Home প্রণয়ের ঘোর রাত প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১৯

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১৯

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১৯
আরাফাত আদনান সামি

দুপুর প্রায় ২:৩০। আজ শুক্রবার থাকায় নামাজ পরে চৌধুরী বাড়ির সবাই দুপুরের খাওয়া দাওয়াত সেরে হল রুমে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছে কিন্তু মায়া সেখানে নেই।বাড়ির সবাই আজ এক সাথে। মাহিমা চৌধুরী কোন একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবে তা শুনতেই সবাই আজ একত্রিত।কিন্তু তা ভুলে সবাই আড্ডা হাসা হাসিতে ব্যস্ত।সবাই ব্যস্ত থাকলেও এদিকে মায়া’র মা ‘রুবিনা পাটোয়ারীর’ কিছু একটা মনে পড়তেই মাহিমা চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

“বড় ভাবি তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিল একটু সাইটে আসবে!”
মাহিমা চৌধুরী সাথে সাথে বললেন,
“রুবিনা এখানেই বলো না কী বলবে।”
রুবিনা পাটোয়ারী বলেই ফেললেন,
“আমাদের কে কী কিছু বলবে?কী কথা বলার জন্য আমাকে আর মায়ার আব্বুকে ডেকেছ, তা তো বললে না!”
মাহিমা চৌধুরী একটু অবাক হয়ে বললেন,

আরও গল্প পড়তে আমাদের গ্রুপে জয়েন করুন

“ওহ্ হ্যাঁ দেখছো বয়স বাড়ার সাথে সাথে কেমনে সব কিছু কেমন ভুলে যাচ্ছি।”
“তাহলে বলো কী বলবে।আর তোমার সাথেও আমার কিছু কথা ছিল।”
মাহিমা চৌধুরী যেই কিছু বলতে যাবে ওমনি কৌশিক বলে উঠল,
“আম্মু তোমার সাথে আমার কিছু ছিল খুব জরুরি কিছু প্লিজ একটু এদিকে আসো।”
সাথে সাথে মাহিমা চৌধুরী বললেন,
“আহ্’হা তোমার আবার কী হলো।”
“এদিকে একটু আসো তো।”
কৌশিক এর কথা মতো মাহিমা চৌধুরী এই সবার থেকে সরে এক সাইটে গেল কৌশিক এর কাছে। মাহিমা চৌধুরী একটু ফিসফিস করেই বলল,

“কী হয়েছে কৌশিক।”
কৌশিক একটু ঝুকে চারিদিকে তাকিয়ে তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল,
“তুমি আমার আর মায়ার ব্যাপারে কথা বলতে যাচ্ছিলে?”
“হ্যাঁ তোকে না পরশু রাতে বললাম যে শুক্রবারে তোর আর মায়ার সম্পর্কের কথা বলে বিয়েটা ঠিক করবো!”
“ওহ্ হো আম্মু…তুমি তো ফুফা কে ভালো করেই চিনো জানোই তো উনি কতটা খারুস….”
মাহিমা চৌধুরী ভ্রকুচকে বলল,
“কৌশিক উনি তোমার ফুফা হয়।”
“না মানে কতটা রাগী, আমি সিউর এখন কোন ভাবেই উনি এই বিয়েতে রাজি হবে না।”
“তাহলে….!”
“তাহলে আর কী এখন বলার দরকার নাই আমি আগে আমার শ্বশুর মশাই কে ইমপ্রেস করি তারপর না হয় বিয়ের কথা হবে।”

“আমি বললে ঠিকি রাজি হবে সরতো আমাকে বলতে দে।”
“না আম্মু এমন ভুল,ভুলেও করো না। পরে আমার আম আটি সব যাবে।”
মাহিমা চৌধুরী আড়চোখে বলল,
“নিজের মায়ের সাথে এরকীভাবে কথা বলছো তুমি হ্যাঁ?লজ্জা সরম সব কোথায় রেখে এসেছো?”
“ওহ্’হো আম্মু তোমার এটাও মনে নেই! যখন আমি ছোট ছিলাম তখন পুরো পরিবার সহ জোর করে আমার লজ্জা সরম সব ময়মনসিংহ পাঠিয়ে দিয়েছিলে। আমাকে ছেড়ে ও হতচ্ছাড়া লজ্জা সরম তো তখনি চলে গেছে৷”
“এ তুই আমারি তো ছেলে তাই না?”
“একদম পিউর খাটি তোমার ছেলে কোন সন্দেহ!”
“অসভ্য…”

বলেই চলে গেলেন মাহিমা চৌধুরী।কৌশিক মুচকি হেসে মুক বাকিয়ে বলল,
“যাব্বা শ্বাশুড়ি বউ একি রকম দেখছি।”
বলেই তার মায়ের পিছু পিছু ছুটে গেল। এমন সময় সায়েরা চৌধুরী বলে উঠল,
“কী রে কৌশিক এতক্ষণ নিজের মায়ের সাথে কী ফিসিরফিসির করলি আমাদেরও একটু বল আমরাও একটু শুনি।”
কৌশিক মুচকি হেসে বলল,
“না কাকি তেমন কিছু না।”
“ঠিক আছে বলতে হবে না আমিই বা কার কী লাগি হুমম…!”
কৌশিক সাথে সাথে বলে উঠল,
“ওহ্’হো কাকি তুমিও না…।”
সায়েরা চৌধুরী একটু অভিমানী স্বরেই বলল,
“ঠিক আছে ঠিক আছে।”
এমন সময় হঠাৎ মায়ার বাবা ‘অমিতাভ পাটোয়ারী’ মাহিমা চৌধুরী’কে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন,
“ভাবি কিছুকি বলবেন?”
মাহিমা চৌধুরী হাত বারিয়ে কিছু বলতে চেয়েও বললেন না কারন কৌশিক পেছন থেকে মানা করছিল বলে। অতঃপর বলল,

“আসলে সবাইকে এক সাথে কতদিন ধরে দেখি না তাই ভাবলাম তোমাদের ডেকে পাঠাই।”
“ওহ্ আচ্ছা ভাবি কোন সমস্যা নাই আপনার যখনি মন চাইবে আমাদের ডাকবেন আমরা চলে আসবো না হলে পুরো পরিবার সহ আমাদের বাড়িতে চলে যাবেন। আচ্ছা ভাবি আমার কিছু কাজ আছে তাহলে আমরা আজ আসি।”
সাথে সাথে রুবিনা পাটোয়ারী বললেন,
“এই না আপনি যান আমি কাল যাবো।”
“ঠিক আছে কাল চলে এসো তাহলে।বড় ভাইজান ছোট ভাই আজ আমি উঠি তাহলে। সময় করে আপনারা কিন্তু আমার বাড়িতে যাইয়েন।”
পাশ থেকে কৌশিকের বাবা আশরাফ চৌধুরী বললেন,

“আজকে থেকে যাও কালকে না হয় যেও।”
“না বড় ভাই, আমাকে অফিসে যেতে হবে কিছু কাজ আছে।”
“আচ্ছা ঠিক আছে যাও তাহলে।”
“আচ্ছা বড়ভাই।”
কথাটা বলে একটু থামল অতঃপর রুবিনা পাটোয়ারীর দিকে তাকিয়ে বলল,
“মায়া কোথায় রুবিনা?”
রুবিনা পাটোয়ারী বললেন,
“হয়তো রুমে।”
“আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে কালকে তোমরা সময় মতো চলে এসো আমি যাচ্ছি।”
“সাবধানে যাইয়েন।”
“আচ্ছা।”
বলেই চলে গেলন অমিতাভ পাটোয়ারী।

সন্ধ্যা নামছে ধীরে ধীরে। আকাশের বুকজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ম্লান রঙের আলো, পশ্চিম আকাশে অস্তগামী সূর্য যেন লজ্জায় মুখ লুকোচ্ছে। সারাদিনের ক্লান্তি শরীরে থাকলেও মনটা আজ অদ্ভুত হালকা কৌশিকের। তবে একটা কেমন শূন্যতাও তাকে পেয়ে বসেছে সারাদিন মায়ার সাথে দেখা হয়নি যে!
মনকে শান্ত করতে ছাদের দিকে রওনা দিল কৌশিক। সিঁড়ির প্রথম ধাপে পা রাখতেই দূর থেকে এক চঞ্চল কিশোরীকে ছুটে আসতে দেখল সে। চোখে এক চিলতে দুষ্টুমি, চুলগুলো এলোমেলো, তবু কতটা প্রাণভরা! মেয়েটাকে দেখে ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক চুপচাপ হাসি খেলে গেল কৌশিকের মুখে। মায়াও কৌশিককে দেখেছে, কিন্তু চোখাচোখি হতেই বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল তার। লুকিয়ে পড়ার মরিয়া চেষ্টা করেও পারল না। বাতাসে নরম করে বেজে উঠছে তার পায়ের নূপুরের রুনঝুন শব্দ, হাতে কৌশিকের দেওয়া কাচের লাল চুড়িগুলো ঠোকাঠুকিতে যেন নিজের মনের কথা বলছে,

“সে এসেছে…”
ঠোঁটের কোণে লাজুক হাসি, গালে হালকা লাল আভা সব মিলিয়ে মায়া যেন একটুকরো লজ্জায় ভেজা সন্ধ্যা। কৌশিক কাছে এলে যেমন বুকের ভেতর তোলপাড় হয়, কথা হারিয়ে যায়, আবার মানুষটা দূরে থাকলে তেমনই কষ্টে বুক জ্বলে ওঠে তার। কাছে আসলে লজ্জায় নিজেকে সামলানো দায়, দূরে গেলে মনে হয় প্রচন্ড আপন কেউ হারিয়ে যাচ্ছে।
মায়া তাড়াতাড়ি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে চাইল, কিন্তু পাশ কেটে যেতেই কৌশিক তার সামনে হাত বাড়িয়ে পথ আটকে দিল। এক মুহূর্তে থমকে গেল মায়া। নিস্তব্ধ বাতাসে শুধু তার দ্রুত নিঃশ্বাস আর কাচের চুড়ির রুনঝুন রুনঝুন মৃদু আওয়াজ। মায়ার গাল লজ্জায় রঙিন হয়ে উঠল। কৌশিক আড়চোখে তাকাল মায়ার পানে অতঃপর নরম স্বরে বলল,

“সারাদিন কোথায় ছিলি, মায়া?”
মায়া যেন লজ্জায় মরি মরি অবস্থা। হাত দিয়ে গায়ের উড়নার এক সাইট ধরে কচু মুচু করতে করতে বলল,
“কোথায় আবার আপনাদের বাড়িতেই তো ছিলাম।”
“তাহলে তোকে দেখতে পেলাম না কেনো?”
“আমাকে খুজেছিলেন?”
কৌশিক একটু ভাব নিয়ে বলল,
“আমি তোকে কেনো খুজতে যাবো শুনি?”
“ও আচ্ছা আচ্ছা তাই নাকি..?”
“বল আমি তোকে কেন খুজতে যাবো?”
মায়ার লজ্জায় লাল-নীর হতে হতে বলল,

“কারণ….”
“কী কারণ.?”
“আমি…”
“কী আমি আমি করছিস?”
“যে…”
কৌশিক ভ্রকুচকাল। মায়া বলল,
“অসভ্য…”
কৌশিক আবারো ভ্রুকুচকাল।
“ইতর নীর…”
“হ্যাঁ পরে…”
“চৌধুরী’র…”
“পরে…”
“একমাত্র…”
“পরে বল না!”
“ভা…………..”
“কী হলো পুরোটা বল।”
মায়া ভেংচি কেটে বলল,

“পারবো না বুঝে নেন।”
“বল না।”
“পারবো না।”
“পারবি না?”
“না পারবো না।”
মায়া কথাটা বলা মাত্রই কৌশিক মায়াকে এক টানে কোলে তুলে নিল।
“এই এই কী করছেন নিচে নামান পরে যাবো তো এখানে পড়লে কিন্তু আর হাড্ডি গুড্ডি এক থাকবে না।”
কৌশিক ছাঁদের যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাটা শুরু করে বলে,

“চুপ থাক না হলে এখানেই ছেড়ে দিব।”
“এই না না।”
“তাহলে বাক্য টা সম্পূর্ণ কর মেষের কথাটা বলে।”
“কোনটা?”
“কারণ আমি যে যে অসভ্য নীর চৌধুরীর একমাত্র ভা….”
“এত মিস্টেক করেন কেনো? ইতর তো বলেন নাই।”
কৌশিক ভ্রকুচকে বলল,

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ১৮

“হ্যাঁ হ্যাঁ তুই লাগিয়ে নে। তারাতারি পুরোটা বাক্য শেষ কর না হলে এইখানে….”
মায়া ভয়ে লজ্জায় চোখ খিচে বলে উঠল,
“এই না না,কারণ আমি যে অসভ্য,ইতর, লম্পট নীর চৌধুরীর একমাত্র ভালোবাসা।”
কৌশিক মুচকি হেঁসে আড়চোখে বলল,
“গুড গার্ল। কিন্তু তুই একটা ওয়ার্ড বেশি লাগালি কেন?”
“কারণ আপনি যে আমার অসভ্য পুরুষ।”

প্রণয়ের ঘোর রাত পর্ব ২০