Home পৌষপার্বণ পৌষপার্বণ পর্ব ৮

পৌষপার্বণ পর্ব ৮

পৌষপার্বণ পর্ব ৮
Irfa Mahnaj

পৌষ পার্বণের এক দফা এক দাবি বিয়ে তারা করবে না। কিসের বিয়ে? অসম্ভব।
যাই হয়ে যাক জীবনেও পৌষ নাকি পার্বণকে বিয়ে করবে না। আর পার্বণ সেও বলছে বিয়ে করবে না ঠিকই কিছুক্ষণ পর আবার গাইগুই করে জানতে চায় কাজী কতদূর!
এই বিষয় দেখে তো পৌষের মুখটা দেখার মতো ছিল। লাগিয়েছে কয়েক ঘা পার্বণকে।
এত বড় ঘটনা হয়ে গেছে তাই পৌষ পার্বণের অবিভাবক হিসেবে এই মুহূর্তে উপস্থিত ভাদ্র আর চৈত্রকে খবর দেওয়া হয়েছে।
বলতে বলতে ভাদ্র আর চৈত্র এসে ও পড়ে। তারপর অবস্থা সম্পর্কে অবগত হলে তাদের মধ্যে তেমন কোনো ভাবান্তর দেখা যায় না।
ভাদ্র তো বলেই দেয়,

— যা ইচ্ছে করুক ওরা সেটা ওদের ব্যাপার। আপনারা বুড়ো লোকেরা ওদের মধ্যে ঢুকতে গেছেন কেনো? যদিও বা আমার ভাই জানিয়েছে তারা এসব করেনি।
উপস্থিত বুড়ো সমাজ স্তব্ধ হয়ে গেলো। বলে কি এই ছেলে! এতদিন শুনে এসেছে বাড়ির মানুষ জানলে ছি ছি করে, বাসা থেকে বের করে দেয়, নাহয় উত্তম মধ্যম দেয়।
কিন্তু এখানে তো পুরোই উল্টো। তখন পার্বণদের যেই লোকটা পথ আটকিয়েছিল সে এবার এগিয়ে আসে।
ভাদ্রকে উদ্দেশ্য করে বলে,

— দেখ বাবা…
— ছি ছি আংকেল আমি আমার বউয়েরটা ছাড়া আর কারোটা দেখি না।
লোকটার মুখটা সঙ্গে সঙ্গে ভোঁতা হয়ে যায়। চৈত্র তো ভাদ্র এর মাথায় গাট্টা দিয়ে বলে,
— ওই তোরে এইসব বলতে বলছে কেউ? আসল কথা বল।
— হে হে বলছি এইতো।
এতক্ষণ যাবৎ এইসব ড্রামা দেখছিলো দর্শক পৌষ পার্বণ। এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়েই পার্বণ বলে উঠে,
— ওই ভাই কাজী কখন আসবে সেটা জিজ্ঞেস করো তো?
বউয়ের উপর তো দুই এক কথা বলা যায় না। তাই ছোট ভাইয়ের উপর সেই শোধ উঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ভাদ্র। বলে,

— চুপ থাক তুই। সবসময় অধৈর্য্য খালি। আর মানুষ বিয়ে কয়বার করে শুনি?
— মানে?
ভাদ্র কিছু বলবে তার মাঝেই ফোড়ন কাটে পৌষ। বলে,
— ভাই তুমি এই অসভ্যের কথা বাদ দেও তো। তুমি দেখো না কিছু একটা করতে পারো কিনা। আমি এই বিয়ে করব না।
— করার দরকার ও নেই।
পৌষ ভাবলো বোধহয় ভাই তার এখন কিছু একটা করবে বা বলবে যার কারণে আর বিয়ে করা লাগবে না।
কিন্তু ভাই তার বলেছে তবে এমন কথা বলেছে যেটা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে নাকি সেই আকাশে উড়ে গেছে সেটাই বুঝতে পারছে না।

— ওদের ছেড়ে দিন।
ভাদ্রের কথায় মানতে নারাজ উপস্থিত জনতা। তাদের এখন একটাই কথা ওদের বিয়ে দেও।
সব কথা শুনে খুব শান্ত ভাবে ভাদ্র জানায়,
— ওদের বিয়ে হয়ে গেছে। ওরা অলরেডি ম্যারিড।
— ছেলে মেয়ে দুটোকে বাঁচাতে মিথ্যে বলছো আমাদের জানা আছে।
— না। মিথ্যে বলছি না। আমাদের সাথেই ওদের বিয়ে হয়েছে। ইনফ্যাক্ট আমাদের কাছে প্রুভও আছে।
— কই দেখাও।

অতপর চৈত্র নিজের ফোন বের করে কিছু একটা খুজে কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা পেতেই সবার সামনে তুলে ধরে।
একটা ছবি ছোট পৌষ লাল টুকটুকে শাড়ি পড়ে বউ সেজে বসে আছে পাশেই বর বেশে পার্বণ। তাকেও পাঞ্জাবি পড়ানো হয়েছিল।
দুজনেই কি মিষ্টি করে হাসছিল। দুজনকে পুতুলের মতো লাগছিল। এতো কিউট!
পরপরই একটা কাবিনের ছবিও দেখায় সকলকে। স্বাক্ষর এর জায়গায় ছোট ছোট আঙুলের ছাপ।
তখন দুজনের কেউই সাইন করতে না জানলে আঙুলের ছাপের সাহায্যে স্বাক্ষর দেওয়া হয়।
এতো এতো প্রমাণের পর আর কারোই কিছু বলার থাকে না। এবং সব সমস্যা মিটমাট হয়ে গেলে ওদের সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু এত বড় একটা ঝটকা পৌষ আর নিতে পারে না। জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
ধপ করে পড়ার আওয়াজ হতেই দেখা যায় পৌষ মাটিতে পড়ে আছে। পার্বণ তো এইটা দেখে নিজের কপাল চাপড়ায়।

— পার্বণ পৌষকে কোলে তোল।
ব্যাঙ্গাত্মক হেসে পার্বণ জবাব দেয়,
— আমার হাড্ডি ভেঙে যাবে তোমার বোনকে কোলে নিলে।
তখনই হঠাৎ একটা ছেলে এসে বলে,
— থাক আমি কোলে নিচ্ছি। কোথায় যেতে হবে বলুন আমি নিয়ে যাচ্ছি।
কপাল কুঁচকে গেলো পার্বণের। বলে কি এই বেয়াদব। এতোদিন বোন জানতো তাইই কাউকে ওর ধারে ঘেঁষতে দেয়নি।
এখন তো বোন শব্দ ঘুরে বউ হয়ে গেছে। প্রশ্নই উঠে না এখন কাউকে ওর ধারে কাছে যেতে দেওয়ার।
থমথমে গলায় জবাব দিলো পার্বণ,
— বউ আমার ওকে কোলে নেওয়ার মৌলিক দায়িত্ব ও কর্তব্য আমার।
— আপনি যে বললেন আপনার হাড্ডি ভেঙে যাবে?
ছেলেটার দিকে একটা রাগি লুক দিয়ে পৌষ কে কোলে তুলে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বিড়বিড় করে বলে উঠলো,
— রোমান্সের সময় কোলে উঠিয়ে রোমান্স করতে পারি এখন কিনা সামান্য উঠিয়ে নিয়ে যেতে পারব না! হাত, পা, হাড্ডি ভেঙ্গে গেলেও তোদের মতো শকুনদের বদনজর পড়তে দিবে না পার্বণ তার বউয়ের উপর।

৩ মাসের প্রেমে ৩০ বার ব্রেক আপ কারো হয়? না হলেও বসন্তের হয়।
বাবার মুখে জুতা পড়েছে শুনে আম্রপালি আবারো ব্রেক আপ করেছে।
এই নিয়ে বিপাকে আছে বসন্ত। কোথায় ভাবলো পোস্ট করবে ফার্স্ট সেহেরি ডান , ফার্স্ট রোযা ডান উইথ মাই পুঁকি।
কিন্তু কিছুই হলো না। দুদিন বাদেই রোযা শুরু তার আগেই যত কাজ সারার সেরে ফেলতে হবে।
নয়তো রোযায় তো আবার বসন্ত ভদ্র বাচ্চা হয়ে যায়। এসব ভাবনাই ভাবছিল নিজের বারান্দায় বসে বসে বসন্ত।
তখনই হঠাৎ তার কপাল বরাবর একটা ছোট ইট দিয়ে মোড়া কাগজের টুকরো পড়ে। বুঝতে অসুবিধে হয় না এটি মেরেছে কে।
বসন্তের বারান্দার মুখোমুখি বরাবর বারান্দাটাই আম্রপালির। সামনে তাকালে কারো টিকিরও দেখা পায় না বসন্ত।
ফোস করে দম ফেলে কাগজটা খোলে। তারপর পড়তে থাকে সেখানে থাকা লেখাটি। যেখানে লেখা,

“ওই হনুমানের পা*ছা*র মতো লাল চেহারার বসন্ত। পুরো দুই ঘণ্টা, দুই মিনিট, দুই সেকেন্ড হয়ে গেছে তুই কোনো খোঁজই নিচ্ছিস না আমার। তোর তো উচিত ছিলো বাসার সামনে অনশন করা।
তাতো করলিই না। উল্টে কালকে রাতে যে ব্লক করলাম এর পরে আর একটা ম্যাসাজও দিসনি। একজায়গা দিয়ে ব্লক করেছি তাতে কি বাকি জায়গা থেকেও তো দিতে পারতি।

পৌষপার্বণ পর্ব ৭

আহাম্মক বনে যায় বসন্ত চিরকুটটা পড়ে। ফেইসবুক, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম, ফোন কল সব জায়গা দিয়ে ব্লক করে বলছে কিনা অন্যজায়গা দিয়ে ম্যাসেজ দিতে!
এখন কি তবে ইউটিউব দিয়ে ম্যাসেজ দিবে! আশ্চর্য তো! এই মেয়েদেরকে বোঝা বিশেষ করে তার আম্রপালিকে বোঝা অসম্ভব।

পৌষপার্বণ পর্ব ৯