেহেদি কেনো পড়াচ্ছে তার উত্তরে আবার পার্বণ জানিয়েছে,
— আরে এগুলো তুই বুঝবি না এগুলো আমাদের মতো বড় বড় মেহেদি আর্টিস্টদের ব্যাপার সেপার।
পার্বণের কনফিডেন্ট লেবেল দেখে পৌষ আর এতো মাথা ঘামায়নি। পার্বণের ঝুঁকে পড়ার জন্য পৌষ দেখতেও পাচ্ছে না পার্বণ কিভাবে মেহেদি দিচ্ছে।
— হ্যালো বাবু?
ফিসফিস করে ফোনে কথা বলছে বসন্ত। কলের ওপারে থাকা ব্যাক্তিটি যে আম্রপালি ছাড়া কেউ নয় তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
বসন্তের মুখ নিঃসৃত “বাবু” শব্দটি শুনতেই গায়ে জ্বলে উঠলো আম্রপালির। কটমট করে শুধালো সে,
— এই তোকে কতবার বলা লাগে আমাকে বাবু না ডাকতে। কানের তিন ইঞ্চি নিচে এমন এক থাবড়া মারবো তিন দিন কানে শুনবি না। ফোন রাখ তুই।
জিভে কামড় দিলো। ইশ রে সে বারবার কেনো ভুল করে। তড়িঘড়ি করে আম্রপালিকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে,
— সরি সরি জান আর হবে। এখন রাগারাগি করো না তো। কতো কথা জমে আছে আমার। ঝগড়াঝাঁটি করে আমি সময় নষ্ট করতে চাই না।
— কি আমি ঝগড়াঝাঁটি করি?
— কে বলল?
— এইমাত্রই তো তুই বললি।
— আচ্ছা বাবা সরি।
মুখে সরি বললে মনে মনে বসন্ত বললো,
— বা*লের প্রেম করি আমি। দোষ নাই তবুও সরি বলো।
আম্রপালির রাগটা বুঝি পড়ল। সে কন্ঠ নরম করে বলে,
— এসব বাদ দাও। ঈদ মোবারক জান।
বসন্তও হেসে জবাব দিল,
— ঈদ মোবারক।
— কালকের তাহলে কি প্ল্যান আমাদের?
তারপর বসন্ত আম্রপালিকে কালকের পুরো প্ল্যান বুঝিয়ে দিল তারা কি পড়বে কোথায় কোথায় ঘুরবে কি খাবে সবকিছু।
এভাবে এক কথায় দুই কথায় দুই নিব্বা নিব্বির মধুর প্রেমালাপ চলতে লাগলো। এতক্ষণ ধরে দরজায় ঠেস দিয়ে এইসব কাহিনী দেখছিল হেমন্ত।
কথা বলা শেষে বসন্ত যখন দরজার দিকে চায় তখন হেমন্ত কে দেখে ব্যাঙের মতন লাফিয়ে ওঠে ভয়ে। বলে,
— এই মাঝরাতে তুই এভাবে ভূতের মতন ঘুরছিস কেন আজব!
ও বসন্তের কথা পাত্তা দিল না।। বরং উল্টো নাক মুখ কুঁচকে বমি আনার মতো করে শুধালো,
— তোদের এই আলাপ শুনলে আমার বমি পায়।
দাঁত কিড়মিড় করে হেমন্তের কথার জবাবে বসন্ত বলে,
— তো তোকে কে শুনতে বলল?
— একটা কথা বল তোর এসব ক্রিঞ্জ লাগেনা?
— না লাগে না। এখন তুই বল আমার ঘরে কি উদ্দেশ্যে?
ঘুমন্ত দুই হাত উঁচু করে আরমোড়া ভাঙলো। সেভাবেই অলস ভঙ্গিতে বলে ওঠে,
— তেমন কিছু না তোকেই দেখতে এসেছিলাম তুই রাত জেগে বাড়ি পাহারা কেমন দিস।
হেমন্তকে ঠেলতে ঠেলতে নিজের ঘর থেকে বের করে দিতে দিতে বসন্ত বলল,
— দেখা শেষ না এখন তাহলে যা।
— আরে বাবা যাচ্ছি তো।
ঘর থেকে বেরিয়ে আসার সময় অবশ্য এও বলতে ভুলে না হেমন্ত,
— ভাগ্যিস! যমজ হয়েও তোর আর আমার চেহারার মিল নেই না হলে কখন জানি পাবলিকের ক্যালানি খেতাম আমি।
হেমন্তের কথাটা গায়ে লাগলো বসন্তের।তাই তো হেমন্তের মুখের উপর ঠাস করে নিজের রুমের দরজাটা আটকে দিল। বসন্তের এভাবে দরজা আটকানোতে হেমন্তের আবার গায়ে লাগলো।
আফসোস হতে লাগলো। ইশ! কবে যে চাঁপা রাজি হবে হেমন্তের প্রস্তাবে। তখন হেমন্তও এভাবে রাত জেগে প্রেমালাপ করবে।
নিজের হাত দুটোর দিকে তাকিয়ে পৌষের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। একবার হাতের দিকে তাকাচ্ছে তো একবার সামনে বসা পার্বণের দিকে তাকাচ্ছে।
পার্বণ যে কিনা তার ৩২ পাটি দাঁত দেখিয়ে বসে আছে। পার্বণের দাঁত কেলানি সহ্য করতে না পেরে ওর উপর একপ্রকার খেকিয়ে উঠল পৌষ।
— বেয়াদব ছোকরা ভণ্ডামি করার জায়গা পাস না! তোর মেহেদির ডিজাইনের নমুনা! নাকি খুউব ট্যালেন্টেড?
গর্বে গর্ভবতী হয়ে হাতে ৫৬ ইঞ্চি ফুলে ফেঁপে উঠলো বুঝি পার্বণের। অত্যন্ত গর্বিত হয়ে সে জবাব দিলো,
— জি অবশ্যই আমার মতন ট্যালেন্টেড পার্সন আর একটাও পাবি না।
— দেখতেই তো পাচ্ছি ট্যালেন্ট এর নমুনা।
চিবিয়ে চিবিয়ে কথাটা বললো পৌষ। অসহায় ভঙ্গিতে নিজের হাতের দিকে চেয়ে রইল। তালুতে জ্বলজল করছে ঘাসফুল পাতা আর গরুর চিত্রকর্ম।
এও নাকি আবার ডিজাইন! হায় মাবুদ! ফোঁস করে শ্বাস ছাড়লো। ভুলটা পৌষেরই ওর উচিত হয় নাই এই পুংটার কাছে মেহেদি পড়া। ওর আগেই ভাবা দরকার ছিলো এই ছেলে হলো পার্বণ।
কান্না পেয়ে গেল পৌষের। ওর হাবভাব দেখে পার্বণ এবারে বলে,
— আহা! তুই কান্না করছিস কেন তোর তো আরো আনন্দ পাওয়ার কথা।
— কিসের সুখে?
— তোর জামাই মানে এই আমি কত বড় বড় মানুষকে রিজেক্ট করেছি মেহেদী দিতে চেয়েছিল।
আগুনে ঘি ঢাললে পার্বণের কথাটা। তেতে উঠলো পৌষ। বলল,
— তুই রিজেক্ট করিস নি বরং ওরাই তোকে রিজেক্ট করেছে। কারণ সবাই তো আর আমার মত না। ধূর ভাল্লাগেনা! যা সর আমার চোখের সামনে থেকে।
বলে বেচারা পার্বণকে লাথি দিয়ে খাট থেকে ফেলে দেয়। পার্বণও কম যায় না। লাফিয়ে উঠলো খাটে। উঠেই পৌষকে বন্দি করলো নিজের শরীর দিয়ে।
এক সাইড দিয়ে পৌষকে কৌশলে নিজের আওত্তে নিয়ে ভ্রু নাচিয়ে মুখে শয়তানি হাসি ফুটিয়ে তুলে বলে,
— আমাকে ফেলে দেওয়া না? এবার দেখ তোকে কি করি।
হাত পা ছুড়ে পৌষ জবাব দেয়,
— ছাড় অসভ্য। ভালো হচ্ছে না কিন্তু পার্বণ।
পৌষের গলায় মুখ গুঁজে দিয়ে সেখানে নাক ঘষতে ঘষতে নেশালো কণ্ঠে বলে,
— আমি তোর কাছে গেলে ভালো হওয়ার আশা কিভাবে করিস জান।
গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে পৌষের। শুরু হয়ে গেছে মাঝরাতেই। কোন দুঃখে যে পৌষ ক্ষুদার্ত সিংহকে খুঁচিয়েছে। এখন পৌষকে না খাওয়া পর্যন্ত এর শান্তি আসবে না।
আবারো পৌষকে হজম করতে পার্বণ নামক কিশোরের বেসামাল আদরের অত্যাচার। পার্বণ বোধহয় বুঝলো পৌষের মনোভাব। বাঁকা হেসে বলে উঠলো,
— একদমই ঠিক ধরেছিস তুই পৌষজান। রাতের প্রথম অর্ধেক তো ঘুমিয়েই কাটালি এবার বাকি অর্ধেক না হয় জেগেই কাঁটা।
এই বলেই পৌষের ওষ্ঠ জোড়া নিজের ওষ্ঠ দিয়ে দখল করে নিলো। মেহেদি থাকায় পার্বণের বেশ সুবিধাই হলো। পৌষের চুলে এক হাত দিয়ে আরেকহাত গালে রেখে অধর চুম্বনে লিপ্ত হলো দুজন।
দুজন নর নারী ধীরে ধীরে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে তৃষা মিটাতে দুজনের।
আজকে ঈদ এর দিন। মুসলিমদের জন্য মহাউৎসবের একটা দিন। আনন্দে উৎসবে আজকের দিন কাটায় তারা।
খুব ভোর থেকেই মসজিদের মাইকে প্রচার করা হচ্ছে ঈদের নামাজের সময়, স্থান। পুরুষরা গোসল সেরে নতুন পায়জামা পাঞ্জাবী পড়ে গায়ে আতর মেখে নামাজের মোছলা সহিত যাবেন ঈদ গাহ মাঠে।
নারীরা খুব ভোরে উঠে শুরু করে তাদের কাজকর্ম। স্বামী সন্তানদের জন্য সকাল থেকেই রান্না করতে থাকেন নুডুলস, সেমাই, দুধ চা, রং চা, পায়েস, পিঠা, পুডিং সহ বিভিন্ন খাবার।
যাতে তারা নামাজে যাওয়ার আগে তাদের খেতে দিতে পারে। পিছিয়ে থাকে না বাচ্চা আর মাঝ বয়সি রাও। সকাল সকাল উঠে গোসল করে তারা রেডি হয়ে নেয়।
নতুন জামা পড়ে যেটি তারা ঈদের জন্য কিনে। সবাইকে ঈদের জামা দেখানো তে আনন্দ খুঁজে নেয়। তারপরই শুরু তাদের বহুল আকাঙ্খার ঈদ সালামি নেওয়া।
ব্যাতিক্রম নয় পৌষও। সবার কাছ থেকে সালামি নেওয়া শেষে এখন এসেছে নিজ নীড়ের নিকট। পার্বণ পায়ের উপর পা তুলে ডিভানে বসে আছে। সেই সাথে পা দুলাচ্ছে।
ভ্রু নাচিয়ে পৌষকে জিজ্ঞেস করে,
— কিরে? এভাবে সং সেজে দাড়িয়ে কেনো তুই?
রাগ উঠলেও হজম করে নিলো। কারণ সালামি নিতে হবে তাকে। নাহয় এই বজ্জাতকে টাইট দেওয়া পৌষের জন্য কোনো ব্যাপারই না।
— আমার সালামি দে।
কনিষ্ঠ আঙ্গুল দিয়ে কান খোঁচানোর অভিনয় করে পার্বণ বলে,
— কি? কি? আবার বল তো শুনতে পাইনি।
— সালামি দে আমায়।
— জোরে বল।
না রাগ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। রেগেই পার্বণের কথা মতো জোরে চিল্লিয়ে উঠলো,
— সালামি দেএএএএএ!!
— ওরে বাবা আস্তে। আমি কানা নই শুনতে পাই। আচ্ছা সেসব বাদ সালামি বানান কর আগে তারপর তোকে সালামি দিবো।
— স য়ে আকার সা ল য়ে আকার লা ম য়ি রশ হি মি সালামি। নে বানান করা শেষ এবার দে।
— আরে সালামি নেওয়ার জন্য এতো তাড়াহুড়ো কিসের? দিবো তো কলিজা।
কুটিল হেসে পার্বণ কথাটা বলে। দাঁতে দাঁত চেপে হজম করে নেয় পৌষ। সালামির জন্য কি কি না করাচ্ছে ওকে দিয়ে!
— পায়ে হাত দিয়ে সালাম কর। তবেই পাবি।
— এ্য?
— হুম। দ্রুত কর।
— আর ইয়্যু ক্রেজি পার্বণ? জানিস না আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করতে নেই।
পার্বণ জানে ও তো শুধু পৌষ কি করে তাই বলল। এবারে গলা খাকারি দিয়ে শুধালো,
— আচ্ছা। সালাম দে তাতেই হবে।
— আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুল্লাহ।
হুট করেই উঠে দাড়ালো পার্বণ। পৌষের দিকে এগিয়ে যেতেই ভড়কে গেলো পৌষ। জিজ্ঞেস করে,
— আমার দিকে এগোচ্ছিস কেনো?
— হুস!
পৌষের কম্পনরত ঠোঁটের উপর এক আঙ্গুল চেপে শুধায়। কেঁপে উঠে পৌষ। শরীরের বয় শিহরণ।
পৌষকে উপেক্ষা করে ওর পাশ কাটিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেলো পার্বণ। ফোঁস করে দম ছাড়লো। তবে পৌষের স্বস্তি বেশিক্ষন টিকলো না। পার্বণকে দরজার সিটকিনি লাগাতে দেখেই আঁতকে উঠলো পৌষ। চেঁচিয়ে উঠে।
পৌষপার্বণ ঈদ স্পেশাল পর্ব ১
— একি! তুই দরজা কেনো আটকাচ্ছিস?
— সালামি দিবো তাই।
— সালামির সাথে দরজা বন্ধ করার কি সম্পর্ক?
— পার্বণ স্পেশাল সালামি দরজা জানালা বন্ধ করেই দিতে হয়। এখন তুই আমার কাছে আসবি নাকি আমি তোর কাছে যাবো? কাজ অবশ্যই একই যেই কাছে যাক না কেনো!
— দরজা খোল আমার সালামির দরকার নেই।
— তা বললে তো হবে না। সালামি তো তোকে নিতেই হবে মেরি জান!

পরের পর্ব দেন তাড়াতাড়ি প্লিজ 🫶❤️❤️🔥💭💭