Home পৌষপার্বণ পৌষপার্বণ পর্ব ২৫

পৌষপার্বণ পর্ব ২৫

পৌষপার্বণ পর্ব ২৫
Irfa Mahnaj

সেমাই রান্না করছে না রান্নাঘরে যুদ্ধ করছে সেটাই বুঝতে পারছে না পৌষ। পার্বণের আদেশ পৌষ জানি দূরে গিয়ে বসে রান্না শেষ হলে খাবার পৌষের কাছে পৌঁছে যাবে।
পার্বণের এমন ধারা কথার কারণ জানতে চাইলে জাউড়া পার্বণ লাজে নুইয়ে পড়ার অভিনয় করে বলে,
— ফার্স্ট টাইম তো শরম লাগছে আমার।
তারপর যখন পৌষ অবাক গলায় শুধায়,
— তোর আবার শরম আছে?
আরেকটু লাজে নুইয়ে পড়ে হাত দিয়ে চোখ মুখ ঢেকে বলে,
— এই দেখ লজ্জায় আমি লাল নীল ঝাড়বাতি হয়ে গেছি। শরমের ঠেলায় আমি চোখ তুলে পর্যন্ত তাকাতে পারছি না।
পার্বণের এমন অভিনয় মার্কা জাউরামি দেখে পৌষ তো মহাকাশ থেকে পড়ে। বলে উঠে,

— বড় চাচি ঠিকই বলে তার পেট থেকে একটা জাউড়া জন্ম নিছে।
হুট করে কি মনে করে নিজের পেটের উপর হাত বুলিয়ে পৌষ বলে,
— না জানি এই জাউড়ার ডিএনএ থেকে আবার কোন জাউড়া জন্ম নেয়।
পৌষের কথা শেষ হতে না হতেই টুপ করে পৌষের পেটের উপর ওষ্ঠ ছুঁয়ে অগণিত চুমু খায় পার্বণ।
অগণিতই তো চোখের পলকে যে কতগুলো চুমু খেয়েছে তার কোনো হিসেব নেই। বিস্মিত পৌষ যখন কিছু বলার জন্য মাথা তুলে অমনি ওর ঠোঁটে পরপর চার পাঁচটা চুমু খায় শব্দ করে পার্বণ।
ভোঁতা মুখে পৌষ পার্বণকে উদ্দেশ্য করে বলে,
— এই তোর শরম শেষ? এতক্ষন তো লজ্জায় চিবুকই উঠাতে পারছিস না।
বুক ফুলিয়ে পার্বণ জবাব দেয়,

— চুমু খেতে আবার আমার লজ্জা টজ্জা করে না। তখন শরম গরমে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। আর শোন আমি যেমন একদম ফ্রেশ আমার ডিএনএ ও তেমন ফ্রেশ।
পার্বণের আজাইরা লজিকে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় পৌষকে। সেই থেকে ডাইনিংয়ে বসে আছে।আর যুদ্ধের আওয়াজ শুনছে।
সেমাই রান্না করতে যে রান্নাঘরের জিনিস পত্রের ঠাস ঠুস্ পড়ে যাওয়া, ভাঙার আওয়াজ হয় পৌষের আগে জানা ছিলো না।
না জানি এই ছেলে মা চাচিদের সাধের রান্নাঘরের কি দশা করে!অলরেডি যেই ঠাস ঠুস শব্দ হচ্ছে কালকে রান্নাঘরে পা দেওয়ার মতো অবস্থায় থাকবে কিনা সেই চিন্তায় চিন্তায় পৌষের খাওয়ার মুড চলে গেছে।
পৌষের ভাবনার মাঝে হাতে ইয়া বড় বোল নিয়ে হাজির হলো পার্বণ। পার্বণের দিকে তাকাতেই আঁতকে উঠে পৌষ। এ কি অবস্থা করেছে নিজের!
আর এটুকু সেমাইয়ের জন্য এতবড় ভাতের বোল নিয়ে চলে এসেছে এই ছেলে!মুখের তো যাচ্ছে তাই অবস্থা।
আটা লেগে আছে মুখে। গায়ের গেঞ্জিতে হলুদ, লবন লেগে আছে। সেমাই রাঁধতে আটার কি কাজ ভাই? আর হলুদ, লবণ!এটা আবার লাগে কোথায়?
প্রশ্ন মাথায় আসতেই সেটা চট করে করে ফেললো পৌষ,

— সেমাই রানতে আটার কি প্রয়োজন? তাছাড়া হলুদ, লবণ?
তারপর বোলের দিকে আঙ্গুল তাক করে ফের জানতে চাইলো,
— বাই এনি চান্স তুই কি সেমাইয়ের মধ্যে এসব দিয়েছিস নাকি?
— আরে না।
— তাহলে?
— তাকের সাথে মাথা ঠুকে আটার ডিব্বা পড়ে গেছে। তোরা ভাই এতো ছোট মানুষ তাই তাকের সাথে মাথায় লাগে না…
— আর তুই লম্বা মানুষ তাই তাকের সাথে মাথায় বাড়ি খাস। আমি বুঝে গেছি পরের টুকু বল।
— পরের টুকু বলার আগেই তো বা হাত ঢুকিয়ে আমার কথা কেড়ে নিয়ে নিজেই বলা শুরু করলি।
— আচ্ছা আচ্ছা ঠিকাছে।
— তো যেটা বলছিলাম, লবণ আর চিনি তো একই দেখতে…
— তাই তুই গুলিয়ে ফেলেছিস।
পরপর দু বার পৌষ পার্বণের কথার মাঝে ফোড়ন কাটে। এবার বিরক্ত হয়েই খেকিয়ে উঠে পার্বণ,
— পৌষষষ! আমার কথার মাঝে বার বার ফুলস্টপ লাগিয়ে দিচ্ছিস কেনো?
— আচ্ছা আর বলবো না। কন্টিনিউ কর তুই।
তেমন কিছু না জামাই বউ দুইটাই ঘাওড়া।পার্বণ গলা পরিষ্কার করে পুনরায় নিজের বক্তব্য বলতে আরম্ভ করে,

— চিনি ভেবে লবণের কৌটা আনতে গিয়ে হলুদ হাতের সাথে বেজে পড়ে যায়। পড়ে দেখি ওটা চিনি না লবণ।
— তুই ভাই রান্না করতেই গিয়েছিস তো?
— কোনো সন্দেহ?
— তোর বর্ণনা শুনে মনে হচ্ছে তুই রান্না করতে না জিনিসপত্র ফেলতে গিয়েছিস। আল্লাহ জানে রান্নাঘর তুই আদেও রান্নাঘর রেখেছিস নাকি!
— আরে চিল। এখন আগে খেয়ে তো নে। এতো কষ্ট করে রান্না করলাম।
— হ্যা দে। কি ব্যাঙের মাথা রেঁধে এনেছিস খেয়ে দেখি।
ধড়াম করে সেমাই আনা বোলটা টেবিলের উপর রাখতেই তেতে উঠে পৌষ।
— আস্তে রাখ।
মুখ বেকায় পার্বণ। পার্বণের মুখ বেকাতে দেখেই পৌষ বলে,
— এই এই একদম মুখ বেকাবি না। পাশের বাসার আন্টিদেরও পিছনে ফেলে দিবে এই ছেলে।
— কথা না বলে খেয়ে বল কেমন বানিয়েছি?
বোলের উপর ইয়া বড় এক ঢাকনা দিয়ে এনেছে জনাব। ওর দিকে তাকিয়ে যেই না পৌষ ঢাকনা সরায় অমনি শত ভোল্টের শক খায় বেচারি।
হুট করে ঢাকনাটা পুনরায় দিয়ে আবার সরায়। না একই দৃশ্য। মুখ এগিয়ে নেয় দেখার জন্য। পৌষ পারলে বোলের মধ্যে ডুকে পড়ে।
ও একবার সেমাইয়ের দিকে তাকাচ্ছে তো একবার পার্বণের দিকে। যে কিনা তার বত্রিশ পাটি বের করে দাড়িয়ে আছে।
অবাক গলায় পৌষ জিজ্ঞেস করে,

— সেমাই কোথায়?অনুবীক্ষন যন্ত্র দিয়ে দেখা লাগবে নাকি!
— যা জুটি। সেমাই তো বোলেই।
পার্বণ যতবড় ভান্ডে সেমাই এনেছে পৌষ ভেবেছে বেশিই বুঝি রান্না করেছে। কিন্তু বেচারির মাথায় এভাবে যে বিনা মেঘে বজ্রপাত ঘটবে সেটা কে জানতো।
ভান্ডের তলায় একটু খানি সেমাই। ওই সেমাই খাওয়ার আগেই শেষ এমন অবস্থা। এইটুকু সেমাইয়ের জন্য এতো বড় ভান্ড!তাও বাদ দিলাম এই টুকু রানতেই রান্নাঘরের মানচিত্র পর্যন্ত পাল্টে গেছে!
— আমাকে খাইয়ে দে।
পার্বণ ভাবলো ও বোধহয় ভুল কিছু শুনেছে। তাই শিউর হতে জিজ্ঞেস করলো,
— কি বললি তুই?
এমনিতেই পার্বণের এই কাজ কারবারে বিরক্ত তার মধ্যে মুড সুইং। এখন রীতিমতো রাগ লাগছে পৌষের। ও চেচিয়ে উঠলো পার্বণের উপর।

— বলেছি খাইয়ে দিতেএএএএএ!বাংলা ভাষাতেই তো বললাম বুঝিসনি কেনো?
সেকেন্ডের মাথায় পৌষের মুড সুইং এ যাই পরাণ বিস্মিত পার্বণ। কানে মিছে আঙ্গুল গলিয়ে পার্বণ বলল,
— আস্তে বললেই তো হয় তোর কি মনে হয় আমি কানা?
— পার্বণনননন!!
— কিইইইই?
— আমার কিছু ভালো লাগছে না।
বলেই কাঁদতে আরম্ভ করলে তড়িঘড়ি করে পৌষের মুখে সেমাই ঢুকিয়ে দেয় পার্বণ। ফোঁস করে শ্বাস ফেলে বলে,
— চুপ কর মেরি মা। এখানে কাঁদার কি আছে? তোর মুড সুইং তো দেখি তোর মতোই ডেঞ্জারাস।
লে পৌষ এটা শুনতেই ঠোঁট ফুলিয়ে যেইনা ভ্যা ভ্যা করতে যাবে তখনই আরেক চামচ সেমাই ঢুকিয়ে ঝাড়ি মারে পার্বণ,
— আশ্চর্য ছাগলের বাচ্চার মতো ভ্যা ভ্যা করছিস কেনো?
— তুই আমাকে কি বললি? আমি ডেঞ্জারাস?
নিজের দিকে তর্জনী তাক করে জিজ্ঞেস করতেই তওবা করার মতো ভঙ্গিমা করে পার্বণ বলে,
— আস্তাগফিরুল্লাহ!আমি এসব বলতে পারি নাকি? কাভি নেহি।
কথায় কথায় তিন চামচের মাথাই সেমাই শেষ। আমাদের জাউড়া মাস্টার শেফ এটুকু সেমাই বানাতেই পেরেছে।
তাও তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধটা বোধহয় পার্বণদের রান্নাঘরেই হয়েছে! সেমাই শেষ এদিকে পৌষের মুখের দিকে তাকিয়ে পার্বণের প্রাণপাখি উড়ে গেছে।
লাল হয়ে গেছে, ঠোঁট উল্টে ফেলেছে। চোখে পানি জমে গেছে এখনই সুনামি আসবে। মাথা দুই পাশে নাড়িয়ে পার্বণ শুধায়,
— না পৌষ না একদমই না।
[প্রেগনেন্সির সময় মুড সুইং কেমন হয় তাতো আমি ভালো মতো জানিনা। শুধু আমি যতটুকু দেখছি ওইটুকুই বর্ণনা দিলাম🙂।]

পৌষের কান্না থামাতে দিক বিদিক না পেয়ে শেষে এই মাঝরাতেই বউকে নিয়ে হাঁটতে বের হতে হয়েছে পার্বণকে।
পার্বণ প্যান্টের পকেটে দুই হাত গুঁজে হাটছে আর ওর পাশে পৌষ হাত দুটো নাড়িয়ে হাটছে। দুজনেই পাশাপাশি। হুট করে পৌষ লাফাতে নিলে বাঁধ সাধে পার্বণ।
— তোর সব আবদার আমি মেনে নিবো কিন্তু এই অবস্থায় কোনো রিস্ক আমি নিবো না।
হাসলো পৌষ। কেমন ভালো লাগায় ছেয়ে গেলো। কি মনে হতেই পার্বণের কোলে উঠার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলো পৌষ।
পৌষের বাচ্চামো ফেইস টা দেখে হাসি পেলো পার্বণের। ও ফিচেল হাসলোও। তারপর পৌষকে আগলে নিলো।
সযত্নে কোলে তুলে নিয়ে বলল,

— বড় হয়ে গিয়েছিস এখনো তোর কোলে চড়তে হবে? কয়দিন পর তো বাচ্চার মা হয়ে যাবি।
— পার্বণ তুই বোধহয় ভুলে গেছিস আমরা স্টিল বাচ্চা। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে সবাই বাচ্চা।
— জানি কিন্তু সামনে আমাদের দায়িত্ব বাড়বে।
— আমরা সব কিছু কিভাবে সামলাবোরে? আমরা নিজেরাই তো এখনো বাপ মা ছাড়া চলতে পারি না। সেখানে আমরা এতো কম বয়সে মা বাবা হচ্ছি!
— আল্লাহ দিয়েছে আল্লাহর নেয়ামত। এখানে তো আমাদের হাত নেই। আমরা তো একটা মাধ্যম যার সাহায্যে একটা নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে।
— ভবিষৎ নিয়ে আর ভাবা লাগবে না প্রেসেন্ট নিয়ে ভাব আপাতত। পরে যা হবে তা পরে দেখা যাবে।
পার্বণ ও সায় জানায়। যতই যাই হোক। মুহূর্তের মধ্যে এদের আবেগ ঘন মুহূর্ত গায়েব হয়ে গেছে।
ভণ্ডামি করা দুই বান্দা ভণ্ডামি ছাড়া থাকতে পারে নাকি। কিছুদূর যাওয়ার পরপরই পার্বণের কোল থেকে নেমে যায় পৌষ।
কিছুক্ষন ও চরকির মতো ঘুরেছে রাস্তায় তো কিছুক্ষন পার্বণকে ঘুরিয়েছে। কতক্ষণ পার্বণের কান টেনেছে তো কতক্ষন ওর মাথায় তবলা বাজিয়েছে।
শেষে এখন দুজনেই রাস্তার মাঝখানে শুইয়ে পরে জাউরামি করতে করতে।আর এটাই বোধহয় ওদের জন্য আরেক বাঁশ নিয়ে হাজির হয়েছে।
বেচারারা তো শুধু শুয়ে ছিলো মাঝ রাস্তায়।এই দিকের রোডটা গলির মতো এখানে গাড়ি চলে না। তবে মানুষ চলে। আর এই মাঝরাতে মানুষ আসার চান্স নেই বললেই চলে।
কিন্তু কে জানতো এই মাঝরাতেও ওদের পিছনে বাঁশ দিতে কয়েকজন আসবে। চার পাঁচজন হবে বোধহয়।
একটা দল এদিক দিয়েই যাচ্ছিলো। ওদের এভাবে শুইয়ে থাকতে লোকগুলোর মধ্যে থেকে একজন বলে উঠলো,

— ছি ছি শেষে কিনা এই মাঝরাতে তাও মাঝরাস্তায়!বলি এদের কি ঘরবাড়ি নেই?
লোকটির কথায় আরেকজন বলে উঠলো আরেক কথা,
— ভাই সবই তো বোঝলাম কিন্তু এগো কি পিঠে ব্যথা লাগেনি? পিঠ বাদ দিন পা*ছায় ব্যথা পায়নি?
লোকটির উদ্দেশ্যে তখন আরেকজন বলল,
— পটল তোমার তার তুর ছিড়া। তুমি কথা বইলো না তো।
কথাটা ভালো লাগলো না পটলের। বিরস মুখ করে বলল,
— আমি যা বলছি একটাও কি ভুল বলছি? পিঠের ছাল মাল উইঠা যায় নাই? এই জায়গায় অযৌক্তিক কোথায়?
— এসব আকাম উকাম করার টাইমে এতো খেয়াল থাকে না। এখন চলো তো।
লোকগুলো এগিয়ে গেলো পার্বণদের নিকট।পার্বণরা চোখ বুজে শুয়ে ছিলো। যেইনা চোখ জোড়া খোলে অমনি ভুতের মতো কত গুলো মানুষের মুন্ড ওদের উপর দেখতে পেয়েই চেঁচিয়ে লাফিয়ে উঠলো দুজনে।

— আস্তে আস্তে চিল্লাও কেনো?
লোকটার কথায় চোখ মুখ কুঁচকে গেলো পার্বণের। ভুতের মতো এন্ট্রি নিয়ে বলে কিনা চিল্লাই কেনো।
পার্বণ কি আর ভালো মানুষ ও লোকটার নকল করে। লোকটার কথা ভেঙিয়ে বললেই লোকটা খেঁক করে উঠে।
— এই ছোকরা এই আমাকে ভেঙ্গাছো!কতবড় সাহস!
ওদের কথার মাঝেই ফোড়ন কাটে পটল। লোকটাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
— মদন ভাই আমরা যেই কাজের জন্য এসেছি সেটা করুন। লক্ষ্য থেকে তো সরে যাচ্ছি।
মদন নামের লোকটিও সায় জানালো পটলের। বলল,
— ঠিক ঠিক লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না।
মদন নাম শুনতেই পার্বণ নিজের হাসি চেপে রাখতে আর পারলো না। পেট ফাঁটা হাসিতে ফেটে পড়লো।

কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে দাড়িয়ে আছে পার্বণ। আর পৌষ ওর দিকে তাকিয়ে রাগে ফুসছে।
এই জাউড়াটার জাউরামির জন্যই তো এসব হলো। কে বলেছিলো মদন নাম শুনে হাসতে? পৌষের তো হাসি পেয়েছিলো কই ও কি হাসছিলো? না তো।
একটু কষ্ট করে চেপে গেলে কি হতো? তা চাপবে কেন। হা*গা চাপতে চাপতে কোষ্ঠকাঠিন্য রুগী হতে প্রস্তুত কিন্তু হাসি চাপতে না।
পৌষের ধ্যান ভঙ্গ হয় মদনের কথায়,
— একে তো রাস্তার মধ্যে বসে আকাম করছিলে তার উপর আবার আমার নাম শুনে হাসা হচ্ছে!
বুঝতে আর ওদের দুজনের বাকি রইলো না আসল ঘটনা কি? পার্বণ চোখ দুটো ছোট ছোট করে তাকিয়ে থেকে পৌষকে খোঁচা মেরে বলে,
— শা*লা তোকে নিয়ে যতবার রাতে বের হয়েছি ততবার কট খেয়েছি। আর জীবনে যদি বের হই।
তারপর কি কিছুক্ষন মদন নামের লোকটির ভাষণ চলে। যা শুনে পার্বণের ঘুম চলে আসে। ও হামি দিয়ে বলে,
— এই মদন বা*ল রে থামতে বল। এর কথা শুনে আমার অনুশোচনা তো দূর পা*দও আসছে না। উল্টে আরো ঘুম পাচ্ছে।
— আরে ব্যাঙ আমার নিজেরই তো মাথা ঘুরে যাচ্ছে। কি কখন থেকে কোন কঁচু বুঝিয়ে যাচ্ছে!
হুট করে একটা জিনিস তীব্র বেগে পৌষের মাথায় খেলে যায়। ও ফট করে পার্বণের দিকে তাকায়।
পৌষকে তাকাতে দেখে পার্বণ ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করে কি? পৌষ একবার ওর পানে নজর দিয়েই উঠে যায়।
পরপরই হাত তালি দিয়ে বলে উঠে,

— গাধা আমরা এদের বকবকানি শুনছি কেন? আমরা না বিয়াইত্তা!
বিদ্যুতের ঝটকা খেলো মনে হয় বেচারা পার্বণ। লাফ দিয়ে উঠে পড়লো।ওর ঘুম টুম সব শেষ।
কোমরের ঠুমকা দিতেই ধমকে উঠে পৌষ।
— এখানে তোকে মনোরঞ্জন করতে বলিনি ওদের যে তুই কোমর দুলাচ্ছিস।
— আরে অতি এক্সসাইটেডে কোমরটা দুলে গেলো।
তারপর বেশ ভাবসাব নিয়ে লোকগুলোর সামনে দাড়ালো পার্বণ। মদনের কপালে ঠুয়া মেরে বলে,

পৌষপার্বণ পর্ব ২৪

— কিরে মদনা খুব তো বললি এখন চুপ কেন? হাহাহাহা!
তারপর পিছিয়ে গিয়ে পৌষকে বগল দাবা করে নিয়ে যেতে বলে পার্বণ,
— চুক চুক আহারে কেউ কটটা দিতে পারলেন না।থাক কষ্ট পাবেন না। এখানে বসে থাকুন দেখেন যদি কাউকে পান। সো গাইস টাটা বাই বাই আমি তাহলে বউ নিয়ে যাই।
হেলতে দুলতে বউ নিয়ে পার্বণ চলে গেলো। আর ওদের দিকে তাকিয়ে বলদ হয়ে দাড়িয়ে আছে মদন, পটল ও তাদের দল।

পৌষপার্বণ পর্ব ২৬